Home Blog Page 184

বাংলাদেশ – ভারত সম্পর্ক আসাম – পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের আগে স্বাভাবিক হচ্ছে না ?

বাংলা ট্রিবিউন দিল্লি প্রতিনিধির রিপোর্ট: ভারতে এক শ্রেণির পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, আগামী বছরের (২০২৬) মাঝামাঝি নাগাদ দু’দেশের সম্পর্কে উন্নতির সম্ভাবনা আছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যে পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৬ সালের মার্চ- এপ্রিল মাস নাগাদ। বাংলাদেশেও নির্বাচন ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে হয়ে যাবে বলে সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। দিল্লির রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুকল্যাণ গোস্বামী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের নির্বাচন ভারতের শাসক দল বিজেপির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। …বর্তমানে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের ধুয়ো তুলে এবং সে দেশে ইসলামী মৌলবাদের প্রসারের কাহিনী প্রচার করে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে যে ধরনের হিন্দু – মুসলিম মেরুকরণের হাওয়া তোলা সম্ভব হয়েছে, সেটা বিজেপিকে এই দুটি রাজ্যের নির্বাচনে ফায়দা দেবে।

ফলে বিজেপি চাইবে আরও অন্তত বছরখানেক বা সোয়া বছর এই উত্তেজনা বা বিদ্বেষ জিইয়ে থাকুক।…এ কারণে এই প্রচারণা চট করে থামবে না। ভারতের মূল ধারার বেশিরভাগ গণমাধ্যমেও আমরা এখন সেটারই প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।’ এই পর্যবেক্ষকের মতে, ভারতবিরোধিতার জিগিরটা জারি রাখা বাংলাদেশেও কোনও কোনও রাজনৈতিক শক্তির জন্য লাভজনক। ফলে তারাও হয়তো চাইবেন না ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এখনই সহজ ও স্বাভাবিক হোক! তিনি মনে করেন, সীমান্তের দুই পারে দুই ধরনের রাজনৈতিক বাস্তবতাই দুদেশের সম্পর্ককে এখনই সহজ হতে দেবে না বলে ভারতের অনেকে মনে করছেন। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি বাংলাদেশে ও সেই সঙ্গে আসাম পশ্চিমবঙ্গে ভোটপর্ব মিটে গেলে হয়তো আবার বাস্তবতা অন্য রকম হবে।

ভারতের রাজধানীতে যে কূটনৈতিক সাংবাদিকরা সাউথ ব্লক বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কভার করেন, নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের অনেকেই জানাচ্ছেন, গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক শোধরানোর জন্য ভারতের পক্ষ থেকেও বিশেষ একটা সদিচ্ছা বা আন্তরিকতা দেখা যায়নি। সীমান্তে ছোটখাটো উত্তেজনার ফুলকি কিংবা দুই দেশে পারস্পরিক ধর্মীয় মেরুকরণকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা দুদেশেরই আছে বলে তারা অনেকেই মনে করছেন।


ভ্রমণের সময় মনে রাখবেন যে ৫টি বিষয়

স্থানীয় আইন ও বিধি-বিধান মেনে চলা
যেকোনো জায়গায় ভ্রমণের আগে সেই স্থানের রীতিনীতি, আইন ও সামাজিক শিষ্টাচার সম্পর্কে কিছুটা গবেষণা করা গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া, প্রবেশ ও প্রস্থানের নিয়মকানুন অনুসরণের পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য যথাযথভাবে সম্মান করা উচিতড়যেমন, সম্ভাষণ, পোশাক বিধি, অঙ্গভঙ্গি ইত্যাদি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এমন কোনো আচরণ এড়িয়ে চলা যা স্থানীয় জনগণের জন্য আপত্তিকর বা ক্ষতিকর হতে পারে।

হোটেলে ভালো আচরণ বজায় রাখা
হোটেলে অবস্থান করার সময় কর্মচারীদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও সৌজন্যতা প্রদর্শন করা উচিত। তাদের সঙ্গে সদাচরণ করা, তাদের সেবার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং যদি তারা ভালো পরিষেবা প্রদান করে, তবে উদারভাবে বকশিশ দেওয়া শ্রেয়।পাশাপাশি তাদের কাছে কোনো অযৌক্তিক দাবি জানানো থেকে বিরত থাকা ভালো।

কমপ্লিমেন্টারি নয় এমন জিনিস নেওয়া থেকে বিরত থাকা
হোটেল বা রিসোর্টে অবস্থানকালে কিছু নির্দিষ্ট সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, তবে এটি মাথায় রাখা জরুরি যেটা কমপ্লিমেন্টারি নয় সেটা নেওয়া অনুচিত। তোয়ালে, বাথরোব, টয়লেটরি, বালিশ, কম্বল ইত্যাদি হোটেলের সম্পত্তি এবং শুধুমাত্র ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হয়। এগুলো নিয়ে যাওয়া চুরি হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং এর জন্য বড় অঙ্কের জরিমানা বা আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। তাই কোনটি কমপ্লিমেন্টারি তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জিজ্ঞাসা করাই ভালোড়যেমন, শ্যাম্পুর ছোট প্যাকেট, চায়ের ব্যাগ, সাবানের বার ইত্যাদি।

প্রতারণা ও অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে সতর্ক থাকা
ভ্রমণের সময় বিভিন্ন প্রতারণা ও অনৈতিক কার্যকলাপ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। যদি কোনো খাদ্য বা ভ্রমণ প্যাকেজ অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি ভালো মনে হয় তবে সেটি সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ নেওয়া উচিত সাথে তাদের রেটিং ও পর্যালোচনা পরীক্ষা করা উত্তম। অনেক পর্যটন এলাকায় খাবারের মূল্য অত্যধিক বেশি হতে পারে। তাই অর্ডার দেওয়ার আগে মেনু ও দাম ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি। সন্দেহজনক ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে পর্যটন পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাহায্য নিন।

আবর্জনা না ফেলা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা
একজন দায়িত্বশীল পর্যটক হিসেবে ভ্রমণের সময় আবর্জনা না ফেলা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাতে কোনো স্থান তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রাখতে পারে। ময়লা সংরক্ষণের জন্য একটি পুনঃব্যবহারযোগ্য ব্যাগ বা পাত্র ব্যবহার করতে পারেন এবং নির্ধারিত বিনে আবর্জনা ফেলতে পারেন। পুনঃব্যবহারযোগ্য ও সহজে জৈব-বিয়োজ্য পণ্য ব্যবহার করাই উত্তম। প্রাকৃতিক বা ঐতিহাসিক স্থানে থুতু ফেলা, ম্যুরাল নষ্ট করা বা গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকা উচিত।


ট্যারট কী ? কেন Gen Z দের মধ্যে ট্যারট – এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ জুড়ে মানুষের ব্যাপক আগ্রহকে প্রতিফলন স্বরূপ ট্যারোেট কার্ডের বিক্রি ২০২৪ সালে রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছিলো। এই কার্ডগুলো এখন সাধারণ মেয়েদের আড্ডায় জায়গা করে নিয়েছে, জন্মদিনের পার্টিতেও মাঝে মাঝে দেখা যাচ্ছে, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো এটি রীতিমতো ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে। যদিও এটি খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখার কিছু নয়। তবু কেন এই প্রবণতা তৈরি হচ্ছে, ট্যারোট কার্ড উৎপাদকদের জন্য এর কী প্রভাব পড়ছে এবং কী ধরনের অপ্রত্যাশিত ফলাফল দেখা দিতে পারে, এসব দিক পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।

বোর্ড গেম থেকে ট্রেন্ডে পরিণত হওয়া ট্যারোট কার্ডের সূচনা হয়েছিল সাধারণ বোর্ড গেম হিসেবে। ঠিক যেমনটি আমরা ছুটির দিনে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে অভ্যস্ত। ১৫শ শতকের ইউরোপে এগুলো কেবল খেলোয়াড়দের জন্য কার্ড হিসেবেই ব্যবহৃত হতো। যেখানে দেবতা ও নৈতিকতার প্রতিচ্ছবি থাকত। এগুলো রেনেসাঁ যুগের শিল্পধারা ও গ্রিক-রোমান পুরাণের প্রভাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। তখন এতে বিশেষ কিছু ছিল না, এটি ছিল দাবা বা “ফেন্সিং বোর্ড” নামের গেমের মতোই আরেকটি বিনোদনের মাধ্যম। পরিবর্তন আসে ১৮শ শতকে, যখন দাবি করা হয় যে ট্যারোট কার্ডের মধ্যে প্রাচীন মিশরের এক গোপন পাঠ্যগ্রন্থ, “Book of Thoth”-এর (টোথের গ্রন্থ) চিহ্ন লুকিয়ে আছে (যদিও সত্যিই ছিল কি না, তা কেউ জানে না)।

এই আবিষ্কারই কার্ডগুলোর বাণিজ্যিকীকরণ শুরু করে! এবার আর সাধারণ গেম হিসেবে নয় বরং ভাগ্য গণনার এক যন্ত্র হিসেবে। অতীতের দিকে তাকালে বোঝা যায় এটি নিছক একটি কৌশল, যা এক সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক প্রবাহ সৃষ্টি করেছিল। সে সময় এটি সফল হয়েছিল এবং ধীরে ধীরে এমন এক প্রবণতা তৈরি করেছিল যা যুগের পর যুগ ছড়িয়ে পড়েছে। ট্যারোট কার্ড নিয়ে গত কয়েক দশকে খুব বেশি আলোচনা না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করেই এর জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে। কেন? কারণটি বেশ সুস্পষ্ট: কোভিড-১৯। আসুন, ব্যাখ্যা করা যাকড় ২০২০ সালের প্রথমার্ধে ট্যারোট মানুষের জন্য নিয়ন্ত্রণের এক বিকল্প অনুভূতি তৈরি করেছিল। যে সময়ে কেউই জীবন যাপন নিয়ে নিশ্চিত ছিল না সে সময়ে এটি যেন একটি আশ্রয় হয়ে উঠেছিল।

বিশ্বজুড়ে মহামারির কারণে যখন দেশগুলো কঠোর লকডাউনে চলে যায় তখন মানুষের মনে এক অজানা আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা কাজ করছিল। মনোবিজ্ঞান বলে, যখন কেউ অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে তার যদি সামনে কেউ আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে যে কোনো কিছু ব্যাখ্যা দিতে থাকে তা যতই অমূলক হোক না কেন, তখন মানুষ সেটাকে বিশ্বাস করতে শুরু করে। “সায়েন্স ডাইরেক্ট”-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ যখন চাপের মধ্যে থাকে তখন তারা যাচাই-বাছাই ছাড়া অবৈজ্ঞানিক তথ্যের প্রতিই বেশি আকৃষ্ট হয়। যার মধ্যে ট্যারোট কার্ডের মতো জিনিসও পড়ে। ২০২০ সালে এই কারণেই জ্যোতিষ-ভিত্তিক অ্যাপগুলোর ব্যবহার ১০ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং কিছু অ্যাপ গুগল প্লেতে এক মিলিয়নেরও বেশি ডাউনলোড হয়ে গিয়েছিলো।

বলতে গেলে, লকডাউনের সময়ে ট্যারোট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একধরনের “চিউইং গাম” হয়ে উঠেছিল। গড়ে বৈশ্বিক লকডাউন প্রায় দুই থেকে তিন মাস স্থায়ী হয়েছিল (কিছু দেশে আরও বেশি)। যদি আপনি সেই সময়টা ভুলে গিয়ে থাকেন, তাহলে মনে করিয়ে দিই। একটি বা দুটি রুমে আটকে থাকা, প্রথম সপ্তাহেই সব সিনেমা ও সিরিজ দেখে ফেলা, আর পরিবারের সবার সঙ্গে অকারণে ঝগড়া করা। এই অবস্থাই ছিল তখনকার বাস্তবতা। এরপর একমাত্র অবশিষ্ট কার্যকলাপ ছিল ইন্টারনেট স্কুল করা। এই সময়েই ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে ট্যারোট কমিউনিটিগুলো ব্লগ ও ভিডিও বানিয়ে নতুন দর্শকদের আকৃষ্ট করা শুরু করে। তারা এমন ব্যক্তিদের মনোযোগ কাড়ে, যারা আসলে নিজেদের দেখা কনটেন্টের বিশ্লেষণ খুব একটা করত না।

ট্যারোটের বর্তমান জনপ্রিয়তার আরেকটি প্রধান কারণ হলো জেন জি যেভাবে দ্রুত সব্রকম নতুন ট্রেন্ড গ্রহণ করে! Springtide Research Institute-এর এক গবেষণা বলছে, ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী জেন জি-এর ৫১% ট্যারোট বা এর মতো অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করে। আরেকটি চমকপ্রদ সংখ্যা ৮ মিলিয়ন। এটি হলো ২০২৪ সালে টিকটকে #tarot হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে আপলোড করা ভিডিওর সংখ্যা। তাহলে কল্পনা করুন, হ্যাশট্যাগ ছাড়াই আরও কত ভিডিও পোস্ট হয়েছে! সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরেও ট্যারোটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে সেলফ-ডিসকভারি, মাইন্ডফুলনেস, এবং বিকল্প মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ।

বর্তমান যুগের “ওয়েলনেস ট্রেন্ড” মানুষকে নিজেদের সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শেখায়ড়”আমি কে?”, “আমি কী চাই?”, “আমি কেমন অনুভব করছি?” কিন্তু এই প্রশ্নগুলোর উত্তর সবসময় পরিষ্কার থাকে না। এই সময়েই ট্যারোট কার্ড সহজ এবং তাৎক্ষণিক উত্তর দিয়ে মানুষের কৌতূহল মেটানোর চেষ্টা করে, যা অনেকের কাছে ব্যক্তিগত, তাৎপর্যপূর্ণ, এমনকি কিছুটা স্বস্তিদায়কও মনে হয়।মনোবিজ্ঞানীরা বলেন ট্যারোট একধরনের মানসিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। মানুষ অবচেতনে বিশ্বাস করে যে তারা চিন্তা বা প্রতীকের মাধ্যমে বাস্তবতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটি মূলত নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় এবং অসহায়ত্বের অনুভূতি থেকে উদ্ভূত প্রতিক্রিয়া।

তবে আরেকটি সত্য হলো যদিও ট্যারোটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে তবুও অধিকংশ মানুষ এটি নিছক মজার খেলা হিসেবে ব্যবহার করে।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি সামাজিক বিনোদন। যেগুলো বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়ায়। একটি আড্ডায় বা সাপ্তাহিক ব্রাঞ্চে নতুন কিছু বলার সুযোগ তৈরি করে।


প্রকাশ্যে নজিরবিহীন বাগবিতন্ডা উত্তেজনা : ট্রাম্প – জেলেনস্কি বৈঠকে

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসের বৈঠকে নজিরবিহীন বাগবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শুক্রবার দুই নেতার বৈঠকে এ উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়।সাংবাদিকদের সামনে এই বৈঠকে জেলেনস্কিকে একের পর আক্রমণ করে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। জেলেনস্কি ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে জুয়া খেলছেন’ বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আপনার দেশের মানুষ খুবই সাহসী; কিন্তু আপনাকে হয় (রাশিয়ার সঙ্গে) একটি চুক্তি করতে হবে, নইলে আমরা আর আপনাদের সঙ্গে নেই। আর আমরা যদি না থাকি তাহলে আপনাকে একা লড়তে হবে।’

ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে মতপার্থক্য একসময় চিৎকার -চ্যাঁচামেচির পর্যায়ে চলে যায়। ‘জেলেনস্কি যুদ্ধে হেরে যাচ্ছেন’ দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ‘মানুষ মারা পড়ছে। যুদ্ধের জন্য সেনার সংখ্যাও কমছে ক্রমশ। আপনার হাতে কার্ড (বিকল্প) নেই। একবার আমরা চুক্তি সই করলে আপনি ভালো অবস্থানে চলে যাবেন। কিন্তু আপনাকে আদৌ কৃতজ্ঞ মনে হচ্ছে না। সত্যি কথা বলতে কি এটা ভালো কোনো বিষয় নয়।’ ট্রাম্প জেলেনস্কিকে বলেন, যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করতে চাইলে ইউক্রেনকে ছাড় দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আশা করি, বড় কোনো ছাড় দিতে হবে না যেমনটা লোকে বলে বেড়াচ্ছে।’ ট্রাম্পের এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নাম উল্লেখ করে বলেন, একজন খুনিকে কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়। পুতিনের বিষয়ে ট্রাম্পের নমনীয় অবস্থানের সমালোচনা করেন জেলেনস্কি।

শুধু ট্রাম্প নয়, জেলেনস্কির সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও। ওভাল অফিসে বসে বিতণ্ডায় জড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জেলেনস্কি অসম্মান করেছেন মন্তব্য করে ভ্যান্স বলেন, ‘আপনি একবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন না।’ মাথা নেড়ে ভ্যান্সের কথায় সায় দেন ট্রাম্প। এ সময় গলার স্বর উঁচু করে জেলেনস্কি উত্তর দেন, ‘বহুবার বলেছি, আমেরিকার জনগণকে ধন্যবাদ।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে জেলেনস্কির উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পরও হোয়াইট হাউস জানায়, দুই রাষ্ট্রনেতা কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি সংবাদ সম্মেলনে আসবেন। সেখানে ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ নিয়ে একটি চুক্তিতেও সই করবেন তাঁরা। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পর হোয়াইট হাউস এই সংবাদ সম্মেলন বাতিল করার কথা জানায়। এরপর জেলেনস্কি ও তাঁর সঙ্গে থাকা ইউক্রেনের অন্য কর্মকর্তাদের হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

এদিকে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক শেষে ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একে পোস্টে লিখেছেন, ভলোদিমির জেলেনস্কি ‘যুক্তরাষ্ট্র ও এ দেশের শ্রদ্ধার জায়গা ওভাল অফিসকে (হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয়) অসম্মান’ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যেদিন তিনি (জেলেনস্কি) শান্তির জন্য প্রস্তুত হবেন, আবার (হোয়াইট হাউসে) ফিরে আসতে পারেন।’ এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে চারবার ধন্যবাদ জানান জেলেনস্কি। পোস্টে তিনি লিখেন, ‘ধন্যবাদ যুক্তরাষ্ট্র, আপনাদের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ, এই সফরের জন্যও ধন্যবাদ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, কংগ্রেস ও আমেরিকান জনগণকে ধন্যবাদ। ইউক্রেনের ন্যায্যতা ও স্থায়ী শান্তি প্রয়োজন এবং আমরা ঠিক সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।’

এর কিছুক্ষণ পরেই ফক্স নিউজে হাজির হয়ে জেলেনস্কি জানান যে, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক পণ্ড হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত এবং সম্পর্কটি পুনরুদ্ধার করা যেতে পারে। প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বৈঠকে ট্রাম্প ‘বদমাশ’ জেলেনস্কিকে যথেষ্ট সংযম দেখিয়েছেন। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ এক্স পোস্টে আরেক কড়া প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন – ‘অবশেষে -উদ্ধত শূকরটি ওভাল অফিসে একটি উপযুক্ত থাপ্পড় খেয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক বলেছেন, কিয়েভের শাসনকাঠামো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে জুয়া খেলছে।’ এই ঘটনার পর ট্রাম্পের প্রশংসায় সরব হয়ে ওঠেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ও ট্রাম্প প্রশাসনের অনেকেই। আর জেলেনস্কির পাশে দাঁড়িয়েছে ফ্রান্স ও স্পেনের মতো ইউরোপের দেশগুলো।

রাশিয়ার সঙ্গে তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে ট্রাম্পের পূর্বসূরি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের কাছ থেকে কয়েক শ কোটি ডলারের অস্ত্র ও অর্থসহায়তা পেয়েছে ইউক্রেন; কিন্তু গত ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পরে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট।যুদ্ধের জন্য জেলেনস্কিকে দোষারোপ করে আসছিলেন তিনি। যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার তৎপরতাও চালাচ্ছেন তিনি। তাই সবার চোখ ছিল গতকালের বৈঠকে। ট্রাম্প ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ উত্তোলন করে তার অর্ধেক নিয়ে নিতে চান। ইউক্রেন তাতেও রাজি। কিন্তু বিনিময়ে কিয়েভের প্রধান চাওয়া ইউক্রেনের নিরাপত্তার মার্কিন নিশ্চয়তা ও ইউক্রেনে ইউরোপীয় শান্তিরক্ষী মোতায়েন। কিন্তু তাতে রাজি নয় ট্রাম্প প্রশাসন।




স্বাস্থ্যের যত্নে নজর দিন এই ৫ বিষয়ে

নারীদের স্বাস্থ্য যত্নের ৫টি উপায়
হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা
নারীদের শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তন বেশি হয়, তাই ব্যালান্সড ডায়েট এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি।
স্তন ও প্রজনন স্বাস্থ্য পরীক্ষা
নিয়মিত Breast Self-Examination করা ও গাইনোকলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধ
হাড়ের ক্ষয় রোধে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা দরকার।
মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা
অবসাদ ও উদ্বেগ থেকে মুক্ত থাকতে মেডিটেশন, যোগব্যায়াম ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।

হার্টের যত্ন
নারীদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কম চর্বিযুক্ত খাবার, প্রচুর পানি ও অ্যারোবিক ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
পুরুষদের স্বাস্থ্য যত্নের ৫টি উপায়
হৃদরোগ প্রতিরোধ
উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে লবণ ও ফাস্টফুড এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরি।
প্রোস্টেট স্বাস্থ্য রক্ষা
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রোস্টেট সংক্রান্ত সমস্যা হতে পারে তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো দরকার।
টেস্টোস্টেরন লেভেল ঠিক রাখা
সুস্থ জীবনযাত্রা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার ও স্ট্রেস কমানো জরুরি।

পেশি ও হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি
নিয়মিত ভারোত্তোলন ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে শরীর ফিট ও শক্তিশালী থাকবে।
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ
কর্মব্যস্ত জীবনে স্ট্রেস কমাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, মেডিটেশন এবং প্রিয় কাজের প্রতি মনোযোগ দেওয়া দরকার।
দৈনন্দিন জীবনে এই অভ্যাসগুলো অনুসরণ করলে নারী ও পুরুষ উভয়েই সুস্থ থাকতে পারবেন।



বিভক্ত সমাজের প্রতিচ্ছবি বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা : রেহমান সোবহান

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারপারসন অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন – “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ইউরোপীয় সমাজে আমাদের বর্তমান সমাজের মতো অনেক বৈষম্য ছিল। কিন্তু যুদ্ধের পর ইউরোপীয় দেশগুলো বৈশ্বিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও একজন বাসচালকের সন্তান একই ধরনের শিক্ষা পেত। চীন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ দক্ষিণ – পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশও এদিকে ধাবিত হচ্ছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও সবার জন্য সমান বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।” বুধবার রাজধানীতে গণস্বাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত ‘শিক্ষার হালচাল ও আগামীর ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

তালেবানের ভেতরে বিদ্রোহের শঙ্কা সংকটে আফগানিস্তান : মুহাম্মদ আমির রানা , পাকিস্তানী নিরাপত্তা বিশ্লেষক

“আফগানিস্তান এখন গভীর সংকটে। যে স্থিতিশীলতার একটি বিভ্রম এত দিন ধরে ছিল, তা এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায়। নারীরা কার্যত গৃহবন্দী। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা স্থগিত থাকায় মানবিক সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। … তালেবানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মতবিরোধের বিষয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন তাদের মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আলোচনায় তিনি স্বীকার করেছেন যে ভিন্নমত রয়েছে। তবে তাঁর মতে তা সংঘাত বা লড়াইয়ের পর্যায়ে যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তালেবানের অভ্যন্তরে গভীর বিভেদ সৃষ্টি হচ্ছে। আর তা ভবিষ্যতে বড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তালেবান কখনোই একটি পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ সংগঠন ছিল না। দলটি মূলত পশতু গোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত। তবু ভৌগোলিক, জাতিগত ও গোত্রগত ভিত্তিতে তাদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট। এমনকি নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রেও তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে নারীশিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে। … বাস্তবতা হলো, আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাত পুরোপুরি নির্ভরশীল বিদেশি অনুদানের ওপর। একা এসব খাত টিকিয়ে রাখার সামর্থ্য তালেবান সরকারের নেই। … অন্যদিকে পাকিস্তানও তালেবান সরকারকে খুব একটা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে না। এর মূল কারণ হলো পাকিস্তানি তালেবান বা টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান)। তারা আফগান মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে। পাকিস্তান আশা করেছিল, তালেবান সরকার টিটিপিকে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। কিন্তু তারা এ বিষয়ে সহযোগিতা করছে না।

… পাকিস্তান আফগান শরণার্থীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তালেবান সরকারকে টিটিপির বিরুদ্ধে সহযোগিতায় বাধ্য করতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো নিঃসন্দেহে আফগানিস্তানের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেবে। … যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট অব পিসের ফেলো অ্যান্ড্রু ওয়াটকিন্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তালেবান নেতৃত্বের মধ্যে ইমামের (তালেবানদের সর্বোচ্চ নেতা) এজেন্ডার প্রতি সত্যিকারের অসন্তোষ রয়েছে। তালেবানের অনেক সদস্যই মনে করেন, মোল্লা হিবাতুল্লাহ নিজের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করছেন। তবে সমস্যা হলো, এই বিরোধীদের মধ্যে কোনো ঐক্য নেই। তাঁরা একত্র হয়ে কাজ করছেন না বা কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে এগোচ্ছেন না। ফলে সংগঠিত কোনো প্রতিবাদ বা পদক্ষেপ গ্রহণ করা তাঁদের জন্য কঠিন।

অন্যদিকে মোল্লা হিবাতুল্লাহ তাঁর নীতি ও অবস্থান স্থির রেখে তালেবানের একটি বড় অংশকে প্রভাবিত করে চলেছেন। … এদিকে চীন, রাশিয়া, সৌদি, আমেরিকার নতুন প্রশাসনসহ বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিধর রাষ্ট্র আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা করছে, যাতে দেশটি নতুন কোনো হুমকির উৎস না হয়ে ওঠে। তবে তালেবান সরকার কতটা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, আর দলটির ভেতরে কতটা ঐক্য রয়েছে, তার ওপরই নির্ভর করছে যে বিশ্বসম্প্রদায় তাদের সঙ্গে কতটা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে।

… আফগানরা চাইলে নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে পারে। এর জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হবে শান্তিপূর্ণভাবে তালেবানকে তাদের কঠোর নীতিগুলো পরিবর্তন করতে বাধ্য করা। তবে সমস্যা হলো, আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী সামাজিক শক্তি, প্রবাসী আফগানরা ও বুদ্ধিজীবী মহল রাজনৈতিক, নৈতিক ও সামরিক সমর্থনের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর দিকেই তাকিয়ে থাকে। গত ৫৫ বছরের সংঘাত ও বিদেশি হস্তক্ষেপের ফলে তারা স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী কোনো শান্তিপূর্ণ আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি।


সেকেন্ড রিপাবলিক বলতে কী বোঝায় , কীভাবে হবে ?

জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ সমাবেশে দলের শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম লিখিত ঘোষণাপত্র পাঠ করেন, যেখানে স্পষ্টভাবে বাংলাদেশে একটি সেকেন্ড রিপাবলিক বা দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এই নতুন দলটি গণপরিষদ (Constituent Assembly) নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়নের কথা বলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে – দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র বলতে বোঝায় গণতান্ত্রিক উপায়ে রাজনৈতিক ব্যবস্থার রূপান্তর, যা একটি বিপ্লব বা গণজাগরণের পর সংবিধান ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্লিখন বা সংস্কারের মাধ্যমে গঠিত হয়। সেকেন্ড রিপাবলিক ধারণাটি দিয়ে বিভিন্ন দেশে তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিশেষ বিশেষ পর্বকে বোঝানো হয়, যখন রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সরকার ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন ঘটে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বলেন, “এটি প্রথম প্রজাতন্ত্রের ব্যর্থতাগুলো সংশোধন করে সংস্কার ও নতুন সংবিধানের মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং সমগ্র রাজনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তনকে বোঝায়।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সাব্বির আহমেদ বলেন – নতুন দলের নেতারা মনে করেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করলেও পরে তা হারিয়ে ফেলেছে। ২০২৪ সালের গণজাগরণের মাধ্যমে জনগণ আবার তাদের মালিকানা পুনরুদ্ধার করেছে, তাই তারা এখন দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করতে চায়। সাধারণত নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের মাধ্যমে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়।

সেকেন্ড রিপাবলিকের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল ফ্রান্স। স্পেন, অস্ট্রিয়ার ইতিহাসেও এর নিদর্শন আছে। ফরাসি বিপ্লবের পর ১৮৪৮ সালে রাজতন্ত্র উচ্ছেদ করে ফ্রান্সের দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৪৮ সালে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের ভাতিজা লুই নেপোলিয়ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, কিন্তু পরে ১৮৫১ সালে এক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে নিজেকে সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়ন ঘোষণা করেন। এর ফলে দ্বিতীয় সাম্রাজ্যের সূচনা ঘটে। এর আগে ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের পর ১৭৯২ খ্রিষ্টাব্দে ফ্রান্সকে প্রথম রিপাবলিক বা জনতার শাসনের রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রথম রিপাবলিকের মেয়াদ ছিল ১৭৯২ থেকে ১৮০৪ খ্রিষ্টাব্দ। ১৮০৪ সালে দেশটি আবার স্বৈরতান্ত্রিক রাজশাসনের কবলে পড়ে এবং ১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এক অস্থিতিশীল রাজতন্ত্র চলে। ফ্রান্স এখন পর্যন্ত পাঁচটি প্রজাতন্ত্র পার করেছে, যার মধ্যে সর্বশেষটি ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৩১ সালে স্পেনের রাজা ত্রয়োদশ আলফোনসো গণভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা হারান এবং দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সময়ে ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কার চালু করা হয় এবং গির্জা ও রাষ্ট্রের পৃথকীকরণ ঘটে। তবে, ১৯৩৬ – ১৯৩৯ সালের স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধের পর এই প্রজাতন্ত্র ভেঙে পড়ে এবং ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কোর স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। জাতীয় নাগরিক পার্টি ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ কীভাবে গড়ে তুলতে চায় – তা জানতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কথা বলেছে নতুন দলের যুগ্ম সদস্য সচিব মো. মইনুল ইসলাম তুহিন (তুহিন খান) – এর সাথে। পূর্বতন সংবিধান এবং রাষ্ট্রকাঠামোকে পুরোপুরি বদলে দেওয়ার মাধ্যমে ফ্রান্সের সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠা হলেও এনসিপির ঘোষণাপত্রে এটাকে ‘ধারণাগত’ বিষয় হিসেবে রাখার কথা বলেন তুহিন খান। যা পরবর্তী সময় নানান রাজনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে দলটি।

তুহিন খান বলেন, “আমরা ফ্রান্স বা অন্যান্য দেশের মত সরাসরি সেকেন্ড রিপাবলিকে যাচ্ছি না হয়ত, কিন্তু আমাদের ঘোষণাপত্রে সেকেন্ড রিপাবলিকে যাওয়ার মত উপাদান আছে।” এক্ষেত্রে অন্তর্বতীকালীন সরকারের গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিটির সুপারিশগুলোকে ভিত্তি ধরে গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রচেষ্টা চালানোর কথা বলেন তিনি। গত বছর অক্টোবরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভের সময় পাঁচ দফা দিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, যেখানে প্রথম ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সামনে আনে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনটি। বাংলাদেশে সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার বাস্তবতা নিয়ে অনেকের সংশয় রয়েছে।




প্রথম অভিধান ও ব্যাকরণের পর এসেছে ম্রো ভাষার প্রথম চলচ্চিত্র

বাংলাদেশের নৃগোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব ভাষায় চলচ্চিত্র নির্মাণের ইতিহাস খুবই সীমিত। এবার সেই ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে নতুন একটি অধ্যায়। দেশের প্রথম ম্রো ভাষায় নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ক্লোবং স্লা’ (বাংলা নাম ‘গিরিকুসুম’) ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ধানমণ্ডিতে ‘মাতৃভাষা চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৫’-এ প্রদর্শিত হয়েছে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন প্রদীপ ঘোষ এবং প্রযোজনা করেছেন বান্দরবানের প্রবীণ চিকিৎসক ডা. মং উষা থোয়াই। ম্রো ভাষার লেখক ও গবেষক ইয়াংঙান ম্রো ছবিটির কাহিনি লিখেছেন। ম্রোদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তিনি ম্রো ভাষার প্রথম অভিধান ও ব্যাকরণ রচনা করেছেন।তাঁর মতে ম্রো জাতিগোষ্ঠীর ইতিহাস অনেক পুরোনো এবং মায়ানমার ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও তাঁদের বসবাস রয়েছে।

‘ক্লোবং স্লা’ ম্রো সমাজের একটি প্রচলিত গল্পের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে। গল্পটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ক্লোবং, যিনি শৈশবে মাতৃ-পিতৃহীন হয়ে বড় ভাইয়ের আশ্রয়ে বড় হন। তবে তার বৌদির অত্যাচারের শিকার হতে হয়। ছবিটির মাধ্যমে ম্রোদের পারিবারিক জীবন ও সংগ্রামকে চিত্রায়িত করা হয়েছে। এই ১৮ মিনিট ব্যাপ্তির ছবিটিতে অভিনয় করেছেন বান্দরবানের ১৫ জন ম্রো সম্প্রদায়ের মানুষ। যাদের সবার অভিনয়ের হাতেখড়ি হয়েছে এই সিনেমার মাধ্যমেই। চিম্বুক, রামরিপাড়াসহ বান্দরবানের বিভিন্ন জায়গায় শুটিং করা হয়েছে। পরিচালক প্রদীপ ঘোষ জানিয়েছেন ইয়াংঙান মোর সহায়তা ছাড়া এই চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব হতো না। তিনি ম্রো ভাষায় অনুবাদ ও সংলাপ পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ছবিতে বাংলা ও ইংরেজি সাবটাইটেলও যুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে চাকমা ভাষায় ‘মর ঠেংগারি’ এবং মারমা ভাষায় ‘গিরিকন্যা’ নির্মিত হলেও ম্রো ভাষায় পূর্ণাঙ্গ সিনেমার সংখ্যা খুবই কম। ম্রো অন্যান্য ক্ষুদ্র গোষ্টীদের ভাষায় চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংস্কৃতি ও ভাষাকে আরও বেশি প্রচার ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


জাতীয় নাগরিক পার্টির ঘোষণাপত্র লক্ষ্য ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠা

নতুন দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো তুলে ধরে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামের লিখিত বক্তব্যের উল্লেখযোগ্য দিক :

  • জনগণ ফ্যাসিবাদী – ব্যবস্থা বিলোপের মাধ্যমে একটি
    নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষা থেকে এই অভ্যুত্থানে সাড়া দিয়েছিল, যেন জনগণের অধিকারভিত্তিক একটি রাষ্ট্র পুনর্গঠিত হয়।
  • জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হবে একটি গণতান্ত্রিক, সমতাভিত্তিক ও জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল।
  • সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন অন্যতম প্রাথমিক লক্ষ্য।
  • সেকেন্ড রিপাবলিকে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
  • ভেঙে পড়া রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন ও তাদের গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষা হবে অগ্রাধিকার।
  • সমাজে ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে বিভেদের বদলে ঐক্য, প্রতিশোধের বদলে ন্যায়বিচার এবং পরিবারতন্ত্রের বদলে মেধা ও যোগ্যতার মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা।
  • নতুন দলে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান হবে না।
  • সাধারণ মানুষের সব ধরনের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকারের সুরক্ষাই হবে নতুন দলের রাজনীতির মূলমন্ত্র।
  • রাষ্ট্রে বিদ্যমান জাতিগত, সামাজিক, লিঙ্গীয়, ধর্মীয় আর সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও বৈচিত্র্য রক্ষার মাধ্যমে একটি বহুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণ।
  • জনগোষ্ঠীর কোনো অংশকেই অপরায়ণ করা নয়; বরং রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিককে সমান গুরুত্ব প্রদান ও সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
  • কৃষি – সেবা – উৎপাদন খাতের যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বনির্ভর, আয় – বৈষম্যহীন ও প্রাণ প্রকৃতি – পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীল জাতীয় অর্থনীতি গড়ে তোলা।
  • অর্থনীতিতে সম্পদ একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে পুঞ্জীভূত হবে না; বরং সম্পদের সুষম পুনর্বণ্টন হবে অর্থনীতির মূলমন্ত্র।
  • বেসরকারি খাতের সিন্ডিকেট ও গোষ্ঠীস্বার্থ নিয়ন্ত্রণে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ভোক্তা ও জনস্বার্থ সংরক্ষণ।
  • আঞ্চলিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব নিশ্চিত করে এবং বিজ্ঞান – প্রযুক্তি খাতে জোর দিয়ে উদ্ভাবনী সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি টেকসই, আধুনিক অর্থনীতি গড়ে তোলা।
  • ন্যায্যতা ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংকল্প।