Home Blog Page 247

পৃথিবীর অন্যতম প্রধান জলবায়ু ব্যবস্থা হুমকির মুখে …

আটলান্টিক মহাসাগরের স্রোতব্যবস্থা অ্যাটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন (AMOC) যেকোনো সময় সংকট-সীমায় পৌঁছে গেলে বিশ্বের জলবায়ুর উপর এর প্রভাব হবে মারাত্মক।

আটলান্টিক মহাসাগরের স্রোতব্যবস্থা
AMOC হলো সমুদ্রের পানির বিশাল একটা কনভেয়র বেল্টের মতো, যা Tropics বা উষ্ণমণ্ডলীয় (বিষুবরেখার কাছ থেকে) অঞ্চল থেকে ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার দিকে গরম পানি বয়ে নিয়ে যায় এবং যখন এই গরম পানি গ্রিনল্যান্ড এবং আইসল্যান্ডের কাছাকাছি পৌঁছে তখন আস্তে আস্তে ঠান্ডা হয় আর ভারী হয়ে নিচে নেমে যায়। এই ঠান্ডা ভারী পানি সমুদ্রের তলদেশে পৌঁছে আবার দক্ষিণের উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় এবং আস্তে আস্তে আবার সমুদ্রের নিচ থেকে উপরে উঠে আসে । উপরে ওঠে আসার পর এই পানি আবার গরম হয়, এবং পুরো স্রোত প্রক্রিয়াটি আবার শুরু হয়। তাপ পরিবহনের কারণে AMOC পৃথিবীর তাপমাত্রার ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে। যদি কোনো কারণে AMOCI স্রোতের শক্তি কমে যায় বা সিস্টেমটি থেমে যায়, সেটার প্রভাব পড়বে পুরো বিশ্বের জলবায়ুর উপর।

সাম্প্রতিক উপাত্ত ও পর্যবেক্ষণ
বিজ্ঞানীরা ২০০৪ সাল থেকে যান্ত্রিকভাবে মাপা ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখতে পেয়েছেন যে গত ২০ বছরে AMOC’র শক্তি ১০% হ্রাস পেয়েছে। যদি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বর্তমান হারে অব্যাহত থাকে, তবে ২১শ শতাব্দীর শেষ নাগাদ AMOC’র শক্তি ৩০%-৫০% হ্রাস পেতে পারে। ফলে ইউরোপে চরম আবহাওয়ার পরিবর্তন, গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরণে পরিবর্তন, দীর্ঘস্থায়ী খরা বা আকস্মিক বন্যার সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে। বড় বিপদ হবে কোনো সামান্যতম জলবায়ু উষ্ণায়নের কারণে AMOC সংকটসীমায় (Tipping Point) পৌঁছে একেবারে দুর্বল বা বন্ধ হয়ে গেলে। প্রশ্ন আসে, এটা কি ঘটতে পারে?

Salt feedback সিস্টেম
একটা তত্ত্ব আছে যে আটলান্টিকের ‘Salt feed- back’ সিস্টেমে পরিবর্তনের কারণে AMOC সংকটসীমায় পৌঁছাতে পারে এবং বন্ধ হয়ে যেতে পারে ও তবে এটি কোনো প্রমাণিত সত্য নয়। সল্ট ফিডব্যাক এর তত্ত্বটা হলো, AMOC আটলান্টিকে লবনাক্ত পানি নিয়ে আসে আর কম লবনাক্ত পানি গভীর সমুদ্রের দিকে পাঠিয়ে দেয়। যদি AMOC দুর্বল হয়ে পড়ে তাহলে আটলান্টিকের সমুদ্র পৃষ্ঠের পানি মিঠা হতে শুরু করবে, যেটার নেতিবাচক একটা প্রভাব পড়বে আটলান্টিকের স্রোতের সিস্টেমের উপর। এই পরিবর্তিত ‘Salt feed- back’ সিস্টেমটি একটি চক্র তৈরি করতে পারে যেটা শেষ পর্যন্ত AMOC-কে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলতে পারে। কোনো একটা ছোট কারণ, যেমন গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি শুরু হতে পারে। ১৯৬০-এর দশকে গাণিতিক মডেলগুলোও দেখিয়েছিল যে, AMOC একটি সংকটসীমায় পৌঁছে ধসে পড়তে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো, নতুন পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঙ্গিত দেয় যে ২০৫০ সালের মধ্যে AMOCর সংকট-সীমায় পৌঁছে ধসের সম্ভাবনা ৪২% – ৭৬% পর্যন্ত হতে পারে। যদিও এই ফলাফলগুলোর ভিত্তি পরোক্ষ তথ্য এবং এখনও পুরোপুরি পর্যালোচনা করা হয়নি, তারপরও বিষয়টা বেশ ভাবার মত ।

বঙ্গোপসাগরে প্রভাব
একটি দুর্বল AMOC দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বায়ুর সিষ্টেমকে বদলে দিতে পারে যার ফলে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বন্যা বা দীর্ঘ খরার সৃষ্টি হতে পারে, যা খাদ্য উৎপাদন এবং পানির সম্পদের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও AMOC দুর্বল হওয়ার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি প্রধানত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে ঘটবে, কিন্তু বৈশ্বিক জল পুনর্বণ্টনের ফলে বঙ্গোপসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোয় বেড়ে যাবে বন্যার ঝুঁকি ।

স্বল্প মাত্রায় সাহিত্য , গল্প : হেডফোন , নাসিফ আমিন

গল্পটা শুরু হতে না হতেই বিজ্ঞাপন বিরতি। রূঢ় জীবনের বিজ্ঞাপন। সেখানে এক বিশেষ মলমের কথা বলল। বাজারে এসেছে নতুন। ঠোঁটে লাগাতে হয়। জীবনকেই এখন মহামারী হিসেবে ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। নিদান হিসেবে জীবন্মত নামক এক নতুন অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় প্রকাশ, এই অস্তিত্বের দিকে চলে গেলে আপাতত বেঁচে থাকা সম্ভব। পরীক্ষামূলক ভাবে মলমটি বাজারে ছেড়েছে জনদরদী এক বিত্তশালী সংস্থা।

গল্পটা শুরু হয়েছিল চোখ আর কানকে নিয়ে। এর মাঝেই বিজ্ঞাপন আমাকে মনে করিয়ে দিল মলম লাগানোর কথা। সাথে একটা দার্শনিক প্রশ্নও ছুঁড়ে দিল। প্রশ্নটি হল, বেঁচে না থাকলে আমরা কি আর গল্প শুনতে পাবো?
এই প্রশ্নের সুরাহা করতে বসে ঠোঁটে মলমটা লাগালাম। ঠোঁটে আরাম লাগল। ঠোঁট অবশ হয়ে গেল। উপরের ঠোঁট নিচের ঠোঁটের উপর নিথর পড়ে রইল। তারপরই শুরু হল গল্পটা। গল্পটার নাম মৌনব্রত। গল্পটা যে লোকটাকে নিয়ে তার নাম নিবারণ বিশ্বাস। তিনি তার জীবনের সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে একটা গান শুনবার হেডফোন কিনেছেন। গানগুলো ওই হেডফোন দিয়ে শুনলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিজ নিজ স্থানে থেকে সপ্রাণ হয়ে উঠে। তারা কথা বলে। একমাত্র ঠোঁট ছাড়া। ঠোঁট কেন আর সপ্রতিভ হয় না – এর একটা গল্প তখন শুরু হল।

গল্পটা এমন যে, লোকটা, মানে বিশ্বাস যার নাম, তিনি একবার আলেয়া জান্নাত নামে একজনের সাথে পরিচিত হয়েছিলেন। উনার ডাক নাম প্রেম। কিন্তু এই নাম সেকেলে বলে নিজেকে সমসাময়িক রাখতে ‘প্রেম’ নামটি তিনি কাউকে তেমন বলেন না। কেবলমাত্র হৃদয়ের ঘনিষ্ঠজনদের বলেন। যেমন বিশ্বাসকে বলেছিলেন; নিবারণ বিশ্বাসকে। তাদের এক জনপরিসরে দেখা হয়েছিল। অনেক লোক সমাগম হয়েছিল সেখানে। ওখান থেকে তারা এক সাথে বাসায় ফিরেছিলেন রাতে। পথে তাদের ছিনতাইকারী আক্রমণ করে। অস্ত্রের মুখে জানতে চায়, জীবন নাকি সত্য, কোনটা তারা দিতে চান।

বিশ্বাস ও প্রেম দুজনেই সত্য সমর্পণ করল। ফলে তারা জীবন নিয়ে ফেরত এলেন। এরপর তারা দুজন বেশ সুন্দর সময় কাটাতে লাগলেন। মুহূর্ত নামক একটা জিনিস তারা আবিষ্কার করল, যেটা দুজনে একসাথে পান করলে সময় সুন্দর হতে থাকে। বিষয়টা বেশ চমকপ্রদ। এরপর থেকে পৃথিবী বেশ মুহূর্তময় হয়ে উঠল। মুহূর্ত আগেও ছিল পৃথিবীতে। মূলত অনাবিষ্কৃত ছিল। আবিষ্কৃত হওয়ার পর জানা গেল পৃথিবী মূলত মুহূর্তের খনি। হঠাৎ একদিন জানা গেল, মহাবিশ্বের অন্যান্য গ্রহগুলো মুহূর্ত সংকটে ভুগছে। এই সংবাদ প্রকাশের পরদিন থেকে প্রেম উধাও হয়ে গেল। তার টিকিটিও আর দেখা গেল না। বিশ্বাস নিজেকে হারিয়ে ফেললেন। ধীরে ধীরে জানা গেল, পৃথিবীতে অজস্র মুহূর্ত চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভিনগ্রহ থেকে এক বিশেষ জাতের প্রাণী ভিন্ন ভিন্ন ছদ্মবেশে মুহূর্ত চুরি করে নিয়ে গেছে বহুজন থেকে ছদ্মবেশ হিসাবে তারা সাবেকিয়ানাকে উপজীব্য করেছিল।

সাবেকের প্রতি পৃথিবীর মানুষের এক আদি অকৃত্রিম টান আছে। কিন্তু সেখানে তারা ফিরতে পারে না। এই বাসনা আর অপারগতার মাঝখানে ঝুলে থাকতে থাকতে পৃথিবীর মানুষ নস্টালজিক হয়। নস্টালজিয়া বা স্মৃতিকাতরতা এক ভয়ংকর রোগ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিল গত শতাব্দীর মানুষের কাছে। বর্তমান শতাব্দীর মানুষ ধীরে ধীরে সেই রোগ থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রেখেছে ভিন্ন ভিন্ন তরিকায়। তো বিশ্বাস যে দাগাটি খেলেন, সেই দাগায় তিনি নিজেকে হারিয়ে একেবারে অবাক হয়ে গেলেন। কোনো কথা বলতে পারলেন না। একেবারে নির্বাক হয়ে গেলেন।এমতাবস্থায় তিনি তার জীবনের সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে একটা হেডফোন কিনলেন। এই বিশেষ হেডফোন দিয়ে সব কিছু সপ্রাণ করে তোলা যায়। তিনি ভেবেছিলেন এই হেডফোনের সাহায্যে তিনি তার ঠোঁটকে সপ্রাণ করে তুলতে পারবেন। কিন্তু পারলেন না। ব্যর্থ হলেন। তবে একটা ঘটনা ঘটল। তিনি হেডফোনের বাট দুটো দুই চোখের উপর রাখলেন। এতে করে চোখ সপ্রতিভ হয়ে উঠল। চোখ শুনতে শুরু করল। চোখ শুনতে শুরু করার পর থেকে চোখের মনে হতে লাগল সে আসলে এতদিন জন্মবধির ছিল। সে দেখতে দেখতে ক্লান্ত। দেখার দায়িত্ব থেকে সে নিষ্কৃতি চায়।

এই উপলব্ধির কথা চোখ তার বন্ধু কানকে বলল। কান সব কিছু শুনে বলল, সেও শুনে শুনে ক্লান্ত সেও শোনার দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি চায়। জন্মান্ধ কান এবং জন্মবধির চোখ বিশ্বাসের কাছে এই দাবি পেশ করল যে, তারা স্ব স্ব দায়িত্বের রদবদল চায়। বিশ্বাস তাদের দাবি মেনে নিলেন। এ দাবি মেনে নেওয়ার পর থেকে বিশ্বাস পাল্টে গেলেন। তিনি আবার জীবন ফিরে পেলেন। গল্পটা শেষ হয় এক দুঃসংবাদ দিয়ে। সংবাদে প্রকাশ, জীবন নিজেই এখন মহামারীতে পরিণত হয়েছে। গল্পটা শেষ হওয়ার পর আমার সম্বিত ফিরল। গল্প আর আমার বর্তমান বাস্তবতাকে আমি সম্পূর্ণ গুলিয়ে ফেললাম। মনে হল, এতক্ষণ আমি কি আসলে নিজের গল্পই দেখছিলাম, শুনছিলাম কিম্বা পড়ছিলাম? তীব্র ভয়ে আমি চিৎকার করে উঠতে চাইলাম। কিন্তু পারলাম না। আমার ঠোঁট অবশ।

আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি বাতিল করা বাংলাদেশের জন্যে সম্ভব নাও হতে পারে

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার দেশের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা করে বিভিন্ন চুক্তি করেছে কি না, বিশেষ করে এসব চুক্তিতে স্বচ্ছতার অভাব আছে কি না, তা নিরূপণে এক বিশেষ আইনের অধীন একটি প্যানেল গঠন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব চুক্তির একটি ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে করা ২৫ বছর মেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খন্ডে আদানির ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মূলত বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করা দুই সূত্রের একটি বলেছে, বাংলাদেশে বিদ্যুতের মোট চাহিদার প্রায় এক-দশমাংশের জোগান আসছে প্রকল্পটি থেকে। তাই আদানির চুক্তি সরাসরি বাতিল করা কঠিন হবে।

একই সূত্র আরও বলেছে, ভুলত্রুটির শক্ত প্রমাণ ছাড়া আন্তর্জাতিক কোনো আদালতে এ চুক্তি নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানো হলে, সেটিও সম্ভবত ব্যর্থ হবে। দ্বিতীয় সূত্র বলেছে, চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া যেহেতু সম্ভব না-ও হতে পারে, তাই পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে শুল্ক কমানোই হতে পারে একমাত্র সম্ভাব্য বিকল্প। এসব বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘কমিটি বর্তমানে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং এ নিয়ে এখন মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

২০২৩-২৪ অর্থবছরের সাম্প্রতিকতম নিরীক্ষা প্রতিবেদনের বরাতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) একজন কর্মকর্তা বলেন, আদানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনতে খরচ পড়ছে ইউনিটপ্রতি ১২ টাকা (০.১০০৮ ডলার)। এটি ভারতের অন্যান্য বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের খরচের চেয়ে ২৭ শতাংশ বেশি। আর ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের খরচের চেয়ে ৬৩ শতাংশের বেশি। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ গত বছরের এপ্রিল থেকে আদানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনছে। পাশাপাশি ভারতের অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কিনছে প্রায় ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

ভারতে আদানির একজন মুখপাত্র বলেছেন, বাংলাদেশ আদানির সঙ্গে করা চুক্তি পর্যালোচনা করছে, এমন ‘কোনো ইঙ্গিত’ তাঁরা পাননি। মুখপাত্র আরও বলেন, ‘বকেয়া বেড়ে চললেও আমরা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে যাচ্ছি। এটি উল্লেখযোগ্য উদ্বেগের বিষয়; যা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকে অস্থিতিশীলতার মধ্যে ফেলছে।’ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা বাবদ ঢাকার কাছে আদানির পাওনা ৮০ কোটি ডলার। এ বকেয়াসহ ভারতের অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে ঢাকা ১০০ কোটি ডলারের ঋণী। ডলার-সংকটে বকেয়া পরিশোধে সমস্যায় পড়েছে বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে আদানির মুখপাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমরা আলাপ অব্যাহত রেখেছি। বকেয়া শিগগিরই পরিশোধ করা হবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন তাঁরা।’

মুখপাত্র আরও বলেন, আদানি পাওয়ারের আশা, ঢাকা তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। আদানি তার চুক্তির শর্ত পূরণ শুরু করেছে। অবশ্য আদানির সরবরাহ করা বিদ্যুতের খরচ কেন অন্যান্য সরবরাহকারীর তুলনায় বেশি, সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
সম্প্রতি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বকেয়া অর্থ পরিশোধের ব্যাপারে বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছে আদানি গ্রুপ। বিদ্যুৎ কেনা বাবদ এ বকেয়া ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বলে মনে করছে ইকোনমিক টাইমস।

দেশে ডিমের কি হাল ?

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা ৫০-৬০ গ্রাম। একটা ডিম থেকে ৬ গ্রামের বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়। আমাদের দেশে ডিম প্রোটিনের সবচেয়ে সুলভ উৎস হতে পারে। কিন্তু সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এই অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম। পাঁচই অক্টোবর বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে বলেছে, দেশের বাজারে ডিম এবং মুরগির বাচ্চার দাম বাড়িয়ে গত ২০ দিনে ২৮০ কোটি টাকা ভোক্তাদের পকেট থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। গতকাল বিশ্ব ডিম দিবস-২০২৪ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ডিমকে অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য হিসেবে ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডিম সহজলভ্যতার দিক থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ। সব শ্রেণী-বর্ণ নির্বিশেষে, যাদের ডিম বেশি দরকার তাদের জন্য তা সরবরাহ করতে হবে। ডিমের মূল্য বৃদ্ধির মূল কারণ সিন্ডিকেট উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেছেন, এসব বিষয় মাথায় নিয়েই কাজ করছে সরকার।

লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অধ্যাপক মুশতাক খান মনে করেন, শুধু সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়। ‘বিষয়টা এ রকম নয় যে মানুষ ব্যাংক থেকে টাকা ধার করে মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে। .. যেসব বড় সিন্ডিকেটের মালিকরা হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বসে আছে এবং তারা সে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে, আপনাকে সে টাকায় হাত দিতে হবে।’ বলেন মুশতাক খান।

মাদ্রিদ ডার্বি ফুটবল মাঠে শ্রেণীর লড়াই

মাদ্রিদ ডার্বির নাম শুনেছেন? বুঝতে পারছেন কাদের কথা বলছি? বলছি, স্পেনের মাদ্রিদ শহরের বিখ্যাত দুই ফুটবল টিম আতলেতিকো মাদ্রিদ এবং রিয়াল মাদ্রিদের কথা ও ফুটবল মাঠে দুই মাদ্রিদের দেখা হলে সেটা আর ফুটবল ম্যাচ থাকে না, পরিণত হয় যুদ্ধে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মজার একটা পৌরাণিক উপাদান আছে ও রিয়েলের ফ্যানরা পছন্দ করেন পৌরাণিক দেবী সিবেলেসকে আর আতলেতিকোর ফ্যানরা পছন্দ করেন সমুদ্রের দেবতা নেপচুনোকে। দুই ক্লাবের মধ্যে ঐতিহাসিক একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর বিভেদ আছে। বিভেদটা শ্রেণিবৈষম্যের, শ্রমজীবী শ্রেণি বনাম এস্টাব্লিশমেন্টের, আন্ডারডগ বনাম রাজকীয় দলের। আতলেতিকোকে বলা হয় লস কোলচোনেরোস (The mattress makers বা তোশক নির্মাতা) আর রিয়েলকে বলা হয় লস ব্লাঙ্কোস (The whites) – ডাক নাম শুনেইতো আসলে বোঝা যায় এই দুই ক্লাবের সমর্থকদের বিবাদ অথবা বিভেদটা মূলতঃ শ্রেণীবৈষম্যের।

এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সূচনা ১৯০৩ সালে। ওই বছর অ্যাথলেটিক ডি বিলবাও দল মাদ্রিদকে হারিয়ে স্পেনের চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে নিয়েছিল। খেলা শেষে অ্যাথলেটিক ডি বিলবাওয়ের কিছু ভক্ত সিদ্ধান্ত নেন যে রাজধানী মাদ্রিদেই বিলবাওয়ের মতো একটি দল দরকার। তার এক মাসের মধ্যেই মাদ্রিদে অ্যাথলেটিক ক্লাব ডি মাদ্রিদ, বিলবাও ক্লাবের একটি শাখা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। অন্যদিকে, সেই সময়ের মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাবের (বর্তমান রিয়েল মাদ্রিদ) প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জুলিয়ান পালাসিওস, ফুটবলের প্রতি যার ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল তার ইংরেজ বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলা থেকে। ১৯০৪ এবং ১৯০৮ সালের মধ্যে, রিয়েল মাদ্রিদ চারটি কোপা ডেল রে জিতে এবং ১৯১২ সালে রাজা আলফোনসো XIII এর কাছ থেকে ‘রিয়াল’ বা ‘রাজকীয়’ উপাধি লাভ করে।

একই সময়ে, অ্যাথলেটিক ডি মাদ্রিদ তাদের প্রথম ম্যাচ খেলে বিখ্যাত লাল এবং সাদা স্ট্রাইপ জার্সি পড়ে, যার জন্য তারা লস কোলচোনেরোস (তোশক নির্মাতা) নামে পরিচিতি পায়। ১৯২৩ সালে আতলেতিকো দে মাদ্রিদ বিলবাও অ্যাথলেটিক ক্লাবের থেকে ছিন্ন হয়ে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ক্লাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। িযুদ্ধোত্তর সময়ে রিয়েলের সফলতা আসে সান্তিয়াগো বার্নাবেউয়ের ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হবার পর থেকে। তার নেতৃত্বে, ১৯৫৬ থেকে ১৯৬০ সালের মধ্যে রিয়েল পাঁচটি ইউরোপীয় কাপ জিতে। স্পেনের জেনারেল ফ্রাঙ্কো রিয়েলের এই সাফল্যকে তার কেন্দ্রিকৃত, ঐতিহ্যবাহী স্পেনের স্বপ্নের প্রতীক হিসেবে দেখেন। ফ্রাঙ্কোর সমর্থনে রিয়েল আবারও স্প্যানিশ ফুটবলে রাজকীয় প্রতীকে পরিণত হয়।

আতলেতিকোর সাফল্য আসে কিংবদন্তি লুইস আরাগোনেসের হাত ধরে, যিনি এক সময় রিয়েলে খেলতেন। আতলেতিকোর হয়ে তিনি দুটি কোপা দেল রে, আর তিনটি লিগ শিরোপা জিতেছিলেন ও তাছাড়া ১৯৬৯/৭০ মৌসুমে তিনি লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে পিচিচি পুরস্কারও জিতেন। যদিও আতলেতিকোর এই সাফল্য রিয়েলের সাফল্যের তুলনায় কিছুই না, তবুও আতলেতিকোর জন্য এটি ছিলো অনেক কিছু। অবসর নেওয়ার পর আরাগোনেস তাদের ম্যানেজার হন এবং ম্যানেজার হিসেবে তিনি একটি লিগ শিরোপা এবং চারটি কোপা দেল রে জিতেছিলেন।
বর্তমানে এই দুই ক্লাবের পরিচয় ফুটে উঠে তাদের বাজেট আর ফুটবল খেলার ধরণে। এই মুহূর্তে আতলেতিকোকে টানছেন দিয়েগো সিমেওনে এবং রিয়েলকে টানছেন তাদের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। পেরেজের সময়েই রিয়েলে গ্যালাক- টিকোস নীতি শুরু হয়, যার কারণে বিশ্বের সেরা সব খেলোয়াড়দেরকে রিয়েলের হয়ে খেলতে দেখা যায়। পেরেজের অধীনে রিয়েল জিতেছে আরও ছয়টি চ্যাম্পিয়নস লিগ – সবমিলিয়ে রিয়েল এখন – পর্যন্ত ১৩টি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে, বিশ্বের কোনো দলই এত বেশি জিতেনি।

অন্যদিকে স্প্যানিশ লীগের দুই উচ্চব্যায়ী ক্লাবের (রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনা) দাপটের মাঝেও সিমেওনের কম ব্যয়ের, কম জাঁকজমকপূর্ণ, কঠোর পরিশ্রমী আতলেতিকো দুটো লিগ শিরোপা জিতেছে এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালেও খেলেছে, কিন্তু কাকতালীয়ভাবে ফাইনালে তারা পেরেজের রিয়েলের কাছে হেরে গিয়েছিলো।

সিমেওনের আতলেতিকো কঠোর পরিশ্রম, একতা এবং অধ্যবসায়ের মূর্ত প্রতীক। তাদের ফুটবল খেলার ধরণ বার্সা অথবা রিয়েলের চেয়ে কম সুন্দর কিন্তু কঠোর পরিশ্রম আর শৃঙ্খলার কারণে সিমিওনের দল সমর্থকদের কাছে অনেক জনপ্রিয়। শ্রমজীবী শ্রেণীকে রিপ্রেসেন্ট করা এই মাঝারি বাজেটের দলটি রিয়েলের মতো অভিজাত আর ধনী ক্লাবের সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং মাঝে মাঝে জিতছেও। মাদ্রিদ ডার্বি এখনো বিশ্বের অন্যতম প্রতীক্ষিত এবং উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ, যে খেলায় এখনো শতাব্দী পুরনো সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রদর্শনী ঘটে।

লেবাননে ইসরাইলের লক্ষ্য হিজবুল্লাহ নয়, আরও বড়ও কিছু…

গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে সংঘাতের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধে জড়িয়েছে ইসরায়েল। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু হিজবুল্লাহকে নির্মূল করেই থামবে না ইসরায়েল। তাদের লক্ষ্য আরও বড়। আল জাজিরাকে খৌরি বলেন, ‘২০০৬ সালে (লেবাননে আগ্রাসনের সময়) তাদের লক্ষ্য খুবই সীমিত ছিল। তারা শুধু হিজবুল্লাহর খানিকটা ক্ষতি করে তাদেরকে পিছু হটাতে চেয়েছিল। সেই যুদ্ধের স্থায়িত্বও খুব বেশিদিন ছিল না। এবারের হামলা তীব্রতাও তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এবার তারা পুরো লেবাননকেই লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করেছে। আগের বারের মতো একটি অঞ্চলে তাদের হামলা সীমাবদ্ধ নেই। আমার ধারণা, এবার তারা লেবাননের ক্ষমতার পট-পরিবর্তন করতে চায়।

রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অচলাবস্থার কারণে দেশটিতে এ মুহূর্তে কোনো প্রেসিডেন্ট নেই। একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশ চালাচ্ছে। আমার ধারণা তারা এমন কাউকে এই পদে বসাতে চাইবে, যিনি তাদের মিত্র হবেন এবং ইসরায়েলের প্রতি বৈরি মনোভাব দেখাবেন না।’ খৌরি যোগ করেন, নেতানিয়াহু ও তার সরকারের লেবাননে ‘এমন কি কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতিতেও সম্মত হওয়ার বিষয়ে কোনো আগ্রহ নেই’ সাবেক মার্কিন কূটনীতিক নাবিল খৌরি বর্তমানে বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান আরব সেন্টারে নন-রেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি মত দেন, লেবাননে ইসরায়েলের দীর্ঘ-মেয়াদী লক্ষ্য রয়েছে, যা শুধু হিজবুল্লাহকে পেছনে হটতে বাধ্য করায় সীমাবদ্ধ থাকবে না।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে ব্যবসার সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন বাস্তবতা। এই ঝুঁকিকে শুধু কমপ্লায়েন্স ইস্যু না ভেবে ব্যবসায়িক কৌশলগত সমস্যা হিসেবে দেখা দরকার। এর ফলে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যবসাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। ঢাকায় ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম’ সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন। বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা কোনো বোঝা নয়, বরং উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ব্যবসায়িক সুযোগ-আমি এভাবে ভাবি। সস্তা শ্রম বাংলাদেশের জন্য এখন আর প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নয়। উদ্যোক্তা হিসেবে আমরা যদি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না করি তাহলে সফল হতে পারব না।’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে শুধু ঝুঁকি নয়, সম্ভাবনাও আছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা সুযোগগুলো উন্মুক্ত করছে। এতে ব্যবসা প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের পরিমাণ কম, মাত্র ২ শতাংশ। এটিকে আরও বাড়াতে হবে। টেকসই ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়াতে বৃহত্তম ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছি।’ প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ‘কীভাবে পণ্য উৎপাদন হচ্ছে, তা উদ্যোক্তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে কম খরচে পণ্য উৎপাদন করাটাই বিবেচ্য বিষয় হতে পারে না। জলবায়ু পরিবর্তন একটি বাস্তব ঝুঁকি, যা অবশ্যই মনে রাখা দরকার।’

বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের (বিএই) উদ্যোগে বৃহস্পতিবার ঢাকার রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় তৈরি পোশাকশিল্পে পরিবেশসম্মত টেকসই উন্নয়নের পথ ত্বরান্বিত করতে দিনব্যাপী সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি সরকারের প্রতিনিধি, জলবায়ুবিশেষজ্ঞ, বিদেশি ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সাড়ে চার শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন। সম্মেলনটি আয়োজনে সহযোগী হিসেবে ছিল অ্যাপারেল ইমপ্যাক্ট ইনস্টিটিউট, ক্যাসকেল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জিআইজেড, এইচঅ্যান্ডএম, ঢাকায় নেদারল্যান্ডসের দূতাবাস, পিডিএস ও টার্গেট।

শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট দিয়েছে ভারত

দিল্লিতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। সাধারণত কোনও দেশে আশ্রয়প্রার্থীদের সেই দেশের ট্রাভেল ডকুমেন্ট দেওয়া হয়। ভারত সরকার এই ট্রাভেল ডকুমেন্ট দেওয়ার বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যেমন স্বীকার করেনি, আবার অস্বীকারও করেনি। ভারতে দালাই লামাসহ কয়েক লাখ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী তিব্বতি শরণার্থী এই ‘ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ (সংক্ষেপে ‘টিডি’) নিয়েই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সফর করেন। এটি পাসপোর্ট নয়, ভারত সরকারের জারি করা একটি বিশেষ ধরনের ‘পরিচয়পত্র’; যা দিয়ে বিদেশ সফরও করা যায়। এর পোশাকি নাম ‘আইডেন্টিটি সার্টিফিকেট’ বা আইসি।

“ আমার অনুশোচনা আছে , নিজের চেয়ে বুদ্ধিমান কিছু ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা মানবজাতির নেই ”

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গডফাদার জিওফ্র্যে হিনটন জানিয়েছেন ‘দুই ধরণের অনুশোচনা আছে’। ‘একটা হল যেখানে আপনি এমন কিছু করেন যা আপনি জানেন যে আপনার করা উচিত না। অন্যটা হল সেই অনুশোচনা, যেখানে আপনি এমন কিছু একটা করছেন, যা একই পরিস্থিতিতে আপনি আবার করবেন যা ভাল ফল বয়ে আনবেনা। এই দ্বিতীয় অনুশোচনাটি আমার আছে।’ গুগলে এক দশক কাজ করে গত বছর হিনটন পদত্যাগ করেন, যাতে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতি অস্তিত্বের সামনে যে হুমকি হাজির করেছে তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে পারেন।
অধ্যাপক হিন্টন বলেন – ‘একে শিল্প বিপ্লবের সাথে তুলনা করা যায়। কিন্তু, যান্ত্রিক শক্তির বদলে এটা বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতায় মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে। আমি উদ্বিগ্ন যে এর শেষ সামগ্রিক পরিণতি হল আমাদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান সিস্টেম শেষ পর্যন্ত সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে।
নিজেদের চেয়ে বুদ্ধিমান কিছু ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা মানুষের নেই।’ ফোনে নোবেল কমিটিকে তিনি বলেন- ‘আমাদের সম্ভাব্য বেশ কিছু ধরণের খারাপ পরিণতি নিয়ে চিন্তিত হবার কারণ আছে, বিশেষত এগুলো (এআই) নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি।’ ১৯৮০ সালের দিকে করা জিওফ্র্যে হিনটন এবং জন হপফিল্ড এর আবিষ্কার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বার উন্মোচন করে। এ বছর তাঁরা যৌথভাবে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন।

দেশে বিলাসবহুল গাড়ির বিক্রি শুন্যে নেমে এসেছে

সংশ্লিষ্টদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে প্রতি মাসে ৮০০-র মতো গাড়ি বিক্রি হতো। এখন বিক্রি কমেছে ৯৫ শতাংশ।
জার্মান অডির বিলাসবহুল গাড়ির একমাত্র পরিবেশক প্রোগ্রেস মোটরস এক কোটি ৬৯ লাখ টাকা থেকে তিন কোটি ৯৯ লাখ টাকায় গাড়ি বিক্রি করে। এসব গাড়ি শুধু বিত্তবানরাই কেনেন। প্রোগ্রেস মোটরস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদ নুসরাত খান বলেন- গত জুলাই থেকে একটি গাড়িও বিক্রি হয়নি। বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি হাবিব উল্লাহ ডন বলেন – রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অর্থনীতি নিয়ে মানুষ শঙ্কিত। জুলাই থেকে বিলাসবহুল গাড়ির বিক্রি অনেক কমেছে।’

তার দৃষ্টিতে, সম্ভাব্য ক্রেতারা গাড়ির কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। টয়োটার ল্যান্ড ক্লজার, পাজেরো ও হ্যারিয়ার সিরিজের গাড়ি বিক্রি প্রায় শূন্যের কোঠায়। বারভিডার সভাপতি আরও বলেন – আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেশি হওয়ায় দামি গাড়ির দাম আরও বেড়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি পরিবেশ দূষণ না করলেও সম্প্রতি বিআরটিএ কার্বন কর আরোপ করায় দামি গাড়ির বিক্রি আরও কমেছে বলে মনে করেন তিনি। ক্রেতারা আর্থিকভাবে সতর্ক থাকায় পরিস্থিতি দামি গাড়ি বিক্রির অনুকূল নয় মন্তব্য করেন মোটরস বে’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান বিপু।