ধনিক গোষ্টির কাছ থেকে প্রত্যক্ষ কর আহরণ বাড়াতে হবে , শুল্ক ও ভ্যাটের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পরোক্ষ কর আহরণ কমাতে হবে

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ ২০২২ অনুযায়ী, সবচেয়ে ধনী ৫% দেশের মোট আয়ের ৩০% শতাংশ আর সবচেয়েগরিব ৫% এর হাতে দেশের আয়ের মাত্র ০.৩৭% : কল্লোল মোস্তফা, লেখক ও গবেষক

দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত নিবন্ধের সংক্ষেপ ০৫ অক্টোবর ২০২৪ … বাংলাদেশে এই অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধির কারণ প্রাকৃতিক বা অবশ্যম্ভাবী নয়। বিশেষ ধরনের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণেই তা ঘটেছে। এই রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কাঠামোর বৈশিষ্ট্য হলো বৈষম্যমূলক কর ব্যবস্থা, অতিনিম্ন মজুরি, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অপ্রতুল বরাদ্দ। … বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হলে এই রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন ঘটাতে হবে। ধনিক গোষ্ঠীর কাছ থেকে প্রত্যক্ষ কর আহরণ বাড়াতে হবে, শুল্ক ও ভ্যাটের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পরোক্ষ কর আহরণ কমাতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন করতে হবে।

… প্রাতিষ্ঠানিক খাতে মানসম্মত কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে শ্রম আইনের আওতায় এনে শ্রমিকের বেঁচে থাকার মতো ন্যূনতম মজুরি ও নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। …সেই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও বরাদ্দ বাড়াতে হবে, প্রকৃতপক্ষে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে ভাতা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারতের মতো আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক ও ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রেশনব্যবস্থা চালু করতে হবে, যেন এতে কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি এবং দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা দুটোই নিশ্চিত হবে, সেই সঙ্গে বাজারে এসব পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

… একদিকে জিডিপির অনুপাতে অপ্রতুল বরাদ্দ, অন্যদিকে ক্রমাগত বাণিজ্যিকীকরণের কারণে দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বৈষম্য বেড়েছে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ যথাক্রমে জিডিপির ১ ও ২ শতাংশের কম। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুসারে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৪ থেকে ৫ শতাংশ এবং ইউনেসকোর পরামর্শ অনুসারে, জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করা উচিত। … বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার কারণে অনেক মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন, সেই ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার না হলে কোনো সংস্কারই টেকসই হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন