Home Blog Page 134

‘ন্যূনতম সংস্কার’ বনাম ‘মৌলিক সংস্কার’ কী চাইছে জাতীয় নাগরিক পার্টি ?

0

বিএনপি যেখানে ন্যূনতম বা জরুরি সংস্কার করে দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে, সেখানে ‘মৌলিক পরিবর্তন’ বলতে কী বোঝাতে চাচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)? দৈনিক প্রথম আলোর প্রশ্নের জবাবে দলটির নেতারা বলেছেন — মৌলিক পরিবর্তন বা সংস্কার মানে হচ্ছে ক্ষমতার ভারসাম্য। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বর্তমান ক্ষমতাকাঠামো এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক। এ ব্যবস্থা সংবিধানের মাধ্যমে সমর্থিত হওয়ার কারণেই শেখ হাসিনার সরকার ‘ফ্যাসিবাদী’ হয়ে উঠতে পেরেছিল। ফলে কোনো বড় রাজনৈতিক দল যদি রাষ্ট্রের ক্ষমতাকাঠামো কেন্দ্রিক সংস্কারের বিরোধিতা করে অন্য সব সংস্কারে রাজিও হয়, তাতে দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে না।

মৌলিক সংস্কার বলতে এনসিপির শীর্ষ নেতারা অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর কিছু প্রস্তাবের কথা বলছেন। সব প্রস্তাবই প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনার সঙ্গে যুক্ত। এগুলো হলো – প্রধানমন্ত্রীর একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলের প্রধান ও সংসদ নেতা হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা, একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সর্বোচ্চ দুবার দায়িত্ব পালনের সুযোগ, সাংবিধানিক বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী, সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিসহ জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল বা এনসিসি গঠন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদে নিম্নকক্ষে সংসদীয় আসন ও উচ্চকক্ষ আনুপাতিক ভোটভিত্তিক নির্বাচনের ব্যবস্থা এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কার।

এনসিপির নেতারা যেসব সংস্কার প্রস্তাবের কথা বলছেন, সেগুলোর মধ্যে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ও ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কারের ক্ষেত্রে বিএনপি নীতিগতভাবে একমত। যদিও তারা উচ্চকক্ষে আনুপাতিক ভোটের বিরোধী এবং ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারে এমপিদের দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার অধিকার সীমিত ক্ষেত্রে দিতে চায়। দলটি মনে করে, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ করার বিষয়ে একটি নির্বাচিত সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তা আছে। এনসিপির নেতারা মনে করেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি সবচেয়ে বড় দল। অন্তর্বর্তী সরকারও বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিএনপির মতামতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে বিএনপি যেসব প্রস্তাবে আপত্তি জানাবে, সেগুলোর বাস্তবায়ন কঠিন।

এনসিপির মতো মৌলিক সংস্কারের কথা বলছে জামায়াতে ইসলামীও। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দলটির আমির শফিকুর রহমান নির্বাচনের জন্য যে তিন দাবি বা শর্তের কথা বলেছেন, এর প্রথমটি হলো ‘দৃশ্যমান ও গ্রহণযোগ্য মৌলিক সংস্কার’। একই দিন এক বিবৃতিতে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন আয়োজন না করার আহ্বান জানিয়েছে। অপর দিকে বিএনপি শুরু থেকে বলে আসছে, সংস্কারের বিষয়ে ন্যূনতম যে ঐকমত্য তৈরি হবে, সেটার ওপর ভিত্তি করে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে।

চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত দিলেন – ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ ঘিরে অস্থিতিশীল বিশ্ব বাজার। পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপে অস্বস্তিতে রয়েছেন দুই দেশের ব্যবসায়ীরাও। এমনই সংকটের মধ্যে সুখবরের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্যমতে, চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে চান তিনি। হোয়াইট হাউসে বৃহস্পতিবার চীনের পণ্যের ওপর আরোপ করা শুল্ক নিয়ে আলাপের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘সেগুলো (শুল্ক) আরও বেশি হোক, তা আমি চাই না। কারণ, একটি পর্যায়ে গেলে মানুষ আর কেনাকাটা করতে পারবে না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি (শুল্ক) কমাতে পারি। কারণ, আপনি চাইবেন, মানুষ কেনাকাটা করুক।’

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক যেন আবার আরোপ করা না হয়, সে জন্য ইতিমধ্যেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে বিভিন্ন দেশ। এ তালিকায় চীনও রয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, শুল্ক নিয়ে বেইজিং বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেছে। সব মিলিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী—চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘খুব ভালো’ একটি চুক্তি হবে। শুল্ক নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ হচ্ছে বলে সূত্রের বরাতে জানতে পেরেছে রয়টার্সও। তবে এই আলাপের প্রকৃতি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প। আলোচনায় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং যুক্ত ছিলেন কি না, তা–ও খোলাসা করা হয়নি। এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর শুল্ক আর না বৃদ্ধি করার ইঙ্গিত দিয়ে চীন বলেছিল, শুল্ক নিয়ে ‘খেলায়’ তারা আর প্রতিক্রিয়া জানাবে না।

চলতি মাসের শুরুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর উচ্চহারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। পরে ৯০ দিনের জন্য সেই শুল্ক স্থগিত করা হলেও ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল না চীনের। দেশটির ওপর বরং ধাপে ধাপে শুল্ক বাড়িয়ে ১৪৫% করা হয়। পাল্টা জবাবে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫% করে।

পড়াশোনা বন্ধ – কার্পেট কারখানায় অল্প মজুরিতে , কাজ করছে আফগান মেয়েরা

২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর ১২ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় তালেবান। একই সঙ্গে হাতেগোনা নির্দিষ্ট কাজের বাইরে নারীদের অন্য কাজ করা নিষিদ্ধ করা হয়। আফগানিস্তানে ২০২০ সালে নারী কর্মজীবীদের হার ছিল মাত্র ১৯ শতাংশ, পুরুষদের চেয়ে চার গুণ কম। তালেবান শাসনামলে এই হার আরও কমে যায়। সুযোগের অভাব, দেশের বিপর্যস্ত অর্থনীতি আফগান মেয়ে ও নারীদের ঠেলে দিয়েছে দীর্ঘ ও শ্রমসাধ্য কার্পেট বোনার কাজে। এটি আফগানদের অল্প কয়েকটি ব্যবসার একটি, যেখানে নারীদের কাজ করার অনুমতি দিয়েছে তালেবান সরকার।

জাতিসংঘ বলছে, আফগানিস্তানের প্রায় ১২-১৫ লাখ মানুষের জীবিকা কার্পেট বুনন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে নারীরা কর্মশক্তির প্রায় ৯০ শতাংশের জোগান দিচ্ছে। গত বছর জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর আফগানিস্তানের অর্থনীতি ‘মূলত ভেঙে পড়েছে’। এমন পরিস্থিতিতে কার্পেট বুনন শিল্প আফগানদের আশার আলো দেখাচ্ছে। বিদেশে এই পণ্য রপ্তানি করে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করছে তারা। এসব কার্পেট পাকিস্তান, ভারত, অস্ট্রিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হয়। তবে এই রপ্তানি পণ্য দেশে লাখ লাখ ডলার আনলেও তার অর্থ এটা নয়, কার্পেট বুনন শিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দেওয়া হচ্ছে। কারখানায় দমবন্ধ পরিবেশে টানা ১০ বা ১২ ঘণ্টা কাজ করে দিনে এক ডলারেরও কম আয় করেন এই শ্রমিকরা।

পরিবারের খরচ চালাতে অর্থের দরকার, কিন্তু চাকরির বাজার ভালো নয়। এ কারণে কম মজুরির এই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন আফগানরা মেয়েরা। তালেবান ক্ষমতায় বসার পর বারবার বলে আসছে, ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে মিল রেখে পাঠ্যবই তৈরি করাসহ শিক্ষাদানকেন্দ্রিক অন্যান্য সমস্যা নিরসন করা হলেই মেয়েরা স্কুলে আবারও পড়াশোনা করতে পারবে। কিন্তু ৪ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তা হয়নি। জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, তালেবানের আরোপিত এই শিক্ষা নিষেধাজ্ঞার ফলে ১০ লাখেরও বেশি আফগান কিশোরী শিক্ষার সুযোগ হারিয়েছে। আফগানিস্তান একমাত্র দেশ যেখানে নারীদের এবং মেয়ে শিশুদের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তালেবান মহিলাদের জন্য চিকিৎসা প্রশিক্ষণও নিষিদ্ধ করে।

ইতিহাসের ভয়াবহ দাবানলের মুখে যুক্তরাজ্য , ধ্বংসের পথে বাস্তুতন্ত্র ও প্রাণবৈচিত্র্য

যুক্তরাজ্যে এবছর ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দাবানলের মৌসুম দেখা দিয়েছে, যার ফলে গোটা বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের মুখে পড়েছে এবং বহু বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি চরম ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংস্থাগুলো। ওয়েলসের পাওইস অঞ্চলের অ্যাবারগুইসিন কমন এলাকার প্রায় ১,৬০০ হেক্টর জমি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এটি একটি ‘বিশেষ বৈজ্ঞানিক গুরুত্বসম্পন্ন এলাকা’ (SSSI) হিসেবে স্বীকৃত এবং এই এলাকাটিই ছিল Golden Plover নামের এক বিরল ও সুরক্ষিত জলাভূমি পাখির শেষ আশ্রয়স্থল। ন্যাশনাল ট্রাস্টের রেঞ্জাররা আশঙ্কা করছেন, এই আগুনের ফলে পাখিটি হয়তো এখন পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ন্যাশনাল ট্রাস্টের মিড ও সাউথ ওয়েলস-এর কান্ট্রিসাইড ম্যানেজার ক্রিস স্মিথ জানান, “দাবানলের প্রভাব এতটাই ব্যাপক যে পাখির বাসা, পোকামাকড়, উভচর এবং সরীসৃপ সবই পুড়ে গেছে। সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এর প্রভাব দীর্ঘকাল স্থায়ী হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে যেসব পিট বগ বা জলাভূমি পুনরুদ্ধার করছিলাম, সেই অঞ্চলগুলো এখন আগুন ও কার্বন ক্ষয়ের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেক জায়গায় পিট-মাটির স্তর পর্যন্ত পুড়ে গেছে, যা পুনরুদ্ধারে শত শত বছর লেগে যেতে পারে।” ২০২৪ সালে ১ জানুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিলের মধ্যে সাউথ ওয়েলস ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস ৩৪টি দাবানলের ঘটনা মোকাবিলা করেছিল। ২০২৫ সালে একই সময়ের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪৫-এ, যা ১,২০০% বৃদ্ধি। পুরো ওয়েলস জুড়ে তিনটি ফায়ার সার্ভিস এ বছর ইতিমধ্যেই ১,৩০০-এর বেশি ঘাসের আগুনের ঘটনায় সাড়া দিয়েছে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের মর্ন পর্বতমালায় দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছোট হিথ প্রজাপতি, রোভ বিটল, স্কাইলার্ক এবং পেরিগ্রিন ফ্যালকন প্রজাতির পাখির আবাসভূমি। এসব ছোট পাখি পোকামাকড় খেয়ে বাঁচে এবং নিজেরাও শিকার হয় বৃহত্তর শিকারি পাখিদের। পিক ডিস্ট্রিক্টে হাওডেন মোর অঞ্চলে ২ কিলোমিটার জুড়ে দাবানলে ৩০,০০০ ইউরো মূল্যের সংরক্ষণ কার্যক্রম ধ্বংস হয়েছে বলে জানায় ন্যাশনাল ট্রাস্ট। ন্যাশনাল ট্রাস্ট এখন তাদের ভূদৃশ্যকে বেশি আর্দ্র ও জলাভূমিমুখী করে তুলছে। এর অংশ হিসেবে তারা পানি ধারণক্ষম বিশেষ মস এবং প্রাকৃতিক জলাধান তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে দাবানলের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃতি সংরক্ষণ প্রধান বেন ম্যাকার্থি বলেন, “দেশে তৃণভূমির দাবানল ও অন্যান্য জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।” এর আগে ন্যাশনাল ফায়ার চিফস কাউন্সিল জানিয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সেবাদান সক্ষমতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই বিনিয়োগ দরকার। তারা জানায়, শুধু ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসেই ২০২২ সালের তুলনায় ১০০টিরও বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে।

ব্রণ – কারণ , ধরন এবং প্রতিকার

ব্রণ হলো একটি সাধারণ ত্বকের সমস্যা যা বিশ্বের প্রায় ৯.৪ শতাংশ মানুষকে প্রভাবিত করে। এটি সাধারণত মুখ, গলা, পিঠ, কাঁধ ও বুকের ত্বকে দেখা যায়। আমাদের ত্বকের ছোট ছোট রন্ধ্র বা ছিদ্রগুলো তেল, মৃত কোষ, ময়লা বা ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা বন্ধ হয়ে গেলে ব্রণ সৃষ্টি হয়। ব্রণ তেমন কোনো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি না করলেও এটি ব্যথাজনক হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে দাগ বা দুষ্কর স্থায়ী দাগ ফেলে যেতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, ব্রণ আত্মবিশ্বাসে আঘাত হানে এবং হতাশা বা উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

ব্রণ একাধিক ধরনের হয়ে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হলো –

হোয়াইটহেড : রন্ধ্র বন্ধ থাকলে ত্বকের নিচে সাদা দানার মতো দেখা যায়।

ব্ল্যাকহেড : রন্ধ্র খোলা থাকলে বাতাসের সংস্পর্শে এসে কালো রঙ ধারণ করে।

আরও জটিল ও প্রদাহজনিত ব্রণের ধরনগুলো হলো –

প্যাপিউল: লাল, ছোট এবং ফোলা দানা।

পুসচুল: প্যাপিউলের মতো কিন্তু ডগায় পুঁজ থাকে।

নডিউল: ত্বকের নিচে বড়, শক্ত এবং ব্যথাজনক গাঁট।

সিস্ট: বড়, গভীর, পুঁজযুক্ত ও ব্যথাজনক ফোলা।

ব্রণের কারণ –

ব্রণ তখনই হয় যখন-

ত্বকের গ্রন্থি অতিরিক্ত তেল উৎপন্ন করে, মৃত কোষ রন্ধ্রে জমে যায়, ব্যাকটেরিয়া সেখানে জন্ম নেয়।

এই ত্রিমুখী সমস্যায় রন্ধ্র বন্ধ হয়ে গিয়ে ব্রণ তৈরি হয়। হরমোনজনিত পরিবর্তন (বিশেষত কিশোর বয়সে), গর্ভাবস্থা, স্ট্রেস, ধূমপান, অপরিচ্ছন্নতা, তৈলাক্ত প্রসাধনী ব্যবহার এবং কিছু ওষুধ ব্রণ সৃষ্টি বা বাড়াতে পারে। পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ব্রণের ঝুঁকিও বাড়ে।

হালকা ব্রণের ক্ষেত্রে ওভার-দ্য-কাউন্টার (OTC) ক্রিম বা ক্লিনজার ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমন

Benzoyl peroxide: জীবাণু নাশক ও শুকানোর কাজ করে।

Salicylic acid: ত্বক এক্সফোলিয়েট করে এবং রন্ধ্র পরিষ্কার রাখে।

মাঝারি থেকে গুরুতর ব্রণের জন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক, রেটিনয়েড, হরমোনাল চিকিৎসা বা বিশেষ ওষুধ যেমন Isotretinoin প্রয়োগ করা হয়।

ঘরোয়া প্রতিকার –

চা-গাছের তেল (tea tree oil), অ্যালোভেরা, মধু-মাস্ক, গ্রিন টি ব্যবহার এবং বারবার মুখ না ছোঁয়া—এসব অভ্যাস ব্রণ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।

প্রতিরোধ –

নিয়মিত তেল-মুক্ত ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধোয়া ,

অয়েল-ফ্রি বা নন-কমেডোজেনিক প্রসাধনী ব্যবহার ,

ব্যায়ামের পর মুখ ধোয়া ,

সুষম খাদ্যগ্রহণ ও প্রচুর পানি পান ,

স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ ,

ব্রণ বিরক্তিকর হলেও তা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সঠিক চিকিৎসা ও নিয়ম মেনে চললে ব্রণের প্রভাব কমে আসে এবং দাগের আশঙ্কাও হ্রাস পায়। দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার ফিরে আসা ব্রণের ক্ষেত্রে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়।

মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যেভাবে কবজা করতে চাইছেন – ট্রাম্প

সম্প্রতি হার্ভার্ড ও অন্যান্য সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে কিছু দাবি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, কীভাবে সরকারি তহবিল ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নীতি ও কাজকে প্রভাবিত করতে চায় সরকার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চান। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী—দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদারনৈতিক ভাবাদর্শ বাদ দেওয়া হবে। সেখানে শৃঙ্খলা বাড়ানো হবে এবং ছাত্র ও শিক্ষকদের সম্পর্ক ও তাদের কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হবে।

ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক নিয়োগ ও ছাত্র ভর্তির প্রক্রিয়ায় সরকারের হস্তক্ষেপ চাইছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো—তথাকথিত ‘ইহুদিবিদ্বেষ’ দূর করা। তবে, এর পাশাপাশি প্রগতিশীল চিন্তাভাবনাকেও দমিয়ে দিতে চাইছে তারা। জানা গেছে, এই বিষয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রায় ২০ জন সদস্যের এই দল গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নিয়মিত বৈঠক করছে। তারা বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখছে, অনুদান পর্যালোচনা করছে এবং সুপারিশ তৈরি করছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এই খবর প্রকাশ করেছে। শুক্রবার এক চিঠিতে ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডের কাছে দাবি করেছে —বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা ও নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে হবে, যেখানে শিক্ষকদের ক্ষমতা কমানো হবে। কারণ তাদের মধ্যে অনেকেই নাকি পড়াশোনার চেয়ে সমাজকর্মী হিসেবে বেশি সক্রিয়।

যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ ও ছাত্র ভর্তি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে লিঙ্গ বা জাতিগত কোনো পক্ষপাত করা যাবে না। এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাইভার্সিটি, ইক্যুইটি ও ইনক্লুশন বিষয়ক দপ্তর এবং উদ্যোগগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। আন্তর্জাতিক ছাত্র ভর্তির ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে হবে। যাতে আমেরিকার মূল্যবোধ ও সংবিধানের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী কোনো ছাত্র ভর্তি হতে না পারে। ভর্তি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মতামতের মানুষদের সুযোগ দিতে হবে। এ জন্য ছাত্র, শিক্ষক, কর্মী ও নেতৃত্বের একটি বহিরাগত নিরীক্ষা করতে হবে। বিভিন্ন বিভাগ যেমন—মানবাধিকার, ভাষা ও জনস্বাস্থ্য বিভাগ—যেখানে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রোগ্রামগুলোতে সংস্কার আনতে হবে। বিশেষ করে ইহুদি বিদ্বেষের বিষয়টিতে নজর দিতে হবে।

বুধবার ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে হার্ভার্ডের শিক্ষকদের ‘কট্টর বামপন্থী গর্দভ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, হার্ভার্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালান গারবার বলেছেন, ‘কোনো সরকার—সে যে দলেরই হোক না কেন—কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কী শেখাবে, কাদের ভর্তি করবে ও নিয়োগ করবে এবং কোন বিষয়ে গবেষণা করবে, তা নির্ধারণ করে দিতে পারে না।’ অন্যান্য খবর অনুযায়ী, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নয়টি দাবি রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফেডারেল তহবিল নিয়ে আলোচনার আগে এই শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। হার্ভার্ডের দাবির থেকে এইগুলো কিছুটা আলাদা। সেই তালিকায় মাস্ক নিষিদ্ধ করা, শিক্ষার্থীদের শাস্তির ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতির হাতে দেওয়া এবং ক্যাম্পাস পুলিশকে ‘আন্দোলনকারীদের’ গ্রেপ্তার করার অনুমতি দেওয়ার মতো বিষয়ও রয়েছে।

গত বছর, ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ও ডাইভার্সিটি বিষয়ক উদ্যোগের কারণে রাজনীতিবিদরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। তারা চেয়েছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন রক্ষণশীল আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে আরও বেশি একাত্মতা দেখায়।

বিশ্ববাজারে আইভরি কোস্টের কোকো উৎপাদন সঙ্কটের প্রভাব

বিশ্বের শীর্ষ কোকো উৎপাদনকারী দেশ আইভরি কোস্ট বর্তমানে জলবায়ুজনিত বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এপ্রিলে শুরু হওয়া দেশটির দ্বিতীয় বা মিড ক্রপ মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষকরা উদ্বেগে রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা ও স্থানীয় কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, বর্ষা মৌসুমে প্রকৃতির সহযোগিতা না পেলে কোকো বীজের গুণমান ও উৎপাদন উভয়ই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আইভরি কোস্টে কোকো উৎপাদনের দুটি মৌসুম রয়েছে, প্রধান মৌসুম অক্টোবর থেকে মার্চ এবং ছোট বা মিড ক্রপ মৌসুম এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। যদিও প্রধান মৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে, মিড ক্রপ মৌসুমও দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে চলতি বছরে প্রকৃতি অনুকূল না হওয়ায় সেই গুরুত্ব এবার প্রশ্নের মুখে।

দেশটির মধ্যাঞ্চলের বহু কৃষক জানিয়েছেন, এপ্রিলের প্রথমার্ধে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় গাছের কোকো কুঁড়িগুলোর পরিপক্বতা ব্যাহত হচ্ছে। পরিণত ফলগুলো আকারে ছোট এবং মানে নিম্নমানের হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। খরা অব্যাহত থাকলে জুলাই থেকে মধ্য আগস্ট পর্যন্ত সরবরাহে বড় ধরণের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। বৈশ্বিক বাজারে এই সঙ্কটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। উল্লেখযোগ্য যে, আইভরি কোস্ট প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ২-৩ লাখ মেট্রিক টন কোকো রপ্তানি করে, যা কোকো-ভিত্তিক শিল্পের একটি বড় অংশের চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ২১% শুল্ক আরোপের হুমকিও কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও এই শুল্ক আপাতত ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে, তবে বিষয়টি কোকো শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

বর্ষাকাল চলছে, কৃষকরা আশা করছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে যদি ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়, তবে কোকো গাছে নতুন কুঁড়ির উৎপত্তি এবং ফলের পরিপক্বতা বৃদ্ধি পাবে। এতে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত কিছুটা ঘাটতি পূরণ হতে পারে। আইভরি কোস্টের অর্থনীতি কোকো রপ্তানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কেবল ২০২৩ সালেই দেশটি প্রায় ৩.৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কোকো রপ্তানি করেছে। সুতরাং জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক শুল্কনীতি এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদনশীলতা—এই তিনটি ফ্যাক্টরের সমন্বিত প্রভাব আইভরি কোস্টের কৃষি ও জাতীয় অর্থনীতিতে একটি গভীর ছাপ ফেলতে পারে।

দেশ গঠনের সুযোগ কাজে লাগাতে চান : নজরুল ইসলাম খান , বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য

0

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান আজ ১৭ এপ্রিল জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে এক বৈঠকে বলেন, দেশ গঠনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে তা কাজে লাগাতে চান। তিনি অতীতের অনেক বিজয় ধরে রাখতে না পারার কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকার এবং কমিশনকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করছে, যাতে বিজয় হাতছাড়া না হয়। রাষ্ট্র পরিবর্তনের লড়াইকে তিনি পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল উল্লেখ করে জনগণের সম্মতিতে রাষ্ট্র সংস্কারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, রাষ্ট্রের সংস্কার শুধু বিএনপির দাবি নয়, এটি তাদের অঙ্গীকারও। তিনি বিএনপির ৩১ দফা সনদের কথা উল্লেখ করেন, যা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে তৈরি করা হয়েছিল। জাতীয় ঐকমত্যের লক্ষ্যে আরও আলোচনা ও মতবিনিময়ের আহ্বান জানান তিনি। অধ্যাপক আলী রিয়াজ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি, বলেন, তাদের লক্ষ্য হলো একটি স্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি করা। তিনি বিএনপির ভূমিকা দেশের জনগণের কাছে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। বৈঠকে বিএনপির অন্যান্য নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইসমাইল জবিউল্লাহ, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং আবু মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খানও অংশ নেন।

আরবদের হটিয়ে ইসরায়েল রাষ্ট্রের উত্থান ইতিহাসের পটভূমি

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংকট। এ সংকট কেবল ভূখণ্ডগত বিরোধ নয়, জাতীয় পরিচয়, ধর্মীয় পবিত্রতা, ঔপনিবেশিক ইতিহাস এবং আধুনিক আন্তর্জাতিক কূটনীতির সমন্বয়ে গঠিত একটি গভীর সংঘাত। ১৯৩০-এর দশকে বর্তমান ইসরায়েলের গাজা সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে, বিশেষ করে কিবুটস এলাকায় পূর্ব ইউরোপের (বিশেষত পোল্যান্ড) ইহুদিরা কৃষিভিত্তিক বসতি স্থাপন শুরু করে। তখন পাশ্ববর্তী ফিলিস্তিনী আরবরা কয়েক শতাব্দী ধরে ঐ অঞ্চলে কৃষি নির্ভর জীবনযাপন করছিল।প্রাথমিক পর্যায়ে আরব ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক ছিল তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ। কিন্তু ইউরোপীয় ইহুদি অভিবাসনের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে জমির মালিকানা ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকট হতে থাকে।

১৯১৭ সালের ‘বেলফোর ঘোষণা’-র মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থন জানায়। একইসাথে আরবদের প্রতিও স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি ছিল, যা ঐ অঞ্চলে ব্রিটিশ নীতিকে দ্ব্যর্থবোধক ও স্ববিরোধী করে তোলে। ফলে উভয় সম্প্রদায় নিজেদের জন্য ব্রিটিশ সহায়তা প্রত্যাশা করতে থাকে, যা এক পর্যায়ে দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। ১৯৩৩ সালে নাৎসি জার্মানির উত্থানের পর ইউরোপে ইহুদিদের উপর নিপীড়ন বেড়ে যায়। এর ফলে ফিলিস্তিনে ইহুদি অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। আরবরা বুঝতে পারে যে এই অভিবাসন তাদের জনসংখ্যাগত ও সাংস্কৃতিক ভবিষ্যতের জন্য হুমকি। ফলস্বরূপ ১৯৩৬-১৯৩৯ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনে আরব বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, যা ব্রিটিশদের কঠোর দমননীতির মুখে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ও পরে, ইউরোপীয় ইহুদি গণহত্যা (হলোকাস্ট) আন্তর্জাতিক সহানুভূতির জন্ম দেয়। আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ১০০,০০০ ইহুদিকে দ্রুত ফিলিস্তিনে পুনর্বাসনের আহ্বান জানান। অন্যদিকে ব্রিটেন ফিলিস্তিনে আরব বিদ্রোহ এবং ইহুদি সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থানের মধ্যে পড়ে যায়, যার ফলে তারা বাধ্য হয়ে ১৯৪৭ সালে সমস্যাটি জাতিসংঘের হাতে তোলে। ১৯৪৭ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘ একটি বিভাজন পরিকল্পনা গ্রহণ করে, যেখানে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডকে ইহুদি ও আরব রাষ্ট্রে ভাগ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। উল্লেখযোগ্য যে ইহুদিরা তখন মোট ভূমির মাত্র ১০% এর মালিক হলেও তাদের ৫৫% জমি বরাদ্দ করা হয়। ফিলিস্তিনী আরবরা এবং আশেপাশের আরব রাষ্ট্রগুলো এ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে, সশস্ত্র সংঘাতে প্রস্তুতি নেয়।

১৪ মে ১৯৪৮ সালে ইহুদি নেতারা ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দেয়। এর এক ঘণ্টার মধ্যেই পাঁচটি আরব দেশ (মিশর, ইরাক, জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়া) ইসরায়েল আক্রমণ করে। যদিও সংখ্যাগতভাবে আরব সৈন্যদের শক্তি ছিল তুলনামূলক বেশি হলেও তাদের মধ্যে রাজনৈতিক ও কৌশলগত সমন্বয়ের অভাব এবং ইসরায়েলি সেনাদের সংগঠিত ও প্রশিক্ষিত অবস্থা যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। একাধিক যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে ইসরায়েল তার ভূমি এবং রাজনৈতিক সত্তা নিশ্চিত করে। এ যুদ্ধের ফলে প্রায় সাত লাখ ফিলিস্তিনী তাদের নিজ বসতভিটা থেকে উৎখাত হন, যাদের অধিকাংশই আর কখনও ফিরে যেতে পারেননি। ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রপতি শিমন পেরেজের বক্তব্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনীদের ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ছিল ‘ঐতিহাসিক ভুল’, যা আরব্য বিশ্ব এবং ফিলিস্তিনীদের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির অন্যতম কারণ।

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট শুধুমাত্র একটি অঞ্চলভিত্তিক সংঘর্ষ নয়, এটি ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার, জাতীয়তাবাদ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, এবং সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের বহুমাত্রিক দ্বন্দ্ব। ঐতিহাসিক নিরীক্ষার ভিত্তিতে বুঝা যায়, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের প্রকৃত সমাধান কেবল সামরিক শক্তির মাধ্যমে নয়, বরং ইতিহাসের স্বীকৃতি, ন্যায়বিচার এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ভিত্তিতেই সম্ভব।

নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে , বিতর্কের অবসান জরুরি : মাহফুজ আনাম , সম্পাদক ও প্রকাশক , দ্য ডেইলি স্টার

0

“… যারা ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায় না তারা মনে করে, এই সময়ের মধ্যে সংস্কারের জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যাবে না এবং এখনই নির্বাচন হলে আগের সেই দুর্নীতিপরায়ণ, পরিবারতান্ত্রিক ও একব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থাই ফিরে আসবে। তাদের যুক্তি, আমরা যদি সেই আগের রাজনীতিতেই ফিরে যাই, তাহলে দেড় হাজারের বেশি ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাদের এই যুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনোভাবেই অবহেলা করার মতো নয়। ভবিষ্যতে আমরা যাই করি না কেন, সেখানে এই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা—গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সব শ্রেণি ও ব্যক্তির অধিকার, সমতা, বৈষম্যহীনতা, আইনের শাসন, রাজনৈতিক জবাবদিহি প্রভৃতি থাকতে হবে।

কিন্তু, সংস্কার জরুরি হলেও সেটাকে নির্বাচন বিলম্বের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা উচিত না। সংস্কার যেমন জরুরি, তেমনি নির্বাচিত সরকারও জরুরি। দ্য ডেইলি স্টার এবং আমি নিজেও বারবার বলেছি যে সংস্কার ও নির্বাচন দুটোই দরকার এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই সেটা সম্ভব। … ড. ইউনূসকে আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় রাখা উচিত—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রচারণার কারণে নির্বাচন নিয়ে অনেকের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে গেছে। যদিও তার মর্যাদা, খ্যাতি ও জনমানুষের আস্থার কারণেই এমন প্রচারণা করছেন অনেকে। কিন্তু, এর পেছনে এমন কোনো পক্ষও থাকতে পারে, যাদের উদ্দেশ্য খুব একটা ভালো নয়।

… যত সৎ চিন্তা থেকেই আসুক না কেন, এই ধরনের কোনো উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবে বিচক্ষণ কি না, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সম্ভব কি না, আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য কি না এবং ড. ইউনূসের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য কল্যাণকর কি না, তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবা উচিত। … বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চায় এবং সেটা যে পুরোপুরি স্বার্থহীন নয়, সেটা আমরা বুঝতে পারি। আমরা এটাও বুঝতে পারি যে নির্বাচন নিয়ে এনসিপির অনীহার পেছনে দলীয় স্বার্থ আছে এবং সংগত কারণেই তারা আগে সংস্কার এবং শেখ হাসিনাসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যাকারীদের বিচার চায়। নির্বাচন এখন হোক বা পরে, জামায়াত উভয় প্রস্তাবেই রাজি থাকার পেছনেও রয়েছে দলীয় হিসাব-নিকাশ। ফলে, জাতীয় স্বার্থ সেই অগ্রাধিকারটা পাচ্ছে না, যেটা পাওয়া উচিৎ ছিল।

নির্বাচনে তিনটি প্রধান পক্ষ—অন্তর্বর্তী সরকার, রাজনৈতিক দলগুলো এবং ভোটার। এখন পর্যন্ত যেসব মতামত আমরা শুনেছি, তা প্রথম ও দ্বিতীয় পক্ষের। কিন্তু, সাধারণ মানুষ কী চায়, সেটা আমরা খুব কমই জানি। …তবে, অতীতের রিপোর্টিং ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনুমান করা যায় যে, সাধারণ মানুষ ২০১৪ সালের পর থেকে হারিয়ে ফেলা ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায়। কিন্তু একইসঙ্গে তারা স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান ইত্যাদিও চায়। আর ভোটাধিকার ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন উভয়ই নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব। কাজেই আমাদের প্রস্তাব, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়া উচিত। তবে, ড. ইউনূসের আরও কিছুটা সময় চাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ ছয় সপ্তাহ বাড়িয়ে এটা হতে পারে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি।”