Home Blog Page 265

নতুন কিছু সেক্টর তৈরি করতে হবে , যেখানে হাজার হাজার নতুন ব্যবসায়িক লোক আসতে পারবে । এই ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানই পরিবর্তনের ভিত হবে ।

“ নতুন কিছু সেক্টর তৈরি করতে হবে, যেখানে হাজার হাজার নতুন ব্যবসায়িক লোক আসতে পারবে। এই ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানই পরিবর্তনের ভিত হবে “।

মুশতাক খান – অর্থনীতির অধ্যাপক , ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ (সোয়াস)

অনেকে মনে করেন, রাজনৈতিক বন্দোবস্ত হলো একটা চুক্তি – সদিচ্ছা থাকলেই বা তিন-চারটা দল মিলে একটা চুক্তিতে এলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আমার ক্ষমতা আপনার থেকে দশ গুণ বেশি হলে, চুক্তি করে ঘর থেকে বের হয়েই আমি তা ভেঙে দেব। আমি আমার ক্ষমতা অনুযায়ী আপনার কাছ থেকে আমার যা দরকার তা নিয়ে নেব। রাজনৈতিক বন্দোবস্ত অত্যন্ত বাস্তববাদী একটা ব্যাপার।

আওয়ামী লীগের যে কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা ছিল তা ভেঙে গেছে, কারণ নতুন একটা শক্তি রাস্তায় এসে গেছে। এখন এই চুরমার থেকে কী বেরিয়ে আসবে? আমরা যদি কিছই না করি এবং রাস্তার শক্তি যদি ছয় মাস পরে বাড়ি ফিরে যায়, তাহলে আগের শক্তি ফিরে আসবে। হয়তো একদম আগের অবস্থায় আমরা ফিরব না, কিন্তু কাছাকাছি জায়গায় যাব।

এ ধরনের অভ্যূত্থানের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে ক্ষমতার বিন্যাস বদলায় না। ক্ষমতার বিন্যাস বদলায় তখন, যখন এমন কিছু নতুন সংস্থা বা সংগঠন তৈরি হবে, যারা নতুন নিয়মগুলো কার্যকর করবে। এখানে চুক্তি বা সমঝোতার জন্য সময় নষ্ট করার দরকার নেই।

… আমি একটা সুন্দর সংবিধান লিখলাম। কিন্তু আমার সাংগঠনিক শক্তি নেই এটাকে কার্যকর করার। কিছু করার আগে আপনাকে এদিকে নজর দিতে হবে। নাগরিক সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠন, রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন-এসব সংগঠন যদি নিয়মের ব্যত্যয় করে, তাহলে একই রকম সংগঠন সেগুলোকে সংযত করতে পারবে কি না। সেটি নিশ্চিত করতে না পারলে কিন্তু আইনের কোনো মূল্য নেই ।

… আমাদের এ রকম নতুন কিছু সেক্টর তৈরি করতে হবে, যেখানে হাজার হাজার নতুন ব্যবসায়িক লোক আসতে পারবে। এই ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানই পরিবর্তনের ভিত হবে। এই সংস্কারের সময়টাতে আমরা এমন কিছু অর্থনৈতিক নিয়মকানুন আনব, উঠতি ব্যবসায়িক শ্রেণি যেটাকে সমর্থন ও কার্যকর করবে। …আমাদের দেশে কয়েকটি গ্রুপ বাজারে প্রতিযোগিতা করছে, কিন্তু একটা বড় গ্রুপ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। এখানে ছোট গ্রুপগুলোর প্রতিবাদ করার শক্তি থাকতে হবে। তাই আমাদের সংস্কার এমনভাবে করতে হবে, যেখানে নতুন আইন কার্যকর করার প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠবে। তাই নতুন ধরনের ব্যবসা, রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র সংগঠনও তৈরি করতে হবে। যে সংগঠনগুলো নতুন নিয়ম বাস্তবায়ন করবে। এই দুটো জিনিস একসঙ্গে করতে হবে। শুধু নিয়ম বদলালেই হবে না ।

… ক্ষমতার যে উৎস, তা অসংগঠিত হতে পারে। কিন্তু তাঁরা রাস্তায় আছেন, একটি সত্যিকার শক্তি। এর ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এখনই সম্ভব। দু-একটা উদাহরণ দিই। এখনই সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব পরিবর্তন করা সম্ভব। এটা না করতে পারলে আপনি আটকে যাবেন। দ্বিতীয়ত, যেসব লোক টাকা চুরি করে বিদেশে নিয়ে গেছেন … তাঁদের সব সম্পদ জব্দ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক আইন ব্যবহার করতে হবে। আমি দুর্নীতিবিরোধী কাজে জড়িত, আমি জানি অনেক সংস্থা আছে, যাদের সহায়তা চাইলে তারা দৌড়ে চলে আসবে।… বিদ্যুৎ কিংবা অন্যান্য খাতে আমরা যেসব বীভৎস চুক্তি করেছি, ১০ টাকার জিনিসের জন্য আমরা ইতিমধ্যে ১০০ টাকা দিয়ে দিয়েছি, এগুলো প্রকাশ করতে হবে। ব্যাংকিং সেক্টরে ঋণখেলাপি সবচেয়ে বড় ১০টি বিজনেস গ্রুপের উৎপাদনশীল ও লাভজনক বিজনেস ভেঞ্চার বা কোম্পানিগুলো থেকে তাদের খেলাপি ঋণের সমপরিমাণ শেয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত করতে হবে।



বন্যা : কতটুকু পানি আর কতোটা রাজনীতি ?

মোস্তফা কামালআবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক পিএইচডি গবেষক

… কুমিল্লা ও ত্রিপুরা রাজ্যের ওপর গড়ে ৪৫০ মি.লি.র বেশি বৃষ্টি হয়েছে ৩ দিনে। ১৯-২২ আগস্ট পর্যন্ত … যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা এই দুই জেলার আগস্ট মাসের মোট বৃষ্টিপাতের চেয়ে বেশি। এই রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিই হলো রেকর্ড পরিমাণ বন্যার প্রধান কারণ।

… পূর্বাভাস ১০ দিন পূর্বে দেওয়া সম্ভব ছিল। বাংলাদেশের মানুষকে ভারী বৃষ্টির এই পূর্বাভাস জানাতে ব্যর্থতার জন্য পুরোপুরি দায়ী বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।…

সরকার উদয় রায়হাননির্বাহী প্রকৌশলী, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র

গোমতী ও মাতামুহুরী নদীর উজানে ভারতীয় অংশে পানি বৃদ্ধির তথ্য আমরা তাদের ওয়েবসাইট থেকে পাই। তাদের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে দিনে দুবার তথ্য দেওয়া হয়; কিন্তু এবার বিস্তারিত তথ্য আমাদের জানানো হয়নি। বিস্তারিত তথ্য না পাওয়া গেলে বন্যার বিস্তারিত ও সঠিক পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন হয়ে যায় ।

আইনুন নিশাত – পানি, জলবায়ু ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ

বাংলাদেশের বন্যা ও আবহাওয়া পূর্বাভাস-ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। যে ধরনের পূর্বাভাস আমরা যেভাবে দিই, তাতে চলমান বন্যার মতো ভয়াবহ দুর্যোগের বিষয়টি আগাম বোঝা যায় না।

… ভারতের কাছ থেকে আমরা গঙ্গা ও তিস্তার পানিপ্রবাহের তথ্য যত বিস্তারিত পাই – গোমতী ও মুহুরীর মতো অন্য নদীগুলোর ঢল বা পানিপ্রবাহের তথ্য সেভাবে পাই না।


৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবসের আগেই আন্তর্জাতিক কনভেনশনে সই করবে বাংলাদেশ 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গতকাল জানিয়েছেন, ‘গুমের বিষয়ে একটা কমিশন গঠনের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কেবিনেটে আলোচনা হয়েছে। প্রতিটি গুমের ঘটনারই তদন্ত হবে।’

কমিশন গঠনের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি অধ্যাদেশের খসড়া প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। হাইকোর্টের বিচারপতি মুর্যাদায় কাউকে প্রধান এবং গুম প্রতিরোধে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সদস্য করে এ কমিশন গঠিত হবে।

৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবসের আগেই গুম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশনে সই করবে বাংলাদেশ।

সরকার শিগগিরই একজন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিয়োগ দেবে বলে তিনি জানান ।

বিএনপি অফিসে চীনা রাষ্ট্রদূত

বৈঠকের পর উভয়পক্ষ একটি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন । দলীয় নেতাদের ভাষ্য, … এমন সংবাদ সম্মেলন নজিরবিহীন।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন ‘ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পরে বিএনপি চেয়ারপারসনের অফিসে চীনের রাষ্ট্রদূতের আসাটা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি। আমরা মনে করি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি চীনের যে কমিটমেন্ট, তাদের প্রতিশ্রুতি ডেভেলপমেন্টে এবং একইসঙ্গে তারা পরিষ্কার করে বলেছেন যে তারা (চীন) আধিপত্যবাদে বিশ্বাস করেন না।…’

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, ‘… চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপি একসঙ্গে কাজ করতে চায় এই সম্পর্ককে আরও নিবিড় ও সুদৃঢ় করে আমরা কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পূর্ণ সমর্থন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেন চীনের রাষ্ট্রদূত।



অতিবৃষ্টিতে বন্যা , ভারতের দায় ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচার , বাংলাদেশের ৮টি জেলার প্রায় ৩০ লাখ মানুষ আক্রান্ত ।

বিশেষজ্ঞ ও মূলধারার গণমাধ্যমে এই হঠাৎ বন্যার প্রাকৃতিক কারণ উঠে এলেও সামাজিক প্রচারমাধ্যমে প্রচুর মানুষ ভারতকে দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাঁদের ধারণা-ভারত ডম্বুর বাঁধ খুলে দেয়ায় ফেনীতে প্রলয়ংকরী বন্যা হয়েছে। যদিও ডম্বুর বাঁধটি গোমতী নদীর ওপর, এর সাথে ফেনীর নদীগুলোর সংযোগ নেই।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ মন্তব্য করেছেন–ভারত বাঁধ খুলে দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে সংকটের মধ্যে ফেলেছে। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র সংস্কারের সময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারত আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে।

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ফেসবুকে এই বন্যাকে পরিকল্পিত দুর্যোগ’ বলেছেন এবং ‘নোটিশ ছাড়া ওয়াটার গেট খুলে দিয়ে বন্যার সৃষ্টি করা’-র জন্য ভারতকে দায়ী করেছেন।

বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ-মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে ও ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোতে অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ বন্যা দেখা দিয়েছে।

পাহাড়ি ঢলে আকস্মিকভাবে ফেনী, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের ৮টি জেলার প্রায় ৩০ লাখ মানুষ আক্রান্ত। এই বন্যা স্বল্পমেয়াদী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

বহু বছরের মধ্যে সর্বাধিক বৃষ্টিপাতে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১০ জন মারা গেছে। সেখানকার ডম্বুর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় বাঁধ রক্ষায় জলাধার-এর গেট আংশিক খুলে পানি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে গোমতী নদীতে পানি বেড়ে ত্রিপুরা ও কুমিল্লায় বন্যার আরো অবনতি হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

এই ভারতবিরোধী জনমতের পেছনে সাম্প্রতিক ও দীর্ঘমেয়াদী প্রেক্ষাপট আছে। ভারত বহুবছর ধরে ফারাক্কা, গজলডোবা ইত্যাদি বাঁধ-ব্যারেজ দিয়ে শুকনো মৌসুমে আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানি প্রত্যাহার করে সুবিধামত ব্যবহার ও বাংলাদেশকে বঞ্চিত করে আসছে। বর্ষা মৌসুমে আবার নদীর অতিরিক্ত পানি বাংলাদেশকে না জানিয়ে ছেড়ে দেয়ার ফলে বন্যা হচ্ছে বলে অনেকের অভিযোগ।

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে নিরাপত্তা, কানেকটিভিটি, বাণিজ্যসহ নানা সুবিধা পেলেও পানির ন্যায্য বন্টন ঝুলিয়ে রেখেছে। শেখ হাসিনার ১৫ বছরের স্বৈরাচারী ও নিপীড়নমূলক শাসনকে সমর্থন দিয়ে গেছে ভারত সরকার। সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর তাকে ভারতে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে সাহায্য করা হচ্ছে বলে জনমনে ধারণা। এসব কিছু মিলে ভারতবিরোধী ক্ষোভের তীব্র বহিঃপ্রকাশ ঘটছে এবারের বন্যাকে কেন্দ্র করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন- 

প্রকৃতিবিনাশী কর্মকাণ্ড, অপরিকল্পিত বাঁধ, নদীর নাব্যতা সংকট, খাল হারিয়ে যাওয়ায় নদী-খাল যে পরিমাণ পানি বহন করতে পারত, সে ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে ভারি বৃষ্টি হলেই বন্যার কবলে পড়ছে মানুষ।

কারো কারো মত, এই অতিবৃষ্টিজনিত বন্যার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন ও উষ্ণায়নের সম্পর্ক রয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের একটি প্রধানতম ফল হলো সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার তারতম্য।

এ বছর মে মাসের দিকে বাংলাদেশে তাপদাহ এবং এ সময়ে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি ফলও বটে।






চীনা ঋণের সুদ কমাতে হবে : অর্থ উপদেষ্টা , ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

চীনা রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ চীনের কাছ থেকে নেয়া ঋণের সুদের হার কমানো ও পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর কথা বলেছেন।

চীনের রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে তার দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে জানাবেন ।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘চীনের রাষ্ট্রদূতকে বলা হয়েছে প্রকল্পের কাজের জন্য নতুন সরকার তাদের সমর্থন দেবে। আগে অনেক প্রকল্পে অপচয় হয়েছে, তা যেন না হয়। আর আগে অযাচিতভাবে অনেক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আমরা এমন কোনও প্রকল্প আর নেবো না।’

সংস্কৃতি বনাম ধর্মের বানোয়াট বিরোধ ভেঙ্গে ফেলতে হবে – নাহিদ ইসলাম

“সংস্কৃতি বনাম ধর্মের বানোয়াট বিরোধ ভেঙে ফেলতে হবে।“

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম

সমকালের সাথে সাক্ষাৎকারে।

“আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে কিছু নীতি ও এথিকস উঠে এসেছে। আমরা ন্যায়বিচার বা জাস্টিসের কথা বলেছি, রেসপন্সিবিলিটির কথা বলেছি, মানবাধিকারের কথা বলেছি। এখন এসবের একটা রূপ দেওয়াটাই কাজ। বাংলাদেশের মানুষের চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, তার কথা বলছি। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, জাতীয়তাবাদের যুগ শেষ হয়ে আসছে। আমাদের জাতীয়তাবাদের নানা ধরনের সমালোচনা ও দুর্বলতা আছে। আমাদের একটা জাতীয় চরিত্র নির্মাণ করতে হবে। সংস্কৃতি বনাম ধর্মের বানোয়াট বিরোধ ভেঙে ফেলতে হবে। সমাজের সব মানুষের সব উপাদান নিয়ে জাতীয় চরিত্র নির্মাণ করতে হবে। “

“ এতদিন আমাদের ইতিহাসকে ৫২ থেকে ৭১ এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এই দেশের আরও বড় যে ইতিহাস রয়েছে, সেসবের নির্মোহ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন । গোটা পৃথিবীই এখন সভ্যতাগত রাজনীতির দিকে আগাচ্ছে। ভারত ও চীনও কিন্তু সভ্যতাগত পরিচয় ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে পৃথিবীর বুকে দাঁড়াচ্ছে। সেই জায়গা থেকে আমাদেরও সভ্যতাগত পরিচয় অনুসন্ধান করা প্রয়োজন । জাতীয় ঐক্যের বিষয়টাতেই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। রাজনৈতিক দল গঠনের আলাপ এ জন্য এড়িয়ে যাচ্ছি। কারণ এই সময়ে রাজনৈতিক দলের চিন্তা করি বা কার্যক্রম শুরু করি, তাহলে আমরা এক ধরনের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে চলে যাব। “

“ যে জাতীয় ঐক্য আমাদের মাঝে তৈরি হয়েছে, সেটাকে আমরা রক্ষা করতে চাই। সবগুলো দলের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত আলাপ আলোচনা চলছে। বিভিন্ন ধরনের পেশাজীবী ও নাগরিকদের জায়গাকেই আমরা দলের থেকেও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ নাগরিক সমাজই আমাদের এই আন্দোলনে বড় ভূমিকা পালন করেছে। ঐক্য ধরে রাখার জন্যই আমরা নাগরিক সংগঠনের কথা ভাবছি।

… আমরা ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থার পুরোপুরি বিলোপ করতে পারিনি, সেই কাঠামো এখনও রয়ে গেছে। সেটা বিলোপ করার জন্য আমাদের হয়তো একটা দ্বিতীয় অভ্যুত্থানের প্রয়োজন হবে। “


বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা নিয়ে ভারতে অপতথ্য প্রচারিত হচ্ছে

দীপক শর্মা নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ৯ আগস্ট একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয়, বাংলাদেশের হিন্দু নারী ও শিশুদের একটি ক্যাম্পে জিহাদিরা বোমা হামলা চালিয়ে শত শত নারীকে হত্যা করেছে। বাস্তবে এটা ছিল গত ৭ জুলাই বগুড়ায় জগন্নাথ দেবের রথযাত্রায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনার ভিডিও।

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা নিয়ে ভারতের মূলধারার কিছু গণমাধ্যম ও দায়িত্বশীলরা অনেক বাড়িয়ে বলছেন। অপতথ্য প্রচার করছে মূলত ভারতের ধর্মীয় উগ্রবাদীরা।

৫০টি এক্স অ্যাকাউন্টের একটি করে পোস্টকে নমুনা হিসেবে নিয়ে এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ১৩ টি পোস্টেই ভিন্ন ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঘটেছে মুসলিম ব্যক্তিকে হিন্দু দাবিতে প্রচারের ঘটনা।

-তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান

রিউমর স্ক্যানার’র প্রতিবেদন।



বাংলাদেশে রেমিট্যান্স বাড়ছে 

সদ্য ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে হুন্ডিতে টাকা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রবাসীরা । ফলে টানা তিন মাস রেমিট্যান্স দুই বিলিয়নের বেশি এলেও জুলাই মাসে হঠাৎ দুই বিলিয়ন ডলারের নিচে চলে আসে । শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে বৈধপথে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ বেড়ে যায় । বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে , আগস্টের প্রথম তিনদিন রেমিট্যান্স এসেছে ৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার । ৪-১০ আগস্ট পর্যন্ত এসেছে ৩৮ কোটি ৭১ লাখ ডলার এবং ১১-১৭ আগস্ট পর্যন্ত এসেছে ৬৫ কোটি ১৪ লাখ ডলার ।চলতি মাসের (আগস্ট) প্রথম ১৭ দিনে দেশে বৈধপথে ১১৪ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে ।


ভারতের সাথে বন্ধুত্ব চান আমীর খসরু

‘ভারতকে হাসিনা হ্যাংওভার কাটিয়ে উঠতে হবে। … ছাত্র-নেতৃত্বে আন্দোলন, যা স্বৈরশাসকের পতন ঘটিয়েছে, সেটি প্রশ্নবিদ্ধ করে প্রচারণা বন্ধ করতে হবে।

গণতন্ত্র, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন … ক্ষমতায় থাকার জন্য হাসিনা যখন এসব স্থগিত করেছিলেন, ভারত তখন কোনো প্রশ্ন তোলেনি। হাসিনা এই ধারণা তৈরি করেছিলেন যে তিনি ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশে হিন্দুরা নিরাপদ। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালেই হিন্দুদের ওপর হামলা হয়েছিল। তিনি নিজের সুবিধার জন্য সব ইসলামপন্থীকে অযাচিতভাবে কাছে টেনেছেন। ‘

ভারতীয় দ্য প্রিন্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকার পতন পরবর্তী সহিংসতার বিষয়ে বলেন, “কিছু নিরীহ হিন্দুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু ভারতে কি সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা নেই? আপনি কি সংখ্যালঘুদের ওপর কয়েকটি হামলার ভিত্তিতে একটি সমগ্র দেশকে বিচার করেন? তিনি বলেন, শেখ হাসিনা হিন্দুদের বন্ধু ছিলেন না। তিনি তাঁর দলের তরফ থেকে ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কামনা করেছেন।