Home Blog Page 249

স্যাটেলাইট স্যাটেলাইট সংঘর্ষ এখন শুধু সময়ের ব্যাপার

বিশেষজ্ঞরা উপগ্রহগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্কবাণী দিচ্ছেন। শুধুমাত্র ২০২৪ সালের প্রথমার্ধেই SpaceX-এর Starlink স্যাটেলাইটগুলোকেই প্রায় ৫০,০০০ বার সংঘর্ষ এড়াতে হয়েছে। এই সংখ্যা পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে থাকা স্যাটেলাইটের ভিড়ের আন্দাজ দেয়।ফলে সংঘর্ষের সম্ভাবনা বেড়ে গেছে এবং সংঘর্ষ হলে গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ, নেভিগেশন এবং জলবায়ু পর্যবেক্ষণ পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটবে।বর্তমানে ১৩,০০০-এর বেশি স্যাটেলাইট পৃথিবীর কক্ষপথে রয়েছে, যার মধ্যে বর্তমানে চালু এরকম স্যাটেলাইটের হলো ১০,০০০। অনেক স্যাটেলাইট ডিকমিশনের পরে অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পৃথিবীর কক্ষপথে রয়ে গেছে।

স্যাটেলাইটগুলো কক্ষপথে কমপক্ষে ৭.৮ কিমি/সেকেন্ড বা ঘণ্টায় ৩০ হাজার কিমি গতিতে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে। ফলে যে কোন সংঘর্ষের পরিণতিতে তৈরি হওয়া বিপুল শক্তি এবং ধ্বংসাবশেষ অন্য স্যাটেলাইটগুলোর জন্য হবে খুবই বিপজ্জনক। এমন দুর্ঘটনা কিন্তু ঘটেছে: যেমন ২০০৯ সালে, চালু একটা মার্কিন স্যাটেলাইট ইরিডিয়াম-৩৩ এর সাথে মৃত রাশিয়ান স্যাটেলাইট কসমস-২২৫১ এর সংঘর্ষ ঘটে ৭.৩ মাইল/সেকেন্ড গতিতে, যার ফলে ২,০০০ এরও বেশি টুকরা (debris) তৈরি হয়। স্যাটেলাইটের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার মূল কারণ হলো কোম্পানিগুলো স্পেস-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে।

Starlink, যা ২০১৯ সাল থেকে ৭,০০০ এর বেশি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে, সংঘর্ষের ঝুঁকি কমানোর জন্য নিয়ন্ত্রণযোগ্য স্যাটেলাইট ব্যবহার করে। বিশেষজ্ঞরা যেমন ড. জোনাথন ম্যাকডোয়েল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে স্যাটেলাইটের বিশাল সংখ্যার কারণে সংঘর্ষ এড়ানোর সফটওয়্যারও এতো অতিরিক্ত চাপ সামলাতে সক্ষম হবেনা। কয়েক দশক আগে মহাকাশের আবর্জনা মোকাবেলা করার জন্য একটি প্রাথমিক প্রচেষ্টায়, নাসা এবং ইএসএ নির্দেশিকা জারি করেছিল, যা বলেছিল যে একটি স্যাটেলাইটের কার্যকরী জীবন শেষ হওয়ার পর বা ২৫ বছরের পরে অপারেটরকে এটি অপসারণ করতে হবে।

স্যাটেলাইটের সংখ্যা বাড়ছে বলে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরাও মহাবিশ্ব অধ্যয়নে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। দৃশ্যমান তরঙ্গদৈর্ঘ্যে, স্যাটেলাইটগুলো জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তোলা ছবি জুড়ে তাদের চলার রেখা (streaks) রেখে যেতে পারে। রেডিও তরঙ্গদৈর্ঘ্যে, স্যাটেলাইটগুলো থেকে আসা সিগন্যাল দূরবর্তী মহাবিশ্ব থেকে আসা মূল্যবান মৃদু সংকেতকে অদৃশ্য করে দেয়। প্রফেসর ব্রায়ান কক্স জোর দিয়ে বলেছেন যে মহাকাশের শিল্পায়ন এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান রক্ষার মধ্যে একটি ভারসাম্য খুঁজে বের করতে হবে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে নতুন Starlink স্যাটেলাইটগুলির রেডিও তরঙ্গ মহাকাশ পর্যবেক্ষণে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন সৃষ্টি করে।

রেমিট্যান্স বেশি হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পতন রোধ করা যাচ্ছে …

হুসনে আরা শিখা বলেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবায়ন পদ্ধতি অনুসারে, রিজার্ভ এখন ২০ বিলিয়ন ডলারের (বিপিএম৬) কাছাকাছি এবং বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত বিভিন্ন তহবিলসহ বা গ্রস রিজার্ভ ২৪ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরের চেয়ে এটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আর চলতি বছরে জুলাইয়ের চেয়ে আগস্টে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন আন্তঃব্যাংকিং ফরেন এক্সচেঞ্জ সক্রিয় করা হয়েছে। এখন ব্যাংকগুলো নিজেরা কেনা-বেচা করতে পারছে। এ ক্ষেত্রে ডলারের দাম বাজারভিত্তিক করা হয়েছে। ডলারের দাম এখন ১১৮ থকে ১২০ টাকার বেশি হবে না। আর খোলাবাজারে ডলারের দাম ব্যাংকিং চ্যানেলের চেয়ে ১ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। আন্তঃব্যাংক লেনদেন সক্রিয় থাকার কারণে ফরেন এক্সচেঞ্জ স্থিতিশীল থাকবে। ১৭ সেপ্টেম্বর এক ভিডিও বার্তায় এ কথা জানান তিনি।

খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে ইউএসটিডিএ

বাংলাদেশে, প্রস্তুত খাদ্য এবং কোল্ড চেইন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বন্টন ফুডস লিমিটেডকে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য অনুদান দেবে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ইউএসটিডিএ)। সমীক্ষার লক্ষ্য হলো দুগ্ধজাত পণ্য, মাংস ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের খরচ এবং ক্ষতি কমানো; যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে। এই অনুদান তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হিমাগার ভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থার নেটওয়ার্ক স্থাপনে সহায়তা করবে। বন্টন ফুডস মিনেসোটাভিত্তিক ল্যান্ড ও লেকস ভেঞ্চার ৩৭-কে এই সমীক্ষা পরিচালনার জন্য নির্বাচন করেছে। এই সমীক্ষা বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসনের ফিড দ্য ফিউচার উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হেলেন লাফেভ বলেন – বাংলাদেশে যথাযথ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত সরবরাহ ব্যবস্থার অভাবে ফসল কাটার পর ক্ষতি হয়; যা খাদ্যনিরাপত্তায় প্রভাব ফেলে এবং কৃষি ও ভোক্তাপণ্যের বাণিজ্যকে সীমিত করে। কোল্ড চেইন অবকাঠামো বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনকারীদের তাদের কৃষিপণ্যের নিরাপত্তা ও মান নিশ্চিত করে রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ দেবে। হেলেন লাফেভ আরও বলেন – এই সমীক্ষা কোল্ড চেইনে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ চিহ্নিত করবে; যা বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোক্তা চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের হিমায়িত পণ্যের জন্য একটি স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থার নেটওয়ার্ক তৈরি করবে।

ইউএসটিডিএ’র পরিচালক এনোহ টি. এবোং বলেছেন – বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা উন্নয়নে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ সহজ করা জরুরি। আমরা আশা করি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বাংলাদেশে তাজা খাদ্য সরবরাহের প্রাপ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৩০০টিরও বেশি স্থানে ২ দশমিক ৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন সক্ষমতার হিমাগার থাকলেও গ্রামীণ এলাকায় কোল্ড চেইন সেবার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। ইউএসটিডিএ’র অর্থায়নে এই সমীক্ষা দেশের বিভিন্ন স্থানে তৃতীয় পক্ষের সরবরাহ ব্যবস্থায় হিমাগার সুবিধা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।

আপাতদৃষ্টিতে যা মনে হয়, ইসরাইল তার চেয়ে দুর্বল

মঙ্গলবার রাতে ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে তাদের প্রতিরক্ষা দৃঢ় ছিল। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, জেক সুলিভান বলেছেন, আক্রমণটি অকার্যকর ও ব্যর্থ হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা, যারা ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছেন তারা এয়ারবেসে কমপক্ষে ৩২টি সরাসরি আঘাত লক্ষ্য করেছেন। কোনোটিই বড় ধরনের ক্ষতি করেনি বলে মনে হয়, কিন্তু কয়েকটি হ্যাঙ্গারের কাছাকাছি আঘাত করে যেখানে ইসরায়েলের সবচেয়ে মূল্যবান সামরিক সম্পদের একটি F-35 জেটগুলি থাকে। তার মানে ইসরায়েলের আয়রন ডোম এবং এয়ার ডিফেন্সের নজিরবিহীন কার্যকারিতা সত্ত্বেও, ইরানের হামলা ইসরায়েলের দাবির চেয়ে বেশি সফল ছিল। ইসরায়েলি বিখ্যাত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্ভেদ্য নয়।

‘আসল ব্যাপার হল ইরান প্রমাণ করেছে, চাইলে তারা ইসরায়েলকে ভালভাবেই আঘাত করতে পারে-‘ লিখেছেন ডেকার ইভেলেথ, সিএনএর একজন বিশ্লেষক, যিনি একটি ব্লগপোস্টের জন্য স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করেন। ‘এয়ারবেসগুলি কঠিন লক্ষ্যবস্তু-এমন লক্ষ্য যেখানে আঘাত সম্ভবত অনেক হতাহতের কারণ হবে না। ইরান ভিন্ন লক্ষ্য বেছে নিলে – ধরুন, একটি ঘনবসতিপূর্ণ IDF স্থল বাহিনীর ঘাঁটি, অথবা একটি বেসামরিক এলাকার মধ্যে একটি লক্ষ্য – সেখানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বিপুল সংখ্যক [হতাহত] সৃষ্টি করবে।’ যদিও এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ভূমিতে প্লেনগুলিকে আঘাত করতে পারেনি, তবুও তেল আবিবের মতো একটি শহরে বা হাইফার কাছে বাজান গ্রুপের তেল শোধনাগারের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু হামলার শিকার হলে তার ফলাফল মারাত্মক হবে।

ইসরায়েলের জন্য আরেকটি সমস্যা হল ইরানীদের সাথে দীর্ঘ পাল্টাপাল্টি হামলার অর্থনীতি। ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যয়বহুল এবং তার স্টক সীমিত, যার অর্থ দেশটি চলমান ইরানী হামলার সামনে দুর্বল হতে থাকবে। ‘ইসরায়েল ইতিমধ্যেই ইরানে আঘাত করার জন্য প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মনে হচ্ছে – এটি সম্ভবত শেষবার না যে আমরা ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময় দেখতে পাব’ লিখেছেন এভেলেথ। ‘উদ্বেগের বিষয় হল, পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাবার সামর্থ্য ইসরায়েল রাখবে কিনা, যদি এটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষে পরিণত হয়।’ দীর্ঘমেয়াদে, ইসরায়েল হামলা ঠেকাতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন লাইন এবং অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

ইসরায়েলের পাল্টা আক্রমণ আসন্ন বলে মনে হচ্ছে। Ynet, ইসরায়েলি নিউজ আউটলেট জানিয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার জেনারেল মাইকেল কুরিলা আগামী দিনের মধ্যে ইসরায়েলে পৌঁছাবেন আশা করা হচ্ছে। জো বাইডেন এবং তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুলিভান বলেছেন যে তারা ইসরায়েলের সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে সরাসরি পরামর্শ করবে। এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হয়েছে যে ইরানি হামলার প্রতিক্রিয়া আসন্ন, সম্ভবত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার বার্ষিকীর ঠিক আগে বা পরে নির্ধারিত হবে। লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে ইরানের সামরিক স্থাপনা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস সামরিক সাইট বা কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র – এবং তেল শোধনাগারের মতো জ্বালানি অবকাঠামো, যা ইসরায়েলের উপর একই ধরণের হামলার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাতে হামলাও একটা বিকল্প, যা তেহরান সতর্ক করেছে তার একটি লাল-লাইন এবং যা বাইডেন নেতানিয়াহুকে না করার জন্য সতর্ক করেছে। ‘এটা ভাবা কঠিন যে ইসরায়েল প্রতীকী এবং সীমিত আক্রমণ করবে, কারণ এটি এপ্রিলেই করেছে এবং ইসরায়েলকে এখন এপ্রিলে যা করেছিল তার চেয়ে এক বা কয়েক ডিগ্রি বেশি কিছু করতে হবে-‘ আলি ওয়ায়েজ, এনজিও ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্প পরিচালক, বলেন, সংস্থার পডকাস্ট হোল্ড ইওর ফায়ারের সাম্প্রতিক পর্বে। তিনি ‘ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আদানপ্রদান সম্পর্কে সতর্ক করছিলেন যা যে কোনও মুহুর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, যা ইসরায়েলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ।

বাড়িয়ে সংঘাতের মাত্রাকে তরান্বিত করতে পারে, যার পরিণতিতে এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্ত করে ফেলতে পারে’ – যার কারণে ইরানের মিত্ররা এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী এবং ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করবে। হামলায়, ওয়ায়েজ বলেছিলেন, ইরান ‘তাদের সবচেয়ে উন্নত অস্ত্রটি ব্যবহার করেছে এবং তাদের কাছে কয়েক মাসের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এমন একটি বিশ্বে আমরা বাস করব যদি না কেউ এই সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির চক্রটি বন্ধ করে।’ ‘এই ক্ষমতা আছে শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির, যার ট্র্যাক রেকর্ড আমাদের খুব বেশি আশা দেয় না।’ নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ইসরায়েলের জন্য তার পারমাণবিক কর্মসূচির মতোই বিপজ্জনক।

যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন : জরিপে কে এগিয়ে?

৫ নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্রতর হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এই নির্বাচনটি ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পুনর্ম্যাচ হিসাবে পরিকল্পিত ছিল, তবে জুলাই মাসে বাইডেন তার প্রচারাভিযান বন্ধ করে হ্যারিসকে সমর্থন করলে পরিস্থিতি বদলে যায়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত সৃষ্টি হয়, যা কমলা হ্যারিসের যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করেছে। নির্বাচনের সমীক্ষায় দেখা গেছে, হ্যারিস প্রার্থিতার শুরু থেকেই ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এবং সেপ্টেম্বরের বিতর্কে তার ভালো পারফরম্যান্সের ফলে এই ব্যবধান সামান্য বেড়ে ৩.৩ শতাংশ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড বা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজ্যগুলোতে দুজনের প্রতিযোগিতা অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ। ট্রাম্পের ২০১৬ সালের জয়ের জন্য যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল – পেনসিলভানিয়া, মিশিগান, উইসকনসিন-এখন হ্যারিসের দিকে ঝুঁকছে, যদিও তার এগিয়ে থাকার ব্যবধান খুবই কম। এই রাজ্যগুলো এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী কলেজ ব্যবস্থায় এগুলোর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বাইডেন প্রচারাভিযান থেকে সরে যাওয়ার পর হ্যারিসের উত্থান এবং ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলিতে তার শক্ত অবস্থান নির্বাচনে নতুন গতি আনলেও, চূড়ান্ত ফলাফল এখনো অনিশ্চিত।

জাতীয় নির্বাচনী জরিপগুলো হ্যারিসকে সামান্য এগিয়ে দেখালেও, সুইং স্টেট বা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজ্যগুলোর সংকীর্ণ ব্যবধানের কারণে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। পূর্ববর্তী নির্বাচনে সমীক্ষা ট্রাম্পের সমর্থনকে কম মূল্যায়ন করেছিল, তাই এবার সমীক্ষাগুলি তাদের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে কাজ করছে। নির্বাচনের দিন দ্রুত এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে উভয় প্রার্থী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে, যার ফলে এই নির্বাচনটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রতিযোগিতাগুলির মধ্যে একটি বলে বিবেচিত হচ্ছে।

“ আমরা চোর ধরতে নয় , চুরির প্রক্রিয়া বুঝতে নেমেছি ” : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির কাজ সম্পর্কে কমিটির প্রধান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন করছেন, কালোটাকা কি সাদা করে দেবেন। আমরা বলছি, তা নয়। কিন্তু টাকা কেন কালো হয়, এটা বোঝা। অনেকে মনে করছেন, আমরা বোধহয় চোর-বাটপার ধরতে নেমেছি। কিন্তু বিষয়টা এমন নয়। আমরা চোর ধরতে নয়, চুরির প্রক্রিয়া বুঝতে নেমেছি। যাতে এরকমভাবে আগামী দিনে আর কোনো চুরি না হয়। এটি হলো আমাদের মূল কাজ। আর যেসব চুরিগুলো হয়েছে, সেগুলো কেমন করে হয়েছে, কী পরিমাণে হয়েছে, এর সম্ভাব্য ফলাফল কী, এই ফলাফল কে কীভাবে আটকানো যায়-এসব বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করছি।’ বুধবার বিকেলে সিলেটে দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রথম আঞ্চলিক মতবিনিময় সভায় কথা বলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘আমরা বলেছি, এত উন্নয়ন হলো তবে কর আহরণ বাড়ল না কেন? করের টাকা গেল কই? এত উন্নয়ন হলো, তাহলে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ হলো না কেন? আর বিনিয়োগ হয়ে থাকলে কর্মসংস্থান হলো না কেন? শুধু কর্মসংস্থানের জন্য এত লোক বিদেশে পাঠাতে হয় কেন? এতই যদি উন্নয়ন হয়ে থাকে, তাহলে অতি দারিদ্র্য কমল না কেন? বৈষম্য কমল না কেন?’ সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘এসব চিন্তার মধ্যে একটা বড় বিষয় ছিল, যেসব তথ্য উপাত্ত সরকার দেয়, সেগুলো ঠিক কি না। বর্তমান সময়ের অন্যতম দুটি দাবি হলো বৈষম্য দূরীকরণ ও সংস্কার। এ দুটি বিষয় বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্যের স্বচ্ছতা দরকার। এ স্বচ্ছতা আনার জন্য আমাদের এই শ্বেতপত্র কমিটি গঠন হয়েছে।’

ধনিক গোষ্টির কাছ থেকে প্রত্যক্ষ কর আহরণ বাড়াতে হবে , শুল্ক ও ভ্যাটের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পরোক্ষ কর আহরণ কমাতে হবে

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ ২০২২ অনুযায়ী, সবচেয়ে ধনী ৫% দেশের মোট আয়ের ৩০% শতাংশ আর সবচেয়েগরিব ৫% এর হাতে দেশের আয়ের মাত্র ০.৩৭% : কল্লোল মোস্তফা, লেখক ও গবেষক

দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত নিবন্ধের সংক্ষেপ ০৫ অক্টোবর ২০২৪ … বাংলাদেশে এই অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধির কারণ প্রাকৃতিক বা অবশ্যম্ভাবী নয়। বিশেষ ধরনের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণেই তা ঘটেছে। এই রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কাঠামোর বৈশিষ্ট্য হলো বৈষম্যমূলক কর ব্যবস্থা, অতিনিম্ন মজুরি, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অপ্রতুল বরাদ্দ। … বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হলে এই রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন ঘটাতে হবে। ধনিক গোষ্ঠীর কাছ থেকে প্রত্যক্ষ কর আহরণ বাড়াতে হবে, শুল্ক ও ভ্যাটের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পরোক্ষ কর আহরণ কমাতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন করতে হবে।

… প্রাতিষ্ঠানিক খাতে মানসম্মত কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে শ্রম আইনের আওতায় এনে শ্রমিকের বেঁচে থাকার মতো ন্যূনতম মজুরি ও নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। …সেই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও বরাদ্দ বাড়াতে হবে, প্রকৃতপক্ষে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে ভাতা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারতের মতো আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক ও ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রেশনব্যবস্থা চালু করতে হবে, যেন এতে কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি এবং দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা দুটোই নিশ্চিত হবে, সেই সঙ্গে বাজারে এসব পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

… একদিকে জিডিপির অনুপাতে অপ্রতুল বরাদ্দ, অন্যদিকে ক্রমাগত বাণিজ্যিকীকরণের কারণে দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বৈষম্য বেড়েছে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ যথাক্রমে জিডিপির ১ ও ২ শতাংশের কম। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুসারে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৪ থেকে ৫ শতাংশ এবং ইউনেসকোর পরামর্শ অনুসারে, জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করা উচিত। … বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার কারণে অনেক মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন, সেই ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার না হলে কোনো সংস্কারই টেকসই হবে না।

“ বাংলাদেশের বাস্তবতার পরিবর্তন ও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব এখনো পুরোপুরি বিশ্লেষণ ও অনুধাবন করতে পারেনি ভারত…” : মাহফুজ আনাম

“… বাংলাদেশের বাস্তবতার পরিবর্তন ও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব এখনো পুরোপুরি বিশ্লেষণ ও অনুধাবন করতে পারেনি দেশটি (ভারত)। তাদের গণমাধ্যমের ভাষ্য মতে, প্রথম থেকেই ভারতীয়দের মধ্যে বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে বিদেশি শক্তির হাত ছিল। তাদের মতে পাকিস্তানের আইএসআই, যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ অথবা উভয় সংস্থাই এর পেছনে ইন্ধন জুগিয়েছে। যে সরকারকে ভারত সমর্থন জানাচ্ছিল এবং যাদের নির্বাচনে কারসাজির বিষয়টিকে তারা জেনে-বুঝে এড়িয়ে গেছে, তারা জনসমর্থন পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছিল। এ বিষয়টি ভারতের নীতিনির্ধারকরা প্রথমত বুঝতেই পারেননি এবং পরবর্তীতে পরিবর্তিত বাস্তবতাকেও মেনে নিতে পারেনি।“

“জুলাই গণঅভ্যুত্থান’কে বিদেশি শক্তির মদদপুষ্ট বলা, এতে জনমানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উৎখাত পরবর্তী পরিবর্তিত শাসন ব্যবস্থার জনপ্রিয়তাকে দেখেও না দেখার অর্থ হলো ভারত মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে একেবারেই আমলে নিচ্ছে না এবং প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশে যা ঘটেছে, তার কোনো বাস্তবসম্মত বিশ্লেষণও তারা করছে না। আমার দৃষ্টিতে, এ কারণেই ভারতের নীতিনির্ধারকরা এখনো পরিবর্তিত বাস্তবতাকে মেনে নিতে পারছে না। সেইসঙ্গে অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে ভারতবিরোধী মনোভাব ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও হয়তো এই দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে বাড়তি ভূমিকা রেখেছে।“

“…. আমার সৌভাগ্য হয়েছে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে ছয়টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার। আমাকে যে বিষয়টি গভীরভাবে বিস্মিত ও হতাশ করেছে তা হলো, তারা খুব সহজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিষয়গুলোকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে এবং সাক্ষাৎকারের সময় আমার সামনে সেগুলোকে তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তারা এগুলোর সত্যতা যাচাই করার চেষ্টাও করেনি। দ্য ডেইলি স্টার যেসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করেছে সেগুলো তুলে না ধরে, বরং বিবিসির ফ্যাক্টচেকিংয়ের ফলাফল দিয়ে তাদের যুক্তিখণ্ডন করেছি। বাস্তবে যা ঘটেছে সেটাকে আমলে না নিয়ে, তারা যেটা বিশ্বাস করতে চায় সেটাই বিশ্বাস করেছে।“

“… ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে, বিষয়টি নিয়ে ভারতকে আত্মোপলব্ধির মধ্য দিয়ে যেতে হবে-এমনকি, অন্য দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কেমন হবে, সেটা নিয়েও। বিষয়গুলো নিয়ে তাদের এমন ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে, যাতে সকল পক্ষেরই স্বার্থ রক্ষা হয়। আর আমাদেরও অনুধাবন করতে হবে যে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নির্ধারণে ‘গড্ডালিকা প্রবাহে’ গা ভাসানো যাবে না এবং সব জায়গায় ভারতবিরোধী মনোভাব ধরে রাখলে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অর্জনের লক্ষ্য পূরণ হবে না। …“
মাহফুজ আনাম, সম্পাদক, দ্য ডেইলি স্টার। ৪ অক্টোবর প্রকাশিত মন্তব্য কলামের অংশবিশেষ

বয়স্ক অভিনেত্রীরাই হয়ে উঠেছেন হলিউডের দামি সম্পদ

হলিউডে একটা সময় ছিলো যখন বয়স চল্লিশ পেরুনো অভিনেত্রীদের ভালো কোনো ভূমিকায় অভিনয় করার সুযোগই ছিলো খুব বিরল কিন্তু এখন সময়ে পাল্টাচ্ছে। পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে পর্দায়। বয়ষ্ক অভিনেত্রীরা সিনেমা আর টিভিতে এমনভাবে আধিপত্য বিস্তার করছেন যা হলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পুরানো কানুনকে চ্যালেঞ্জ করছে। অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মারিয়া বা নিকোল কিডম্যানের বেবিগার্ল ছবিতে সাহসী ও অর্থবহ চরিত্রে অভিনয় করা বয়স্ক অভিনেত্রীদের নতুন যুগের প্রতীক। এমনকি ভেনিসের মতো মর্যাদাপূর্ণ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ৪০ এর বেশি বয়সী অভিনেত্রীদের উপস্থিতি বিশেষভাবে চোখে পড়ছে, যা আগে দেখা যায়নি।

নিকোল কিডম্যান বয়সের ফারাক নিয়ে প্রচলিত ধারণা বদলে দিয়েছেন, যা আগে কেবল পুরুষ অভিনেতাদের অধিকারে ছিল। বেবিগার্ল-এ তিনি একজন সিইওর চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি তার চেয়ে অনেক কম বয়সী একজন ইন্টার্নের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। পাশাপাশি আছেন অ্যানেট বেনিং ৬৬ বছর বয়সে এখনও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছেন। এবং টিল্ডা সুইনটন ও জুলিয়ান মুর, দুজনেই ৬৩ বছর বয়সে হলিউডে তাদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। এসব অভিনেত্রী দেখিয়ে দিলেন যে তাদের ক্যারিয়ার এখনো শেষ হয়নি বরং একটি রোমাঞ্চপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

এই প্রবণতা একেবারেই নতুন। যেমন গোল্ডি হন বা ডেব্রা উইঙ্গার – বয়স ৪০ পেরোেনার পর অভিনয়ের সুযোগ কমে গিয়েছিল অনেকখানি।
তবে আজকের তারকারা, যেমন kate blanchet এবং ভায়োলা ডেভিস, বয়স ৫০ পেরোনোর পরেও কাজের গতি ভালোই ধরে রেখেছেন এবং সমালোচকদের প্রশংসাও পাচ্ছেন। কেটের আসন্ন সিরিজ ডিসক্লেইমার তার ৫৫ বছর বয়সে আরেকটি সফল প্রজেক্ট হতে চলেছে, যা তাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসবে।

বয়স্ক অভিনেত্রীদের এই অব্যাহত সাফল্য এবং #MeToo আন্দোলনের মতো সাংস্কৃতিক পরিবর্তনগুলো হলিউডের দীর্ঘদিনের বয়স ও লিঙ্গনির্ভর বৈষম্যকেই প্রকাশ করছে। ফ্রান্সিস ম্যাকডোরমান্ড, মিশেল ইয়ো, এবং ডেমি মুরের মতো অভিনেত্রীরা এখন আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে এসেছেন এবং আরও বেশি অন্তর্ভুক্তির জন্য নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের কাজ হলিউডের বয়স নিয়ে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ করছে ফলে চাপের মুখে শিল্পটি ধীরে ধীরে বয়স্ক মহিলাদের জন্য নতুন সুযোগের পথ খুলছে। এখন বয়স্ক অভিনেত্রীরা উজ্জ্বলতর হয়ে উঠছেন।

গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে সহযোগিতা চুক্তি করল আমেরিকা ও ভারত

‘ক্রিটিকাল মিনারেলস’ নামে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ ও দুর্লভ খনিজের সরবরাহ বৃদ্ধি ও বিকল্প উৎস খুঁজতে ভারত-আমেরিকার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীরা। অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বে কার্বনমুক্ত জ্বালানিতে উত্তরণের ক্ষেত্রে যেসব খনিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, তাদের ক্রিটিকাল মিনারেলস বলা হয়। এরকম ১৭টি খনিজ পদার্থের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে লিথিয়াম, নিকেল, কোবাল্ট, কপার, গ্রাফাইট আর রেয়ার আর্থ পর্যায়ের বিরল ধাতুসমূহ।

বিদ্যুৎচালিত গাড়িতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ব্যাটারি, সেমিকন্ডাকটার ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের শক্তি মজুত করে রাখার জন্য এসব খনিজ অতি প্রয়োজনীয়। যদিও এই খনিজগুলো একাধিক দেশে উত্তোলন করা হচ্ছে, কিন্তু এই সবগুলো খনিজের প্রক্রিয়াজাত- করণের ক্ষেত্রে প্রাধান্য বিস্তার করেছে চীন। ভারত ও আমেরিকায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ অনুসন্ধান, উত্তোলন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিশোধন, পুনর্ব্যবহার ও পুনরুদ্ধারের উপায় খোঁজার কথাও সহযোগিতা স্মারকে বলা হয়েছে।