সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপ, সংবিধান প্রসঙ্গ’ সংলাপে সংবিধান পুনর্লিখন নাকি সংশোধন হবে, সেটি নিয়ে মত দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা ।
“নতুন বাংলাদেশে আমাদের ওই জায়গায় পৌঁছাতে হবে, যেখানে আমাদের আগের যে রাজনৈতিক দর্শন রয়েছে, সেগুলোকে কীভাবে পুনর্গঠন করব। এই পুনর্গঠনের ভিত্তির ওপরেই নির্ধারণ হবে, কীভাবে আমরা আমাদের রাষ্ট্রকে নতুন নতুন জায়গা থেকে পুনর্নির্মাণ করব। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্যই আমাদের জনগণের কাছে যেতে হবে। জানতে হবে জনগণের যে বৃহত্তর অংশ আছে, তারা আসলে কী চাচ্ছে।”
“সংবিধান সংশোধন নয়, পরিবর্তন করতে হবে। নতুন সংবিধান লিখলেও তাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে হয় না। বর্তমান সংবিধানে যে মৌলিক মানবাধিকারের কথা রয়েছে, নতুন সংবিধান লিখলে সেগুলোতে খুব বেশি পার্থক্য হবে, তা কিন্তু না।
সংবিধান পুনর্লিখন করতে হলে তা ১৯৭১ এ মানুষের আকাঙ্ক্ষার ধারাবাহিক হতে হবে। ১৯৭২ সালের সংবিধান আদর্শিকভাবে একপক্ষীয় ছিল। সেখানে দলের মূলনীতি ও সংবিধানের মূলনীতি এক ছিল। সেই জায়গা কিন্তু এখন নেই। ওই আদর্শিক জায়গাটা পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আদর্শিক জায়গার এখনও পরিবর্তন হয়নি। তাদেরও সেই জায়গায় পরিবর্তন আনতে হবে।”
– প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম
“সংবিধান সংশোধন বা পুনর্লিখন প্রসঙ্গে সবার সমান অংশগ্রহণ এবং ভিন্নমতকে আমলে নেওয়া প্রয়োজন। সংবিধান সম্পূর্ণরূপে বাদ দিয়ে নতুন করে লেখা বেশ কঠিন। নতুন বাংলাদেশে নতুন সংবিধানের মৃত্যুদন্ডকে বাদ দেওয়া প্রয়োজন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সাথে মৌলিক অধিকারের ওপরও জোর দেওয়া প্রয়োজন। সংবিধানের ব্যাখ্যা আসা প্রয়োজন প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকেই। সংবিধানের সংশোধনের জন্য ভিন্ন মত, ধর্মের সবার অংশগ্রহণের প্রয়োজন।”
– আইনজীবী সারা হোসেন
“সংবিধান সংশোধন বা পুনর্লিখন—কোনটি হবে, সেটি আলোচনার মধ্য দিয়ে ঠিক হবে। সরকার সিদ্ধান্ত দেওয়ার অধিকারী নয়। এ বিষয়ে (সংবিধান) সিদ্ধান্ত নিতে হলে ছাত্র-জনতার কাছেই ফিরে যেতে হবে। যেটিই হোক, সেটা আমাদের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের দিকে নিয়ে যাবে। ১৯৭১ ও ২০২৪ সালে জনগণের চাওয়াগুলোর মধ্যে বড় কোনো ব্যবধান নেই। ১৯৭১-এর প্রত্যাশাগুলো পূরণ না হওয়ায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণঅ। শুরুর সংবিধান একবারে মুখে ফেলে নতুন কিছু করা যায় না। ২৫০ বছর আগে আমেরিকার সংবিধান প্রণয়ন হয়, এখনও তা বহাল রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে তার সংশোধন হয়েছে।”
– অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ