Home Blog Page 130

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বার্থবিরোধী , বাণিজ্য চুক্তি না করার হুঁশিয়ারি চীনের

বিভিন্ন দেশকে সতর্ক করে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে – দেশগুলো যেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন কোনো বাণিজ্য চুক্তি না করে, যাতে চীনের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হতে পারে। সোমবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এমন হুঁশিয়ারি দেওয়া হলো। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ‘চীন দৃঢ়ভাবে এমন যেকোনো চুক্তির বিরোধিতা করবে যা চীনের স্বার্থের ক্ষতি করে এবং প্রয়োজনে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ এই বিবৃতি এমন একটি সময়ে এসেছে যখন ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন অন্যান্য দেশগুলোকে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করার জন্য চাপ দিচ্ছে, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুল্ক ছাড় পায়।

চীন যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেছে, তারা তথাকথিত ‘সমতা’র নামে সব বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর শুল্ক আরোপ করছে এবং সবাইকে ‘পারস্পরিক শুল্ক’ আলোচনায় বাধ্য করছে। ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ৫০টি দেশের সঙ্গে শুল্ক ছাড় সংক্রান্ত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। জাপান ও ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা করছে, যেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্য ও পণ্য আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্প্রতি তিনটি দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ সফর করেছেন, যেখানে তিনি আঞ্চলিক সম্পর্ক জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং একতরফা বাণিজ্যিক দমননীতির বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। শি জিনপিং বলেছেন, ‘বাণিজ্যযুদ্ধ ও শুল্কযুদ্ধে কোনো বিজয়ী নেই।’

দেশে ২০২৩ সালে কর ফাঁকি , ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা – সিপিডি

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় দেখা গেছে, কর ফাঁকির কারণে ২০২৩ সালে বাংলাদেশ আনুমানিক ২ লাখ ২৬ হাজার ২৩৬ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে। সিপিডির গবেষণা বলছে, এর মধ্যে প্রায় ৫০% হারিয়েছে করপোরেট কর ফাঁকির কারণে। ২০২৩ সালে করপোরেট কর ফাঁকির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। সোমবার সিপিডির কার্যালয়ে বাংলাদেশের উত্তরণে করপোরেট আয়কর সংস্কার বিষয়ক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১১ সাল থেকে কর ফাঁকির পরিমাণ বেড়েছে। ২০১২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৬ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা এবং ২০১৫ সালে তা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকায় পৌঁছায়।

সিপিডির গবেষণায় বাংলাদেশের ক্রমাগত কর ফাঁকির পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ উঠে এসেছে। এর মধ্যে আছে উচ্চ কর হার, প্রশাসনিক দুর্বলতা, জটিল আইনি কাঠামো এবং কর ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক দুর্নীতি। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রেক্ষাপটে কর ফাঁকির ক্রমবর্ধমান প্রবণতা থেকে বের হতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর জোর দিতে হবে বলে মনে করে সিপিডি। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে বলে মনে করা হয়। তাই এই সমস্যা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা না হলে কর ফাঁকির সুযোগ আরও প্রশস্ত হবে।

সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন , প্রস্তাবে বিরোধিতা বিএনপির

0

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে ২য় দফা বৈঠকেও সংবিধানের বেশির ভাগ মৌলিক পরিবর্তনের প্রস্তাবে বিএনপি বিরোধিতা করেছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারা পরবর্তী সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া যৌক্তিক বলে মত দিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, যদি একটি নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা তৈরি হয় এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হয়, তাহলে বেশির ভাগ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন—সংবিধান সংস্কার কমিশনের এ সুপারিশের সঙ্গে একমত হয়নি বিএনপি। তারা চায়, একই ব্যক্তি টানা দুবারের পর বিরতি দিয়ে আবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। বিএনপি-র বক্তব্য – জনগণ যদি কোনো ব্যক্তিকে দুই মেয়াদের পর বিরতি দিয়ে আবার প্রধানমন্ত্রী করতে চায়, সে সুযোগ সংকুচিত করা উচিত হবে না।

গতকাল বৈঠকে বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে একটি নতুন প্রস্তাব দেয়া হয়। সেটি হলো এক ব্যক্তি মাঝখানে বিরতি দিয়ে সর্বোচ্চ ৩বার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। এ নিয়ে আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত জানায়নি বিএনপি। তারা দলীয় ফোরামে আলোচনা করে পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে ।একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও দলীয় প্রধান হতে পারবেন না—সংবিধান সংস্কার কমিশনের এমন সুপারিশের সঙ্গেও একমত হয়নি বিএনপি। বৈঠকে বিএনপি বলেছে, একটি দলের প্রধান কে হবেন, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, কে সংসদ নেতা হবেন—এসব ঠিক করার বিষয়টি একান্ত দলের নিজস্ব বিষয়। এসব সংবিধানে ঠিক করে দেওয়া যাবে না।

ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে সংবিধান সংস্কার কমিশন যেসব প্রস্তাব দিয়েছে, তার অনেকগুলোর সঙ্গে ভিন্নমত জানিয়ে অনড় অবস্থানে ছিল বিএনপি।তবে তারা সাংবিধানিক পদে নিয়োগে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়াতে পরবর্তী সংসদে একটি আইন করা হবে—এমন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে সে আইনে কী কী থাকবে, তার বিস্তারিত জানানো হয়নি। সংবিধান সংস্কার কমিশনের সংস্কার প্রস্তাব তৈরির অন্যতম লক্ষ্য ছিল, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে এবং রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগের (আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ) মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা। এ জন্য তারা বেশ কিছু সুপারিশ করেছিল। এর একটি হলো নির্বাহী বিভাগ, আইন সভা ও বিচার বিভাগ—রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ‘জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল’ (এনসিসি) গঠন করা, যার কাজ হবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পদে নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পাঠানো।

এনসিসি গঠনের এ প্রস্তাবের জোরালো বিরোধিতা করে বিএনপির প্রতিনিধিদল। তারা যুক্তি দেয়, এ প্রস্তাব একেবারে নতুন ধারণা। এখানে অনির্বাচিত ব্যক্তিরা থাকবেন। কিন্তু সব দায় নিতে হবে নির্বাচিত সরকারকে। এই কাউন্সিল গঠন করা হলে সরকারের হাত-পা বেঁধে দেওয়া হবে। সরকার হবে দুর্বল। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা অনেক বেশি সংকুচিত হবে। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংবিধান সংস্কার কমিশন রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে নতুন পদ্ধতি প্রস্তাব করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন নির্বাচকমণ্ডলীর (ইলেকটোরাল কলেজ) সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে। আইন সভার উভয় কক্ষের সদস্যদের প্রত্যেকের একটি করে ভোট, জেলা সমন্বয় কাউন্সিল সামষ্টিকভাবে একটি করে ভোট (৬৪টি জেলা সমন্বয় কাউন্সিল থাকলে ৬৪টি ভোট), সিটি করপোরেশন সমন্বয় কাউন্সিল সামষ্টিকভাবে একটি করে ভোট দেবে।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের এ প্রস্তাবের সঙ্গেও একমত হয়নি বিএনপি। তারা চায় — আইনসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হলে উভয় কক্ষের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

লুডিজম রিটার্নস – AI যুগে নতুন শ্রম আন্দোলনের ছায়া

১৮০০-এর দশকের গোড়ার দিকে, ইংল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ও উত্তরাঞ্চলে এক বিস্ফোরক শ্রমিক বিদ্রোহ দেখা দেয়। নটিংহ্যামশায়ার থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে, জুতসই মজুরি থেকে বঞ্চিত হওয়া স্টকিং বুনন শ্রমিকরা তাঁদের মালিকদের কারখানায় হানা দেন এবং ধ্বংস করে দেন নতুন ধরনের বুনন যন্ত্র, যেগুলো তাঁরা তাঁদের জীবিকা ধ্বংসের জন্য দায়ী মনে করতেন। এভাবে শুরু হয় লুডাইট আন্দোলনের ইতিহাস, যা আসলে শুধু প্রযুক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নয় বরং শিল্প পুঁজিবাদের এক অন্ধকার ছায়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

যুগের পর যুগ ধরে “শিয়ারার” বা “ক্রপার” নামের এক শ্রেণির কারিগর এই খাতে পেশাগত শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছিল। তাদের ছিল নিজস্ব দক্ষতা, সম্মান এবং সামাজিক অবস্থান। কিন্তু নতুন যন্ত্রের আগমনে এই ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ে। বেকারত্ব, কম মজুরি এবং মানবিক মর্যাদার অবনমন—এই তিনে মিলে শুরু হয় শ্রমিকদের ক্ষোভ। ফলে একদা যা ছিল শ্রেণিভিত্তিক কারিগরি পবিত্রতা, তা পরিণত হয় যন্ত্রনির্ভর উৎপাদনের করুণ ট্র্যাজেডিতে।

তাহলে লুডাইটরা কি প্রযুক্তিবিরোধী ছিলেন?

অনেকেই মনে করেন লুডাইটরা ছিলেন প্রযুক্তির বিরোধী, যেকোনো নতুন উদ্ভাবনের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। লুডাইটরা আসলে এক প্রতিরক্ষা সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছিলেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল কেবল যন্ত্র নয় বরং সেই অর্থনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধাচরণ, যা শ্রমিকের শ্রমকে পণ্য করে তোলে, অথচ শ্রমিকেরই জীবিকা বিপন্ন করে। লুডাইট আন্দোলন তাই এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে, কীভাবে এমন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ন্যায়সঙ্গত থাকে, যেখানে শ্রমিকরা মূল্য সৃষ্টি করে, অথচ নিজের জীবনের নিরাপত্তা হারায়?

আজ যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আমাদের জীবনে দ্রুত প্রবেশ করছে, তখন আবারো “লুডাইট” শব্দটি আলোচনায় উঠে এসেছে। বিভিন্ন গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, AI ভবিষ্যতে বিপুল সংখ্যক চাকরি কেড়ে নিতে পারে। এমনকি সেইসব সাদা-কলারের চাকরিও, যেগুলো একসময় যন্ত্র থেকে নিরাপদ বলে মনে করা হতো। যেমনটা শিল্পযুগে হয়েছিল, AI-যুগেও প্রশ্ন জাগে, প্রযুক্তি কি মানুষকে সহযোগিতা করবে না তারই বিকল্প হয়ে উঠবে ?আজকের মূল চ্যালেঞ্জ হল কীভাবে আমরা AI-কে এমনভাবে গড়ে তুলবো, যাতে তা মানব শ্রমকে সহায়তা করে, তার বিকল্প না হয়। কারণ একবার যদি AI সম্পূর্ণরূপে মানব দক্ষতা স্বয়ংক্রিয় করে ফেলে, তাহলে প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলিই সমস্ত ক্ষমতা ও সম্পদের অধিকারী হয়ে উঠবে, আর শ্রমিকরা রয়ে যাবে অসহায় এবং নিয়ন্ত্রণহীন।

কে সিদ্ধান্ত নেবে কোন পথে এগোবে প্রযুক্তি?

জান কাসিডির মতে, আজকের AI প্রসঙ্গে আমাদের সবচেয়ে জরুরি কাজ হল ভবিষ্যতের পথকে সক্রিয়ভাবে প্রভাবিত করা। এর দিকনির্দেশ নির্ধারণ করে ফেলা, যতক্ষণ না সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ হাতে আছে। AI-এর সম্ভাব্য দিক নির্দেশনা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ, তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল এটিকে এমন এক পথে চালিত করা, যেখানে প্রযুক্তি মানবজাতির সেবা করে, মানবশ্রমকে অপ্রয়োজনীয় করে তোলে না।

লুডাইটদের উত্তরাধিকার: প্রতিরোধ নয়, বিকল্প কাঠামোর খোঁজ

লুডাইটরা কেবল প্রতিরোধ করেই থেমে যাননি। তাঁরা মূলত এক ধরনের ন্যায্য শ্রমনীতির দাবি জানিয়েছিলেন। আজকের AI যুগেও সেই প্রশ্ন নতুন আঙ্গিকে ফিরে এসেছে—কীভাবে আমরা এমন এক প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গড়ে তুলবো, যেখানে শ্রমিকের অধিকার, আত্মমর্যাদা ও ভবিষ্যত নিশ্চয়তা রক্ষা পায়?

তাই AI নীতিনির্ধারকদের জন্য লুডাইট আন্দোলনের ইতিহাস শুধুই এক প্রাচীন ঘটনাপঞ্জী নয়, এক সতর্ক সংকেত, যেখানে প্রযুক্তি ও মানবতার সম্পর্ক পুনঃসংজ্ঞায়নের সময় এসেছে। আমরা যদি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিই, তাহলে হয়তো ভবিষ্যতের AI এমন এক যন্ত্রে পরিণত হবে, যা মানুষের বিরুদ্ধে নয় পাশে থাকবে।

ছত্রাকের কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আশ্চর্য ক্ষমতা

সাধারণভাবে ছত্রাককে আমরা গাছ বা প্রাণীর মধ্যবর্তী একধরনের প্রাণরহিত জীব বলেই জানি—নীরব, নিষ্ক্রিয়, শুধুমাত্র খাদ্য পচিয়ে বেঁচে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। জাপানের তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এমন এক ধরনের ছত্রাক Phanerochaete velutina নিয়ে পরীক্ষা করেছেন, যা আশ্চর্যজনকভাবে তার আশেপাশের পরিবেশ বুঝে সে অনুযায়ী কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম। এই গবেষণায় দেখা গেছে, এই ছত্রাক কেবল এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে পড়ে না বরং পরিবেশগত বিন্যাস বুঝে কোন দিকে বিস্তার করবে, কোথায় সংযোগ রাখবে এবং কোথা থেকে অতিরিক্ত অংশ গুটিয়ে নেবে—এসব সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই আচরণ থেকে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, ছত্রাক হয়তো একধরনের আদিম বুদ্ধিমত্তা বা প্রাথমিক সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষমতা ধারণ করে।

গবেষকরা ছত্রাকটিকে বিভিন্ন আকারের কাঠের ব্লকের উপর রাখেন, যেমন গোলাকার বিন্যাস ও ক্রুশ (ক্রস) আকৃতির বিন্যাস। ছত্রাকের মাইসেলিয়াম পর্যবেক্ষণ করে তারা দেখেন যে, এই মাইসেলিয়াম এলোমেলোভাবে ছড়ায় না। এটি কিছু অঞ্চল বাদ দিয়ে, বিশেষ কিছু অঞ্চলে শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তোলে এবং কখনো কখনো আগেই ছড়িয়ে পড়া অংশ গুটিয়ে নিয়ে নতুন করে কৌশল সাজায়। গোলাকার বিন্যাসে দেখা গেছে ছত্রাকটির শিকড়গুলো মাঝখানে না গিয়ে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। অপরদিকে ক্রুশাকৃতি বিন্যাসে, চার প্রান্তের ব্লকগুলোতে বেশি মনোযোগ দেয়া হয়, যেগুলো ছিলো অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী এবং মুক্ত স্থান। এই আচরণ বোঝায় যে ছত্রাকটি তার আশেপাশের কাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে এবং একধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

ছত্রাকের সিদ্ধান্তগ্রহণ কি বোঝায়?

আমরা সচরাচর সিদ্ধান্তগ্রহণকে মস্তিষ্কসম্পন্ন জীবের বৈশিষ্ট্য বলে ধরে নিই। কিন্তু Phanerochaete velutina নামক ছত্রাকটি কোন মস্তিষ্ক ছাড়াই একটি জটিল, লক্ষ্যনির্ভর কৌশল গ্রহণ করছে। এটি নিজের শক্তি অপচয় না করে, গন্তব্য অনুযায়ী নিজেকে সাজিয়ে নিচ্ছে—যা একধরনের পরিবেশবিষয়ক প্রক্রিয়াকরণ (environmental processing) এর ইঙ্গিত দেয়। এই প্রক্রিয়া বোঝায় যে ছত্রাক হয়তো তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, স্মরণে রাখতে পারে এবং ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তা কাজে লাগাতে পারে। এর মানে দাঁড়ায়, ছত্রাকের মধ্যে একধরনের “মেমরি” বা শেখার প্রবণতা রয়েছে, যদিও তা প্রাণীদেহের মতো নিউরন-ভিত্তিক নয়।

বর্তমান সময়ে বৈজ্ঞানিক মহলে “প্রিমিটিভ ইন্টেলিজেন্স” বা আদিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। শিকার করা, ভুল থেকে শেখা, পরিবেশ অনুযায়ী অভিযোজন এবং তথ্য ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া—এসব অনেক দিন ধরেই প্রাণীদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য বলে মনে করা হতো। কিন্তু ছত্রাক, উদ্ভিদ এমনকি কিছু অণুজীব (microbes)-এর ক্ষেত্রেও এসব বৈশিষ্ট্য ক্রমে দেখা যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ছত্রাকের মাইসেলিয়াম জালিকা একধরনের বিকেন্দ্রীকৃত তথ্যপ্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে। এই ব্যবস্থা প্রাণীদেহের নিউরাল নেটওয়ার্কের মতই বিভিন্ন অংশে তথ্য পাঠায়, পর্যালোচনা করে এবং সিদ্ধান্ত নেয়।

এই গবেষণার ফলাফল শুধু ছত্রাকের জীবনচক্র বুঝতেই সাহায্য করে না, বরং আমাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও বায়ো-কম্পিউটিং-এর ধারণাও বদলে দিতে পারে। ছত্রাক যেভাবে পরিবেশ বুঝে, যুক্তিযুক্তভাবে শক্তি খরচ করে এবং লক্ষ্য নির্ধারণ করে, তা মডেল হিসেবে ব্যবহার করে ভবিষ্যতের বিকেন্দ্রীকৃত কম্পিউটিং সিস্টেম তৈরি করা যেতে পারে। তাছাড়া এই ধরণের ছত্রাক পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তারা মৃত জৈব পদার্থ ভেঙে পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদানে রূপান্তর করে, যা বনাঞ্চলের পুষ্টিচক্রে গুরুত্বপূর্ণ। এখন যদি তাদের চিন্তাভাবনার আদিম কাঠামোও আমরা ধরতে পারি, তাহলে তাদের ভূমিকা আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব হবে।

আমরা চীনের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হতে চাই : ড. ইউনূস

0

আজ সোমবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় চীনের ইউনান প্রদেশের গভর্নর ওয়াং ইউবোর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, আপনি আবারও আমাদের দেখতে আসবেন । আমরা ভালো প্রতিবেশী হতে চাই, তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, খুব ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হতে চাই।” গভর্নরের বাংলাদেশ সফরের মধ্যে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস তার সাম্প্রতিক চীন সফরের কথা স্মরণ করে, এটি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি চীনের উষ্ণ আতিথেয়তার প্রশংসা করেন এবং প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

গভর্নর ওয়াং ইউবো বলেন, ইউনান দক্ষিণ এশিয়ার জন্য চীনের উন্মুক্ত কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত। তিনি আরও জানান, ইউনানে একটি চীনা ব্যাংক ইতোমধ্যে অধ্যাপক ইউনূস প্রবর্তিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তিনি পেশাগত প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা, সামুদ্রিক খাবার, আম ও কৃষিপণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন। প্রধান উপদেষ্টা গভর্নরের প্রস্তাবগুলোতে সমর্থন জানান এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য, প্রশিক্ষণসহ সব খাতে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষত স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং কুনমিংয়ের চারটি হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের জন্য নির্ধারণ করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এছাড়া, উভয় পক্ষ শিক্ষাবিনিময় বাড়ানোর গুরুত্ব নিয়ে একমত হন। বর্তমানে প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে পড়াশোনা করছে এবং এই সংখ্যা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকীতে, প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের চীনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন এবং নতুন সমৃদ্ধির সুযোগ উন্মোচনের জন্য দুই দেশের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার কথা জানান।

কেন কেউ অটিজমে আক্রান্ত হন ?

0

অটিজম আমাদের সময়ের সবচেয়ে আলোচিত নিউরোবৈকল্য, যার প্রকাশ ঘটে শৈশবেই—কখনও ভাষাগত সমস্যায়, কখনও বা আচরণগত বৈচিত্র্যে। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে কেন কেউ অটিজমে আক্রান্ত হন আর কেউ নয়? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা জেনেটিক্সের জটিল বনে ঢুকে পড়েছেন, আর সেখানে যা পাওয়া গেছে, তা আরও রহস্যময়। একটা সময় অটিজমকে দেখা হতো নির্দিষ্ট কিছু মস্তিষ্ক-সংক্রান্ত সমস্যার ফল হিসেবে। কিন্তু আধুনিক জিনগত গবেষণা দেখায়, অটিজমের কোনও একক জিন নেই যেটি দায়ী। বরং এটি একাধিক জিনের জটিল বিন্যাস ও পারস্পরিক সম্পর্কের ফল। কেউ কেউ অটিজমে আক্রান্ত হন কারণ তাদের ডিএনএ-র এক বা একাধিক অংশ ভিন্নভাবে কাজ করে। আবার কারও ক্ষেত্রে এই ডিএনএ পার্থক্য জন্মের আগেই তৈরি হয়।

এই বহুরৈখিকতা গবেষণাকে কঠিন করে তোলে। একেকটি অটিজম-আক্রান্ত মানুষের জিনগত কাঠামো ভিন্ন—এমনকি একই পরিবারের দুই ভাইবোনের মধ্যেও। অটিজম পুরোপুরি জিনগত বিষয় নয়। এখানে পরিবেশের ভূমিকাও গভীর। গর্ভাবস্থায় মায়ের স্বাস্থ্যের অবস্থা, ইনফ্লেমেশন, এমনকি জন্মের সময় প্লাসেন্টার কাঠামোতেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অর্থাৎ জিনের ভিত্তি যতই দৃঢ় হোক, তা কখন কার্যকর হবে, সেটা নির্ধারণ করতে পারে পরিবেশগত সংকেত। ধরা যাক কারও শরীরে এমন একটি জিন আছে যেটি নিউরোনের মধ্যে সংকেত পরিবহণে সামান্য সমস্যা তৈরি করে। স্বাভাবিক অবস্থায় এটি ক্ষতিকর নয়। কিন্তু গর্ভাবস্থায় কোনো সংক্রমণ হলে বা প্লাসেন্টায় অক্সিজেন সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে, সেই জিনের প্রভাব তীব্র হয়ে উঠতে পারে এবং তখনই ASD-এর লক্ষণ দেখা দেয়।

অটিজম কি পুরুষদেরই রোগ?

একটি বিস্ময়কর জিনিস হলো—পুরুষদের মধ্যে অটিজমের হার নারীদের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি। কেন? গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের জিনগতভাবে একটি “প্রোটেকটিভ বাফার” থাকে। অর্থাৎ অটিজম বিকাশের জন্য তাদের শরীরে আরও বেশি সংখ্যক ‘রিস্ক ফ্যাক্টর’ লাগবে। এজন্য নারীদের ক্ষেত্রে অটিজম হয়তো কম ধরা পড়ে, বা অন্যভাবে প্রকাশ পায়। এর মানে অটিজমের জিনগুলো নারী ও পুরুষ দেহে আলাদা করে কাজ করে। একই রিস্ক ফ্যাক্টর হয়তো একজন ছেলের জন্য যথেষ্ট, কিন্তু একটি মেয়ের ক্ষেত্রে তা প্রকাশ ঘটায় না।

একজন বাবা-মা যখন জানতে চান —”আমার সন্তানের অটিজম কেন হলো?”, তখন বিজ্ঞানীদের উত্তর দিতে কষ্ট হয়। কারণ তারা হয়তো শত শত জিনের প্রভাব দেখছেন, কিন্তু এর কোনটি ঠিক দায়ী, তা বলা কঠিন। প্রতিটি ASD ব্যক্তি যেন এক-একটি স্বতন্ত্র জিনগত ভাষার ধারক। একাধিক গবেষণায় একে একে শতাধিক রিস্ক জিন শনাক্ত করা হলেও, অনেকক্ষেত্রেই সেগুলোর প্রভাব ব্যক্তি-ভেদে বিপরীতমুখী হতে পারে। কিছু জিন নিউরনের মধ্যে সংযোগ বাড়িয়ে দেয়, কিছু কমিয়ে দেয়, আর কিছু হয়তো একটি নির্দিষ্ট সময়েই সক্রিয় হয়। এই বৈচিত্র্য চিকিৎসাকেও ব্যক্তিনির্ভর করে তুলেছে। এখন প্রশ্ন হলো—আমরা কি ভবিষ্যতে এমন এক পৃথিবী পাব যেখানে একটি শিশুর ডিএনএ বিশ্লেষণ করে আমরা বুঝতে পারব সে ASD-এর ঝুঁকিতে আছে কিনা? এই ধারণাটি আজ বৈজ্ঞানিক কল্পনা হলেও গবেষণা সেই দিকেই এগোচ্ছে।

একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠে আসে — আমরা কি ‘অটিজম’কে রোগ হিসেবেই দেখব, নাকি এক ধরণের নিউরোভিন্নতা হিসেবে স্বীকার করব? অনেকে মনে করেন, অটিজম কোনো রোগ নয়, এটি মস্তিষ্কের বিকাশের একটি ভিন্ন রূপ, যার উপযোগিতা সমাজকাঠামোর নিরিখে বিচার করতে হবে। আজ যখন অটিজম নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে, তখন এটিকে নতুন করে বোঝার প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। এটা কেবল মেডিক্যাল সমস্যা নয়—এটি আত্মপরিচয়, গ্রহণযোগ্যতা এবং নৈতিকতার প্রশ্নও। অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তি শুধু ‘চিকিৎসা’ চান না, তারা চান বোঝা, সহমর্মিতা, এবং নিজের শর্তে বেঁচে থাকার জায়গা।

অটিজমের জিনগত ভিত্তি এখনো এক অপঠিত গ্রন্থ। আমরা যতই পড়ছি, ততই দেখছি এটি সোজাসাপ্টা কোনো গল্প নয়। এটি একটি মস্তিষ্কের অন্তর্গত সিম্ফনি, যার প্রতিটি স্বর ব্যক্তি অনুযায়ী বদলায়। কিন্তু এই জটিলতা আমাদের আশা কেড়ে নেয় না বরং আমাদের বোঝায়, মানব মস্তিষ্ক কতটা রহস্যময়, এবং কতটা বহুবর্ণ।

ইনফ্লুয়েন্সারদের ইন্ধন , পর্নোগ্রাফির প্রভাব ; ব্রিটিশ স্কুল ছাত্রদের মধ্যে নারীবিদ্বেষী আচরণ বাড়ছে

বিভিন্ন স্কুলে নারীবিদ্বেষ ও লিঙ্গবৈষম্য বেড়ে যাওয়ার পেছনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সাররা রয়েছেন– এমনই বক্তব্য উঠে এসেছে যুক্তরাজ্যের শিক্ষক ইউনিয়নের নতুন এক জরিপে। যুক্তরাজ্যের ৫ হাজার ৮০০ শিক্ষকের ওপর চালানো দেশটির অন্যতম বড় শিক্ষক ইউনিয়ন ‘এনএএসইউডব্লিউটি’-এর জরিপে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে প্রায় তিনজন মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার স্কুলের ছেলেদের আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ জরিপে ইনফ্লুয়েন্সার ও স্বঘোষিত নারী বিদ্বেষী অ্যান্ড্রু টেইটের নাম উল্লেখ করেছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক।

একজন শিক্ষক বলেছেন, “স্কুলের ছেলেরা আমার সঙ্গে কথা না বলে একজন পুরুষ শিক্ষক সহকারীর সঙ্গে কথা বলছে। কারণ আমি একজন নারী বলে তারা আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইছে না। ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেইটকে অনুসরণ করছে তারা। আর এরা কেবল ১০ বছরের শিশু।” আরেকজন শিক্ষক বলেছেন, “গত বছর মাধ্যমিকের এক ইংরেজি ক্লাসে একদল ছেলেকে নিরুৎসাহিত করার পরও তারা অ্যান্ড্রু টেইটকে নিয়ে রচনা লিখেছিল। তাদের লেখার মধ্যে ছিল, ‘নারীরা একজন পুরুষের সম্পত্তি’ অ্যান্ড্রুর এমন দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেছে তারা।” এনএএসইউডব্লিউটি’র সাধারণ সম্পাদক প্যাট্রিক রোচ বলেছেন, “উগ্র ডানপন্থী ও চরমপন্থীদের বিপজ্জনক প্রভাব থেকে সব শিশু ও তরুণকে রক্ষা করতে স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।”

তবে ছেলে ও তরুণদের সঙ্গে কীভাবে কাজ করতে হয় সে সম্পর্কে পেশাদারদের প্রশিক্ষণ দেয় এমন একটি দল ‘মেন অ্যাট ওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল কনরয় বলেছেন, টেইটের মতো মানুষের প্রভাবের চেয়ে তরুণদের পর্ন দেখার বিষয়টি “অনেক বেশি প্রভাব ফেলে”। “দুঃখজনকভাবে আমাদের ছেলেরা পর্নের মাধ্যমে যৌনতা সম্পর্কে শিখছে, যেটি সাধারণত তাদের কাছে পুরুষ ও নারীদের মধ্যে ক্ষমতার পার্থক্যের প্রতিনিধিত্ব করছে। অ্যান্ড্রু টেইটের মতো মানুষদের কাজ দেখলেই তাদের মধ্যে সেই শব্দটা বেজে ওঠে। এই অর্থে, তারা ভাবে এটা এরইমধ্যেই তাদের শেখা হয়ে গেছে।” কনরয় বলেন, “আট বা নয় বছরের বেশি বয়সী ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রায়ই এমনটা হয়ে থাকে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের কাছে ফোন রয়েছে ও পর্নোগ্রাফিতে প্রবেশ করতে পারে।”

এ মাসের শুরুর দিকে বিবিসি নিউজ পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, মাধ্যমিক পর্যায়ের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি শিক্ষক গত সপ্তাহে তাদের স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নারীবিদ্বেষী আচরণের অভিযোগ করেছেন। জরিপে উত্তরদাতাদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষক বলেছেন, এই ধরনের আচরণ ঠেকাতে নিজেদের অসহায় বলে মনে করেন তারা।

সাধারণ মানুষ পুরোনো রাজনীতি দেখতে চায় না : ড. মির্জা হাসান , ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের জ্যেষ্ঠ গবেষক

0

“… সংস্কারের ক্ষেত্রে বিএনপি চাইছে নির্ধারক ভূমিকা পালন করতে। এর কারণ, সম্ভবত বিএনপি মনে করছে তারাই ক্ষমতায় যাবে। আর প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর লক্ষ্য যেহেতু ক্ষমতাসীন দলকে কঠোর চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের মধ্যে রাখা, তাই সেটা বিএনপি পছন্দ করছে না। আমার ধারণা, তারা আগের শাসনপদ্ধতির গুণগত কোনো পরিবর্তন চাইছে না। অথচ আগের এই কাঠামো পরিবর্তনই এবারের গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট (চেতনা) ছিল।

… বাংলাদেশে যিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন, তিনি অনেক বেশি ক্ষমতার অধিকারী। ফলে তাঁর ক্ষমতা কমানো এবং এই ক্ষমতার মধ্যে চেক অ্যান্ড ব্যালান্স তৈরি করার জন্য বিভিন্ন ধরনের সুপারিশ তাঁরা করেছেন।…সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে ভবিষ্যতে স্বৈরাচারীব্যবস্থা কায়েম করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়বে। কিন্তু শুধু এগুলোর মাধ্যমে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সরকার সংস্কারের বিষয়টি যেমন এজেন্ডায় নেই, একইভাবে নারী, স্বাস্থ্য, শিক্ষার মতো বিষয়গুলোও গণতন্ত্রের অংশ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে না। এগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত অধিকার এবং জবাবদিহির বিষয়গুলোকে গণতান্ত্রিক কাঠামোর অংশ বলে মনে করা হচ্ছে না। কারখানার ভেতরে-বাইরে শ্রমিকদের যেসব অধিকার রয়েছে, আমাদের এলিটরা সেটাকে গণতন্ত্রের অংশ বলে মনে করেন না। কিন্তু এগুলোই হলো প্রকৃত গণতন্ত্র নিশ্চিত করার অপরিহার্য উপাদান।

… নাগরিকদের নিজস্ব সংগঠন তৈরি করতে হবে। যেমন ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কৃষক, নারী, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সংগঠন তৈরি করতে হবে। এরপর তাঁদের প্রতিনিধিদের পাঠাতে হবে সংসদের উচ্চকক্ষে। তাহলেই শুধু ‘নির্বাচনী’ গণতন্ত্রের চেয়ে বেশি কিছু অর্জন করা সম্ভব। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক পরিষদ তৈরি করতে হবে। এগুলোর সাংবিধানিক বৈধতা দিতে হবে। এগুলো আবার জাতীয় পর্যায়ের কমিশনের অধীনে জবাবদিহির আওতায় থাকবে। তাহলে জাতীয় ও স্থানীয়—দুই ক্ষেত্রেই চেক অ্যান্ড ব্যালান্স নিশ্চিত করা যাবে।

… রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে পুলিশের। তাই এবারও তারা স্বাধীন কমিশন চেয়েছে।…সবচেয়ে বেশি দরকার, ‘রেজিম’ পুলিশের পরিবর্তে ‘গণতান্ত্রিক’ পুলিশ তৈরি করা এবং থানা পর্যায়ে পুলিশের সংস্কার করা।…থানা পর্যায়ে নাগরিক কমিটি গঠন করে পুলিশের চেক অ্যান্ড ব্যালান্স করা ছাড়া ‘গণতান্ত্রিক’ পুলিশ প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।

… সাধারণ মানুষ পুরোনো রাজনীতি দেখতে চায় না। তাদের কথা হলো, আমরা চাই না আবার স্বৈরাচার কায়েম হোক কিংবা রাজনীতিবিদেরা ক্ষমতায় গিয়ে জনগণকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করুক। সবাই চায় এবার কিছু ‘একটা’ হওয়া উচিত। সেই কিছু ‘একটা’র প্রতিফলন আমরা সংস্কার কমিশনগুলোর প্রতিবেদনে দেখতে পাচ্ছি। আমরা চাই, সব রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সংস্কার নিয়ে তাদের পরিকল্পনা জনসমক্ষে প্রকাশ করা। সেসব বিবেচনা করেই মানুষ তাদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে।

… উগ্রপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের ঘাটতি আছে, সক্ষমতার অভাব আছে এবং সেগুলো নিয়ে সমালোচনা করাও জরুরি। কিন্তু সরকার এগুলো উসকে দিচ্ছে, বিষয়টা এমন নয়। সরকার নিজেই উগ্রপন্থীদের পক্ষে—এমন প্রচারণার ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। কারণ, ভারতীয় গণমাধ্যমকে আমরা দেখেছি বাংলাদেশের এসব বিষয় নিয়ে নানা রকম ভুল প্রচারণা চালিয়েছে। এ রাজনীতিটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে।”


দিনাজপুরে ভবেশ রায়ের মৃত্যু , ভারত-বাংলাদেশ বিতর্ক

0

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার শহরগ্রাম ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা ভবেশ চন্দ্র রায় গত ১৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে কিছুটা অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ বিরল উপজেলার ৪নং সহ-সভাপতি ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ হঠাৎ অসুস্থতায় তাঁর মৃত্যু বলে জানিয়েছে। পরিবারও মৃত্যুর কারণ নিয়ে নিশ্চিত নয়, তাঁরা কোন মামলা বা অভিযোগ করেননি। কিন্তু ভারত সরকার ‘হিন্দু নেতা অপহরণ ও হত্যা’-র নিন্দা জানিয়ে একে বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতনের নমুনা’ বলে দাবি করেছে। এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। ভারতীয় মিডিয়ায় হিন্দু নিপীড়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করে শোরগোল চলছে।

সমকাল জানিয়েছে — ৫৫ বছর বয়স্ক ভবেশ পেশায় ছিলেন একজন কৃষক। ভবেশের মৃত্যুকে ‘হত্যা’ বলতে নারাজ পরিবার। ভবেশের ছেলে স্বপন বলেন, ‘বাবার মৃত্যু অস্বাভাবিক। তবে অসুস্থ হয়ে, নাকি আঘাতের মাধ্যমে তিনি মারা গেছেন, সেটি এখনও নিশ্চিত না।’ রোববার তাঁর শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান। এর পর মৃত্যুর ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ কিংবা অপমৃত্যু মামলা করার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে পরিবার। পরিবার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে মোটরসাইকেলে চারজন এসে তাঁকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। তবে এ সময় ভবেশকে জোর জবরদস্তি করা হয়নি। নিজের ইচ্ছাতেই তিনি মোটরসাইকেলে উঠে চলে যান। রাত ১০টার দিকে মোবাইল ফোনে পরিবারকে জানানো হয়, ‘পান-বিড়ি খাওয়ার পর ভবেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে ভ্যানে বাড়ির পাশের ফুলবাড়ী হাটে পাঠানো হয়েছে।’ পরে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে ভবেশকে অচেতন অবস্থায় পান।

এ ঘটনায় ভারতীয় গণমাধ্যমে ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘হিন্দু হত্যা’ উল্লেখ করে প্রচারিত সংবাদের বিষয়ে পরিবার কিছু বলতে চায়নি। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুবল চন্দ্র রায় জানান, ভবেশ এই পরিষদের সহসভাপতি। তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। শনিবার রাতে বিরল থানার ওসি আব্দুস সবুর জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। ঘটনার রাতেই নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন করেছে পুলিশ। লাশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এর পর পুলিশ নিজ উদ্যোগে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালে পাঠায়। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

শনিবার (১৯ এপ্রিল) ভবেশ চন্দ্রের মৃত্যু নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে জানান, “বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে প্রতিবেশী রতন, আক্তারুল ইসলাম, রুবেল ইসলাম এবং মুন্না ইসলামের সঙ্গে দুইটি মোটরসাইকেলে নাড়াবাড়ী হাটে গিয়েছিলেন ভবেশ। বয়সের ব্যবধান থাকলেও তারা নিয়মিত আড্ডাবাজিসহ একসঙ্গে চলাচল করতেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা একত্রে চা-সিগারেট ও পান খাওয়ার পর কিছুটা অসুস্থবোধ করেন ভবেশ। পরে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক লিটন ও আরেক পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রহমানের কাছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয় তাকে। তার ব্লাড প্রেশার শূন্যে নেমে গিয়েছিল।”

পুলিশ সুপার জানান, বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে অ্যাম্বুলেন্সে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন একমাত্র ছেলে স্বপন চন্দ্র রায়। সেখানে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। ভবেশের মৃত্যুকে ঘিরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ অথবা মামলা করা হয়নি বলে জানান পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, “পরিবার চাইলে মামলা করতে পারে। তাছাড়া ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে মৃত্যুর কারণ জানা সম্ভব হবে।” এদিকে এঘটনা ছড়িয়ে পড়লে ভবেশ চন্দ্রকে বাসা থেকে তুলে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এই মৃত্যু নিয়ে একাধিক ভারতীয় মিডিয়ায় হত্যা সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে এই মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

এর ধরাবাহিকতায় শনিবার (১৯ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘু নেতা ভবেশ চন্দ্র রায়ের অপহরণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এই হত্যাকাণ্ড একটি পদ্ধতিগত নির্যাতনের অংশ, যেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিয়মিতভাবে নিপীড়ন করা হচ্ছে, অথচ পূর্ববর্তী এমন ঘটনার অপরাধীরা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও নিজের এক্স হ্যান্ডলে থেকে এই বার্তা শেয়ার করেন। ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস-এর নেতা জয়রাম রমেশ এক্সে লিখেছেন,’এই অপহরণ ও মর্মান্তিক মৃত্যু এই অঞ্চলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার এক উদ্বেগজনক স্মারক।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, সংখ্যালঘুদের উপর অবর্ণনীয় অত্যাচার যেন থামার নামই নেই পড়শী দেশে। দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় একজন হিন্দু নেতাকে অপহরণ করে নির্মমভাবে নির্যাতন করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এপিবিএন বলছে, ভবেশ চন্দ্রকে অপহরণের পর পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। গোটা ঘটনায় উত্তেজনায় বাংলাদেশে নাকি নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া এনডিটিভি, দ্য হিন্দু, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ফাইনেন্সিয়াল এক্সপ্রেসের মত প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম খবরটি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করেছে।

ভারতের এই বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। শনিবার (১৯ এপ্রিল) বাসসের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, ভবেশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যুকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর ‘সংগঠিত নিপীড়নের ধারাবাহিকতার’ অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে’। তিনি বলেন, ‘এই নির্দিষ্ট ঘটনায়, আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে ভুক্তভোগী পূর্বপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বাইরে গিয়েছিলেন। তার পরিবার কারো সঙ্গে বাইরে যাওয়া নিয়ে কোনো সন্দেহজনক বিষয় জানাননি। সুরতহাল রিপোর্টে শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবুও, মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ভিসেরা বিশ্লেষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা সব পক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি, ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার জন্য।’

এদিকে, শনিবার (১৯ এপ্রিল) পূজা উদযাপন পরিষদের দিনাজপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার রায় এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিরল উপজেলার বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ৪নং সহ-সভাপতি ভবেশ চন্দ্র রায়কে (৫২) বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।…সারা বাংলাদেশে শুধু ভবেশ চন্দ্র নয়, বিভিন্নভাবে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে।’ বিবৃতিতে তিনি চট্টগ্রামে স্কুলশিক্ষক শ্রী কান্তিলাল আচার্য্যকে জোর পূর্ব পদত্যাগে বাধ্য করা, মানিকগঞ্জে শিবালয় উপজেলার বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী রথিন সাহাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন। সেই সাথে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘু ও ধর্মীয় নেতাদের উপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।