Home Blog Page 258

ঠিকাদারদের ঠিকানা নাই , থমকে আছে প্রকল্পের কাজ

আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দলটির প্রভাবশালী ঠিকাদারদের যেমন দেখা মিলছে না, তেমনি সরকারের সমর্থনপুষ্ট ঠিকাদাররাও কাজে নেই। এতে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ থমকে আছে। এ পরিস্থিতিতে ঠিকাদাররা দাবি করছেন, কোন কাজটা হবে আর কোনটি হবে না সরকার যেন অতি দ্রুত সে বিষয়ে একটা নির্দেশনা দেয়। কাজ বাতিল হলে বড় ধরনের আর্থিক লোকসান এড়াতে সরকারি ঘোষণার দিকে তাকিয়ে তারা।

সড়ক থেকে সেবা খাত প্রায় সব জায়গায় একই অবস্থা। ঠিকাদাররা পরিস্থিতি বুঝতে সময় নিচ্ছেন। এলাকায় এলে ঝামেলায় পড়বেন কি না কিংবা চলমান কাজের বাকিটুকু করলে ঠিকঠাক টাকা পয়সা পাবেন কি না তা নিয়ে সংশয়ে থাকার কথা বলছেন ঠিকাদাররা। নতুন সরকারের কাছে শেখ হাসিনার সময়ে পাস করানো প্রকল্পগুলোর গুরুত্ব থাকবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা ঠিকাদারদের মনে। সব মিলিয়ে থমকে গেছে দেশের চলমান উন্নয়নমূলক কাজগুলো। যেগুলো কাজ চলছে, সেগুলোও যেন প্রয়োজনের তুলনায় কম লোক দিয়ে চালানো হচ্ছে। এতে গতি হারিয়েছে প্রকল্পের অগ্রগতি। এছাড়া বন্ধ আছে যন্ত্রপাতি কেনা, চলমান কাজের বিল, আর্থিক ও প্রশাসনিক কাজের অনুমোদনসহ উন্নয়ন কাজ সম্পর্কিত অনেক কিছুই।

বেবি রেইনডিয়ার’র এ্যামিতে ঝড়ো জয়

বেবি রেইনডিয়ার, অত্যন্ত জনপ্রিয় আবার বেশ বিতর্কিত ব্রিটিশ টিভি হিট সিরিজ, সবাইকে অবাক করে চারটি এমি অ্যাওয়ার্ড জিতে নিয়েছে।শো’টির স্রষ্টা এবং তারকা, স্কটিশ কৌতুক অভিনেতা রিচার্ড গ্যাড, এর মধ্যে জিতেছেন তিনটি- অভিনয়, লেখা এবং কার্যনির্বাহী প্রযোজনার জন্য। তার সহ-অভিনেত্রী জেসিকা গুনিং, যিনি স্টকার মার্থা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, সীমিত সিরিজে সেরা সহায়ক অভিনেত্রী নির্বাচিত হন।জেসিকা গুনিং পুরষ্কার পেয়ে বলেন- আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। মনে হচ্ছে আমি এখন যেকোন মিনিটে জেগে উঠে দেখতে পাব পুরো ব্যাপারটাই একটা স্বপ্ন ছিল।

সীমিত সিরিজে সেরা লেখার পুরষ্কার গ্রহণ করে, গ্যাড শ্রোতাদের বলেন- দশ বছর আগে আমি ধুলায় মিশে গিয়েছিলাম। আমি কখনই ভাবিনি আমার জীবনে যা ঘটেছে তা সংশোধন করে আবার নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারব। এবং তার ঠিক এক দশক পরে, টেলিভিশনের সবচেয়ে বড় লেখার পুরষ্কারগুলির একটি তুলে নিলাম। গ্যাডের বেশ কয়েক বছর ধরে একজন মহিলার স্টকিং এবং একজন পুরুষ টিভি তারকার যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার কাহিনী, এ বছরের সবচেয়ে আলোচিত টিভি শো।

গ্যাড বিবিসির এমা ভার্ডিকে বলেন- যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম শো ‘টির নেতিবাচক দিকেই তাকিয়েছে বেশি। কিন্তু আপনি বেবি রেনডিয়ারের ইতিবাচক প্রভাবকে উপেক্ষা করতে পারবেন না। লেবানন এবং কাতারের মতো দেশগুলিতে এবং এটা জায়গা পাবে বলে আপনি ভাবতে পারবেননা, এমন সব দেশেও এক নম্বরে আছে। খুব কম শো’ই এ ধরণের আন্ত-সাংস্কৃতিক প্রভাব রাখতে পারে। সত্য গল্প হওয়ার দাবি বেবি রেইন্ডিয়ারকে ঝামেলায় ফেলেছে। এক মহিলা গুনিংয়ের চরিত্রটি তার জীবনের আদলে নির্মিত অভিযোগ করে, মানহানি, অবহেলা এবং গোপনীয়তা লঙ্ঘনের জন্য নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

জাতিসংঘের আট সদস্যের তদন্ত দল ঢাকায়

ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী সরকারের নৃশংসতা বিষয়ে এক মাস তদন্ত করবে জাতিসংঘের আট সদস্যের তথ্যানুসন্ধান দল। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরসহ দেশের আটটি বিভাগীয় শহর ঘুরে সহিংসতার শিকার ব্যক্তি, ভুক্তভোগীদের স্বজন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করবেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

নৃশংসতার তদন্তের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও বেসরকারি পক্ষগুলোর যুক্ততার যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা আমলে নেওয়া হবে। তদন্তে ১৫ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধ, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যা, রাজনৈতিক ও বেসরকারি পক্ষগুলোর মাধ্যমে হত্যা ও নির্যাতন, জনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার নামে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, নির্বতনমূলক আটক ও গ্রেপ্তার, গুম, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি ইত্যাদি।

প্রধান উপদেস্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অনুরোধে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক তাঁর নিজস্ব এখতিয়ারে তথ্যানুসন্ধান দল পাঠিয়েছেন। ড. ইউনূস ২৫ আগস্ট ফলকার টুর্ককে লেখা চিঠিতে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শুরুর জন্য অনুরোধ করেছিলেন।জাতিসংঘের তদন্ত দল সরকারি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করবে। তদন্তের স্বার্থে প্রতিনিধিদল ছাত্র আন্দোলনের নেতা, বেসরকারি সাহায্য সংস্থার প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবে। এর পাশাপাশি তারা সহিংসতার শিকার ব্যক্তি, ঘটনার সাক্ষী এবং তথ্য বিশ্লেষণের স্বার্থে অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা নেবে।

তথ্যানুসন্ধান দলটি জুলাই ও আগস্টের শুরুর দিকে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ ১৫ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্ত করবে। তদন্ত প্রতিবেদন আগামী নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া হতে পারে। জাতিসংঘের তদন্ত দলের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে জাতিসংঘের একটি সূত্র জানিয়েছে, নৃশংসতার অভিযোগের বিষয়ে শুধু প্রাথমিক সূত্রের ওপর নির্ভরশীল থাকা হবে না। এর পাশাপাশি মেডিকেল রেকর্ড, সুরতহাল প্রতিবেদন, অপ্রকাশিত ভিডিও, ছবি, বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল উপকরণকেও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

গণঅভ্যুথ্থানে শহীদ মানুষের বিশাল অংশ বিএনপির নেতাকর্মী , এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় : মির্জা ফখরুল

৪২২
জুলাই অভ্যুত্থানে বিএনপির শহিদ
৪২৩
আওয়ামী শাসনামলে বিএনপির গুম
১,৫৫১
আওয়ামী শাসনামলে বিএনপির শহীদ
১.৫ লাখ
বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন- জুলাই-আগস্টের গণহত্যায় তাঁর দলের ৪২২ জন নিহত হয়েছেন। প্রত্যেকের নাম, পরিচয় ও ঠিকানা তাঁরা সংগ্রহ করেছেন। তালিকা বিএনপির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন- বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী জুলাই গণহত্যায় ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সমগ্র বাংলাদেশে শহীদ ৮৭৫ জন। দেশজুড়ে শহীদ হওয়া সকল শ্রেণী-পেশা-রাজনীতির মানুষগুলোর এই বিশাল অংশ যে বিএনপিরই নেতাকর্মী এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং আমাদের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের অনিবার্য ফল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন- শেখ হাসিনা পদত্যাগের জন্য যে জাতীয় ঐক্য আমরা দেখেছি তা কিন্তু হঠাৎ করে গড়ে ওঠেনি। এটি মূলত অবৈধ সরকারের অত্যাচার-অবিচার, দুর্নীতি-দুঃশাসন, বঞ্চনা-অবজ্ঞা এবং শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানুষের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে গণঅভ্যুত্থানের সর্বশক্তি দিয়ে রাজপথে নেমে আসে বিএনপি ও সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন।

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথযাত্রায় বিএনপির ভূমিকা, অবদান এবং প্রত্যাশা তুলে ধরতে গতকাল ১৫ সেপ্টেম্বর এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। মির্জা ফখরুল বলেন- ২০২৩ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপির ১ হাজার ৫৫১ জন শহীদ হন। গুম হন ৪২৩ জন। বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দেড় লাখ মামলা হয়। এসব কেবল বিএনপির ত্যাগের পরিসংখ্যানই নয়, বরং বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জনের পথে দলটির অবিচল সংগ্রাম ও অবদানের প্রতিফলন।


বোতলজাত পানিতে লাগামহীন লাভ

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন (বিসিসি) বোতলজাত পানি উৎপাদন ও সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো যোগসাজসের মাধ্যমে পানির মূল্য ‘অস্বাভাবিকভাবে নির্ধারণ’ করেছে বলে প্রমাণ পেয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে বোতলজাত পানি বিক্রি হয়েছে ৫৫ কোটি ২৪ লাখ ৫৯ হাজার লিটারের বেশি।

কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কোম্পানিগুলো ২০২৩ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে হঠাৎ করে আধা লিটার পানির বোতলের দাম ১৫ থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা নির্ধারণ করে। দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলো ডলার ও কাঁচামালের কারণে বেড়ে যাওয়া আমদানি খরচকে দায়ী করে। কোম্পানিগুলোর উৎপাদন খরচ বিশ্লেষণ করে কমিশন দেখেছে, নামমাত্র উৎপাদন খরচ বাড়লেও দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে মূলত কোম্পানিভেদে মুনাফা বাড়ানো হয়েছে ৭১.২৩% থেকে ৪২০% পর্যন্ত। প্রফিট মার্জিন বেড়েছে ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতার। দাম বৃদ্ধির আগে আকিজের আধা লিটার পানি বিক্রি করে খুচরা বিক্রেতা পেতেন ৫.৬২ টাকা, যা দাম বৃদ্ধির পর ৯ টাকা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোকাকোলা বাংলাদেশ বেভারেজ লিমিটেড, ট্রান্সকম বেভারেজ, মেঘনা বেভারেজ, পারটেক্স বেভারেজ, রুপসী ফুডস (সিটি গ্রুপ), আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজ এবং প্রাণ বেভারেজ লিমিটেড-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।

এখনো প্রতি বিপ্লবের জন্য টাকা ছড়ানো হচ্ছে …

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অগ্রভাগে ছিল বলে দাবি করে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা বলেছেন, ছাত্র-জনতার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান সদস্যরাও এই বিপ্লবের অংশীদার। কিন্তু সবার ভূমিকা মানুষ হয়তো জানেও না। তাই তাঁদের কথা কেউ বলে না।
‘জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বিপ্লবে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান এবং বিপ্লবোত্তর ভূমিকা’ সেমিনারে সাবেক সেনা কর্মকর্তারা এ কথা বলেন। রক্তস্রোতের মাধ্যমে অর্জিত বিজয় যাতে কোনো প্রতিবিপ্লবের কারণে হাতছাড়া না হয়, সে জন্য অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের ব্যবহার করারও আহ্বান জানান বক্তারা।

শনিবার সকালে মহাখালীর রাওয়া কমপ্লেক্সে সেমিনারের আয়োজন করে রাওয়া রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডি ফোরাম (আরআরএসএফ) ও রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)। সূচনা বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এ এম মোশাররফ হোসেন বলেন- সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এই গণ-অভ্যুত্থানে দুইভাবে ভূমিকা রেখেছেন। অবসরপ্রাপ্তরা সরাসরি মাঠে নেমেছেন এবং চাকরিরতরা চূড়ান্ত সময়ে অবদান রেখেছেন। আবু সাঈদ হত্যার পর সেনাবাহিনীর সব স্তরের সদস্যরা মাঠে নামেন। অবসরপ্রাপ্তরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে প্রতিবাদ ও জনসংযোগ শুরু করেন। ১৮ জুলাই মিরপুর ডিওএইচএস থেকে প্রতিবাদের সূচনা হয়। সশস্ত্র বাহিনী এখনো অবহেলিত জানিয়ে এ এম মোশাররফ বলেন- সরকার পতনের এক মাস পার হলেও এখনো আমাদের বিষয়ে জানার আগ্রহ কারও নেই।

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে দেশ গড়ার নতুন সুযোগ হয়েছে উল্লেখ করে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিমুল গনি বলেন- দেশ সংস্কারকাজে চার জায়গা থেকে জনবল নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, প্রবাসী এবং বিদেশ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে সংস্কারকাজ করা সম্ভব। সশস্ত্র বাহিনীতে বিভিন্ন খাতে দক্ষ অবসরপ্রাপ্ত চার হাজার জনবল আছে। তিনি বলেন- বিগত সরকার সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা বাহিনী ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। এখনো প্রতিবিপ্লবের জন্য টাকা ছড়ানো হচ্ছে।ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক লেফটেন্যান্ট (অব.) এ আর এম শহিদুল ইসলাম (আবু রূদ) বলেন- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সক্রিয় করার প্রয়োজনীয় কাজগুলো হচ্ছে না। গত ১৫ বছরে এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ে যত বেসামরিক কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা হয় বিশেষ একটি জেলা থেকে অথবা ছাত্রলীগের কর্মীদের বেছে বেছে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সেমিনার সঞ্চালনা করেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মনীষ দেওয়ান। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন লে. কর্নেল (বরখাস্তকৃত) হাসিনুর রহমান, লে. কর্নেল (অব.) শাহাদাত, মেজর (অব.) শফিকসহ চাকরিচ্যুত ও অবসরপ্রাপ্ত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। তাঁরা বিগত সরকারের সময় অন্যায়ভাবে যাঁদের সশস্ত্র বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাঁদের চাকরিতে পুনর্বহাল এবং পদোন্নতিবঞ্চিতদের পদোন্নতি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে অন্যায়-অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতায় আনার দাবিও তুলে ধরেন। অতিথি বক্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। কীভাবে বাংলাদেশের এই বিপ্লবকে অস্থির করে তোলা যায়, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা যায়; এ জন্য সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশকে লাপাত্তা করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আনসার দিয়ে চেষ্টা করা হয়েছে। হাসপাতালে রোগীদের সেবা বন্ধ করে দিয়েও একটা চেষ্টা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সীমান্তের ওপার থেকে অহরহ উসকানি আসছে।

শহরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে কেন ?

বেশিরভাগ শহরেই কাছাকাছি গ্রামীণ অঞ্চলের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বৃষ্টিপাত হয়, যা গত দুই দশকে জলবায়ু উষ্ণ হওয়ার ফলে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।- যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সেস-এ প্রকাশিত সমীক্ষা। শহরে বন্যা প্রতিরোধের জন্যে বাড়তে থাকা বৃষ্টির এই পর্যবেক্ষণ নগর পরিকল্পনাবিদদের গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। ভবিষ্যতে শহরগুলোর এই বাড়তি বৃষ্টির পানি কিভাবে পাশের অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ জলাধারগুলো পূরণ করে কৃষিকাজে ব্যবহার করা যায়, তা ভাবা দরকার।

শহরগুলো কয়েকটা কারণে বৃষ্টি-বান্ধব হয়ে উঠছে। উঁচু স্থাপনাগুলো ঝড়ের গতি কমিয়ে বৃষ্টি নামায়। শহুরে স্থাপনাগুলোর বাতাস পরিষ্কার করার মেশিন এবং কারখানার বায়ুদূষণ ক্লাউড-সিডিং এর কাজ করে বৃষ্টি নামাতে পারে। এবং কংক্রিট ও অ্যাসফল্ট থেকে বিকীর্ণ তাপ বায়ুমণ্ডলে প্রবাহ বাড়িয়ে বৃষ্টিপাতে ভূমিকা রাখে, গবেষণা বলছে। গবেষণাটির জন্য ২০০১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ১,০০০টিরও বেশি শহরে বৃষ্টিপাতের উপগ্রহ ডেটা ব্যবহৃত হয়েছে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শহরে প্রতিবেশী গ্রামীণ এলাকার তুলনায় গড়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়। গত দুই দশকে এর মাত্রা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে- ক্রমবর্ধমান নগরায়ন এবং ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা যার জন্য দায়ী, যেহেতু উষ্ণ বাতাস বেশি আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি শহরে জনসংখ্যা যত বেশি, তার সাথে পার্শ্ববর্তী গ্রামাঞ্চলের বৃষ্টিপাতের মধ্যে পার্থক্য তত বেশি। দ্রুত বর্ধিষ্ণু আফ্রিকার শহরগুলোতে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান।

পুতিনের লাল দাগ – ৫টি পয়েন্ট

কমার্স্যান্ট পত্রিকার শিরোনাম বেশ নাটকীয় – ভ্লাদিমির পুতিন তার রেড লাইন টেনে দিয়েছেন। পশ্চিম কি এটা অতিক্রম করবে? যদি করে, রাশিয়ার জবাব কি হবে? সেন্ট পিটার্সবার্গে বক্তৃতায়, পুতিন পশ্চিমের কাছে একটি স্পষ্ট সতর্কবাণী পাঠিয়েছেন: ইউক্রেনকে রাশিয়ার ভূখণ্ডে আঘাত করার জন্য আপনাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করার অনুমতি দেবেন না। তিনি বলেন- মস্কো এটাকে ইউক্রেনের যুদ্ধে ন্যাটো দেশগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ হিসেবে দেখবে। … এটা সংঘাতের প্রকৃতি ও চেহারাকে ব্যাপকভাবে বদলে দেবে। এর অর্থ দাঁড়াবে, ন্যাটো দেশগুলি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলি রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ শুরু করেছে। তিনি দাবি করেছেন- রাশিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের জন্য, ইউক্রেনের পশ্চিমা উপগ্রহ থেকে ডেটা প্রয়োজন এবং শুধুমাত্র ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রের সেনারা এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় ফ্লাইট মিশন ইনপুট দিতে সক্ষম।

রাশিয়া এর আগেও এমন সীমানা টেনেছে এবং লঙ্ঘিত হতেও দেখেছে। ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২২ এ, যখন ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণ শুরু করার ঘোষণা করেছিলেন – বাইরে থেকে হস্তক্ষেপ করতে যাদের হাত নিশপিশ করতে পারে তাদের জন্য রাষ্ট্রপতি পুতিন একটি সতর্কতা জারি করেছিলেন। ক্রেমলিন নেতা ঘোষণা করেছিলেন- যেই আমাদের পথে বাঁধা হোক বা আমাদের দেশ এবং আমাদের জনগণের জন্য হুমকি তৈরি করুক না কেন, তাদের অবশ্যই জানতে হবে যে রাশিয়া ত্বরিত জবাব দেবে। এর পরিণতি এমন হবে যা আপনি ইতিহাসে কখনও দেখেননি। পারমাণবিক অস্ত্রের সেই দৃশ্যমান ঝনঝনানি পশ্চিমা নেতারা উপেক্ষা করেছিলেন। পশ্চিমারা তখন থেকে ইউক্রেনকে ট্যাংক, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং অতি সম্প্রতি F-16 আমেরিকান যুদ্ধবিমান সরবরাহ করেছে। ইতিমধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ক্রিমিয়াকে লক্ষ্য করে আমেরিকান দূরপাল্লার ATACMS ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করার অভিযোগ করেছে।

তার উপর, গত দুই বছরে, রাশিয়ান কর্মকর্তারা এবং রাষ্ট্রীয় মিডিয়া প্রায়শই পশ্চিমকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার অভিযোগে দায়ী করেছে, যদিও রাশিয়াই ইউক্রেন আক্রমণ করেছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সুর থেকে স্পষ্ট যে তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রুশ ভূখণ্ডকে পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দিয়ে টার্গেট করলে সংঘর্ষ নতুন মাত্রা পাবে। তিনি গতকাল যা স্পষ্ট করেননি তা হল মস্কোর প্রতিক্রিয়া কি হবে। ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন- আমাদের জন্য তৈরি হওয়া হুমকির মাপে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। শুক্রবার রাশিয়া ছয় ব্রিটিশ কূটনীতিকের স্বীকৃতি প্রত্যাহার করে নেয় নাশকতামূলক কার্যকলাপ এবং রাশিয়ার নিরাপত্তা হুমকির অভিযোগে।

এই মাসের শুরুর দিকে, রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সের্গেই রিয়াবকভ ঘোষণা করেছিলেন রাশিয়া তার পারমাণবিক নীতি সংশোধন করতে প্রস্তুত, যা মস্কো কোন পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার বিবেচনা করতে পারে তার নির্দেশনা দেয়। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে নীতি সংশোধন করার এই সিদ্ধান্ত [রাশিয়ার] পশ্চিমা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধতার তীব্রতা বৃদ্ধির গতিপ্রকৃতির সাথে সম্পর্কিত। স্যার কেয়ার স্টার্মার রাষ্ট্রপতি বিডেনের সাথে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে রয়েছেন। দুই নেতা যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে তার মধ্যে ইউক্রেন এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রশ্ন আছে। রাশিয়া এই সংঘাত শুরু করেছে। রাশিয়া অবৈধভাবে ইউক্রেন আক্রমণ করেছে, রাশিয়া এই বিরোেধ এখনই শেষ করতে পারে।– স্যার কেয়ার ওয়াশিংটনে যাওয়ার পথে বলেছিলেন। পশ্চিমা নেতাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাদের কাছে কোনটা বড়: সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির ঝুঁকি নাকি ইউক্রেনের পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা।

তবে পুতিনের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া অনেক বিস্তৃত হতে পারে। জুন মাসে তিনি কিছু ধারনা দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রধানদের সাথে এক বৈঠকে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল- ইউক্রেনকে ইউরোপের সরবরাহ করা অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সুযোগ দেওয়া হলে রাশিয়া কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে? প্রথমে আমরা অবশ্যই আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করব। আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব– প্রেসিডেন্ট পুতিন জবাব দেন। দ্বিতীয়ত, আমরা বিশ্বাস করি, কেউ যদি আমাদের ভুখণ্ডে আঘাত হানতে এবং আমাদের জন্য সমস্যা তৈরি করার জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের অস্ত্র সরবরাহ করা সম্ভব বলে মনে করে, তাহলে আমরা কেন আমাদের একই শ্রেণীর অস্ত্র সারা বিশ্বের সে অঞ্চলে সরবরাহ করতে পারি না যেখান থেকে যে দেশগুলো রাশিয়ার সাথে এটা করছে তাদের স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করা হবে? অন্য কথায়, পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার জন্য পশ্চিমের প্রতিপক্ষকে সশস্ত্র করার বিষয় মস্কো বিবেচনা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উঁচু পর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকায় , আর্থিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল সহযোগিতা মূল ফোকাস , ঋণ দেবেনা যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের (অর্থ মন্ত্রণালয়) অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ব্রেন্ট নেইম্যান ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু দিল্লি থেকে আজ ঢাকায় এসে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। মার্কিন প্রতিনিধি দলটি প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র জানান- আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন অগ্রাধিকারে অবদান রাখতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে- সফরকালে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবেন। প্রতিনিধি দলে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ, ইউএসএআইডি এবং মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে মার্কিন দলের বৈঠক হবে বলে আশা করছেন সরকারের কর্মকর্তারা। পররাষ্ট্র সচিব মো. জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন- অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রতিনিধি দল আসছে; তারা যে এই সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় সেটির বড় প্রতিফলন ঘটছে এর মাধ্যমে। প্রতিনিধি দলের সদস্যদের পরিচয় দেখলে বোঝা যায় এই আলোচনা বহুমাত্রিক হবে। এটি শুধু একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে মধ্যে সীমিত থাকবে না। আমরাও এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছি। এছাড়া পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে ওয়ার্কিং লাঞ্চ করবে দলটি। পৃথকভাবে দলের কয়েকজন সদস্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেকনিক্যাল মিটিং করবেন।

প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। স্বাভাবিকভাবে এবারের সফরে মূল আলোচনার ফোকাস আর্থিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন- কয়েকটি ক্ষেত্রে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের বিশেষায়িত জ্ঞান রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকিং খাত সংস্কার, মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাতে নজরদারিসহ (ফিন্যান্সিয়াল ওয়াচডগ) রয়েছে। আমাদের যেকোনও ধরনের কারিগরি সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান দিতে রাজি আছে যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে নির্দিষ্টভাবে তাদের কাছে যদি আমাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরা সম্ভব হয়, তবে সহায়তা করবে তারা। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন- ব্যাংকিং খাতে অনেক ধরনের সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সহায়তা চাইলে তারা সহায়তা করবে। ঢালাওভাবে ব্যাংকিং খাতে সমস্যা সমাধানে সহায়তা চাইলে সেটি কার্যকর হবে না।

সাধারণভাবে অন্য দেশকে ঋণ দেয় না যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনকে বৃহৎ আকারে ঋণ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু সেটি বিশেষ পরিস্থিতির কারণে। ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হওয়ার কারণে বিষয়টি অনেক জটিল। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন- যুক্তরাষ্ট্র সাধারণভাবে ঋণ দেয় না। এরপরও যদি কেউ ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করে, তাদের নির্বাচনের বছরে এটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন- তবে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যেমন- বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফ থেকে ঋণ পেতে সহায়তা করতে পারে।

সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের গ্রেফতারে তথ্য প্রমাণ লাগবে ! আর অন্যদের ক্ষেত্রে ?

আ্ইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির প্রথম সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সঠিক তথ্য প্রমাণ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের গ্রেফতার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো হয়। ১০ সেপ্টেম্বর পুলিশ অধিদফতরের ডিআইজি (কনফেডেন্সিয়াল) কামরুল হাসানের সই করা একটি চিঠি পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। তবে সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তা ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে কি হবে তা নিয়ে ধোঁয়াসা রয়েছে।

গণঅভ্যুথ্থান পরবর্তি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা-সদস্য, রাজনীতিক, নেতাকর্মী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন জনকে গণহারে আসামি করে প্রায় পৌনে তিনশ মামলা হয়েছে আদালতে এবং বিভিন্ন থানায়। এসব মামলায় নাম প্রকাশ করে আসামি করা হয়েছে ২৬ হাজারের বেশি মানুষকে, অজ্ঞাতপরিচয় আসামি রয়েছে দেড় লাখের ওপর। সমালোচনার প্রেক্ষিতে উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে গণহারে মামলার বিষয়ে কাউকে হয়রানি করা হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। গ্রেপ্তারকৃত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সিংহভাগই পুলিশের সাবেক ও বর্তমান সদস্য। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট পরবর্তী বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় আটশ পুলিশ সদস্য এখনো কাজে যোগ দেননি। পলাতক রয়েছেন আটজন এএসপি থেকে ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ ডিএমপির ২৭ সদস্য।
প্রসংগত গত ৪ জুলাই ২০২৩, সরকারি কর্মচারী গ্রেপ্তারে সরকারি কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি সংক্রান্ত ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল-২০২৩’ পাস হয়।