Home Blog Page 32

প্রধান উপদেষ্টার সময়সূচি অনুযায়ী হবে জাতীয় নির্বাচন : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ঢাকার মোহাম্মদপুরে নতুন কাঁচাবাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্পষ্ট করেছেন, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার সময়সূচি অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সময়মতো অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “কে কী বলল, তা শোনার দরকার নেই।নির্বাচনের সময় নির্ধারিত আছে। জনগণ যখন ভোটমুখী হবেন, তখন কেউ বাধা দিতে পারবে না। কারো কোনো শক্তি নেই নির্বাচন বন্ধ করার।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যেই আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে রোজার আগে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন। এর পরদিন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে চিঠি প্রেরণ করেছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচন হবে এবং কারো বক্তব্য বা প্রতিবন্ধকতা এ বিষয়ে প্রভাব ফেলতে পারবে না। কারণ রাষ্ট্রের ক্ষমতা জনগণের হাতে।”

একই সময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন চলমান ঘটনার বিষয়ে অবহিত করেন। সম্প্রতি একজন সাবেক সংসদ সদস্যের বাসায় চাঁদাবাজির ঘটনায় যে ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেখানে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম উল্লেখ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কোনো ঘটনা ঘটলে তা আইনের আওতায় আনা হবে।” এছাড়া তিনি মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার আহ্বানও জানান।

কাঁচাবাজারে সবজির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, “বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে তুলনামূলকভাবে আলুর দাম তেমন বাড়েনি। প্রচুর আলু কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষিত রয়েছে।” তিনি কৃষকদের জন্য বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের গুরুত্বও তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও আছেন এবং কাঁচাবাজার, কোল্ড স্টোরেজ এবং কৃষি উৎপাদন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। তার মতে নির্বাচনের সময়সূচি ও জনস্বার্থ সংক্রান্ত বিষয়ে রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা এবং কার্যকর প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এবারের নির্বাচনের সময়সূচি ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই মন্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব বহন করছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি, বাজার পর্যবেক্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সব ক্ষেত্রেই তিনি জনগণকে নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন যে, সরকারি কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হচ্ছে স্বচ্ছ, সময়মতো ও সুষ্ঠু কার্যক্রম নিশ্চিত করা।

ডুবে যাচ্ছে হার্ট অফ ভোহ, জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে বিলীন এক প্রতীকী ম্যানগ্রোভ

নিউ ক্যালেডোনিয়ার উত্তরাঞ্চলে বিস্তৃত সমুদ্রতট থেকে দেখা যায় এক আশ্চর্য দৃশ্য, প্রকৃতির আঁকা এক হৃদয়ের ছবি। এই ম্যানগ্রোভ বনকে বলা হয় হার্ট অফ ভোহ (Heart of Voh)। আকাশ থেকে তাকালে সবুজ ম্যানগ্রোভ জঙ্গলের মাঝখানে গড়ে ওঠা এক নিখুঁত হৃদয়াকৃতি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষ ও বিশ্ববাসীর কাছে প্রকৃতির বিস্ময় হিসেবে পরিচিত। এটি শুধু একটি প্রাকৃতিক নিদর্শন নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের আলোচনায় এক শক্তিশালী প্রতীক।

কিন্তু আজ সেই হৃদয় ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার পরিবর্তন এবং জলবায়ু-সৃষ্ট বাস্তুতান্ত্রিক চাপ এই চিহ্নিত ম্যানগ্রোভকে বিলীন করে দিচ্ছে। শত শত বছর ধরে গড়ে ওঠা এই রূপক প্রতীক কি সত্যিই হারিয়ে যাবে? এই প্রশ্ন এখন শুধু বিজ্ঞানীদের নয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও গভীর উদ্বেগের বিষয়।

হার্ট অফ ভোহকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেন ফরাসি ফটোগ্রাফার ইয়ান আর্থুস-বার্ট্রান্ড, যিনি ১৯৯০-এর দশকে আকাশ থেকে তোলা ছবির মাধ্যমে এই হৃদয়াকৃতি ম্যানগ্রোভকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন। ছবিটি নিউ ক্যালেডোনিয়াকে এক অনন্য পরিচয়ে পরিচিত করে তোলে। একদিকে প্রকৃতির নৈপুণ্য, অন্যদিকে মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীক।

ম্যানগ্রোভ বনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো জোয়ার-ভাটা নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা এবং উপকূলরেখা রক্ষার ক্ষমতা। হার্ট অফ ভোহ-র ক্ষেত্রেও তাই। এটি শুধু নান্দনিক নয়, বরং স্থানীয় পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য এক অপরিহার্য সুরক্ষা প্রাচীর।

কেন বিলীন হচ্ছে এই হার্ট?
হার্ট অফ ভোহের সংকটের মূল কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে বরফ গলছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপাঞ্চলে। নিউ ক্যালেডোনিয়ার উপকূল জুড়ে পানি ক্রমশ জমি দখল করছে, যার ফলে ম্যানগ্রোভ বনের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ম্যানগ্রোভ মূলত আধা-লবণাক্ত পানিতে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। কিন্তু সমুদ্রপৃষ্ঠের বৃদ্ধি ও মিঠা পানির ঘাটতির কারণে অতিরিক্ত লবণাক্ততা তাদের টিকে থাকার ক্ষমতাকে দুর্বল করছে। ঘূর্ণিঝড় ও ঝড়ো জলোচ্ছ্বাসের ঘনঘন আঘাত ম্যানগ্রোভের শেকড়কে দুর্বল করে দিচ্ছে। হার্ট অফ ভোহ একটি প্রাকৃতিক নিদর্শন হলেও স্থানীয় এলাকায় নগরায়ণ, খনি কার্যক্রম ও পর্যটনের চাপও পরিবেশগত ভারসাম্যকে প্রভাবিত করছে। ফলাফল দাঁড়িয়েছে এই যে, ধীরে ধীরে ম্যানগ্রোভ বনের সেই অনন্য হৃদয়াকৃতি ভেঙে পড়ছে।

হার্ট অফ ভোহ শুধুমাত্র একটি প্রাকৃতিক দৃশ্য নয়; এটি স্থানীয় জনগণের কাছে পরিচয় ও গর্বের প্রতীক। মেলানেশীয় সংস্কৃতিতে প্রকৃতির প্রতিটি অংশকে আধ্যাত্মিক অর্থে দেখা হয়। স্থানীয়দের কাছে এই ম্যানগ্রোভ তাদের ঐতিহ্য, জীবিকা এবং ভবিষ্যতের সাথে গভীরভাবে জড়িত। পর্যটনশিল্পও এ দৃশ্যের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। আকাশ থেকে হার্ট অফ ভোহ দেখার জন্য অসংখ্য পর্যটক আসেন। ফলে এটি স্থানীয় অর্থনীতিরও একটি অংশ হয়ে উঠেছে। তাই এর বিলীন হওয়া মানে শুধু পরিবেশগত ক্ষতি নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সংকটও।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ম্যানগ্রোভ হলো পৃথিবীর সবচেয়ে কার্যকর কার্বন শোষক বাস্তুতন্ত্রগুলোর একটি। একে বলা হয় “ব্লু কার্বন ইকোসিস্টেম”। প্রতি বর্গকিলোমিটার ম্যানগ্রোভ বছরে শত শত টন কার্বন শোষণ করে। হার্ট অফ ভোহ-এর মতো ম্যানগ্রোভ বিলীন হলে শুধু নান্দনিক প্রতীক হারাবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তন রোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারও হারিয়ে যাবে। বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, ম্যানগ্রোভ বাঁচাতে হলে শুধু স্থানীয় পদক্ষেপ নয়, বৈশ্বিক জলবায়ু নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মূল উৎস হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন।

হার্ট অফ ভোহকে কি বাঁচানো সম্ভব?

কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে পুনরায় ম্যানগ্রোভ রোপণ, জলাভূমি সংরক্ষণ এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ আনা হলে এর আয়ু কিছুটা বাড়ানো সম্ভব। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। যদি বিশ্ব কার্বন নিঃসরণ কমাতে ব্যর্থ হয়, তবে এমন প্রতীকী প্রাকৃতিক নিদর্শন একে একে হারিয়ে যাবে।

হার্ট অফ ভোহ-এর ধীরে ধীরে বিলীন হওয়া আমাদের সামনে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী প্রশ্ন দাঁড় করায়: আমরা কি কেবল ছবি তুলে এই বিস্ময়ের স্মৃতি ধরে রাখব, নাকি এর বিলীন হওয়ার বার্তাকে ব্যবহার করব বিশ্বকে সতর্ক করার জন্য? নিউ ক্যালেডোনিয়ার এই হৃদয় শুধু এক প্রাকৃতিক আকৃতি নয়, বরং এটি আমাদের সময়ের প্রতীক। প্রকৃতির ভালোবাসা, মানবিক আবেগ এবং জলবায়ুর হুমকি সবকিছুর মিলিত রূপ। যদি আমরা সময়মতো পদক্ষেপ না নেই তাহলে হার্ট অফ ভোহ হয়তো হারিয়ে যাবে, কিন্তু তার গল্প বেঁচে থাকবে এক সতর্ক সংকেত হিসেবে।

হার্ট অফ ভোহ-এর পতন মনে করিয়ে দেয় জলবায়ু পরিবর্তন শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি প্রকৃতির সৌন্দর্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও মানুষের আবেগকেও গ্রাস করছে।

আইসিভির প্রতিবেদন – অস্ট্রেলিয়ায় বেড়েছে ইসলামোফোবিয়া

ভিক্টোরিয়া ইসলামিক কাউন্সিল (আইসিভি) সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামোফোবিয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আইসিভি জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর প্রকৃত সংখ্যা সরকারি বা প্রকাশিত রিপোর্টের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। শনিবার মেলবোর্নে ইসলামোফোবিয়া বিষয়ক আইসিভি’র প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাজনীতিবিদ, পুলিশ, ধর্মীয় নেতা ও শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন। এই সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে যে, ৮৫%-এর বেশি ইসলামোফোবিয়া সংক্রান্ত ঘটনা সাধারণত রিপোর্ট করা হয় না।

কাউন্সিল জানিয়েছে, ২০২১ সাল থেকে তারা ইসলামোফোবিয়ার শিকার মানুষের কাছ থেকে মোট ৯৬টি ব্যক্তিগত ঘটনার তথ্য পেয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি প্রতিবেদন এসেছে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত, অর্থাৎ মাত্র ছয় মাসে। বেশিরভাগ প্রতিবেদনে মৌখিক হয়রানি, উপহাস ও অসম্মানজনক আচরণের ঘটনা উঠে এসেছে। এছাড়াও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য এবং সামাজিক দূরত্বের মতো সমস্যার কথাও উল্লেখযোগ্য।

আইসিভি আরও জানিয়েছে, অনেক ঘটনা সরাসরি ভুক্তভোগীর মাধ্যমে রিপোর্ট করা হয়নি, তবে মুসলিমবিরোধী বর্ণবাদের অংশ হিসেবে বিভিন্ন অনলাইন ঘৃণামূলক মন্তব্য, মুসলিম সংস্থাগুলোতে প্রেরিত হুমকিপূর্ণ ইমেইল, শত্রুতাপূর্ণ ফোন কল এবং অমানবিক মিডিয়া ভাষ্য-এর মতো ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত এমন ধরনের ৩,২৫৪টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

আইসিভি’র বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অনেক মুসলিম ইসলামোফোবিয়ার শিকার হওয়ার পরও অভিযোগ দায়ের করেন না। এর প্রধান কারণ হলো, তাদের আশঙ্কা থাকে যে অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হবে না। এছাড়াও পুলিশ ও সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি তাদের মধ্যে এক ধরনের অবিশ্বাস দেখা যায়। প্রতিবেদন না করার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে সমস্যার ব্যাপকতা অস্বীকার করা সহজ হয়ে যায়, যার ফলে ভুক্তভোগীরা প্রাপ্য সমর্থন, স্বীকৃতি বা ন্যায়িক বিচার পেতে ব্যর্থ হন। এই পরিস্থিতিতে ‘অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট ইসলামোফোবিয়া’ নামে একটি উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। এটি অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল (এএনআইসি) দ্বারা পরিচালিত হবে। এর আওতায় ইসলামোফোবিয়ার শিকারদের জন্য সহায়তা হটলাইন এবং কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রতিষ্ঠিত হবে, যাতে কর্তৃপক্ষ ও সম্প্রদায় এ ধরনের আচরণের ব্যাপারে আরও সঠিক তথ্য পান।

এএনআইসির প্রেসিডেন্ট ইমাম শাদি আলসুলেইমান এর আগে গার্ডিয়ান অস্ট্রেলিয়াকে বলেছেন, মুসলিমবিরোধী ঘৃণা বাড়ার কারণে অনেকেই দৈনন্দিন ধর্মীয় কাজ, যেমন মসজিদে নামাজ পড়া বা হিজাব পরে বাইরে যাওয়াসহ ধর্মীয় আচার পালন করতে অনিচ্ছুক বোধ করছেন।

রুমি-আদোনিস থেকে আধুনিক আরবি কবিতায়, সুফিবাদের প্রেম ও আধ্যাত্মিকতার জাদু

ইসলামী সভ্যতার এক অমূল্য সম্পদ হলো এর সাহিত্য, যার এক বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে সুফিবাদ। সুফিবাদ শুধু একটি আধ্যাত্মিক দর্শন নয়, এটি আরবি ও ফারসি সাহিত্যের বিশাল অংশকে প্রভাবিত করেছে। এই ধারাটি তার গভীরতা, প্রতীকী ভাষা এবং মানব মনের রহস্যময় দিকগুলো অন্বেষণের মাধ্যমে সাহিত্যকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে।

সুফিবাদ মূলত ইসলামে সৃষ্ট একটি রহস্যবাদী আন্দোলন, যা শরিয়তের বাহ্যিক দিকগুলোর চেয়ে আধ্যাত্মিক বিশুদ্ধতা ও স্রষ্টার সাথে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের ওপর জোর দেয়। অষ্টম শতাব্দী থেকে এই ধারাটি ধীরে ধীরে বিকশিত হতে থাকে। প্রথম দিকের সুফি সাধকরা, যেমন রাবি’আ আল-আদাউইয়া (Rabia al-Adawiyya), তাঁদের কবিতা ও গদ্যে স্রষ্টার প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং প্রেমের ধারণা প্রকাশ করতেন। তাঁদের লেখায় প্রেম ছিল এক ঐশ্বরিক সত্তার প্রতি একনিষ্ঠ অনুরাগ, যা পার্থিব সবকিছুর ঊর্ধ্বে। এই প্রেম ছিল ‘ইশক’ (Ishq), যা আধ্যাত্মিক উন্মাদনা ও পরমাত্মার সঙ্গে একাত্ম হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা বোঝাত। এই আদি সুফি কবিরা তাঁদের কবিতাগুলোকে বাহ্যিক ধর্মীয় আচারের চেয়ে অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি ও হৃদয়ের পবিত্রতার ওপর গুরুত্ব দিতেন। তাঁদের কাছে, প্রেম ছিল স্রষ্টার সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম, যা কোনো নিয়ম বা কাঠামোর দ্বারা আবদ্ধ নয়।

রুমি ও ইবনে আরাবিকে সুফি সাহিত্যের দুই মেরু বলা যায়। রুমি মূলত ফারসি ভাষায় লিখলেও তাঁর দর্শন ও কাব্যিক শৈলী আরবি সাহিত্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। রুমির ‘মসনবী’ (Masnavi) এক বিশাল কাব্যিক মহাকাব্য, যেখানে তিনি প্রতীকী গল্পের মাধ্যমে স্রষ্টার প্রতি প্রেম, বিরহ এবং আধ্যাত্মিক যাত্রার বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁর কবিতায় ব্যবহৃত শরাব (মদ), সাকি (মদ পরিবেশনকারী), শামা (মোমবাতি), পারওয়ানা (পতঙ্গ)-এর মতো প্রতীকগুলো পার্থিব বস্তু নয়, বরং এগুলো ঐশ্বরিক প্রেম, প্রেমিক সত্তা এবং আধ্যাত্মিক পথের ইঙ্গিতবাহী। রুমির দর্শনে, প্রেমই হলো সেই পথ, যা মানুষকে পরমাত্মার কাছে পৌঁছে দেয়। রুমির দর্শন ছিল সহজ এবং সরল, যা সাধারণ মানুষের কাছেও সহজেই বোধগম্য। তিনি মনে করতেন, স্রষ্টার প্রেম মানুষের হৃদয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যমান, শুধু তাকে জাগিয়ে তুলতে হয়।

অন্যদিকে ইবনে আরাবি (Ibn Arabi) ছিলেন একজন দার্শনিক সুফি। তার কাজগুলো ছিল আরও জটিল এবং গভীর। তিনি আরবি সাহিত্যে ‘ওয়াহদাতুল উজুদ’ (Wahdat al-Wujud) বা ‘সত্তা বা অস্তিত্বের ঐক্য’ নামক দার্শনিক ধারণাটি উপস্থাপন করেন। তার মতে মহাবিশ্বের সবকিছুই পরম সত্তা বা আল্লাহ থেকে উদ্ভূত এবং সবকিছুর মাঝে আল্লাহ বিদ্যমান। এই দর্শন অনুসারে, স্রষ্টা ও সৃষ্টি আলাদা নয়, বরং এক ও অবিভাজ্য। তাঁর কাব্য ও গদ্যে এই দার্শনিক তত্ত্বের গভীর প্রতিফলন দেখা যায়। তিনি তাঁর প্রেমমূলক কবিতাগুলোতে পার্থিব প্রেমকে ঐশ্বরিক প্রেমের প্রতিচ্ছবি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা সাধারণ প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কের মাধ্যমে স্রষ্টার সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্ককে নির্দেশ করে। ইবনে আরাবির ‘তারজুমান আল-আশওয়াক’ (Tarjuman al-Ashwaq) কাব্যগ্রন্থটি এই ধরনের প্রতীকী প্রেমের এক অনবদ্য উদাহরণ। তার দর্শন শুধু আধ্যাত্মিক সাধনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ইসলামী দর্শন ও ধর্মতত্ত্বের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

বিংশ শতাব্দীতে যখন আধুনিক আরবি কবিতা বিকশিত হচ্ছিল, তখন অনেক কবিই সুফিবাদের প্রতীকী ভাষা ও রহস্যময়তাকে নতুন আঙ্গিকে ব্যবহার করেন। ঐতিহ্যবাহী আরবি কবিতার কাঠামোগত কঠোরতা থেকে বেরিয়ে এসে তারা নতুন শৈলী ও বিষয়বস্তু অন্বেষণ শুরু করেন। এই আধুনিক কবিদের মধ্যে মাহমুদ দারবিশ, আদোনিস এবং আব্বাস বাইদুন উল্লেখযোগ্য।

মাহমুদ দারবিশ তার কবিতায় সুফি প্রতীক ও রূপক ব্যবহার করে ফিলিস্তিনি পরিচয়ের সঙ্কট ও নির্বাসনের বেদনা প্রকাশ করেছেন। তার কবিতায় ব্যবহৃত ‘শরাব’ বা ‘আলিঙ্গন’ প্রায়শই কেবল মর্ত্যের পানীয় বা সম্পর্ক নয়, বরং স্বদেশ ভূমি বা আধ্যাত্মিক মুক্তির এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা। তার কবিতায় ইবনে আরাবির ‘ওয়াহদাতুল উজুদ’ দর্শনের একটি আধুনিক রূপ দেখা যায়, যেখানে ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্ব ও ভূখণ্ডের অস্তিত্ব একাকার হয়ে গেছে। এটি কেবল রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, বরং গভীর আধ্যাত্মিক প্রতিবাদ, যেখানে ভূমি এবং মানুষ অবিচ্ছেদ্য সত্তা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

আদোনিস বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী আরবি কবি, তিনি সুফিবাদের রহস্যময়তা ও বিপ্লবী দিকগুলোকে তার কবিতায় তুলে ধরেছেন। তার মতে, সুফিবাদ হলো একটি বিদ্রোহ যা প্রচলিত রীতিনীতি ও বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এক আধ্যাত্মিক প্রতিবাদ। তিনি সুফিদের প্রেমের ধারণা, আত্ম-নাশ (Fana) এবং পরম সত্তার সঙ্গে একাত্ম হওয়ার আকুলতাকে সমাজের বদ্ধমূল ধারণাগুলোকে ভেঙে ফেলার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আদোনিস তার লেখায় সুফিবাদের রহস্যময় এবং অস্পষ্ট দিকগুলো তুলে ধরেছেন, যা পাঠককে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার দিকে নিয়ে যায়।

আবুল কাশেম আল-শাব্বি (Abul Qasim al-Shabbi), একজন তিউনিসীয় কবি যিনি তার বিখ্যাত কবিতা “ইরাদাত আল-হায়াত” (ইচ্ছা-জীবনের) এ সুফীবাদের আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করেন। তার মতে, মানুষের মধ্যে যে বিপ্লবী শক্তি রয়েছে তা প্রকৃতি এবং স্রষ্টার দেওয়া উপহার। তাঁর কবিতায় ব্যবহৃত প্রতীকগুলো যেমন রাত, দিন, সূর্য, ও ঝড় সুফীবাদের রহস্যময়তা ও আধ্যাত্মিক শক্তিকে ফুটিয়ে তোলে। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষ যদি তার অন্তর্নিহিত আধ্যাত্মিক শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে পারে, তবে সে কোনো বাধাই অতিক্রম করতে পারে।

রুমি এবং ইবনে আরাবি থেকে শুরু করে আধুনিক আরবি কবিদের লেখায় সুফিবাদ শুধু একটি দর্শন নয়, বরং এটি একটি শৈল্পিক মাধ্যম হিসেবে বিকশিত হয়েছে। এটি আরবি সাহিত্যকে গভীর দার্শনিকতা ও কাব্যিক সৌন্দর্য দিয়েছে। সুফিবাদের প্রতীকী ভাষা, রহস্যময়তা এবং মানব মনের গভীরে প্রবেশের ক্ষমতা আধুনিক কবিদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ফলস্বরূপ আরবি কবিতা শুধু প্রেম, প্রকৃতি বা যুদ্ধ নিয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে অস্তিত্ব, আধ্যাত্মিকতা এবং মানুষের অভ্যন্তরীণ সংগ্রামের মতো আরও গভীর বিষয়ে প্রসারিত হয়েছে। সুফিবাদ প্রমাণ করে, সাহিত্য কেবল শব্দ বা বাক্য নয়, এটি মানুষের আত্মিক যাত্রার এক শক্তিশালী প্রতিফলন। এটি এমন এক ধারা, যা অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত আরবি সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে চলেছে এবং ভবিষ্যতেও এর প্রভাব অক্ষুণ্ণ থাকবে।

স্টাইল থেকে ক্লাসিক আভিজাত্যে, সময়ের ১০ কিংবদন্তি

স্টাইল থেকে ক্লাসিক আভিজাত্যে রোলেক্স, ওমেগা, প্যাটেক ফিলিপসহ যে ১০ কিংবদন্তি ঘড়ি কারিগরি, নকশা ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে বিলাসিতার অমর প্রতীক হয়ে উঠেছে।

একটা ঘড়ি আসলে কীভাবে আইকনিক হয়ে উঠে? উপকরণ, নকশা, নাকি কারিগরি? এর উত্তর এতটা সহজ নয়। অনেক সময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটই কোনো ঘড়িকে কিংবদন্তির মর্যাদা দেয়। অবশ্যই একটি ঘড়ি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকলে, নকশায় কালজয়ী হলে এবং প্রযুক্তিতে আলাদা হলে বিলাসবহুল ঘড়ির জগতে তা বিশেষ হয়ে ওঠে। ১৯৩০-এর দশক থেকে অসাধারণ উদ্ভাবন, উচ্চমানের উপকরণ, আর অনন্য ফিনিশিং অনেক আইকনিক টাইমপিসের জন্ম দিয়েছে। তবুও অল্প কয়েকটি ঘড়িই আজও সংগ্রাহকদের কাঙ্ক্ষিত সংগ্রহের অংশ হয়ে আছে। চলুন জানি, কিভাবে এই মডেলগুলো আজকের ক্লাসিক হয়ে উঠেছে!

রোলেক্স সাবমেরিনার (Rolex Submariner)
অনেকের জন্য রোলেক্স নামটাই বিলাসিতার শীর্ষ প্রতীক। এই ঘড়ি পরা মানে সাফল্যের ইঙ্গিত দেওয়া। ক্লাসিক নকশা ভাষায় রোলেক্স একইসাথে বিনয়ী অথচ আত্মবিশ্বাসী। ব্র্যান্ডটি সর্বোচ্চ নির্ভুলতার মুভমেন্ট ব্যবহার করে। বিশেষ করে সাবমেরিনারের কেস তার নিখুঁত কারিগরিতে যেকোনো সমালোচকের চোখে প্রশংসা কুড়ায়। মূল্য ধরে রাখার ক্ষমতা, তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী দাম (বিলাসবহুল ঘড়ির জন্য) এবং যে কোনো অনুষ্ঠানে মানিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সবই এটিকে অনন্য করেছে।

ওমেগা স্পিডমাস্টার প্রফেশনাল (Omega Speedmaster Professional)
ঝুঁকি নিতে ভালোবাসেন ও কৌতূহলে চালিত হন যারা, তাদের জন্য স্পিডমাস্টার উপযুক্ত। নাসার বহু চন্দ্র অভিযানে সঙ্গী হয়ে এটি এখনো একমাত্র হাতঘড়ি যা মহাকাশে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত। ১৯৫৭ সালে প্রথম সংস্করণ বাজারে আসে। এরপর নানা মুভমেন্ট ও উন্নতির মধ্য দিয়েও মূল নকশা প্রায় অপরিবর্তিত থেকেছে। বিশেষ সংস্করণ, নতুন উপকরণ, আর উদ্ভাবন এখনও সংগ্রাহকদের আকর্ষণ করে। সিরামিক কেস হোক বা স্টিল, চামড়ার স্ট্র্যাপ বা ইন-হাউস মুভমেন্ট—প্রত্যেক রুচির জন্য আছে ভিন্ন বিকল্প।

প্যাটেক ফিলিপ ক্যালাত্রাভা (Patek Philippe Calatrava)
ক্লাসিক ড্রেস ওয়াচের আদর্শ রূপ যদি কিছু হয়, তবে তা ক্যালাত্রাভা। ১৯৩২ সালে বাজারে আসার সময় পকেট ঘড়ির নকশা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এটি তৈরি হয়। হালকা ও মার্জিত, প্রযুক্তিতেও নির্ভরযোগ্য।

অডেমার পিগুয়ে রয়্যাল ওক (Audemars Piguet Royal Oak)

রয়্যাল ওক সূক্ষ্ম সৌন্দর্যের প্রতীক হলেও, প্রথম আবির্ভাবে ছিল এক বিপ্লব। ১৯৭০-এর দশকে প্রথম স্টিল বিলাসবহুল ঘড়ি হিসেবে এটি সাড়া ফেলে, তখনকার অনেক সোনার ঘড়ির চেয়েও দামী ছিল। কিংবদন্তি ডিজাইনার জেরাল্ড জেন্টার নকশা করা এই ঘড়ি আজও বিশ্ব ঘড়িশিল্পে অমর ছাপ রেখে গেছে। ক্লাসিক ছাড়াও আছে নানা সংস্করণ—ক্রোনোগ্রাফ, পারপেচুয়াল ক্যালেন্ডার, টুরবিয়ন। স্পোর্টি ও আরও নজরকাড়া রয়্যাল ওক অফশোর নিজস্ব সংগ্রহ হয়ে উঠেছে।

রোলেক্স কসমোগ্রাফ ডেটোনা (Rolex Cosmograph Daytona)
রেসকার চালানোর স্বপ্ন যাদের ছোটবেলা থেকে, তাদের জন্য ডেটোনা সেই স্বপ্নের প্রতীক। মোটরস্পোর্টের জন্য নকশা করা, এটি নিখুঁত টাইমিং ফিচার ও টেকসই স্বয়ংক্রিয় মুভমেন্টের জন্য বিখ্যাত। ১৯৬০-এর দশকে বাজারে আসা ডেটোনা আজও কিংবদন্তি। এত জনপ্রিয় যে নতুন স্টিল মডেলের কালো ডায়াল পেতে এখনো সংগ্রাম করতে হয়।

ট্যাগ হুয়ার কারেরা (TAG Heuer Carrera)

ডেটোনার মতো কারেরাও মোটরস্পোর্ট থেকে অনুপ্রাণিত। “Carrera” (স্প্যানিশে “রেস”) নামটিই গতির ইঙ্গিত দেয়। শক্তপোক্ত নকশা, নির্ভরযোগ্য অটোমেটিক মুভমেন্ট, আর ৫০ ঘণ্টা পর্যন্ত পাওয়ার রিজার্ভ একে রেসপ্রেমীদের প্রিয় করেছে।

কার্টিয়ের ট্যাঙ্ক (Cartier Tank)
বেশিরভাগ বিলাসবহুল ঘড়ির মতো গোল নয়, বরং ১৯১৭ সালে লুই কার্টিয়ের ট্যাঙ্ককে দিলেন আয়তাকার কেস। ১৯১৯-এ উৎপাদনে গেলে একে অতিরিক্ত আধুনিক ভাবা হলেও কার্টিয়ের নকশা বদলাননি। আজও মূল আকার প্রায় অপরিবর্তিত, কেবল সূক্ষ্ম উন্নতিতে সমৃদ্ধ। এটি যে কোনো বিলাসবহুল সংগ্রহে অবশ্যই থাকার মতো একটি কালজয়ী টুকরো।

ব্রাইটলিং ন্যাভিটাইমার (Breitling Navitimer)
১৯৫২ সালে লঞ্চ হওয়া এই পাইলট ঘড়ি “নেভিগেশন” ও “টাইমার” শব্দের সমন্বয়ে নাম পেয়েছে। পাইলটদের জন্য জ্বালানি হিসাব, ইউনিট কনভার্সন ইত্যাদি জটিল হিসাব করতে স্লাইড রুল বেজেল একে অনন্য করেছে। ১৯৫৯ সালের পর থেকে বহু সংস্করণ এলেও সাদা সাব-ডায়াল ও সিগনেচার বেজেল আজও এর পরিচয় বহন করে।

ঘরের বিন্যাস কি আমাদের মনের উপর প্রভাব ফেলে?

মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য কেবল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না; এটি তার চারপাশের পরিবেশের সাথেও গভীরভাবে যুক্ত। ঘর বা স্থান আমাদের আবেগ, মনোভাব এবং দৈনন্দিন অভ্যাসকে প্রভাবিত করতে পারে। এমনকি ছোট পরিবর্তন—যেমন একটি আসবাবপত্রের অবস্থান পরিবর্তন বা রঙ পরিবর্তন মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

বাসস্থান এবং মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত গবেষণা দেখায়, স্থানের বিন্যাস এবং ডিজাইন মানুষের অনুভূতি ও আচরণকে প্রভাবিত করে। একটি ঘর বা অ্যাপার্টমেন্টের রঙ, আলোর পরিমাণ, আসবাবের বিন্যাস এবং স্থানগুলির আকার আমাদের মস্তিষ্কের ন্যুরোলজিক্যাল কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে।উজ্জ্বল বা খুব খোলা কক্ষ কিছু মানুষের জন্য চাপ বা একাকিত্ব বাড়াতে পারে, আবার একটি ছোট, আরামদায়ক কোণে থাকা স্থান তাদের মানসিক স্বস্তি দিতে পারে।

মনের প্রশান্তি এবং মানসিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যক্তিগত প্রয়োজন এবং অভ্যাসের সঙ্গে ঘরের সমন্বয়। ঘরের কোনো অংশ যদি অস্থিরতা বা অস্বস্তি সৃষ্টি করে, তবে সেই স্থান পুনর্গঠন বা রঙ পরিবর্তনের মাধ্যমে মানসিক প্রভাব উন্নত করা সম্ভব। এমনকি ফ্লোরপ্ল্যান বা আসবাবের ছোটখাটো পরিবর্তনও আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে—যা ডোপামিন নিঃসরণের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক চক্র সৃষ্টি করতে পারে।

বাসস্থান ও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ন্যূনতম নিয়ম হলো স্থানটি এমন হওয়া উচিত যাতে এটি নিরাপদ, আরামদায়ক এবং ব্যক্তিগত চাহিদা পূরণ করতে পারে। মানুষের নিরাপত্তা ও আরাম অনুভূতি মৌলিক চাহিদা হিসেবে বিবেচিত হয়। বাড়ি কেবল শারীরিক প্রয়োজন মেটানোর জায়গা নয়; এটি মানসিক শান্তি, প্রাইভেসি এবং নিরাপত্তার প্রতীক।

ছোট ছোট নকশাগত পরিবর্তন যেমন রঙের রসায়ন, আসবাবের বিন্যাস, কল্পনার মত ফ্লোরপ্ল্যান বা হালকা আসবাবপত্রের ব্যবহার মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া স্থানগুলোকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের আচরণ এবং মনোভাব পরিবর্তন সম্ভব।

বাসায় ছোট কোণ বা নিজস্ব শান্তির স্থান তৈরি করলে আবেগীয় শান্তি বাড়ে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো “চয়েস আর্কিটেকচার” অর্থাৎ কোনো স্থান বা পরিবেশে বস্তু বা আসবাবের বিন্যাস মানুষকে কেমন আচরণ করতে প্রভাবিত করে।

ডিজাইন এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংযোগ কেবল ভিজ্যুয়াল বা শারীরিক নয়; এটি আচরণগত এবং মানসিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। স্থানটি যদি স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিরাপত্তা দেয়, তবে সেটি মানসিক সুস্থতা এবং ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে সাহায্য করে। আবার অযত্ন বা অস্থির পরিবেশ মানসিক চাপ, অস্থিরতা এবং বিষণ্নতা বাড়াতে পারে।

আমাদের ঘর বা বাসস্থান কেবল বসার বা শোবার স্থান নয়; এটি মানসিক সুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রঙ, আলো, আসবাবপত্র এবং স্থান বিন্যাসের যত্নসহকারে পরিকল্পনা করলে মানসিক চাপ কমানো সম্ভব। ছোট পরিবর্তন, যেমন একটি আসবাবপত্রের স্থান পরিবর্তন বা রঙের পরিবর্তন, কখনো কখনো বড় মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিজের বাসস্থানের নকশা ও বিন্যাসকে মানসিক স্বাস্থ্যের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

সংস্কারহীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত হবে পরবর্তী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

0

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) এবং নরিনকো পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ১,৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৭,৫০০ মেগাওয়াটে নিয়ে গেছে। তবে দেশের সর্বোচ্চ চাহিদা এখনও ১৬,৪০০ মেগাওয়াটের সামান্য বেশি, যা নির্দেশ করে বিদ্যুতের জন্য অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত ক্ষমতার কারণে সরকারকে কার্যকরভাবে ব্যবহার না হলেও ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে অযথা খরচ করতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ খাতের এই সমস্যা আরও জটিল হয়েছে গ্যাস সংকটের কারণে। নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট ও খুলনার রূপসায় উচ্চ ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো গ্যাসের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না। দেশে দৈনিক চাহিদার তুলনায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে, ফলে ব্যয়বহুল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।

গত দেড় দশকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত বিনিয়োগের কারণে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতে ২০১০-১১ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত ২ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্যাস খাতে এলএনজি আমদানিতে গত দুই দশকে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যেখানে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ মাত্র ৮ হাজার কোটি টাকা।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে পেট্রোবাংলার বকেয়া ছিল ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বিপিডিবির বকেয়া ৪৫ হাজার কোটি টাকা। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র বকেয়া পরিশোধের চেয়ে খাতের দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও ভর্তুকি কমানো আরও গুরুত্বপূর্ণ। গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৬২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে, যা খাতের আর্থিক চাপ কমাতে যথেষ্ট হয়নি। খাত সংশ্লিষ্টরা নির্দেশ করছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংস্কার বলতে বোঝানো হচ্ছে দক্ষ ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা জোরদার করা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গ্যাস এবং বিদ্যুৎ খাতে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করা জরুরি, যাতে খাতের আর্থিক লোকসান কমানো যায়। এছাড়া বিদ্যুতের ট্যারিফ কাঠামো, রিটার্ন অব ইকুইটি এবং ক্যাপাসিটি চার্জ কমানোর জন্য কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করা প্রয়োজন।

গত এক বছরে অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুৎ খাতে কিছু কাঠামোগত সংস্কার শুরু করেছে। বিতর্কিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষ বিধান আইন, ২০১০ বাতিল করা হয়েছে এবং পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ট্যারিফ কমানো এবং ব্যয় হ্রাসের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও খাতের দক্ষ ব্যবস্থাপনা কার্যকরভাবে সম্পন্ন না হয়, তবে পরবর্তী সরকারের জন্য এ খাত বড় অর্থনৈতিক বোঝা তৈরি করবে। সারসংক্ষেপে বলা যায়, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মূল সমস্যা হল অতিরিক্ত সক্ষমতা, গ্যাস সংকট, অযথা ভর্তুকি এবং কার্যকরী ব্যবস্থাপনার অভাব। দীর্ঘমেয়াদি, পরিকল্পিত সংস্কার এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা ছাড়া খাতের আর্থিক চাপ এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষতি কমানো সম্ভব নয়।

ব্যক্তির মন থেকে রাজনীতির আঙিনা পর্যন্ত, বাংলা উপন্যাসে স্মৃতি ও ট্রমা

বাংলা উপন্যাসে স্মৃতি ও ট্রমা এক গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুমাত্রিক বিষয়। উপন্যাসিকেরা তাদের সৃষ্ট চরিত্রের গভীরতা ফুটিয়ে তুলতে এই দুটি বিষয়কে প্রায়শই ব্যবহার করেছেন। স্মৃতি কেবল অতীতের ঘটনার পুনরাবৃত্তি নয়, বরং তা চরিত্রের মনোজগতে গভীরভাবে প্রোথিত থাকে, যা তাদের বর্তমান আচরণ ও ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। ট্রমা হলো সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, যা স্মৃতিতে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে এবং ব্যক্তির জীবনকে এক নতুন দিকে চালিত করে।

বাংলা উপন্যাসের শুরুর দিকে ট্রমা বা মনস্তাত্ত্বিক আঘাতের ধারণাটি এতটা স্পষ্ট ছিল না। সেই সময়কার উপন্যাসগুলোতে মূলত সামাজিক, রাজনৈতিক বা পারিবারিক সমস্যাগুলোই প্রাধান্য পেত। তবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাসে কুন্দনন্দিনীর ট্র্যাজিক পরিণতিতে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যন্ত্রণা লক্ষ্য করা যায়, যা আধুনিক ট্রমার ধারণার কাছাকাছি। কুন্দনন্দিনীর জীবনে ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলো তার মনে যে গভীর ছাপ ফেলেছিল, তা তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। এই উপন্যাসে ট্রমা মূলত সামাজিক রীতিনীতির আঘাতে সৃষ্ট মানসিক যন্ত্রণা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা উপন্যাসে মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। তার ‘চোখের বালি’ উপন্যাসে বিনোদিনীর চরিত্রটি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বিনোদিনীর জীবনের অপ্রাপ্তি এবং সামাজিক বঞ্চনা তার মনে এক ধরনের ট্রমা সৃষ্টি করে। এই ট্রমা তাকে মহেন্দ্র এবং বিহারীর জীবনের সঙ্গে এক জটিল সম্পর্কে জড়িয়ে ফেলে। বিনোদিনীর চরিত্রটি দেখায় যে, ট্রমা কেবল বাহ্যিক ঘটনার ফল নয়, বরং তা ব্যক্তির অপ্রাপ্তি ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত। রবীন্দ্রনাথের ‘গোরা’ উপন্যাসেও গোরা তার প্রকৃত পরিচয় জানার পর এক গভীর মানসিক সংকটে ভোগে, যা এক ধরনের ট্রমাটিক অভিজ্ঞতা। তার সারা জীবনের বিশ্বাস ভেঙে যায় এবং সে এক নতুন পরিচয়ের সন্ধানে ব্রতী হয়।

বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বাংলা উপন্যাসে ট্রমা এবং স্মৃতি আরও বেশি গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে দেশভাগ, মন্বন্তর এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো ঘটনাগুলো উপন্যাসিকদের লেখায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি’ উপন্যাসে কুবেরের জীবন এক নিরন্তর সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। তার জীবনের দারিদ্র্য ও শোষণ তাকে এক ধরনের ট্রমাটিক অবস্থার মধ্যে রাখে, যা তাকে কখনও মুক্তি দেয় না। একইভাবে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গণদেবতা’ উপন্যাসে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং সামাজিক ভাঙনের ফলে সৃষ্ট মানসিক যন্ত্রণা এক ধরনের ট্রমা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

সমরেশ বসুর ‘বিবর’ উপন্যাসে ট্রমা এবং স্মৃতির ব্যবহার আরও আধুনিক এবং মনস্তাত্ত্বিক। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ট্রমার শিকার এবং তার অতীত জীবনের স্মৃতি তাকে তাড়া করে বেড়ায়। সমরেশ বসুর উপন্যাসে ট্রমা কেবল বাহ্যিক ঘটনার ফল নয়, বরং তা মানুষের অন্তর্গত কামনা-বাসনা এবং নৈতিক দ্বন্দ্বেও সম্পর্কিত। তার উপন্যাসে ট্রমা চরিত্রদের এক অন্ধকার এবং জটিল মনোজগতের সন্ধান দেয়।

বাংলা সাহিত্যে দেশভাগের ট্রমা এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এই ট্রমা শুধু রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক বিভাজন নয়, বরং তা মানুষের আত্মপরিচয়, পরিবার এবং সাংস্কৃতিক বন্ধনকেও ছিন্ন করেছে। অমিয়ভূষণ মজুমদারের ‘মহিষকুঠির উপাখ্যান’ উপন্যাসে দেশভাগের ফলে সৃষ্ট মানসিক যন্ত্রণা এবং স্মৃতির গভীর প্রভাব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। উপন্যাসের চরিত্রগুলো তাদের জন্মভূমি হারানোর ট্রমা থেকে কখনও মুক্তি পায় না।দেশভাগের স্মৃতি তাদের বর্তমান জীবনকে এক গভীর বিষাদে আচ্ছন্ন করে রাখে। একইভাবে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘পূর্ব-পশ্চিম’ উপন্যাসেও দেশভাগের ট্রমা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উপন্যাসের চরিত্রগুলো দুই বাংলার মধ্যে বিভক্ত হয়ে যায় এবং তাদের স্মৃতি ও পরিচয় নিয়ে এক গভীর সংকটে ভোগে। এই উপন্যাসটি দেখায়, ট্রমা কীভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে প্রভাবিত করতে পারে।

সাম্প্রতিক বাংলা উপন্যাসে ট্রমা এবং স্মৃতি আরও সূক্ষ্ম এবং জটিলভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে। শহুরে জীবনের বিচ্ছিন্নতা, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণা এবং অস্তিত্বের সংকট এখনকার উপন্যাসগুলোর মূল বিষয়। এই উপন্যাসগুলোতে ট্রমা শুধু বড় ধরনের ঘটনার ফল নয়, বরং তা দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট আঘাত এবং অপ্রাপ্তি থেকেও জন্ম নেয়। বুদ্ধদেব গুহর ‘মাধুকরী’ উপন্যাসে চরিত্রদের সম্পর্ক এবং জীবনের টানাপোড়েন এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ট্রমা সৃষ্টি করে, যা তাদের আত্মানুসন্ধানে বাধ্য করে।

স্মৃতি এবং ট্রমা একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। স্মৃতি ট্রমাকে জীবন্ত রাখে এবং ট্রমা স্মৃতিকে এক বিশেষ রঙে রাঙিয়ে তোলে। অনেক সময় ট্রমাটিক স্মৃতিগুলো অবচেতন মনে চাপা পড়ে থাকে এবং চরিত্রের আচরণকে প্রভাবিত করে। বাংলা উপন্যাসের লেখকেরা এই মনস্তাত্ত্বিক সত্যকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করেছেন। তারা দেখিয়েছেন, ট্রমা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো স্মৃতির সঙ্গে বোঝাপড়া করা এবং অতীতের আঘাতকে মেনে নেওয়া।

এছাড়া বাংলা উপন্যাসে স্মৃতি এবং ট্রমার ব্যবহার শুধু চরিত্রদের গভীরতা বাড়ায়নি, বরং তা মানুষের মনোজগতের এক সূক্ষ্ম এবং জটিল চিত্রও তুলে ধরেছে। বঙ্কিমচন্দ্র থেকে শুরু করে আধুনিক লেখকেরা, সবাই এই দুটি বিষয়কে নিজেদের উপন্যাসে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করেছেন। এই দুটি বিষয় বাংলা উপন্যাসকে কেবল সামাজিক দর্পণ থেকে এক মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে রূপান্তরিত করেছে। বাংলা উপন্যাস পাঠের সময় আমরা কেবল একটি গল্প পড়ি না, বরং আমরা মানব মনের গভীরতম রহস্যের সঙ্গেও পরিচিত হই। এই কারণে বাংলা উপন্যাসে স্মৃতি ও ট্রমা বিষয়ক গবেষণা আরও বেশি গুরুত্ব বহন করে।

বাংলা উপন্যাসে স্মৃতি ও ট্রমার আলোচনায় শওকত ওসমান ও আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের অবদান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শওকত ওসমানের জননী উপন্যাসে যুদ্ধকালীন বাস্তবতা ও রাজনৈতিক সহিংসতা ব্যক্তির জীবনে কীভাবে ভয়াবহ ট্রমা সৃষ্টি করে, তা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। একদিকে মাতৃত্বের স্মৃতি ও বেদনা, অন্যদিকে জাতির রাজনৈতিক সংগ্রাম—এই দ্বন্দ্ব চরিত্রগুলোর মানসিক জগতে গভীর ক্ষতের জন্ম দেয়।

অন্যদিকে, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চিলেকোঠার সেপাই এবং খোয়াবনামা উপন্যাসে ব্যক্তিগত স্মৃতি ও রাজনৈতিক ইতিহাস এমনভাবে জড়িত যে, চরিত্রদের ট্রমা কেবল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হয়ে ওঠে। চিলেকোঠার সেপাই-তে ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের উত্তাল সময় ব্যক্তির অন্তর্জগৎকে আন্দোলিত করে, আর খোয়াবনামা-য় ১৯৪৭-এর দেশভাগের ক্ষত চরিত্রদের জীবনে স্থায়ী ট্রমা হিসেবে থেকে যায়। ইলিয়াস দেখিয়েছেন, স্মৃতি ও ট্রমা কেবল ব্যক্তির মনোজগতে নয়, বরং রাজনীতির অঙ্গনেও নির্ধারণ করে দেয় মানুষের অবস্থান ও সংগ্রাম।

কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ার আশ্চর্য সমাধান

কার্বন মনোক্সাইড (CO) একটি নীরব ঘাতক। গন্ধহীন ও বর্ণহীন এই গ্যাস প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে জরুরি বিভাগে পাঠায় এবং প্রায় ১,৫০০ মানুষের মৃত্যু ঘটায়। এ গ্যাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো এটি দ্রুত রক্তের হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন পরিবহনকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলাফল মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে অক্সিজেনের অভাব, যা অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এতদিন পর্যন্ত চিকিৎসা পদ্ধতি সীমাবদ্ধ ছিল মূলত ১০০% অক্সিজেন সরবরাহের মধ্যে, যা হাইপারবারিক চেম্বারে দেওয়া হয়। তবে এতে সময় লাগে এক ঘণ্টারও বেশি এবং অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর মস্তিষ্ক বা হৃদপিণ্ডে স্থায়ী ক্ষতি থেকে যায়।

এই দীর্ঘদিনের সংকট সমাধানে এক যুগান্তকারী আবিষ্কার এনেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিন। গবেষকেরা তৈরি করেছেন প্রথম কার্যকর কার্বন মনোক্সাইড প্রতিষেধক, যা মিনিটের মধ্যেই রক্ত থেকে বিষাক্ত গ্যাসকে সরিয়ে দিতে সক্ষম।

প্রতিষেধকটির নাম RcoM-HBD-CCC। এটি একটি প্রকৌশলীকৃত প্রোটিন, যা মলিকুলার স্পঞ্জের মতো কাজ করে। সহজভাবে বলতে গেলে, এটি শরীরের ভেতরে প্রবেশ করার পর নির্বাচিতভাবে শুধু কার্বন মনোক্সাইড অণুগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এটি অক্সিজেন বা নাইট্রিক অক্সাইডের মতো শরীরের অপরিহার্য যৌগগুলোর সঙ্গে কোনো হস্তক্ষেপ করে না।

মাউসের ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই প্রোটিন রক্তে প্রবেশ করার পর মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়ে অর্ধেক CO সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রস্রাবের মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণভাবে দেহ থেকে বেরিয়ে যায়। ফলস্বরূপ রক্ত আবার অক্সিজেন পরিবহনে সক্ষম হয়ে ওঠে এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো তাৎক্ষণিকভাবে অক্সিজেন পেতে শুরু করে।

বর্তমানে হাসপাতালে CO বিষক্রিয়ার চিকিৎসা দীর্ঘ ও জটিল। রোগীকে প্রায়শই হাইপারবারিক অক্সিজেন চেম্বারে রাখতে হয়, যেখানে চাপযুক্ত পরিবেশে বিশুদ্ধ অক্সিজেন শ্বাস নিতে হয়। তবে এতে যে সময়ক্ষেপণ হয়, সেটি অনেক ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতি থেকে যায় অনেক রোগীর।

নতুন প্রতিষেধকটি যদি মানবদেহেও একইভাবে কাজ করে, তবে এটি চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক বিপ্লব আনবে। জরুরি সেবাদানকারী কর্মীরা (first responders) সরাসরি শিরায় (IV) এই প্রোটিন ইনজেকশন দিতে পারবেন। এর মাধ্যমে রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রক্ত থেকে বিষাক্ত গ্যাস সরানো সম্ভব হবে, যা মৃত্যুহার নাটকীয়ভাবে কমাতে পারে।

গবেষণার ফলাফল ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত PNAS জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এখন এটি আরও বিস্তৃত প্রাক-ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাবে। যদি সবকিছু প্রত্যাশামতো সফল হয়, তবে শিগগিরই মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হতে পারে।

কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়া শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, বিশ্বব্যাপী একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। অনেক সময় ঘরে বা গ্যারেজে বন্ধ পরিবেশে হিটার, জেনারেটর, বা গ্যাস চালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সময় অজান্তেই মানুষ এ গ্যাসে আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশে, যেখানে বদ্ধ ঘরে চুলা বা জেনারেটরের ব্যবহার বেশি, সেখানে CO বিষক্রিয়ার ঝুঁকি আরও বড়।

তাই এই প্রতিষেধকের আবিষ্কার কেবল বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি সম্ভাব্য জীবনরক্ষাকারী সমাধান। যদি এটি কার্যকরভাবে বাজারে আসে, তবে আগামী দিনে হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচাতে পারবে এই নতুন প্রোটিন-ভিত্তিক ওষুধ।

ইউক্রেন সংকট, ট্রাম্প-পুতিনের বৈঠক কি ইঙ্গিত দিচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আলাস্কায় প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষ করেছেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি। কিন্তু বৈঠকের পর দুই নেতা যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন, কোনো প্রশ্নের সুযোগ দেননি এবং কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। ট্রাম্প বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে বলেছেন, “চূড়ান্ত চুক্তি না হলে, আসলে কোনো চুক্তি নেই।” অর্থাৎ তিন ঘণ্টার আলোচনার ফলাফল হলো কোনো চুক্তি বা যুদ্ধবিরতি নয়।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, পুতিনের সঙ্গে তিনি কিছু ভালো অগ্রগতি করেছেন, তবে তা কতটুকু কার্যকর, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি। ফলে বৈঠকের ফলাফল নিয়ে বিশ্ব কল্পনার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেছেন, “আমরা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি।” ট্রাম্পের এ ধরনের অস্পষ্ট বার্তা বৈঠকের গুরুত্বকে ঘেটে দিয়েছে, তবে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্ররা স্বস্তি পাচ্ছে যে তিনি একতরফাভাবে কোনো ছাড় দেননি বা ভবিষ্যৎ আলোচনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন কোনো চুক্তি করেননি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাধারণত নিজেকে শান্তিদূত ও চুক্তির কারিগর হিসেবে তুলে ধরতে ভালোবাসেন। কিন্তু আলাস্কার বৈঠক শেষে তিনি এমন কোনো অবস্থান নিতে পারেননি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ভবিষ্যতে আরেকটি সম্মেলনের কোনো ইঙ্গিত নেই। পুতিন হালকাভাবে মস্কোতে পরবর্তী বৈঠকের কথা বললেও বিষয়টি অনিশ্চিত।

বৈঠকের আগে ট্রাম্প আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ব্যর্থতার সম্ভাবনা মাত্র ২৫ শতাংশ। কিন্তু এই ফলাফল তাঁর ঘরোয়া ও বৈশ্বিক ভাবমূর্তিতে আঘাত হানল। সাংবাদিক সম্মেলনে পুতিন দীর্ঘ বক্তব্যে বললেও ট্রাম্প নীরব ছিলেন, যা সাধারণ কূটনৈতিক প্রথার সঙ্গে বিরোধী। আলাস্কার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পুতিনের অবস্থানকে আরও প্রভাবশালী করেছে।

এবার বড় প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করবেন? ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘হয়তো দু–তিন সপ্তাহের মধ্যে’ বিবেচনা করবেন। তবে রাশিয়া যদি যুদ্ধবিরতিতে না আসে, ‘কঠোর পরিণতি’ হবে এর আগের হুঁশিয়ারি এখনও কার্যকর হয়নি।

সংবাদ সম্মেলন প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সুযোগ ছাড়া অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্পষ্ট হলো, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দুই নেতার অবস্থান এখনো ভিন্ন।ট্রাম্প বারবার রাশিয়ার ওপর যুদ্ধবিরতির চাপ দিয়েছেন, কিন্তু পুতিন তা মানেননি। বৈঠকের শুরুতে ট্রাম্প পুতিনকে সম্মানিত অতিথি হিসেবে লালগালিচা সংবর্ধনা দিয়েছেন, ফলে রুশ প্রেসিডেন্ট বৈশ্বিক কূটনীতির মঞ্চে আলোকিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে ট্রাম্প এখনো পুতিনকে যুদ্ধ থামাতে রাজি করাতে পারেননি।

অ্যাঙ্কোরেজে যা ঘটল, তা ইউক্রেনীয়দের কাছে কিছুটা স্বস্তি এনেছে। কারণ এমন কোনো সমঝোতা হয়নি যাতে তাদের ভূখণ্ড হারানোর ঝুঁকি থাকে।অতীতে রাশিয়ার সঙ্গে যেকোনো বড় চুক্তি ভেঙে গিয়েছিল, তাই ইউক্রেনীয়রা এখনো সন্দিহান। কিন্তু পুতিনের বক্তব্যে ইউক্রেনীয়দের আতঙ্কও বেড়েছে। তিনি বললেন, সংঘাতের মূল কারণ দূর না হলে স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। এর অর্থ রাশিয়া এখনও তার আগের লক্ষ্যেই অটল—ইউক্রেনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ভেঙে দেওয়া। তিন বছর ছয় মাস ধরে পশ্চিমাদের নানা উদ্যোগও পুতিনের মন পরিবর্তন করতে পারেনি। আলাস্কার বৈঠকেও তার অবস্থান বদলায়নি।

শীর্ষ বৈঠক শেষ হলেও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। রাশিয়ার হামলা চলতেই থাকবে কি না, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রবল। পশ্চিমারা কয়েক মাস ধরে রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধে সময়সীমা দিয়েও কোনো ফল পাননি। পূর্বে দেওয়া হুঁশিয়ারিগুলোও কার্যকর হয়নি। অ্যাঙ্কোরেজ বৈঠকের পর স্পষ্ট হলো, ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।