Home Blog Page 97

কোথায় ছিলো নূহের নৌকার অবস্থান ?

মানব সভ্যতার অন্যতম প্রাচীন ও রহস্যময় কাহিনী হলো নূহের নৌকার গল্প। বাইবেল, কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত এই মহাপ্লাবনের নৌকা পৃথিবীর কোথায় অবতীর্ণ হয়েছিল, তা আজও ইতিহাস ও বিজ্ঞানীদের জন্য একটি অমীমাংসিত ধাঁধা।

বাইবেল ও কোরআনের মহাপ্লাবনের কাহিনী মানুষের ভয়ের, সংকটের ও পুনর্জন্মের এক প্রতীকী আখ্যান। বাইবেলের “জেনেসিস” অনুসারে, মহাপ্লাবনের পর নূহ ও তার পরিবার যে নৌকায় ছিলেন তা ‘আরারাত পর্বতে’ থেমেছিল। ইতিহাসবিদরা আজকের মাউন্ট আরারাত অর্থাৎ তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের বিশাল আগ্নেয়গিরিকে এর সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ধরে থাকেন।

অন্যদিকে ইসলামী ধর্মগ্রন্থ কোরআনে নৌকার অবস্থান ‘জুদি পর্বত’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে, যা তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের Cudi Dağı হিসেবে চিহ্নিত। যদিও দুটি নামের মধ্যে পার্থক্য আছে, অনেক গবেষক মনে করেন এগুলো একই বৃহত্তর ভূখণ্ডেরই অংশ।

এই বর্ণনার পেছনে কিন্তু কোনো বাস্তব প্লাবনের ইতিহাস থাকতে পারে বলে আধুনিক ইতিহাস ও ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা যুক্তি দেন। প্রাচীন মেসোপটেমিয়া ও পার্সিয়ানের অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন ও নদীর প্রবাহে বড় ধরনের বন্যা ঘটেছিল। লোকমুখে ও ধর্মগ্রন্থে তার প্রতিফলন মহাপ্লাবন আকার ধারণ করেছে।

১৯৫৯ সালে তুরস্কের একটি পাহাড়ে ‘দুরুপিনার সাইট’ নামক ভূ-আকৃতির ছবি তোলা হয়, যা নৌকার আকৃতির সাথে অনেকটাই মিলে। এর পর থেকে এই স্থানটি নূহের নৌকার সম্ভাব্য অবতরণস্থান হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। কিন্তু বায়ুবিভাগীয় ছবির প্রাথমিক আকর্ষণ সত্ত্বেও, পরবর্তীতে করা ভূতাত্ত্বিক ও গিয়োলজিক্যাল বিশ্লেষণে এটি প্রাকৃতিক পাথরের গঠন হিসেবে প্রমাণিত হয়। মাটির স্তর, পাথরের গঠন এবং টেকটোনিক প্লেটের পরিবর্তন দেখিয়েছে এটি কোনও মানবনির্মিত কাঠামো নয়।

অন্যদিকে Mount Judi অঞ্চলেও অনুসন্ধান হয়েছে, যেখানে কোরআনের বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। যদিও রাজনৈতিক অবস্থা ও সীমিত গবেষণার কারণে ব্যাপক খনন কার্যক্রম করা যায়নি, গবেষকরা বিশ্বাস করেন এখানেই নৌকার অস্তিত্বের ছায়া থাকতে পারে।

প্লায়োচেন যুগের পর থেকে পৃথিবীর জলবায়ু ও ভূ-পরিস্থিতি বহুবার পরিবর্তিত হয়েছে। বিশেষ করে বরফ গলনের ফলে বিশ্বজুড়ে নদী, সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি পেয়েছিল। মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে নদীর জলোস্তর অনেকবার বেড়েছে ও কমেছে, যার ফলে লোকাল প্লাবনের ঘটনা ঘটতে পারে।

১৯৯৩ সালে “দ্য ব্ল্যাক সি ফ্লাড থিওরি” প্রস্তাব করা হয়, যা দাবি করে ৭৫০০ বছর আগে কৃষ্ণ সাগরে সমুদ্রের জল আকস্মিক প্রবেশ ঘটেছিল। এটি হয়তো প্রাচীন মানুষের মধ্যে প্লাবনের ভয়ংকর স্মৃতি তৈরি করেছিল বলে পরবর্তী কালে কাহিনীর আকার নিয়েছিল।

এই গবেষণাগুলো থেকে বোঝা যায় নূহের নৌকার গল্পটি একটি বিশাল প্লাবনের বর্ণনা হলেও তা হয়তো একটি বিশাল আঞ্চলিক বন্যার প্রতিফলন, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে লোককথা হয়ে বিবর্তিত হয়েছে।

বাইবেলে নৌকার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩৫ মিটার, যেটি সে সময়ের জন্য অত্যন্ত বিশাল। বিজ্ঞানীরা প্রশ্ন করেন সেই সময়ের প্রযুক্তি দিয়ে কি এত বড় নৌকা তৈরি সম্ভব ছিল? বেশিরভাগ গবেষক মনে করেন নৌকার বর্ণনা অনেকাংশে প্রতীকী, যা মানুষের জীবনের সংকট ও পুনর্জন্মের মেটাফোর।
আধুনিক কাঠের নৌকা নির্মাণ প্রযুক্তি ও স্থিতিশীলতা গবেষণায় দেখা গেছে, বাইবেলের বর্ণিত নৌকা আকারে সত্যি থাকলেও এর বাস্তব ব্যবহারিকতা ও দক্ষতা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। তাই এটি নৌকা হিসেবে নয়, বরং বেঁচে থাকার আশ্রয় এবং মানবতার ইতিহাসে পুনরুজ্জীবনের এক প্রতীক।

নূহের নৌকার রহস্যের সন্ধানে ধর্ম ও বিজ্ঞান দুইদিকেই সমান গুরুত্ব দিতে হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস এতে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক শিক্ষা খুঁজে পায়, যেখানে প্লাবন হচ্ছে মানবতার পুনরুত্থানের গল্প। বিজ্ঞান এই ঘটনাকে বাস্তব ভূতত্ত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন ও পুরাকথার মিশ্রণ হিসেবে দেখে।
একটি সম্পূর্ণ ছবি পাওয়ার জন্য প্রাচীন ধর্মীয় বর্ণনা, প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান, ভূতাত্ত্বিক তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির তথ্যকে মিলিয়ে দেখতে হবে। কারণ শুধু একটি মাত্র দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সত্য উদঘাটন অসম্ভব।

নূহের নৌকার অবস্থান এখনো রহস্যময় ও বিতর্কিত। Mount Ararat, Mount Judi, ও Durupinar সাইটসহ বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালানো হলেও এখনও কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ইতিহাস, ধর্ম, ভূতত্ত্ব ও বিজ্ঞান একত্রে বুঝতে সাহায্য করে যে এটি শুধু একটি ধর্মীয় কাহিনী নয়, বরং প্রাচীন মানবজীবনের প্রকৃত সংকটের নিদর্শন।

ভবিষ্যতে আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই রহস্য উন্মোচন হতে পারে। নূহের নৌকার অনুসন্ধান শুধু একটি ইতিহাস নয়, এটি মানবসভ্যতার অদ্ভুত অতীত ও ভবিষ্যতের রহস্যের এক প্রবেশদ্বার।

স্থানীয় অভিযোজন ও টেকসই গ্রামীণ জীবন

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু বৈচিত্র্য আমাদের কৃষি, বাসস্থান ও জীবিকা প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করে। গ্লোবাল ওয়ার্মিং ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্তমানে আমাদের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, খরা, বন্যা, লবণাক্ততা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এসব সংকট মোকাবিলায় শুধু বৈশ্বিক নীতিমালা যথেষ্ট নয়; বরং প্রয়োজন একটি জনগণভিত্তিক, বাস্তবতাপূর্ণ ও সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল অভিযোজন পদ্ধতি।

কী এই স্থানীয় অভিযোজন?

স্থানীয় অভিযোজন হলো এমন এক পদ্ধতি, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় মানুষদের অংশগ্রহণে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হয়। এটি শুধু কোনও প্রযুক্তি বা অবকাঠামো উন্নয়নের কথা বলে না, বরং সেই অঞ্চলের জলবায়ু, মাটি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধান দেয়। সম্প্রতি UNDP, GEF এবং বাংলাদেশ সরকার একত্র হয়ে ৫টি কৃষিভিত্তিক অঞ্চলে (উদাহরণস্বরূপ: উপকূলীয় অঞ্চল, হাওর, বরেন্দ্র অঞ্চল) স্থানীয় অভিযোজন প্রকল্প চালু করেছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ক্ষমতায়ন করা হচ্ছে।

কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ? বাংলাদেশের কৃষি-নির্ভর জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক কৃষকেরা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রথম শিকার। খরার কারণে ধান চাষ ব্যাহত হয়, অতিবৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হয়, উপকূলে লবণাক্ততা জমিতে চাষাবাদ অসম্ভব করে তোলে।

স্থানীয় অভিযোজন তাদের শেখায় কিভাবে:
*খরাপ্রবণ অঞ্চলে সল্পজলচাহিদাসম্পন্ন ফসল চাষ করতে হয়
*উপকূলীয় অঞ্চলে লবণসহিষ্ণু ধান বেছে নিতে হয়
*বা বন্যার সময়ে ভাসমান বাগান গড়ে তোলা যায়
*চুলা, সৌরবিদ্যুৎ, ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যায় , এভাবে স্থানীয় অভিযোজন কেবল জীবনধারায় পরিবর্তন আনে না, বরং স্বনির্ভরতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে।

নারী ও অভিযোজন এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক- এই প্রকল্পে নারীদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। অনেক এলাকায় নারীরা জলবায়ু সহনশীল কৃষি পদ্ধতি, হস্তশিল্প, এবং জৈবসার ব্যবহারে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এর ফলে তারা শুধুমাত্র পরিবারে অবদান রাখছে না, বরং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। উদ্যোগটি প্রশংসনীয় হলেও তবে এর টেকসইতা নির্ভর করে নিরবিচ্ছিন্ন আর্থিক সহায়তা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং নিরাপদ বাজার সংযোগের ওপর।

বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলবাণিজ্যে , ভারতের নতুন বিধিনিষেধ বাড়াল উদ্বেগ

স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদপণ্যসহ অন্তত সাত ধরনের পণ্য আমদানিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত, যা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের পণ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক এখন থেকে কেবল কলকাতা ও মুম্বাইয়ের নভসেবা (জওহরলাল নেহরু) সমুদ্রবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারবে।

তবে বাংলাদেশ থেকে মাছ, এলপিজি, ভোজ্যতেল ও পাথর আমদানি অব্যাহত রাখছে ভারত। এছাড়া ভারতের ওপর দিয়ে নেপাল কিংবা ভুটানে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানিও অব্যাহত থাকবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের-এনবিআর তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে রপ্তানি করেছে ১৭ হাজার ৪২৫ কোটি টাকার পণ্য।

যেসব দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ছে, তার মধ্যে ভারত একটি, যেখানে প্রতিবছর প্রায় ৭০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়।

এর মধ্যে ৯৩ শতাংশের মত পোশাক পণ্য স্থলপথেই রপ্তানি হয়। ফলে ভারতের নতুন নিষেধাজ্ঞা এ খাতের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দেখা দেবে বলে ব্যবসায়ীদের শঙ্কা।

ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি গত কয়েক বছর ধরে বাড়ছিল। এখন ওই এলাকার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা করাই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন যদি দিল্লি বা অন্য কোনো সমুদ্র বন্দর দিয়ে রপ্তানি করতে হয়, তাহলে পরিবহন খরচ বাড়বে। কারণটা হল, স্থল পথ দিয়ে বাংলাদেশ থেকে দূরত্ব কম। যে কোনো ছোটো আকারের, ধরেন এক ট্র্যাক পণ্যও পাঠানো যায়। কিন্তু সমুদ্র পথে তা সম্ভব না, খরচ বেড়ে যাবে। আবার সমুদ্র থেকে পণ্য নামিয়ে আবার ট্রাকে নিয়ে সেভেন সিস্টার্সে গেলে অনেক খরচ বাড়বে।”

শাসা ডেনিমস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস মাহমুদ বলেন, “স্থলপথের বাণিজ্যে দুই দেশের লাভ ছিল। সেদেশের জনগণ কম খরচে বাংলাদেশের পণ্য পেত। কিছু পণ্য তো ভারতও (পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে) পাঠাতে পারে না।”

কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই ভারত হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল, তা স্পষ্ট হচ্ছে না বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের কাছে।

তিনি বলেন, “এসব ক্ষেত্রে একটা কারণ তো দেখাতে হয়, নয়ত ডব্লিউটিও কমপ্লায়েন্সের ইস্যু আসবে। আমার ধারণা ওরা দেখাবে সিকিউরিটি গ্রাউন্ড। এই বাণিজ্য চলছে বছরের পর বছর ধরে। এমন কী ঘটনা ঘটছে যার ভিত্তিতে আপনি বলতে পারেন বাংলাদেশ থেকে ইন্ডিয়ার এক্সপোর্ট একটা সিকিউরিটি কনসার্ন?”

ভারতের ইংরেজি পত্রিকা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড লিখেছে, ভারতের এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য টানাপোড়েন আরও তীব্র আকার ধারণ করল। প্রায় এক মাস আগে ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির সুযোগ বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর।

অন্যদিকে গত ৯ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে তৃতীয় কোনো দেশে রপ্তানি পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করে ভারত। এখন বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করল প্রতিবেশী দেশটি।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমার সমুদ্রে ফেলে দেয়া – ভারতের উদ্বেগজনক আচরণ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বসবাসকারী ৪৩ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে জবরদস্তি মিয়ানমারের কাছে সমুদ্রে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার–সংক্রান্ত হাইকমিশনের অফিস (ওএইচসিএইচআর) ১৫ মে এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে। এই অভিযোগ জাতিসংঘ তদন্ত করে দেখছে বলে ঘোষণা করেছে।

মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোটিয়ার টম অ্যান্ড্রুজ বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে-এই ধারণা একেবারেই ভয়াবহ ও অগ্রহণযোগ্য। আমি এসব ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য ও সাক্ষ্য সংগ্রহ করছি এবং ভারত সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি, এসব ঘটনার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করুন।’

একই সঙ্গে তিনি ভারত সরকারকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি নিষ্ঠুর ও প্রাণঘাতী আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, বিশেষ করে তাদের মিয়ানমারের বিপজ্জনক অবস্থায় ফেরত পাঠানোর বিষয়ে।

ওএইচসিএইচআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নয়াদিল্লিতে শরণার্থী হিসেবে বাস করা ৪৩ জন রোহিঙ্গাকে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের কথা বলে গত ৬ মে এক স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তারপর ৮ মে তাঁদের আন্দামানে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে তাঁদের মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক জলসীমানায় নিয়ে গিয়ে লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে জবরদস্তি সমুদ্রে নামিয়ে দেওয়া হয়। ওই শরণার্থীদের মধ্যে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরাও ছিলেন।

এর আগে শরণার্থীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তাঁরা মিয়ানমার না ইন্দোনেশিয়া কোথায় যেতে চান। এই রোহিঙ্গারা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর–এ নিবন্ধিত ছিলেন। তাঁরা ইন্দোনেশিয়ায় যেতে চাইলেও ১২ ঘণ্টা সমুদ্র সাঁতরে পাড়ে ওঠার পর তাঁরা বোঝেন, যে অঞ্চলে তাঁরা পৌঁছেছেন, তা মিয়ানমারের তানিনথারি এলাকা।

রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বসবাসরত আনুমানিক ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর মধ্যে অন্তত ২২ হাজার ৫০০ জন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাওএইসিএইচআর-এর নথিভুক্ত।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর দ্বারা নির্যাতন ও হামলার শিকার হয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলো রোহিঙ্গাদের ভারত থেকে বিতাড়নের দাবি জানিয়ে আসছে।

এছাড়াও আসাম রাজ্যের একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে প্রায় ১০০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে সরিয়ে নিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কোনো জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও খবর পেয়েছে জাতিসংঘ।

এদিকে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অঞ্চলে কাজ করে এমন একটি সামাজিক সংগঠন ‘মাসুম’ রোববার ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানিয়ে চিঠিতে লিখেছে যে — রাজস্থান ও গুজরাতের মতো রাজ্যগুলো থেকে সম্প্রতি বাংলাদেশী নাগরিকদের যেভাবে প্রত্যর্পণ করানো হচ্ছে, তাতে ‘ভারত মেনে চলতে বাধ্য এমন আন্তর্জাতিক আইন যেমন লঙ্ঘিত হচ্ছে, তেমনই ভারতীয় সংবিধানে যেসব অধিকার দেওয়া হচ্ছে, তারও লঙ্ঘন হচ্ছে।’

‘মাসুম’-এর প্রধান কিরীটী রায় প্রধান বিচারপতির কাছে ওই চিঠিতে লিখেছেন, যে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত অভিযোগে যাদের আটক করা হচ্ছে, তাদের যেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির করা হয় এবং তারা যাতে আইনি সহায়তা পান, সেটাও নিশ্চিত করা হয়।

সার্ন- ALICE এক্সপেরিমেন্ট , সীসা থেকে সোনা

বহু শতাব্দী ধরে আলকেমির স্বপ্ন ছিল সীসা থেকে সোনা তৈরি করা। প্রাচীন চিন, গ্রিস, মিশর ও ইউরোপের গোপন গবেষণাগারে আলকেমিস্টরা খুঁজেছেন সেই জাদুকরী উপায়, যেটি সীসার মতো একটি সস্তা ধাতুকে মহামূল্যবান সোনায় পরিণত করবে। তবে আধুনিক বিজ্ঞানের আলোয় সেই ধারণা বহু আগেই পেছনে পড়ে গিয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, আজকের পারমাণবিক গবেষণায় আমরা দেখছি সেই স্বপ্ন যা একদা অসম্ভব বলে মনে করা হয়েছিল, তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে!

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় পার্টিকেল এক্সিলারেটর Large Hadron Collider (LHC)-এর একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প ALICE (A Large Ion Collider Experiment) সম্প্রতি এমনই এক বিরল সাফল্য দেখিয়েছে। গবেষকরা দাবি করেছেন, তারা একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সীসা পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে প্রোটন বিচ্ছিন্ন করে সাময়িকভাবে সোনা পরমাণু তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। ক্ষণস্থায়ী হলেও এর বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য বিশাল।

এই ঘটনাটি ঘটেছে Electromagnetic Dissociation নামে পরিচিত একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। যখন দুটি ভারী ধাতব পরমাণু—যেমন সীসা (Lead) নিউক্লিয়াস—LHC-তে উচ্চ গতিতে একে অপরের খুব কাছ দিয়ে ছুটে যায় কিন্তু সরাসরি সংঘর্ষে না গিয়েও খুবই ঘনিষ্ঠভাবে “near-miss” ঘটায়, তখন এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে।

এই ঘনিষ্ঠ অতিক্রমণের সময়, উভয় পরমাণুর চারপাশে গঠিত শক্তিশালী ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড একে অপরের উপর প্রভাব ফেলে। এই ক্ষেত্রের প্রভাবে একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে কয়েকটি প্রোটন বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। ALICE-এর গবেষণায় দেখা যায় এই near-miss সংঘর্ষে সীসা নিউক্লিয়াস থেকে ৩টি প্রোটন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সীসার পরমাণু সংখ্যাই যেখানে ৮২, সেখান থেকে ৩টি বাদ দিলে দাঁড়ায় ৭৯—যেটি হল সোনার পরমাণু সংখ্যা। অর্থাৎ সাময়িকভাবে সীসা রূপ নেয় সোনায়।

এই প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া সোনা অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিমাণে, মাত্র ২৯ পিকোগ্রাম (picogram)—যা ১ গ্রাম-এর এক লাখ কোটি ভাগের এক ভাগ। এবং এই সোনার অস্তিত্বও থাকে মাত্র এক ক্ষণকাল। এটি তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে পড়ে বা অন্য নিউক্লিয়ায় পরিণত হয়। অর্থাৎ এটি স্থায়ী বা ব্যবহারযোগ্য কোনো সোনা নয়। তবে এই “সোনা” তৈরি হয়েছে এমনভাবে যা পূর্ববর্তী পারমাণবিক মডেল ও থিওরিকে সমর্থন করে। এই বাস্তবায়ন হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে অনুমান করা একটি তাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার প্রথম পরীক্ষামূলক সফলতা।

এই আবিষ্কারে ALICE ডিটেক্টরের একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র Zero Degree Calorimeter (ZDC) ভূমিকা রেখেছে। এই ডিভাইসটি সংঘর্ষের নির্দিষ্ট কণার ট্র্যাকিং ও শক্তি পরিমাপ করে। ZDC-এর সহায়তায় গবেষকরা নিশ্চিত হন যে, যে নিউক্লিয়াসটি সোনা হওয়ার দাবি করছে, তা আসলেই ৩টি প্রোটন হারিয়েছে এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক নিউট্রন বহন করছে। এছাড়াও এই পরিমাপ গবেষকদের হাতে এনে দেয় একটি নতুন নিউক্লিয়ার ম্যাপিং প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে অন্যান্য মৌলকেও এইভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে।

আধুনিক আলকেমি না কি পারমাণবিক ভবিষ্যৎ?
এই রূপান্তরকে অনেকে আধুনিক যুগের আলকেমির বৈজ্ঞানিক প্রতিফলন বলছেন। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। এখানে কোনো রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া নেই, নেই কোনো জাদু। রয়েছে কেবলমাত্র পারমাণবিক শক্তি, কণার interaction এবং কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রোডায়নামিক্সের ফলাফল। তবে প্রশ্ন থাকে এটা কি সোনা বানানোর ব্যবহারিক পথ? না। কারণ এই পদ্ধতিতে একটি পিকোগ্রাম সোনা তৈরি করতে প্রয়োজন হয় বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের শক্তি ও প্রযুক্তি। একে তাই “ইকোনমিকালি ইনভায়েবল” বলে ধরা হয়।

কিন্তু এর আসল গুরুত্ব রয়েছে তত্ত্বগত পদার্থবিদ্যার (Theoretical Nuclear Physics) দিক থেকে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা নিউক্লিয়াসের গঠন, কণার আন্তঃক্রিয়া, ভারী মৌলের স্ট্রাকচার ইত্যাদি বিষয়ে আরও গভীর ধারণা পাচ্ছেন। এই গবেষণা LHC-এর Run 2-এর সময়কালীন পর্যবেক্ষণ।বর্তমানে ALICE-এর উন্নত সংস্করণ Run 3 শুরু হয়েছে, যেখানে luminosity (collision frequency) আরও অনেকগুণ বেশি। এর ফলে আরও বেশি ঘটবে এই near-miss collision এবং গবেষকরা এই ধরণের পারমাণবিক রূপান্তর আরও ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারবেন। এছাড়াও গবেষকরা এখন নজর দিচ্ছেন নতুন মৌলের সৃষ্টি বা নিউট্রন-রিচ আইসোটোপ-এর পর্যালোচনায়, যা ভবিষ্যতের চিকিৎসা, শক্তি ও মহাকাশ গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

যেখানে একসময় সীসা থেকে সোনা তৈরি ছিল কেবল রূপকথা, আজ তা ক্ষণিকের জন্য হলেও বাস্তবে সম্ভব হয়েছে। বিজ্ঞান আবারও দেখিয়ে দিল অনেক পুরোনো কল্পনাও একদিন বাস্তব হতে পারে, যদি অনুসন্ধান জারি থাকে। এই আবিষ্কার যেমন পারমাণবিক পদার্থবিদ্যায় নতুন দ্বার উন্মোচন করছে, তেমনি প্রশ্ন তোলে মানব কল্পনার পরিধি ও বিজ্ঞানের সম্ভাব্য পরিসরের সীমা কোথায়?

শিল্প বিপ্লব – সামাজিক উন্নতি নাকি দুর্ভোগ ?

১৮শ শতকের শেষভাগে ইংল্যান্ড থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে ইউরোপ ও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া শিল্প বিপ্লব মানব ইতিহাসের একটি যুগান্তকারী অধ্যায় । এটি কেবল প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনই নয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তবে শিল্প বিপ্লবের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে-এটি কি মানব সমাজের জন্য সামাজিক উন্নতি নিয়ে এসেছে, নাকি এক ধরনের দুর্ভোগ ও সংকটের কারণ হয়েছে?

শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রাক-শিল্প যুগে অর্থনীতি ছিল গৃহকেন্দ্রিক ও হস্তশিল্প নির্ভর, যেখানে উৎপাদন সীমিত ও চাহিদাকেন্দ্রিক ছিল। শিল্প বিপ্লবের ফলে কলকারখানা ও মেশিনের ব্যবহার শুরু হয়, যা উৎপাদনকে বাণিজ্যিক ও ব্যাপক আকারে রূপান্তরিত করে। এর ফলে পণ্য উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধি পায়, বাণিজ্য প্রসারিত হয় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটে।

নতুন শ্রমিক শ্রেণি গড়ে ওঠে, যারা কলকারখানায় নিয়োজিত হয়। একই সঙ্গে পুঁজিপতি বা শিল্পপতি শ্রেণির আবির্ভাব ঘটে, যারা শিল্পে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনা করে অর্থনৈতিক শক্তি অর্জন করে। এই শ্রেণি গঠনের মাধ্যমে সমাজে নতুন সামাজিক কাঠামো আধুনিক সমাজের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।শিল্প বিপ্লবের ফলে নতুন শিল্প ও কলকারখানার সৃষ্টি হয়, যেখানে শ্রমিক হিসেবে নারীরাও ব্যাপক অংশগ্রহণ শুরু করে। নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পায়, যা তাদের সামাজিক অবস্থান পরিবর্তনে সহায়ক হয়। নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পেলে তাদের শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, যা সামগ্রিকভাবে নারী অধিকার আন্দোলনের পথ প্রশস্ত করে।

শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে নগরায়নের প্রসার ঘটে। গ্রাম থেকে মানুষ শহরে এসে কলকারখানায় কাজ করতে শুরু করে, যার ফলে শহরগুলো দ্রুত বর্ধিত হয়। নগরায়ন নতুন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করে, যেখানে মানুষের জীবনযাত্রা, চিন্তাধারা ও মূল্যবোধে পরিবর্তন আসে। শিল্পায়নের ফলে যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থাও উন্নত হয়, যা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়কে ত্বরান্বিত করে। মানবতাবাদ, গণতন্ত্র, সাম্য, ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদি সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে। শ্রমিকগণ একত্রে কাজ করার মাধ্যমে ঐক্যের অনুভূতি লাভ করে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে সচেতন হয়। এর ফলে শ্রমিক সংগঠন ও সুশাসনের দাবি জোরদার হয়, যা সমাজে গণতান্ত্রিক সংস্কারের পথ প্রশস্ত করে।

শিল্প বিপ্লবের ফলে বিশ্বায়ন ত্বরান্বিত হয়, যা বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির মিশ্রণ ঘটায় এবং সাংস্কৃতিক সম্প্রসারণ ঘটায়। এই প্রসার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাধারায় বৈচিত্র্য আনে, যা আধুনিক সমাজের বহুমাত্রিকতা ও উদারতাকে উৎসাহিত করে।

এবার শিল্প বিপ্লবের নেতিবাচক সামাজিক প্রভাবে গেলে, শিল্প বিপ্লবের সময় শ্রমিকদের জীবনযাত্রা ছিল অত্যন্ত কঠিন। দীর্ঘ সময় কাজ, নিম্ন মজুরি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শিশু শ্রমের মতো সমস্যা ছিল ব্যাপক। শ্রমিকরা প্রায়ই কারখানায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও স্বাস্থ্যহানিকর পরিবেশে কাজ করত, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটায়। এই শোষণ ও দুর্দশার বিরুদ্ধে শ্রমিক আন্দোলন ও ধর্মঘটের সূচনা হয়।

ফলে সমাজে পুঁজিপতি ও শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে বৈষম্য তীব্র হয়। পুঁজিপতিগণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতা দখল করে, আর শ্রমিকরা শোষণের শিকার হয়। এই বৈষম্য সামাজিক উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা পরবর্তীতে সমাজতান্ত্রিক ও কমিউনিস্ট আন্দোলনের জন্ম দেয়।

শিল্প বিপ্লবের ফলে নগরায়ন বাড়লেও শহরগুলোতে অপর্যাপ্ত বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবের কারণে বস্তিবাসী মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বল হয়। জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপের ফলে অপর্যাপ্ত অবকাঠামো ও স্যানিটেশন সমস্যার সৃষ্টি হয়, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সামাজিক সমস্যার জন্ম দেয়।

কলকারখানার বিস্তার ও শিল্পায়নের কারণে পরিবেশ দূষণ ব্যাপক মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। বাতাস, জল ও মাটি দূষিত হয়, যা মানুষের স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। এই দূষণ সমস্যা আজও বিশ্বব্যাপী একটি বড় সামাজিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ।

শিল্প বিপ্লবের ফলে সমাজে বাণিজ্যিকীকরণ ও পুঁজিবাদের আধিপত্য বেড়ে যায়, যা মানবিক সচেতনভাবে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটায়। শ্রমিকদের মানবিক অধিকার ও নৈতিকতা প্রায়ই উপেক্ষিত হয়, এবং সমাজে প্রতিযোগিতা ও স্বার্থপরতা বৃদ্ধি পায়।

শিল্প বিপ্লব মানব ইতিহাসের এক বিশাল পরিবর্তনশীল অধ্যায়, যা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে যুগান্তকারী প্রভাব ফেলেছে। এটি মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজতর, আরামপ্রদ ও সমৃদ্ধ করেছে, নতুন শ্রমিক ও পুঁজিপতি শ্রেণির জন্ম দিয়েছে, নারীদের অবস্থান পরিবর্তনে সহায়ক হয়েছে এবং নগরায়ন ও সাংস্কৃতিক বিশ্বায়নের পথ প্রশস্ত করেছে। একই সঙ্গে এটি শ্রমিক শোষণ, শ্রেণি বৈষম্য, নগরায়নের নেতিবাচক প্রভাব ও পরিবেশ দূষণের মতো মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করেছে।

শিল্প বিপ্লবকে কেবল সামাজিক উন্নতির দিক থেকেই দেখা উচিত নয়, বরং এর নেতিবাচক প্রভাবকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে। এটি ছিল এক অবিমিশ্র আশীর্বাদ ও অভিশাপ, যার সুফল ও কুফল দুটোই মানব সমাজের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এই শিক্ষাগুলো মাথায় রেখে মানবকল্যাণ ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতন পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য।

ইতিহাসের বৃহত্তম প্রবাল বিপর্যয় , ৮৪% রিফ ব্লিচিংয়ের কবলে

২০২৩ সালের শেষ থেকে শুরু হওয়া প্রবালপ্রাচীর ব্লিচিং এখন পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ৮৪ শতাংশ প্রবাল রিফকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, এটিকে সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণের ইতিহাসে সবচেয়ে বিস্তৃত ও গভীর সংকট বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA) জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি দেশের উপকূলবর্তী অঞ্চল এই সংকটে আক্রান্ত হয়েছে। এ ঘটনাকে চতুর্থ বৈশ্বিক প্রবাল ব্লিচিং ইভেন্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্ববর্তী ইভেন্টগুলো ১৯৯৮, ২০১০ ও ২০১৫–২০১৭ সালের মধ্যে ঘটেছিল। তবে এবার ক্ষতির পরিমাণ ও বিস্তৃতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

কীভাবে ঘটে এই ব্লিচিং?
বিজ্ঞানীরা জানান সমুদ্রজলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কয়েক ডিগ্রি বেড়ে গেলে প্রবাল তাদের শরীরের অভ্যন্তরে সহাবস্থানে থাকা জুজানথেলি নামক শৈবালকে ত্যাগ করে। এই শৈবালই প্রবালকে খাবার ও রঙ সরবরাহ করে। এর অনুপস্থিতিতে প্রবাল সাদা হয়ে যায়—এই অবস্থাকেই ‘ব্লিচিং’ বলা হয়। দীর্ঘমেয়াদে এই অবস্থা টিকে থাকলে প্রবাল মারা যায়।

NOAA-র সিনিয়র সামুদ্রিক বিজ্ঞানী ড. জেনিফার কার্সন বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা প্রবালপ্রাচীরের একটি ‘স্লো মোশন কোলাপ্স’ প্রত্যক্ষ করছি। এটা শুধু প্রবালের জন্য নয়, বরং সামুদ্রিক খাদ্যচক্র, উপকূলীয় জীবন ও মানুষের জন্যও এক অশনি সংকেত।”

অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, ক্যারিবিয়ান অঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবাল প্রাচীর, হাওয়াই, ফিজি এবং মালদ্বীপের মতো অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এই তালিকায় উপমহাদেশের বঙ্গোপসাগরও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে অবস্থিত প্রবাল রিফসমূহ ভবিষ্যতে উচ্চ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদা রহমান বলেন, “ব্লিচিং ইভেন্টটি বাংলাদেশের উপকূলীয় প্রতিবেশেও প্রভাব ফেলবে। প্রবালের ক্ষয় মানে উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য ও মাছের সংখ্যায় ব্যাপক হ্রাস।”

এই বিপর্যয়ের অন্যতম চালক হলো চলমান El Niño পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ধারাবাহিক প্রভাব। IPCC রিপোর্ট অনুসারে ২০২৩ সাল ছিল এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণতম বছর, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে সাগরের তাপমাত্রায়।

বর্তমানে NOAA ও UNEP সহ বিভিন্ন সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত রিফগুলোর জন্য জেনেটিকালি রেজিলিয়েন্ট প্রবাল রোপণ, সামুদ্রিক সুরক্ষিত অঞ্চল সম্প্রসারণ, ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণমূলক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা একমত যে, যদি কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে বৈশ্বিক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও মারাত্মক ব্লিচিং অনিবার্য।

বিশ্বব্যাপী প্রবাল ব্লিচিং শুধুমাত্র একটি পরিবেশগত ইভেন্ট নয়, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের জ্যান্ত প্রমাণ এবং আমাদের সামুদ্রিক ভবিষ্যতের এক গভীর সতর্কবার্তা। মানবজাতির ওপর এর প্রত্যক্ষ প্রভাব না থাকলেও, এর পরোক্ষ প্রভাব মাছের ঘাটতি, জীববৈচিত্র্য হ্রাস, এবং উপকূলীয় ঝুঁকি—অবধারিতভাবে মানব জীবনের উপরই ফিরে আসবে।

রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে : নূরুল কবীর , দৈনিক নিউ এজ-এর সম্পাদক

0

“… গণ-অভ্যুত্থানের পাটাতনের ওপর প্রতিষ্ঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রদর্শন সম্পর্কে অস্বচ্ছ ধারণা ও কোনো কোনো উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ‘রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর’ ও ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা গত ৯ মাসে ক্রমেই হ্রাস পেয়ে চলেছে। এসব উপদেষ্টার সহযোগিতায় বরং কোনো কোনো প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক শক্তির বিকাশের পথ প্রশস্ত হচ্ছে।

… অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর গণমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আওয়ামী লীগের স্বৈরতান্ত্রিক জমানার তুলনায় সাধারণভাবে অবশ্যই সম্প্রসারিত হয়েছে।…তবে সম্পাদক পরিষদের সহসভাপতি হিসেবে আমি জানি, সরকারের কোনো কোনো উপদেষ্টা ও গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী কোনো কোনো নেতা ইতিমধ্যে সংবাদমাধ্যমের গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার প্রতি খানিকটা বিতৃষ্ণ হয়ে উঠেছেন এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাঁরা অনাকাঙ্ক্ষিত বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এটা নিশ্চয় বিপজ্জনক লক্ষণ। এই লক্ষণের বিরুদ্ধে যৌক্তিকভাবে সংঘবদ্ধ প্রতিবাদ জ্ঞাপন করা প্রয়োজন।

… কোনো স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল সংগ্রাম পরিচালনার প্রক্রিয়ায়, সংগ্রামীদের কারও কারও মননের ভেতর, তাঁদের অজান্তেই, কিছু কিছু স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার অনুপ্রবেশ ঘটে।…‘রাষ্ট্রবহির্ভূত’ কিন্তু রাষ্ট্রের সঙ্গে জড়িত, এসব ননস্টেট ব্যক্তির কারও কারও ভেতর এই প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে, যা কখনো কখনো ‘মব অ্যাকশন’ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

এ দেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে হলে এই প্রবণতার বিরুদ্ধে সচেতনভাবে সতর্কতার সঙ্গে ভাবাদর্শগত সংগ্রাম পরিচালনা…করতে হবে। তবে প্রতিবাদী তারুণ্যের কোনো ন্যায়সংগত প্রতিবাদকে আমরা যেন ‘মব জাস্টিস’ হিসেবে চিহ্নিত না করি।

… আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে, প্রহসনমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে, রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগমূলক ক্ষমতার অপব্যবহার করে, রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত রেখে এ দেশে একটি লুটপাটতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। আবার এই রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অপরাধের বিরুদ্ধে সংগঠিত গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে দমন করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য লীগ সরকার মাত্র তিন সপ্তাহে দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করেছে এবং ২০ হাজার মানুষকে গুলি করে তাঁদের অনেককেই চিরতরে পঙ্গু করে দিয়েছে।

এমন একটি রাজনৈতিক দলের স্বৈরতান্ত্রিক নেতা-নেত্রীসহ খোদ সেই দলটিকেও ‘সংগঠন হিসেবে’ বিচারের আওতায় আনাকে আমি একটি ন্যায্য পদক্ষেপ হিসেবেই গণ্য করি।…পৃথিবীর যেকোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার কর্তৃক জনগণের বিরুদ্ধে পরিচালিত কোনো হত্যাযজ্ঞকে সমর্থন করা অন্যায়।

… বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উত্থানের জন্য এ দেশের মানুষকে যে রক্তাক্ত স্বাধীনতাযুদ্ধের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে, সেই যুদ্ধের সময় যারা এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা-প্রয়াসের বিরুদ্ধে সক্রিয় অবস্থান গ্রহণ করেছিল, তারা যখন ‘জাতীয় সংগীতের’ যাথার্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অসৎ রাজনৈতিক তৎপরতা হিসেবে ধরে নিতে হবে।

… স্বাধীনতা-পরবর্তী লীগের নানা রাজনৈতিক অপকর্মের বিরোধিতা করার নামে, খোদ স্বাধীনতাযুদ্ধ কিংবা স্বাধীনতাযুদ্ধের গণচেতনার বিরোধিতাকে প্রশ্রয় দেওয়ারও সুযোগ নেই।

… কোনো দেশের শাসকশ্রেণির বিভিন্ন দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যখন সমাজে দীর্ঘকাল ধরে অগণতান্ত্রিক, স্বৈরতন্ত্রী কিংবা কর্তৃত্ববাদী শোষণ-নিপীড়নমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা জারি রাখে, তখন সে সমাজে প্রতিবাদী রাজনীতি হামেশাই ‘উগ্র রূপ’ ধারণ করে।…বাংলাদেশ রাষ্ট্রের এবং এ দেশের মূলধারার রাজনীতি ও অর্থনীতির যথার্থ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ভেতর দিয়েই কেবল এখন পর্যন্ত দুর্বল ‘উগ্রপন্থী’ রাজনীতি বিকাশের পথরোধ করা যেতে পারে।…গণতন্ত্রের তরফে, যেকোনো উগ্রবাদিতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক সংগ্রাম পরিচালনা করা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য হিসেবে সমাজে হাজির রয়েছে।

… কিছু সংস্কার জাতীয় নির্বাচনের আগে, আর কিছু পরে কার্যকর হওয়াই বাঞ্ছনীয়। সংস্কারের নামে নির্বাচন প্রলম্বিত করা কিংবা নির্বাচনের নামে সংস্কারপ্রক্রিয়ায় বিঘ্ন তৈরি করা ঠিক হবে না।

… সরকারের ভেতরে ও বাইরে অনেকেই আছেন, যাঁরা নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেশ কয়েক বছর ক্ষমতায় রেখে, নিজেদের নানা ব্যক্তিগত ও দলগত সুবিধা আদায় করতে চান। এ অবস্থায় নির্বাচনী শিডিউলের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষিত না হওয়ার কারণে সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতর সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতির গতিশীলতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই অনতিবিলম্বে এই সংশয় ও সন্দেহের নিরসন হওয়া প্রয়োজন।

… দু-একটা নির্দিষ্ট এলাকা বাদ দিলে, অন্তর্বর্তী সরকারের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক নয়। দীর্ঘ ৯ মাসে রাষ্ট্রের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিসরেই কোনো দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন নেই। সবকিছু পুরোনো পদ্ধতিতেই চলছে।

… রাখাইন রাজ্যের জন্য ‘মানবিক চ্যানেল’ দেওয়া-না দেওয়া বা বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করার মতো সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা দেশের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রাখতে বাধ্য। এসব বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের একা একা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয়। বাংলাদেশ যখন একটি ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, তখন গণতন্ত্রপরায়ণ শক্তিসমূহের সম্মিলিত ভাবনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। “

দেশ কোথায় যাচ্ছে কেউ জানে না , আগস্ট-অক্টোবরেই নির্বাচন দেয়া যায় : আমীর খসরু , বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য

0

১৮ মে রোববার রাজধানীর বনানীতে একটি হোটেলে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন —

“দেশের জনগণ যেটা মনে করে, নির্বাচন যত বিলম্বিত হচ্ছে, দেশকে তত বেশি অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। জাতি এখন এক গভীর শঙ্কার মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ এখন এক অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে আছে। দেশ কোথায় যাচ্ছে, কেউ জানে না। জনগণ মনে করে, সরকার আস্থা হারাচ্ছে, এটি দেশের জন্য দুর্ভাগ্য।”

তিনি বলেন, “এই সরকারটি কিন্ত একটি অন্তবর্তীকালীন সরকার। তাদের মূল দায়িত্ব হচ্ছে, দেশে একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করে ক্ষমতা নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা, গণতান্ত্রিক অর্ডারে দেশকে নিয়ে যাওয়া।”

আমীর খসরু বলেন, “করিডোর, বন্দর, বিনিয়োগ সম্মেলন — এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। যা তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। এগুলো কী জন্য? তারা সময় নষ্ট করছে। এগুলো দেখিয়ে তারা কী বোঝাতে চাচ্ছে? চট্টগ্রাম পোর্ট হ্যান্ডওভার করছে। তাদের ম্যান্ডেট কে দিয়েছে?”

তিনি বলেন, “নির্বাচনের জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত যেতে হবে কেন? আমি তো দেখছি, ডিসেম্বর পর্যন্ত যাওয়ার কোনো কারণ নেই। নির্বাচনের জন্য তিন মাস সময় নিয়ে এগিয়ে যাওয়া দরকার। অগাস্ট, সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে নির্বাচন হতে পারে।

যে সংস্কার প্রস্তাবগুলোতে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তারা (অন্তবর্তীকালীন সরকার) বলতে পারে। একদিনের মধ্যেও বলতে পারে। এতদিন তো লাগে না।”

বিএনপি’র এই নেতা বলেন, ‘আমাদের স্পষ্ট কথা — কারও ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সংস্কার দেখতে চাই না। একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণ যেভাবে চায় সেভাবে সংস্কার হবে। বাংলাদেশের মানুষ তার মালিকানা ফিরে পেতে চায়। তার নির্বাচিত সরকার চায়।

তিনি বলেন — নির্বাচনী রোডম্যাপ দেওয়া হচ্ছে না কেন? তাদের (অন্তর্বর্তী সরকার) দায়িত্ব যেগুলো, সেগুলো এড়িয়ে অন্য কাজ কেন তারা করছে? এমন ভাব করছে যে, তারা নির্বাচিত সরকার, তারা দীর্ঘমেয়াদে দেশ পরিচালনা করবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনের ফলাফলের বিষয়ে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আমীর খসরু।

ইশরাক হোসেনকে মেয়র করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের রাজনীতি যারা করে, তারা দায়িত্ব পাবে না। অথচ দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন ধরনের লোককে প্রতিনিয়ত দায়িত্ব নেওয়া হচ্ছে। তারা কারা? সব ইম্পোর্টেড, আমদানি। হঠাৎ করে এসে বাংলাদেশের দায়িত্ব নিচ্ছে। তাদের আগামী বাংলাদেশের সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কে দিয়েছে?’

দেশে জুতার বাজার – ২৪ হাজার কোটি টাকার

0

দেশে ১৮ কোটি মানুষের জন্যই জুতা প্রয়োজন হয়। এটি অনেক বড় বাজার। যদিও দেশে জুতার বাজার নিয়ে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে বিভিন্ন জরিপ থেকে অনুমান করা হয়, স্থানীয় জুতার বার্ষিক বাজার ২২ থেকে ২৪ হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে ৩০-৪০ শতাংশ আসে ব্র্যান্ডের জুতা থেকে। শীর্ষ কোম্পানির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এপেক্স, বাটা ও লোটো বাংলাদেশ (এক্সপ্রেস লেদার)। এ ছাড়া বছরে প্রায় ১১১ কোটি ডলারের জুতা রপ্তানি হয় ।