Home Blog Page 106

যেদিকে তাকাই , ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট দেখি : লুৎফে সিদ্দিকী

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেছেন, ‘যেদিকে তাকাই, ব্যবসায়ীদের কোনো না কোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় দেখি। আমরা যেসব কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে পারছি না, তার অন্যতম কারণ হলো ব্যবসায়ী মহলের অনেকেই সরকারের সঙ্গে নিজেদের স্বার্থে গোপনে সমঝোতায় যান।’

শনিবার রাজধানীর বনানীতে একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ ২০৩০ : অংশীদারত্বমূলক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে’ শীর্ষক বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসায়ের পক্ষে, কারণ আমি আমার পেশাগত জীবনের বেশির ভাগ সময়ই বেসরকারি খাতে কাটিয়েছি। কিন্তু সত্যিটা হচ্ছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) হোক বা অন্য কোনো খাত, আমরা যেসব কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে পারছি না, তার অন্যতম কারণ হলো ব্যবসায়ী মহলের অনেকেই সরকারের সঙ্গে নিজেদের স্বার্থে গোপনে সমঝোতায় যান।’

সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, অনেকে সেমিনারে এসে বড় বড় কথা বলেন, বলেন কীভাবে কাঠামোগত পরিবর্তন দরকার। অথচ পরে দেখা যায়, তাঁরা নিজেরাই কোনো মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গোপনে চুক্তিতে গেছেন, যা পুরো পরিবর্তনের প্রয়াসকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে।

আলোচনায় লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ‘জনসমক্ষে তেমন অগ্রগতি দেখা না গেলেও অর্থনীতি বিষয়ক শ্বেতপত্র বা হোয়াইট পেপারের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কীভাবে সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, সেদিকেই আমাদের মূল মনোযোগ রয়েছে।’

আজটেক সাম্রাজ্যের পতন – ষড়যন্ত্র তত্ত্ব

আজটেক সাম্রাজ্য একসময় মেক্সিকোর কেন্দ্রীয় অংশে বিস্তৃত ছিল ও পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ সভ্যতা হিসেবে পরিচিত ছিল। তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, শিল্পকলা, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং দক্ষতা আজও ইতিহাসবিদদের আকর্ষণ করে। তবে আজটেকদের সমৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

১৫২১ সালে তাদের রাজধানী তেনোচটিতলান স্প্যানিশ কনকুইস্টাডোরদের হাতে পতিত হয় এবং এই ঘটনা ইতিহাসের অন্যতম গুরত্বপূর্ণ ও রহস্যময় অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজটেক সাম্রাজ্যের পতনের সঙ্গে অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব জড়িয়ে আছে, যার মধ্যে রাজ্য ভাঙনের পিছনে রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় এবং জাতিগত ষড়যন্ত্রের কথা উঠে এসেছে। তবে, ইতিহাসের এই অন্ধকার অধ্যায়টি শুধু স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না—এতে গভীর রাজনৈতিক হিসাব, প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির শক্তিশালী প্রভাব এবং আজটেকদের ভেতরে থাকা অন্তর্দ্বন্দ্বের বিশ্লেষণ নিহিত।

আজটেকরা মেক্সিকোর কেন্দ্রীয় হ্রদে অবস্থিত তেনোচটিতলান শহরকে তাদের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। ১৩২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শহরটি চমৎকার জলপথে ঘেরা ছিল এবং এর চারপাশে ছিল নানা ধরনের কৃষি ব্যবস্থা, উন্নত শিল্পকলা এবং একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী। সাম্রাজ্যটি প্রায় ৫ মিলিয়ন মানুষের বাসস্থান ছিল এবং তাদের সমাজ ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত সংগঠিত, যেখানে সামাজিক শ্রেণি, ধর্মীয় নিয়ম এবং আইনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ছিল। আজটেকদের ধর্ম ছিল প্যাঁথিওনবাদী, যেখানে তারা বিভিন্ন দেবতাকে পূজা করত এবং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে যুদ্ধ, মানব বলিদান এবং সূর্য দেবতার সম্মানে চরম আস্থা ছিল।

১৫১৯ সালে স্প্যানিশ অভিযানকারী এরনান কোর্তেস তেনোচটিতলান শহরে পৌঁছান। কোর্তেসের বাহিনী ছিল ছোট, মাত্র ৫০০ জনের মতো সৈন্য, তবে তার সঙ্গে ছিল কিছু শক্তিশালী অস্ত্র এবং ঘোড়া, যা স্থানীয় জনগণের কাছে অচেনা ছিল। প্রথমদিকে কোর্তেসের আগমনকে সাদরে গ্রহণ করা হয়, বিশেষ করে যখন তিনি আজটেক সম্রাট মোকটেজুমা দ্বিতীয়কে সম্ভ্রান্ত অতিথি হিসেবে পরিচিতি দেন। তবে কিছু বিশেষ কারণ, যার মধ্যে ছিল আজটেকদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং সাম্রাজ্যের শাসনের প্রতি অসন্তোষ, কোর্তেসের সাথে মিত্রতা গড়তে সহযোগিতা করেছিল স্থানীয় উপজাতিগুলোর মধ্যে।

আজটেক সাম্রাজ্যের পতনের পেছনে একাধিক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব রয়েছে। প্রথম তত্ত্বটি হলো আজটেক সম্রাট মোকটেজুমা দ্বিতীয় ছিলেন এক দুর্বল শাসক, যিনি পরিণতির পূর্বেই তার রাজত্ব হারাতে বাধ্য হন। কিছু গবেষক মনে করেন, তার সম্রাট হওয়ার প্রক্রিয়া ছিল জটিল এবং অনেকটাই রাজনৈতিক কারসাজির ফল। সম্রাট মোকটেজুমা দ্বিতীয় যেমন রাজনৈতিকভাবে দুর্বল ছিলেন, তেমনি তিনি তার শত্রুদের প্রতি অনেকটাই বিশ্বাসী ছিলেন। স্প্যানিশদের সঙ্গে তার আলোচনায় সাহায্য করার জন্য, তিনি স্থানীয় জনগণকে বোঝাতে অক্ষম ছিলেন। তার শাসনের মধ্যে শাসকগণের প্রতি অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং তারা মনে করত যে, তার দুর্বল নেতৃত্ব সাম্রাজ্যের পতনের অন্যতম কারণ হতে পারে।

তবে এর চেয়ে আরও গভীর একটি তত্ত্ব হল আজটেকদের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং রাজনৈতিক বিরোধ। সেসময় আজটেক সমাজে বিভিন্ন অঞ্চল ও উপজাতির মধ্যে মারাত্মক সংঘাত চলছিল। বিশেষ করে, আজটেকদের প্রাথমিক শত্রু, যেমন টলটেকরা, যারা একসময় তাদের সাথে মিত্র ছিল, তারা স্প্যানিশদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। কিছু ইতিহাসবিদ মনে করেন, স্প্যানিশ কনকুইস্টাডোরদের মাধ্যমে আজটেক সাম্রাজ্যকে পরাজিত করার পিছনে টলটেকদের ব্যাপক ষড়যন্ত্র কাজ করেছে। তারা জানত, স্প্যানিশরা যোদ্ধা হিসেবে অত্যন্ত দক্ষ এবং তারা একটি জাতিগত বিদ্রোহে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করবে।

স্প্যানিশ শক্তির প্রতিনিধিত্ব করা কোর্তেস ছিলেন অত্যন্ত চতুর এবং কৌশলী। তার প্রথম কাজ ছিল আজটেক শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধগুলোকে শোষণ করা। কোর্তেস এবং তার মিত্র উপজাতি স্প্যানিশদের আগমনের পূর্বে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করেছিল। এই পরিকল্পনা ছিল এক বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ, যা সাম্রাজ্যের পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল।

আজটেকদের ধর্মীয় বিশ্বাসও এই ষড়যন্ত্রের পেছনে এক বড় কারণ ছিল। তাদের বিশ্বাস ছিল যে, সূর্য দেবতাকে পূর্ণ শক্তিতে রাখতে হলে, মানব বলিদান করা দরকার। কিছু ইতিহাসবিদ বিশ্বাস করেন, এই ধর্মীয় বিশ্বাসও তাদের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছিল। মেক্সিকো অঞ্চলের বিভিন্ন উপজাতি, বিশেষ করে যারা আজটেকদের শাসন থেকে মুক্ত হতে চাইছিল, তাদের মধ্যে এই ধর্মীয় অত্যাচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছিল। স্প্যানিশ কনকুইস্টাডোররা এই ক্ষোভের ফায়দা তুলে আজটেকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে অংশ নিতেছিল।

আজটেক সাম্রাজ্যের পতন ছিল একটি বহুস্তরীয় ষড়যন্ত্রের ফল। এটি কেবল একটি সামরিক অভিযানের ফল নয় বরং একাধিক রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় এবং জাতিগত উত্তেজনার সম্মিলিত প্রভাব ছিল। স্প্যানিশ কনকুইস্টাডোররা কৌশলে আজটেকদের ভিতরকার বিভাজন এবং অসন্তোষকে কাজে লাগিয়েছিল, যা তাদের পতনের পথে এক বড় ভূমিকা পালন করেছে। আজটেকদের শাসকদের দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ শত্রুতা এবং ধর্মীয় অত্যাচার, সব মিলিয়ে স্প্যানিশ বিজয়ের পথকে মসৃণ করে দিয়েছিল। কিন্তু এটি এক বিস্ময়কর রাজনৈতিক কৌশলও ছিল—যা ইতিহাসে একটি চিরকালীন রহস্য হিসেবে রয়ে যাবে।

গবেষণায় দেখা যাচ্ছে , ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিতে বেশি আছেন বিবাহিতরা

বিয়ে কি মস্তিষ্কের জন্য ভালো? এতদিন ধরে প্রচলিত ধারণা ছিল, বিয়ে মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ডিভোর্স হওয়া কিংবা অবিবাহিত মানুষের তুলনায় বিয়ে করা মানুষের ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রষ্টতা) হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

গবেষণাটি ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটি (যুক্তরাষ্ট্র) এবং ইউনিভার্সিটি অব মন্টপেলিয়ার (ফ্রান্স)-এর গবেষকদের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়েছে। Alzheimer’s & Dementia জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাটি ১৮ বছরব্যাপী চলে এবং এতে ২৪,০০০ জন অংশগ্রহণ করেন। গবেষণার শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের কারও ডিমেনশিয়া ছিল না। ১৮ বছর ধরে তাদের স্বাস্থ্যের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

ফলাফলে দেখা যায়, বিবাহিতদের মধ্যে ২২% ব্যক্তি পরবর্তীকালে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হন। অন্যদিকে ডিভোর্স হওয়া ও অবিবাহিতদের মধ্যে মাত্র ১৩% মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হন। গবেষকরা বয়স, স্বাস্থ্যের অন্যান্য সমস্যা, জীবনধারাগত অভ্যাস এবং জেনেটিক (আণুবংশিক) ঝুঁকি বিবেচনা করেও একই ফলাফল পান।

গবেষণায় আরও উঠে আসে, অবিবাহিত ও ডিভোর্স হওয়া ব্যক্তিদের Alzheimer’s disease ও Lewy body dementia-এর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। তবে vascular dementia-এর ঝুঁকির ক্ষেত্রে বিয়ে থাকার কোনও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়নি। পাশাপাশি দেখা গেছে, অবিবাহিত ব্যক্তিরা সাধারণত মৃদু স্মৃতিভ্রষ্টতা (mild cognitive impairment) থেকেও পূর্ণ ডিমেনশিয়ায় সহজে রূপান্তরিত হন না।

এই তথ্যগুলো দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে যে, বিয়ে মানেই মস্তিষ্কের সুরক্ষা। এখন গবেষকরা বলছেন—বিয়ে নয়, বরং মানুষের সামাজিক সংযোগের দৃঢ়তাই আসল।

২০২২ সালে Frontiers in Aging Neuroscience-এ প্রকাশিত আরেক গবেষণায় দেখা যায়—বিয়ে থাকুক বা না থাকুক, যার সামাজিক নেটওয়ার্ক মজবুত, তার স্মৃতিশক্তি ভালো থাকে ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

এই গবেষণাগুলো থেকে বোঝা যায়—মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো সামাজিক-মানসিক সংযোগ বজায় রাখা। বিয়ে থাকুক বা না থাকুক, বন্ধুত্ব, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক সম্পৃক্ততা থাকলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কম থাকে। সুতরাং শুধু বিয়ের দোহাই দিয়ে মানসিক নিঃসঙ্গতা লুকানো যাবে না। সত্যিকারের সংযোগই মস্তিষ্কের আসল আশ্রয়।

ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে , গুরুত্ব দিচ্ছে আরব দেশগুলো : চার্লি ক্যাম্পবেল , এডিটর অ্যাট লার্জ , টাইম

“… ২০১৬ ও ২০১৯ সালে কাশ্মীর নিয়ে শেষবার দুই দেশের মধ্যে বড় রকমের সংঘর্ষ হয়। তখন পরিস্থিতি ঠান্ডা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে এবার মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছে একদল অপ্রত্যাশিত খেলোয়াড়। তারা হলো উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো। বিশেষ করে সৌদি আরব এখন শান্তি প্রতিষ্ঠায় নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবেইর সম্প্রতি হঠাৎ ভারত সফরে আসেন। তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, উত্তেজনা প্রশমনে সাহায্য করা। সৌদি আরবের পক্ষে এই শান্তির চেষ্টা খুবই স্বাভাবিক। কারণ, সৌদিতে বর্তমানে প্রায় ২৬ লাখ ভারতীয় শ্রমিক কাজ করেন। সেখানে আছেন প্রায় সমানসংখ্যক পাকিস্তানিও।

কাশ্মীর হামলার সময় মোদি ছিলেন জেদ্দায়। সেখানে তিনি ‘ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর’ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। সেই সঙ্গে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি নিয়েও কথা হচ্ছিল।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উপমহাদেশের চারপাশের কূটনৈতিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন এসেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব এখন অনেক বেড়েছে।

আগে সেখানে আদর্শ ও ধর্ম ছিল পররাষ্ট্রনীতির চালিকা শক্তি। এখন সেখানে জায়গা নিয়েছে স্বার্থ। এরই উদাহরণ হলো সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনা।

… এখন সৌদি আরব ছাড়াও কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এখানে যুক্ত। তবে তারা তাদের পুরোনো কায়দামতো এখন আর ধর্মীয় সংহতির দোহাই দিয়ে আগুনে ঘি ঢালছে না। কাশ্মীর সমস্যায় কাতার ও আরব আমিরাত পাকিস্তানকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি ভারতের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে কাতার। অন্তত ভারতের সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী এমনটাই বলা হচ্ছে।

… ধর্ম, আদর্শ বা মূল্যবোধ নয়; এখানে সবকিছুর কেন্দ্রে আছে কেবল স্বার্থ। বহু বছর ধরে পাকিস্তান ধরেই রেখেছিল যে, মুসলিম দেশ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলো তার পাশে দাঁড়াবেই। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে এই ধারণা বদলানো ছাড়া পাকিস্তানের উপায় নেই।

ধর্মীয় পার্থক্য ও আদর্শগত অমিল থাকা সত্ত্বেও ভারত আজ উপসাগরীয় অঞ্চলে এক প্রভাবশালী বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

… পাকিস্তান যেমন মুসলিম দেশ, তার প্রতিবেশী ইরানও শিয়া মুসলিম দেশ। পাকিস্তানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিয়া মুসলিম বাস করেন। কিন্তু ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের চেয়ে ভারতের সম্পর্কই তুলনামূলকভাবে বেশি ভালো বলে উল্লেখ করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতীয়দের উদ্দেশে আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে তেহরান। গত বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামাবাদ থেকে সরাসরি দিল্লিতে এসে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন।

ইরানের সঙ্গে ভারতের বহু পুরোনো অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এর একটি বড় অংশ চাবাহার বন্দরের উন্নয়ন ও পরিচালনার সঙ্গে জড়িত। এই প্রকল্পে ভারত ইতিমধ্যে ১২ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য দিয়েছে আরও ২৫ কোটি ডলারের ঋণ। উপসাগরীয় অনেক দেশের মতো ইরানও এখন ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত এই অঞ্চলের কোনো পক্ষই চায় না ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে আরেকটি যুদ্ধ হোক।…কূটনৈতিকভাবে উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমানো গেলেও তা কোনো স্থায়ী সমাধান হবে না। এখন থেকে এই অঞ্চলে শান্তি রক্ষা করতে হলে চাই লাগাতার আন্তরিক এবং সতর্ক মধ্যস্থতা। “


সুইজারল্যান্ডে চীন-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা , বাণিজ্যযুদ্ধে সাময়িক বিরতির সম্ভাবনা

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুরু হওয়া চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের বাণিজ্য আলোচনার দিকে দৃষ্টি রাখছে বিশ্ববাজার। দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হলেও আলোচনার মাধ্যমে দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তির মধ্যকার চলমান বাণিজ্যযুদ্ধে অন্তত একটি সাময়িক বিরতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উত্তেজনা প্রশমনে দু’দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা শনিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক গোপনীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান দুই শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য সংঘাত চলছে, যার প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হয়েছে। ট্যারিফ, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার সুবিধা নিয়ে বিরোধের কারণে সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে।

বর্তমানে চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্কহার দাঁড়িয়েছে ১৪৫%, যা কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে বেড়ে ২৪৫% পর্যন্ত পৌঁছেছে। জবাবে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে ১২৫% শুল্ক আরোপ করেছে। এতে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ চেইনে বিপর্যয়, আর্থিক বাজারে অস্থিরতা এবং মন্দার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার দাবি করেন, চীন আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও বেইজিং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রই এই আলোচনার অনুরোধ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে উল্লেখ করেন, চীনা পণ্যের ওপর ৮০% শুল্ক “যথোপযুক্ত”। যদিও বর্তমানে শুল্কহার এরও অনেক বেশি, এই মন্তব্য আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

শুধু বাণিজ্য নয়, প্রযুক্তি, ফেন্টানিল পাচার ও ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা আন্তর্জাতিক ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র চাচ্ছে, চীন যেন অভ্যন্তরীণ বাজার উন্মুক্ত করে, আমেরিকান পণ্য বেশি আমদানি করে এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক মডেল থেকে সরে এসে আরও ভোক্তাকেন্দ্রিক অর্থনীতির পথে হাঁটুক। কিন্তু এ দাবি মানতে গেলে চীনকে শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে ব্যয়বহুল সংস্কার করতে হবে, যা তারা সহজে মেনে নিতে চায় না। চীন বরং চাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার, চীনকে কী কী পণ্য বেশি কিনতে হবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটিকে সমমর্যাদার অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হোক।

এ দ্বন্দ্বমূলক অবস্থান থেকেই স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি বৈঠকটিতে হওয়া সম্ভব নয়। সম্ভাব্য একটি মধ্যমপন্থা হতে পারে। তা হলো ১৪৫% শুল্ক হার কিছুটা কমিয়ে ৮০ বা ৬০ শতাংশে নামিয়ে আনা ও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক সম্মতি প্রদান। যদিও এ আলোচনার ফলাফলকে উভয় পক্ষই নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারে, কিন্তু মূল কাঠামোগত সমস্যা থেকে যাবে। বিশ্বব্যবস্থায় একদিকে সস্তা চীনা উৎপাদন, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ ভোক্তা চাহিদা নির্ভরতা থেকেই বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান আসছে না।

অভিযোজন ও ঐতিহ্যে – হোমো হাইডেলবারজেনসিস

মানব ইতিহাসের গভীর প্রান্তরে এমন কিছু পূর্বপুরুষ বাস করত, যাদের অস্তিত্ব আমাদের আধুনিক পরিচয়কে বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়। হোমো হাইডেলবারজেনসিস (Homo heidelbergensis) তাদের মধ্যে অন্যতম। এমন এক মানব প্রজাতি, যারা আমাদের এবং নিয়ান্ডারথাল ও ডেনিসোভানদের মাঝে এক সেতুবন্ধন হিসেবে বিবর্তনের গল্পে স্থান পেয়েছে। ১৯০৭ সালে জার্মানির হাইডেলবার্গ শহরের কাছাকাছি মাউয়ের (Mauer) নামক স্থানে একটি বিশালাকৃতির নিম্ন চোয়ালের হাড় আবিষ্কৃত হয়। জীবাশ্মবিদ ওটো শটেনশ্যাক (Otto Schoetensack) এই চোয়ালটিকে সেই সময়কার পরিচিত প্রজাতি থেকে ভিন্ন বলে উল্লেখ করেন এবং এর নামকরণ করেন হোমো হাইডেলবারজেনসিস — যার অর্থ, “হাইডেলবার্গ থেকে আগত মানুষ”। এই চোয়ালের গঠন ছিল ঘন ও শক্ত, দাঁতগুলো আধুনিক মানুষের তুলনায় বড়, তবে অনেক দিক থেকে এটি আমাদের আজকের মুখগহ্বরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণও ছিল।

হোমো হাইডেলবারজেনসিস-এর বসবাসকাল ছিল আনুমানিক ৬ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ বছর পূর্বে, মধ্য প্লাইস্টোসিন যুগে (Middle Pleistocene)। এর জীবাশ্ম বিভিন্ন মহাদেশে পাওয়া গেছে — বিশেষ করে ইউরোপ (জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড), আফ্রিকা (জাম্বিয়া, ইথিওপিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা) এবং পশ্চিম এশিয়া (ইসরায়েল)। এই বিস্তৃত ভৌগলিক উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে তারা অত্যন্ত অভিযোজিত ও পরিবেশনির্ভর বৈচিত্র্যময় জীবনধারা গড়ে তুলেছিল। হোমো হাইডেলবারজেনসিস-এর গঠন ছিল আমাদের আধুনিক মানুষের তুলনায় বলিষ্ঠ এবং দৃঢ়। তাদের উচ্চতা আনুমানিক ১.৬-১.৮ মিটার (৫’৩”–৫’১১”) এবং ওজন প্রায় ৬০–১০০ কেজি।

তাদের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য –

মস্তিষ্কের আকার ছিলো ১১০০–১৪০০ ঘন সেন্টিমিটার³, যা Homo erectus-এর চেয়ে বড় এবং Neanderthal ও আধুনিক মানুষের কাছাকাছি। মুখাবয়ব প্রশস্ত নাসারন্ধ্র (নাকের ছিদ্র) এবং বড় অরবিটাল (চোখের খাপ), যা ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য উপযোগী হতে পারে। কঠিন খাদ্যগ্রহণের জন্য উপযোগী বড় দাঁত ও শক্তিশালী চোয়াল। পেশিবহুল দেহ, মোটা হাড়, এবং প্রশস্ত বুক। এ সকল বৈশিষ্ট্য তাদেরকে কঠিন আবহাওয়া ও বড় শিকারের সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

হোমো হাইডেলবারজেনসিস-এর জীবনধারা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, তারা ছিল অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও দক্ষ শিকারী। তারা Acheulean প্রযুক্তি ব্যবহার করত — বিশেষ করে দ্বিমুখী হাতকুড়াল, স্ক্র্যাপার ও ছুরি জাতীয় পাথরের সরঞ্জাম। তাদের শিকারের লক্ষণীয় প্রমাণ মেলে স্পেনের Atapuerca (Sima de los Huesos) এবং ইংল্যান্ডের Boxgrove থেকে — যেখানে হাতি, গন্ডার, হরিণ প্রভৃতি বড় প্রাণীর হাড়ের পাশে অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হয়, তারা দলবদ্ধ শিকার করত। আগুন নিয়ন্ত্রণের দক্ষতাও তাদের ছিল বলে প্রমাণ রয়েছে। Sima de los Huesos গুহায় ২৮ জনের বেশি কঙ্কাল একত্রে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হয়, এটি ইচ্ছাকৃত সমাধি ছিল, যা মানব ইতিহাসের প্রথম দিকের মৃত্যুচিন্তা বা আচার নির্দেশ করে।

হোমো হাইডেলবারজেনসিস মানব বিবর্তনের এক সংযোগসেতু। আধুনিক প্যালিওআনথ্রোপোলজির মতে, ইউরোপীয় শাখা থেকে নিয়ান্ডারথাল (৪ লক্ষ–৪০ হাজার বছর পূর্বে) উদ্ভূত হয়। আফ্রিকান শাখা থেকে আধুনিক মানুষ (Homo sapiens) (৩ লক্ষ বছর পূর্বে) বিবর্তিত হয়। অনেকে মনে করেন, ডেনিসোভানদের (Denisovans) উদ্ভবও এই শাখার উপশাখা থেকে হয়েছে। হোমো হাইডেলবারজেনসিস আমাদের পূর্বপুরুষদের সেই গোষ্ঠী যারা শারীরিক শক্তি, সামাজিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছিল। তারা কেবল শিকারি ছিল না, বরং পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো এক বহুমাত্রিক মানবগোষ্ঠীও ছিল।

মার্কিন শুল্কের পরও বেড়েছে চীনের রপ্তানি

যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়া এবং ১৮৪টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক মন্দা দেখা দিয়েছে। শুল্ক হিসাব করলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ চীন। তবে রপ্তানির তথ্য বলছে, ট্রাম্পের এমন শুল্কের পরও চীনের অর্থনীতি নতুন বার্তা দিচ্ছে। গতকাল শুক্রবার দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এপ্রিলে তাদের রপ্তানি বেড়েছে।

গতকাল চীন জানিয়েছে, এপ্রিলে তাদের রপ্তানি ৮.১% শতাংশ বেড়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক তথ্য বিশ্লেষণী সংস্থা ব্লুমবার্গের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সময়ে চীনের রপ্তানি বেড়েছে ২%।

তবে, চীনের সার্বিক রপ্তানি বাড়লেও কমেছে যুক্তরাষ্ট্রে। মার্কিন মুলুকে চীনের রপ্তানি কমেছে ১৭.৬%। গতকাল শুক্রবার এই তথ্য পাওয়া গেছে চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের পক্ষ থেকে।

প্রতিষ্ঠানটি গতকাল জানিয়েছে, এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের পণ্য ঢুকেছে ৩ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের। এর আগের মাস অর্থাৎ মার্চে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার কোটি ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে চীনের আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া শুল্কনীতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও চলছে সমানতালে। যদিও গতকাল ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি চীনের ওপর আরোপ করা শুল্ক কমাবেন।

গতকালের এই ঘোষণার আগপর্যন্ত চীনের পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্কের পরিমাণ ছিল ২৪৫%। আর পাল্টা চীন দেশটির পণ্যের ওপর ১২৫% শুল্ক আরোপ করেছিল।

ভারত-পাকিস্তান সংঘাত বন্ধে – সংলাপের আহ্বান জানালো যুক্তরাষ্ট্র , চীন ও জি-৭

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধ এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭।

শনিবার সকালে প্রকাশিত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পৃথক ফোনকলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মণ্যম জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি উভয় পক্ষকে ‘ভুল হিসাব-নিকাশ’ এড়াতে সরাসরি যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠার উপায় বের করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

এর আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গেও কথা বলেছেন মার্কো রুবিও। তিনি উত্তেজনা কমানোর উপায় খুঁজে বের করার জন্য উভয় পক্ষকে অনুরোধ করেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘ভবিষ্যতের সংঘাত এড়াতে’ মধ্যস্থতা করার জন্য মার্কিন সহায়তার প্রস্তাবও দিয়েছেন। পাকিস্তানি বা ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনকলে মার্কিন সহায়তার এই ধরনের প্রস্তাবের কথা এই প্রথম উল্লেখ করা হলো।

এদিকে, শনিবার বেইজিং থেকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা ভারত ও পাকিস্তান উভয়কে শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার, শান্ত ও সংযত থাকার, শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাজনৈতিক সমাধানের পথে ফিরে আসার এবং উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে এমন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার উদাত্ত আহ্বান জানাই।’

অন্যদিকে, শুক্রবার বিশ্বের ধনী সাত দেশের জোট জি-৭ ভারত ও পাকিস্তানের সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক বিবৃতিতে ‘অবিলম্বে উত্তেজনা কমানো’ এবং ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘আরও সামরিক উত্তেজনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি।’ তারা আরও বলেন, দুই দেশেরই ‘শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে সরাসরি সংলাপে বসা উচিত।’

উপনিষদ থেকে আধুনিক মনদর্শনের সেতুবন্ধন

চেতনা মানব সভ্যতার অন্যতম প্রাচীন ও কঠিনতম রহস্য। আধুনিক মনদর্শনে ডেভিড চ্যালমার্স ১৯৯৫ সালে “Hard Problem of Consciousness” শব্দগুচ্ছ প্রচলন করেন, যার মূল প্রশ্ন “কেন আমাদের জীবনীশক্তি, অনুভূতি, রং, সৌন্দর্য, বেদনা—এসব কেবল পদার্থবিদ্যা বা স্নায়ুবিজ্ঞানের ক্রিয়া নয়, বরং অভ্যন্তরীণভাবে অনুভূত হয়?” চেতনার এই ‘কঠিন সমস্যা’ শুধুমাত্র নিউরন, কোষ, কিংবা স্নায়ুতন্ত্র দিয়ে ব্যাখ্যাতীত বলে বিবেচিত হয়।

অন্যদিকে প্রাচীন ভারতীয় দর্শন বিশেষত উপনিষদ, বেদান্ত ও যোগশাস্ত্রে চেতনা, আত্মা ও বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সম্পর্ককে অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও মেটাফিজিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়েছে। আনন্দ বৈদ্যের গবেষণাপত্র এই দুই দুনিয়ার সেতুবন্ধনের চেষ্টা করে কীভাবে উপনিষদীয় ‘প্রকাশ’ ধারণা আধুনিক চেতনা-তত্ত্বকে নতুন আলোকপাত করতে পারে।

চ্যালমার্স তাঁর মৌলিক যুক্তিতে বলেন মানুষের মস্তিষ্ক তথ্য প্রক্রিয়া, আচরণ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি সহজভাবে ব্যাখ্যা করা যায় (Easy Problems)। তবে অভিজ্ঞতার অন্তর্নিহিত গুণাবলি রঙের অনুভূতি (qualia), বেদনার আস্বাদ, প্রেমের স্পর্শ—এসব ‘কেন অনুভূত হয়’—এ প্রশ্ন উত্তরহীন।

উদাহরণস্বরূপ একটি লাল গোলাপের দিকে তাকালে আমাদের মস্তিষ্কে আলো প্রবাহ, রেটিনা-ক্রিয়া, স্নায়ু সংকেত পাঠায়। এগুলো যান্ত্রিকভাবে ব্যাখ্যাতীত নয়। কিন্তু “কেন এইসব প্রক্রিয়ার ফলে লাল রঙ কেমন লাগে” —এ প্রশ্ন একান্তই অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতা, যা পদার্থবিদ্যার ভাষায় ধরা পড়ে না।
চ্যালমার্সের ‘ফিলোসফিক্যাল জম্বি’ চিন্তা-পরীক্ষা এই বিভাজনকে স্পষ্ট করে। এই জম্বি আমাদের মতোই সবকিছু করে, কিন্তু তার ‘অভ্যন্তরীণ কিছু অনুভব নেই’। তাহলে অভিজ্ঞতার উৎস কী? নিউরনের বাইরে কি কিছু রয়েছে?

কঠ উপনিষদে যম ও নচিকেতার সংলাপে ‘আত্মা’ ও ‘ব্রহ্মন’-এর অনুপম ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। যম বলেন— “আত্মা সর্বত্র বিরাজমান, চেতনা যার মূল, সে-ই চূড়ান্ত সত্য। দেহ ক্ষয় হয়, অনুভূতি ক্ষণস্থায়ী; কিন্তু আত্মা চিরন্তন।”

প্রকাশ উপনিষদ ও বেদান্ত দর্শনে চেতনার মূল প্রতীক। এই ‘প্রকাশ’ একাধারে আলো ও অভ্যন্তরীণ জ্ঞানের রূপ। শঙ্করাচার্য বলেন— “আত্মা নিজ-প্রভা; চেতনা স্বয়ং আলোকিত। এটি বাহ্যিক আলো নয়; বরং এমন এক অন্তর্দৃষ্টির আলো, যা সকল বস্তুকে চেতনায় উদ্ভাসিত করে।”

এই দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী চেতনা স্ব-অস্তিত্বশীল (self-existent)। এটি অনুভবযোগ্য সকল অভিজ্ঞতার ভিত্তি। আনন্দ বৈদ্যের গবেষণাপত্র দেখায়—এই প্রকাশ ধারণা আসলে আধুনিক “foundational consciousness” তত্ত্বের সঙ্গে তুলনীয়। যেমন Integrated Information Theory (IIT) অনুসারে চেতনা কোনো বস্তুগত output নয়; বরং তথ্যসমন্বয়ের মানদণ্ডের ভিত্তিতে সর্বত্র সঞ্চারমান শক্তি।

ভারতীয় দর্শনের প্রকাশ-স্বপ্রভা ধারণা আধুনিক Panpsychism (চেতনা সর্বত্র) ও Galen Strawson-এর ‘Self-Intimating Consciousness’-এর সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ। Strawson বলেন—চেতনা এমন এক অভ্যন্তরীণ ব্যাপ্তি, যা সর্বদা নিজেকে অনুভব করে। এটি শুধু তথ্যপ্রক্রিয়া নয়; বরং অভ্যন্তরীণ ভাবে নিজের উপস্থিতির সাক্ষী। উপনিষদীয় সাক্ষি (Sākṣin) ধারণা এখানেই প্রাসঙ্গিক—চেতনা নিজের সত্তারই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা।

উপনিষদীয় দর্শনে চেতনার আলোচনা কেবল জ্ঞানতাত্ত্বিক নয়, বরং আত্মার মুক্তির সাথে যুক্ত। মাণ্ডুক্য উপনিষদ বলে জাগ্রত (waking), স্বপ্ন (dreaming), নিদ্রা (deep sleep) অবস্থা ছাড়াও চতুর্থ (Turiya) অবস্থা রয়েছে—যেখানে আত্মা ব্রহ্মনের সঙ্গে একীভূত। এই অবস্থাই চেতনার পরম রূপ।

আধুনিক ভাষায় বললে, এই চতুর্থ অবস্থা চেতনার non-dual awareness-এর সমতুল্য। Sam Harris-এর ‘Waking Up’ গ্রন্থে এই ধারণার আধুনিক প্রতিফলন আছে যেখানে চেতনা থেকে ‘আমি-ভাব’ (ego) বিলীন হয় এবং শুধু বিশুদ্ধ চেতনা থাকে। আনন্দ বৈদ্যের কাজও এই তুলনা তোলে—“Can the Upanishadic Turiya help answer Hard Problem?”

আনন্দ বৈদ্যের গবেষণাপত্র দেখায় উপনিষদীয় দর্শন ও সমকালীন মনদর্শনের মধ্যে অন্তর্গত সংযোগ সম্ভব। প্রথমত উপনিষদ বলে, চেতনা fundamental reality, যা নিউরাল output নয়। দ্বিতীয়ত—প্রকাশ-স্বপ্রভা ধারণা চেতনার intrinsic awareness-এর ব্যাখ্যা দেয়, যা modern analytic philosophy-তেও অনুপস্থিত নয়। তৃতীয়ত—আত্মা-ব্রহ্মন সমতা (Aham Brahmasmi)—চেতনার সর্বব্যাপী স্বরূপের ব্যাখ্যা দেয়, যা Panpsychism ও Cosmopsychism ধারার সঙ্গে তুলনীয়।

এখানে আনন্দ বৈদ্যের অন্তর্দৃষ্টি মূল্যবান—“Indian Metaphysics can help reframe consciousness studies not as mechanistic but as experiential and foundational.” অর্থাৎ চেতনার গবেষণাকে শুধু নিউরোসায়েন্স বা কগনিটিভ সায়েন্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা অভ্যন্তরীণ চেতনাবিজ্ঞানের আলোয় বিচার করতে হবে।

চেতনার কঠিন সমস্যা আজও মানবজ্ঞান ও বিজ্ঞানের সীমা প্রসারণের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। তবে উপনিষদীয় প্রকাশ-ব্রহ্মপ্রকাশ ধারণা আমাদের স্মরণ করায় চেতনা কেবল একটি শারীরিক প্রক্রিয়া নয়; বরং তা বাস্তবতার সর্বোচ্চ স্তর।

আজকের দিনে আমরা নতুন করে ভাবতে পারি—চেতনা কি আলো? নাকি আলোই চেতনা? হয়তো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের উপনিষদীয় দর্শনের গূঢ় গহ্বরেই ফিরতে হবে।

বিনিয়োগের অনেক সার্কাস দেখতে পাচ্ছি : আমীর খসরু

দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ আসবে না বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার চট্টগ্রামে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে ‘কর্মসংস্থান ও বহুমাত্রিক শিল্পায়ন নিয়ে তারুণ্যের ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ বিএনপি নেতা — দেশে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সম্মেলন ও অন্তর্বর্তী সরকারের বিনিয়োগ চেষ্টাকে ‘সার্কাসের’ সঙ্গে তুলনা করেন।

তিনি বলেন — “যারা বিনিয়োগ বুঝে, তারা জানে। এই সার্কাসের মাধ্যমে বিনিয়োগ হবে না। বিনিয়োগ হতে হলে বাংলাদেশে নির্বাচিত, স্থিতিশীল সরকার হতে হবে। তখনই বিনিয়োগকারীরা আশ্বস্ত হয় এবং সেই সরকারের পলিসি দেখে, সেই সরকারের অ্যাটিচিউড দেখে বিনিয়োগ করেন।”

সাম্প্রতিক বিনিয়োগ সম্মেলন নিয়ে তিনি বলেন, “এখানে যে বিনিয়োগ সম্মেলন হয়েছে, আমরা ওদের (বিনিয়োগকারীরা) সাথে কথা বলেছি। সব কথার শেষ কথা ওরা কী জিজ্ঞেস করে জানেন? তোমাদের নির্বাচন কবে? এটা হল শেষ কথা। অর্থাৎ এক কথায় বুঝায় দিচ্ছে, ভাই নির্বাচন না হলে এখানে কোনো ইন্টেরিম কিংবা ‘ফ্লুইড সিচুয়েশন’, এই সিচুয়েশনে তো কেউ কমিটমেন্ট করবে না। সুতরাং এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

আমির খসরু আরো বলেন, “(বিনিয়োগ সম্মেলনে) আমরা অংশগ্রহণ করে বলেছি, যে তোমাদের চিন্তার কোনো কারণ নাই। আগামী দিনে যদি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকারে আসে, এইটা হচ্ছে আমাদের বিনিয়োগের নীতিমালা। আমাদের আগামী দিনের রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা কি, তারা যাতে আশ্বস্ত হয়, তারা যাতে তাদের প্রোগ্রামটা এখন থেকে শুরু করতে পারে। সরকার পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে আমরা বিনিয়োগে যেতে চাই।”

দলের প্রতিশ্রতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অনেকগুলো প্রমিসের মধ্যে আমরা একটা প্রমিস করেছি, ১৮ মাসে এক কোটি চাকরির ব্যবস্থা আমরা করব। এটা পলিটিক্যাল স্টেটমেন্ট না। আমরা সব হিসাব করে বলেছি। আমরা যে প্রোগ্রাম নিয়েছি তরুণসহ সকলকে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশে সেটা বাস্তবায়ন করতে পারব।”