Home Blog Page 244

পানির সংকটে হুমকিতে পড়ছে বিশ্ব খাদ্য উৎপাদন

পানিসংকট নিরসনে নিষ্ক্রিয়তা ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি খাদ্য উৎপাদনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ‘প্রায় তিন শ কোটি মানুষ এবং বিশ্বের অর্ধেকের বেশি খাদ্য উৎপাদন এখন এমন এলাকায়, যেখানে পানির মোট মজুত কমছে বলে ধরণা করা হয়েছে।’ এক প্রতিবেদনে পানিসংকটের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশগুলোর মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) গড়ে ৮ শতাংশ; নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জিডিপি ১৫ শতাংশের বেশি কমে যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার গ্লোবাল কমিশন অন দ্য ইকোনমিকস অব ওয়াটারের (জিসিইডব্লিউ) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। ওই প্রতিবেদনে এই সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন এবং তাপমাত্রার ক্রমবৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাব, সেই সঙ্গে পানির মোট মজুত হ্রাস এবং বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবের’ ফলে অর্থনৈতিক পতন ঘটতে পারে। এই সংকট মোকাবিলায় পানিচক্রকে ‘বিশ্বের সাধারণ স্বার্থ’ হিসেবে দেখাতে হবে এবং সব স্তরে জল শাসনব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হবে।

পুলিশের হাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ১৪’ নির্বাচনের পর থেকে

গত ১৯ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত তিনদিনে যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলনকারীদের দমাতে সর্বোচ্চ ১,৪৯৫ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয় ৭.৬২ এমএম চায়না রাইফেল থেকে। এতে প্রাণহানি ঘটে শতাধিক। অত্যাধুনিক এ মারণাস্ত্র দিয়ে প্রতি মিনিটে নির্ভুলভাবে ৩০-৪০ রাউন্ড গুলি চালানো যায়। অত্যাধুনিক এ অস্ত্র ব্যবহার হয় মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে। পুলিশকে এ ধরনের মারণাস্ত্র দেয়া শুরু হয় ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর। আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর পুলিশের আধুনিকায়নের নামে বাহিনীতে যুক্ত করা হয় ৭.৬২ এমএম চায়না রাইফেল, এসএমজি, এলএমজি, বিডি-৮ অ্যাসল্ট রাইফেল, টরাস ৯ এমএমের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার্য অস্ত্র।

অস্ত্র বিশেষজ্ঞ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, পুলিশ ও র‍্যাব চীনা টাইপ-৫৬ সেমি অটোমেটিক রাইফেলে ৭.৬২ এমএম বুলেট ব্যবহার করে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ৭.৬২ এমএম স্নাইপার রাইফেল সংগ্রহের জন্য সর্বশেষ দরপত্র আহ্বান করা হয় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের আগে গত মার্চে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে যুদ্ধকালে ব্যবহার্য এসব মারণাস্ত্র শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের ওপর ব্যাপক মাত্রায় চালিয়েছে পুলিশ।

বেলাল কারিগরের নামে সেই কুকিজ জনপ্রিয় হয় বেলা বিস্কুট হিসেবে ।

চট্টগ্রাম ক্লাবের ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের জন্য একজাতীয় কুকিজ তৈরি শুরু করে গণি বেকারি। ১৮৮০ সালের দিকে বেলা বিস্কুটের মাধ্যমে চট্টগ্রামে বেকারি সংস্কৃতির যাত্রা শুরু।

হামাস প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার ইসরায়েলি বাহিনীর কাছে নিহত

এটা গাজার যুদ্ধের শেষের শুরু : নেতানিয়াহু হত্যাকাণ্ডের বদলা জোরালো হবে : ইরান যুদ্ধে নতুন অধ্যায়ের শুরু : হিজবুল্লাহ

সিনওয়ার ২০১৭ সাল থেকে গাজায় হামাসের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্টের মতে, সাত অক্টোবরের হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তিনি। হামলায় হামাসের বন্দুকধারীরা প্রায় ১২০০ জনকে হত্যা এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, বুধবার গাজার রাফাহ শহরের একটি ভবনে অভিযান চালানো হয়। ধারণা ছিলো যে ভবনটি হামাসের সিনিয়র নেতারা ব্যবহার করেন। অভিযানে তিনজন নিহত হন, সিনওয়ার তাদের একজন। আইডিএফ প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল হার্টজি হালেভি বলেছেন, ‘আমরা বলেছিলাম আমরা তাকে ধরবো এবং তাকে ধরেছিও। তাকে ছাড়া পৃথিবী এখন আরেকটু ভাল।’

ইয়াহিয়া সিনওয়ারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করতে ইসরায়েল কয়েক ঘণ্টা সময় নেয়। ইসরায়েলের কাছে সিনওয়ারের জেনেটিক ডেটা আছে। সিনওয়ার জীবনের কয়েক দশকই কাটিয়েছেন ইসরায়েলের কারাগারে।নেতানিয়াহু সিনিওয়ার হত্যাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘যদিও এটি গাজার যুদ্ধের শেষ নয়, এটা শেষের শুরু।’ এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে ইরানের প্রতিনিধিদল বলেছে, ‘প্রতিরোেধ শক্তিশালী হবে। তিনি (সিনওয়ার) যুবক ও শিশুদের জন্য আদর্শ হয়ে থাকবেন, যারা তাঁর দেখানো পথ ধরে ফিলিস্তিনকে মুক্তির দিকে নিয়ে যাবে। যত দিন দখল ও আগ্রাসন চলবে, তত দিন প্রতিরোধও জারি থাকবে।’

হিজবুল্লাহর দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসরায়েলি শত্রুপক্ষের সঙ্গে চলমান সংঘাত একটি নতুন এবং ক্রমবর্ধমান অধ্যায়ে রূপান্তরিত হয়েছে বলে ঘোষণা দিচ্ছে হিজবুল্লাহ।’ আগামী দিনগুলোতে বিভিন্ন ঘটনায় এ ঘোষণার প্রতিফলন দেখা যাবে বলেছে হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা বেড়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, ‘দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে ইসরায়েলের স্থল অভিযান মোকাবিলা করার জন্য শত শত যোদ্ধা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ রকেট হামলা দিন দিন বাড়ছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রথমবারের মতো মোতায়েন করা হয়েছে।

শেখ মুজিবকে জাতির জনক মনে করে না অন্তর্বর্তী সরকার : তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম

বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন- ‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে ফ্যাসিস্টভাবে ক্ষমতায় ছিল। মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে, গুম-খুন করে, গণহত্যা করে তারা ক্ষমতায় ছিল। তো তারা কাকে জাতির পিতা বললো, তারা কোন দিবসকে কোন জাতীয় দিবস ঘোষণা করলো, এই নতুন বাংলাদেশে তো সেটার ধারাবাহিকতা থাকবে না।’ সাংবাদিকদের মধ্য থেকে একজন জানতে চেয়েছিলেন যে, শেখ মুজিবুর রহমানকে এই সরকার জাতির জনক মনে করে কিনা? ‘অবশ্যই না, কেন জাতির জনক মনে করবেন?’ জবাবে বলেন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

‘আমাদের এই ভূখণ্ডের লড়াইয়ের ইতিহাসে কেবল একজন না, বহু মানুষের এরকম কিন্তু কন্ট্রিবিউশন রয়েছে। আমাদের ইতিহাস কিন্তু শুধু ৫২ থেকে শুরু হয়ে যায় নাই। আমাদের ইতিহাসের দীর্ঘ লড়াই আছে।” ‘ব্রিটিশ বিরোধী লড়াই আছে, আমাদের এখানে ‘৪৭ এর লড়াই আছে এই ভূখণ্ডের মানুষের, ‘৭১ এর লড়াই আছে, ‘৯০ আছে ও ‘২৪ আছে। আমাদের এখানে শেরে বাংলা ফজলুল হক, সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশেম, যোগেন মণ্ডল, মাওলানা ভাসানী অনেক মানুষের লড়াই আছে।’ ‘আমরা তো মনে করি এখানে একজন জাতির পিতা না, বরং অনেক ফাউন্ডিং ফাদারস রয়েছে, যাদের কন্ট্রিবিউশনের ফলে এই ভূ-খণ্ড, এই রাষ্ট্র, আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি,’ বলেন উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

সাতই মার্চসহ জাতীয় আটটি দিবস বাতিল ঘোষণার ব্যাখ্যা দেন তথ্য উপদেষ্টা। দিবসগুলোর ব্যাপারে জাতীয় ঐকমত্য ছিল না বলেই বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। ‘জাতীয় দিবস মানে একটা জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে করা দিবস যেটা জাতির সবাই ধারণ করে। যেমন: বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস….এটা (বাতিল দিবসগুলো) আসলে সম্পূর্ণভাবে আওয়ামী লীগের এবং যে ফ্যাসিস্ট আদর্শ সেই আদর্শকে ধারণ করে সেই আদর্শ চর্চার জন্য যে দিবসগুলো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল…..সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কিছু দিবসকে বাতিল হয়েছে।’ বলেন তথ্য উপদেষ্টা। আগামীতে এ ধরনের আরও কিছু দিবস বাতিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন কয়েকটি দিবসের ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম।

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’র দুই দিক

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং আয়ু বাড়াতে এবং ওজন হ্রাসে সহায়ক হতে পারে, তবে এর কিছু নেতিবাচক প্রভাবেরও সম্ভাবনা আছে এমআইটির সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংএর পরে খাবার খাওয়া স্টেম সেল পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে শরীরের আঘাত সারাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বিজ্ঞানীরা একটি উদ্বেগজনক দিকও খুঁজে পেয়েছেন; স্টেম সেল পুনরুৎপাদনের ফলে যে ক্যান্সারাস মিউটেশন হয় তাদের প্রাথমিক পর্যায়ের টিউমারে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গবেষকরা দেখেছেন যে ২৪ ঘণ্টার ফাস্টিং এর পর খাওয়ার সময় ইঁদুরদের মধ্যে স্টেম সেলের বৃদ্ধি ছিল উপবাস না করা ইঁদুরদের তুলনায় অনেক বেশি।

ফাস্টিং এর পর খাওয়ার সময় শরীর যখন আবার পুষ্টি পায়, তখন পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়ার তীব্রতা বাড়ে, যা স্টেম সেলগুলোকে বিভাজিত হতে এবং বাড়তে সক্ষম করে। তবে এর ফলে বিশেষায়িত কোষ তৈরির প্রবণতাও বেশি দেখা গেছে। গবেষণার প্রধান লেখক প্রফেসর ওমর ইয়িলমাজের মতে – শরীরে স্টেম সেল এক্টিভিটি বেশী থাকলে সেটা পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়ার জন্য ভালো, তবে দীর্ঘমেয়াদে খুব বেশি স্টেম সেল এক্টিভিটি নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। প্রফেসর ইয়িলমাজ উল্লেখ করেছেন যে, ‘মানুষের ক্ষেত্রে এটি আরও জটিল হতে পারে।’ তিনি মনে করেন মানবশরীরে এর প্রভাব বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

বিশ্বজুড়ে কোরিয়ান জ্বর

হ্যালিউ (Hallyu) বা কোরিয়ান ওয়েভ ঝড়ের মতো ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে ও শুরু হয়েছিল কোরিয়ান টিভি ড্রামা দিয়ে, যেগুলো ৯০’র দশকের শেষ দিকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হওয়া শুরু করে কিন্তু ২০১২ সালে সাইর (Psy) গ্যাংনাম স্টাইল পশ্চিমের মাটিতে পা রাখার পরই কোরিয়ান সংস্কৃতির আসল ঢেউ শুরু হয়। আচমকাই সারা দুনিয়া ‘অদৃশ্য ঘোড়ার নাচ’ শিখতে শুরু করল, আর কে-পপ গান অ্যান্থেমে পরিণত হলো বিশ্বব্যাপী। এর পরবর্তী দশকে কোরিয়ান সাংস্কৃতিক রপ্তানি বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়, যার মধ্যে ছিল বিটিএস-এর মতো কেপপ তারকারা, অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র ‘প্যারাসাইট’ এবং বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘স্কুইড গেম’। যেন কোরিয়া আমাদের হাতে একটা প্লেলিস্ট ধরিয়ে দিয়ে বলছে, ‘নো চিন্তা, ডু ফুর্তি’! এই কোরিয়ান ঝড়ে লন্ডভন্ড হওয়া আমাদের সবার জীবনে এখন কে-পপ, কে-ড্রামা, কে-সিনেমা ছাড়াও যোগ হয়েছে কিমচি, বিবিমবাপ, কে-বিউটি। এবছর কোরিয়ান লেখক হান ক্যাং এর সাহিত্যে নোবেল পাবার পরে এখন যোগ হয়েছে কে-লিটারেচার।

২০২২ সালে, দক্ষিণ কোরিয়ার সাংস্কৃতিক রপ্তানির অর্থনৈতিক মূল্য ছিল ১৩.২ বিলিয়ন ডলার, যেটাকে ২০২৭ সালের মধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলারে পরিণত করতে চায় কোরিয়ান সরকার। তো কিভাবে কোরিয়া জিতে নিলো পুরো বিশ্ব? একটা কথা আছে, অস্থিরতা সৃষ্টিকে ত্বরান্বিত করেও দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসও অস্থির সময়ের ইতিহাস। ১৯৫০ এ দক্ষিণ কোরিয়া-উত্তর কোরিয়া যুদ্ধ থেকে শুরু করে যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তাদের অর্থনৈতিক রূপান্তর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়াকে পাড় হতে হয়েছে অনেক চড়াই উৎরাই আর সেটা তাদের সাংস্কৃতিক সৃজনশীলতাকে প্রভাবিত করেছে। বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক বং জুন-হো (Parasite) এবং পার্ক চান-উক (Old Boy) মনে করেন দেশের গতিশীল, অস্থির আর নাটকীয় অতীত তাদের শিখিয়েছে কিভাবে সিনেমায় গল্প বলা যায় ভিন্ন ভাবে। সাহিত্যে নোবেল জেতা হান ক্যাং-এর মতো দক্ষিণ কোরিয়ার লেখকরা, জাতির বেদনাদায়ক ইতিহাসের ভিতরকার কঠিন বিষয়গুলিকে একটি স্বতন্ত্র সাহিত্যিক শৈলীতে প্রকাশ করেছেন।হ্যালিউ বা কোরিয়ান ওয়েভ সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হওয়ার পিছনে অনেক কারণ আছে। যেমন, দক্ষিণ কোরিয়ার টিভি শো আর সিনেমার গল্প বলার স্টাইল পশ্চিম থেকে একেবারেই ভিন্ন।

কে-ড্রামা আর সিনেমা তাদের ভিন্ন ধরণের প্লট, ক্ষেত্র বিশেষে অতি নাটকীয়তা, আবেগের গভীরতা, ভিন্নধর্মী চরিত্র এবং রিলেটেবল বিষয়বস্তু দিয়ে সারা দুনিয়ার দর্শকদের মন জয় করেছে। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং নেটফ্লিক্সের মতো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলির উত্থানও আন্তর্জাতিক ফ্যানদের কাছে কোরিয়ান কন্টেন্ট সহজলভ্য করেছে। কে-পপ গানের আকর্ষণীয় সুর, দারুন কোরিওগ্রাফি এবং মিউজিক ভিডিও এক ভিন্ন ধরণের আনন্দ দিয়ে বিশ্বজুড়ে দর্শকের সাথে গড়ে তুলছে নিবিড় যোগ। দক্ষিণ কোরিয়ায় শ্রমশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ কম হলেও, সাহিত্যে তাদের অবদান অনস্বীকার্য ও তাদের অভিনব দৃষ্টিভঙ্গি, অভ্যন্তরীণ সংগ্রাম এবং সামাজিক সমস্যার বিষয় তুলে ধরার প্রচেষ্টা প্রশংসা পাচ্ছে বিশ্বজুড়ে। হান কাং-এর বুকার পুরস্কারজয়ী উপন্যাস ‘দ্য ভেজিটেরিয়ান’, যা একজন নারীর মাংস খাওয়া বন্ধ করার গল্প নিয়ে রচিত, এটি ইকোফেমিনিজমের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির ক্ষেত্রে এটিকে ছাড়িয়ে যায় চো নাম-জু-এর লেখাবই ‘Kim Ji-young, Born 1982’, যে গল্পে একজন বিবাহিত দক্ষিণ কোরিয়ান নারী তার সন্তান পালনের জন্য চাকরি ছেড়ে দেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারও বর্তমান সময় তাদের সংস্কৃতিকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে বড় বিনিয়োগ করেছে, হ্যালিউ প্রসারে যার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। কিন্তু সরকার যে সবসময় সহায়তা করেছে তাও কিন্তু নয়। বং জুন-হো এবং হান ক্যাং-এর মতো শিল্পীরা অতীতে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে সরকারকর্তৃক ব্ল্যাকলিস্টেট হয়েছেন। তবুও, কিছু সরকারী উদ্যোগ যেমন Literature Translation Institute of Korea (LTI Korea) অনুবাদের মাধ্যমে কোরিয়ান সাহিত্যকে বৈশ্বিক দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। তাছাড়া, Psy, BTS, Blankpink এর কেপপ তারকারাও কে-লিটেরাচারের আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তা বাড়াতে বড় একটা ভূমিকা রেখেছে। কোরিয়ার এই সাফল্য হয়ত তাদের ওয়ার্ক হার্ড, প্লে হার্ড সামাজিক সংস্কৃতির সাথেও যুক্ত। বং জুন-হো তো মজা করে বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ানরা কাজ এবং আনন্দ দুই ক্ষেত্রেই চরমপন্থী ও তার মতে কোরিয়ানদের heavy drinking culture তাদের সৃজনশীলতাকে অনুপ্রাণিত করে। মোট কথা হলো, ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধের সাথে আধুনিকতার সমন্বয় কোরিয়ান কনটেন্টকে সতেজ এবং উদ্ভাবনী করে তুলেছে, যা বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক রুচির মানুষের কাছেও বেশ গ্রহণযোগ্য।

দক্ষিণ – পূর্ব এশিয়ায় সাইক্লোন আরও বিধ্বংসী হয়ে উঠছে

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার টাইফুনগুলি ইদানিং উপকূলের কাছেই তৈরী হচ্ছে, দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ডাঙায় থাকছে। এই পরিবর্তনের ফলে স্থলভাগে আঘাত হানার আগে টাইফুনগুলির কম দূরত্ব অতিক্রম করা লাগছে এবং যেসব এলাকায় আঘাত হানছে তারাও টাইফুন থেকে বাঁচার প্রস্তুতির জন্য সময় পাচ্ছে অনেক কম। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় টাইফুনগুলি এখন সমুদ্র থেকে বেশি তাপ ও আর্দ্রতা সংগ্রহ করতে পারছে। ফলে ঝড়ের বাতাসের গতি, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, এবং সামগ্রিক ধ্বংসাত্মক ক্ষমতাও বেড়ে যাচ্ছে। তদুপরি, টাইফুনগুলি এখন স্থলভাগে আঘাত করার পরও দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকতে পারছে। আগে টাইফুনগুলো স্থলভাগে দ্রুত দুর্বল হয়ে যেত, কারণ তারা আর উষ্ণ সমুদ্রের জলের উপর নির্ভর করতে পারত না।

কিন্তু সমুদ্রপৃষ্ঠের স্তর বৃদ্ধি এবং ভূমির উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ঝড়গুলি দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি ধরে রাখছে, যার ফলে উপকূলীয় এলাকার কৃষি এবং অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হচ্ছে। এই প্রবণতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলির জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে, বন্যা, ভূমিধস এবং অন্যান্য জলবায়ু সম্পর্কিত দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে নেচার জার্নালের এর সহযোগী জার্নাল ক্লাইমেট অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক সায়েন্স-এ। গবেষণায় অংশগ্রহণ করেন সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি (এনটিইউ), আর দুটি আমেরিকার ইউনিভার্সিটি – রোয়ান বিশ্ববিদ্যালয় এবং পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ১৯ শতক থেকে ২১ শতকের শেষ পর্যন্ত সময়ব্যাপি ৬৪,০০০ এর বেশি মডেল করা ইতিহাসমূলক এবং ভবিষ্যতের ঝড়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখতে পেয়েছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মহাসাগরের তাপমাত্রা বাড়ছে, যা এশিয়ার দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথে পরিবর্তন নিয়ে আসছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ৬৫০ মিলিয়নেরও বেশি মানু-ে ষর বাস এবং এই অঞ্চলের উষ্ণায়নের প্রধান কারণ হলো দ্রুত শিল্পায়ন, বন ধ্বংস এবং কৃষিকাজ, এবং বড় জনসংখ্যা। শক্তির জন্য জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, উচ্চ হারে বন ধ্বংস এবং ধান চাষ ও পশুপালনের মতো কৃষিকাজ থেকে প্রচুর পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়। এছাড়াও, শহরায়ন এবং শিল্পায়নের ফলে বিপুল পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং মিথেন নির্গত হয়। সবকিছু একসাথে মিলে জলবায়ু পরিবর্তনকে দ্রুততর করছে, যার ফলে এই অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং আরও চরম আবহাওয়া দেখা দিচ্ছে।

সাম্প্রতিক টাইফুনগুলি এই পরিবর্তনের ঝুঁকিগুলি প্রদর্শন করছে। যেমন, টাইফুন ইয়াগি, যার বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ছিল ২০৩ কিমি/ঘণ্টা, এটি উত্তর ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ডে ব্যাপক ধ্বংস সাধন করেছে, যেখানে বহু কৃষিজমি এবং গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভিয়েতনামে মারা গিয়েছে কমপক্ষে ২২৬ জন। জুলাই মাসে টাইফুন গাইমি ম্যানিলায় এবং তাইওয়ানের কাওশিয়াংয়ে বন্যা সৃষ্টি করেছে; এটি গত আট বছরে তাইওয়ানে আঘাত হানা টাইফুনের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল ও অন্তত পাঁচজন মারা গেছে এবং শতাধিক আহত হয়েছে। এই ঘটনাগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকির গুরুত্বকে তুলে ধরে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জুলাই আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগের বিচার কার্যক্রম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুরু হয়েছে। বিচার শুরুর প্রথম দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। হাসিনাকে আগামী এক মাসের মধ্যে গ্রেফতারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত বাকিদের বিরুদ্ধে শুনানি চলছে। বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। ট্রাইব্যুনালের সূচনা বক্তব্যে বিডিআর বিদ্রোহে ৭৪ জনকে হত্যা, শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতের সমাবেশে হত্যা, র‍্যাবের বিচার বহির্ভূত হত্যা, জুলাই-আগস্ট গণহত্যাসহ আওয়ামী আমলে মানবতা বিরোধী অপরাধের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্যদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়ার কথাও জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করতে ২০১০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। সেই ট্রাইব্যুনাল জামায়াত-বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে দণ্ড ঘোষণা করে এবং তা কার্যকরও হয়।

চীন – নেতৃত্বাধীন বাণিজ্য ব্লকে যোগ দেয়ার প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার

বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্য চুক্তি চীনের নেতৃত্বাধীন Regional Comprehensive Economic Partnership (RCEP) বাংলাদেশের প্রবেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এটি এ মুহূর্তে বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্য চুক্তি যার মধ্যে পরিষেবা, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি আছে। বাংলাদেশ জঈউচ-তে যোগদানের উদ্যোগ নিয়েছে কারণ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশগুলির (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলির সমিতি (আসিয়ান) এর বাজারগুলিতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা হারাবে। ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, লাওস, মায়ানমার, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনাম – এই ১০টি আসিয়ান দেশ বাংলাদেশের – জন্য সম্ভাব্য বাজার।

আরসিইপিতে আরও পাঁচটি দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যারা আসিয়ান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করেছে: চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড।

আরসিইপির মধ্যে এই ১৫টি দেশ বৈশ্বিক জিডিপির ৩০ শতাংশ, বিশ্বব্যাপী সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) ৩১ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক চতুর্থাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাণিজ্য মন্ত্রীর একজন সিনিয়র অফিসার বলেছেন, ‘আমরা আরসিইপিতে যোগদানের জন্য আমাদের সম্মতির উল্লেখ করে একটি চিঠি পাঠিয়েছি।’

এর আগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় আরসিইপিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অনুমোদন দেয়। RCEP আনুষ্ঠানিকভাবে নভেম্বর ২০২০ এ শুরু হয়ে ১০২২ এ কার্যকর হয়। ২০২৩ এই প্লাটফর্ম অন্যদেশ গুলোর জন্যে খুলে দেয়া হয়।যে কোনো উন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশগুলো সদস্য হিসেবে যোগ দিতে পারে। একটি নথি অনুসারে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় RCEP-তে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে।

ধারনা করা হচ্ছে বাংলাদেশের রপ্তানি ৩.২৬ বিলিয়ন ডলার এবং এফডিআই ৩.৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে; পোশাক-শিল্প রপ্তানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশে ভূমিকা রাখবে এবং পোশাক খাতে দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের চাহিদা ১৮ শতাংশ বাড়বে। সামগ্রিকভাবে, জঈউচ-তে যোগ দিলে দেশের জিডিপি ০.২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, নথিতে বলা হয়েছে।তবে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা না বাড়লে সেবা, বিনিয়োগ ও ই-কমার্সখাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যেহেতু বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের সদস্যও তাই দেশটিকে সদস্য দেশগুলির সাথে আলাদাভাবে আলোচনা করতে হবে। তবে এটি ভৌগোলিক নৈকট্যের সুবিধাও ভোগ করবে।