Home Blog Page 103

মোদির ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ , ভারতকে আরও বিপদে ফেলবে : অপূর্বানন্দ , দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

“১২ মে, অর্থাৎ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার দুই দিন পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, …‘অপারেশন সিঁদুর’কে এখন থেকে ভারতের নতুন সন্ত্রাসবিরোধী নীতি হিসেবে দেখা হবে। তিনি এটিকে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে এক নতুন মানদণ্ড হিসেবে তুলে ধরেন।

মোদির ভাষণ শান্তির বার্তা দেওয়ার জন্য নয়, বরং এটি ছিল এটাই জানানোর জন্য যে–ভারত এখন স্থায়ীভাবে একরকম যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।

এই নতুন অবস্থা ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়, বরং মোদির জাতীয়তাবাদী ভোটারদের খুশি করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কারণ, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় হতাশ হয়েছিলেন।

পেহেলগামের সন্ত্রাসী হামলায় বেঁচে যাওয়া হিমাংশি নারওয়াল (যিনি তাঁর স্বামী নৌবাহিনীর কর্মকর্তা বিনয় নারওয়ালকে হারিয়েছেন) যখন শান্তির আহ্বান জানান এবং মুসলিম ও কাশ্মীরিদের নিশানা না বানাতে বলেন; তখন বিজেপিকে উল্টো পথে হেঁটে প্রতিশোধের ডাক দিতে ও মুসলিমবিরোধী বক্তব্য দিতে দেখা গেছে।

… ঘৃণামূলক বক্তব্যের পরপরই তার বাস্তব প্রভাব দেখা যায়। ভারতের নানা জায়গায় মুসলিম ও কাশ্মীরিদের ওপর হামলা হয়।…পাকিস্তানে হামলার সময় ভারতীয় গণমাধ্যমে একধরনের উন্মাদনা শুরু হয়। অনেকে পাকিস্তানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার আহ্বান জানায়।

… এ সময় যাঁরা ভিন্নমত পোষণ করছিলেন, তাঁদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভারত সরকার টুইটার (বর্তমানে এক্স) প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রায় আট হাজার অ্যাকাউন্ট ব্লক করতে বলে। এর মধ্যে ছিল বিবিসি উর্দু, আউটলুক ইন্ডিয়া, মাকতুব মিডিয়া, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অনুরাধা ভাসিন এবং রাজনৈতিক কনটেন্ট নির্মাতা অর্পিত শর্মার অ্যাকাউন্ট।

… এরপর বিজেপির কিছু অনলাইন সমর্থক ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিস্রির ওপর চড়াও হন, কারণ তিনি ভারতের পক্ষে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাঁকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ ও ‘কাপুরুষ’ বলে গালি দেওয়া হয়।…অবাক করার মতো বিষয় হলো, হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

… এখন যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ শেষ হয়নি, তার মানে দেশের মানুষের কাছ থেকে সম্পূর্ণ আনুগত্য চাওয়া হবে। বিরোধী দলগুলো আর সরকারের বিরুদ্ধে কোনো প্রশ্ন তোলার সাহস করবে না।

মুসলিমদের ওপর চাপ পড়বে এটি প্রমাণ করার জন্য যে তাঁরা দেশভক্ত। আর অর্থনৈতিক দুর্দশার জন্য (যার পেছনে সরকার নিজেই দায়ী) দোষ চাপিয়ে দেওয়া হবে যুদ্ধের ওপর। এ পরিস্থিতিতে বাক্‌স্বাধীনতা থাকবে ঠিকই, কিন্তু সেটা শুধু বিজেপির পক্ষে যাঁরা কথা বলবেন, তাঁদের জন্য।

ফলে বলা যায়, ভারতের গণতন্ত্র এখন যেন একধরনের ‘অসাড় অবস্থায়’ আছে। কারণ, দেশকে এখন বলা হচ্ছে—তোমার সামনে এক ‘চিরস্থায়ী শত্রু’ আছে এবং সেই শত্রুর বিরুদ্ধে একটা ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ চলছে। “


“আমি কোনো বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করিনি” : ক্রিস্টোফার নোলান , প্যাট্রিক হেইডম্যান (The Talks)

* মিঃ নোলান, ইন্টারস্টেলার থেকে দ্য প্রেস্টিজ, টেনেট এবং এখন ওপেনহাইমার, আপনার অধিকাংশ সিনেমাতেই বিজ্ঞানের একেকটি উপাদান রয়েছে। এর কারণ কী?

: আমার মনে হয় পদার্থবিজ্ঞান, বিজ্ঞান, মহাবিশ্ব ইত্যাদির প্রতি আমার প্রাথমিক আগ্রহ এসেছে আমার বেড়ে ওঠার সময় থেকেই। আমি বড় হয়েছি সত্তরের দশকের শেষ দিকে এবং তখন আমি ছোট ছিলাম, জর্জ লুকাসের প্রথম স্টার ওয়ার্স বের হয়েছিল এবং আমার জন্য সাইন্স-ফিকশন ছিল এমন কিছু যেটা কল্পনাশক্তিকে প্রচণ্ডভাবে উদ্দীপ্ত করত। আর সেই কারণে, বিজ্ঞানের উপস্থাপনা-বিশেষ করে কার্ল সাগানের ‘কসমস’-এর মতো প্রোগ্রামগুলো-বিজ্ঞানের প্রতি আমাদের আগ্রহকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করত। এটা আমার সঙ্গেই রয়ে গেছে এবং আমি এটা ইন্টারস্টেলার-এর মতো সিনেমায় খুব কাজে লাগিয়েছি, যেখানে আমি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী কিপ থোর্নের সঙ্গে কাজ করেছি। এটা আমাদের দেখিয়েছে মহাবিশ্বকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে কতটা নাটকীয় সম্ভাবনা তৈরি হয়, যেটা খুবই আকর্ষণীয় হতে পারে।

* কিপ থোর্ন টেনেট-এও আপনার সঙ্গে কাজ করেছিলেন, তাই না?

: … হ্যাঁ, কিপ আবারও আমাকে সাহায্য করেছিলেন, বিশেষ করে যেখানে পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। টেনেট-এ আমার মনে হয় আমি ইন্টারস্টেলার-এর চেয়ে অনেক বেশি সাইন্স-ফিকশন মনোভাব নিয়ে এগিয়েছিলাম, আর ওপেনহাইমার-এ আমরা ১৯২০-এর দশকের বিজ্ঞানীদের দেখি, যারা আমাদের পৃথিবীর মৌলিক গঠনকে একেবারে বিপ্লবী দৃষ্টিভঙ্গিতে কল্পনা করে নতুনভাবে মূল্যায়ন করছিলেন। তাই আপনি দেখবেন, সেই সময় বিজ্ঞানের অবস্থান ছিল প্রায় জাদুর মতো সবচেয়ে নাটকীয় বিপ্লবী চিন্তার সমতুল্য; তারা এমনভাবে পৃথিবীকে কল্পনা করছিলেন, যা অন্য কেউ বুঝতেই পারত না এবং আজও কোয়ান্টাম ফিজিক্স পুরোপুরি ক্লাসিক্যাল ফিজিক্সের সঙ্গে মেলেনি।

* এটা এখনো এক রহস্য।

: … একদম ঠিক, এটা অন্যতম বড় রহস্য। আর গল্প বলার দিক থেকে ভাবলে ওপেনহাইমার খুব স্পষ্টভাবে দেখায়, তরুণ ওপেনহাইমার কোয়ান্টাম থিওরি কল্পনা করতে চেষ্টা করছেন, আইনস্টাইনের আবিষ্কারের ওপর ভিত্তি করে এগোচ্ছেন, চারপাশের জড় পদার্থের গভীরে তাকাচ্ছেন। তিনি শক্তিকে শক্তির তরঙ্গে দেখছেন এখানে প্রায় মিস্টিক্যাল, জাদুকরী একটা উপাদান আছে। এটা খুব নাটকীয় এবং আমার মনে হয় দর্শকের জন্য খুবই সম্পর্কিত। দর্শকদের এটা বুঝতে হবে না, শুধু সেই বিপ্লবী উত্তেজনা অনুভব করতে হবে, যেন কোনো যাদুকর বা ম্যাজিশিয়ান-ওপেনহাইমার তখন যেমন অনুভব করেছিলেন। আমার কাছে বিজ্ঞানের স্থানটা আসলে নাটকীয় সম্ভাবনার জন্য।

* এই নাটকীয় সম্ভাবনাগুলো কীভাবে আপনার গল্প বলার কৌশলের সঙ্গে কাজ করে, যেমন আপনার নন-লিনিয়ার পদ্ধতি?

: … আমি বলব, আমি সেই গঠনই ব্যবহার করি যা আমার গল্পের জন্য উপযুক্ত। ওপেনহাইমার-এর ক্ষেত্রে, আপনি দর্শকদের তার অস্তিত্বের অসংখ্য দিকের ঘনীভূত অভিজ্ঞতা দিতে চাইছেন। আমার মতে এটা কার্যকরভাবে করতে হলে প্রচলিত বায়োপিকের গঠন অনুসরণ না করে আরও প্রিজম্যাটিকভাবে দেখতে হয়; যেখানে আপনি তার জীবনের বিভিন্ন দিক বিভিন্ন সময়ে দেখেন এবং একে অপরের সঙ্গে তুলনা করেন, যাতে দর্শক বুঝতে পারে এই চরিত্রটি কে এবং সময়ের সাথে কিভাবে বদলেছে।

* তাহলে সিনেমার গঠন কি গল্পের অপরিহার্য অংশ?

: … এটা অবিচ্ছেদ্য উপাদান। আমি কখনোই স্ক্রিপ্ট লেখা শুরু করি না যতক্ষণ না আমি পুরোপুরি গঠনের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারি; তাই এটা পরে চাপিয়ে দেওয়া হয় না। আমার মনে হয় সবধরনের গল্প বলার মধ্যে সিনেমা সম্ভবত সবচেয়ে রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি ও গঠন অনুসরণ করে! কেউই আসলে কোনো ঔপন্যাসিক বা নাট্যকারের গঠন নিয়ে তেমন প্রশ্ন তোলে না এবং আমার মনে হয় টেলিভিশনের প্রভাবেই বছরের পর বছর ধরে লিনিয়ার গল্প বলার ঝোঁক এসেছে, কারণ এটা টেলিভিশন ফরম্যাটের জন্য ভালো ছিল। কিন্তু এখন আমরা হোম ভিডিও যুগে কাজ করছি, যেখানে দর্শকরা ভিন্নভাবে সিনেমা দেখতে পারে-ডিভিডি চালাতে পারে, থামাতে পারে-গল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা আরও জটিল কালানুক্রমিক গঠন ব্যবহার করতে পারি।

* এটা কি আপনার সিনেমা শুট করার ধরনকেও প্রভাবিত করেছে? অথচ ওপেনহাইমার মাত্র ৫৭ দিনে শুট হয়েছে।

: … আমার মনে হয় গতি অবশ্যই দ্রুত ছিল, কিন্তু এই কাজের জন্য উপযুক্তও ছিল। বাজেট ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা ছিল, অনেক বড় বড় কাজ করতে হয়েছে, যেমন লস আলামোস শহর নতুন করে বানাতে হয়েছে। তাই অনেকটা পরিস্থিতির dictated ছিল শিডিউল। কিন্তু আমি দেখেছি, দ্রুত কাজ করা-যেমন আমার আগের ছোট বাজেটের সিনেমাগুলোতে করতাম একটা শক্তি তৈরি করে; অভিনেতারা প্রস্তুতি নিয়ে চরিত্র সম্পর্কে গভীর জ্ঞান নিয়ে সেটে আসে। এরা বাস্তব চরিত্র, তাই এরা সব জানে এবং সেটে আসে বিশেষজ্ঞ হিসেবে। ফলে আমরা নাটকীয়তা, উত্তেজনা, এই সবকিছু দিয়ে শুটিংয়ের গতি ঠিক করতাম। এই প্রকল্পের জন্য এটা একদম ঠিক ছিল এবং দ্রুত কাজেই এটা সবচেয়ে ভালো হয়েছে।

* এটা কি আপনার অন্যান্য সিনেমার সঙ্গে সাংঘর্ষিক?

: … অবশ্যই কিছু সিনেমায় খুব ছোট ছোট অংশে ভাগ করতে হয়, তখন অভিনেতাদের সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয়। এই সিনেমায় মনে হয়েছে অংশগ্রহণকারীদের শক্তি দিয়ে পরিচালিত হওয়া উচিত, তারা যেন দৃশ্যে দৌড়ে গিয়ে কাজ করতে পারে এবং ক্যামেরাকে যেখানে দরকার সেখানে নিয়ে যেতে পারে।
* তাহলে কাস্ট বাছাইও তো খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সব অভিনেতা তো এমন চ্যালেঞ্জ নিতে পারবে না। …

: আমি যখন স্ক্রিপ্ট লিখি তখন খুব শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার চেষ্টা করি এবং কোনো অভিনেতার কথা ভাবি না। যদি কোনো অভিনেতাকে ভেবে লিখি, তবে আমি তাদের আগের কাজগুলো কল্পনা করি। তাই স্ক্রিপ্টের পর্যায়ে চরিত্রটিকে আরও বিশুদ্ধভাবে লেখা জরুরি, বিশেষ করে ওপেনহাইমারের মতো বাস্তব চরিত্রের ক্ষেত্রে আপনি ঐতিহাসিক ব্যক্তিকে মাথায় রেখে লিখতে পারেন, একদমই ভাবতে হবে না কে অভিনয় করবে। কিন্তু স্ক্রিপ্ট শেষ হলে আমি বুঝতে পারি, কে এই চরিত্রটি করতে পারবে। আমার বন্ধু কিলিয়ান, যার সঙ্গে আমি ২০ বছর ধরে কাজ করছি, প্রথমবার ব্যাটম্যানের জন্য স্ক্রিন টেস্ট করিয়েছিলাম। তখনই বুঝেছিলাম, সে অন্যতম সেরা প্রতিভা, সেরা অভিনেতাদের একজন। তাই এটা আমার কাছে একদমই পরিষ্কার ছিল।

* কীভাবে?

: … আমি পারফরম্যান্সে যা খুঁজছি, যা স্ক্রিপ্টে রাখার চেষ্টা করেছি, তা হলো প্রবল subjectivity। আমি চাই দর্শকরা ওপেনহাইমারের চোখ দিয়ে সিনেমার ঘটনা দেখুক, তার মাথার ভেতরে থাকুক, তার ওপর কোনো বিচার তৈরি না করুক। আমার কাছে সিনেমার শেষটা হলো, দর্শকরা বুঝতে পারবে সে কে, কেন কিছু কাজ করেছে, গল্পটা শেষ হবে এবং তার প্রতিধ্বনি দর্শকের মনে কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন রেখে যাবে। কিছু বিষয় হয়তো দর্শক নতুনভাবে ভাববে, যা তারা দেখেছে বা অনুভব করেছে।

*তাহলে কি আপনি কোনো নির্দিষ্ট বার্তা দিতে চাননি এই সিনেমার মাধ্যমে?

: … আমি মনে করি কোনো বার্তা খুব নির্দিষ্টভাবে দেওয়া, বা মনে করা যে এই কঠিন প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের জানা আছে, সেটা নাটকীয় সিনেমার জন্য ঠিক নয়। সিনেমা thrives করে দ্ব্যর্থতা ও জটিলতার ওপর, আমি চাই তার গল্পটা যেন ররশাক টেস্টের মতো হয়, দর্শকরা নিজের মতো ব্যাখ্যা করবে। এটাই আমাকে এই গল্পে আকর্ষণ করেছে-এর জটিলতা, কঠিন প্রশ্ন। তাই আমি কোনো নির্দিষ্ট বার্তা দিতে চাইনি। আমরা ডকুমেন্টারি বা প্রচারণামূলক কিছু করছি না। আমার মনে হয়, সিনেমা তখনই আর ভালোভাবে কাজ করে না, যখন এটা দর্শকদের কী ভাবতে হবে আগেভাগে বলে দেয়-দর্শকরা স্বাভাবিকভাবেই এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখায়।

দ্য গার্ডিয়ানের এক্সপ্লেইনার : লস্কর-ই-তাইয়েবা কারা , পাকিস্তান কি তাদের সহায়তা করে ?

জম্মু ও কাশ্মীরে হামলায় জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো, বিশেষ করে লস্কর-ই-তাইয়েবাকে সহযোগিতা করে পাকিস্তান—ভারত দীর্ঘদিন ধরে এ অভিযোগ করে আসছে।

লস্কর–ই–তাইয়েবা কী ? লস্কর–ই–তাইয়েবা (এলইটি) একটি দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংগঠন। এটি ১৯৮৬ সালে পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং অনেক দেশ এটিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ মনে করে। ২০০৮ সালে ভারতের মুম্বাই হামলায় এই সংগঠনকে দায়ী করেছিল নয়াদিল্লি। হামলায় ১৬৬ জন নিহত হন, যাঁদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও ছিলেন। মারকাজ দাওয়াত–উল ইরশাদ নামক প্রচার ও ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রের সামরিক শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এলইটি। তৎকালীন পাকিস্তানি শাসক জিয়াউল হকের ‘ইসলামীকরণ’ নীতির অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হয় লস্কর–ই–তাইয়েবা। লক্ষ্য ছিল, পাকিস্তানকে একটি বৈশ্বিক ইসলামি রাজনীতির কেন্দ্রে পরিণত করা। লস্কর–ই–তাইয়েবা একটি বিশ্বব্যাপী ইসলামি খিলাফতের দর্শন প্রচার করে, যেখানে ‘হারানো’ ইসলামি ভূমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে প্রচার ও সশস্ত্র সংগ্রাম—দুই প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মতে, ১৯৯৩ সাল থেকে এলইটি বহু হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০০৬ সালের মুম্বাইয়ে লোকাল ট্রেনে বিস্ফোরণ ও ২০০১ সালে ভারতের সংসদে হামলা। এলইটির প্রধান হাফিজ মুহাম্মদ সাঈদ ২০১৯ সালে গ্রেপ্তার হন। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে পাকিস্তানে ৩১ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তাদের সংগ্রাম শুধু কাশ্মীরে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের লক্ষ্য ভারতের ভাঙন পর্যন্ত বিস্তৃত। মুম্বাই হামলার সময় একটি ইহুদি সেন্টারে হামলার মাধ্যমে এলইটির জোরালো ইহুদিবিদ্বেষও প্রকাশ পেয়েছে।

জইশ–ই–মুহাম্মদ কী ? মাওলানা মাসুদ আজহার ১৯৯৯ সালে ভারতের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর জইশ–ই–মুহাম্মদ (জেইএম) নামের সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। পাকিস্তান সংগঠনটিকে ২০০২ সালে নিষিদ্ধ করে, কারণ এটি এলইটির সঙ্গে ২০০১ সালে ভারতের সংসদে হামলার জন্য অভিযুক্ত ছিল। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কথা অনুযায়ী, আল–কায়েদা ও তালেবানের সঙ্গে এ সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা ছিল।

পাকিস্তান কি লস্কর–ই–তাইয়েবা ও অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সমর্থন করে ? এলইটি ও অন্যান্য ইসলামপন্থী সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে পাকিস্তানের, বিশেষ করে দেশটির সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স)–এর সম্পর্ক জটিল ও অনেকাংশে অস্পষ্ট। আগে ইসলামাবাদ ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও আফগানিস্তানে প্রক্সি যোদ্ধা হিসেবে সশস্ত্র ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোকে সমর্থন করেছে, কিন্তু বর্তমানে এ সম্পর্ক অনেকটাই অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, আশি ও নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তান এমন সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে সমর্থন দেওয়াকে কৌশলগত সফলতা মনে করত, বিশেষ করে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত বাহিনীকে হটানোর পটভূমিতে।

২০১২ সালে ‘কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর পিস’–এ এক প্রবন্ধে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যাশলি টেলিস লেখেন, ‘শুরু থেকেই এলইটি পাকিস্তানের আস্থায় ছিল, কারণ আফগানিস্তানে যুদ্ধ ও ভারতের বিরুদ্ধে সংগ্রাম—দুটিই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কৌশলগত উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর লক্ষ্য, পশ্চিমে আফগানিস্তানকে নিয়ন্ত্রণে রাখা ও পূর্বে ভারতকে চাপে রাখা। দুই দশকের বেশি সময় এলইটির সঙ্গে আইএস গোপনে হলেও দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থায়ন ও সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে।’ যদিও পাকিস্তান ভারতের দাবিকে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে, তথাপি এলইটির সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলোর প্রতি তার সহনশীলতা, যেমন জামাত–উদ–দাওয়া এর মাধ্যমে এলইটির দাতব্য সংগঠন হিসেবে আবারও আত্মপ্রকাশ, পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি ও অস্বীকৃতিকে সন্দেহের মধ্যে ফেলে।

বর্তমান পরিস্থিতি : লস্কর–ই–তাইয়েবা ও জইশ–ই–মুহাম্মদ, দুই সংগঠনের প্রতি পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক সমর্থনের মাত্রা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতা দেশটির সেনাবাহিনী ও আইএসআইয়ের কিছু সদস্যকে হয়তো এমন সশস্ত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করেছে। যেমনটা আগে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো হুমকি অনুভব করলে দেখা গেছে। তবে ‘সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি’র স্টিফেন ট্যাঙ্কেল আরও জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি এক প্রবণতার দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখেন, এমন পর্যবেক্ষকেরা স্বীকার করেছেন, লস্কর–ই–তাইয়েবা শুধু পাকিস্তানের ভেতর হামলা চালানো থেকে বিরত থাকে, তা–ই নয়। তারা এমন গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধেও কাজ করে, যারা রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।’

প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক শক্তির অদৃশ্য জাল – ‘পেপ্যাল মাফিয়া’ নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব

বর্তমান প্রযুক্তি জগতের অন্যতম প্রভাবশালী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত “পেপ্যাল মাফিয়া”। নাম শুনলেই মনে হয় কোনো গ্যাং বা অপরাধী দল, কিন্তু বাস্তবে এটি একটি সফল প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের দল যারা পেপ্যাল কোম্পানিতে কাজ করতেন এবং পরবর্তীতে সিলিকন ভ্যালির বিভিন্ন শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

পেপ্যাল মাফিয়া বলতে বোঝানো হয় পেপ্যালের প্রাক্তন কর্মী ও প্রতিষ্ঠাতাদের একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী, যারা পরবর্তীতে সিলিকন ভ্যালির শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি গড়ে তুলেছেন। এই গোষ্ঠীর সদস্যরা যেমন পিটার থিয়েল, এলন মাস্ক, রিড হফম্যান, ডেভিড স্যাকস প্রমুখ, প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক জগতে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। তবে তাদের সফলতার পেছনে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্বও ঘুরেফিরে আসছে, যা প্রযুক্তি, রাজনীতি ও সামাজিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলে।

পেপ্যাল মাফিয়ার সদস্যরা শুধু পেপ্যালেই আটকে থাকেননি, তারা LinkedIn, YouTube, SpaceX, Palantir Technologies, Tesla, Twitter (বর্তমানে X), Affirm, Yammer, Yelp প্রভৃতি কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা বা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এই কোম্পানিগুলো বিশ্বব্যাপী তথ্য প্রবাহ, সামাজিক যোগাযোগ, মহাকাশ প্রযুক্তি, আর্থিক লেনদেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এই গোষ্ঠীকে প্রযুক্তি ও অর্থনীতির একক নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে দেখা হয়, যা এক ধরনের “ডিজিটাল অলিগার্কি” বা কর্পোরেট সাম্রাজ্যের সূচনা করেছে বলে ধারণা করা হয়।

পেপ্যাল মাফিয়ার সদস্যদের মধ্যে অনেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব বিস্তার করছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর, পিটার থিয়েল, এলন মাস্ক, ডেভিড স্যাকস প্রমুখ সদস্যরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত হয়েছেন। এলন মাস্ক “Department of Government Efficiency (DOGE)” এর প্রধান, পিটার থিয়েল ও ডেভিড স্যাকস ট্রাম্প প্রশাসনের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। এমনকি থিয়েলের প্রোটেজে জেডি ভ্যান্স ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। এই কেন্দ্রীভূত রাজনৈতিক ক্ষমতাকে অনেকেই “পেপ্যাল মাফিয়া”র মাধ্যমে আমেরিকার সরকার দখলের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখেন।

পেপ্যাল মাফিয়ার বেশিরভাগ সদস্যের পারিবারিক শিকড় দক্ষিণ আফ্রিকার আপার্টেইড যুগের সঙ্গে যুক্ত। এলন মাস্কের পিতা এরল মাস্ক দক্ষিণ আফ্রিকার একজন ইঞ্জিনিয়ার, পিটার থিয়েল ও রোয়েলফ বোথার পরিবারের ইতিহাসও দক্ষিণ আফ্রিকার সাদা শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত। এই শিকড়ের কারণে তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক মনোভাব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে তারা আফ্রিকানার কৃষকদের পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ ওঠে, যারা দক্ষিণ আফ্রিকায় সংখ্যালঘু সাদা কৃষক হিসেবে নিজেদের নিরাপত্তা দাবি করেন। এই প্রসঙ্গে আফ্রিকানারদের শরণার্থী মর্যাদা দেওয়ার প্রচেষ্টা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার নীতিতে হস্তক্ষেপের ঘটনা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অংশ হিসেবে আলোচিত হয়েছে।

পেপ্যাল মাফিয়ার প্রতিষ্ঠিত বা সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন Palantir Technologies, SpaceX, এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অর্জন করেছে। Palantir বিশেষ করে সরকারি ও গোয়েন্দা সংস্থার জন্য নজরদারি সফটওয়্যার তৈরি করে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। SpaceX গ্লোবাল স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেট ও যোগাযোগের নিয়ন্ত্রণে আসছে। এই তথ্য ও যোগাযোগের ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণের ফলে “ডিজিটাল সাম্রাজ্যবাদ” বা “নতুন বিশ্ব শাসন ব্যবস্থা” গড়ে উঠছে বলে ধারণা করা হয়।

পেপ্যাল মাফিয়ার সদস্যরা প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন, যা তাদেরকে প্রভাবশালী করেছে। তবে তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ ও কর্মকাণ্ড ভিন্ন এবং এককভাবে একটি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখা অনেক সময় অতিরঞ্জিত হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার শিকড় থাকা সত্ত্বেও, এই গোষ্ঠীর সদস্যরা বিভিন্ন রাজনৈতিক মতামত পোষণ করেন। যেমন রিড হফম্যান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বড় দাতা, অন্যদিকে পিটার থিয়েল ও এলন মাস্ক লিবার্টারিয়ান বা রক্ষণশীল মতাদর্শের। তাই তাদের একক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব একপাক্ষিক হতে পারে।

পেপ্যাল মাফিয়া নিয়ে প্রচলিত ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক শক্তির কেন্দ্রীকরণ, দক্ষিণ আফ্রিকার আপার্টেইড যুগের শিকড়, এবং বিশ্বব্যাপী তথ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কেন্দ্রিক। যদিও তাদের প্রভাব সন্দেহাতীত, তবুও এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো প্রায়শই অতিরঞ্জিত এবং একপাক্ষিক।

সিজোফ্রেনিয়া – ভুল ধারণা , আনন্দহীনতা এবং চিকিৎসা

সিজোফ্রেনিয়া বহু ভুল ধারণা ও স্টিগমার সঙ্গে যুক্ত মানব মস্তিষ্কের একটি জটিল মানসিক রোগ। সাধারণ মানুষের চোখে এটি প্রায়ই এক ধরনের অদ্ভুত, অচিন্ত্যনীয় ও সহিংস রোগী হিসেবে চিত্রায়িত হয়, যিনি বোকামি করে কথা বলে কিংবা হঠাৎ হিংস্র হয়ে ওঠে। কিন্তু বাস্তবে সিজোফ্রেনিয়া প্রকৃতি ও প্রভাব অনেক গভীর এবং ভিন্ন।

বিশ্বব্যাপী প্রায় ১% মানুষ সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত, যা প্রায় ২৪ মিলিয়ন মানুষের সমান। এটি ধনী-গরীব, পুরুষ-মহিলা, সকল জাতি ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যেই দেখা যায়। রোগটি মস্তিষ্কের চিন্তা, অনুভূতি ও আচরণকে প্রভাবিত করে, বিশেষ করে মানুষের আনন্দ অনুভবের ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ন করে।

সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ অংশে দেখা যায় আনন্দহীনতা, অর্থাৎ পূর্বে উপভোগ্য মনে হওয়া কাজ বা ঘটনা থেকে আনন্দ পাওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া। এটি শুধুমাত্র সিজোফ্রেনিয়াতেই নয়, বিষণ্নতাতেও একটি প্রধান লক্ষণ। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো আর আগের মতো মজার লাগে না, প্রিয় খাবারের স্বাদও ফিকে মনে হয়। এই উপসর্গ নির্ণয়ের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন জীবন ক্রিয়াকলাপের প্রতি ব্যক্তির আনন্দ অনুভূতির কথা জিজ্ঞাসা করেন।

সিজোফ্রেনিয়ার আনন্দহীনতা বোঝার জন্য আবেগবিজ্ঞানের বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। আবেগের বিভিন্ন দিক যেমন মুখের অভিব্যক্তি, ব্যক্তির অভিজ্ঞতা, মস্তিষ্কের কার্যকলাপ এবং শরীরের প্রতিক্রিয়া পরিমাপ করে রোগীর আবেগ বুঝার চেষ্টা করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তরা তাদের অনুভূতি সম্পর্কে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দিতে সক্ষম এবং তারা আনন্দ বা বিষাদের অনুভূতি অন্যান্যদের মতোই বর্ণনা করতে পারে।

আনন্দ শুধু মুহূর্তের অনুভূতি নয়, এটি ভবিষ্যতের আনন্দের প্রত্যাশাও বটে। সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তরা ভবিষ্যতে আনন্দের প্রত্যাশা কম অনুভব করে, ফলে তারা আনন্দদায়ক কাজগুলো করতে আগ্রহী হয় না। ছুটিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করার সময় আমরা অতীতের আনন্দময় অভিজ্ঞতাগুলো স্মরণ করে ভবিষ্যতের আনন্দের প্রত্যাশা করি, যা আমাদেরকে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উৎসাহিত করে। কিন্তু সিজোফ্রেনিয়ায় এই প্রত্যাশার প্রক্রিয়ায় সমস্যা থাকে, যার ফলে তারা নতুন আনন্দের সন্ধানে কম আগ্রহী হয়।

গবেষণায় Temporal Experience of Pleasure Scale ব্যবহার করে দেখা গেছে, সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তরা প্রত্যাশিত আনন্দে কম স্কোর করে, কিন্তু উপভোগ্য আনন্দে তাদের স্কোর স্বাভাবিকের মতোই থাকে। তারা মুহূর্তের আনন্দ নিতে পারে, কিন্তু আগাম আনন্দের প্রত্যাশায় সমস্যায় পড়ে।

মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তরা আনন্দের জন্য প্রয়োজনীয় পুরস্কারের মূল্যায়ন ও সেই পুরস্কার পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টার হিসেব করতে অসুবিধা অনুভব করে। ফলে তারা আনন্দদায়ক কাজের জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করতে পারে না, যা তাদের মোটিভেশন সিস্টেমকে দুর্বল করে দেয়।

সিজোফ্রেনিয়া নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাগুলোর একটি হলো এই রোগীরা সহিংস বা বিপজ্জনক। কিন্তু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তরা সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি সহিংস নয়। বরং, তাদের অনেকেই শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করে এবং চিকিৎসার মাধ্যমে অনেকেই অর্থবহ জীবন কাটাতেও সক্ষম হয়।

সিজোফ্রেনিয়ার চিকিৎসায় ওষুধ ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা ব্যবহৃত হয়, তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে সব ধরনের চিকিৎসা সমানভাবে কার্যকর হয় না। রোগের প্রকৃতি ও উপসর্গ ভিন্ন হওয়ায় ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রয়োজন। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর সামাজিক ও মানসিক সহায়তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্র-হামাস সরাসরি আলোচনায় অগ্রগতি – ইচ্ছাকৃতভাবে গাজা যুদ্ধ দীর্ঘ করছে ইসরায়েল

গাজায় আটক এক মার্কিন-ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে হামাস। একইসঙ্গে জানায়, যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে তারা কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছেন।

এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি সংগঠনটি জানায়, ‘যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা এবং মানবিক ও ত্রাণ সহায়তার দ্বার ফের খুলবে এমন প্রত্যাশায় এ ঘোষণা দিয়েছেন তারা।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে একে “ঐতিহাসিক খবর” ও “সৎ প্রচেষ্টার লক্ষণ” বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্প আরো বলেন, “আশা করি, নির্মম যুদ্ধ অবসানে এটিই প্রয়োজনীয় ও চূড়ান্ত পদক্ষেপগুলোর শুরু।”

জিম্মি মুক্তির ঘোষণাকে “সদিচ্ছার প্রকাশ ও আলোচনায় ফেরার ইতিবাচক পদক্ষেপ” বলে যৌথ বিবৃতিতে অভিহিত করেছে হামাস-ইসরায়েল আলোচনার মধ্যস্থতাকারি যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার।

তবে এসব আলোচনার মধ্যেও ইসরায়েল গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, “যুদ্ধের সব লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত গোলাগুলির মধ্যেই আলোচনা চলবে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো এ বছরের মার্চে হামাসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ শুরু করে। এর আগে কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাস-ইসরায়েলের মধ্যে একাধিক পরোক্ষ আলোচনা হলেও যুদ্ধ থামেনি।

এর আগে হামাসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আলোচনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন নেতানিয়োহু। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ বলেছেন — গাজা যুদ্ধ ইসরায়েল নিজেই দীর্ঘ করছে। বন্দি বিনিময়ের আলোচনাতেও তারা বাধা দিচ্ছে।

রোববার (১১ মে) ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এ প্রচারিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় আটক ইসরায়েলি বন্দিদের পরিবারের সঙ্গে এক বৈঠকে উইটকফ এই মন্তব্য করেন।

তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেন, ‘এই যুদ্ধ এখন আর কোনো অগ্রগতি আনছে না, এখন যুদ্ধ থামিয়ে বন্দি বিনিময়ের চুক্তিই সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।’

উইটকফের বক্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ- সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সফর চলবে মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার (১৩ থেকে ১৬ মে) পর্যন্ত। তবে এই সফরে ইসরায়েল যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

সম্প্রতি মার্কিন ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে টানাপোড়েন বেড়েছে। ট্রাম্পের দল এখন ইসরায়েলকে পাশ কাটিয়ে নিজস্ব নীতিতে এগোতে চাইছে।

৪র্থ পারমাণবিক আলোচনা – ‘কঠিন হলেও ফলপ্রসূ’ – ইরান , ‘উৎসাহিত’ – যুক্তরাষ্ট্র

ওমানে রোববার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনা শেষ হয়েছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ নিয়ে প্রকাশ্য অচলাবস্থায় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলেও উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে আরও আলোচনার ঘোষণা দিয়েছে। আগের তিন দফায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছিল উভয় পক্ষ। রোববার ইরান বলেছে, আলোচনাটি ছিল ‘কঠিন কিন্তু ফলপ্রসূ’। অন্যদিকে একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন ‘আজকের ফলাফলে উৎসাহিত’। প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া এ আলোচনার এটি ছিল চতুর্থ রাউন্ড, যা ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সংলাপ হিসেবে বিবেচিত।

আলোচনার পর ইরানের প্রধান আলোচক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ চালু থাকবে এবং এ বিষয়ে কোনো আপোসের সুযোগ নেই। তবে তিনি ইরানি টেলিভিশনে বলেন, ‘বিশ্বাস গড়ার লক্ষ্যে সমৃদ্ধিকরণের হার কমানো নিয়ে আমরা নমনীয়তা দেখাতে পারি।’ ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে—২০১৫ সালের চুক্তির ৩.৬৭ শতাংশ সীমা অনেক পেরিয়ে গেছে, তবে এখনো ৯০ শতাংশ অস্ত্র-গ্রেড মাত্রার নিচে রয়েছে।

ওয়াশিংটনের প্রধান আলোচক স্টিভ উইটকফ এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘ইরানের সমৃদ্ধিকরণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করতে হবে।’ যদিও প্রথমে তিনি বেসামরিক কাজে কম মাত্রার সমৃদ্ধিকরণের ক্ষেত্রে নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এই আলোচনার মধ্যেই অঞ্চলজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। আগামী সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম বিদেশ সফরে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যাবেন, আর আরাকচি এর আগেই সৌদি আরব ও কাতার সফর শেষ করেছেন।

তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই আলোচনার বিরোধিতা করে ইসরাইল বলছে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার বলেন, ‘ইরান বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক রাষ্ট্র… এই শাসনব্যবস্থার হাতে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র দেওয়া যাবে না।’ উল্লেখ্য, ইসরাইলই মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র (যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত নয়) পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র।

মানচিত্র সবসময় একটি রাজনৈতিক দলিল

মানচিত্র শুধু একটি ভৌগোলিক উপস্থাপনা নয়, বরং এটি একটি গভীর রাজনৈতিক দলিল। আমাদের চোখে সাধারণত মানচিত্র একটি নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক চিত্র মনে হতে পারে—যেখানে ভূমি, সমুদ্র, নদ-নদী, সীমান্ত এবং শহরসমূহ চিহ্নিত থাকে। তবে বাস্তবে, প্রতিটি মানচিত্রই কোনো না কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, দাবি বা ক্ষমতার প্রতিফলন। এটি একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিশ্বের ব্যাখ্যা দেয় এবং অনেক সময়ই এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
মানচিত্রের নিরপেক্ষতার ভ্রান্ত ধারণা
অনেকেই ভাবেন যে মানচিত্র একটি নিখুঁত ও নিরপেক্ষ তথ্যচিত্র। কিন্তু মানচিত্র তৈরি হয় মানুষের দ্বারা, যারা রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের অধীন। একেকটি মানচিত্রে যেভাবে অঞ্চল বা সীমান্ত উপস্থাপন করা হয়, সেটি নির্ভর করে মানচিত্র প্রস্তুতকারী রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর মতাদর্শ ও অভিপ্রায়ের উপর। একই ভূখণ্ড একেকটি মানচিত্রে ভিন্নভাবে দেখানো হতে পারে, যা রাজনৈতিক মতপার্থক্যের প্রতিফলন।
সীমান্ত ও সার্বভৌমত্বের প্রতিচ্ছবি
বিশ্বের বহু অঞ্চলে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ রয়েছে—যেমন ভারত-পাকিস্তান, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন, চীন-তাইওয়ান, রাশিয়া-ইউক্রেন। এসব অঞ্চলের মানচিত্র বিভিন্ন দেশে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়। ভারত তার মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীর এবং অরুণাচল প্রদেশকে তার অংশ হিসেবে দেখায়, কিন্তু চীন বা পাকিস্তানের তৈরি মানচিত্রে তা ভিন্নরূপে উপস্থাপিত হয়। এটি শুধু ভৌগোলিক পার্থক্য নয়, বরং একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা: “এই ভূখণ্ড আমাদের।” অতএব, মানচিত্র একটি রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতীক।
দখল ও আগ্রাসনের দলিল
ইতিহাসে দেখা গেছে, আগ্রাসী শক্তিগুলো দখলকৃত ভূখণ্ড নিজেদের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং তা ব্যবহার করেছে বৈধতার প্রতীক হিসেবে। উদাহরণস্বরূপ, সোভিয়েত ইউনিয়ন কিংবা আধুনিক কালের রাশিয়া, দখলকৃত অঞ্চলগুলোকে তাদের মানচিত্রে যুক্ত করে আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। একইভাবে, ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো উপনিবেশ গঠনের সময় মানচিত্রকে ব্যবহার করেছে সম্পদের উপর মালিকানা দাবি করতে।
বিপন্ন জাতিসত্তা ও মানচিত্রের রাজনীতি
অনেক জাতিগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড থাকার পরেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়নি। যেমন কুর্দিস্তান, যারা তুরস্ক, ইরান, ইরাক ও সিরিয়ায় বিভক্ত হয়ে বসবাস করে। এই জাতিগোষ্ঠীর কোনও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানচিত্র নেই। ফলে, তাদের রাজনৈতিক দাবি দুর্বল হয়ে পড়ে। আবার, ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড বিভিন্ন মানচিত্রে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়—যা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অতএব, মানচিত্রে উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি একটি জাতির অস্তিত্ব ও অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
শিক্ষা ও মানচিত্রে মতাদর্শের প্রভাব
শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত পাঠ্যপুস্তকের মানচিত্রও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বহন করে। একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গঠনের সময় এই মানচিত্রে তুলে ধরা ভূখণ্ড, শহর, সীমান্ত, এমনকি নদীর নামকরণও হয়ে ওঠে মতাদর্শ প্রচারের হাতিয়ার। ভারতের স্কুলের মানচিত্রে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, আবার পাকিস্তানের পাঠ্যপুস্তকে তা সম্পূর্ণ উল্টোভাবে দেখানো হয়। এই পার্থক্য শুধু ভিন্নমত নয়, বরং জাতিরাষ্ট্র নির্মাণে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অস্ত্র।
মানচিত্র ও প্রযুক্তির আধিপত্য
বর্তমানে ডিজিটাল মানচিত্র, যেমন গুগল ম্যাপ, বিশ্বের মানচিত্র ব্যবহারে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। তবে এখানেও রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট। গুগল ম্যাপে নির্দিষ্ট অঞ্চলের সীমান্ত একেক দেশে একেকভাবে দেখানো হয়। উদাহরণস্বরূপ, ভারত থেকে দেখা মানচিত্রে কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়, কিন্তু বিশ্বের অন্য জায়গা থেকে তা ভিন্নরূপে দেখা যায়। এতে বোঝা যায়, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও ভৌগোলিক উপস্থাপনায় রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে চায়।
নির্মাণ ও প্রতিরোধ: মানচিত্রের সংগ্রাম
মানচিত্র কখনো কখনো প্রতিরোধের মাধ্যমেও রূপ নেয়। জাতিগোষ্ঠী বা আন্দোলনকারী দলগুলো নিজস্ব মানচিত্র তৈরি করে দাবি তোলে। যেমন, আদিবাসী জনগোষ্ঠী বা স্থানীয় সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব ঐতিহাসিক ভূখণ্ড চিহ্নিত করে বিকল্প মানচিত্র প্রকাশ করে রাষ্ট্রীয় মানচিত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এই মানচিত্রগুলি শুধু কাগজের টুকরো নয়, বরং একটি জাতিসত্তা, ইতিহাস এবং অধিকারের প্রতীক।

মানচিত্রকে শুধুমাত্র একটি ভূগোল চিত্র হিসেবে দেখা একটি সীমিত দৃষ্টিভঙ্গি। এটি একটি রাজনৈতিক দলিল, যা ক্ষমতা, দাবি, ঐতিহ্য, অধিকার ও মতাদর্শ বহন করে। কে কোন ভূখণ্ডের উপর কর্তৃত্ব দাবি করবে, কে কোথায় থাকবে, কোন অঞ্চল কাদের অধিকারে থাকবে—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার এক মাধ্যমই হচ্ছে মানচিত্র। তাই মানচিত্রের বিশ্লেষণ করা মানেই বিশ্বের রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার একটি অনিবার্য প্রয়াস।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ , ‘গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা খর্বে উদ্বিগ্ন’ – ভারত , ‘অবগত আছে’ – আমেরিকা

0

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাংবাদিক সম্মেলনে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “কোনও উপযুক্ত পদ্ধতি অনুসরণ না করেই আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ একটি উদ্বেগজনক ঘটনা।” “(বাংলাদেশে) গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা যেভাবে খর্ব করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক পরিসর (পলিটিক্যাল স্পেস) সঙ্কুচিত হয়ে আসছে তাতে একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত স্বভাবতই উদ্বিগ্ন বোধ করছে”, আরও জানান তিনি।

একই সঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, “বাংলাদেশে দ্রুত একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক (ইনক্লুসিভ) নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিকে আমরা জোরালো সমর্থন জানাই।” অন্যদিকে, মঙ্গলবার (১৩ মে) ওয়াশিংটন ডিসিতে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের উপ মুখপাত্র টমি পিগট বলেন — ‘আমরা জানি যে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। আমরা বাংলাদেশের কোনো একক রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করি না। আমরা একটি মুক্ত, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য ন্যায়সংগত এবং আইনি আচরণে বিশ্বাস করি।’

টমি পিগট আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশসহ সব দেশের প্রতি আহ্বান জানাই তারা যেন মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং সব সংগঠনের স্বাধীনতাকে সম্মান করে। এটা বাংলাদেশসহ সব দেশের প্রতিই যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্বকে মূল্যবান বলে মনে করি। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করে আমাদের অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

শুঁটকি মাছে কীটনাশক , ক্যানসারের ঝুঁকি : গবেষণা

শুঁটকি মাছের নমুনায় মিলেছে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান। একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। বাগেরহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম এ গবেষণা পরিচালনা করেন। প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বলা হয় — গবেষণায় দেখা গেছে, ২৬০টি নমুনার মধ্যে ১৩ শতাংশে বালাইনাশকের (কীটনাশক) উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যা থেকে ক্যানসার হতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বাগেরহাট এবং নাটোরের চলনবিল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, শুঁটকিতে চারটি কীটনাশকের মধ্যে এন্ডোসালফান সালফাইটের পরিমাণ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি। এসব শুঁটকি শিশুদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।