দ্রব্যমূল্য কীভাবে কমানো যায়, তা জানতে অর্থনীতিবিদ, বাজার বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তারা বলেছেন, মূল্যস্ফীতি কমাতে সুদের হার বাড়তে দেওয়া সঠিক পদক্ষেপ। তবে স্বল্প মেয়াদে সরকার কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে পারে।
প্রথমত, চাল, চিনি, ভোজ্যতেল ও ডিমের শুল্ক-কর কমানো। এতে দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হবে এবং সরবরাহ বাড়বে। এক কেজি চিনিতে এখন ৪৪ টাকার মতো শুল্ক কর আছে। আওয়ামী লীগ সরকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণের জন্য চিনিসহ কিছু নিত্যপণ্যে উচ্চ হারে শুল্ক-কর আরোপ করে রেখেছিল। দ্বিতীয়ত, কাস্টমসে শুল্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে ডলারের দাম পুনর্বিবেচনা করা। কাস্টমস এখন ১২০ টাকা দরে শুল্ক নির্ধারণ করে, যা গত মাসে ছিল ১১৮ টাকা। এ ক্ষেত্রে শুল্কায়ন মূল্য বা ট্যারিফ ভ্যালু কমিয়ে দেওয়া বা শুল্ক কমানো যেতে পারে।
তৃতীয়ত, ভারত চাল রপ্তানি উন্মুক্ত করেছে। চালের শুল্ক কমালে আমদানির সুযোগ তৈরি হবে। তখন দেশীয় চাল মজুতকারীরা প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে দাম কমাতে বাধ্য হবেন। চতুর্থত, সীমিত সময়ের জন্য হলেও শুল্ক কমিয়ে ডিম আমদানির সুযোগ দেওয়া। পোলট্রি খাদ্যের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে আমদানি সহজ করা, যাতে দাম কমে খামারিদের উৎপাদন খরচ কমে। পঞ্চমত, ডিজেলের দাম কমানো। এখন এক লিটার ডিজেলে ২১ টাকার মতো শুল্ক-কর আসে। এ ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মুনাফাও কমিয়ে ধরা যেতে পারে। এতে পরিবহন খরচ কমবে, যা পণ্য সরব- রাহে খরচ কমাবে।
ষষ্ঠত, সরবরাহ ব্যবস্থায় সংস্কার করতে হবে। বাজার তদারকি সফল করতে পাকা রসিদের ব্যবহার, লেনদেন আনুষ্ঠানিক করা, চাঁদাবাজি দূর করা ও বাজারগুলো থেকে মধ্যস্বত্বভোগীদের দূর করতে পদক্ষেপ দরকার। সপ্তমত, দেশের বিভিন্ন নিত্যপণ্যের বাজার গুটিকয়েক কোম্পানি ও আমদানিকারকের দখলে। সেখানে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অষ্টমত, পণ্যের চাহিদা, উৎপাদন ও সরবরাহের পরিসংখ্যান বিশ্বাসযোগ্য করা জরুরি। কারণ, সঠিক হিসাব না থাকলে সঠিক নীতি নেওয়া যায় না। সরকারি সংস্থাগুলো উৎপাদনের যে হিসাব দেয়, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়।


