Home Blog Page 245

রাশিয়ায় সৈন্য পাঠাচ্ছে উত্তর – কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া এমনিতেই রাশিয়াকে গোলাবারুদ এবং ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে আসছিলো। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে এখন রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য সৈন্য পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন যে মস্কো এবং পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে গভীরতর সম্পর্ক এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জেলেনস্কির মতে পুতিন এবং কিম জং-উনের মধ্যে জুন মাসে একটি গোপন চুক্তির মাধ্যমে এই সৈন্য স্থানান্তর শুরু হয়। রিপোর্ট বলছে, প্রেসিডেন্ট পুতিন যুদ্ধের মেয়াদ এবং খরচ নিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা উদ্বেগের কারণে রাশিয়ান সেনা নিয়োগ বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে যে সেপ্টেম্বর ছিল রাশিয়ার সেনাদের জন্য সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী মাস, যেখানে যুদ্ধের শুরু থেকে ১১৫,০০০ রাশিয়ান সেনা নিহত হয়েছে এবং ৫০০,০০০ জন আহত হয়েছে। উত্তর কোরিয়া প্রায় ৩,০০০ সৈন্য পাঠিয়েছে, যারা রাশিয়ার বাহিনীকে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে সহায়তা করছে। এছাড়াও, উত্তর কোরিয়ার প্রযুক্তিবিদরা KN-23 ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রর মতো অস্ত্র মোতায়েনে সহায়তা করছে। এই সৈন্যদের কিছু ইতিমধ্যেই ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেনের গণমাধ্যম আরো বলছে যে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যদের রাশিয়ায় প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে এবং তারা শীঘ্রই ফ্রন্টলাইনে যোগ দিতে পারে, যা সংঘাতের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে।

রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পিয়ংইয়ংকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বিচ্ছিন্ন করে তুলতে পারে। ওয়াশিংটন সতর্ক করেছে, উত্তর কোরিয়ার এই সম্পৃক্ততা রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হতাশা এবং তাদের আরও নির্মম হয়ে ওঠার প্রমাণ।

আপাতত বেঞ্চ পাচ্ছেন না হাইকোর্টের ১২ বিচারপতি

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে হাইকোর্ট বিভাগের ১২ বিচারপতিকে আপাতত বিচারকাজ না দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিচারপতিদের বেঞ্চ না দেয়ার সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তবে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ তালিকা জানায়নি।

বিগত সরকারের ‘ফ্যাসিস্ট’ বিচারপতিদের পদত্যাগ দাবিতে গতকাল দুপুরে হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচি শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। অন্যদিকে হাইকোর্ট বিভাগের ‘দলবাজ ও দুর্নীতিবাজ’ বিচারপতিদের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী সমাজ। জাতীয় নাগরিক কমিটি-লিগ্যাল উইং বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় ফ্যাসিবাদের দোসর বিচারপতিদের অনতিবিলম্বে অপসারণের দাবিতে। গতকাল বিকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ। আলোচনার পর বিকালে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘বিচারপতির পদত্যাগ বা অপসারণ এটার একটা প্রক্রিয়া আছে।

বর্তমানে দেশে এ-সংক্রান্ত কোনো আইন নেই। বিগত সরকার সংসদের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছিল। একটা সংশোধনী হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট সেটা বাতিল করে দিয়েছেন। সেটা আবার সরকার রিভিউ আকারে পেশ করেছে। আগামী রোববার সেটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগে শুনানি হবে।’ আজিজ আহমদ ভূঞা আরো বলেন, ‘অন্যদিকে বিচারপতিদের নিয়োগকর্তা হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি। পদত্যাগ বা অপসারণের সে উদ্যোগও রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে হয়ে থাকে। এখানে সুপ্রিম কোর্টের, প্রধান বিচারপতির যেটা করণীয়, উনি সেটা করেছেন।’ রেজিস্টার জেনারেলের এ ঘোষণার পর আন্দোলনকারীরা হাইকোর্ট এলাকা ছাড়েন।

বিষ্ণই গ্যাং ভারত সরকারের হয়ে অপরাধে জড়িত : কানাডা পুলিশ

এ মাসে মুম্বাইয়ে বাবা সিদ্দিককে হত্যার দায় স্বীকার করেছিল বিষ্ণোই গ্যাং। কানাডায় হত্যা-সহিংসতার মতো সংঘবদ্ধ অপরাধে কুখ্যাত ভারতীয় অপরাধী চক্র লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং সদস্যরা জড়িত। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে গ্যাংটির সদস্যদের ব্যবহার করেন দেশটিতে নিযুক্ত ভারতীয় কূটনীতিকেরা। কানাডার রাজধানী অটোয়ার পুলিশ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, এসব ঘটনায় ভারতীয় ছয় কূটনীতিকের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে তারা। প্রমাণ পাওয়ার পর তারা ছয় কূটনীতিককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছিল। এজন্য তারা যে কূটনীতিক দায়মুক্তি পান, তা প্রত্যাহার করতে ভারত সরকারকে অনুরোধও জানিয়েছিল কানাডা।

কিন্ত নয়াদিল্লি এতে রাজি হয়নি। উল্টো অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এরপরই ওই ছয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করে কানাডা সরকার। এরপর ভারতও নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত কানাডার ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারসহ ছয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রাডো এক বিবৃতিতে বলেন, ভারতীয় কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে পুলিশ যেসব অভিযোগ এনেছে, তার প্রমাণ রয়েছে। প্রসঙ্গত, এ মাসে মুম্বাইয়ে খুন হওয়া মুসলিম রাজনিতিক বাবা সিদ্দিককে হত্যায় নিজেদের দায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছে বিষ্ণোই গ্যাং।

মানুষ কি ভয়ের গন্ধ পায় !

ভয়ের কি কোনো গন্ধ আছে? কেউ ভয় পাচ্ছে কি না তা কি আমরা নিজের অজান্তেই বুঝতে পারি? বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, মানুষ ঘামের মাধ্যমে নিঃসৃত ফেরোমোনের গন্ধ থেকে অন্যের ভয় বা উদ্বেগ বুঝতে পারে। ডঃ লিলিয়ান মুজিকার দল নিউ ইয়র্কের স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পরীক্ষায় ২০ জন নতুন স্কাইডাইভারদের আন্ডারআর্ম থেকে দুই বার ঘাম সংগ্রহ করে প্রথমবার স্কাইডাইভিং করার সময় এবং তুলনা করার জন্য পরেরবার ট্রেডমিলে দৌড়ানোর সময়। গবেষকরা এই ঘাম নেবুলাইজারে ট্রান্সফার করে স্বেচ্ছাসেবীদের শ্বাস নিতে বলেন। শ্বাস নেয়াকালীন সময়ে স্বেচ্ছাসেবীদের ব্রেইন স্ক্যান করা হয়।

পরীক্ষার আগে স্বেচ্ছাসেবীদের পরীক্ষার বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। পরীক্ষা দেখায় যে ‘ভয়ের ঘাম’ স্বাভাবিক ঘামের তুলনায় আমিগডালা এবং হাইপোথ্যালামাসের মতো ভয় সংক্রান্ত মস্তিষ্কের অংশগুলিকে তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় করে তোলে। তবে, অংশগ্রহণকারীরা দুই ধরণের ঘামের মধ্যে সচেতনভাবে কোনো পার্থক্য ধরতে পারেনি। এই গবেষণার ফল বিতর্কিত কারণ বেশিরভাগ গবেষক মনে করেন যে মানুষ ফেরোমোন সনাক্ত করতে সক্ষম নয়। অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীরা নাকের ভোমেরোনাসাল অর্গানের মাধ্যমে ভয় সনাক্ত করতে পারে। যদিও মানুষেরও এই অর্গানটি রয়েছে, কিন্তু এটি ব্রেইনের সাথে যুক্ত নয়।

এই গবেষণাটি পেন্টাগনের সামরিক গবেষণা শাখা US Defence Advanced Research Projects Agency – DARPA অর্থায়ন করে। ফলে অনেকেই সন্দেহ করছেন, এটি ভয়ের ফেরোমোন আলাদা করার প্রথম ধাপ, যা যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রু সৈন্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ব্যাবহার করে যাবে। তবে DARPA এই ধারণা নাকচ করে দিয়েছে এবং বলেছে, তাদের ভয়ের ফেরোমোন ব্যবহার করার কোনো সামরিক পরিকল্পনা নেই, এবং তারা এ বিষয়ে কোনো অতিরিক্ত গবেষণা তহবিল দেবেনা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভয়াবহ পরিস্থিতি ছাড়া শুধু কেমিক্যাল-ফিজিক্যাল রেসপন্স দিয়ে মানুষ ভয় পাবে না।

বাতিল হচ্ছে আটটি জাতীয় দিবস । তালিকায় আছে ৭ই মার্চ

আটটি জাতীয় দিবস বাতিল করা সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে। শিগগিরই এসব দিবস বাতিল করে পরিপত্র জারি করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে সরকার এসব জাতীয় দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাতিল হওয়া আটটি দিবসের মধ্যে পাঁচটিই শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত। বাতিল হয়েছে ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম দিবস ও জাতীয় শিশু দিবস, ৫ আগস্ট শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী, ৮ আগস্ট শেখ হাসিনার মা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস, ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেল দিবস। এ ছাড়া বাতিলের তালিকায় রয়েছে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, ৪ নভেম্বর জাতীয় সংবিধান দিবস, ১২ ডিসেম্বর স্মার্ট বাংলাদেশ দিবস।

এশিয়ার ইন্টারনেট কার ? চীনের না আমেরিকার !

SeaMeWe-6 সাবমেরিন কেবল প্রকল্প, যা এশিয়া থেকে ইউরোপে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করবে, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যকার প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক পার্টির সেই দুজন অতিথির মতো যারা একে অপরকে সহ্য করতে পারে না, আবার এড়িয়েও চলতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র অনেকদিন ধরেই পরাশক্তি, সে তুলনায় চীনের উত্থান হয়েছে পরে। যুক্তরাষ্ট্র চীনকে নিজের বিশ্বব্যাপী আধিপত্যের জন্য হুমকি মনে করে। তাদের জিওপলিটিক্যাল দ্বন্দ্ব এখন বাণিজ্য, সামরিক স্ট্রাটেজি, অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে সমুদ্রের তলা দিয়ে যাওয়া আন্তঃমহাদেশীয় ইন্টারনেট কেবল নেটওয়ার্কের রাজ্যে। সাম্প্রতিক সময়ে সাউথ ইস্ট এশিয়া-মিডল ইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ ৬ (SeaMeWe-6) সাবমেরিন কেবল প্রকল্প, যা এশিয়া থেকে ইউরোপে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করবে, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যকার প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

প্রকল্পের মূল চুক্তি প্রথমে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবে চীনা প্রতিষ্ঠান HMN Technologies-এর হাতে যাওয়ার কথা ছিল ও চীন সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি পাওয়ার কারণে তারা তুলনামূলক- ভাবে সস্তায় এই প্রস্তাব দিতে সক্ষম হয়েছিল। সিঙ্গাপুর থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত সাবমেরিন কেবল প্রকল্পটি চীনের HMN Technologies-এর সবচেয়ে বড় প্রকল্প হতে পারত, যা প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বের দ্রুততম সাবমেরিন কেবল নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করত এবং চীনের তিনটি প্রধান টেলিকম কোম্পানির বৈশ্বিক প্রভাব বৃদ্ধি করত। তবে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর গুপ্তচরবৃত্তির আশঙ্কার ভয় দেখিয়ে কনসোর্টিয়াম সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং সফলভাবে এই চুক্তিটি মার্কিন কোম্পানি SubCom-কে পাইয়ে দেয়।

এরকম ঘটনা শুধু একটা নয়, গত চার বছরে মার্কিন সরকার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনা কোম্পানির অন্তত ছয়টি সাবমেরিন কেবল চুক্তি ভেস্তে দিতে সফল হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে এশিয়ার সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্ক নিয়ে বিরোধ মূলত প্রযুক্তিগত এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ফলাফল, যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। সাবমেরিন কেবলগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যা বিশ্বের ৯৫ শতাংশের বেশি তথ্য পরিবহন করে, যার মধ্যে আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগ এবং সামরিক তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা এই খাতে আধিপত্য বজায় রেখেছে, কিন্তু চীন এখন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজস্ব কেবল নেটওয়ার্ক তৈরি করে সেই আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করছে।

বিরোধের মূল কারণহলো যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন যে, চীন তার নিয়ন্ত্রণাধীন কেবলগুলো ব্যবহার করে গুপ্তচরবৃত্তি, নাশকতা বা অন্যান্য সাইবার কার্যক্রম চালাতে পারে। সাবমেরিন কেবলগুলো বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য। এগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা, দেশ বৈশ্বিক তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, যা অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়িয়ে তুলবে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র চীনা কোম্পানিগুলোর সাবমেরিন কেবল চুক্তি অর্জনে বাধা দিতে মিত্রদের চাপ দিচ্ছে এবং বেসরকারি কনসোর্টিয়ামগুলিকে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দেওয়ার জন্য লবিং করছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশেষভাবে সাবমেরিন কেবল প্রকল্পে হস্তক্ষেপ করেছে যাতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অঞ্চল বা কৌশলগত অঞ্চলের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে না পারে।

এই প্রচেষ্টা চীনের প্রযুক্তিগত আধিপত্য রোধ এবং বৈশ্বিক যোগাযোগ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি অংশ। সাবমেরিন কেবলের উপর নিয়ন্ত্রণ শুধুমাত্র জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং অর্থনৈতিক আধিপত্যেরও ব্যাপার। এ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ যে ধরে রাখবে, সে বৈশ্বিক তথ্য প্রবাহে বিঘ্ন ঘটানোর বা নজরদারি করার ক্ষমতা পাবে, যা অর্থনৈতিক এবং সামরিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দেবে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্র চীনের প্রভাবকে সীমিত করাকে তাদের বৈশ্বিক নেতৃত্ব বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শত বাধার মুখেও চীন থেমে থাকতে রাজি নয় ও জাপান-ভিত্তিক Nikkei Asia সংবাদ সংস্থার একটি প্রবন্ধ অনুযায়ী, চীন বৈশ্বিক সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্ক থেকে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করার যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টাকে পাত্তা দিচ্ছে না।

চীন আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে চুক্তি করছে এবং নিজস্ব কেবল নেটওয়ার্ক তৈরি করছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র তার রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে বেশিরভাগ মার্কিন ভিত্তিক ডেটা কোম্পানি- গুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করছে যাতে ভবিষ্যতের কেবলগুলোতে চীনকে প্রবেশ করতে না দেয়া হয়। Nikkei Asia-কে এক চীনা নির্বাহী তাদের বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র চীনকে কালো তালিকাভুক্ত করবে এটা নিয়ে তারা চিন্তিত নন এবং তিনি দাবি করেন যে বৈশ্বিক সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্ক প্রজেক্টগুলো থেকে চীনকে দূরে রাখার চেষ্টা করাটা যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বজায় রাখার একটি মাধ্যম। তিনি বলেন যে এই প্রতিযোগিতা আসলে কূটনৈতিক, যেখানে চীনের কেবল নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য চীনের শুধুমাত্র দরকার অন্যান্য সরকারের অনুমতির ।

অন্তত তিনটি বড় চীন-নেতৃত্বাধীন প্রকল্প বর্তমানে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে নির্মাণাধীন, যা চীন ও হংকংকে ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে সংযুক্ত করছে। সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে ইন্টারনেট কেবল বসানোতে চীন খুবই সক্ষম ও চীনের কাছে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় ফাইবার অপটিক প্রযুক্তি রয়েছে। এই কারণে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্ককে চীনের দ্বারা নাশকতা এবং আড়ি-পাতার ঝুঁকিতে দেখছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনের এই বিরোধ ইন্দোপ্যাসিফিক অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে, কারণ অঞ্চলটির দেশগুলোকে কেবল প্রযুক্তিগত বিষয়ে পক্ষ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে যা এই অঞ্চলের উত্তেজনা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করছে।

ডিপ্রেশন আর মস্তিষ্কের প্রসারিত সালিয়েন্স নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত হতে পারে

অনেক মেডিক্যাল অবস্থার মতো, বিষন্নতারও একক কোনো কারণ নেই। ট্রমাটিক ঘটনার পর বা মৃত্যুজনিত শোক থেকে কেউ বিষন্নতায় আক্রান্ত হতে পারেন। জেনেটিকসের সাথেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে।

সম্প্রতি একে গবেষণায় দেখা গেছে, বিষন্নতার সাথে মস্তিষ্কের নিউরনের স্যালিয়েন্স নেটওয়ার্ক’র প্রসারিত হওয়ার মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে। Salience নেটওয়ার্ক হল মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ একটি নেটওয়ার্ক যা বাহ্যিক (পরিবেশ থেকে) বা অভ্যন্তরীণ (যেমন চিন্তা ও অনুভূতি) প্রাসঙ্গিক উদ্দীপনাগুলি সনাক্ত এবং ফিল্টার করতে সহায়তা করে। এই নেটওয়ার্কটি আমাদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলিকে হাইলাইট করে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তিগুলোকে উপেক্ষা করতে সাহায্য করে। একজন মানুষ কীভাবে আবেগগত এবং সংবেদনশীল তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে সেটাকে প্রভাবিত করে এই নেটওয়ার্ক। ফলে এই নেটওয়ার্কের কাজে বিঘ্ন বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে, যেমন বিষন্নতা, সিজোফ্রেনিয়া এবং উদ্বেগ।

নিউ ইয়র্কের ওয়েইল কর্নেল মেডিসিনের চার্লস লিঞ্চ এবং তার দল দেখতে পান যে, ডিপ্রেশনের রোগীদের স্যালিয়েন্স নেটওয়ার্ক বেশ প্রসারিত এবং যাদের ডিপ্রেশন নাই এরকম সাধারণ মানুষের তুলনায় তাদের স্যালিয়েন্স নেটওয়ার্ক এর সাইজ বড় প্রায় দ্বিগুণ। গবেষকরা মৃদু থেকে গুরুতর বিষন্নতায় আক্রান্ত ছয়জন ব্যক্তির মস্তিষ্কের স্ক্যান করেন। এতে দেখা যায়, ছয়জনের মধ্যে চারজনের স্যালিয়েন্স নেটওয়ার্ক বিষন্নতায় আক্রান্ত নন এরকম ৩৭ জন ব্যক্তির তুলনায় দ্বিগুণ। একই ফলাফল আরও তিনটি গ্রুপে পাওয়া যায়, যা গবেষণার অনুসন্ধানকে আরও পোক্ত করে। তবে ডিপ্রেশনে আক্রান্ত সব ব্যক্তির স্যালিয়েন্স নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত তা কিন্তু নয়, কিছু ব্যতিক্রমও আছে।

পূর্ববর্তী একটি গবেষণায় দেখা যায়, যেসব শিশু পরে ডিপ্রেশনের লক্ষণ দেখিয়েছিল, তাদের মস্তিষ্কেও এই নেটওয়ার্ক এর সাইজ বড় ছিল। ডিপ্রেশন নিয়ে আগের গবেষণায় হিপ্পোক্যাম্পাস এবং থ্যালামাসের মতো মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশগুলির সাথে ডিপ্রেশনের সম্পর্ক দেখা গেছে। এই গবেষণাটি প্রসারিত হওয়া সালিয়েন্স নেটওয়ার্ককে ডিপ্রেশনের কারণ হিসেবে প্রস্তাব করেছে। গবেষক থমাস ইয়েওর মতে, সামাজিক কারণ বা স্ট্রেসও স্যালিয়েন্স নেটওয়ার্কের আকার এবং ডিপ্রেশনের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। এই গবেষণাটি ডিপ্রেশনের চিকিৎসার উপর এই নেটওয়ার্কের প্রভাব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, যেটা হয়তো ভবিষ্যতে ডিপ্রেশনের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কাজে আসবে ।

ভারতীয় কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে কানাডা পুলিশের হত্যাসহ দুষ্কৃতির অভিযোগ

কানাডিয়ান পুলিশ সোমবার রাতে ভারতীয় কূটনীতিক এবং কনস্যুলার কর্মীদের দেশে ‘গোপন’ এবং ‘অপরাধী’ কার্যকলাপের জন্য অভিযুক্ত করেছে। কমিশনার মাইক ডুহেম সাংবাদিকদের বলেছেন: ‘তদন্তে জানা গেছে, কানাডায় ভারতীয় কূটনীতিক এবং কনস্যুলার কর্মকর্তারা গোপন কার্যকলাপের জন্য তাদের সরকারী অবস্থান ব্যবহার করেছেন’। উত্তেজিত ভূ-রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টিতে উভয় দেশ থেকে সিনিয়র কূটনীতিকদের বহিষ্কার করার কয়েক ঘন্টা পরে এই অভিযোগ আসল। সোমবার রাতে ট্রাডো বলেছেন- ‘কানাডার মাটিতে কানাডিয়ান নাগরিকদের হুমকি দেওয়া এবং হত্যা করায় বিদেশী সরকারের জড়িত থাকার বিষয়টি আমরা কখনই বরদাস্ত করব না। কানাডিয়ানদের আক্রমণ করার জন্য তাদের কূটনীতিক এবং সংগঠিত অপরাধকে ব্যবহার করে ভারত বিশাল ভুল করেছে’। এর মধ্যে গোপন তথ্য সংগ্রহ, জবরদস্তিমূলক আচরণ, দক্ষিণ এশীয় কানাডিয়ানদের টার্গেট করা এবং হত্যাসহ এক ডজনেরও বেশি হুমকি ও সহিংস কর্মকাণ্ড আছে – তিনি বলেন। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি বলেছেন, পুলিশ ‘প্রচুর স্পষ্ট এবং দৃঢ় প্রমাণ পেয়েছে যা ছয় জনকে নিজ্জার মামলায় যুক্ত ব্যক্তি হিসাবে চিহ্নিত করে’। তিনি বলেন, কূটনৈতিক ও কনস্যুলার সুবিধা ত্যাগ করে তদন্তে সহযোগিতা করতে বলা হলেও ভারত তা করতে অস্বীকার করেছে। সোমবারের আগে একটি বিবৃতিতে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছে যে শীর্ষ কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কানাডিয়ান সরকারের ক্ষমতার উপর তাদের কোনো আস্থা নেই, তাই ভারত ‘হাই কমিশনার এবং অন্যান্য ঝুঁকিতে থাকা কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করছে’। এপি, কানাডিয়ান কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলেছে, ভার্মা এবং ছয়জন শীর্ষ কূটনীতিকের নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে ভারতীয় কূটনীতিকদের কানাডাই প্রথমে বহিষ্কার করেছিল। গত বছরের জুনে সারেতে গুরুদ্বারের বাইরে কানাডিয়ান শিখ নিজ্জার গুলিতে হত্যা করা হয়। নিজ্জার ছিলেন শিখদের স্বাধীন আবাসভূমির পক্ষে খালিস্তান আন্দোলনের একজন সোচ্চার কণ্ঠ, যা ভারতে নিষিদ্ধ। নিজ্জার হত্যার পর, জাস্টিন ট্রাডো, এক বিরল প্রকাশ্য ঘোষণায় বলেছিলেন ‘বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ’ ছিল যে নিজ্জার হত্যার সাথে ভারত সরকার জড়িত। ভারত ‘অযৌক্তিক’ বলে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ‘তদন্তের অজুহাতে, রাজনৈতিক লাভের জন্য ভারতকে কলঙ্কিত করার একটি কৌশল এটা,’ ভারতীয় মন্ত্রী বলেছে। ভারত নিজস্ব তদন্তে এই উপসংহারে পৌঁছেছে যে পান্নুনকে হত্যার চেষ্টা ছিল ‘বিগড়ে যাওয়া এজেন্টদের’ কাজ। গত নভেম্বরে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী গুরপতবন্ত সিং পানুনকে হত্যা করার ভারতীয় সরকারী কর্মকর্তার প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়ার মার্কিন সংস্থাগুলির দাবি অভিযোগগুলি আরও উসকে দেয়। এই বছর গার্ডিয়ানের সাথে কথা বলা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, ভারত বিদেশী মাটিতে বসবাসকারী সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসাবে পাকিস্তানে কয়েক ডজন ব্যক্তিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছে।


বিপুল ড্রেজিং ব্যয় দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর আয়ে বড় ফাঁদ

সমুদ্র-বাণিজ্যের ৯২% হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। ২০২৩-২৪ অর্থবছর এ বন্দর থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমাতে নির্মাণ করা হয়েছে বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর। চালুর পর নিজস্ব আয় দিয়ে পরিচালন ব্যয় মিটিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যয়বহুল ড্রেজিংয়ের কাজ কতটা সামলাতে পারবে, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর মোংলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছর জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে ৮৪৬টি। সব মিলিয়ে রাজস্ব আয় হয়েছে ৩১৯ কোটি টাকা।বিপরীতে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল খননকাজে চলমান প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প। পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গভীরতা ধরে রাখতে প্রতি তিন থেকে পাঁচ বছর পর পর দরকার হবে ব্যয়বহুল ড্রেজিং প্রকল্পের।

আরেক সমুদ্রবন্দর পায়রায় বার্ষিক আয় হয় কমবেশি ৩০০ কোটি টাকা। এক বছর আগে পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেল ড্রেজিং করা হয়েছে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকায়। এর মধ্যে চ্যানেলটির নাব্যতা কমে গিয়ে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বড় জাহাজ চলাচলের। বন্দরসংশ্লিষ্টরা পুনরায় ড্রেজিং প্রকল্প গ্রহণের কথা বলছেন। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের জন্য এরই মধ্যে ১৪.৩ কিলোমিটার নৌ-চ্যানেল তৈরি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল)। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লাবাহী জাহাজও এই চ্যানেল ব্যবহার করবে। ১৮ মিটার গভীর ও ৩৫০ মিটার প্রশস্ত চ্যানেল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। গভীরতা ধরে রাখতে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের প্রয়োজন হবে।

জাপানী সংস্থা জাইকার জরিপ প্রতিবেদন বলছে, মাতারবাড়ী বন্দর চ্যানেলে প্রতি বছর ৫০ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিংয়ের প্রয়োজন হবে। প্রতি ঘনমিটার ড্রেজিংয়ের সর্বনিম্ন ব্যয় ৫ ডলার হিসাবে প্রতি বছর চ্যানেলটি ড্রেজিং করতে খরচ হবে বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মাতারবাড়ী বন্দর চ্যানেলে খুব বেশি ড্রেজিং প্রয়োজন হবে না।মাতারবাড়ীতে গভীরতা বেশি সেডিমেন্টের অত প্রভাব নেই।’ চট্টগ্রাম বন্দরে ‘বে-টার্মিনাল মেরিন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পে জুনে ৬৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক যার সিংহভাগ ব্যয় হবে টার্মিনালের ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজে।

বে-টার্মিনাল প্রকল্পে কেবল ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের বিষয়টিই আলোচনায় এসেছে। রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো জরিপ হয়নি। এ বন্দর চ্যানেল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কী পরিমাণ ড্রেজিং করতে হবে, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক যে লোনটা দেবে সেটা মূলত ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের জন্য। তবে আমাদের কথা থাকবে যাতে এখানে মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং অন্তর্ভুক্ত হয়।’ নদী ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ম. ইনামুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মাতারবাড়ী বন্দরটি গভীর সমুদ্রের কাছে। এটা ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা যাবে। তবে দেশের জন্য মাতারবাড়ী ছাড়া অন্য সমুদ্রবন্দরগুলো বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।’


শেখ হাসিনাকে কি ফেরত আনা যাবে ?

গত দুই মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন জায়গায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুশোরও বেশি মামলা হয়েছে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সাথে ভারত ও থাইল্যান্ডের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত এনে বিচার করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বলেছেন, ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর আদালত যদি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে তখনই শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেবে বাংলাদেশ। কিন্তু চুক্তিতে বলা হয়েছে, অপরাধটি ‘রাজনৈতিক প্রকৃতির’ হলে যে কোনো দেশ প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে পারে। তবে হত্যা, আক্রমণ, বিস্ফোরণ, জীবন বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিস্ফোরক পদার্থ বা অস্ত্র তৈরি বা রাখাসহ বেশ কিছু অপরাধকে রাজনৈতিক বলার সুযোগ নেই। ফলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও, বাংলাদেশ চাইলেই যে তাকে ফেরত পাবে এমন সম্ভাবনা দেখছেন না কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘বর্তমান ভারত সরকারের সাথে শেখ হাসিনার যে সম্পর্ক রয়েছে সেদিক বিবেচনা করলে বাংলাদেশের ফেরত চাওয়া খুব বেশি কাজে নাও আসতে পারে। চুক্তি অনুযায়ী যদি আদালত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেও তাকে ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে ভারতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দরকার হতে পারে।’