Home Blog Page 128

ট্রাম্পের ‘চূড়ান্ত প্রস্তাব’ শান্তির জন্য ইউক্রেনকে , রাশিয়ার দখল মেনে নিতে হবে

যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, ইউক্রেন বুধবার একটি খসড়া শান্তি চুক্তির বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবে। ওই খসড়ায় ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি এবং ২০২২ সালের পর রাশিয়া দখল করা প্রায় সব অঞ্চল নিয়ে অনানুষ্ঠানিক রুশ নিয়ন্ত্রণ স্বীকার করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিষয়টির সাথে সরাসরি জড়িত সূত্রগুলো মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত সপ্তাহে প্যারিসে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের হাতে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের এক পৃষ্ঠার নথিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘চূড়ান্ত প্রস্তাব’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউজের দাবি, দুই পক্ষ যদি শিগগিরই চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারে, তবে তারা আলোচনার টেবিল থেকে সরে যেতে প্রস্তুত।

ট্রাম্পের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বড় ধরনের ছাড় দিতে হবে। তবে এর আগে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ক্রিমিয়া ও পূর্ব ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে রাশিয়ার দখল মেনে নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। অন্যদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বর্তমান যুদ্ধরেখা স্থির রেখে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি কাঠামোর অন্যান্য দিক যেমন, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে ইউরোপীয় শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি পূর্বে প্রত্যাখ্যান করেছেন।ইউক্রেন সরকারের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানায়, কিয়েভ এই প্রস্তাবকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট মনে করছে। তিনি বলেন, ‘এই প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে রাশিয়া কী কী সুবিধা পাবে। কিন্তু ইউক্রেন কী পাবে, তা অস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।’

প্রস্তাব অনুযায়ী – যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘আইনগত স্বীকৃতি’ এবং ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। প্রায় পুরো লুহানস্ক ও দখলকৃত দোনেৎস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার দখলদারিত্বকে ‘কার্যত স্বীকৃতি’ দেওয়া হবে। এছাড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হতে পারবে, তবে ন্যাটোতে যোগ দেবে না। এতে আরও বলা হয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা হবে, বিশেষ করে জ্বালানি ও শিল্প খাতে।

প্রস্তাব অনুযায়ী ইউক্রেনকে ‘একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’ দেওয়া হবে, যা কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ এবং ইউরোপের বাইরের কিছু দেশ নিয়ে গঠিত একটি অস্থায়ী গোষ্ঠীর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। তবে নথিতে এই শান্তিরক্ষী মিশনের কার্যপ্রণালি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ নেই। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, খারকিভ অঞ্চলের যে ছোট অংশটি রাশিয়া দখল করে রেখেছে, সেটি ইউক্রেনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। প্রস্তাবে ইউক্রেন পুনর্গঠনের জন্য ক্ষতিপূরণ ও সহায়তার কথা বলা হয়েছে। তবে কোথা থেকে এই অর্থ আসবে, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র [ইউরোপের সবচেয়ে বড়] ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এটি পরিচালনা করবে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় দেশেই বিদ্যুৎ সরবরাহ হবে। নথিতে ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র খনিজ চুক্তির উল্লেখ করা হয়েছে, যা বৃহস্পতিবার ট্রাম্প স্বাক্ষর করবেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনীয়দের কাছ থেকে এমন সংকেত পাওয়া গেছে যে তারা বুধবারের লন্ডন বৈঠকে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা না নিয়ে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে চান।

ব্রুকসের দর্শন : আত্ম-সমালোচনা কেন জরুরি ?

“Know thyself”—অর্থাৎ “নিজেকে জানো”—এই গ্রীক প্রবাদটি দর্শনের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী বাক্য।এটি শুধু দার্শনিক অনুসন্ধান নয়, বাস্তব জীবনে আত্মপ্রতারণা ও বিভ্রান্তি থেকে নিজেকে রক্ষার একটি উপায়ও বটে। আর্থার সি. ব্রুকস বলেন, আত্মজ্ঞান এবং সততাকে যদি কেউ নিজের ‘সুপারপাওয়ার’ করে তোলে, তবে সে হবে আরও সুখী, সহানুভূতিশীল এবং সফল। আধুনিক নিউরোসায়েন্স অনুযায়ী, আত্মজ্ঞান গঠিত হয় দুই ধরনের তথ্য থেকে—নিজস্ব উপলব্ধি এবং অন্যদের চোখে নিজের প্রতিচ্ছবি। অর্থাৎ আমি নিজেকে কীভাবে দেখি এবং অন্যরা আমাকে কীভাবে দেখে বলে আমি মনে করি—এই দুই ধারণার সমন্বয়ই আত্মজ্ঞান।

তবে “সঠিকভাবে নিজেকে জানা” মোটেই সহজ কাজ নয়। ব্রুকসের ভাষায়, এটি মানে—ভুল এড়িয়ে চলা, ভ্রম সংশোধন করা, নিজের কাছে নির্দয়ভাবে সৎ থাকা, স্মৃতি নির্ভরযোগ্য হওয়া এবং ভবিষ্যতে নিজের অনুভব ও আচরণ কেমন হবে তা যথাযথভাবে অনুমান করতে পারা। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ মানুষ আত্মজ্ঞান সম্পর্কে অতিমূল্যায়নে ভোগে। ব্রুকস বলেন, আমরা নিজের জীবনে যা ঘটে, তা নিয়ে নানা রকম মানসিক ভুল করে বসি। এই ভুলগুলোর পেছনে আছে ইচ্ছাকৃত না-জানা—অথবা আত্মসম্মান রক্ষার জন্য নিজের কাছে অসততা। অথচ এই আত্মপ্রবঞ্চনা আমাদের দীর্ঘমেয়াদি সুখের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

এই সমস্যা থেকে মুক্তির একটি উপায় হলো নিজেকে বেশি “সেফ” না রাখা। কঠিন, অস্বস্তিকর আত্মবিশ্লেষণ হয়তো প্রথমে যন্ত্রণাদায়ক লাগবে, কিন্তু একসময় তা আপনাকে মানসিকভাবে আরও দৃঢ় করে তুলবে। আরেকটি উপায় হলো নিজের আত্মজ্ঞান সম্পর্কে একটু সন্দিহান থাকা। ব্রুকস তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় বলেন, “আমি যখন বুঝতে পারি আমি ভালো মিউজিশিয়ান হলেও কখনো মহান হব না, তখনই আমার সামনে জীবনের নতুন ও অর্থবহ পথ খুলে যায়।” সুতরাং, আপনি কী নন, তা জানাও আপনাকে কী হতে পারেন, সেই উত্তর খুঁজে দেয়। এই রকম আত্মসচেতনতাই আমাদের সত্যিকার অর্থে মুক্ত করে।

বেইজিং-ওয়াশিংটনের বক্তব্য , বাণিজ্য যুদ্ধ অবসানের ইঙ্গিত

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যে দুই দেশের শুল্ক-বাণিজ্য যুদ্ধ অবসানের আভাস পাওয়া গেছে। এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা। আজ বুধবার এএফপির প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। চীন জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় কোনো বাধা নেই। এক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের পণ্য আমদানিতে আরোপিত শুল্ক ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণে’ কমানোর দিকে ইঙ্গিত দেন। ট্রাম্প ও তার কর্মকর্তাদের বক্তব্যে শিগগীর বেইজিং-ওয়াশিংটন বাণিজ্য চুক্তির আভাস পেয়েছেন বিশ্লেষকরা। মঙ্গলবার বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় এবং তিনি আশা করছেন উভয় পক্ষ শিগগির বাণিজ্য চুক্তি করবে।

বেসেন্টের মন্তব্যের পর ট্রাম্প স্বীকার করেন, চীনের আমদানি পণ্যে আরোপ করা শুল্ক ‘অনেক বেশি’ এবং শিগগীর ‘এটা উল্লেখযোগ্য আকারে কমে আসবে। (শুল্ক) বর্তমান হারের ধারেকাছেও থাকবে না তখন। তবে এই শুল্ক একেবারে শূন্যতেও নেমে আসবে না।’ ‘পরিশেষে, তাদেরকে চুক্তিতে আসতেই হবে, কারণ চুক্তি না করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তারা ব্যবসা করতে পারবে না’, যোগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বেইজিংয়ের এক দৈনিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘চীন আরও আগেই উল্লেখ করেছে যে শুল্ক যুদ্ধ ও বাণিজ্য যুদ্ধে কেউ জয়ী হয় না। (যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে) আলোচনার দরজা খোলা আছে।’

এর আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সঙ্গে বৈঠকে মন্তব্য করেন, বাণিজ্য যুদ্ধ ‘সব দেশের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করে, বহুপাক্ষিক বাণিজ্যিক ব্যবস্থার ক্ষতি করে এবং সার্বিকভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।’ দুই পরাশক্তির এই বাণিজ্য যুদ্ধে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২৫ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩.৩% থেকে কমিয়ে ২.৮% করেছে।

তৈরি পোশাক রপ্তানি – ভিয়েতনাম কি বাংলাদেশকে টেক্কা দিতে পারে ?

বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক। বাংলাদেশের পোশাক খাত অনেকদিন ধরে সস্তা শ্রমে তৈরি কম দামের পণ্য বিদেশে বিক্রি করে টিকে ছিল। কিন্তু এখন বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক বাড়ায় এই খাত বড় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। অনেক শিল্প নেতাই ভিয়েতনামের উত্থানকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। যদিও ভিয়েতনামের ওপর আরও বেশি শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। বাংলাদেশের ৩৭ শতাংশের তুলনায় সেখানে ৪৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তবুও আশঙ্কা বাড়ছে যে, বাংলাদেশের দুর্বল বাণিজ্য কূটনীতি এবং মূল্য সংযোজন পণ্যের ধীরগতির কারণে ভিয়েতনাম বৈশ্বিক র‌্যাংকিং-এ এগিয়ে যেতে পারে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মতে, বাংলাদেশ ৩৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক রপ্তানি করে যা বিশ্বব্যাপী পোশাক রপ্তানির ৭.৪%। অন্যদিকে ভিয়েতনাম ৩১ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে, যা বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানির ৬%। চীনের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৬৫ বিলিয়ন ডলার এবং বাজারের অংশীদারত্ব ছিল ৩১.৬%। বাংলাদেশের কিছু কাঠামোগত শক্তি এখনো রয়ে গেছে। যেমন- স্বল্প খরচে বড় শ্রমশক্তি, একটি বৃহৎ এবং সাশ্রয়ী মূল্যের শ্রমশক্তি, তার ২৫ বিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক টেক্সটাইল খাতের মাধ্যমে শক্তিশালী ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ, সার্টিফাইড সবুজ কারখানায় বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডে ক্রমবর্ধমান সম্মতি।

তবে এসব ইতিবাচক দিক ধীরে ধীরে চাপা পড়ছে দীর্ঘদিনের কিছু দুর্বলতার কারণে—যার মধ্যে আছে অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, উৎপাদন ও সরবরাহ সময় বেশি, উচ্চ ঋণ ব্যয়, প্রশাসনিক জটিলতা এবং কম মূল্যের পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। বাংলাদেশকে ভিয়েতনামের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে আলাদা করে শুধু উৎপাদন খরচ নয়, বরং কৌশলগত দিকনির্দেশনাও। ভিয়েতনাম ধীরে ধীরে মূল্য সংযোজনের ধারায় এগিয়ে গেছে — পণ্যে বৈচিত্র্য এনেছে এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুফল নিয়ে বিভিন্ন বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছে। এখন যখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দু’দেশই উচ্চ হারে শুল্কের মুখে পড়েছে, তখন মূল পার্থক্য নির্ধারণ করবে — কে বেশি দক্ষতার সঙ্গে উচ্চমূল্য সংযোজন করা পণ্য দিতে পারে এবং কে কূটনৈতিকভাবে বাণিজ্যিক আলোচনা চালাতে পারে।

ভিয়েতনামের পোশাক খাতের দ্রুত প্রবৃদ্ধি অনেকাংশেই চীনা বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল — টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতে দেশটিতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৬১ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে, বাংলাদেশের ৫৫ বিলিয়ন ডলারের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ৫ শতাংশেরও কম। পোশাক রপ্তানীকারকরা মনে করেন, মার্কিন ক্রেতারা চীনের সঙ্গে ভিয়েতনামের গভীর উৎপাদন সম্পর্ক নিয়ে সতর্ক থাকতে পারেন।তাঁদের মতে – চীনের রপ্তানি কমে যাওয়ার ফলে যে সুযোগ তৈরি হতে পারে, তা কাজে লাগাতে হলে বাংলাদেশকে একটি বড় দুর্বলতা দূর করতে হবে—এমএমএফ (ম্যান-মেইড ফাইবার) ভিত্তিক পোশাক তৈরির সীমিত সক্ষমতা। মার্কিন শুল্ক চাপের মুখে চীন ও ভিয়েতনাম থেকে সোর্সিং প্যাটার্ন সরে যাওয়ার ফলে বাংলাদেশ নতুন অর্ডার আকর্ষণ করতে পারে। কিন্তু এটি বাংলদেশের কূটনৈতিক এবং কৌশলগত পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।

তাঁরা আরো বলেন – পোশাক খাতকে তার পণ্যের ভিত্তি বৈচিত্র্যময় করতে হবে, প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে হবে এবং বিশ্বব্যাপী চাহিদার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তুলতে হবে।

কোয়ান্টাম পরীক্ষা – প্রথমবারের মতো “নেগেটিভ টাইম” পর্যবেক্ষণ করলেন বিজ্ঞানীরা

“সময়” এই শব্দটি আমাদের অস্তিত্বের মৌলিক ভিত্তি। আমরা ভাবি সময় এগোয় একমুখীভাবে, অতীত থেকে ভবিষ্যতের দিকে। কিন্তু বিজ্ঞান যদি হঠাৎ এসে বলে, “কিছু ঘটনা সময়ের আগেই ঘটে যায়”, তখন আমাদের অস্তিত্ব আর সময়ের ধারণা চূড়ান্তভাবে প্রশ্নের মুখে পড়ে। সম্প্রতি কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার এক বিস্ময়কর গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই এক তথ্য — “নেগেটিভ টাইম”। ফিজিক্সে সাধারণত সময় নির্ধারিত হয় নির্দিষ্ট ঘটনার মধ্যকার ব্যবধান হিসেবেই, যেমন একটি আলোককণার একটি পরমাণুতে আঘাত করার পর, সেই পরমাণু কতক্ষণ উত্তেজিত অবস্থায় থাকে। কিন্তু কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ান্টাম অপটিক্স ল্যাবরেটরিতে চলমান গবেষণায় দেখা গেল, এই সময়কাল কখনো কখনো ‘শূন্য’রও কম!

এই গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক অ্যাফ্রেইম স্টেইনবার্গ ও তাঁর দল বিশেষ ধরনের লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফোটনের আচরণ বিশ্লেষণ করেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল, ফোটন যখন পরমাণুর সাথে সংঘর্ষ করে, তখন সেই পরমাণু কতক্ষণ উত্তেজিত অবস্থায় থাকে এবং এরপর শান্ত হয়ে ফিরে আসে। কিন্তু পরিমাপের সময় দেখা গেল কিছু ফোটনের ঘটনাপরম্পরা এমনভাবে ধরা পড়েছে যে মনে হচ্ছে ঘটনা ‘শেষ’ হয়ে যাচ্ছে তার শুরু হওয়ার আগেই ।এই ধারণাকে সহজভাবে বোঝাতে গবেষকেরা এক আকর্ষণীয় উপমা দিয়েছেন, একটি টানেল, যেখানে গাড়ি প্রবেশ করছে ও বের হচ্ছে। গড়পড়তা হিসেবে প্রতিটি গাড়ি টানেলের এক পাশ দিয়ে ঢুকে কিছু সময় পরে অপর পাশে বের হবে। কিন্তু যদি দেখা যায়, কিছু গাড়ি বেরিয়ে আসছে ঢোকার আগেই — তাহলে? বাস্তবজগতে এটি অসম্ভব, কিন্তু কোয়ান্টাম জগতে এটি হয়ত সম্ভাব্য!

এই পরিমাপগুলো আগে ‘স্ট্যাটিস্টিকাল নয়েজ’ বা মাপজোখের গড়বির্তির কারণে বলে অবজ্ঞা করা হত। কিন্তু নতুন পরীক্ষার পদ্ধতি এতোটা নিখুঁত ছিল যে এই “নেগেটিভ টাইম” এখন আর উপেক্ষা করার মতো নয়। না, এটি আবার সময় ভ্রমণ (Time Travel) বা আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের বিপরীত কিছু নয়। গবেষকেরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন — কোনো তথ্য পেছনে ফিরে যাচ্ছে না, কোনো কণা আলোর গতিবেগ অতিক্রম করছে না। বরং এটি হচ্ছে কোয়ান্টাম ফেজ ও সম্ভাব্যতার অদ্ভুত খেলা। কোয়ান্টাম কণাগুলোর আচরণ সব সময় আমাদের ক্লাসিকাল যুক্তির বাইরে চলে যায়।

মূলত এখানে আলোচ্য বিষয় হচ্ছে, “ফেজ টাইম” — অর্থাৎ কোনো কণার কোয়ান্টাম তরঙ্গের অবস্থান এবং পরিবর্তনের গাণিতিক ব্যাখ্যা। এই ব্যাখ্যায় দেখা যায়, কোনো কোনো তরঙ্গ এত অদ্ভুতভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে তার ফলাফল সময়ের রৈখিক ধারাকে উপেক্ষা করে। এই আবিষ্কার কোনো রকেট বানানোর পথ খুলে দিচ্ছে না, কিংবা আমরা এখনই সময় পেছনে পাঠাতে পারবো না। কিন্তু এটি আমাদের সময়ের ধারণার ভেতরেই একটি ফাটল ধরাচ্ছে। সময় কি একটি পরিমাপযোগ্য বাস্তবতা, না কি এটি শুধুই আমাদের উপলব্ধির সীমারেখা? নেগেটিভ টাইমের ধারণা আমাদের মনে করিয়ে দেয় কোয়ান্টাম বাস্তবতা আমাদের পরিচিত জগতের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বিশ্ব। যেখানে ঘটনাগুলো নির্দিষ্ট অনুক্রমে ঘটে না, যেখানে কারণ ও ফলাফলের সম্পর্ক ঘোলাটে।

অধ্যাপক স্টেইনবার্গ বলেন, “আমরা এমন এক ব্যাখা বেছে নিয়েছি যা আমাদের কাছে ফলপ্রসূ মনে হয়।” তাঁর এই মন্তব্য শুধু বিজ্ঞানের নয়, বরং দার্শনিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি বুঝিয়ে দেয়, আমরা যেভাবে বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করি, সেটাও এক ধরনের নিজস্ব পছন্দ, নিজস্ব ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি। “নেগেটিভ টাইম” — এই শব্দই যেন সময়ের বুকে এক ধরনের বিদ্রোহ। এটি সময়কে আমাদের হাতের ঘড়ি থেকে ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায় এক অদৃশ্য, অমূর্ত, সম্ভাবনার জগতে। যদিও এটি এখনো পরীক্ষাগারে সীমাবদ্ধ এক বিস্ময়, তবে ভবিষ্যতে এই ধারণা হয়তো সময়ের আদি ও অন্তের পরিভাষাকে বদলে দেবে। আমাদের ভাবতে বাধ্য করবে — সময় কি সত্যিই একটি সোজা রেখা, না কি এক বহুমাত্রিক গোলক?

নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ – রেহমান সোবহান , অর্থনীতিবিদ

0

“ … এখানে বিকাশমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীলতা থেকে বহু দূরে অথবা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। শেখ হাসিনার শাসনের প্রকৃতি ও পরিণতি প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিয়েছে এবং বিবাদ-বৈরিতার অশুভ শক্তিগুলো আবার বেরিয়ে এসেছে। জামায়াতে ইসলামীর পুনর্জন্ম হয়েছে এবং রাজনৈতিকভাবে তারা আরও প্রাসঙ্গিক শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। বক্তৃতা-বক্তব্যে সংযম প্রদর্শন করলেও তাদের অন্যতম প্রধান একটি উদ্দেশ্য হলো ঐতিহাসিক বয়ান পুনরায় লেখা, যেন তাদের ১৯৭১ সালের বীর না হলেও অন্তত ভুক্তভোগী হিসেবে দেখানো হয়, যেখানে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ভুল শত্রুর বিরুদ্ধে ভুল যুদ্ধে জড়িয়েছিল।

অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারা যাঁরা এখন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন, তাঁদের একটি অংশ জামায়াতে ইসলামীর এই বয়ান নিজেদের মধ্যে গ্রহণ করছেন। এ কারণে তাঁরা ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিলের দাবি তুলেছেন। রাজনৈতিক দৃশ্যপটে পথবিচ্যূত এই দৃষ্টিভঙ্গির চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন ধ্বংস করা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এমন আরও কিছু কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। এসব হামলা বন্ধের জন্য ইউনূস অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল এবং তাতে দৃঢ়তার ঘাটতি ছিল। ফলে আমাদের ইতিহাসকে নতুন করে লেখার স্বপ্ন দেখা গোষ্ঠীগুলোকে থামানো যায়নি।

আওয়ামী লীগের সদস্য, এমনকি তাঁদের সন্দেহভাজন সহযোগীদের ওপর হামলার জন্য জড়ো হওয়া উচ্ছৃঙ্খল জনতা এখন পর্যন্ত দায়মুক্তি পেয়ে আসছে। এটি লুটতরাজে আগ্রহী দুষ্কৃতকারীদের বৃহত্তর একটি গোষ্ঠীকে ছাড়পত্র দিয়েছে, যারা বিগত সরকারের সহযোগী তকমা দিয়ে যে কারও বাড়িতে হামলা চালাতে পারে। উচ্ছৃঙ্খল জনতার সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারের এই অক্ষমতা তথাকথিত নীতিপুলিশের ভূমিকা পালনকারী একটি গোষ্ঠীকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই গোষ্ঠী মনে করে, নতুন ব্যবস্থা তাদের অসহিষ্ণু বহুত্ববাদবিরোধী বিশ্বাস বাস্তবায়নের জন্য আরও বেশি অনুকূলে। এসব গোষ্ঠী তাদের মূল্যবোধ শুধু নারীদের ওপরই নয়, অন্যান্য দুর্বল সম্প্রদায়ের ওপরও চাপিয়ে দিতে চায়।

বাংলাদেশ ও দেশের বাইরের কিছু বিশ্লেষক যুক্তি দিয়েছেন, ১৯৪৭ বনাম ১৯৭১ নিয়ে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক যে অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব ছিল, তা এখনো মিটে যায়নি, যদিও আঞ্চলিক পটভূমিতে উল্লেখ করার মতো প্রাসঙ্গিক কিছু পরিবর্তন এসেছে। যাঁরা শুধু মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব নিয়ে অস্বস্তিতে ছিলেন না; বরং বাংলাদেশের জন্মেরই বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁরাই এই বিতর্ক উসকে দিয়েছেন, যা খোলাখুলিভাবে মোকাবিলা করা হয়নি। আর তাই এটি কখনো সমাধান হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ যে অসংখ্য সমস্যার মুখে রয়েছে, তা জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের ক্ষেত্রে এর বাস্তবিক প্রাসঙ্গিকতা হয়তো তেমন নেই। তবে আমরা আমাদের আন্ত–আঞ্চলিক সম্পর্ককে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করব; সে ক্ষেত্রে, বিশেষ করে পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে।

১৯৭১ সালের ঘটনাবলির আলোচনা এমন কিছু রাজনৈতিক শক্তিকে সামনে নিয়ে এসেছে, যারা ভারতবিরোধী মনোভাব পোষণ করে। মনে করা হয়, হাসিনা–পরবর্তী বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের একতরফা দৃষ্টিভঙ্গি সেই বিদ্বেষকে আরও জোরালো করছে। ভারতের প্রতি এই মনোভাবকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আরও উসকে দিচ্ছেন কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার। এঁদের কেউ কেউ দেশের বাইরে থেকে কাজ করছেন। ‘ভারতপন্থী’ বলে আখ্যা দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা চালাতে তাঁরা তাঁদের অগুনতি ফেসবুক অনুসারীদের উৎসাহিত করেছেন, যদিও সেই আখ্যা একেবারে ভিত্তিহীন।

১৯৭১ বিরোধী এই বয়ানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠান, ছাপা পত্রিকা এবং কিছু জনপরিসরে প্রতিরোধ চলছে। তবে জোরালোভাবে প্রকাশ্যে কথা বলার ক্ষেত্রে তথাকথিত উদারপন্থী বা ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠী পিছিয়ে আছে, যেমনটা আওয়ামী লীগের শাসনামলেও দেখা গিয়েছিল। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও জনরোষের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় উদারপন্থীদের মধ্যে এমন দ্বিধা তৈরি হয়েছে। … ”


ডেভিড গিনটির গবেষণা – স্পর্শের স্নায়ুবিজ্ঞান

0

মানব স্নায়ু সিস্টেম আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সব কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অত্যন্ত জটিল এবং অপ্রতিরোধ্য কাঠামো। এর মধ্যে একটি মৌলিক ইন্দ্রিয় স্পর্শ ,আমাদের শারীরিক এবং মানসিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কিত। বহু শতাব্দী ধরে স্পর্শের সিস্টেমের কাজ এবং এর প্রভাব সম্পর্কে বিভিন্ন তাত্ত্বিক আলোচনা হলেও আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান এর প্রতিটি দিক স্পষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের নিউরোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ডেভিড গিনটি তাঁর গবেষণা স্নায়ু কোষ এবং তাদের কার্যপ্রণালী নিয়ে গভীর দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে, যা স্পর্শের অনুভূতি এবং আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যে সংকেত প্রক্রিয়াকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গিনটির গবেষণা আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞানী আলোচনা এবং ধারণাকে পুনর্নির্মাণ করেছে। তিনি স্পর্শ সংক্রান্ত স্নায়ু কোষগুলোর বৈশিষ্ট্য, তাদের গঠন এবং কার্যপ্রণালী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন। গিনটির কাজ স্নায়ু কোষের বৈদ্যুতিক ভাষা, উত্তেজনা সৃষ্টি করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি এবং কোষগুলোর সংযোগের গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্পর্শ সংক্রান্ত কোষগুলো মানব শরীরের বিভিন্ন অংশে বিভিন্নভাবে বিতরণ থাকে এবং প্রতিটি কোষ স্পর্শের একেকটি বৈশিষ্ট্য অনুভব করতে সক্ষম। গিনটির গবেষণা এই বৈশিষ্ট্যগুলোকে চিহ্নিত করতে সহায়তা করেছে এবং স্পর্শের অনুভূতির প্রক্রিয়াকে আরো সুস্পষ্ট করেছে।

স্পর্শ সংক্রান্ত স্নায়ু কোষগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ধরণের কোষ রয়েছে, যেগুলি আমাদের শারীরিক অবস্থা এবং বাইরের পরিবেশের পরিবর্তন অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানায়। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো মেসনার কর্পাসক্লস, প্যাসিনিয়ান কর্পাসক্লস, রাফিনি কর্পাসক্লস এবং ফ্রি নার্ভ এন্ডিংস। এই কোষগুলো একে অপরের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করে এবং একাধিক অনুভূতি সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় সংকেত পাঠায়। গিনটির গবেষণার মাধ্যমে এই কোষগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে ‘মেসনার কর্পাসক্লস’ এবং ‘প্যাসিনিয়ান কর্পাসক্লস’-এর ভূমিকা শনাক্ত করা হয়েছে, যা আমাদের হাতের ত্বকে নিখুঁতভাবে স্পর্শ অনুভূতির বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে।

মেসনার কর্পাসক্লস হাতের ত্বকে স্পর্শের সূক্ষ্ম পরিবর্তন অনুভব করতে সহায়তা করে, যেমন কোনো কোমল স্পর্শ বা দ্রুত গতির হালকা চাপ।অন্যদিকে প্যাসিনিয়ান কর্পাসক্লস আরো গভীরে প্রবাহিত হয়ে বড় ধরনের স্পর্শের অনুভূতি যেমন তীব্র চাপ বা ভারী বস্তু অনুভব করতে সক্ষম। এছাড়া রাফিনি কর্পাসক্লসের মাধ্যমে আমাদের শরীরের ভেতরে চাপ এবং দিক পরিবর্তনের অনুভূতি সঞ্চারিত হয়। গিনটির এ গবেষণার ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি স্পর্শের সিস্টেমের জটিলতাকে আরও খোলামেলা এবং সহজভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছে। গিনটি এবং তার গবেষণা দল মাউসের ত্বকে বিশেষ ধরনের স্নায়ু কোষ শনাক্ত করেছেন, যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম স্পর্শ অনুভব করতে সহায়তা করে ‘মিরাকেল’ গঠন তৈরি করে। এর মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছেন, আমাদের ত্বক এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গের মধ্যে সংবেদনশীল স্নায়ু কোষগুলোর মাধ্যমে আমরা যে ধরনের অনুভূতি অনুভব করি, তা আসলে একটি সুনির্দিষ্ট এবং সঠিক সিস্টেমের ফলস্বরূপ।

গিনটির গবেষণা এই তথ্যগুলো প্রদান করেছে যে, স্নায়ু কোষগুলোর মধ্যে প্রতিটি কোষের গঠন এবং আচরণ ভিন্ন ধরনের স্পর্শের প্রতিক্রিয়া জানায়। তিনি স্পষ্টভাবে দেখিয়েছেন, কিভাবে এই স্নায়ু কোষগুলো একে অপরের সাথে সমন্বিত হয়ে আমাদের ব্রেনে অনুভূতির সংকেত পাঠায়। স্নায়ু কোষগুলোর এই কার্যপ্রণালী সিমফনির মতো কাজ করে, যেখানে প্রতিটি কোষ একটি বাদ্যযন্ত্রের মতো কাজ করে এবং একে অপরের সাথে সমন্বিতভাবে আমাদের স্পর্শ অনুভূতি তৈরি করে।

স্পর্শ মানব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ইন্দ্রিয়, যা আমাদের শারীরিক এবং মানসিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করে। ডেভিড গিনটির গবেষণা স্নায়ুবিজ্ঞানী গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, স্পর্শ সংক্রান্ত স্নায়ু কোষগুলোর গঠন, কার্যপ্রণালী এবং তাদের প্রভাব সম্পর্কে গভীর জ্ঞান প্রদান করেছে। গিনটির কাজ,একদিকে স্নায়ু কোষের কার্যপ্রণালী এবং তাদের গঠন সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ধারণা প্রস্তাব করে, অন্যদিকে আমাদের শারীরিক অভিজ্ঞতার গভীরে প্রবাহিত এক নতুন আলোচনার জন্ম দেয়।

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা করতে আগ্রহী : ফরাসি এএফডি

0

মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্মার্ট কৃষি, তৈরি পোশাক শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ উন্নয়ন ও পানি ব্যবস্থাপনা—এই ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি)। সম্প্রতি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর সঙ্গে এক যৌথ সভায় এ আগ্রহের কথা জানান সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর্নল্ড দ্য নাদায়াক। ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই সভায় এএফডির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দীন খানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির অন্যান্য সদস্য ও কর্মকর্তারা।

সভায় দুই পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে সম্মত হয় এবং দ্রুত একটি যৌথ ধারণাপত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। এ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করে কারিগরি সহায়তা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করবে এএফডি। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দক্ষ জনবল তৈরি ও পাঠ্যক্রম উন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। অধ্যাপক তানজীমউদ্দীন খান বলেন, “ফ্রান্সের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। ফ্যাশন ডিজাইন, হসপিটালিটি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিজ্ঞতা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।” তিনি কৃষি ও টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।

এএফডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে ইউজিসির সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রযুক্তি হস্তান্তর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারেও তারা আগ্রহী। নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাব দেন এএফডি প্রতিনিধি দল। অধ্যাপক তানজীমউদ্দীন জানান, এ বিষয়ে ইউজিসি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পেশ করবে, যদিও জনবল ও বাজেটের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সভায় আরও আলোচনা হয় উচ্চশিক্ষার কৌশলপত্র, আউটকাম বেইজড কারিকুলাম টেমপ্লেট, ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক ও গবেষণা-উদ্ভাবন প্রসঙ্গে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাত নতুন এক আন্তর্জতিক সহযোগিতার সুযোগ পাচ্ছে যা ভবিষ্যতে অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

চীনের নন-নিউক্লিয়ার হাইড্রোজেন বোমা , সামরিক যুদ্ধ প্রযুক্তির নবযুগ

চীনা গবেষকরা সম্প্রতি একটি অভিনব এবং চমকপ্রদ প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন—একটি নন-নিউক্লিয়ার হাইড্রোজেন বোমা, যা দীর্ঘস্থায়ী ও অতিউচ্চ তাপমাত্রার আগুন তৈরি করতে সক্ষম। এই ঘটনাটি শুধু আধুনিক সামরিক কৌশলে নয় বরং ভবিষ্যতের টেকসই শক্তি প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চীনের এই হাইড্রোজেন বোমাটি মাত্র ২ কেজি ওজনের হলেও, বিস্ফোরণের সময় এটি ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রার একটি উজ্জ্বল আগ্নবলয় সৃষ্টি করে এবং তা দুই সেকেন্ডেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী ছিল। এটি তুলনামূলকভাবে সমপরিমাণ টিএনটি বিস্ফোরণের তুলনায় প্রায় ১৫ গুণ বেশি সময় তাপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

এমন দীর্ঘস্থায়ী ও উষ্ণ আগুনের মূল কারণ হল এর কেমিক্যাল স্ট্রাকচার, বিশেষ করে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রাইড, যা একটি কঠিন অবস্থা বিশিষ্ট হাইড্রোজেন স্টোরেজ উপাদান। চীনের স্টেট শিপবিল্ডিং কর্পোরেশনের (CSSC) ৭০৫ গবেষণা ইনস্টিটিউট এই বিস্ময়কর প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেছে। এই বোমার মূল বৈজ্ঞানিক উপাদান হল ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রাইড, একটি রূপালী পাউডার যেটি উচ্চ চাপে হাইড্রোজেন সংরক্ষণের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।

যখন এই উপাদানকে প্রচলিত বিস্ফোরকের মাধ্যমে সক্রিয় করা হয়, তখন এটি সূক্ষ্ম কণায় বিভক্ত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস ছাড়ে, যা বাতাসের সাথে মিশে দাহ্য হয়। এর ফলে একটি স্বনির্ভর দহন চক্র (self-sustaining combustion loop) তৈরি হয়। প্রাথমিক বিস্ফোরণের তাপে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রাইড আরও ভেঙে পড়ে, আরও হাইড্রোজেন ছাড়ে, এবং সেই গ্যাস পুনরায় দহন সৃষ্টি করে। এভাবেই আগুন দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং বিস্ফোরণ শুধু ধ্বংস নয়, তাপ-ভিত্তিক ক্ষতির একটি গভীর অঞ্চল তৈরি করে। পরীক্ষার সময় ২ মিটার দূরত্বে এই বিস্ফোরণ ৪২৮.৪৩ কিলোপাসকালের ওভারপ্রেশার তৈরি করে, যা টিএনটির তুলনায় প্রায় ৪০% কম, কিন্তু এর তাপমাত্রাগত ক্ষয় ছিল বহুগুণ বেশি। অ্যালুমিনিয়াম খাদ গলে যায় এবং বিস্ফোরণের আওতা ব্যাপক এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

এই ধরনের প্রযুক্তি “নির্দেশিত শক্তি অস্ত্র” (directed energy weapons) হিসাবে কাজ করতে পারে। অর্থাৎ এটি নিখুঁতভাবে টার্গেট বেছে নিয়ে ধ্বংস করতে সক্ষম, বিশেষ করে যদি সেই লক্ষ্যটি কোন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা শত্রুর কেন্দ্রবিন্দু হয়। এমনকি শত্রু এলাকায় ব্যাপক তাপ ছড়িয়ে দিয়ে পুরো অঞ্চল নিষ্ক্রিয় করতেও সক্ষম। যদিও গবেষণায় স্পষ্টভাবে অস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়নি, তবুও এটি স্পষ্ট যে, এই প্রযুক্তিটি চীনের সামরিক শক্তিকে সবুজ ও ক্লিন এনার্জি-ভিত্তিক করার প্রচেষ্টার একটি অংশ। চীন বর্তমানে বৈদ্যুতিক যুদ্ধজাহাজ, দীর্ঘ সময় ধরে উড়তে সক্ষম ড্রোন, ও ক্লিন এনার্জি ভিত্তিক রণকৌশলিক প্রযুক্তির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

এই হাইড্রোজেন বোমার পেছনের উপাদান ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রাইড শুধু অস্ত্রের কাজেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ডুবোজাহাজের ফুয়েল সেল, দীর্ঘস্থায়ী ড্রোনের শক্তি উৎস, এবং এমনকি বৈদ্যুতিক যানবাহনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সামরিক ও অসামরিক প্রযুক্তির এই সংমিশ্রণ চীনের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিকে আরও বহুমুখী করে তুলেছে। এই সাফল্যের অন্যতম মূল ভিত্তি হল চীনের নতুন ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রাইড উৎপাদন কেন্দ্র, এটি শানশি প্রদেশে স্থাপন করা হয়েছে। এই প্লান্ট “ওয়ান-পট সিন্থেসিস” নামক একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও কার্যকর পদ্ধতিতে বছরে ১৫০ টন ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রাইড উৎপাদন করতে সক্ষম। আগে যেখানে মাত্র কয়েক গ্রাম উৎপাদন করা হতো, এখন তা শত শত কেজিতে পৌঁছেছে।

এই বিপ্লবটি ঘটিয়েছে চীনের ডালিয়ান ইনস্টিটিউট অফ কেমিক্যাল ফিজিক্স। তাদের উন্নত উৎপাদন পদ্ধতি কেবলমাত্র নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেনি বরং অস্ত্র উৎপাদনের ঝুঁকিও অনেকাংশে কমিয়েছে। ইতিহাস সাক্ষ্য বলে, শক্তির উপর আধিপত্যের মাধ্যমেই সাম্রাজ্য ও আধিপত্য বিস্তৃত হয়েছে। এক সময় ফুয়েল-চালিত স্টিমার ছিল আধুনিকতার প্রতীক, পরে নিউক্লিয়ার বোমা হয়ে উঠেছে আধিপত্যের চূড়ান্ত হাতিয়ার। এখন সেই ইতিহাসে নতুন সংযোজন—নন-নিউক্লিয়ার হাইড্রোজেন প্রযুক্তি। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি বর্তমানে “সবুজ আধুনিকায়ন”-এর লক্ষ্যে কাজ করছে। এই প্রযুক্তি সেই লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ। একদিকে এটি ধ্বংসের নতুন রূপ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শক্তির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে চীনের প্রতিরক্ষা নীতি।

এই নন-নিউক্লিয়ার হাইড্রোজেন বোমা আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে শক্তি কেবল ধ্বংসের হাতিয়ার নয়, বরং টেকসই ভবিষ্যতেরও বাহক হতে পারে। চীন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যেখানে একদিকে সামরিক আধিপত্যের কৌশল রচনা করছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের টেকসই শক্তি ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও পথপ্রদর্শক হয়ে উঠছে।

হাজার হাজার আফগান , ফেরত পাঠাচ্ছে পাকিস্তান

এপ্রিল মাসে পাকিস্তান থেকে আফগান নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ আফগান নাগরিককে পাকিস্তান থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। জাতিসংঘের মতে, ৩০ এপ্রিলের মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার আফগান দেশে ফিরে যেতে পারেন। পাকিস্তান সরকার দাবি করছে যে তারা এত বিপুলসংখ্যক অনিবন্ধিত অভিবাসীকে আর ঠাঁই দিতে পারছে না। এর মধ্যে এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যাদের অস্থায়ী থাকার অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং তাদেরকেও দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিদিন ৭০০-৮০০ পরিবারকে পাকিস্তান থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক মাসে আফগান বহিষ্কারের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। আফগানিস্তানে ফেরত আসা অনেকেই জানান, তারা পাকিস্তানে জন্মেছেন কিংবা দীর্ঘকাল সেখানেই বসবাস করেছেন। অনেকের জন্য আফগানিস্তানে ফিরে আসা এক নতুন অভিজ্ঞতা, কারণ তারা কখনো দেশটি দেখেননি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সম্প্রতি কাবুল সফর করেছেন এবং তালেবান সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন।আফগান সরকার এই ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বলছে যে, এত বিপুল সংখ্যক মানুষের ফিরে আসার কারণে দেশটির মানবিক ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। তালেবান সরকার আফগান পরিবারের জন্য কিছু আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেও, ক্যাম্পগুলোর সংকট গুরুতর হয়ে উঠেছে।

তোরখাম সীমান্তে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন ফেরত যাচ্ছে। নারী ও পুরুষরা আলাদা লাইনে দাঁড়িয়ে সীমান্ত পার হচ্ছে, যেখানে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনী কঠোর নজরদারি করছে। অনেক বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষকে স্ট্রেচার বা বিছানায় শুইয়ে সীমান্ত পার করানো হচ্ছে। আফগানিস্তানে ফেরত আসা মানুষদের জন্য তালেবান সরকার ৪-১০ হাজার আফগানি সহায়তা প্রদান করছে, তবে তা সীমিত এবং অনেক ক্যাম্পে খাবার, আশ্রয় ও পরিবহনের জন্য সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই হঠাৎ বৃদ্ধি আফগানিস্তানের দুর্বল অর্থনীতি ও অবকাঠামোর ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে। আফগান নাগরিকদের পাকিস্তান থেকে ফেরত পাঠানোর এই প্রচেষ্টায় নানা মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করছে যে, পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষীরা অনেককে ব্যক্তিগত মালপত্র নিয়ে যেতে বাধা দিয়েছে, যদিও পাকিস্তান সরকার এ বিষয়ে কোনো নীতি অবলম্বন করার কথা অস্বীকার করেছে।