Home Blog Page 250

স্বল্প মাত্রায় সাহিত্য

শতপুষ্প স্যানাটোরিয়াম
ঋষিণ দস্তিদার

২: বলুন তো ভালো নাইটগার্ড কে? …: সারা রাত ঘুমিয়ে কাটায়…: আর খারাপ জন?: সে ডিউটিতে ঘুমের ওষুধ খাচ্ছে বহু বছর ধরে… তবু ঘুমাতে পারছে না…: সৎ কে?: ভিন্ন ধরনের এক মানুষ… শিস দিয়ে গান তুলতে পারে… ওর হুইসেলটা অনেক সেধে মিনতি করে চোর নিয়ে গেছে…: সবার সততার পক্ষে দাঁড়ানো উচিত…

১৪: উজ্জ্বল দিনগুলোতে হেঁটে হেঁটে পত্রিকার স্টলে যেতাম… নতুন কিছু খবর জানতে ইচ্ছে হতো…: কী ধরনের খবর ? : এই ধরুন… মাথাপিছু ক’টা বাম দল, সীমানা পিলার কেনাবেচা কেমন চলছে, এনকাউন্টারের আনকোরা কোনো প্রেসনোেট এলো কিনা… : জিজ্ঞেস করলে বলতে পারতাম, দুই একটা… : একেকদিন আপনি কোনো কথাই বলতেন না… মাথা গুঁজে পেপার কাটিং সাজাতেন… : আসলে, সানগ্লাসপরা কাউকে আমি চিনতে পারি না… সমস্যাটা এখনো আছে…

৪৭: সার সার ইঁদুরের মিছিল… সুশৃঙ্খলভাবে ওরা এগিয়ে যাচ্ছে পরিচিত মেঠোপথ ধরে… এদিকে বিড়ালের বাড়িতে শুনশান নীরবতা… আগাম খবর ছিল যে, প্রতিরোধী একটা জোয়ার আসছে… মাছের কাঁটা দুধের বাটি ফেলে সে পালাল রাজ্য ছেড়ে… : মিছিলটা তখন বিড়ালের বাড়ি ফেলে আরও সামনে এগিয়ে গেছে… হাসিমুখে টিয়াপাখিরা গাছের ডালে বসে… তারা বিড়ালের প্রস্থান আর এই আগুয়ান লংমার্চ উপভোগ করছিল… দূরে বিস্তীর্ণ বিল… পাকা ধানের হলদে ঢেউ… ক’দিন আগেই ধানকাটা শুরু হলো… আঁটি মাথায় চাষীরা বাড়ি ফিরছে…
ঋষিণ দস্তিদারের কাব্যগ্রন্থ শতপুষ্প স্যানাটোরিয়াম থেকে

চক্কর
সাজ্জাদ চৌধুরী

সালাম সওদাগরের বয়স আশি। তিনি ধর্মপুর গ্রামের সবচেয়ে পাত্তিওয়ালা লোক কিন্তু গ্রামের সবাই তাঁরে জানে বিরাট একটা কিপটা হিসাবে।অথচ কি নাই তার? বাজারে তিনটা দোকান আছে, একটা ভাতের হোটেল আছে, রাইস মিল আর ইটের ভাটা আছে, এমনকি গোপন একটা সুদের ব্যাবসাও আছে। তবে এখন সময়টা বেশ খারাপ – চারিদিকে শুধু করোনা আর করোনা। প্রতিদিন চাইরপাশে করোনায় ধুপধাপ লোকজন মইরা যাইতেছে দেইখা তিনি নিশ্চিত হইলেন শিগগির তাঁরও একই দশা হবে। ভাবতে ভাবতে বাজার থেইকা বাড়ির দিকে যাইতেছিলেন – কপালে খারাবি ছিলো বইলা পথে জামাইল্লার সাথে দেখা হইয়া গেলো। জামাইল্লা বেয়াদপ একটা ছেলে – সারাদিন মাইনষের পাছায় আঙ্গুল দিতে না পারলে ওর ঘুম আসে না। সালাম সওদাগরকে দেইখা সে কান পর্যন্ত একটা হাসি দিলোও আদব কায়দার পরোয়া না কইরা তিন হাত দূরে থেইকা বললো – : ও চাচা, তোমারতো মেলা টেকা কিন্তু তুমি যে কিপ্টা, তুমি মরলে তোমার এতো টাকা খাইবো কে? মুহূর্তেই সালাম সওদাগরের মেজাজ গরম হইয়া গেলো। : হারামজাদা, আমার টাকা দিয়া তোর কাম কি? তোর বইনের বিয়া দিবি? তোরে আমি ঝাঁটা দিয়া পিটামু। জামাইল্লা হাইসা একটু দূরে সইরা দাঁড়ালো কিন্তু একেবারে চইল্যা গেল না। : একটা বুদ্ধি দিমু চাচা? আপ্নের যে বয়স, করোনা হইলে কিন্তু আপ্নের রক্ষা নাই। চাচা, আপ্নে মরার আগেই একটা কুলখানি দিয়া দেন। গ্রামের গরিব লোকজন একবেলা আরাম কইরা খাইলো – আপনি সেইটা দেইখা মরতে পারলেন, আবার সওয়াবও পাইলেনও কোনো লস নাই। : হারামজাদা, আর একটা কথা কইছস তো থাবড়াইয়া তোর দাঁত সব ফালাইয়া দিমু। সালাম সওদাগর লাঠি হাতে একটু আগাইতেই জামাইল্লা ভয়ে দৌঁড়ান দিলো। ঘরে ফিরতে ফিরতে সালাম সওদাগরের মনে হইল জামাইল্লার কথাটা ফেলাই দেওনের মতন না। জীবিত অবস্থায় কুলখানি করাটা কি খারাপ কিছু? ধর্মে কি বারণ আছে? রাইতে ঘুম আসলো না – সারারাত এইটা নিয়া ভাবলেন। সকালে উইঠাই ঘোষণা দিলেন তিনি বাঁইচা থাকতে থাকতেই নিজের কুলখানি করবেন। তার বড়ো ছেলে কইলো – : বাপজান, এইটা কি কও মরার আগে কি কেউ কুলখানি করে? লোকে শুনলেতো তোমারে পাগল ভাববো? : লোকের কথার ধার ধারি নাও আমার টাকায় আমি কুলখানি করুম না চল্লিশা করুম সেইটা আমার ব্যাপার। আমার কি টাকা কি কম আছে? তার ১০ দিন পরেই সালাম সওদাগর ঘটা করে নিজের কুলখানি কইরা ফেললেন। পিপিই গ্লাভস মাস্ক পইড়া বাবুর্চি রান্না করলো, গ্রামের ছেলেরা মাস্ক পইড়া লোকজনরে খাওয়ালো। আর যারা খাইতে আইলো তারাও প্রাইমারি স্কুলের মাঠে একজন থেইকা আরেকজন তিন ফিট দূরে দূরে বইসা বইসা সুন্দর খাইয়া গেলো – খুবই সফল এক আয়োজন। এত সফল আয়োজন দেইখা সালাম সওদাগর ঘোষনা দিলেন : আগামী বছর বাঁইচা থাকলে ইনশাল্লাহ আবারও কুলখানি দিমু। ১০ বছর পরের কথা – দুই বছর ধইরা জামাইল্লা কই কেউ জানেনা, নৌকা লইয়া গঞ্জের বাজারে যাওনের নামে বাইর হইছিলো, আর ফিরে আসে নাই। কেউ কয় জামাইল্লা মইরা গেছে আবার কেউ কেউ কয় বাইচা আছেও সালাম সওদাগর কিন্তু ঠিকই বাইচা আছেন – ভালো মতোই বাইচা আছেন আর প্রতি বছর নিজের কুলখানি দিয়া যাইতেছেন। তিনি একটা ভয়ের চক্করের মইধ্যে পইড়া গেছেন। প্রতি বছর কুলখানি দেয়ার সময় তার মনে হয় – এই বছর কুলখানি না দিলে আগামী বছর তিনি মইরা যাবেনও এই ভয়ে তিনি কুলখানি দেয়া থামাইতে পারতেছেন না।

উলম্ব
আহসান ইকবাল

তার চোখ দু’টি মেলে ছিলো নিরুদ্দেশে; ঘন্টা, ক্ষণ, সময়ের কোন হিসাব ছাড়া। জলজ ভারি মেঘগুলো ভাসছিলো। ডিউটি আওয়ার শেষ হয়ে গেলেও তার ফেরা হয়নি। এমন তো কতই হয়। একটা উটকো ষন্ডা মাছি ঘুরপাক খাচ্ছিলো। দল বেঁধে তারাও আসবে ধোঁয়ার মতো। কি যায় আসে, পুড়িয়ে দেওয়া ভ্যানের ধোঁয়ার কুন্ডলী তাকে ঢেকে দিয়ে গেলেও সে ছিলো ভূক্ষেপহীন। তার চোখের সমানে এই শহর, পল্টন, পুলিশ লাইন, থানা, কালভার্ট, ব্রিজ, ফুটওভার ব্রিজ, ফ্লাইওভার, রোড-ঘাট, দেশ, সীমান্ত, সরকার, উন্নয়ন বদলে গেছে সংঘাতের ভেতর দিয়ে। সব নতুন হয়েছে। সংঘাত ছাড়া কি কিছু পাল্টায়! বুঝেও, শুধু মাছির সাথে তার সংঘাতে সে যেন ক্লান্ত, অনিচ্ছুক, অনড়। মাছিটা আনেকক্ষণ হাওয়ায় দুলতে থাকা ঘাম-রক্তরস মাখা তার চুলের গতিবিধিতে বিভ্রান্ত হয়েছিলো। এখন মোবাইল ক্যামেরার মুহুর্মুহু ফ্লাশ আর দমকা বাতাসে চুইয়ে নামা ঘামের সাথে রক্তবিন্দুর পতনে পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সে উড়ে পায়ের দিকে, জাঙ্গিয়ার কোনায় শুকিয়ে যাওয়া জমাট ইউরিনের গন্ধে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে। পায়ের দিক থেকে নেমে আসা রক্তের শীতল ধারাকে যদিও মাছিটার সন্দেহ হয়। বারুদ গন্ধের ধোঁয়া এলোমেলো করে ভোর আসছে। পুলিশটার মাথার নিচে উৎসুক মানুষও বাড়ছে। সংঘাত, সন্ত্রাস শেষ। এবার ভোরের মতো শান্তি নামবে চরাচর জুড়ে। বদলে যাবে অনেক কিছু। মানুষদের একজন খুব কেতা করে ফুট ওভার ব্রিজের প্রথম ল্যান্ডিং থেকে সূর্যকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে সাবেক পুলিশের ঝুলন্ত শরীরটার ছবি তুলতে চেষ্টা করে, দ্বিতীয় স্বাধীনতার স্মারক হিসাবে। কিন্তু মাছিগুলো বড় জ্বালাতন করায় ঠিক পেরে উঠছে না। জলজ মোষকালো মেঘ সূর্যটাকে ঢেকে দিয়েছে ততক্ষণে। সে হতোদ্যম হয়ে ছবি তোলায় খান্ত দিয়ে ভাবে, শকুন, সারমেয় আর মাছি নামক পতঙ্গের জন্মের গূঢ় কারণ!
লুনা রুশদি’র ‘আর জনমে’ পাঠ প্রতিক্রিয়া
অঞ্জন সরকার জিমি

বহুদিন পর সুখপাঠ্য একটা উপন্যাস পড়লাম একটানা।স্মৃতিকথার ঢঙে লেখা উপন্যাসটা লেখনীর কারিশমায় এত দ্রুত শেষ হয়ে গেছে যে এটাকে ঠিক উপন্যাস মনেই হয় নাই। এক শোয়ায় একটা উপন্যাস শেষ হয়ে গেলে তাকে ঠিক উপন্যাস বলা যায় কী! সন্দেহের অবসান ঘটাতে পৃষ্ঠা সংখ্যা চেক করে দেখলাম ১১২ পাতা!

গল্পটা অনেকটা এইরকম- ব্যক্তিগত জীবনের উথালপাথাল অভিজ্ঞতায় দাঁড়ি টেনে তাবাসসুম নামের একটা মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চাচা চাচির সংসারে এসে থিতু হয়। প্রবাসজীবনের একাকীত্ব কখনও কখনও তাকে বিচ্ছিনতাবোধে আক্রান্ত করলেও অন্যসব স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে তুলনামূলক বিচারে তা সয়ে নেওয়ার মতই ছিল। অন্তত তাবাসসুম তা-ই ভেবে এসেছে এতদিন। কিন্তু ২০১৯ সালের মার্চে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্ট চার্চ এলাকার এক মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ৫১ জন মানুষের নিহত হওয়ার ঘটনার অভিঘাত তার উপরও এসে আঁছড়ে পড়ে। বইটার বিষয়বস্তুতে জটিল প্যাঁচের মোচড় নাই কোথাও, সংবেদনকেও মন্দিরের ঘন্টির মতো নাড়া দেয় না। তবে দূরের বাঁশির মতো আলতো কানে বাজে; এবং তা বেশ সমাহিত, সুরেলা। কোথাও গলাগলি প্রেম নাই, অন্যান্য উথলানো আবেগের আঠাও নাই; ঘটনার পরম্পরার সাথে চরিত্রের আত্মনিমগ্নতাকে কোনোপ্রকার জবরদস্তি ছাড়াই ঠিকঠাক গেঁথে দিয়েছেন লেখক। বইটা একটা টলটলে দিঘি, চরিত্ররা নাইতে নেমেছে। তাদের গায়ে মাখা সাবানের সুঘ্রাণ পাঠকের নাকে এসে লাগতে বাধ্য।
লুনা রুশদি’র ‘আর জনমে’ প্রকাশ করেছে প্রথমা।

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও ইরানের প্রতিরোধ অক্ষ বা Axis of Resistance

প্রতিরোধ অক্ষ হলো ইরান-সমর্থিত রাষ্ট্রীয় ও অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলোর একটি নেটওয়ার্ক, যা লেবানন, গাজা, ইরাক, সিরিয়া, এবং ইয়েমেন জুড়ে বিস্তৃত। এই গোষ্ঠীগুলো দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রভাবের বিরুদ্ধে ক্ষমতা গড়ে তুলেছে। তবে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হত্যা হওয়ায় উত্তেজনা বেড়েছে, যার মধ্যে রয়েছে হিজবুল্লাহর হাসান নাসরুল্লাহ এবং হামাসের ইসমাইল হানিয়া। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ইসরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। গত বছর ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণে ইসরায়েলে ১,২০০ জনের মৃত্যু হয়েছিলো এবং যার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েল গাজার ওপর সামরিক আক্রমণ চালিয়েছে, যার ফলে ৪১,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

৮০-এর দশকের শেষের দিকে প্রতিষ্ঠিত হামাস এখনো ইরানের শক্তিশালী সমর্থন পেয়ে আসছে এবং এটি প্রতিরোধ অক্ষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হামাসের বর্তমান নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে গত বছরের ৭ অক্টোবরের আক্রমণের অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসাবে উল্লেখ করা হয়।
হিজবুল্লাহ, লেবাননের গৃহযুদ্ধের সময় প্রতিষ্ঠিত, সংঘাতে আরেকটি শক্তিশালী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করছে, যদিও তারা সম্প্রতি ইসরায়েল দ্বারা উল্লেখযোগ্যভাবে আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে নাসরুল্লাহর হত্যাও রয়েছে। এদিকে, জাইদি শিয়া ইসলাম থেকে উদ্ভূত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী রেড সিতে সক্রিয় রয়েছে এবং যুদ্ধের শুরু থেকে ইসরায়েলি জাহাজ ও বন্দরে হামলা চালিয়েছে।

এআই আগামী ১০ বছরের মধ্যে সব রোগ নিরাময় করতে পারবে : ডিপ মাইন্ড প্রধান

গুগল ডিপমাইন্ডের সিইও, স্যার ডেমিস হাসাবিস বিশ্বাস করেন যে আগামী দশকের মধ্যে মানুষের কগনিটিভ ক্ষমতা সম্পন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে। দ্য টাইমস টেক সামিটে বক্তৃতা করতে গিয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সাধারণ বুদ্ধিমত্তার পর্যায়ে যেতে আর দুটি বা তিনটি প্রধান উদ্ভাবন প্রয়োজন। এই উদ্ভাবনগুলো হয়ে গেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেকোনো মানবীয় কগনিটিভ কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে। হাসাবিস জোর দেন যে এআই স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে, সকল রোগের চিকিৎসা করতে পারবে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করতে পারবে এবং দৈনন্দিন জীবনের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এআইয়ের প্রভাব ইন্টারনেট বা মোবাইল প্রযুক্তির চেয়েও শক্তিশালী আর বিস্তৃত হবে। তার অভিজ্ঞতা থেকে উদাহরণ টেনে হাসাবিস এআইয়ের ঝুঁকি বিষয়েও সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত উত্তেজনা এবং এআইয়ের ক্ষমতার অবমূল্যায়ন বিষয়ে সাবধান করেছেন। তিনি বলেন, যদিও এআই অসাধারণ সুযোগ এনে দেবে, তবে এটি যথাযথভাবে এবং দায়িত্বের সাথে উন্নয়ন ও পরিচালনা করা উচিত। তিনি বলেন, আগামী দশ বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ যেন এর নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।

উনি (মো. সাহাবুদ্দিন) ফ্যাসিজমের একটি সিম্বল , সেই সিম্বলটা থাকা উচিত না : সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দু’জন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক একই সাথে দাবি জানিয়েছেন যে মো. সাহাবুদ্দিন চুন্নুকে অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। ৩ অক্টোবর দুপুরে সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও কয়েক ঘণ্টা পর সমন্বয়ক সারজিস আলম তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে এ দাবির কথা জানান। তাদের দু’জনের পোস্টেই মোট পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের বাইরে বাকি চারটি দাবি হল- আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিতকরণ, নতুন সংবিধান গঠন, আওয়ামী দুর্নীতিবাজ আমলাদের পরিবর্তন ও হাসিনার আমলে করা সব অবৈধ চুক্তি বাতিল।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ বিবিসিকে বলেন, তারা সকলেই ওই দাবির সাথে একমত। তাঁর ভাষায়- একটি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন হইছে। তাই, ফ্যাসিস্ট হাসিনার নির্ধারিত রাষ্ট্রপতি থাকলে তা যে কোনও সময় রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে উঠতে পারে।… এই কারণে আমরা মনে করি, ওনাকে সহজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সসম্মানে কিভাবে বিদায় দেওয়া যায়, সে- দিকটা নিয়ে ভাবা উচিত। উনি ফ্যাসিজমের একটি সিম্বল। সেই সিম্বলটা থাকা উচিত না। বর্তমান রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রপতি চান তারা।

হাসিনা সরকার পতনের প্রায় দুই মাস পর কেন এখন এই দাবি তুলছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন- এর আগেও তারা বলেছিলেন। তবে এখন তারা জোরালোভাবে বলছেন। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে হয়। বাংলায় যাকে বলে অভিশংসন। তবে রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে তখন আর সংসদ লাগবে না। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তাঁর দায়িত্ব কে পালন করবেন, বা কিভাবে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ হবে তা নিয়ে আইনগত বিতর্ক আছে।

বাজারে জিনিসের দাম কমানো সম্ভব , কি করতে হবে ?

দ্রব্যমূল্য কীভাবে কমানো যায়, তা জানতে অর্থনীতিবিদ, বাজার বিশ্লেষক ও ব‍্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তারা বলেছেন, মূল্যস্ফীতি কমাতে সুদের হার বাড়তে দেওয়া সঠিক পদক্ষেপ। তবে স্বল্প মেয়াদে সরকার কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে পারে।

প্রথমত, চাল, চিনি, ভোজ্যতেল ও ডিমের শুল্ক-কর কমানো। এতে দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হবে এবং সরবরাহ বাড়বে। এক কেজি চিনিতে এখন ৪৪ টাকার মতো শুল্ক কর আছে। আওয়ামী লীগ সরকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণের জন্য চিনিসহ কিছু নিত্যপণ্যে উচ্চ হারে শুল্ক-কর আরোপ করে রেখেছিল। দ্বিতীয়ত, কাস্টমসে শুল্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে ডলারের দাম পুনর্বিবেচনা করা। কাস্টমস এখন ১২০ টাকা দরে শুল্ক নির্ধারণ করে, যা গত মাসে ছিল ১১৮ টাকা। এ ক্ষেত্রে শুল্কায়ন মূল্য বা ট্যারিফ ভ্যালু কমিয়ে দেওয়া বা শুল্ক কমানো যেতে পারে।

তৃতীয়ত, ভারত চাল রপ্তানি উন্মুক্ত করেছে। চালের শুল্ক কমালে আমদানির সুযোগ তৈরি হবে। তখন দেশীয় চাল মজুতকারীরা প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে দাম কমাতে বাধ্য হবেন। চতুর্থত, সীমিত সময়ের জন্য হলেও শুল্ক কমিয়ে ডিম আমদানির সুযোগ দেওয়া। পোলট্রি খাদ্যের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে আমদানি সহজ করা, যাতে দাম কমে খামারিদের উৎপাদন খরচ কমে। পঞ্চমত, ডিজেলের দাম কমানো। এখন এক লিটার ডিজেলে ২১ টাকার মতো শুল্ক-কর আসে। এ ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মুনাফাও কমিয়ে ধরা যেতে পারে। এতে পরিবহন খরচ কমবে, যা পণ্য সরব- রাহে খরচ কমাবে।

ষষ্ঠত, সরবরাহ ব্যবস্থায় সংস্কার করতে হবে। বাজার তদারকি সফল করতে পাকা রসিদের ব্যবহার, লেনদেন আনুষ্ঠানিক করা, চাঁদাবাজি দূর করা ও বাজারগুলো থেকে মধ্যস্বত্বভোগীদের দূর করতে পদক্ষেপ দরকার। সপ্তমত, দেশের বিভিন্ন নিত্যপণ্যের বাজার গুটিকয়েক কোম্পানি ও আমদানিকারকের দখলে। সেখানে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অষ্টমত, পণ্যের চাহিদা, উৎপাদন ও সরবরাহের পরিসংখ্যান বিশ্বাসযোগ্য করা জরুরি। কারণ, সঠিক হিসাব না থাকলে সঠিক নীতি নেওয়া যায় না। সরকারি সংস্থাগুলো উৎপাদনের যে হিসাব দেয়, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়।

ইরানের নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনা কি ইসরায়েলের নাগালের বাইরে !

ইরান তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনাটি বানিয়েছে মাটির ১০০ মিটার নিচে, যাতে এটি ইসরায়েলের সামরিক আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকে। এই ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্ট ফ্যাসিলিটিটি মধ্য ইরানে জাগ্রোস পর্বতমালার পাশে অবস্থিত। ধারণা করা হয় যে মাটির নিচের এই ফ্যাসিলিটিতে তিনটি ভূগর্ভস্থ বিল্ডিং আছে যার মধ্যে দুটো বিল্ডিংয়ের ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে ৫০,০০০ সেন্ট্রিফিউজ করে । এই স্থাপনাটি বিমান প্রতিরক্ষা এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ড দ্বারা সুরক্ষিত এবং সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ অনুসারে, সেখানে নতুন সম্প্রসারণ দেখা গেছে যা ইঙ্গিত দেয় যে নতুন অংশটি আরও গভীরে নির্মাণ করা হয়েছে।

ইসরায়েলের বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক বাহিনী থাকা সত্ত্বেও, প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে নাতাঞ্জকে ধ্বংস করতে সমস্যায় পড়বে। এমনকি মার্কিন এইট-৫৭/ই বাঙ্কার-বাস্টিং বোমাও, যা ৬০ মিটার পর্যন্ত মাটির নিচে প্রবেশ করতে পারে, হয়তো এই স্থাপনায় পৌঁছাতে পারবে না।ইসরায়েলি সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েল হয়তো ইরানের পুরো পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করতে পারবে না, তবে পার্শ্ববর্তী পরিকাঠামো যেমন চুল্লি ও ইউরেনিয়াম উৎপাদনের স্থানগুলিকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই আক্রমণগুলির জন্য জটিল অস্ত্র এবং গোয়েন্দা তথ্য প্রয়োজন হবে এবং ইসরায়েলের সম্ভবত মার্কিন সমর্থন প্রয়োজন হবে, বিশেষ করে ই-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করতে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নির্দেশ, ইসরায়েলকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে প্রতিশোধমূলক আক্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে, বিশেষ করে ইরানের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের পর। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, শুধু পারমাণবিক অস্ত্রই নাতাঞ্জের মতো গভীরভাবে নির্মিত লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে পারে। এছাড়াও শঙ্কা রয়েছে যে ইরান গোপনে পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির জন্য গোপন স্থাপনাগুলি পরিচালনা করতে পারে, যা ইসরায়েল বা অন্য কোনো দেশের জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করাকে বেশ কঠিন করে তুলবে।

দক্ষিণ লেবাননের শহর থেকে লোকজনের সরে যাওয়ার নির্দেশ ইসরায়েলের : বৈরুতে হামলা অব্যাহত

তীব্র সহিংসতার মধ্যে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে শহর এবং লিতানি নদীর উত্তরের অন্যান্য শহর ও গ্রাম থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযানের সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়। ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে চলমান সংঘর্ষ এবং হিজবুল্লাহর উত্তর ইসরায়েলে বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। চলমান সহিংসতার কারণে লেবাননের সম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং এর ফলে এক মিলিয়নের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ সমস্যায় পড়েছে।

ইভাকুয়েশন নির্দেশনার পাশাপাশি, ইসরায়েল হিজবুল্লাহর অবস্থানের বিরুদ্ধে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে, বৈরুত এবং দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহর মিডিয়া দফতর সহ বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালায়, যা বৈরুতের দক্ষিণের দাহিয়েহ অঞ্চলে অবস্থিত। আক্রমণের আগে এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান সিরিয়ায় হামলা চালায়, যেখানে হিজবুল্লাহর সাথে সম্পর্কিত অস্ত্র গুদামসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে।

লেবাননের মানবিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে, বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ এবং চিকিৎসা কর্মীদের ওপর হামলার কারণে পরিস্থিতি গুরুতর হয়েছে। ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ৯৭ জন প্যারামেডিক এবং দমকলকর্মী নিহত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ) সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে রক্ষা এবং যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবেলার দাবি জানিয়েছে।

ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে ইরানিদের মাঝে বিভেদ তৈরি হচ্ছে

সম্প্রতি ইরান ইসরায়েলের ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর থেকে ইরানি জনগণের মধ্যে গর্ব, ভয় এবং অনিশ্চয়তার মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জনসাধারণের উল্লাস এবং ইসরায়েল-বিরোধী স্লোগানের দৃশ্য দেখানো হয়েছে, কিন্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া ইরানের জনগণের ভিতরকার অভ্যন্তরীণ বিভেদকে সামনে নিয়ে এসেছে। এমনিতেই ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার প্রতি অনেক ইরানির অসন্তোষ আছে, তাছাড়া ইরানের উপরে নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়েও জনগণের মধ্যে হতাশা রয়েছে।

একদিকে, জাতীয়তাবাদী এবং ইরানি সরকারের সমর্থকরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই হামলাকে সাহসী প্রতিশোধ হিসেবে উদযাপন করেছে, যা তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর সাম্প্রতিক আক্রমণের প্রতিশোধ। তবে, অনেক ইরানি এই সংঘাতের পরিণতি নিয়ে শঙ্কিত, বিশেষ করে ইসরায়েলের সাথে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা যা ইরানের অর্থনীতিকে বিধ্বস্ত করতে পারে এবং সংস্কারপন্থী আন্দোলনগুলোকে আরও দমন করতে পারে। এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনকে বাড়িয়ে তোলেনি, বরং অনেক ইরানির মধ্যে একটি নতুন দুর্বলতার অনুভূতি জাগিয়েছে।

ইসরায়েলের সম্ভাব্য প্রতিশোধের ভয়, বিশেষ করে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোর উপর হামলার আশঙ্কা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই উদ্বিগ্ন যে এই উত্তেজনা আরও বাড়লে সরকারকে প্রতিবাদ এবং মতবিরোধকে দমন করার নতুন অজুহাত দেবে, যেমন “নারী, জীবন, স্বাধীনতা” আন্দোলনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে কিছু মানুষ শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে, যদিও অনেকেই মনে করেন যে ইরানের ভবিষ্যত অবশ্যই দেশের ভেতর থেকেই নির্ধারিত হওয়া উচিত, কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ ছাড়াই।

আসছে রোজে’র ফার্স্ট সোলো এ্যালবাম

K-Pop ব্যান্ড ব্ল্যাকপিঙ্কের রোজে (ROSÉ) তার প্রথম ফুল লেংথ সলো স্টুডিও অ্যালবাম রোজি (Rosie) এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন।ইমোশনাল ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি অ্যালবামের কভার শেয়ার করেন এবং জানান যে ব্ল্যাকপিঙ্কের বর্ন পিঙ্ক ওয়ার্ল্ড ট্যুর শেষ করার পর তিনি গত এক বছর বিভিন্ন গীতিকার ও প্রযোজকের সঙ্গে স্টুডিওতে সময় কাটিয়েছেন। রোজে তার উত্তেজনা প্রকাশ করে বলেন আমি এতে আমার রক্ত এবং অশ্রু ঢেলে দিয়েছি, এবং এটি খুবই ব্যক্তিগত একটা প্রোজেক্ট। তিনি আশা করছেন এতে তার ভক্তদের সাথে আরও গভীর সংযোগ স্থাপিত হবে।

ঠিক ছুটির মরসুমে ৬ ডিসেম্বর এ্যালবামটি মুক্তি পাবে। অ্যালবামে থাকবে ১২টি গান। তিনি মনে করেন এ্যালবামটি এখন পর্যন্ত করা তার সবচেয়ে স্বাধীন কাজ। সঙ্গীতের কার্যক্রম ছাড়াও, রোজে গত বছর বিভিন্ন কমার্শিয়াল ইভেন্টে ব্যস্ত ছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে টিফানির একটি ক্যাপসুল কালেকশন লঞ্চ করা এবং পুমার সাথে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করা। ব্ল্যাকপিঙ্কের সদস্য লিসাও সক্রিয় ছিলেন, রোসালিয়ার সঙ্গে নতুন গান মুক্তি দেন এবং নিউ ইয়র্ক গ্লোবাল সিটিজেন ফেস্টিভালে তার সর্বশেষ ট্র্যাক ‘মুনলিট ফ্লোর’ প্রচার করেন। রোজের এই ঘোষণা তার ক্যারিয়ারের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা তিনি তার একক যাত্রায় প্রবেশ করছেন।

তিন বছরের মধ্যে ওয়ার্ক ফ্রম হোম ব্যবস্থা বিলুপ্ত হবে ; KPMG সমীক্ষায় CEOদের মতামত

KPMG এর সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ৮০% এর বেশি অস্ট্রেলিয়ান প্রধান নির্বাহীরা (CEO) বিশ্বাস করেন, আগামী ৩ বছরের মধ্যে বাসা থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার প্রথা বিলুপ্ত হবে। এই সমীক্ষা বলছে, ব্যবসা প্রধানদের মধ্যে বাসা থেকে কাজ করার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়ছে। গত বছর যেখানে ৬৬% CEO মনে করতেন ওয়ার্ক ফ্রম হোম শীঘ্রই শেষ হবে, এবছর সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ট্যাবকর্প (Tabcorp) এবং নিউ সাউথ ওয়েলস সরকার ইতিমধ্যেই ওয়ার্ক ফ্রম হোম সুবিধা কমিয়ে আনছে।

আন্তর্জাতিক প্রবণতাও একই রকম – ১১টি অর্থনীতি অঞ্চলের ৮৩% CEO ধারণা করছেন যে আগামী তিন বছরের মধ্যে অফিস-ভিত্তিক কাজই চালু থাকবে। অল্প সংখ্যক CEO (মাত্র ২৭%) মনে করছেন হাইব্রিড কাজের পরিবেশ চলমান থাকবে। কেউই ১০০% রিমোট কাজ টিকে থাকবে বলে মনে করছেন না। KPMG অস্ট্রেলিয়ার CEO অ্যান্ড্রু ইয়েটস KPMG তে নমনীয় (flexible) কাজের পরিবেশ বজায় রাখতে আগ্রহী। কিন্তু অনেক ব্যবসা প্রধান কর্মীদের অফিসে ফিরে আসাতে উৎসাহিত করছেন, যাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ে এবং কর্মীদের মধ্যে সহযোগিতা আরও ভালোভাবে হয়।

কোভিড পরবর্তী সময়ে উৎপাদনশীলতার পতনের সাথে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ না থাকলেও, CEOদের মতে সশরীরে কাজ কর্মীদের ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং সহযোগিতার সুযোগ বাড়ায়। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৭৮% অস্ট্রেলিয়ান CEO কর্মীদের অফিসে আসার জন্য উৎসাহ দিতে বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি বা ভালো প্রকল্পের মত প্রণোদনা দেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন।