Home Blog Page 131

চীনের নেক্রোবিয়াল , ভালোবাসার কুসংস্কার – কুয়ানসা

চীনের গ্রামাঞ্চলের এক নিঃশব্দ সন্ধ্যায়, যখন আত্মীয়স্বজন মৃত তরুণের কবর প্রস্তুত করছে, ঠিক তখনই আরেকটি পরিবার মৃত এক তরুণীর দেহ নিয়ে হাজির হলো। কোনো শোক নয় বরং সে রাতে অনুষ্ঠিত হলো এক বিয়ে—কিন্তু বর ও কনে, দু’জনেই মৃত। এটি কোনো কল্পকাহিনি নয়, বরং চীনের এক অদ্ভুত সাংস্কৃতিক চর্চা—‘কুয়ানসা’ (Kwangsa) বা ‘Ghost Marriage’, যেখানে জীবনের পরে আসে ‘বিবাহ’। পুরনো রীতির ছায়া। এই নেক্রোবিয়াল বিবাহের শিকড় প্রাচীন চীন সমাজের কনফুসিয়ান বিশ্বাসে প্রোথিত। চীনাদের কাছে পুরুষের বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকার, পূর্বপুরুষ পূজা, এবং সামাজিক মর্যাদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন অবিবাহিত পুরুষ মারা গেলে পরিবার মনে করত তার আত্মা অশান্ত থাকবে, কারণ তাকে কেউ শ্রাদ্ধ বা পূর্বপুরুষ পূজা নিবেদন করবে না। এই প্রথা ছিল সেই আত্মাকে “নির্জনে না রেখে সঙ্গী দিয়ে শান্ত করা”—এমনকি মৃত্যুর পরেও।

কীভাবে হয় এই বিয়ে?

চীনের গ্রামীণ অঞ্চলে, বিশেষত শানসি, হেনান এবং হেবেই প্রদেশে এই বিবাহকে সম্পন্ন করা হয় একেবারে প্রচলিত বিয়ের মতোই। দুটি কফিন পাশাপাশি রাখা হয় এবং “বিবাহ” অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় পুরোহিত বা স্থানীয় শামানের নেতৃত্বে। অনেক সময় কনে বা বর জীবিত, আর অপরজন মৃত। সেই অবস্থায় কনে বা বরকে “জীবনের বাকিটা” ওই মৃত সঙ্গীর সাথেই অতিবাহিত করতে হয় কখনও বিবাহ পরবর্তী যৌনতা বা অন্য সম্পর্ক গড়ে তুলতে বাধা দেয়া হয়।আর যদি বর ও কনে দুজনেই মৃত হয়, তাহলে বিশেষ ধরণের দালাল (যাদের বলা হয় “মিডলম্যান অফ দ্য স্পিরিট”) বাজারে কঙ্কাল বা দেহাংশ সংগ্রহ করে “উপযুক্ত মিল” খুঁজে দেয়। অনেক সময় মৃত কন্যার জন্য দেহ কেনা হয়, যার দাম পৌঁছায় কয়েক হাজার ইউয়ানে।

যেখানে সংস্কৃতি সেখানে শোষণও জন্ম নেয়। চীনের এই ঘোস্ট ম্যারেজ রীতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অবৈধ কঙ্কাল বাজার। বিভিন্ন রিপোর্টে দেখা গেছে, মরদেহ চুরি, মহিলা কঙ্কাল পাচার, এমনকি হত্যা করে দেহ বিক্রির ঘটনাও ঘটছে শুধু এই বিবাহের চাহিদা পূরণ করতে। ২০১৩ সালে চীনের একটি গ্রামে দুই কবর খুঁড়ে তরুণীদের কঙ্কাল চুরি করা হয় ঘোস্ট ম্যারেজের জন্য। সরকার এ নিয়ে একাধিকবার অভিযান চালালেও গ্রামীণ সংস্কৃতির গায়ে সে থাবা আজও লেগে আছে।

কেন এই রীতিকে আঁকড়ে ধরে আছে এত মানুষ?

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন এটি এক ধরণের শোকের পুনর্নির্মাণ। মৃত প্রিয়জনকে বিয়ে দিয়ে সমাজের কাছে একটা ‘সমাপ্তি’ ঘোষণা করা হয়। এটা পরিবারের জন্য এক ধরণের closure, একটা জীবন বা গল্পের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি বানানো। তাদের কাছে এটি শুধুই সংস্কার নয়, বরং প্রিয়জনের অমরত্বের কল্পনায় একটা সহানুভূতির রূপ । চীনের আধুনিক সমাজে এই রীতি এখন অত্যন্ত বিতর্কিত। অনেক শহুরে তরুণ-তরুণী একে প্রতীকী পশ্চাৎপদতা ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন মনে করেন। তবু রীতিটি এখনও অস্তিত্ব বজায় রেখেছে, শুধু পালটে গেছে তার রূপ। বর্তমানে অনেক পরিবার প্রতীকী ঘোস্ট ম্যারেজ করে কাগজের effigy, কনফেটি, কৃত্রিম দেহাংশ ব্যবহার করে। সামাজিক সম্মান ও আত্মার শান্তি, দুই-ই বজায় রাখার এই মধ্যপন্থা’ই এখন নতুন বাস্তবতা। ‘কুয়ানসা’ শুধু একটি অদ্ভুত সংস্কৃতি নয়—এটি জীবন ও মৃত্যুর ধারণার সীমা নিয়ে ভাবার এক চ্যালেঞ্জ। যেখানে মৃত্যুও সামাজিক কাঠামোর বাইরে নয়। বরং মৃত্যুও ‘পূরণীয় দায়িত্ব’ হয়ে ওঠে।

এটি একদিকে যেমন সংস্কৃতির অন্তর্গত অমানবিকতা তুলে ধরে, অন্যদিকে আমাদের জীবনের অর্থ, সম্পর্কের পরিণতি, এবং সম্মানবোধ নিয়ে নতুন করে ভাবায়। চীনের এই ‘মৃত্যুর পরে বিয়ে’ প্রথা শুনতে যতই অদ্ভুত লাগুক, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ইতিহাস, শোক ব্যবস্থাপনার মনস্তত্ত্ব এবং এক গভীর মানবিক আকুতি—‘মৃত্যুর পরেও যেন অজানা অচেনা দিগন্তে কেউ একা না থাকে’।

যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি , সুপারিশ নারী সংস্কার কমিশনের

0

বাংলাদেশে যৌন কর্মীরা সমাজের সেই অংশ যারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গৃহীত না-হওয়া বাস্তবতা হিসেবে উপস্থিত। তাদের পেশা অবৈধ নয়, আদালতের রায়ে যৌনকর্ম বৈধতা পেলেও, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাঠামোয় তারা আজও অবহেলিত, অনানুষ্ঠানিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হিসেবে রয়ে গেছেন। তাদের জীবন-জীবিকা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে নেই কোনো কাঠামোগত সমর্থন। একই অবস্থা গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রেও, যারা দেশের প্রতিটি শহর ও গ্রামে অসংখ্য পরিবারে শ্রম দিচ্ছেন, কিন্তু শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি পান না। এই পরিপ্রেক্ষিতে যৌন কর্মীদের শ্রমিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিটি কেবল মানবিক বা নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, এটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশে আনুমানিক ১ লাখের বেশি নারী ও শিশু যৌন পেশার সাথে যুক্ত বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। এদের অনেকেই প্রবল দারিদ্র্য, পারিবারিক সহিংসতা, মানবপাচার কিংবা বাল্যবিবাহ থেকে পালিয়ে এসে এই পেশায় জড়াতে বাধ্য হয়েছেন। এই পেশাকে ঘিরে রয়েছে গভীর সামাজিক ঘৃণা, যা তাদের স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা, শিক্ষা বা পুনর্বাসনের কোনো বাস্তব সুযোগ তৈরি করতে দেয় না। যৌন কর্মীদের জন্য আইনত কিছু সুরক্ষা থাকলেও বাস্তবে পুলিশের হয়রানি, দালাল চক্রের দখলদারি, এবং সামাজিকভাবে নিপীড়নের কারণেই তারা মূলত আইনের বাইরে, নিরাপত্তাহীন একটি জগতে বাস করেন।

যৌন কর্মীদের মতোই গৃহকর্মীরাও মূলত নারী, দরিদ্র এবং অভ্যন্তরীণ অভিবাসী—অর্থাৎ গ্রাম থেকে শহরে জীবিকা খুঁজতে আসা মানুষ। তারা দৈনিক ৮-১৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করেও কোনো লিখিত চুক্তি, ছুটি বা ন্যূনতম মজুরি পান না। তাদের অনেকেই নির্যাতনের শিকার হন এবং বেশিরভাগ সময়ই বিচার পান না। তবে গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রে সমাজে কিছুটা হলেও সহানুভূতি তৈরি হয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর চাপে বাংলাদেশ সরকার ২০২১ সালে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা অনুমোদন করেছে। যদিও এটি এখনও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি, তথাপি এটি একটি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, যা যৌন কর্মীদের এখনো অধরা।

কেন যৌন কর্মীদের শ্রমিক স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি?

শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার অর্থই হলো তাদের অধিকার, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদা অস্বীকার করা। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) এর ২০০৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, যৌনকর্মীদের শ্রমের আওতায় না আনা হলে তারা নানা ধরণের সহিংসতা ও শোষণের শিকার হন। যৌনকর্মীদের শ্রমিক স্বীকৃতি দিলে তারা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় আসবেন, STI এবং HIV প্রতিরোধ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন এবং স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক বাঁধা অনেকটা দূর হবে। বৈধতা ও স্বীকৃতির মাধ্যমে যৌন কর্মীরা ব্যাংকিং সুবিধা, সামাজিক নিরাপত্তা, এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ পেতে পারেন। এতে দালাল নির্ভরতা কমবে এবং আত্মনির্ভরতা বাড়বে।

শ্রমিক স্বীকৃতি ও সংগঠন করার অধিকার থাকলে যৌন কর্মীরাই শিশু যৌনপেশা ও পাচার রোধে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। ভারতের “দুরবার মহিলা সমিতি” তার বাস্তব উদাহরণ। সমাজে অনেকেই মনে করেন, যৌন পেশা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়, তাই এর স্বীকৃতি দিলে নৈতিকতা নষ্ট হবে। এই যুক্তি একটি গভীর শ্রেণীভিত্তিক ও পুরুষতান্ত্রিক অবস্থান তুলে ধরে, যেখানে পুরুষদের “ভোগ” বৈধ, কিন্তু নারীর “পেশা” অবৈধ! এই দ্বিচারিতা ভেঙে ফেলতেই শ্রমিক স্বীকৃতি জরুরি। নৈতিকতার নামে যদি আমরা তাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করি, তবে তাদের প্রতি চলা সহিংসতা ও শোষণও বৈধতা পেয়ে যাবে।

সম্প্রতি নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন দেশের প্রচলিত শ্রম আইনে যৌনকর্মী ও গৃহকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের সুপারিশ করেছে। শনিবার রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এই সুপারিশ তুলে ধরেন কমিশন প্রধান ও নারী পক্ষের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিরিন পারভিন হক। কমিশনের মতে, যৌন পেশা বাংলাদেশে অবৈধ নয়, তবে বিষয়টি নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট আইন না থাকায় যৌনকর্মীরা নানা ধরনের হয়রানি, বৈষম্য ও অনিরাপত্তার মুখোমুখি হন। তারা আইনি সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হন। শ্রমিক স্বীকৃতি না থাকায় আইনের সুরক্ষা তাদের জন্য কার্যত অকার্যকর। গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রেও একই রকম অবস্থা বিদ্যমান। কমিশনের মতে, এ দুই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শ্রমিক স্বীকৃতি দিলে তারা রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হবেন।

যৌন কর্মীরা সমাজের প্রান্তিক এক গোষ্ঠী। তারা নিছক ‘ভোগ্যপণ্য’ নয়, বরং জীবিকা নির্বাহকারী নারী, যারা একটি পেশার মাধ্যমে বেঁচে থাকতে চাইছেন। তাদের শ্রমিক স্বীকৃতি দেওয়া মানে কেবল তাদের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া নয়, এটি মানবিকতা, সমতা ও সুবিচারের পথে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

পরমাণু প্রকল্প : যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ২য় বৈঠকে অগ্রগতি

ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে দ্বিতীয় দফায় বৈঠক করেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। শনিবার ইতালির রাজধানী রোমে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই পক্ষ। ২৬ এপ্রিল আবার আলোচনায় বসতে পারেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, বৈঠক থেকে অগ্রগতি পাওয়া গেছে। এবারের বৈঠকে বিভিন্ন নীতি ও লক্ষ্যের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আরও ভালো বোঝাপড়া হয়েছে। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা গতি পাচ্ছে এবং যেটা হওয়ার কথা নয়, সেটাও এখন সম্ভব।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তিতে অংশ নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ কার্যক্রম সীমিত করবে। বিনিময়ে দেশটির ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। পরে ২০১৮ সালে ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসে আবারও ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগে তৎপরতা শুরু করেন ট্রাম্প। তবে গত মার্চে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লেখা একটি চিঠিতে নতুন করে পরমাণু আলোচনা শুরুর আহ্বান জানান তিনি। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বিফলে গেলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, চলমান আলোচনা কেবল তাদের পরমাণু কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। আরাগচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি অযৌক্তিক ও অবাস্তব দাবি না তোলে, তাহলে একটি চুক্তি সম্ভব।’ তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি তাদের সমর্থন প্রসঙ্গেও আলোচনা করতে চায় ওয়াশিংটন। তবে তেহরান তা চাইছে না।

ডায়াবেটিসের ১২টি উপেক্ষিত লক্ষণ –

ডায়াবেটিস শব্দটি শুনলেই আমাদের মাথায় আসে বেশি পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব বা রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এই রোগটি অনেক সময় এমন কিছু উপসর্গে প্রকাশ পায় যা আমরা সাধারণত ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই মনে করি না। ফলে রোগ ধরা পড়তে দেরি হয়, আর শারীরিক ক্ষতিও বেড়ে যায়। চলুন জেনে নিই ডায়াবেটিসের ১২টি অস্বাভাবিক ও অচেনা উপসর্গ।

১. ত্বকে অস্বাভাবিক খসখসে ভাব ও কালো দাগ

ঘাড়, বগলের মতো স্থানে হঠাৎ করে গাঢ় কালো দাগ দেখা দিলে তা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ইঙ্গিত হতে পারে। এই অবস্থা চিকিৎসা ভাষায় Acanthosis Nigricans নামে পরিচিত।

২. অতিরিক্ত চুল পড়া ও মাথার ত্বকের পরিবর্তন

ডায়াবেটিসে শরীরের হরমোন ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে চুল পাতলা হয়ে পড়ে যায়, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মাথার মাঝখান থেকে চুল পড়ে যাওয়া দেখা যায়।

৩. ঘন ঘন ত্বকে ইনফেকশন বা ফাঙ্গাল সমস্যা

ত্বকে বারবার চুলকানি, ফুসকুড়ি বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণ ডায়াবেটিসের কারণেই হতে পারে, কারণ উচ্চ রক্তে চিনি ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের বংশবৃদ্ধিতে সহায়ক।

৪. হাত-পায়ে অসাড়তা বা পিন-চুঁচ করে লাগা

ডায়াবেটিস নার্ভ সিস্টেমে আঘাত হানে। ফলে অনেক সময় হাত বা পায়ে পিন দিয়ে খোঁচা লাগার মতো অনুভূতি হয়, যা ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথির লক্ষণ হতে পারে।

৫. ক্ষত সারতে দেরি হওয়া

সাধারণ কাটা-ছেঁড়ার পরও যদি দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষত না শুকায় বা পুনঃবার সংক্রমিত হয়, তবে তা ডায়াবেটিসের আভাস দিতে পারে।

৬. ওজন হ্রাস – অকারণে

খাওয়ার পরিমাণ স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া এক মারাত্মক লক্ষণ। এটি টাইপ-১ ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

৭. অতিরিক্ত ক্লান্তি ও অবসাদ

ঘুম ও বিশ্রামের পরেও যদি আপনি সর্বদা ক্লান্ত অনুভব করেন, তবে এটি গ্লুকোজের সঠিক ব্যবহার না হওয়ার কারণে হতে পারে।

৮. দৃষ্টির ঝাপসা হয়ে যাওয়া

ডায়াবেটিস চোখের রেটিনায় প্রভাব ফেলে। ফলে হঠাৎ করে ঝাপসা দেখা, এক চোখে স্পষ্ট দেখা না যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ হতে পারে।

৯. মুখে শুকনোভাব ও ত্বকে চুলকানি

রক্তে চিনি বেড়ে গেলে শরীর পানিশূন্য হতে থাকে, যার ফলে মুখ শুকিয়ে যায়, ত্বকে চুলকানি বাড়ে।

১০. যৌন অক্ষমতা বা লিবিডো হ্রাস

নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই ডায়াবেটিস হরমোনাল ভারসাম্য নষ্ট করে। এতে করে যৌন ইচ্ছা হ্রাস পায় এবং অনেক ক্ষেত্রে পুরুষদের ইরেকটাইল ডিসফাংশন দেখা দেয়।

১১. ঘন ঘন ইউরিনারি ইনফেকশন

নারীদের মধ্যে ঘন ঘন ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউরিনে জ্বালাপোড়া ডায়াবেটিসের অপ্রত্যাশিত লক্ষণ হতে পারে।

১২. ঘন ঘন দাঁতের সমস্যা

ডায়াবেটিসের কারণে মুখে জীবাণুর বৃদ্ধি ঘটে, ফলে মাড়ির ইনফেকশন, দাঁত নড়ে যাওয়া ও দুর্গন্ধ হওয়া দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস একটি নীরব ঘাতক।শরীরে ছোটখাটো কোনো পরিবর্তনকেও অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে যদি উপরের একাধিক উপসর্গ একসঙ্গে দেখা যায়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ভারতে ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি আইন নিয়ে বিতর্ক কেন ?

মুসলিম সম্পত্তি আইনে ওয়াক্‌ফ হলো দাতব্য ট্রাস্টের মতো। একজন ব্যক্তি তার সম্পত্তি দাতব্য বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ওয়াক্‌ফ করতে পারেন। একবার সম্পত্তি ওয়াক্‌ফ করলে, এর আর ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে না। যে উদ্দেশ্যে সম্পত্তি ওয়াক্‌ফ করা হয়েছে তা পরিবর্তন করা যায় না। এটিকে বিধিবদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন রয়েছে। এই আইনের অধীনে ওয়াক্‌ফ বোর্ড এসব সম্পত্তি পরিচালনা করে। ভারতে ওয়াক্‌ফ বোর্ডের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৯.৪ লাখ একর যা বাংলাদেশের সিলেট বা টাঙ্গাইল জেলার আয়তনের চেয়েও বেশি। ভারতের রেলওয়ে এবং সামরিক বাহিনীর পর কোনো সংস্থার অধীনে থাকা এটাই সবচেয়ে বেশি সম্পত্তি। মসজিদ, কবরস্থান, মাজারের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য এসব সম্পত্তি দান করা হয়েছে।

মোদি সরকারের ভাষ্য, ওয়াক্‌ফ বোর্ড বছরের পর বছর ধরে তাদের সম্পত্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করেনি। জমির আয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও জনকল্যাণে ব্যয় হওয়ার কথা। কিন্তু এটা হচ্ছে না বলে ওয়াক্‌ফ আইন সংশোধন করা প্রয়োজন। ভারতের মুসলমানদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা জানার উদ্দেশ্যে গঠন করা সাচার কমিটির ২০০৬ সালের প্রতিবেদনও বলা হয়েছিল, ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে সেই সময়ে তাদের আয় ১২ হাজার কোটি টাকা হতো। ওয়াক্‌ফ বোর্ডে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কথা উঠে এসেছিল ওই প্রতিবেদনে। সাচার কমিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওয়াক্‌ফ সম্পত্তির অদক্ষ ব্যবস্থাপনা, বেদখল এবং দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণের কারণে প্রত্যাশিত আয় আসে না। এসব সম্পত্তি থেকে স্বল্প আয়কে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের আর্থিক ও সামাজিক পশ্চাৎপদতার অন্যতম কারণ হিসেবেও চিহ্নিত করে সাচার কমিটি।

কিন্তু বিজেপি সরকার কি সত্যি-ই সৎ উদ্দেশ্য থেকে এই আইন সংশোধন করল, নাকি বরাবরের মতো ভোটের মাঠে মেরুকরণ ঘটানোই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য? এই প্রশ্ন তুলেছেন লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিরোধী দলের সদস্যরা। ওয়াক্‌ফ আইন সংশোধনের সবচেয়ে বিতর্কিত ধারাগুলোর একটি হলো, এখানে একজন অমুসলিমকে ওয়াক্‌ফ বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিতর্কিত ধারা অনুযায়ী, রাজ্যগুলোর ওয়াক্‌ফ বোর্ডে নিজ নিজ রাজ্য সরকার অন্তত দুজন অমুসলিমকে নিয়োগ দিতে পারবে।

পুরোনো আইন অনুযায়ী, কোনো সম্পত্তি ওয়াক্‌ফ ঘোষণার একমাত্র অধিকারী ছিল ওয়াক্‌ফ বোর্ড। নতুন আইনে সেই অধিকার দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসক বা সমপদমর্যাদার কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে। সেই সঙ্গে শত শত বছর ধরে যেসব জমি ওয়াক্‌ফ বোর্ডের অধীনে রয়েছে কিন্তু কোনো কাগজপত্র নেই—এসব জমি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন মুসলিম নেতারা। বাবরি মসজিদ ভাঙার পর থেকে উত্তর ভারতের বিভিন্ন প্রাচীন মসজিদের জায়গা নিয়ে যেভাবে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে, দেশের সরকারপ্রধানসহ সংখ্যাগুরুদের অনেকের ভাষায়-আচরণে সংখ্যালঘু মুসলিমদের যেভাবে প্রান্তিক করে তোলার প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে, তাতে সংশোধিত আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি নিয়েও যে ভবিষ্যতে একই ধরনের সমস্যা হবে না, সেটা কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়?

অস্ত্র রফতানিতে বিধি-নিষেধ শিথিল – ট্রাম্প ; ‘যুদ্ধের উত্তেজনা বৃদ্ধির পদক্ষেপ ’ – উত্তর কোরিয়া

গত ৯ এপ্রিল মার্কিন অস্ত্র রফতানিতে বিধিনিষেধ শিথিল করতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ২০ এপ্রিল উত্তর কোরিয়া বলেছে, যুদ্ধের উত্তেজনা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ বলেছে – যুক্তরাষ্ট্র দু নৌকায় পা রেখে চলতে চাইছে। তারা একদিকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে সংকট সমাধানে আলোচনা ও সমঝোতার পরামর্শ দিয়ে চলেছে। অন্যদিকে তারাই আবার ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের সবরকম অস্ত্র বিলিয়ে যাচ্ছে। এতে যুদ্ধবাজদের মধ্যে যুদ্ধ প্রলম্বিত করার উৎসাহ সৃষ্টি হবে।

হোয়াইট হাউজে প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই মস্কো ও কিয়েভের ওপর যুদ্ধ বন্ধের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছেন ট্রাম্প। অথচ একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির নিয়ম-কানুন পর্যালোচনা ও সহজ করতে ওই নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। রয়টার্স জানায়, নতুন এই নীতির ফলে লকহিড মার্টিন, আরটিএক্স ও বোয়িংয়ের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিক্রি বাড়তে পারে। এ প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউজের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা উইল শার্ফ বলেছেন,“এর ফলে একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে মিত্র দেশগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত সরবরাহ করা যাবে।”

বর্তমানে মার্কিন আইন অনুযায়ী, অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশ কতটা ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং বিক্রির পরিমাণ কেমন, তার ওপর ভিত্তি করে কংগ্রেস পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ট্রাম্প কংগ্রেসের কিছু সদস্যের মানবাধিকার বা অন্যান্য ইস্যুতে বিদেশে অস্ত্র বিক্রি বিলম্বিত করার প্রবণতায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। ২০১৯ সালে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ট্রাম্প ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করে কংগ্রেসের পর্যালোচনার দীর্ঘদিনের রেওয়াজ উপেক্ষা করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানে ৮০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র বিক্রি করেন। ওই সময় কংগ্রেস ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলায় বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ ও সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় এসব বিক্রি আটকে রেখেছিল।

আনুপাতিক ভোটে উচ্চকক্ষ , এনসিসি ও গণভোটে রাজি নয় – বিএনপি

0

সংস্কারের জন্য গঠিত পাঁচ কমিশনের ১৬৬ সুপারিশের মধ্যে– আনুপাতিক ভোটে উচ্চকক্ষ ও এনসিসি গঠন বড় পরিবর্তন। ঐকমত্য কমিশন সূত্র সমকালকে বলেছে, সংবিধানকে সুরক্ষা দিতে আনুপাতিক ভোটে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন এবং সংবিধান সংশোধনে উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন ও গণভোট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ বাদে বাকি সব কাজ রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী করতে বাধ্য। এর মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারপতি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসহ স্বতন্ত্র আইনের দ্বারা পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে আদতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ীই নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।

এ একচ্ছত্র ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা, উচ্চ ও নিম্নকক্ষের স্পিকার, বিরোধী দল থেকে উচ্চ ও নিম্নকক্ষে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধান বিচারপতি এবং প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতার বাইরে দল থেকে একজন করে সংসদ সদস্য নিয়ে ৯ সদস্যের এনসিসি গঠনের সুপারিশ করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। সুপারিশ অনুযায়ী – এনসিসি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন, অ্যাটর্নি জেনারেল, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, স্থানীয় সরকার কমিশন ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান সমস্ত নষ্ট হয়এবং তিন বাহিনীর প্রধান পদে নিয়োগ করা হবে। নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাও নিয়োগ হবে এনসিসির মাধ্যমে।

সাধারণ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, সংবিধান সংশোধনে সংসদের উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন ও গণভোট এবং জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনে শক্ত আপত্তি আছে বিএনপির। তারা এ বিষয়ে কোনো আপসও করবে না। বিএনপি মনে করছে, ভোটের অনুপাতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন এবং সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন বাধ্যতামূলক করা হলে নির্বাচিত সংসদের ক্ষমতা কমে যাবে। আবার সংবিধানের যে কোনো সংশোধনের জন্য গণভোট বাধ্যতামূলক হলে সংসদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হবে।

২০২৩ সালের জুলাইয়ে ঘোষিত বিএনপির ৩১ দফায় উচ্চকক্ষের প্রস্তাব রয়েছে। দলটির সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি চায় বিদ্যমান পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে যেভাবে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়, উচ্চকক্ষের আসনও সেভাবে বণ্টিত হবে।বিএনপির আশঙ্কা, এনসিসি গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী তথা সরকারের ক্ষমতা কমে যাবে। আবার সংসদ ভেঙে দেওয়া অবস্থায় উচ্চ ক্ষমতার এই এনসিসির জবাবদিহির কোনো কাঠামো থাকবে না। আবার নির্বাচনকালীন অনির্বাচিত ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত এনসিসি চাইলে ক্ষমতা কুক্ষিগত করারও সুযোগ থাকবে। অবশ্য ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার সমকালকে বলেন, সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় এনসিসি কীভাবে কাজ করবে, তা সুপারিশে বিস্তারিত বলা আছে। ক্ষমতা কুক্ষিগত হবে – এ আশঙ্কা অমূলক।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন – অতীতে কী হয়েছে, তা মাথায় রেখে এত নিয়মকানুন লিখে গণতন্ত্র হয় না। এভাবে স্বৈরাচার রোধ করা যাবে না। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করে যথাযথ চর্চার মাধ্যমে এগোতে হবে। নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকতে হবে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের নেতাদের উদ্যোগে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি এই দুই সুপারিশকে মৌলিক সংস্কার মনে করছে এবং তা সমর্থন করছে। জামায়াতে ইসলামীও আনুপাতিক পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন, সংবিধান সংশোধনে উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনের সুপারিশে একমত। দলটি এনসিসি গঠনেও রাজি। তবে তারা প্রস্তাব করেছে, সংসদ ভেঙে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনসিসি বিলুপ্ত হবে। অর্থাৎ নির্বাচনকালীন সাংবিধানিক কাউন্সিল থাকবে না।

The Ocean Cleanup – ২০৪০ সালের মধ্যে , প্লাস্টিকহীন মহাসাগর করার প্রকল্প

বিগত কয়েক দশক ধরে সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণ এক ভয়াবহ বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে। কোটি কোটি টন প্লাস্টিক আমাদের মহাসাগরে জমা হয়ে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে, মানুষের খাদ্যচক্রে প্রবেশ করছে এবং সমুদ্রের স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্রকে বিপন্ন করছে। এই সংকট নিরসনে এগিয়ে এসেছে নেদারল্যান্ডস-ভিত্তিক অলাভজনক পরিবেশ সংস্থা The Ocean Cleanup, যারা এক বিশাল লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে—২০২৪ সালের মধ্যে সমুদ্রের ভাসমান প্লাস্টিকের ৯০% দূরীকরণ। The Ocean Cleanup একটি সুপরিকল্পিত দুই ধাপের পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। একদিকে তারা কাজ করছে মহাসাগরে ইতোমধ্যে জমে থাকা বিশাল পরিমাণ প্লাস্টিক অপসারণে, অপরদিকে তারা নদীপথে নতুন প্লাস্টিক বর্জ্য প্রবেশ বন্ধে নিয়োজিত করেছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।

সমুদ্রভিত্তিক অভিযানে তারা চালু করেছে System 03 নামক উন্নততর সমুদ্র পরিশোধন ব্যবস্থা, যা Great Pacific Garbage Patch-এ কার্যকরভাবে কাজ করছে। এটি হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক প্লাস্টিক জমাটের স্থান, যা উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের একটি বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। System 03 এর সাহায্যে এই এলাকা থেকে লক্ষ লক্ষ কেজি প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে The Ocean Cleanup বাস্তবায়ন করেছে Interceptors নামক স্বয়ংক্রিয় নদীভিত্তিক সংগ্রাহক ব্যবস্থা, যেগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ক্যারিবিয়ান এবং অন্যান্য উচ্চ-প্রভাবিত অঞ্চলে কাজ করছে। এই Interceptors গুলো মূলত নদীতে ভেসে আসা বর্জ্য সংগ্রহ করে, যাতে তা সমুদ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের মাত্র ১,০০০টি নদী থেকেই ৮০% সামুদ্রিক প্লাস্টিক আসে এবং এই প্রকল্প সেই নদীগুলোকে টার্গেট করছে।

২০২২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত, The Ocean Cleanup ৮৪,০০০ কেজির বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্র থেকে সংগ্রহ করেছে, যা প্রায় ২,৭০০ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র অঞ্চলকে পরিষ্কার করার সমান। এই অগ্রগতি নিঃসন্দেহে বৈশ্বিক উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি দৃষ্টান্ত । তাদের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনগুলো শুধু কার্যকরই নয় বরং পরিবেশবান্ধব ও টেকসইও। এই প্রকল্পে ব্যবহৃত সামগ্রী পুনর্ব্যবহারযোগ্য এবং প্রাপ্ত প্লাস্টিকের একটি বড় অংশ রিসাইকেল করে আবার উৎপাদন খাতে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

The Ocean Cleanup এর কার্যক্রম সমর্থন পেয়েছে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, আন্তর্জাতিক নীতি এবং কর্পোরেট সংহতির মাধ্যমে। উল্লেখযোগ্য অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে Coca-Cola, Maersk, ও অন্যান্য বড় পরিবহন ও পানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, যারা অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছে। এই সহায়তার ফলে সংস্থাটি আরও বড় পরিসরে, আরও দ্রুতগতিতে কাজ করতে পারছে। এই উদ্যোগ সরাসরি মিলে যায় জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDG) ১৪-এর সাথে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো: “জলজ প্রাণ রক্ষা ও সমুদ্রসম্পদ সংরক্ষণ।” The Ocean Cleanup যে পদ্ধতিতে সমুদ্র ও নদীর উভয় পথেই কাজ করছে, তা এই লক্ষ্যের বাস্তবায়নে একটি বাস্তবমুখী মডেল হয়ে উঠেছে।

তারা আগামি বছরে আরও Interceptor চালু করার পরিকল্পনা করছে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের নদীগুলিতে। সেই সঙ্গে System 03 এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে উন্নততর System 04 ও 05 চালুর প্রস্তুতি চলছে, যা আরও বেশি পরিমাণে বর্জ্য সংগ্রহে সক্ষম হবে। অবশ্যই এমন একটি বৈশ্বিক পরিবেশ-সংকটের বিরুদ্ধে লড়াই সহজ নয়। রয়েছে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, অর্থায়নের প্রয়োজন, রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাড়তি ঝুঁকি। তবে The Ocean Cleanup তার কর্মপদ্ধতি, বিজ্ঞানসম্মত নীতি এবং বাস্তব অর্জনের মাধ্যমে প্রমাণ করছে—ইচ্ছা, প্রযুক্তি এবং অংশীদারিত্ব থাকলে পরিবেশ রক্ষায় অসম্ভব কিছু নেই।

The Ocean Cleanup আমাদেরকে ভবিষ্যতের একটি স্বপ্ন দেখাচ্ছে—একটি প্লাস্টিকমুক্ত সমুদ্র, যেখানে সামুদ্রিক প্রাণীরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে এবং মানুষ সমুদ্রকে তার প্রাকৃতিক রূপে উপভোগ করতে পারবে। প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, মানবিক উদ্যোগ এবং সচেতনতার সমন্বয়ে এই পদক্ষেপ একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে, যা হয়তো একদিন সত্যিই সমুদ্রকে প্লাস্টিকমুক্ত করতে সক্ষম হবে।

Earth’s Black Box – মানবসভ্যতার পতনের আর্কাইভ

প্রচণ্ড রোদে বিবর্ণ হয়ে যাওয়া একটি ইস্পাতের বাক্স পড়ে আছে তাসমানিয়ার একটি নির্জন উপত্যকায়। তার চারপাশে শুধুই পাহাড়, পাথর আর শুষ্ক বাতাস। অনেক বছর আগে হয়তো কেউ এখানে এসেছিল, হয়তো তারাও জানত না কেন এই অদ্ভুত জিনিসটি রাখা হয়েছে এখানে। তবে যারাই এটি খুঁজে পাবে, তাদের সামনে খুলে যেতে পারে এক পতিত সভ্যতার নীরব দলিল। ঠিক যেমন বিমানের দুর্ঘটনার পরে খোঁজা হয় ব্ল্যাক বক্স, যেখান থেকে উদ্ধার করা যায় শেষ মুহূর্তের বার্তাগুলো, তেমনি এই বাক্সটিও ভবিষ্যতের এক ধরনের তদন্তের আশ্রয়স্থল। এর নামই তাই Earth’s Black Box।

আধুনিক পৃথিবী এখন একটি অনিশ্চিত মোড়ের সামনে দাঁড়িয়ে। Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC)-এর সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, যদি আমাদের বর্তমান নীতিমালা বহাল থাকে, তবে এই শতকের মধ্যেই গড় বৈশ্বিক উষ্ণতা ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। এটা এমন এক সীমা, যার পরে পৃথিবীর প্রাকৃতিক সিস্টেমগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। ১৯৭০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত মানবজাতি প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছাড়িয়েছে। সবচেয়ে দায়ী দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অথচ এদের মধ্যে অনেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবের মুখে পড়বে না যতটা পড়বে Global South-এর দরিদ্র দেশগুলো। এই বৈষম্যের ধারণাটি বিশ্বজুড়ে climate justice নামে একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ভূতাত্ত্বিক সময়ের ধারায় আমরা একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছি, যেখানে মানুষের কর্মই পৃথিবীর পরিবেশগত ও জলবায়ুগত পরিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি। পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য আর কেবল প্রাকৃতিক নয়, এটি এখন মানবিক হস্তক্ষেপের ফল। পূর্বের অনেক সভ্যতার পতনের পেছনেও জলবায়ুর ভূমিকা ছিল। মায়া সভ্যতা খরা আর পরিবেশগত অনিয়মে ভেঙে পড়েছিল। রোমান সাম্রাজ্য কৃষি উৎপাদন সংকট, অতিমারি ও রাজনৈতিক দুর্নীতির ফলে ভেঙে গিয়েছিল। কিন্তু আধুনিক সভ্যতা যখন ভাঙবে, তখন তার পতনের দলিল হয়তো থাকবে এই ইস্পাতের বাক্সেই।

ব্ল্যাক বক্সের ভেতরের রহস্য –

তাসমানিয়ার পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত এই ১০x৪x৩ মিটার আকারের ইস্পাতের কাঠামোটি তৈরি হচ্ছে ৭.৫ সেন্টিমিটার পুরু স্টিল দিয়ে। এটি বসানো হবে শক্ত গ্রানাইট পাথরের উপর, যাতে হাজার হাজার বছর ধরে টিকে থাকতে পারে। এর উপর সোলার প্যানেল থাকবে, যা সূর্যের আলো থেকে শক্তি সঞ্চয় করবে এবং অভ্যন্তরের স্টোরেজ ডিভাইসগুলো চালু রাখবে।

এর ভেতরে থাকবে হাজার হাজার টেরাবাইট ডেটা—বৈজ্ঞানিক রিপোর্ট, মিডিয়া আর্কাইভ, রাজনৈতিক বিবৃতি, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ার আলগোরিদমিক ট্র্যাক। ডেটা এনক্রিপ্ট করা হবে বহুস্তরীয় Encoding System দিয়ে—সম্ভবত ভাষাতীত চিহ্ন, চিত্র, এমনকি নিজস্ব একটি পাঠক ডিভাইস যা সূর্যের আলো পেলে নিজে থেকে চালু হয়ে যাবে। ঠিক যেন একটা Rosetta Stone, আবার কিছুটা Voyager Golden Record-এর মতো—যা পৃথিবীর তথ্য বহন করে যাচ্ছে আমাদের সৌরজগতের বাইরেও। কিন্তু যদি কেউ এই বাক্সের তথ্য বিকৃতভাবে ব্যবহার করে? যদি একে ব্যবহার করা হয় অতিক্রান্ত এক সভ্যতার দুর্বলতা খুঁজে বের করে নতুন দমননীতির জন্য? অথবা এমন যদি হয়, বাক্সটি খুঁজে পাওয়া সত্ত্বেও কেউ বুঝতেই পারলো না কীভাবে এর তথ্য উদ্ধার করতে হয়?

এই সম্ভাবনাগুলোর জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্মাতারা। তারা বলছেন, কেউ যদি ৩ ইঞ্চি পুরু ইস্পাত ভেঙে ভেতরে ঢুকতে পারে, তাহলে তারা সম্ভবত মৌলিক প্রতীক বুঝতেও পারবে। তবু নিশ্চিত না হয়ে তারা একাধিক ভাষা ও ভিজ্যুয়াল সিস্টেমে নির্দেশাবলী অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবছে। Earth’s Black Box একটি একক প্রকল্প নয়। নরওয়ের Svalbard-এর Arctic World Archive নামক বরফ-গুহায় ইতোমধ্যে পৃথিবীর ইতিহাস, সাহিত্য ও কোড সংরক্ষিত হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ীভাবে। Long Now Foundation তৈরি করছে এমন একটি ঘড়ি, যা চলবে পরবর্তী ১০,০০০ বছর ধরে—যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বুঝতে পারে ‘সময়’ কেবল বর্তমানের জন্য নয়।

আমরা কার জন্য লিখছি?

এই প্রকল্পটি আপাতদৃষ্টিতে নিছক এক শিল্পকর্ম বা গ্যাজেট মনে হতে পারে। কিন্তু এর গভীরে আছে এক করুণ সতর্কতা, এক মানসিক চাপ। ভবিষ্যতের কেউ যখন এই বাক্স খুলবে, তখন তারা কেবল তথ্য পাবে না, তারা পাবে আমাদের আত্মপক্ষসমর্থন, আমাদের ব্যর্থতা, আমাদের চুপচাপ লজ্জা এবং হয়তো পুনরুজ্জীবনের এক সম্ভাবনা। এটি নিছক রেকর্ড নয়, এটি এক সতর্ক দলিল, কবরস্থানের নীরব পাথরে যেমন লেখা থাকে নাম, জন্ম, মৃত্যু, তেমনি এই ব্ল্যাক বক্স হয়তো লিখে যাবে আমাদের ইতিহাসের সেই অধ্যায়, যেখানে মানুষ জানত কী করলে পৃথিবীকে বাঁচানো যেত, কিন্তু বাঁচালো না।

গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জলবায়ু, শরণার্থী ব্যুরো বাদ ; পররাষ্ট্র দপ্তরে ব্যাপক পরিবর্তন আনছেন : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব করা হয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের খসড়া এক নির্বাহী আদেশে। এতে আফ্রিকায় দেশটির প্রায় সব কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া এবং এই মহাদেশে থাকা দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। খসড়া নির্বাহী আদেশে জলবায়ু পরিবর্তন ও শরণার্থী নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে কাজ করা দপ্তরগুলোর পাশাপাশি গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা দপ্তরগুলোও বন্ধ করে দিতে বলা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে এই নির্বাহী আদেশে সই করতে পারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ১৬ পৃষ্ঠার খসড়া আদেশটির একটি অনুলিপি নিউইয়র্ক টাইমসের হাতে এসেছে।এই অনুলিপি অনুযায়ী, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুশৃঙ্খল পুনর্গঠন নিশ্চিত করা এবং অপচয়, জালিয়াতি ও অপব্যবহার কমিয়ে এর কাজের প্রক্রিয়া সহজতর ও গতিশীল করা নির্বাহী আদেশটির লক্ষ্য।’ আগামী ১ অক্টোবর নাগাদ পররাষ্ট্র দপ্তর এই পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।প্রেসিডেন্ট সই করার আগে নির্বাহী আদেশের বিষয়বস্তুতে পরিবর্তনও আসতে পারে। প্রস্তাবিত এই পুনর্গঠন বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের বড় একটি অংশে নীতি গ্রহণ ও প্রণয়নে যুক্ত আঞ্চলিক ব্যুরোগুলো আর থাকবে না। এর পরিবর্তে এখন থেকে চারটি উপবিভাগের অধীনে এই ব্যুরোগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

উপবিভাগগুলোর মধ্যে ‘ইউরেশিয়া’ ইউরোপ, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়া নিয়ে গঠিত। ‘মিড-ইস্ট’ উপবিভাগের অধীনে পড়েছে আরব দেশগুলো, ইরান, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। ‘লাতিন আমেরিকা’ উপবিভাগে পড়েছে মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল। ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ উপবিভাগ পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপ সম্পর্কিত বিষয়গুলোর দেখভাল করবে। সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটা হলো আফ্রিকা মহাদেশসম্পর্কিত ব্যুরো বাদ দেওয়া। এর পরিবর্তে অনেক ছোট পরিসরে গঠিত বিশেষ দূতের দপ্তর আফ্রিকা সম্পর্কিত বিষয়গুলো দেখবে। এই দপ্তর হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের অধীনে কাজ করবে। ‘সমন্বিত সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের’ মতো হাতে গোনা কিছু বিষয়ের ওপর এই দপ্তর জোর দেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা–ইউএসএআইডির অবশিষ্ট অংশের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে মানবিক সহায়তাবিষয়ক ব্যুরো। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তার হাতে এই সংস্থা (ইউএসএআইডি) রীতিমতো বিলুপ্ত হয়ে গেছে।