Home Blog Page 248

বিদেশফেরত কর্মীদের মানসিক সংকট বাড়ছে

একাকিত্ব, শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন, চাকরি হারানো, ঠিকমতো বেতন না পাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মীরা নানা রকম মানসিক সংকটে ভুগছেন। দেশে ফেরার পর তাদের মানসিক সংকট আরো বেড়ে যায়। বিশেষ করে যারা ব্যর্থ হন কিংবা দীর্ঘ সময় পর দেশে ফেরেন। পুরুষের তুলনায় নারীদের মানসিক সংকট জটিল আকার ধারণ করে। এ সংকট সমাধানে প্রবাসী ও বিদেশফেরতদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। গবেষণার সুপারিশে বলা হয়, অভিবাসন অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় কাউন্সেলিং সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং মনোসামাজিক সহায়তা সেবাকে (পিএসএস) সরকারের পুনরেকত্রীকরণ নীতির অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রবাসী কর্মীরা দেশে ফেরার পর একাকিত্ব ও মানসিক সমস্যায় ভুগতে থাকেন। যারা কাউন্সেলিং সেবা পেয়েছেন, তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। নারীরা এ সেবার মাধ্যমে পুরুষদের তুলনায় দ্রুত সুস্থ হচ্ছেন। রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের গবেষণার এসব তথ্য উঠে আসে। সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতায় ‘রিইন্টিগ্রেশন অব মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অধীনে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে এ গবেষণা হয়েছে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান স্বাগত বক্তব্য দেন।

আটলান্টিকের ইতিহাসে এই প্রথম একই সময়ে তিনটি হ্যারিকেনের উৎপত্তি

রেকর্ড করা ইতিহাসে, ২০২৪ হারিকেন মৌসুমে প্রথমবারের মতো, আটলান্টিকে একই সাথে তিনটি সক্রিয় হারিকেন বা ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে। এটি একটি অভূতপূর্ব এবং অনন্যসাধারণ ঘটনা।

।আটলান্টিকে হারিকেন সিস্টেমের সক্রিয়তা অক্টোবরের আগেই কমতে শুরু করে।

।কিন্তু এই বছরের প্যাটার্ন ঐতিহাসিক ধাঁচ মানছে না।

।বিশ্ব-উষ্ণায়নের ফলে বেড়ে যাওয়া সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দায়ী হতে পারে।
হারিকেন মিল্টন, তিনটির মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী, সর্বোচ্চ ১২০ মাইল/ঘণ্টার বাতাস সহ ক্যাটাগরি-৩ ঝড়ের তীব্রতা নিয়েছে। সেন্ট্রাল আটলান্টিকের উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

হারিকেন কার্ক পূর্ব আটলান্টিকে আছে এবং খোলা সাগরে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। হারিকেন লেসলি, সম্প্রতি বাহামাসের কাছে তৈরি হয়েছে এবং ফ্লোরিডা এবং দক্ষিণ-পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দাদের জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।জলবায়ু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে অক্টোবরে এই ট্রিপল হুমকির পরিস্থিতি নজিরবিহীন এবং উদ্বেগজনক। পরিবর্তিত জলবায়ু হারিকেনের ধরণকে কীভাবে প্রভাবিত করছে এবং হারিকেন মৌসুমকে প্রলম্বিত করছে এটি তার স্পষ্ট নমুনা।পৃথিবী জুড়ে আবহাওয়ার এমন খেয়ালি আচরণ তীব্র-আবহাওয়া সহনশীল প্রযুক্তি, অভিযোজনক্ষম সামাজিক উদ্যোগ ও অভ্যাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের রাশ টেনে ধরতে মানবজাতির ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়ার গুরুত্বকে বারবার সামনে আনছে।

নাম আপনার মুখের আদল বদলে দিতে পারে

বয়সের সাথে সাথে মানুষের চেহারার বদল ও তার নিজের নাম গভীরভাবে সম্পর্কিত। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যক্তি তার নামের সাথে যুক্ত সাংস্কৃতিক প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সময়ের সাথে নিজের চেহারা পাল্টে নিতে পারে বা বাধ্য হয়। হিব্রু ইউনিভার্সিটির প্রফেসর রুথ মায়োর দল নাম এবং মুখের বৈশিষ্টের মধ্যে যোগাযোগ অনুসন্ধান করতে মানুষ এবং মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম দুভাবেই একাধিক পরীক্ষা চালিয়েছেন। প্রফেসর রুথ মায়ো গবেষণা পত্রটি Proceedings of the National Academy of Sciences (PNAS) প্রকাশ করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে শিশু, পরিণত মানুষ কিংবা মেশিন নাম বা চেহারা দেখে এর যে কোনোটাকে অপরটার সাথে মিলিয়ে নিতে পারছে। এবং যে হারে এটা ঘটে তা নিছক দৈবক্রমের চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু শিশুদের মুখের বেলায় এটা কেউই আন্দাজ করতে পারছেনা। শেষ মজার পরীক্ষায় তারা শিশুদের চেহারাকে সফটওয়ার দিয়ে বয়স বাড়িয়ে অনুসন্ধান চালান। এই ক্ষেত্রেও এই বাচ্চাদের নামের সাথে চেহারা বা ছবির যোগাযোগ আন্দাজ করা যায়নি। মেশিন লার্নিং বিশ্লেষণ দেখছে, একই নামের মানুষদের চেহারার বৈশিষ্টের মিল অন্যদের তুলনায় বেশ বেশি, এবং এটাও শিশুদের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।

তার মানে এটা বয়স বা সময়ের সাথে ঘটে। ব্যক্তি ধীরে ধীরে চেহারার আদল পালটে নিজের অজান্তেই তার চারপাশের মানুষ তাকে যেভাবে দেখতে চায়, সেই রূপ নেয়। গবেষকরা বলছেন সামাজিক প্রত্যাশা বা চাপ আমাদের নিউরাল লিঙ্ককে প্রভাবিত করে এই ঘটনা ঘটায়। এই অনুধাবনটি আচরণ এবং ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য থেকে শারীরিক বৈশিষ্ট্য পর্যন্ত বিকাশের উপর গভীর সামাজিক প্রভাবকে চিনিয়ে দিচ্ছে। গবেষণাটি ব্যাক্তির ছাঁচ, সামাজিক প্রত্যাশা ও বংশগত কারণের প্রভাব সম্পর্কে দীর্ঘদিনের চলে আসা বিতর্কে অবদান রাখবে।

বিদেশি বিনিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ করলে বাইরের কেউ আসবে না : এম সাখাওয়াত হোসেন , উপদেষ্টা

উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন- ‘জাতীয় স্বার্থ ছাড়া আমরা কোনো বিদেশি বিনিয়োগ নিচ্ছি না। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়া হলেও কনটেইনার প্রতি ১৮ ডলার আয় হচ্ছে। … সেটা বন্দরের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। এখন কারও না কারও স্বার্থে এসব বিদেশি বিনিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ করলে বাইরের কেউ (বিনিয়োগকারী) আসবে না।’ নতুন করে নিউমুরিং টার্মিনালে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে বলেন – ‘বন্দরের জন্য ভালো হলে এবং বন্দরের আয় বেশি হলে, আমরা বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে চিন্তা করব। টার্মিনালের কর্মীদের সমস্যা যাতে না হয়, সেটিও দেখা হবে। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে আমাদের লোকজনই কাজ করছে।’ মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন শেষে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নৌপরিবহন এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন – ‘চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল একটি আয়বর্ধক টার্মিনাল। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে যথেষ্ট বিনিয়োগ রয়েছে। টার্মিনালটি দেশীয় অপারেটর দ্বারা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে।’ ‘আমরা বিদেশি বিনিয়োগের বিপক্ষে নই। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে না দিয়ে অন্য জায়গায় বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন টার্মিনাল করতে পারে।’ ‘বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিলে বন্দরে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা বেকার হয়ে পড়বেন এবং শ্রমিক অসন্তোষসহ বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হবে। অবিলম্বে দেশবিরোধী এই চক্রান্ত থেকে সরে না এলে আমরা রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’ মঙ্গলবার বিকেলে এক বিবৃতিতে ১২-দলীয় জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন এ কথা বলেন

সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীকে ছয়টি মামলায় জামিন দিয়েছে আদালত

সাবের হোসেন চৌধুরী পৃথক ছয়টি মামলায় জামিন পেয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের বিগত সরকারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। সাবের হোসেন চৌধুরীর আইনজীবী মোরশেদ হোসেন প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, আর কোনো মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। তিনি যেকোনো সময় মুক্তি পেতে পারেন। দুই বছর আগে রাজধানীর নয়াপল্টনে সংঘর্ষে বিএনপির কর্মী মকবুল হোসেন হত্যার মামলায় সাবের হোসেন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

পুলিশ আজ মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে আদালতে হাজির করে জানায়, তিনি অসুস্থ। এরপর সাবের হোসেন চৌধুরীর আইনজীবীরা খিলগাঁও থানায় করা চারটি এবং পল্টন থানায় করা দুটি হত্যা মামলায় জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত পৃথক ছয়টি মামলায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। সাবের হোসেন চৌধুরীকে গত রোববার সন্ধ্যায় গুলশানের বাসা থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। যখন সাবের হোসেন চৌধুরীকে পুলিশি পাহারায় হাজতখানা থেকে এজলাসকক্ষে নেওয়া হচ্ছিল, তখন বহিরাগত কয়েকজন তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করেন।

যুদ্ধ শুরু ও বিস্তৃত করতে ইসরায়েল ভাল সময় বেছে নিয়েছে

ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে সীমিত স্থল অভিযান শুরু করে দুই ফ্রন্টে যুদ্ধ বিস্তৃত করেছে, যার প্রধান লক্ষ্য হিজবুল্লাহ। ইসরায়েল সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় হিজবুল্লাহর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাঙার পর, অভিযান তীব্রতর করে এবং হিজবুল্লাহর সেক্রেটারি জেনারেল হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যা করে। এই সাফল্য প্রমাণ করে, ইসরায়েল হিজবুল্লাহর নেটওয়ার্কের অনেক গভীরে তাদের গুপ্তচরদের প্রবেশ করাতে পেরেছে। হিজবুল্লাহর জন্য এটি একটি বড় আঘাত। হিজবুল্লাহ মূলত ইসরায়েলের দক্ষিণ লেবানন দখলের বিরুদ্ধে একটি শিয়া প্রতিরোেধ গোষ্ঠী হিসেবে গড়ে উঠে এবং সময়ের সাথে লেবাননের অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়, ইরান এবং সিরিয়ার জোরালো সমর্থন পেয়ে।

২০০৬ সালে গেরিলা হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং বলা হয় যে ওই যুদ্ধে হিজবুল্লাহ একভাবে হয়তো জয়ীও হয়েছিলো। কিন্তু এই অনুমানিক ‘জয়’ই শেষপর্যন্ত হিজবুল্লাহর জন্য বড় একটা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিজ ভূখণ্ডে লড়াই করা একটি গেরিলা বাহিনী কেবল তখনই সফল হতে পারে, যতক্ষণ তারা তাদের মূলনীতির প্রতি বিশ্বস্ত থাকে-তাদের ভূমির প্রতি নিবেদিত, হালকা অস্ত্রে সজ্জিত, চটপটে ও গতিশীল যোদ্ধাদের একটি ক্ষুদ্র দল হিসেবে। কিন্তু হিজবুল্লাহ অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত একটি বৃহৎ সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলের দ্বৈত ভূমিকা নিলে, নেতৃত্বের মধ্যে ফাটল অনিবার্য হয়ে পরে।

হিজবুল্লাহ বড় সংগঠনে পরিণত হলে তাদের যুদ্ধ কৌশলে পরিবর্তন আনে কিন্তু, রাজনৈতিকভাবে জড়িত হওয়ায় অথবা দূরদর্শিতার অভাবে হিজবুল্লাহর পারদর্শিতা কমতে থাকে এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ও অনুপ্রবেশের শিকার হয়। হিজবুল্লাহ যখন বড় রাজনৈতিক সত্তায় রূপান্তরিত হয়, ইসরায়েলের পক্ষে হিজবুল্লাহর দুর্বল সদস্যদের খুঁজে বের করা এবং প্রলুব্ধ করে হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব কাঠামোর গভীরে প্রবেশ করা সহজ হয়ে যায়। বছর বছর ধরে সংগৃহীত তথ্য পেজার এবং ওয়াকি-টকির সরবরাহ ব্যবস্থায় এক্সেস দেয়। এবং ইরানে বছর বছর ধরে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের ধাঁচে, ইসরায়েল একটি নির্ভরযোগ্য তথ্য নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করে, যা হিজবুল্লাহর নেতৃত্বকে নজরদারিতে রাখে।

এমনও হতে পারে যে লেবাননের উত্তর ফ্রন্টে ইসরায়েলের আক্রমণে তার নিজ দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব আছে। ধর্মীয় চরমপন্থী দলগুলো বর্তমান ইসরায়েল সরকারের বিশাল একটা অংশ। তাই হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাত এবং গাজায় চলমান সহিংসতা ইসরায়েলের বর্তমান সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে বেশ সুবিধাজনক। একসময় কোণঠাসা হয়ে থাকা এখনকার ক্ষমতাসীন সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ধর্মভিত্তিক আদর্শকে ব্যাবহার করতে পারছে। এই ধরনের পরিবেশ প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে গাজায় অপারেশন এবং এর ফলে সৃষ্ট বেসামরিক মৃত্যুকে বাইবেলীয় ন্যারেটিভের সাথে গুলিয়ে দিতে সাহায্য করছে।

ইসরায়েল এমন একটা দেশ যারা সবসময় তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে একটি চিরস্থায়ী সংঘাতের ভেতর রয়েছে। আমেরিকান উদারতা এবং বৃহত্তর পশ্চিমা (হলোকাস্ট থেকে আসা) অপরাধবোধ ইসরায়েলকে এমন সহিংস আচরণ করতে দেয় যা অন্যত্র কূটনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। ইসরায়েল যে সংঘাতগুলোর মোকাবিলা করে তাতে একটি নির্দিষ্ট দায়মুক্তি রয়েছে। আরেকটি যুদ্ধ শুরু করার জন্য মার্কিন নির্বাচনি প্রচারণার শেষ পর্যায় একটি ভালো সময়। আজকে যখন আমেরিকার মনোযোেগ নির্বাচন নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কেন্দ্রীভূত, তখন ইসরায়েলের জন্য নতুন যুদ্ধ শুরু করা কৌশলগতভাবে উপযুক্ত সময়, কারণ এখন তারা অনেকটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকলে পুতিন ইউক্রেন আক্রমণ করতেন না : বরিস জনসন

বরিস বিশ্বাস করেন যে ট্রাম্পের আচম্বিত আচরণের প্রবণতাই যথেষ্ট ছিল একটি সার্বভৌম দেশের সাথে যুদ্ধে যাওয়ার ঝুঁকি নেয়া থেকে পুতিনকে নিরস্ত করতে। দ্য টেলিগ্রাফের সাথে একান্ত আলাপে প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন ‘ক্রেমলিনের জন্যে, একটি সত্যিকারের ঝুঁকি ছিল, যে ট্রাম্প একটি ইউরোপীয় দেশের উপর আক্রমণকে আমেরিকা এবং বিশ্ব-ব্যবস্থার প্রতি অবমাননা হিসাবে দেখবেন এবং কঠিন জবাব দেবেন।’ ট্রাম্প কখনই বলতে দ্বিধা করেন না, যে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণগুলি তাঁর মেয়াদের আগে অথবা পরে হয়েছে, তিনি রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন নয়।’ জনসন মনে করেন না এটা কাকতালীয়।

বরিস বলেছেন – ‘ট্রাম্পের অন্যতম গুণ হল তার আচরণের নিরেট আকস্মিকতা। এটিও একটি কারণ যার জন্যে আমি নজর রাখি উনি আন্তর্জাতিক বিষয়ে কেমন আচরণ দেখান এবং এই জায়গায় অন্যদের সাথে আমার অভিমত আলাদা।’ ‘ট্রাম্প ৬০ জন রাশিয়ান গুপ্তচরকে বহিষ্কার করেছিলেন [স্যালিসবারির বিষক্রিয়ার পরে]। তিনি সিরিয়ার বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট প্রশাসনের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর ছিলেন। তিনি ইরানি বিপ্লবী গার্ড কর্পস এর প্রতি ছিলেন আরও কঠিন এবং তিনি ইউক্রেনীয়দের জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েছিলেন।’

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি নিয়ে ইউক্রেন উদ্বিগ্ন হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে জনসন বলেন – ‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা বুঝব, ইউক্রেনের লড়াই ইউরোপে স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের জন্য অস্তিত্বের প্রশ্ন এবং ইউক্রেনের পতন হবে একটি চরম বিপর্যয়। এবং তিনি সেটা বোঝেন।’
‘আমি মনে করি না, যে তিনি ইতিহাসে সেই নাম হতে চান যিনি আমেরিকাকে নয়, সোভিয়েত ইউনিয়নকে আবার মহান করে নিজের রাষ্ট্রপতিত্বের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করেন।’ ‘সকল প্রতিষ্ঠানের একজন নেতা প্রয়োজন। বিশ্বে আমেরিকাই নেতা। আমার দৃষ্টিতে, বিশ্ব একটি সুখী আর সমৃদ্ধ স্থান যখন আমেরিকা শক্তিশালী ও তার নেতা শক্তিশালী এবং যখন বিশ্ববাসী মনে করে যে কোনও এক ধরণের শৃঙ্খলা বজায় আছে।’

“ বাংলাদেশের সঙ্গে আগে যেভাবে লেনদেন হতো , সেটার চিন্তা থেকে বের হয়ে যেতে হবে , এখন আমরা বড় চিন্তার মধ্যে যেতে চাই ” : প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নতুন বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলেছেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও কূটনৈতিক প্রতিবেদক রাহীদ এজাজ’র সঙ্গে। ২য় পর্ব থেকে কিছু জরুরি অংশ। শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা ও বিচার এসবে আমাদের থাকার দরকার নেই। আমরা বিচারব্যবস্থা সংস্কারে বসেছি। বিচারব্যবস্থার সংস্কার করলে সংস্কারের ভেতর দিয়ে কার বিচার করবেন, কীভাবে বিচার করবেন, কে বিচার করবে, সবকিছু আসবে। এখন আমরা তো পলিটিক্যাল ডিসিশন দিতে যাচ্ছি না।

বিতর্কিত মামলা এবং গ্রেপ্তার … এ আইনগুলো পাল্টানো দরকার। কাজেই সেভাবেই আসতে হবে। আমরা এককভাবে একটা ঘোষণা দিয়ে দিলাম, তাহলে তো আবার আমরা একনায়কতন্ত্রের দিকে চলে গেলাম। আমরা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসতে চাচ্ছি। … বিচারপ্রক্রিয়া এমন জিনিস, এখানে যে ভুল হচ্ছে না, তা নয়। ভুলটা ধরিয়ে দিলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে … সংশোধন করার চেষ্টা করছি

মব জাস্টিস এখানে কোনো রাজনৈতিক বিষয় নেই। যে হত্যাকাণ্ড, মব জাস্টিস হচ্ছে, এগুলো হচ্ছে ল অ্যান্ড অর্ডারের বিষয়। ল অ্যান্ড অর্ডার শক্ত করতে পারলে এ জিনিসগুলো হবে না। সামাজিক তৎপরতা যদি বাড়াই, মানুষ মানুষের প্রতি যত্ন নেয়, তাহলে এগুলো হবে না। সরকার গিয়ে মারামারি থামাতে পারবে না। মারামারি করলে শাস্তি হবে, এটুকু আমরা বলতে পারি। … আমাদের মতের ভিন্নতা থাকতে পারে। এ জন্য কেউ কারও শত্রু নই।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা এটাও আমাদের কোনো সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। কাজেই যখন রাজনৈতিক দলগুলো বসবে, তারা সিদ্ধান্ত নেবে। যত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আছে, সেগুলো আমরা রাজনীতিবিদদের কাছে নিয়ে যাব। তাঁরা যেভাবে সিদ্ধান্ত দেন।

আওয়ামী লীগ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান কমিশন যদি মনে করে যে দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে, যখন নির্বাচনের বিষয় আসবে, সেখানে আলাপ হবে। অতএব ওটাও আবার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে যাবে। ওটা খসড়া করবে তারা। কমিশন করলেই যে সেটা চূড়ান্ত হয়ে গেল, তা কিন্তু নয়। কমিশনের সুপারিশ রাজনৈতিক দলের কাছে যাবে। রাজনৈতিক দল নিজেদের মধ্যে বিতর্ক করে, আলাপ-আলোচনা করে এটার সিদ্ধান্ত দেবে, কোন দিকে আমরা অগ্রসর হব।

গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা আমরা এই ক্ষমতা চাই না। আপনারা মন খুলে লেখেন। … সমালোচনা করেন। না লিখলে আমরা জানব কী করে যে কী হচ্ছে আর কী হচ্ছে না। আমরা তো ফেরেশতা নই যে সবকিছু ঠিকমতো হয়ে যাচ্ছে। কাজেই আপনারা বললে আমরা একটু সতর্ক হই। আমরা মিডিয়া কমিশনের কথা বলেছি। মিডিয়া কমিশন আমাদের ধরিয়ে দেবে, হয় আইনগুলো পাল্টানো দরকার, না হলে বাতিল করে দেওয়া দরকার। আমরা এখানে কোনো আইনের জন্য লড়াই করছি না।

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আমাদের কাছে কাজটা তো পরিষ্কার। কাজটা হলো নির্বাচনের প্রস্তুতি। এই কাজ আমাদের শুরু করে দিতে হবে। কাজেই নির্বাচনের প্রস্তুতির একটা স্ট্রিম চলতে থাকবে। তার সঙ্গে সংস্কারের কাজ। দুটি একসঙ্গে যাবে। এটি কোনো আলাদা জিনিস নয়। একটা শেষ করে আরেকটা ধরব। নির্বাচনের প্রস্তুতি দিয়ে নির্বাচন চলবে। কখন, কোথায় কী করা যায়, কত দূর যাব। আবার সংস্কার। কারণ, সংস্কার হলো আমাদের কেন্দ্রবিন্দু। এই নির্বাচনটা হচ্ছে সংস্কারকে এস্টাবলিশ করার জন্য। কাজেই যখন দেখা যাবে নির্বাচনের প্রস্তুতিও হয়ে গেছে, সংস্কারের কাজ গোছানো হয়ে গেছে। এক্সিকিউট করা হয়নি। তখন প্রশ্ন উঠবে, সংস্কারটা করে যাবেন, নাকি নির্বাচনে চলে যাবেন। এটা আপনাদের বিষয়। আমরা প্রস্তুতিটা চালিয়ে যাব। …কাজেই সময় বেঁধে দিলাম, এর মধ্যে দেব। এর মধ্যে যা পান দিয়ে যান, এ রকম তো বিষয়টা নয়।

ভারত ও চীন অর্থনীতি, নিরাপত্তা, পানির প্রবাহ-যেদিক থেকেই চিন্তা করুন না কেন। একে অপরকে ছাড়া চলা তো আমাদের জন্য মুশকিল হয়ে যাবে। কাজেই এটা স্বাভাবিক যে আমাদের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ হতে হবে, সুসম্পর্ক হতে হবে সবকিছুতেই। … সার্বভৌম দুটি দেশের মধ্যে যে ধরনের সুসম্পর্ক হয়, সে ধরনের সম্পর্ক এটা। এটা আমরা সব সময় চেষ্টা করে যাব। কাজেই সাময়িক … বিষয়গুলো আমাদের ভুলে যেতে হবে। কে কার সম্পর্কে কী বলল, কটু মন্তব্য করল, এগুলো বলে লাভ নেই। এগুলো কথার ফুলঝুরি। বহু বছর আগে আমি বলেছিলাম, এটা আমাদের একটা বড় সুবিধা। আমরা যে দুই (ভারত-চিন) বিশাল অর্থনীতির মাঝখানে আছি, এটা আমাদের দুর্বলতা নয়, সবলতা। দুই দেশের কাছ থেকে আমরা শিখব। দুই দেশ আমাদের বাজার হবে। দুই দেশই আমাদের কাছে আসবে।

পশ্চিমা দেশ ও জাতিসংঘ আমরা দুটো বিষয়ে এমফেসাইজ করেছি জাতিসংঘে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা-যাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, তাদের সবার সঙ্গেই। আমাদের বাংলাদেশের সঙ্গে আগে যেভাবে লেনদেন হতো, সেটার চিন্তা থেকে বের হয়ে যেতে হবে। এখন আমরা বড় আকারে যেতে চাই, বড় চিন্তার মধ্যে যেতে চাই। আমাদের আদান-প্রদান সেই প্ল্যাটফর্মের ওপর হতে হবে।প্রথমত, চিন্তাটা ভিন্ন করতে হবে। অতীতের চিন্তা, অতীতের ক্রমধারায় করলে হবে না। দ্বিতীয়ত দ্রুত করতে হবে। আমরা অন্তর্বর্তী সরকার যদি কাজ দেখাতে না পারি, তাহলে মানুষ উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। কাজেই তুমি যদি দিতে দিতে এমন সময় লাগালে, অন্তর্বতী সরকার চলে গেল, আরেকটা সরকার এসে কয়েক বছর কাটিয়ে গেল, তারপর এটা দেওয়া শুরু হলো, তখন এটা হয়তো কাজে লাগবে না। অতীত হয়ে গেছে। কাজেই মানুষের মধ্যে উৎসাহ থাকতে থাকতে টাকাটা দাও, যাতে আমরা কাজগুলো করতে পারি।

শেষ কথা … এই সুযোেগ আর আসবে না। প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান মুহূর্ত। কাজেই এটা নিয়ে দ্বন্দ্বের মধ্যে যাবেন না। সংস্কারে কী কী বিষয় হবে, সেটা নিয়ে বাগবিতণ্ডা করেন। কিন্তু সংস্কার, এটা করে যেতে হবে। দুই দিন পর যদি বলেন সংস্কার বাদ দেন, আমরা নির্বাচন করে চলে যাই ওটা যেন না হয়। সংস্কার না করে যেন নির্বাচন না করি। এটা আপনাদের সবার কাছে আমার আবেদন। এই সুযোগ হারাবেন না।

২ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নেয়া সাক্ষাৎকার।

“ কেন জানি ‘গোয়েন্দা বিভাগগুলোর সংস্কার’ এর বিষয়টি অনুচ্চারিত রয়ে গেল ” : ড. বিরূপাক্ষ পাল

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গভীরে ছিল অর্থনীতির দুই পাপ বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতি। এর পেছনের মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলোর মধ্যে প্রথমেই ছিল বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকারের দাবি। এই দাবির দমন কাজে সবচেয়ে অন্যায্যভাবে ব্যবহৃত হয়েছে বিগত সরকারের গোয়েন্দা বিভাগগুলো। এরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। জনগণের অর্থে লালিত হয়েও কাজ করেছে ক্ষমতাসীন পার্টির দলীয় ক্যাডার বাহিনীর মতো। এটি অসাংবিধানিক। এটি গোয়েন্দা বিভাগগুলো পুষে রাখার যে রাষ্ট্রীয় উদ্দেশ্য, তার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। অন্তর্বর্তী সরকার ছয়টি ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু এর মধ্যে কেন জানি ‘গোয়েন্দা বিভাগগুলোর সংস্কার’ এর বিষয়টি অনুচ্চারিত রয়ে গেল। অথচ এটিই হওয়া উচিত ছিল এক নম্বর সংস্কারের বিষয়বস্তু। ড. বিরূপাক্ষ পাল যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক অ্যাট কোর্টল্যান্ড এ অর্থনীতির অধ্যাপক

… এই সবগুলোর (সংস্কারের সরকারি ক্ষেত্রগুলো) মাথায় বসে থাকা ডান্ডাওয়ালা গুরুর নামই তো হচ্ছে গোয়েন্দা বিভাগ। এগুলোকে সংস্কারের বাইরে রেখে আর সব সংস্কার দিনান্তে অর্থহীন হয়ে পড়বে। কারণ, এই সংস্থাগুলোর বিচরণ সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। তাই পরবর্তী সরকারের মনভোলানোর কাজ গোয়েন্দারা করবে। … তখন আয়নাঘরের বদলে আসবে ‘চিরুনিঘর’আর ভাতের হোটেলের জায়গায় চালু হবে ‘ক্যাফে বিরিয়ানি’। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর স্নায়ুযুদ্ধের অবসানে পৃথিবী বদলে যায়। মার্কিন কংগ্রেসে গোয়েন্দাদের কাজের পুনঃসংজ্ঞায়ন শুরু হয়। …ওই সময় মার্কিন গোয়েন্দাবৃত্তির সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত সিনেট কমিটি’র চেয়ারম্যান ডেনিস ডিকনসিনি তখন যুক্তি উত্থাপন করেন যে পরিবর্তিত বিশ্বে সামরিক যুদ্ধের চেয়েও বড় যুদ্ধের নাম হচ্ছে অর্থনীতি ও প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা।

এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে সর্বাগ্রে এক ধাপ এগিয়ে রাখাই হোক মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজ। কংগ্রেসে সে প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর থেকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কর্মবৃত্তান্ত ও ওয়েবসাইট পাল্টে গেল। এদের ওয়েবসাইট দেখলে মনে হবে এরা বাংলাদেশ ব্যাংক বা বিআইডিএসের মতো কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থা থাকলেও মূলত সিআইএ, ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি বা এনএসএ, ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা ডিআইএ ও ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই-এদের কথাই বেশি শোনা যায়। সংখ্যাটি একটু বেশি শোনালেও বুঝতে হবে যে এখানে প্রত্যেকের কাজ আলাদা করে সীমারেখা দেওয়া আছে। সিআইএ সর্বোচ্চ সংস্থা হলেও এর কাজ বিদেশি নাগরিক নিয়ে। … কাউকে গ্রেপ্তার করার অধিকার এফবিআইয়ের রয়েছে, কিন্তু সিআইএর নেই।

সিআইএ শুধু যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত তথ্য ও গুপ্ত খবর প্রদান করে। কৌশলবিদ, বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, উপাত্ত বিশ্লেষক, হিসাববিদ ও গবেষকদের সমন্বয়ে সিআইএকে বলা হয় পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। এভাবে গোয়েন্দাগিরির শাস্ত্রটি নিজেকে সমৃদ্ধ করলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কোথায় যেন তাদের একটা অধঃপতন হয়েছে। বাংলাদেশে ডিজিএফআই, ডিবি, এসবিসহ প্রায় সব গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে যেন এক অলিখিত প্রতিযোগিতা চলতে থাকে, কে কার আগে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের স্বার্থ হাসিল করবে। এটি প্রমাণের অগ্নিপরীক্ষা হচ্ছে কে কার আগে কত বেশি তথাকথিত শত্রুপক্ষের পেটে ঢুকতে পারবে। পারলে শয়নকক্ষের কথাবার্তাও রেকর্ড করা হয়। এতটা ব্যক্তিজীবনে সরকার ঢুকতে পারে না। এটি অপরুচির পরিচায়ক। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মানবাধিকারের অঙ্গ।

চট্টলার বিখ্যাত ব্যাংকখেকোকে সহায়তা দিয়ে কীভাবে আরও ব্যাংক গ্রাসের সহায়তা করা যায়, সেখানেও তৎপর গোয়েন্দা। কাকে টক শোতে নেওয়া যাবে, কাকে যাবে না, সেখানেও গোয়েন্দা। কী খবর ছাপব, কী ছাপব না, সেখানেও ওরা। সাবেক প্রধান বিচারপতিকে কীভাবে প্রচ্ছন্ন চাপ দিয়ে দেশছাড়া করতে হবে, সেখানেও ওরা। এভাবে চলতে দিলে কিছুদিন বাদে ওরাই ঠিক করত কার সঙ্গে কার বিয়ে বা বিচ্ছেদ হবে।সংস্কারের লক্ষ্য হবে এই বিভাগগুলোর কাজের সুনির্দিষ্ট সীমারেখা তৈরি করে এদের মধ্যে পেশাদারি বাড়ানো। উন্নত দেশের উত্তম চর্চাগুলো অনুসরণ করে এরা যেন জ্ঞান ও গবেষণা দিয়ে দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন নিশ্চিত করে রাষ্ট্রস্বার্থ রক্ষায় ব্রতী হতে পারে। মানুষের মৌলিক অধিকার ও ব্যক্তিজীবনের ভদ্রোচিত গোপনীয়তা রক্ষা এবং রাষ্ট্রের সামরিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা বাড়ানোই গোয়েন্দা বিভাগগুলোর সংস্কারের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

শক্তিশালী মানুষ বেশি দিন বাঁচে

জার্নাল অব স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং রিসার্চ-এ প্রকাশিত গবেষণায় ১৪,০০০-এরও বেশি ৫০ বছর ও ঊর্ধ্বে থাকা আমেরিকানের হ্যান্ডগ্রিপ-শক্তির তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকরা শক্তি পরিমাপের জন্য তিনটি মানদণ্ড ব্যবহার করেছেন: হ্যান্ডগ্রিপের প্রাথমিক শক্তি, শরীরের ওজনের সাথে সমন্বিত হ্যান্ডগ্রিপ-শক্তি এবং বিএমআই’র সাথে সমন্বিত শক্তি। তারা আবিষ্কার করেছেন- দুর্বল ব্যক্তিদের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি, বিশেষ করে যারা শারীরিক শক্তিতে খুবই দুর্বল, তাদের অকাল মৃত্যুর সম্ভাবনা ১.৪৫ গুণ বেশি। গবেষণার ফলাফল বলছে যে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ুর জন্যে পেশিশক্তি ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।