ভ্রমণের সময় মনে রাখবেন যে ৫টি বিষয়

স্থানীয় আইন ও বিধি-বিধান মেনে চলা
যেকোনো জায়গায় ভ্রমণের আগে সেই স্থানের রীতিনীতি, আইন ও সামাজিক শিষ্টাচার সম্পর্কে কিছুটা গবেষণা করা গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া, প্রবেশ ও প্রস্থানের নিয়মকানুন অনুসরণের পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য যথাযথভাবে সম্মান করা উচিতড়যেমন, সম্ভাষণ, পোশাক বিধি, অঙ্গভঙ্গি ইত্যাদি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এমন কোনো আচরণ এড়িয়ে চলা যা স্থানীয় জনগণের জন্য আপত্তিকর বা ক্ষতিকর হতে পারে।

হোটেলে ভালো আচরণ বজায় রাখা
হোটেলে অবস্থান করার সময় কর্মচারীদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও সৌজন্যতা প্রদর্শন করা উচিত। তাদের সঙ্গে সদাচরণ করা, তাদের সেবার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং যদি তারা ভালো পরিষেবা প্রদান করে, তবে উদারভাবে বকশিশ দেওয়া শ্রেয়।পাশাপাশি তাদের কাছে কোনো অযৌক্তিক দাবি জানানো থেকে বিরত থাকা ভালো।

কমপ্লিমেন্টারি নয় এমন জিনিস নেওয়া থেকে বিরত থাকা
হোটেল বা রিসোর্টে অবস্থানকালে কিছু নির্দিষ্ট সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, তবে এটি মাথায় রাখা জরুরি যেটা কমপ্লিমেন্টারি নয় সেটা নেওয়া অনুচিত। তোয়ালে, বাথরোব, টয়লেটরি, বালিশ, কম্বল ইত্যাদি হোটেলের সম্পত্তি এবং শুধুমাত্র ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হয়। এগুলো নিয়ে যাওয়া চুরি হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং এর জন্য বড় অঙ্কের জরিমানা বা আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। তাই কোনটি কমপ্লিমেন্টারি তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জিজ্ঞাসা করাই ভালোড়যেমন, শ্যাম্পুর ছোট প্যাকেট, চায়ের ব্যাগ, সাবানের বার ইত্যাদি।

প্রতারণা ও অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে সতর্ক থাকা
ভ্রমণের সময় বিভিন্ন প্রতারণা ও অনৈতিক কার্যকলাপ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। যদি কোনো খাদ্য বা ভ্রমণ প্যাকেজ অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি ভালো মনে হয় তবে সেটি সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ নেওয়া উচিত সাথে তাদের রেটিং ও পর্যালোচনা পরীক্ষা করা উত্তম। অনেক পর্যটন এলাকায় খাবারের মূল্য অত্যধিক বেশি হতে পারে। তাই অর্ডার দেওয়ার আগে মেনু ও দাম ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি। সন্দেহজনক ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে পর্যটন পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাহায্য নিন।

আবর্জনা না ফেলা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা
একজন দায়িত্বশীল পর্যটক হিসেবে ভ্রমণের সময় আবর্জনা না ফেলা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাতে কোনো স্থান তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রাখতে পারে। ময়লা সংরক্ষণের জন্য একটি পুনঃব্যবহারযোগ্য ব্যাগ বা পাত্র ব্যবহার করতে পারেন এবং নির্ধারিত বিনে আবর্জনা ফেলতে পারেন। পুনঃব্যবহারযোগ্য ও সহজে জৈব-বিয়োজ্য পণ্য ব্যবহার করাই উত্তম। প্রাকৃতিক বা ঐতিহাসিক স্থানে থুতু ফেলা, ম্যুরাল নষ্ট করা বা গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকা উচিত।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন