Home Blog Page 257

বিদেশি উন্নয়ন সহযোগিতার ইতিবাচক আশ্বাস ; বাস্তবায়নযোগ্য শর্ত চায় বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) ও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) সঙ্গে অর্থ উপদেষ্টার বৈঠক হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ভারত, চীন প্রভৃতি দেশের রাষ্ট্রদূত এবং হাইকমিশনাররাও অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সবার কাছ থেকে মোট ১ হাজার ২০ কোটি মার্কিন ডলার পাওয়া যেতে পারে বলে জানা গেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার এক মাসের মাথায় বিশ্বব্যাংকের কাছে বাজেট সহায়তা চেয়েছে। প্রায় ১০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চেয়ে বিশ্বব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়েছে, যা মূলত জ্বালানি খাতে খরচ করা হবে। ২ কিস্তিতে ৫০ কোটি ডলার করে এ অর্থ চেয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। এ ছাড়া আর্থিক খাত সংস্কারে বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলারের ঋণসহায়তা দিতে পারে বিশ্বব্যাংকের। এই ঋণ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের পর্ষদে অনুমোদিত হওয়ার কথা। তবে ঋণ পেতে তিনটি শর্ত পালন করতে হবে বাংলাদেশকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে খেলাপি ঋণের নতুন সংজ্ঞায়ন ও নবগঠিত টাস্কফোর্সের নিরীক্ষা কার্যক্রমের বিবরণী বিশ্বব্যাংকের কাছে পেশ করা-এই তিন শর্ত মানতে হবে বাংলাদেশকে।

সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন- সোজাসুজি বলা হয়েছে, সহায়তার জন্য যেসব শর্ত দেওয়া হবে, সেগুলো যেন বাস্তবায়নযোগ্য হয়। তিনি বলেন, অনেক সময় তারা এমন শর্ত দেয়, যেগুলো ঠিক বাস্তবায়নযোগ্য নয়। এর ফলে সহায়তাও আটকে যায়, তা যেন না হয়। সে জন্য বিশ্বব্যাংককে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, এমন শর্ত দেওয়া হোক, যেগুলো বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে পারবে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বরের মধ্যে বাজেট সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশকে ৪০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেবে এডিবি। সংস্থাটি ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি খাতে সংস্কারের জন্য দেবে ৫০ কোটি ডলার। এটা পাওয়া যাবে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে। এর বাইরে জ্বালানি খাতের উন্নয়নেও এডিবির কাছে ১০০ কোটি ডলার চেয়েছে বাংলাদেশ। সংস্থাটি চলমান প্রকল্পগুলোও অব্যাহত রাখবে।

যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশকে ২০ কোটি ডলারের বেশি উন্নয়ন সহায়তা দিচ্ছে। রোববার সে দেশের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) সঙ্গে একটি চুক্তি সই হয়েছে। স্বাস্থ্য, সুশাসন, মানবিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি এবং মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ অর্থ কাজে লাগানো হবে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এক চুক্তির আলোকে এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে আইএমএফের কাছ থেকে বাড়তি ৩০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী সরকার। আইএমএফের আবাসিক প্রতিনিধি জয়েন্দু দের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠকের পর অর্থ উপদেষ্টা ১ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের জানান, বাড়তি সহায়তা অনুমোদনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমানে ৪৭০ কোটি ডলারের একটি ঋণ কর্মসূচি চলমান।

জঙ্গিবাদ ও ফ্যাসিবাদ বিষয়ে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশ জঙ্গিবাদের কোন স্থান হবেনা। বাংলাদেশের মানুষ গনতন্ত্রকামি। এবং আমরাও গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের জন্যে এই অভ্যুত্থানটি করেছি। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে প্রথম থেকেই সচেতন। সে ধরণের কোন ঘটনার সুযোগ হবেনা এবং সেটার জন্য আগাম প্রস্তুতি, সতর্কতা রয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। জঙ্গিবাদ ও ফ্যাসিবাদ বিষয়ে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

সমাজে ফ্যাসিবাদ রয়ে গেছে। আপনি যদি সেই সমাজে পরিবর্তন না আনতে পারেন, এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন না আনতে পারেন, তাহলে কিন্তু এই ফ্যাসিবাদ থেকে আমরা দীর্ঘ-মেয়াদি মুক্তি পাবনা। ফ্যাসিস্ট শক্তিকে সমাজে আমরা আসলে কিভাবে বিলোপ করব এবং একটা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি কিভাবে আমরা প্রতিষ্ঠা করব, সেই বিষয়ে রাষ্ট্র, সরকার, সমাজ সবদিক থেকেই আমাদের একটা নতুন বোঝাপড়ায় যেতে হবে।

বিচার হবে ফ্যাসিবাদের দোসর কবি – সাংবাদিক – সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদেরও – নাহিদ ইসলাম

কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে যাঁরা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিংবা লেখনী ও মতামতের মাধ্যমে জনমত তৈরি করে গণহত্যার পক্ষে পরোক্ষভাবে কাজ করেছেন ও উসকানি দিয়েছেন, তাঁদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে।- তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ১৮ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা হত্যা মামলা সম্পর্কে নাহিদ ইসলাম বলেন- মামলাগুলো সরকার করছে না; জনগণ তাদের জায়গা থেকে করছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শত্রুতার জায়গা থেকেও মামলা করা হচ্ছে। সেই জায়গা থেকে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি এবং আশ্বস্ত করেছি যে এই মামলাগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যালোচনা করা হবে। তদন্ত করে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হলে তাঁকে মামলা থেকে রেহাই দেওয়া হবে। জাতীয় প্রেসক্লাব ও সচিবালয় সাংবাদিক ফোরামের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন- আমি তাদের বলেছি, যদি কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয় বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয় থাকে; তাহলে তাঁর ব্যাপারে তথ্য মন্ত্রণালয়ে বিস্তারিত পাঠাবেন। আমরা তাঁর বিষয়টি দেখব।


পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন। সভার পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। কিছু পয়েন্ট ও বিস্তারিত-

– এটি একধরনের রাজনৈতিক দলিল। রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসে সিদ্ধান্ত নেবে।
– দিকনির্দেশনা ও অর্থায়নের জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
– পাইপলাইনে বিপুল পরিমাণ অর্থ পড়ে আছে। বিদেশি সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে মনোযোগী হতে হবে।
– মন্ত্রণালয় পর্যায় থেকে যাতে প্রক্‌ল্প অনুমোদন করা যায়, সে জন্য প্রকল্পের টাকার অঙ্ক বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
– বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পরিবর্তে দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্রের আলোকে মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।

পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন- এটি একধরনের রাজনৈতিক দলিল। রাজনৈতিক সরকার তাদের মতো করে পরিকল্পনা করবে, নীতি নির্ধারণ করবে। এতে রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা থাকে। আমরা বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেব না। তারা (রাজনৈতিক সরকার) ক্ষমতায় এসে সিদ্ধান্ত নেবে। অর্থনীতির জন্য দিকনির্দেশনা ও অর্থায়ন নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন- অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা ও অর্থায়নের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে এই টাস্কফোর্স প্রতিবেদন দেবে। কেন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা স্থগিত করা হলো, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন- অতীতে দেখা গেছে যে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা যা করার কথা ছিল, সেই অনুসারে বরাদ্দ বা বাজেট করা হয়নি। ফলে এসব পরিকল্পনার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে।

অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। নানা কারণে ওই প্রতিশ্রুতি অর্থ ছাড় করা যায়নি। এখন আর ওই সব প্রকল্পের প্রাসঙ্গিকতাও নেই। প্রকল্পগুলো চিহ্নিত করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। এসব প্রকল্পে প্রায় ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা ছিল।বিশ্বব্যাংক বাজেট সহায়তা হিসেবে এসব অর্থ দিতে চায় বলে জানান পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন- আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই অর্থ পাওয়া যাবে। পাইপলাইনে বিপুল পরিমাণ অর্থ পড়ে আছে। বিদেশি সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে মনোযোগী হতে হবে।
তিনি জানান- এখন থেকে প্রকল্প অনুমোদনের চেয়ে বাস্তবায়নে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রকল্প একনেকে পাস করিয়ে নিলেই হবে না; বাস্তবায়ন কেমন হচ্ছে সেটাও নজরদারিতে রাখা হবে। প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে জানিয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন- মন্ত্রণালয় পর্যায় থেকে যাতে প্রকল্প অনুমোদন করা যায়, সে জন্য প্রকল্পের টাকার অঙ্ক বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ পর্যন্ত আটটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে। ১৯৭৩ এ প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়। বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও এরশাদ সরকার এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। সর্বোচ্চ চারটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে আওয়ামী লীগ সরকার। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০২০-২৫) শেষ বছর চলছে। আগামী বছরের জুন মাসে এটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ২০০১-০৬ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পরিবর্তে দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্রের আলোকে মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। গতকালের একনেক সভায় চারটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। খরচ হবে ১ হাজার ২২২ কোটি টাকা। প্রকল্পগুলো হলো-বাখরাবাদ-মেঘনাঘাট হরিপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ (১ম সংশোধিত); দুটি মূল্যায়ন ও উন্নয়ন কূপ (সুন্দলপুর-৪ ও শ্রীকাইল-৫) ও দুটি অনুসন্ধান কূপ (সুন্দলপুর সাউথ-১ ও জামালপুর-১) খনন; ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন (২য় সংশোধিত) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান (২য় পর্যায়)।


ছাত্র – জনতার অভ্যুত্থানে নিহত ১১২ শ্রমিক

অন্তত ১১২ জন শ্রমিক ছাত্রনেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)। রিপোর্টটি মূলত ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত প্রকাশিত মিডিয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

মৃতদের মধ্যে
২১ জন দোকানদার
১৫ জন রিকশাচালক
১২ জন পরিবহনকর্মী
৯ জন পোশাক শ্রমিক
৯ জন দিনমজুর
৬ জন নির্মাণশ্রমিক
৫ জন হকার
৪ জন হোটেলকর্মী এবং বাকিরা বিদ্যুৎ ও ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করতেন। নিহতদের মধ্যে ২৩ শিশু শ্রমিক ছিল, যাদের বয়স ১৮ বছরের মধ্যে বলে ওই রিপোর্টে জানানো হয়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তত ২৫ জন অন্যান্য শ্রমিকও আহত হয়েছেন এবং দুই শিশুসহ মোট পাঁচজনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পেজারের পর লেবাননজুড়ে ওয়াকিটকি বিস্ফোরণ

পেজার বিস্ফোরণের ঘটনার রেশ না কাটতেই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও বৈরুতের উপকণ্ঠে বুধবার হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত কয়েকশ ওয়াকিটকি বিস্ফোরিত হয়েছে। এবারের বিস্ফোরণে অন্তত ৯ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। বিবিসি জানিয়েছে- লেবাননে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ ভয়ে এখন মোবাইল ফোনও ব্যবহার করছে না।

বিস্ফোরিত ওয়াকিটকি জাপানি ‘আইকম’ এর বানানো। গোয়েন্দা সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ পাঁচ মাস আগে এই ওয়াকিটকিগুলো কিনেছিল। ওই সময়ে পেজারগুলোও কেনা হয়েছিল। নতুন করে ওয়াকিটকিতে বিস্ফোরণ হিজবুল্লাহর জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা। হিজবুল্লাহর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে হিজবুল্লাহ। কাল বৃহস্পতিবার হিজবুল্লাহর প্রধান নেতা হাসান নাসরুল্লাহ তার ভাষণে দিকনির্দেশনা দেবেন। ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট সাক্ষাৎকারে বলেছেন- ইসরাইল গাজা যুদ্ধের একটি নতুন পর্ব শুরু করেছে। লেবাননজুড়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের বিস্ফোরণের কথা উল্লেখ না করেই গ্যালান্ট বলেন- ইসরাইলি সেনাবাহিনী এবং নিরাপত্তা সংস্থা ভালো কাজ করেছে, ফলাফল খুবই চিত্তাকর্ষক!

বিশ্বের ৭০% মানুষ আগামী ২০ বছরে তীব্র – বিরূপ আবহাওয়ার শিকার হবে

বিশ্বের ৭০% মানুষ দুই দশকের মধ্যে চরম আবহাওয়ার ধরণে দ্রুত এবং তীব্র পরিবর্তনের মুখোমুখি হবে। গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপক্রান্তীয় বিশাল অঞ্চল চরম তাপমাত্রা এবং অতিবৃষ্টিপাতের শক্তিশালী মিলিত প্রভাবের মুখে পড়বে। প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা মেনে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো গেলে সংখ্যাটি ২০% এ নামিয়ে আনা সম্ভব। প্রধান লেখক ডঃ কার্লে ইলেস, আঞ্চলিক পরিবর্তনের উপর ফোকাস করায় জোর দিয়েছেন, কারণ মানুষের জীবন-যাপন, অভিজ্ঞতা এবং প্রতিবেশের জন্যে এটা বৈশ্বিক গড় হিসেবের চেয়ে বেশি জরুরি। গবেষণাটি একটি অপ্রত্যাশিত বিষয়ও সামনে এনেছে- বিশেষ করে এশিয়ায় বায়ু দূষণ দ্রুত কমে আসছে; এটা উষ্ণতার তীব্র বৃদ্ধিকে তরান্বিত করে এশিয়ার বর্ষাকে প্রভাবিত করতে পারে। স্বাস্থ্যগত কারণে বাতাস পরিষ্কার করা জরুরি, তবে এটা অস্থায়ীভাবে কিছু অঞ্চলে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের প্রভাবকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সরকারের প্রতি সতর্ক বার্তা , সাথে সাহায্যের আবেদন এস আলম গ্রুপের

জব্দ করা ব্যাংক একাউন্ট খুলে দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে এস আলম গ্রুপ। তারা সরকারের কাছে আর্থিক, আইনগত ও সামাজিক সহায়তাও চেয়েছে। চিঠিতে তারা বাংলাদেশ ব্যাংককে সতর্ক করেছে – ব্যাংক একাউন্ট খুলে না দিলে বিভিন্ন শিল্প এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এস আলম গ্রুপকে এলসি বা ঋণপত্র খুলতে দেওয়া না হলে দেশে খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের সংকটও হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন- এস আলম গ্রুপ ব্যাংক থেকে যে দুই লাখ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে, সে বিষয়ে তারা চিঠিতে কিছু জানায়নি। এই টাকা ফেরত দিতে তাদের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, তাও জানায়নি। যে ব্যাংকগুলো থেকে তারা টাকা নিয়েছে, তারাও এস আলম গ্রুপের কর্ণধারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না। সে ক্ষেত্রে এই চিঠির গ্রহণযোগ্যতা নেই। একই চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) ও দেওয়া হয়েছে।

লেবানন পেজার বিষ্ফোরণ – যে ৬টা জিনিশ জানি …

১৭ সেপ্ট. মঙ্গলবার বিকেল ৪.৪৫ এ প্রথম পেজার বিস্ফোরণ। এরপর কয়েক হাজার পেজারে এক ঘণ্টা ধরে সিরিজ বিস্ফোরণ।

নিহত ৯, আহত ২৭৫০। ২০০ জনের অবস্থা গুরুতর।

লেবাননের হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ইসরাইলি লোকেশন-ট্র্যাকিং এড়াতে নিম্ন মানের যোগাযোগ প্রযুক্তি পেজার ব্যবহার করে।

হিজবুল্লাহ তাইওয়ানের গোল্ড অ্যাপল কোম্পানিকে ৫০০০ পেজার অর্ডার করে। পাঁচ মাস আগে এগুলো লেবাননে আসে।

প্রায় তিন হাজার ডিভাইসে কোড ম্যাসেজ পাঠানোর পর সেগুলো একইসাথে বিস্ফোরিত হয়।

ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোশাদ ‘উৎপাদন পর্যায়ে’ পাঁচ হাজার পেজারের ভেতরে বিস্ফোরক পিইটিএন বসিয়েছিল।

গাজা সংঘাত শুরুর পর হিজবুল্লাহর হামলার কারণে ইসরাইল প্রায় ৬০ হাজার নাগরিককে লেবানন সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর, সোমবার উত্তরাঞ্চলের এই বাসিন্দাদের নিরাপদে ঘরে ফেরানোর বিষয়টিকে যুদ্ধের লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এই ঘোষণার পরই লেবাননে ভয়াবহ পেজার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলো। এক বছর আগে ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হিজবুল্লাহ এবার সবচেয়ে বড় নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ল। ইসরাইল নিজের খুবই উঁচু মানের গোয়েন্দা সক্ষমতা প্রমাণ করলো আবারও।

জম্মু – কাশ্মীরে নির্বাচন : প্রতিবাদের সুযোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা

১০ বছর পর জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বয়কটের আহ্বান ও সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখে ভোটার অংশগ্রহণের হার ছিল কম। কিন্তু এবারের নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে আগ্রহ ও উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কর্তৃক কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর মাধ্যম হিসেবে এই নির্বাচনকে দেখছে স্থানীয়রা।

২০১৯ সালে মোদি সরকার জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্য মর্যাদা প্রত্যাহার করে একে দুটি কেন্দ্র-শাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে হয়, লাদাখ ও জম্মু-কাশ্মির। একই সাথে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা অনুযায়ী ঐতিহাসিকভাবে কাশ্মীর যে বিশেষ মর্যাদা পেত, তা বাতিল করা হয়। এর ফলে ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য কাশ্মির তার পতাকা, ক্রিমিনাল কোড, সংবিধান এবং ভূমি ও চাকরিতে পাওয়া সুরক্ষা হারিয়ে ফেলে। বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলো তো বটেই, এমনকি ন্যাশনাল কনফারেন্স ও পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির মত ভারতপন্থী মূলধারার রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর বিরোধিতা ও সমালোচনা করেছে।

জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভায় বর্তমানে মোট আসন ৯০টি, এর মধ্যে মুসলিমপ্রধান কাশ্মীরে ৪৭ ও হিন্দুপ্রধান জম্মুতে ৪৩টি। ২০১৪ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল, তাতে চারটি দলের মধ্যে আসন ভাগাভাগি হয়েছিল। সবচেয়ে বড় দল হয়েছিল পিডিপি, তারা পেয়েছিল ২৮টি আসন। বিজেপি ২৭টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় হয়। এনসি ১৫ ও কংগ্রেস ১২টি আসন পায়। এবারের নির্বাচনে এই উপত্যকার শাসন ক্ষমতা নিজেদের করে নিতে মরিয়া বিজেপি। তাদের লক্ষ্য হিন্দুপ্রধান জম্মুর প্রতিটি আসন জয়। অন্যদিকে মুসলিমপ্রধান কাশ্মীরের ভোটও টানতে চায় তারা। এদিকে, বিজেপিকে ঠেকাতে ন্যাশনাল কনফারেন্স বা এনসির সঙ্গে জোট বেঁধেছে রাহুল গান্ধীর দল কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে কংগ্রেস।’

তবে জোটবদ্ধ না হয়ে আপাতত এককভাবে নির্বাচনে লড়ার পরিকল্পনা করছে মেহবুবা মুফতির দল পিডিপি। তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে আছে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে আনা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করা। এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর রশিদ ইঞ্জিনিয়ারের আওয়ামী ইত্তেহাদ পার্টি (এআইপি) ও জামাতে ইসলামীর জোট। দুটি দলই বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে পরিচিত ছিল, তবে এবার তাদের জোট ৪৩টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে ২০১৭ সাল থেকে কারাগারে বন্দী শেখ রশিদ এবছরের শুরুতে লোকসভা নির্বাচনে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহকে হারিয়েছিলেন। জামাতে ইসলামীর ওপর থেকে সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগ আছে বিজেপি নির্বাচনী স্বার্থে এই জোটকে মদত দিচ্ছে।