Home Blog Page 133

বছরে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি শুল্ক পায় যুক্তরাষ্ট্র – সিপিডি

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য, প্রধানত পোশাক থেকে বছরে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি শুল্ক আদায় করে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে মার্কিন পণ্য থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১৮০ মিলিয়ন ডলার শুল্ক পায়। সিপিডি বলছে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের আমদানির ওপর গড়ে ৬.২% শুল্ক আরোপ করে। তবে বিভিন্ন ছাড় বিবেচনায় নেওয়া হলে গড় শুল্ক ২.২%-তে নেমে আসে। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে মার্কিন আমদানির গড় শুল্ক ১৫.১%। ১৭ এপ্রিল ঢাকায় সিপীডি-র সংলাপে ট্রাম্পের শুল্কনীতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতায় জোর দেওয়ার আহ্বান জানান ড. মোস্তাফিজুর রহমান। পাশাপাশি বাংলাদেশকে কৌশলগত বিকল্প অন্বেষণেরও সুপারিশ করেন তিনি।

সংলাপে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম অ্যাগ্রিমেন্টের (টিকফা) আওতায় কৌশলগত আলোচনা জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। সিপিডি মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে শুল্ক ছাড় দেওয়া হলে সেটি মোস্ট ফেভারড নেশন নীতির আওতায় অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদারদের একই সুবিধা দিতে বাধ্য করবে। তাই এ বিষয়ে সতর্কতা এবং কৌশলগত মূল্যায়ন জরুরি ।সংলাপে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববাণিজ্য সংস্থাকে (ডব্লিউটিও) কাজ করতে দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। তাই ডব্লিউটিও’র দিকে না তাকিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে পরামর্শ দেন তারা।

আলোচনায় অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় একক প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে; খুঁজতে হবে বিকল্প বাজার। ইইউর বাজারে কয়েক বছর বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকবে। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের বাজারে মনোযোগ বাড়াতে হবে। এশিয়ার অন্যান্য বাজারেও রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব। আগামীতে বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র হবে এশিয়া। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এশিয়ার মধ্যে চীন বছরে ২ হাজার ৮০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ভারত আমদানি করে ৭৫০ কোটি ডলারের পণ্য। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত চীনে এক বিলিয়ন ও ভারতে দুই বিলিয়ন ডলারের কম রপ্তানি করে। এসব বাজার ধরতে পণ্য ও বাজার বহুমুখী করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো সম্ভব।

আইএমএফের শর্ত পূরণে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ

0

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী দুটি কিস্তি (চতুর্থ ও পঞ্চম) পাওয়ার শর্ত পূরণে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি আইএমএফের একটি মিশনের পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে। মিশন জানায়, রাজস্ব আয়ের নিম্ন প্রবৃদ্ধি, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার বাস্তবায়নে ব্যর্থতা, ভর্তুকি না কমানো এবং ব্যাংক খাতের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার না হওয়াই এ পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারণ। ৬ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করে আইএমএফ প্রতিনিধি দলটি সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এরপর গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে মিশনপ্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও এসব তথ্য জানান। যদিও মিশন এখনো কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত মত দেয়নি, তবে বলেছে—যদি বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় অগ্রগতি দেখাতে পারে, তবে ২০২৫ সালের জুনের শেষ দিকে দুটি কিস্তির অর্থ ছাড় হতে পারে।

আইএমএফ ব্রিফিংয়ে জানায়, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৩.৩ শতাংশ, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৫.১ শতাংশ। এই পতনের পেছনে রাজনৈতিক অস্থিরতা, কঠোর অর্থনৈতিক নীতিমালা ও বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে—১১.৭ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ৯.৪ শতাংশে, যা এখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার (৫–৬ শতাংশ) চেয়ে অনেক বেশি ।অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আইএমএফ আরও নমনীয় বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং শক্তিশালী রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছে। মিশনের মতে, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার অর্থনীতিকে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সহায়তা করবে।

রাজস্ব খাতে আইএমএফ বলেছে—বাংলাদেশের জিডিপির তুলনায় কর আদায়ের হার অত্যন্ত কম। তারা কর প্রশাসন ও নীতির মধ্যে স্বচ্ছ পার্থক্য আনার সুপারিশ করেছে। করছাড় কমানো, কর কাঠামো সহজীকরণ এবং একটি টেকসই রাজস্ব বৃদ্ধির কৌশলপত্র প্রণয়নের আহ্বান জানায় সংস্থাটি। এর মাধ্যমে সরকার সামাজিক ও অবকাঠামো খাতে ব্যয় করতে পারবে, যা অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি মজবুত করবে। ব্যাংক খাত সংস্কারের ক্ষেত্রেও আইএমএফ বেশ কড়াকড়ি অবস্থানে রয়েছে। তারা বলেছে, ব্যাংক খাতে আইনগত সংস্কার, সম্পদের মান নির্ধারণে স্বচ্ছতা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। একইসঙ্গে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে আরও সক্রিয় হতে হবে। তারা খেলাপি ঋণ কমানো, দুর্বল তদারকি মোকাবিলা এবং নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা বলেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায়ও আইএমএফ অর্থনৈতিক প্রস্তুতি ও টেকসই অবকাঠামো বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়েছে। আইএমএফ মনে করে, শুধু পরিকল্পনা নয়, বাস্তবায়নের দৃঢ়তা ও ধারাবাহিকতাও উন্নয়নের পূর্বশর্ত। ঋণ কিস্তির অগ্রগতি বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ক্রিস পাপাজর্জিও বলেন, রাজস্ব আয়, বিনিময় হার ও ব্যাংক খাত—এই তিনটি বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনায় এসেছে। তবে আলোচনা এখনো চলছে এবং আরও আলোচনা হবে ওয়াশিংটনে ২১ থেকে ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বসন্তকালীন বৈঠকে।

বাংলাদেশ ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। প্রথম তিন কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে মোট ২৩১ কোটি ডলার। এখন বাকি আছে আরও ২৩৯ কোটি ডলার। অর্থনীতিবিদদের মতে, আইএমএফের ঋণ শুধু আর্থিক সহযোগিতা নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক নীতির প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতীক। আইএমএফ কিস্তি না ছাড়লে অন্যান্য দাতা সংস্থাও নিরুৎসাহিত হতে পারে । বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, আইএমএফের শর্ত পূরণে ৭৫ শতাংশ অগ্রগতি থাকলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ১০০ শতাংশ পূরণ প্রয়োজন হয়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমার মনে হয় না, কিস্তি একেবারে আটকে যাবে। ব্যাংক খাতে কিছু অগ্রগতি নিয়ে তারা খুশি।” আগামী মে মাসে আইএমএফের আরেকটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসবে। তখন শর্ত পূরণের অগ্রগতি এবং কিস্তি ছাড়ের সম্ভাব্যতা নিয়ে আরও সুস্পষ্ট বার্তা পাওয়া যেতে পারে।

“AI শিক্ষা” – প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ স্তর পর্যন্ত , বাধ্যতামূলক করেছে চীন

0

২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে চীন তার জাতীয় শিক্ষানীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। বিশ্বের বিস্ময়কর গতি ও পরিসরে প্রযুক্তির বিকাশের প্রেক্ষাপটে চীন প্রথম দেশ হিসেবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করছে। এমনকি ছয় বছর বয়সী শিশুরাও AI সম্পর্কে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে পাঠ গ্রহণ করবে। এই নতুন শিক্ষানীতি শুধু প্রযুক্তি শিক্ষা নয় চীনের ভবিষ্যৎ কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক গঠনের প্রাথমিক স্তরে যুক্ত করার মাধ্যমে চীন তার আগামী প্রজন্মকে শুধু ব্যবহারকারী হিসেবে নয়, বরং স্রষ্টা ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

চীনা কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষার্থী বছরে অন্তত আট ঘণ্টা করে এআই সংক্রান্ত পাঠ গ্রহণ করবে। পাঠক্রমটি হবে বয়সভিত্তিক—অর্থাৎ ছোট শিশুদের জন্য থাকবে হাতেকলমে কার্যক্রম, খেলা ও কল্পনাশক্তি-ভিত্তিক শেখার মাধ্যমে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া, যেখানে রোবট, চিত্র, ও বাস্তবধর্মী কাহিনির মাধ্যমে তারা বুঝবে কীভাবে প্রযুক্তি কাজ করে। অন্যদিকে উচ্চ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাবে আরো জটিল ও উন্নত বিষয়বস্তুর সম্মুখীন হওয়ার সুযোগ, যেমন—মেশিন লার্নিং, অ্যালগরিদম, ডেটা বিশ্লেষণ এবং বাস্তব জীবনে AI এর ব্যবহার। এই পাঠ্যবিষয়গুলো কখনো কখনো বিজ্ঞান, গণিত, কিংবা প্রযুক্তি শিক্ষার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে আবার কখনো এটি আলাদা বিষয় হিসেবেও পড়ানো হবে। এর ফলে প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হবে বহু শিশুর মনে এবং পরবর্তীতে তারা STEM (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গণিত) ভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ পাবে।

বিশ্বব্যাপী যখন শিক্ষাব্যবস্থা এখনও আলোচনা করছে AI কি স্কুল পর্যায়ে শেখানো উচিত কিনা, কিংবা কোন বয়সে শেখানো উচিত তখন চীন সেই বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে সরাসরি বাস্তবায়নে নেমেছে। চীন বিশ্বাস করে AI শিক্ষাকে পাঠ্য, লেখার মতোই মৌলিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা দরকার, যেহেতু আগামী প্রজন্ম এমন এক সমাজে বড় হচ্ছে, যেখানে মানুষের দৈনন্দিন জীবন এবং পেশাজীবনের সঙ্গে AI গভীরভাবে জড়িত থাকবে। চীনের শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শিক্ষানীতি শিশুদের শেখার প্রতি আগ্রহ এবং যুক্তির দক্ষতা বাড়াবে। AI শিক্ষার মাধ্যমে শিশুরা প্রাথমিক অবস্থাতেই জানতে পারবে কীভাবে একটি প্রযুক্তি চিন্তা করে, সিদ্ধান্ত নেয় কিংবা কাজ করে যা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই সিদ্ধান্ত কেবল শিক্ষানীতির পরিমার্জন নয়, এটি একটি সুদূরপ্রসারী কৌশলগত উদ্যোগ, যা চীনের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বিনোদন সবখানেই AI এর দাপট। সেই বাস্তবতায় চীন নিশ্চিত করতে চায়, তারা শুধু প্রযুক্তির বাজারে গ্রাহক থাকবে না বরং নেতৃত্ব দেবে। শিশুকাল থেকে AI শিক্ষা গ্রহণের ফলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় কম বাধার সম্মুখীন হবে। তাদের শিখন প্রক্রিয়া হবে ধারাবাহিক এবং সময়োপযোগী। ফলে চীন দীর্ঘমেয়াদে গবেষক, উদ্ভাবক, সফটওয়্যার প্রকৌশলী, রোবোটিক্স বিশেষজ্ঞদের একটি বৃহৎ জনশক্তি তৈরি করতে পারবে, যারা কেবল চাকরি খুঁজবে না, নতুন প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করবে।

এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করছে। যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ বা দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ AI এর নৈতিকতা, ঝুঁকি এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির দিকগুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন চীন এসব আলোচনাকে বাস্তব উদ্যোগে রূপ দিয়েছে। এতে চীনকে শুধু একটি উন্নয়নশীল দেশ নয়, ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর সভ্যতার নকশাকার হিসেবে দেখা যেতে পারে। এই ঘোষণার ফলে অন্যান্য দেশকেও নতুন করে ভাবতে হবে তাদের শিক্ষানীতিতে কতটা প্রযুক্তিকেন্দ্রিকতা যুক্ত আছে, এবং তারা কতটা প্রস্তুত একটি AI-ভিত্তিক বিশ্বে প্রবেশ করতে।

চীনের এই পদক্ষেপ কেবল একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়, এটি ভবিষ্যতের সঙ্গে সংযুক্ত একটি সাহসী ঘোষণা। যখন একটি জাতি প্রাথমিক শিক্ষার স্তর থেকেই প্রযুক্তিকে আত্মস্থ করে নেয়, তখন তা শুধু তাদের অর্থনীতিকেই নয়, সমাজের চিন্তাভাবনাকেও রূপান্তরিত করে। চীনের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অন্য দেশগুলোর জন্য একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে, প্রযুক্তির দুনিয়ায় নেতৃত্ব পেতে হলে শৈশব থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হয়। এটি শুধুই এআই শেখানো নয়, এটি ভবিষ্যত নির্মাণ।

ইন্টারনেট ট্রাফিকের অর্ধেক এখন ‘বটের’ দখলে

এক চাঞ্চল্যকর গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্টারনেটের মোট কার্যকলাপের ৫১ শতাংশই এখন আর মানুষের দ্বারা নয়, পরিচালিত হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম বা বটের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার সিকিউরিটি সংস্থা ইমপারভা এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রযুক্তি বিষয়ক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম টেকরাডার এই প্রতিবেদনকে সামনে এনেছে। এই পরিবর্তন নিছক সংখ্যা নয়, এটি ইন্টারনেটের চরিত্র এবং আমাদের অনলাইন নিরাপত্তা ও তথ্য ব্যবস্থাপনার চর্চাগুলোকেই আমূল বদলে দিচ্ছে। এক দশকে প্রথমবারের মতো মানুষের তুলনায় বটের সক্রিয়তা ইন্টারনেটে এগিয়ে গেছে, যা প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা।

বট হলো এমন একটি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম যা নির্দিষ্ট কিছু কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পাদন করে। সাধারণত এগুলো মানুষের মতো করে ইন্টারনেট ব্রাউজ করে, তথ্য সংগ্রহ করে বা ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট ক্রিয়াকলাপ সম্পাদন করে থাকে। তবে সব বট এক ধরনের নয়।মূলত বট দুই ভাগে ভাগ করা যায়—ভালো বট এবং খারাপ বট। ভালো বটগুলো সাধারণত সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশনের জন্য কাজ করে।যেমন, গুগল বা বিং-এর সার্চ বট ওয়েবপেজ স্ক্যান করে কনটেন্ট ইনডেক্স করে। এছাড়াও মনিটরিং বট ওয়েবসাইটের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে, সোশ্যাল মিডিয়া বট পোস্ট শিডিউল করে বা গ্রাহকদের অটো-রিপ্লাই দেয়।

ডাটা স্ক্র্যাপিং বট অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে দরকারি তথ্য সংগ্রহ করে, যেমন পণ্যের দাম তুলনা, খবর সংগ্রহ বা গবেষণা ডেটা তৈরি। এই ভালো বটগুলো ইন্টারনেটকে আরও কার্যকর ও সংগঠিত রাখতে সহায়তা করে। ইমপারভার ২০২৫ সালের রিপোর্টের কেন্দ্রে রয়েছে “ব্যাড বট” বা খারাপ বটের দৌরাত্ম্য। এসব বট ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ওয়েবসাইট বা অনলাইন পরিষেবায় ক্ষতি সাধন করে। ভুয়া লগ ইন প্রচেষ্টা, তথ্য চুরি, ক্লিক জালিয়াতি, ওয়েবসাইটের কার্যকারিতা নষ্ট করাসহ নানা ধরনের সাইবার অপরাধে এগুলো জড়িত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খারাপ বটগুলোর প্রভাব শিল্পভেদে ভিন্ন হলেও, বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভ্রমণ এবং খুচরা (রিটেইল) খাত।ভ্রমণ খাতে এসব বটের ট্রাফিক ৪১ শতাংশ এবং খুচরা খাতে তা ৫৯ শতাংশে পৌঁছেছে। শুধু ২০২৪ সালেই ভ্রমণ খাতের ওপর বট আক্রমণ বেড়েছে ২১ শতাংশ।
কে বা কী এই আক্রমণের পেছনে?

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের (LLM) ব্যাপক ব্যবহার খারাপ বটের বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখছে। বিশেষভাবে জেনারেটিভ এআইয়ের অগ্রগতি বটগুলোকে আরও বুদ্ধিমান, দ্রুত এবং মানুষের আচরণ অনুকরণে দক্ষ করে তুলেছে। বিশেষ বট ‘বাইটস্পাইডার’ কে সবচেয়ে ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি একাই এআই-চালিত বট আক্রমণের ৫৪ শতাংশের জন্য দায়ী। এছাড়া ‘অ্যাপলবট’ (২৬%), ‘ক্লডবট’ (১৩%) এবং ‘চ্যাটজিপিটি ইউজার বট’ (৬%) এর মধ্যে রয়েছে।

এই বটগুলোর অনেকগুলো হয়তো সরাসরি ক্ষতিকর নয়, তবে এগুলোর অনিয়ন্ত্রিত বা উদ্দেশ্যহীন ব্যবহার সমস্যার জন্ম দিতে পারে, যেমন সার্ভার ওভারলোড, ব্যান্ডউইথ নষ্ট, অথবা নিরাপত্তা ফাঁক সৃষ্টি। বটের এই আধিপত্য ইন্টারনেটকে দ্রুততর ও আরও গতিশীল করে তুললেও এর নেপথ্যে নিরাপত্তা ও নৈতিকতার বড় প্রশ্ন জেগে উঠছে। বিশেষ করে ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষা, ভুয়া কনটেন্টের বিস্তার এবং ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। এআই-বেসড বট ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে এখন ওয়েব ডেভেলপার, সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন সমাধানের দিকে এগোতে হবে।যেমন, IP ব্লকিং, ক্যাপচা প্রযুক্তি, আচরণভিত্তিক বিশ্লেষণ ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে খারাপ বট শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করার নতুন কৌশল এখন সময়ের দাবি।

যদিও বট প্রযুক্তি ইন্টারনেটকে অধিকতর গতিশীল ও স্বয়ংক্রিয় করে তুলছে, তবুও এর অপব্যবহার নতুন সাইবার হুমকির জন্ম দিচ্ছে। ইন্টারনেট এখন আর শুধু মানুষের তৈরি জগত নয়, সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রোগ্রামগুলোর শাসন বিস্তৃত হচ্ছে। তাই আমাদের সচেতনতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং নীতিগত কৌশল সবকিছুই একসাথে ব্যবহার করে এগোতে হবে যেন এই ডিজিটাল বাস্তবতাকে মানবিক, নিরাপদ ও কার্যকর রাখা যায়।

বাংলাদেশের ভবিষ্যত আমাদের , সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : মির্জা ফখরুল

0

বাংলাদেশের ভবিষ্যত গঠন নিয়ে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশটা আমাদের, এর ভবিষ্যতও আমাদের নির্মাণ করতে হবে।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, দেশের উন্নতি বা ভবিষ্যত কারো বাইরে থেকে নির্ধারিত হবে না, এটি বাংলাদেশের জনগণের নিজস্ব দায়িত্ব। মির্জা ফখরুল একে আরও গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেন এবং বলেন, “আমেরিকা, চীন বা ভারত থেকে আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।” আজ শনিবার, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেমিনারে “বাংলাদেশের ক্ষমতায়ন: নেতৃত্ব, ঐক্য এবং প্রবৃদ্ধির পথ” শীর্ষক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এসব মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে নানা মতাদর্শের মধ্যে বিভাজন ছিল, কিন্তু স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় সবাই এক হয়ে লড়াই করেছেন।

এছাড়াও তিনি দেশে গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ের ইতিহাস উল্লেখ করে বলেন, “প্রায় শত বছর ধরে আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি।” বর্তমানে তরুণদের ভূমিকা বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মির্জা ফখরুল কৃষক ও শ্রমিকদের অবদান তুলে ধরে বলেন, তাদের কথাও গুরুত্ব সহকারে বলা প্রয়োজন, কারণ তারা দেশের উন্নতির প্রধান চালিকা শক্তি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন এবং কৃষি ও প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। সবশেষে, তিনি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই, এটি চর্চা করতে হবে।”

দূরবর্তী গ্রহে “প্রাণের সম্ভাবনা” , এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ আবিষ্কার

বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি একটি দূরবর্তী গ্রহ K2-18b-এ জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন কিন্তু অনিশ্চিত প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা গ্রহটির বায়ুমণ্ডলে এমন কিছু রাসায়নিক উপাদান শনাক্ত করেছেন, যেগুলি পৃথিবীতে শুধুমাত্র সরল জীবাণু দ্বারা উৎপন্ন হয়। এই গবেষণাটি জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) দ্বারা করা হয়েছে, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ১২৪ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই গ্রহটির বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণ করেছে। এই আবিষ্কারটি পৃথিবীর বাইরের জীবনের সম্ভাবনাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে তবে আরও বেশি তথ্যের প্রয়োজন।

K2-18b একটি সুপার-আর্থ, যার আকার পৃথিবীর আড়াই গুণ বড় এবং এটি একটি ছোট লাল সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। JWST এত শক্তিশালী যে এটি গ্রহটির বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক উপাদান বিশ্লেষণ করতে সক্ষম, সেখান থেকে বিজ্ঞানীরা জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু গ্যাস শনাক্ত করেছেন। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ডাইমিথাইল সালফাইড (DMS) এবং ডাইমিথাইল ডিসালফাইড (DMDS) নামক দুটি গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। এই গ্যাসগুলো পৃথিবীতে সামুদ্রিক ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন এবং ব্যাকটেরিয়া দ্বারা উৎপন্ন হয়।

এই আবিষ্কারটি প্রথমবারের মতো নয়। এর আগেক JWST আরও কিছু রাসায়নিক চিহ্ন শনাক্ত করেছিল যা জীবনের উপস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, তবে এটি ছিল আরও কম নিশ্চিত তথ্য। ক্যামব্রিজ দলের প্রধান গবেষক, প্রফেসর নিক্কু মাধুসুধন এই আবিষ্কারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “এটি জীবনের সম্ভাবনার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হতে পারে। আমি বিশ্বাস করি যে আমরা এক বা দুই বছরের মধ্যে এই সিগন্যালটি নিশ্চিত করতে পারব।” এই গবেষণার ফলাফল ৯৯.৭% সঠিক। বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডে এটি খুবই শক্তিশালী প্রমাণ হলেও, এটি যথেষ্ট নয় একটি নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য। একটি নিশ্চিত আবিষ্কার ঘোষণা করার জন্য ৯৯.৯৯৯৯% নিশ্চয়তা প্রয়োজন।

প্রফেসর মাধুসুধন আরও বলেছেন যে, যদি এই গ্যাসের উপস্থিতি জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত সত্যিই হয়, তবে এটি নিশ্চিত করবে যে গ্যালাক্সির অনেক গ্রহে জীবনের সম্ভাবনা থাকতে পারে। কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্ট্রোফিজিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. সুবীর সরকার বলেন K2-18b-এর মহাসাগর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি জীবনের জন্য আদর্শ পরিবেশ হতে পারে। তবে তিনি এই বিষয়ে সতর্ক করেছেন এটি এখনও নিশ্চিত নয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুসারে এই গ্রহের বায়ুমণ্ডল থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাসের অভাব একটি বিশাল জলাধার বা মহাসাগরের উপস্থিতি নির্দেশ করে।

তবে কিছু বিজ্ঞানী বিকল্প ব্যাখ্যা দিয়েছেন। প্রফেসর অলিভার শর্টল, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী, বলেন যে, K2-18b-তে একটি বিশাল গলিত শিলা মহাসাগরও থাকতে পারে, এটি জীবনের জন্য অপ্রতিরোধ্য। তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা যা জানি তা থেকে, অন্য তারার চারপাশে ঘোরানো গ্রহগুলির সম্পর্কে আমাদের জানার সমস্ত তথ্য এসেছে তাদের বায়ুমণ্ডলের খুব সামান্য আলো থেকে।” একইভাবে নাসার অ্যামস রিসার্চ সেন্টারের ড. নিকোলাস ওগান, K2-18b-কে একটি মিনি গ্যাস জায়ান্ট বলে মন্তব্য করেছেন, যা পৃথিবীর মতো কোনো সঞ্চালিত পৃষ্ঠ বা মহাসাগর ধারণ করতে পারে না। এই ব্যাখ্যাও বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক দল দ্বারা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, কারণ এটি JWST-র ডেটার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ মনে হয়।

সবচেয়ে পুরোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলোর একটি – ক্যাবাল

১৬৬০ সালের ইংল্যান্ড। রাজনীতি টালমাটাল, অভিজাতদের মধ্যে ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার খেলা চলছে। ঠিক এমন সময় পাঁচজন মন্ত্রী—Clifford, Arlington, Buckingham, Ashley এবং Lauderdale—গোপনে রাজাকে ঘিরে পরিকল্পনা করছেন। ইতিহাস তাদের চিনেছে CABAL নামে, তাঁদের নামের প্রথম অক্ষর এই শব্দ গঠন করে। এই পাঁচজন হয়ে ওঠেন একটি গোপন রাজনৈতিক বলয়ের প্রতীক। এখান থেকেই যত ষড়যন্ত্র জন্ম নেয় —একটি গোপন গোষ্ঠী, যারা অদৃশ্যভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে। আজকের পৃথিবীতে এই ধারণাটি বহুগুণ বেড়ে উঠেছে একটি মহা ষড়যন্ত্রতত্ত্বে রূপ নিয়ে, যাকে বলা হয় Cabal Theory।

ক্যাবাল তত্ত্ব কী বোঝাতে চায়?

Cabal Theory এমন এক বিশ্বাস, যেখানে ধরে নেওয়া হয় যে, বিশ্বব্যাপী একটি প্রভাবশালী, গোপন গোষ্ঠী রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি এমনকি যুদ্ধ-বিগ্রহ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা দৃশ্যমান নয়, কিন্তু প্রতিটি প্রধান ঘটনা ও সিদ্ধান্তে তাদের ছায়া আছে। এই তত্ত্ব অনুসারে, বিশ্ব নেতারা, ধনী ব্যবসায়ী, মিডিয়া মোগল ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মিলেই এই ক্যাবাল গোষ্ঠী গঠন করেছে।

এই তত্ত্ব কোথা থেকে আসে?

ষড়যন্ত্রতত্ত্ব কোনো একক উৎস থেকে জন্ম নেয় না। এটি মানুষের অভিজ্ঞতা, আতঙ্ক, ইতিহাস এবং সমাজের জটিলতার প্রতিক্রিয়ায় জন্ম নেয়। ২০শ শতকে যখন পৃথিবী দুই বিশ্বযুদ্ধ, কোল্ড ওয়ার , মধ্যপ্রাচ্য সংঘর্ষ, ৯/১১ এবং বৈশ্বিক মহামারির মতো ঘটনায় বিপর্যস্ত হতে থাকে, তখন সাধারণ মানুষ এইসব ঘটনার পেছনে কোনো গোপন শক্তির হাত দেখতে শুরু করে। ২০০০ দশকে ইন্টারনেটের বিস্তার ও বিকল্প মিডিয়ার উত্থানের ফলে ক্যাবাল তত্ত্ব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে QAnon নামক মার্কিন ষড়যন্ত্র গোষ্ঠী দাবি করে—একটি এলিট ক্যাবাল শিশু পাচার, মানব বলি এবং যৌন অপরাধে লিপ্ত; এবং প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এই বিশ্বাস লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করে।

কারা এই ক্যাবাল?

এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে তত্ত্ব প্রচারকারীদের উপর। কেউ বলে বিল গেটস, কেউ বলে রথচাইল্ড বা রকফেলার পরিবার, কেউবা আবার দাবি করে UN, WHO, IMF এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা এই ক্যাবালের মুখ।

বিশেষ করে COVID-19 মহামারির সময় বিল গেটসকে ঘিরে প্রচুর ক্যাবাল-সংশ্লিষ্ট তত্ত্ব ছড়ায়—যেখানে তাকে মহামারির নকশাকার, ভ্যাকসিনের মাধ্যমে মাইক্রোচিপ প্রবেশ করানোর চক্রান্তকারী হিসেবে চিত্রিত করা হয়। Cabal Theory শুধু রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক নয়, এর ভিতরে একটি ধর্মীয় ও গোপন ধর্মাচারিক স্তরও আছে। অনেক ষড়যন্ত্রবাদী বিশ্বাস করেন, ক্যাবাল গোষ্ঠী Lucifer বা Satan-এর উপাসক। তারা শিশু বলি, ব্লাড রিচুয়াল এবং occult symbolism ব্যবহার করে শক্তি অর্জন করে। Illuminati, Freemasons এবং এমনকি কিছু গোপন ইহুদি গোষ্ঠীকেও এতে জড়ানো হয়।

পিরামিড আকৃতি, অল-সিয়িং আই, বাফোমেট, উল্টো ক্রস ইত্যাদি প্রতীকগুলো ক্যাবালের গোপন শক্তির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়। এই প্রতীকগুলোকে যুক্ত করা হয় বিভিন্ন কর্পোরেট লোগো, মিউজিক ভিডিও, সিনেমা, এবং এমনকি সরকারি ভবনের নকশার সাথেও।

মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিশ্লেষণ

ক্যাবাল তত্ত্ব একটি সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক প্রতিফলন। যখন মানুষ সমাজ বা সরকারে আস্থা হারায়, তখন তারা ঘটনাগুলোর সহজ ব্যাখ্যার জন্য কোনও অদৃশ্য “দুষ্ট” শক্তির অস্তিত্বে বিশ্বাস করতে শুরু করে। বিশেষ করে যখন গণতন্ত্র ব্যর্থ হয়, সংবাদমাধ্যম মিথ্যা প্রচারে লিপ্ত হয় বা অর্থনৈতিক বৈষম্য তীব্র হয়—তখন ক্যাবাল তত্ত্বের মতো বিশ্বাস মানুষের মাঝে প্রবলভাবে স্থান করে নেয়।

প্রথাগত গবেষক ও ইতিহাসবিদেরা ক্যাবাল তত্ত্বকে এক ধরনের “ম্যাজিক থিঙ্কিং” হিসেবে দেখেন। ক্যাবাল তত্ত্বের অধিকাংশ দাবি প্রমাণবিহীন। তথ্য বিকৃতি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যা ব্যবহার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি বিদ্বেষ ও ঘৃণার জন্ম দেয়—বিশেষ করে ইহুদি, অভিবাসী বা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে। তবে একই সাথে এটাও অস্বীকার করা যায় না যে, বাস্তবেও বহুবার ক্ষমতার গোপন অপব্যবহার হয়েছে। Watergate কেলেঙ্কারি, NSA-র গুপ্ত নজরদারি, কর্পোরেট লবিইং, মিডিয়া মালিকানার কেন্দ্রীকরণ—এসব বাস্তব দৃষ্টান্ত।

রাশিয়ার আদালত – তালেবানের ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে

রাশিয়ার সর্বোচ্চ আদালত তালেবান গোষ্ঠীর ওপর প্রায় ২০ বছরের পুরোনো “সন্ত্রাসী সংগঠন” আখ্যা স্থগিত করেছে। বর্তমান আফগানিস্তানের বাস্তবিক শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার তাস সংবাদ সংস্থার বরাতে বিচারক ওলেগ নেফেদভ ঘোষণা করেন, প্রসিকিউটর জেনারেলের অনুরোধে আদালত এই রায় দিয়েছে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকরও হয়েছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর মস্কোর সঙ্গে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, যদিও ১৯৯০-এর দশকের আফগান গৃহযুদ্ধের সময় তাদের সম্পর্ক ছিল উত্তেজনাপূর্ণ।

সম্প্রতি আইএসআইএল (আইএসআইএস)-এর আঞ্চলিক শাখা আইএসকেপির বিরুদ্ধে লড়াইসহ কয়েকটি নিরাপত্তাজনিত অভিন্ন স্বার্থ রাশিয়া ও তালেবানকে একত্র করেছে। গত বছর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তালেবানকে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে “মিত্র” হিসেবে আখ্যা দেন এবং তার কাবুলভিত্তিক দূত তালেবানকে নিষিদ্ধ তালিকা থেকে সরানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। মস্কো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তালেবান কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক ফোরাম আয়োজন করেছে, আফগানিস্তানকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গ্যাস রপ্তানির ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহার করারও পরিকল্পনা করছে। গত বছর অক্টোবরে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, “মস্কো কাবুলের সঙ্গে রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পথেই থাকবে।”

সম্প্রতি অন্যান্য কিছু এশীয় দেশ এখনো সরকারিভাবে তালেবানকে স্বীকৃতি না দিলেও তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করেছে। ২০২৩ সালে কাজাখস্তান তালেবানকে তাদের “সন্ত্রাসী সংগঠনের” তালিকা থেকে সরিয়ে দেয়। কিরগিজস্তানও পরের বছর একই পদক্ষেপ নেয়। চীন, ভারত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ইরানসহ বেশ কয়েকটি দেশের কাবুলে দূতাবাস রয়েছে । ২০২৩ সালে তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর চীন প্রথম দেশ হিসেবে আফগানিস্তানে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয়।

গরমে এসি ছাড়া ঘর ঠান্ডা রাখবেন যেভাবে –

আপনি যদি বড় অঙ্কের টাকা খরচ না করে এসি ছাড়া ঘর ঠান্ডা রাখতে চান, তাহলে এই টিপসগুলো আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এসি ব্যবহারের তুলনায় এসব টিপস মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন; এগুলো কার্যকর এবং পরিবেশবান্ধবও।

১. জানালা কখন খুলবেন এবং কখন বন্ধ রাখবেন
গরমের দিনে সূর্যের আলো যত বেশি প্রবাহিত হবে, ঘর তত গরম হয়ে উঠবে। তাই দিনবেলা জানালা বন্ধ রাখুন, বিশেষ করে পশ্চিম ও উত্তরমুখী জানালাগুলো। পর্দা দিয়ে ঘর অন্ধকার করে রাখলে সূর্যের তাপও কম প্রবাহিত হবে। সূর্যাস্তের পর জানালা খুলে শীতল বাতাস ঢুকতে দিন। ক্রস ভেন্টিলেশন পদ্ধতিতে ঘরের তাপ বাইরে বের করে দিন এবং শীতল বাতাস আনতে হবে।

২. জানালা, দেয়াল ও ছাদে প্রলেপ
হিট প্রোটেক্টিভ উইন্ডো ফিল্ম লাগালে সূর্যের তাপ অনেকটা আটকে রাখতে পারে। অথবা জানালার বাইরের দিকে সাদা রঙ বা সাদা কাগজ লাগিয়ে তাপ শোষণ কমাতে পারেন। এছাড়া ঘরের দেয়াল ও ছাদে ইনসুলেশন করলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

৩. ছাউনি
জানালার উপরে সানশেড বা হালকা রঙের ছাউনি টানালে সূর্যের তাপ আটকে যায় এবং ঘর ঠান্ডা থাকে।

৪. দেয়াল, মেঝে, আসবাবপত্র
ঘরের রঙ হালকা রাখলে তাপ শোষণ কম হয়। মার্বেল বা স্যান্ডস্টোন মেঝে ব্যবহার করলে ঠান্ডা অনুভূতি পাওয়া যাবে। কাঠের আসবাবপত্রও হালকা রঙের হলে তাপ শোষণ কম হবে।

৫. ছাদ
গাঢ় রঙের ছাদ তাপ শোষণ করে। সাদা রঙের ছাদ রাখলে তাপ প্রতিফলিত হয় এবং ঘর ঠান্ডা থাকে।

৬. সিলিং ফ্যান
সিলিং ফ্যানের পাখাগুলো যেন ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘুরে, তা নিশ্চিত করুন। এটি ঘরের গরম বাতাস বের করে ঠান্ডা বাতাস আনতে সাহায্য করবে।

৭. ঠান্ডা বাতাস
বরফের টুকরো বা ঠান্ডা পানির বালতি ফ্যানের নিচে রাখলে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যাবে।

৮. এক্সস্ট ফ্যান
এক্সস্ট ফ্যান ব্যবহার করে ঘরের ভেতরের গরম বাতাস বের করে ঠান্ডা বাতাস ঢুকতে সাহায্য করবে।

৯. বিছানা তোশক বালিশ
সুতি কাপড়ের বিছানা, বালিশ ও তোশক ব্যবহার করলে গরমে আরাম পাওয়া যায়। হালকা রঙের চাদর ব্যবহার করাও উপকারী।

১০. বাতি পরিবর্তন
এলইডি লাইট ব্যবহার করলে তাপ কম উৎপন্ন হয়। অতিরিক্ত বাতি বন্ধ রাখলে ঘর ঠান্ডা থাকে।

১১. রান্না
গরমে রান্না এড়িয়ে চলুন। অল্প সময়ে রান্না করা যায় এমন খাবার বেছে নিন।

১২. বৈদ্যুতিক যন্ত্র
ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার শেষে প্লাগ খুলে রাখুন, যাতে তাপ উৎপন্ন না হয়।

১৩. গাছ
বাড়ির আঙিনায় বড় গাছ লাগালে ঘর ঠান্ডা থাকবে। এছাড়া ঘরের ভেতর গাছ থাকলে তা তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করবে।

১৪. ডিহিউমিডিফায়ার
ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে আর্দ্রতা কমে গিয়ে ঘর ঠান্ডা অনুভূত হবে।

১৫. শরীর ঠান্ডা রাখা
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে পানি খাওয়া, সুতির পোশাক পরা এবং ঠান্ডা পানিতে গোসল করা সহ নানা পদক্ষেপ নিতে হবে।

এই ১৫টি টিপস মেনে চললে আপনি এসি ছাড়াও ঘর ঠান্ডা রাখতে পারবেন এবং গরমের সাথে মানিয়ে চলতে পারবেন।

পারমাণবিক কর্মসূচি – যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে পিছু হটবে না ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি করতে চাইলে তেহরানকে অবশ্যই তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং অস্ত্রায়ণ কর্মসূচি সম্পূর্ণ ‘বাতিল’ করতে হবে। আগামী শনিবার মাসকাটে দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরুর আগে এ দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার এ খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। তবে ইরান বলেছে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারের বিষয়টি বাতিল করা নিয়ে আলোচনা করা যাবে না। উইটকফের মন্তব্য তাঁর আগের দিন করা মন্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, উইটকফ আগের দিন বলেছিলেন – ইরান শক্তি উৎপাদনের জন্য যদি খুব কম পরিমাণে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে, তাহলে তাতে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি থাকবে না।

উইটকফের মন্তব্যের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘আমরা উইটকফের কাছ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য শুনেছি, তবে আলোচনার টেবিলে আসল অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে সম্ভাব্য উদ্বেগের বিষয়ে আমরা আস্থা তৈরি করতে প্রস্তুত। তবে সমৃদ্ধকরণের নীতি আপসযোগ্য নয়।’ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা(আইএইএ)র সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ করেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০% সমৃদ্ধির খুব কাছাকাছি। ইরান ইতিমধ্যে ৪২ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন করেছে, যা একটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরান সরকার জোর দিয়ে বলে আসছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য।

এদিকে, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ইরান খুব বেশি দূরে নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। তেহরানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে বৃহস্পতিবার এ মন্তব্য করেন তিনি ।ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের মাধ্যমে যাচাই করার ওপর জোর দেন তিনি। অন্যদিকে, ইরানের ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির মূল কারিগর মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ-এর ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বিশ্লেষকরা মনে করেন, পেজেশকিয়ান প্রশাসনে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে জারিফ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে নতুন করে একটি পরমাণু চুক্তি করার চেষ্টা করছিলেন, যেটি ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাতিল করেছিলেন।

নভেম্বরে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ও কট্টরপন্থিরা জারিফের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। কালিবাফ বলেছিলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা জারিফের পদ নিয়োগ অবৈধ এবং তাকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা উচিত। এছাড়া কট্টরপন্থীদের অভিযোগ, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে তিনি অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছিলেন। জারিফ সংস্কারপন্থী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত এবং নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পক্ষে ভোট চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাকে সরকারের কৌশলগত পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োগ দেন।