Home Blog Page 254

ভারতের “নেইবারহুড ফার্স্ট ” নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন !

‘ এই ছোট ছোট দেশগুলিতে গণতন্ত্র যত শক্তিশালী হবে, ততই ভারতকে মোকাবেলা করা ওই দেশগুলির নিজস্ব পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠবে-অধ্যাপক স্বর্ণ সিং। ‘ ‘ ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাই যথেষ্ট নয়, এসব দেশের সাধারণ মানুষের মনও জয় করা দরকার- সুহাসিনী হায়দার ‘।

অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো বড় দেশের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি করার প্রচেষ্টায় নিজের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে প্রাধান্য দেয় নি ভারত। দ্য হিন্দুর কূটনৈতিক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দার বলেন – প্রতিবেশী দেশগুলির সরকার সবসময়ে যে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে একমত হবে, এমন ভাবাটা ভুল। ভারত তার প্রতিবেশীদের ওপর নিজের পররাষ্ট্রনীতি চাপিয়ে দিতে পারে না। প্রতিবেশী দেশগুলিতে লাগাতার পটপরিবর্তন হওয়ার ঘটনা থেকে সরকার এই শিক্ষাই পাচ্ছে।

দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্বর্ণ সিং বলছেন – প্রতিবেশী দেশগুলোর পরিবর্তনের কারণ তাদের অভ্যন্তরীণ নীতি।… পাকিস্তান ছাড়াও ভারতকে ঘিরে রয়েছে বেশ কিছু ছোট ছোট দেশ। এর ফলে ‘স্মল স্টেট সিনড্রোম’-এর পরিস্থিতি তৈরি হয়। তার ব্যাখ্যা – এই ছোট ছোট দেশগুলিতে গণতন্ত্র যত শক্তিশালী হবে, ততই ভারতকে মোকাবেলা করা ওই দেশগুলির নিজস্ব পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠবে।যেমন, ভুটান ও ভারতের মধ্যে সবসময়ই চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন হলেই সেখানে ভারত-বিরোধী স্লোগান ওঠে।

সুহাসিনী হায়দার বলছেন – বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুতর, কারণ যেখানে ভারতের হাইকমিশন এবং দেশের চারটি উপদূতাবাস আছে, তা সত্ত্বেও সেখানকার পরিস্থিতি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি ভারত। বাংলাদেশে ভারত কেবল একটি পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রেখেছিল এবং সেদেশের বিরোধীদের উপেক্ষা করেছিল। এখন এই ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে ভারতকে। শুধু ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাই যথেষ্ট নয়, এসব দেশের সাধারণ মানুষের মনও জয় করা দরকার – বলছিলেন সুহাসিনী হায়দার।

বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি মনে করেন ভারতের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতি যথেষ্ট গতিশীল। তার কথায় – এই নীতিটি খুবই নমনীয়। আমরা (ভারত) যে কোনও পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে পারি। এর সবথেকে ভাল উদাহরণ হল ভারত যেভাবে মালদ্বীপে মি. মুইজের ‘ইন্ডিয়া আউট’ নীতির মোকাবেলা করল। ধীরে ধীরে বিষয়টা থিতিয়ে গেল। বীণা সিক্রি বলেন – বিশ্বজুড়েই সরকার বদলায়, কিন্তু আমাদের প্রতিক্রিয়া এমন হবে, যাতে দেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ থাকে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতিকে ওইসব পরিবর্তনগুলির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।

অধ্যাপক স্বর্ণ সিংয়ের মতে, ধৈর্যই হল মূলমন্ত্র। তার কথায় – নেপালে অলি আর বাংলাদেশে ইউনুসের ক্ষেত্রে ভারত অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। অশান্ত পরিস্থিতিতেও ভারত সংযম দেখিয়েছে। ভারত জানে যে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হলে ক্ষতি তারই। কারণ এ ধরনের পরিস্থিতিতে চীন তার প্রভাব বৃদ্ধির সুযোগ পেয়ে যায়।


অনেক স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস হলো, পাহাড়ে সন্ত্রাস বন্ধ হোক , এটা কোন কোন মহল চায় না : চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়

চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়– এখানে এত যে নিরাপত্তার অজুহাত, তাহলে এত গোষ্ঠীর জন্ম হলো কীভাবে? অনেক স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস হলো, পাহাড়ে সন্ত্রাস বন্ধ হোক, এটা কোনো কোনো মহল চায় না। জনমানুষের আরও অভিযোগ, পার্বত্য অঞ্চলের বিবদমান গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত ঘটতে দেওয়া হচ্ছে। – দৈনিক প্রথম আলো’র সাথে সাক্ষাৎকার সংক্ষেপ

… আমার সার্কেল চিফ হওয়ার ৪৭ বছরে কেবল রাঙামাটি শহরে এ ধরনের অন্তত চারটি সহিংসতা হলো। এর মধ্যে ১৯৯২ সালের ২০ মে, ২০১২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সালের ১০ থেকে ১৩ জানুয়ারি এবং এবারে ২০২৪-এ ২০ সেপ্টেম্বর।… কোনো ঘটনা কিন্তু রাতে হয়নি, দিনদুপুরে হয়েছে। আবার গ্রামে হয়নি, খোদ রাঙামাটি শহরে হয়েছে। … আগের ঘটনাগুলো যাঁরা ঘটিয়েছেন, তাঁরা যদি শাস্তি না পেয়ে থাকেন, তবে এটা কি তাঁদের পক্ষে ভাবা স্বাভাবিক নয় যে এসব করলে কোনোক্রমেই শাস্তি পেতে হয় না।

“… তালিকা যদি করেন, তবে দেখা যাবে ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষতি হয়েছে পাহাড়িদের। আর ক্ষতিমূলক কর্মকাণ্ড যাঁরা করেছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে যে তাঁরা পাহাড়ি না, সেটা অঞ্চলের পাহাড়ি-বাঙালি সবাই জানে। … এখানকার নিরাপত্তা বাহিনীসহ যত ধরনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে, সবখানে নিরঙ্কুশ বাঙালি প্রাধান্য। অথচ এখানে একটি মিশ্র বাহিনী গড়ে তোলার দাবি দীর্ঘদিনের এবং ১৯৮৯ থেকে এ বিষয়ে আইনি বিধানও রয়েছে। যেখানে পাহাড়ের প্রতিটি জাতিসত্তার মানুষের সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে। …সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাড়ানোর জন্য বিশ্বের নানা দেশে এমন বাহিনী হয়েছে এবং ইতিবাচক ফলও পাওয়া গেছে।

… পার্বত্য চট্টগ্রামে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এমন একটি বাহিনী তৈরি করতে প্রশিক্ষণ দিতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। কেন হয়নি তা, সেই প্রশ্ন তোলা জরুরি। তার মানে কি আমরা ধরে নেব যে সরকার বা কোনো মহল চায় না পাহাড়ে হানাহানি বন্ধ হোক। … এখানে সাধারণ যেসব সহিংসতা হয় বা হচ্ছে, তা পুলিশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, সামরিক বাহিনীর না। মশা মারতে কামান দাগানোর তো দরকার নেই। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ তো পুলিশের কাজ। তাদের কাজ তাদের করতে দেন, বিজিবির কাজ বিজিবিকে করতে দেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে যাঁরা সেনা কর্মকর্তা আছেন, তাঁরা সিভিল প্রশাসনের অধীনে কাজ করুক।

… এখানে এত যে নিরাপত্তার অজুহাত, তাহলে এত গোষ্ঠীর জন্ম হলো কীভাবে? এখানে পার্বত্য অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ব্যর্থতার প্রশ্ন চলে আসে। তবে অনেক স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস হলো, পাহাড়ে সন্ত্রাস বন্ধ হোক, এটা কোনো কোনো মহল চায় না। জনমানুষের আরও অভিযোগ, পার্বত্য অঞ্চলের বিবদমান গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত ঘটতে দেওয়া হচ্ছে।… পাহাড়ের শহরাঞ্চলে বাঙালিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় শতভাগ বাঙালি। তাহলে ক্ষমতার ভারসাম্য কোথায় থাকল? এসব বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে কি পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাতে নিরপেক্ষতা অবলম্বন সম্ভব? ইতিহাস তো তা বলে না!

“… পার্বত্য চুক্তিকে অবশ্যই বাস্তবায়ন করা উচিত।” এর মৌলিক দিকের বাস্তবায়ন হয়নি বলেই তো এত সমস্যা। তবে এই চুক্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের স্পৃহা বা স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পারে পুরোপুরি, তা বলা ঠিক হবে না। … এ চুক্তিতে যতটা আঞ্চলিক স্বশাসন দেওয়া হয়েছে, তা নগণ্য। আমরা যদি উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর দিকেই তাকাই, সেখানকার স্বায়ত্তশাসন কিন্তু অনেক বিস্তৃত। সেখানকার স্বায়ত্তশাসিত জেলাগুলোর স্বায়ত্তশাসন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর চেয়ে অনেক বেশি। তারপরও পার্বত্য চুক্তিতে জেলা পরিষদগুলোকে যেসব ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ভূমি ও পুলিশ-সংক্রান্ত, তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

“… ইতিমধ্যেই আমি সরকারের উপদেষ্টাদের সামনে পাহাড়ের ঘটনার তদন্তে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, যথাযথভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্ষমতায়িত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছি। সেই তদন্ত কমিশনে অন্তত ৫০ শতাংশ নারী থাকা উচিত। সেখানে মানবাধিকারকর্মী, নারী অধিকারকর্মী, নৃবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী এবং অবশ্যই আইন ও বিচার বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি থাকা উচিত। সরকার চাইছে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সংঘটিত নানা সহিংসতার তদন্ত জাতিসংঘের মাধ্যমে করতে। পাহাড়ে এত দিন ধরে বেশির ভাগ সহিংসতার বিচার হয়নি। জাতীয়ভাবে কমিশনের তদন্ত ছাড়াও জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধি দ্বারাও তদন্ত করা উচিত।


বিশ্ব জুড়ে সিরাচা সসের ঘাটতির পেছনের গল্প

বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় সিরাচা হট সসের সাম্প্রতিক ঘাটতি বিশ্বজুড়ে মশলাদার খাবারের ভক্তদের হতাশ করেছে, এবং অনেকেই একটি বোতল খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। সিরাচার উৎপাদনে ব্যবহৃত লাল হ্যালাপিনো মরিচের একটি বড় অংশ মেক্সিকোতে চাষ হয়। মেক্সিকোতে ভয়াবহ খরার কারণে এই মরিচের সরবরাহ সঙ্কট দেখা দেয়। ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই ঘাটতি সসটির বাজারজাতের প্রক্রিয়ায় ব্যাপক বিলম্ব তৈরী করে। এতে বাজারে সসের দাম এতো বেড়ে গেছে যে কেউ কেউ অনলাইনে সাধারণ দামের তিন গুণ বেশি দাম দিয়ে পর্যন্ত কিনছেন।

‘৮০ এর দশকের শুরুর দিকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর দেশ থেকে পালিয়ে আসা ডেভিড ট্রান যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে তার স্বাদের উপযোগী কোনও হট সস না পেয়ে নিজেই একটি হট সস তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন, স্থানীয় তাজা উপকরণ ব্যবহার করে। সসটির নাম তিনি রেখেছিলেন থাইল্যান্ডের সি রাচা নামক একটি উপকূলীয় শহরের নামে যেখানে তিনি প্রথমবারের মতো এমন একটি চিলি সসের স্বাদ পেয়েছিলেন। প্রথমে ছোট ছোট ব্যাচে উৎপাদিত এবং স্থানীয় এশীয় রেস্তোরাঁ ও বাজারে বিক্রি করা হলেও, এর অন্যরকম স্বাদ ও ঝালের কারণে সসটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অনেক সেলিব্রিটি সসটির প্রশংসা করায় সসটির জনপ্রিয়তা বেড়ে যায় অনেক বেশি।

সিরাচার বৈশিষ্ট্য ও জনপ্রিয়তার মুলে আছে এর ঝাল এবং স্বাদের নিখুঁত ভারসাম্য, যা ডিম, নুডলস থেকে শুরু করে পিজ্জা এবং বার্গারের মতো প্রায় যেকোনো খাবারের সাথে লাগসই। আইকনিক স্বচ্ছ বোতল, সবুজ ঢাকনা এবং মোরগের লোগো সহজেই চেনা যায়, যা সিরাচাকে খাদ্যাভ্যাসের সাংস্কৃতিক সীমা অতিক্রম করতে সাহায্য করেছে। অন্যান্য অনেক হট সসের তুলনায় সিরাচা ঘন পেস্টের মতো, যা রাঁধুনি এবং গৃহস্থালির রাঁধুনিদের মধ্যে প্রিয়। ২০০০ এর শুরুর দিকে সিরাচা আমেরিকান রান্নাঘর এবং রেস্তোরাঁগুলোতে শক্তভাবে অবস্থান করে নেয়, মশলাদার খাবারপ্রেমীদের কাছে একটি উঁচু মানের সসের প্রতীক হয়ে ওঠে।

সিরাচার চলমান এই ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃষির চ্যালেঞ্জগুলি মরিচ উৎপাদনকে ক্রমাগত প্রভাবিত করছে। হুই ফং ফুডস চাহিদা পূরণ করতে না পারার কারণে হতাশা প্রকাশ করে গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়েছে। এদিকে, সিরাচার ভক্তরা বিকল্প খুঁজছেন বা তাদের অবশিষ্ট বোতলগুলো বাঁচিয়ে রাখছেন। এই ঘাটতি খাদ্য উৎপাদনের পরিবেশগত ঝুঁকিকে সামনে নিয়ে এসেছে এবং ভোক্তাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে এমনকি সবচেয়ে সাধারণ কনডিমেন্টের পেছনেও কত জটিল বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা কাজ করে।


নাসরুল্লাহ ও আলী কারাকিসহ ১৮ জনের পদ ও নাম উল্লেখ করে , সবাইকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) এ নিহত হিজবুল্লাহ’র চেইন অব কম্যান্ডের একটি ডায়াগ্রাম পোস্ট করেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।সেখানে নাসরুল্লাহ ও হিজবুল্লাহ’র দক্ষিণাঞ্চলীয় ফ্রন্টের প্রধান আলী কারাকিসহ ১৮ জনের পদ ও নাম উল্লেখ করে, তাদের সবাইকে ‘ইলিমিনেটেড’ বা ‘হত্যা‘ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইসরায়লের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ আরেকটি পোস্টে শীর্ষ ১১ হিজবুল্লাহ নেতার তালিকা প্রকাশ করে, যাদের মধ্যে ১০ জনকে হত্যার দাবি করেছে তারা। আইডিএফের তালিকার সঙ্গে তাঁদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত তালিকায় থাকা হিজবুল্লাহ নেতাদের নাম ও পদের সাদৃশ্য রয়েছে। তবে তাদের তালিকায়, আরও দুজন – হিজবুল্লাহর রকেট ও মিসাইল ফোর্সের কমান্ডার ইব্রাহিম মোহাম্মদ কাবাসি ও এরিয়াল কম্যান্ডের প্রধান হুসেইন সুরুরের নাম উল্লেখ করা হয়। ইসরায়েলি হামলায় তারা দুজনেই নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।- হারেৎজ রিপোর্ট

জাতিসংঘে ড. ইউনূসের “তিন শূন্য ” অর্জনের প্রস্তাব

‘টেকসই সংস্কারের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র, সুশাসন ও সমৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে। গণতন্ত্রের নতুন যাত্রায় বিশ্বকে পাশে চায় বাংলাদেশ।‘- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৭৯তম অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ড. ইউনূসের ‘তিন শূন্য’ অর্জনের প্রস্তাব।

‘জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে যে যুগান্তকারী পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই আজ আমি বিশ্ব সম্প্রদায়ের এ মহান সংসদে উপস্থিত হতে পেরেছি। আমাদের গণমানুষের, বিশেষ করে তরুণ সমাজের অফুরান শক্তি আমাদের বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল রূপান্তরের এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।’ ড. ইউনূস বলেন- ছাত্র ও যুবসমাজের আন্দোলন প্রথম দিকে মূলত ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। পর্যায়ক্রমে তা গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। এরপর সারা পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে দেখেছে কীভাবে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ একনায়কতন্ত্র, নিপীড়ন, বৈষম্য, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজপথ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিল। তিনি বলেন- এই সম্মিলিত সংকল্পের মধ্যেই দেশের ভবিষ্যৎ নিহিত, যা বাংলাদেশকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মাঝে একটি দায়িত্বশীল জাতির মর্যাদায় উন্নীত করবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন- এই গণ আন্দোলন রাজনৈতিক অধিকার ও উন্নয়নের সুবিধাবঞ্চিত বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। জনগণ একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, যার জন্য নতুন প্রজন্ম জীবন উৎসর্গ করেছিল। আমাদের মায়েরা, দিনমজুরেরা ও শহরের অগণিত মানুষ তাদের সন্তানদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেমেছিল রাজপথে। ড. ইউনূস বলেন- উদারনীতি, বহুত্ববাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর মানুষের গভীর বিশ্বাস থেকেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হয়। ১৯৭১ সালে যে মূল্যবোধকে বুকে ধারণ করে আমাদের গণমানুষ যুদ্ধ করেছিল, সেই মূল্যবোধকে বহু বছর পর আমাদের “জেনারেশন জি” নতুনভাবে দেখতে শিখিয়েছে। এ রকমটি আমরা দেখেছিলাম ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বাংলাকে মাতৃভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সময়েও। বাংলাদেশের এই অভ্যুত্থান আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষকে মুক্তি ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াতে প্রেরণা জুগিয়ে যাবে।

বিশ্ব সম্প্রদায়কে নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে নতুনভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন- আমরা মানুষের মৌলিক অধিকারকে সমুন্নত ও সুরক্ষিত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের দেশের মানুষ মুক্তভাবে কথা বলবে, ভয়ভীতি ছাড়া সমাবেশ করবে, তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে-এটাই আমাদের লক্ষ্য। রাষ্ট্রব্যবস্থার সকল পর্যায়ে … সুশাসন ফিরিয়ে আনাই আমাদের অভীষ্ট।মানুষের আস্থা ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে এবং নির্মম অতীত যেন আর ফিরে না আসে, সে জন্য অন্তর্বর্তী সরকার কিছু সুনির্দিষ্ট খাতে সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে ড. ইউনুস উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সেই লক্ষ্যে বিদ্যমান নির্বাচনব্যবস্থা, সংবিধান, বিচারব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলাব্যবস্থা সংস্কারে স্বাধীন কমিশন গঠন করা হয়েছে। সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের সংস্কারের জন্যও পৃথক কমিশনসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে কমিশন গঠন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গণতান্ত্রিক উত্তরণে সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন- এসব সংস্কার যেন টেকসই হয়, তা দীর্ঘ মেয়াদে নিশ্চিত করতে এবং অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সমতা ও সমৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ হিসেবে আত্মপ্রকাশের অভিপ্রায় বাস্তবায়নে ড. ইউনূস বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সহযোগিতা ব্যাপকতর ও গভীরতর করার আহ্বান জানান। ব্যবসা-বাণিজ্যে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো বিদেশি ব্যবসা বা বিনিয়োগ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতেও বাংলাদেশ বদ্ধপরিকর। ড. ইউনূস অবৈধ অর্থের প্রবাহ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে সম্পদের পাচার বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এ জন্য তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে পাচার হয়ে যাওয়া সম্পদ ফেরত আনার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের কথা বলেন।

বৈশ্বিক পরিসরে জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি সুসংহতকরণে যুগপৎভাবে কাজ করার তাগিদ দেন ড. ইউনূস। এই প্রেক্ষাপটে তিনি ‘তিন শূন্য’র লক্ষ্য অর্জনের প্রস্তাব দেন। ড. ইউনূস বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ অর্জন করতে পারি। যেখানে পৃথিবীর প্রত্যেক তরুণ-তরুণী চাকরিপ্রার্থী না হয়ে বরং উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পাবে। তারা যেন সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নিজ নিজ সৃজনশীলতার বিকাশ করতে পারে, যেখানে একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ সামাজিক সুফল, অর্থনৈতিক মুনাফা এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীলতার মধ্যে একটি চমৎকার ভারসাম্য আনতে মনোযোগী হতে পারে, যেখানে সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তি ভোগবাদী জীবনধারা থেকে উত্তরণ করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সৃজনশীল শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।’

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে সৃষ্ট রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশ ও এ অঞ্চলের জন্য প্রথাগত ও অপ্রথাগত উভয় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সহায়তা করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালু রাখা এবং তাদের টেকসই প্রত্যাবাসন করার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পর্যাপ্ত সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাই। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সংঘটিত হওয়া ব্যাপকভিত্তিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে চলমান বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’

ড. ইউনূস বলেন, বিশ্ববাসীর উদ্বেগ এবং নিন্দা সত্ত্বেও গাজায় গণহত্যা থামছে না। ফিলিস্তিনের বিদ্যমান বাস্তবতা কেবল আরব কিংবা মুসলমানদের জন্যই উদ্বেগজনক নয়, বরং তা সমগ্র মানবজাতির জন্যই উদ্বেগের। ড. ইউনূস বলেন, ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর চলমান নৃশংসতা, বিশেষত নারী ও শিশুদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যে নিষ্ঠুরতা বিশ্ব দেখছে, তা থেকে নিস্তারের জন্য বাংলাদেশ অনতিবিলম্বে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছে। দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি আনতে পারবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এ বছর আমরা জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্বের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। গত ৫০ বছর ছিল আমাদের জন্য একটি পারস্পরিক শিক্ষণীয়, সম্মিলিত যাত্রা। সীমিত উপায়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, ন্যায়, সমতা, মানবাধিকার, সামাজিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিতে ধারাবাহিকভাবে অবদান রেখে আসছে। আমাদের সমন্বিত প্রয়াস সত্যিকার অর্থে একটি নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।’

এই যে লোকটাকে মনে প্রাণে চেয়েছি, সেই লোকটা গিয়ে জড়াই ধরল একটা লোককে, সেই লোকটা কিন্তু “খুনি”, যার আপাদমস্তক প্যালেস্টাইনের বাচ্চাদের খুনে রঞ্জিত। – কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আলিঙ্গনের ঘটনায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন কবি, দার্শনিক ও রাষ্ট্র চিন্তক ফরহাদ মজহার। তার মতে, এটা বাংলাদেশের জনগণকে ‘অপমান করা’। কেন এই ঘটনাটি পছন্দ হয়নি, এই ব্যাখ্যায় মজহার বলেন- ‘উনাকে (বাইডেন) আমেরিকাতে বলা হয়, ‘জেনোসাইড জো’। … উনি গণহত্যাকারী। একটা লোক যার কাছে প্যালেস্টাইনের জনগণের রক্ত লেগে আছে।‘

‘আপনি যদি ডিপ্লোমেসি করতে যাইতেন, আপনি হাত মিলাইতে পারতেন অসুবিধা নাই, আমরা দুর্বল দেশ। কিন্তু আপনি (ইউনুস) তারে বুকে জড়াই ধরলেন রে ভাই। এক ‘খুনি’কে। সারা দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ ‘খুনি’, তাকে আপনি বুকে জড়াই ধরছেন। তাহলে এই যে একটা লোককে মনেপ্রাণে চেয়েছি, সেই লোকটা গিয়ে জড়াই ধরল একটা লোককে, যেই লোকটা কিন্তু ‘খুনি’, যার আপাদমস্তক প্যালেস্টাইনের বাচ্চাদের খুনে রঞ্জিত। বাইডেন সাহেব কিন্তু শূন্য, জিরো, উনার কোনো মূল্য নাই। আসল লোক কমলা হ্যারিস। উনি (বাইডেন) ইলেকশনও করতে পারেন নাই কিন্তু। ফরহাদ মজহার শুক্রবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে ‘চট্টগ্রাম বন্দরের বাস্তবতা ও সংস্কার’ আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন।

“এটা কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল।অনেক কষ্ট করে অনেক পরিশ্রম করে শেখ হাসিনা নিজের পতন ডেকে এনেছেন।”-আনু মুহাম্মদ

‘এটা কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল। অনেক কষ্ট করে, অনেক পরিশ্রম করে শেখ হাসিনা নিজের পতন ডেকে এনেছেন। এত কম সময়ে এত নৃশংসভাবে নিহত মুক্তিযুদ্ধের পরে আর হয়নি। এমন অবস্থা করলেন সকল মানুষ এতে শামিল হলেন।‘- আনু মুহাম্মদ

‘২৪-এর ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের কোনো প্রস্তুতি ছিল না। এটা সরকার বিরোধী আন্দোলন ছিল না। এটা কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল। অনেক কষ্ট করে, অনেক পরিশ্রম করে শেখ হাসিনা নিজের পতন ডেকে এনেছেন। এত কম সময়ে এত নুশংসভাবে নিহত মুক্তিযুদ্ধের পরে আর হয়নি। ইতিহাসেও কম পাওয়া যাবে। এমন অবস্থা করলেন সকল মানুষ এতে শামিল হলেন। একপর্যায়ে বলল শেখ হাসিনার ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। তার পতন হলো। এরপর কী হবে সেটা বড় ধরনের সমস্যা। এখানে গণতন্ত্র আসলে পাহাড়ে কিন্তু গণতন্ত্র আসবে না। একই রকম সামরিক শাসন থাকবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম সমাধান করতে হবে। সমতল ও পাহাড়ের বৈষম্য একটি আলোচনার মধ্যে আসতে হবে সমাধানের জন্য। কয়েকদিন আগেও অশান্তি হয়েছে সেখানে।‘

‘আরেকটি হচ্ছে ধর্মীয় বৈষম্য। অন্য ধর্মীয় যারা আছে তারা কেন নিরাপত্তাহীনবোধ করবে, এর থেকে মুক্তির জায়গা এ সরকারের বড় দায়িত্ব। এখন পর্যন্ত চেষ্টা দেখতে পাচ্ছি না। এখন নারী পুরুষ লিঙ্গিয় বৈষম্য– গণতান্ত্রিক পরিবেশে একজনের পরিচয়, কী পোশাক পরলো, তার ধর্ম জাতিগত বিশ্বাসের কারণে যদি আক্রমণ হয় তাহলে আরেকটা ফ্যাসিবাদের লক্ষ্মণ। এক ফ্যাসিবাদ থেকে অনেকগুলো ফ্যাসিবাদের হাতে পড়ি তাহলে তো হবে না। মেয়েদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে, সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। শ্রেণি, জাতি, লিঙ্গ এবং ধর্মীয় বৈষম্য দূরীকরণে বড় ধরনের আলোচনায় যেতে হবে। এবং সেটার জন্য রূপকল্প আনতে হবে।‘- শনিবার বিকেলে রাজধানীর কাঁটাবন পাঠক সমাবেশে ‘সংকটে গণতন্ত্র: সামরিক শাসনোত্তর বেসামরিক শাসনের সমস্যা’ বইয়ের আলোচনায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

নিরাপত্তা পরিষদের স্হায়ী সদস্য পদে ভারতকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন

‘আমরা চাই কাউন্সিলে আফ্রিকা থেকে স্থায়ী সদস্য অন্তর্ভুক্ত হোক। পাশাপাশি ব্রাজিল, ভারত, জাপান ও জার্মানিকেও স্থায়ী সদস্য করা উচিত। সঙ্গে নির্বাচিত সদস্যদের জন্য আসনও বাড়ানো প্রয়োজন।‘- কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতকে স্থায়ী সদস্য পদ দেওয়ার পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ফ্রান্সের ইমানুয়েল মাখোঁ একই ধরনের যুক্তি দেন। নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচ স্থায়ী সদস্য ও ১০ অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে। অস্থায়ী সদস্যরা নিজ নিজ অঞ্চল থেকে দুই বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হয়। স্থায়ী সদস্য দেশ রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদের যেকোনো সিদ্ধান্তে ভেটো দিতে পারে। বেশ কয়েক দশক ধরে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য পদের দাবি জানিয়ে এসেছে ভারত। নয়াদিল্লির দাবি, ১৯৪৫ সালে গঠিত ১৫ জাতির কাউন্সিল যুগের চাহিদা মেটাতে যথেষ্ঠ নয়। ২১ শতকের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন নেই এই সংগঠনে।

দেশের আসল সমস্যা শ্রেণি ব্যবধান।সম্পদের ক্ষেত্রে যদি সমতা প্রবৃদ্ধি করা না হয় তাহলে শুধু ভোটাধিকার দিয়ে তেমন কিছুরই পরিবর্তন ঘটানো যায় না।বড় লোকেরা শুধু নির্বাচিত হতে পারে । আর গরিবদের কাজ শুধু এই পক্ষকেভোট দাও, নয়তো অন্য পক্ষকে ভোটদাও!-সলিমুল্লাহ খান

‘দেশে এখন প্রধানমন্ত্রী শাসিত নাকি রাষ্ট্রপতি শাসিত গনতন্ত্র, সেনাবাহিনী কার অধীনে থাকলে ভালো হবে, দেশকে দশ প্রদেশে ভাগ করলে ভালো হবে কিনা এমন আলোচনা চলছে। মনে হচ্ছে সব সমস্যা আমাদের সংবিধানে। সমস্যা সেখানে না। আমাদের সকলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সমান সুযোগ ছাড়া অধিকারের কথা বলা অর্থহীন। শিক্ষা অর্জন করতে গেলে যদি টাকার বিষয় দাঁড়ায় তাহলে শিক্ষা অধিকার হলো কিভাবে? স্কুলে পড়ার ক্ষেত্রে, হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে, রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে, গণযোগাযোগ, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সব ক্ষেত্রে সম অধিকার প্রতিষ্ঠা করা গেলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলা যাবে।।‘

‘আমাদের দেশে নতুন করে যেভাবে গণতন্ত্রের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তা রক্ষা করতে হলে আমাদের ঘরে বসে থাকলে চলবে না। তা না হলে যেকোনো মুহূর্তে এটি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। আমাদের মূল দাবি হবে সবার জন্য সমান অধিকার। প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে যদি সমতা প্রতিষ্ঠা করা না হয় তাহলে শুধু ভোটাধিকার দিয়ে তেমন কিছুরই পরিবর্তন ঘটানো যায় না। আমরা সমাজেও তাই দেখতে পাই। বড় লোকেরা শুধু নির্বাচিত হতে পারে। আর গরিবদের কাজ শুধু এই পক্ষকে ভোট দেও, নয়তো অন্য পক্ষকে ভোট দেও। গণতন্ত্রের ধারণাকে যদি ভোটের অধিকার থেকে সরিয়ে আনি তাহলে সবাইকে সমান সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। সর্বশেষ যে আন্দোলন হলো সেটাও গণতন্ত্রের একটি উদাহরণ।‘ ২৭ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরে সাহিত্য আন্দোলন ‘ধাবমান’ আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক বিপ্লবে জাতীয় সংবিধানের রূপরেখা’ আলোচনায় ড. সলিমুল্লাহ খান এসব কথা বলেন।

বিলবোর্ডে ১৯ নম্বরে BTS

২১ শতকের প্রথম কোয়ার্টার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, বিলবোর্ড গত ২৫ বছরের সেরা পপ তারকাদের একটা তালিকা করছে যাতে ১৯ তম স্থান দেয়া হয়েছে বিটিএসকে। তাদের নজিরবিহীন সাফল্য ও প্রভাবের জন্য এই স্বীকৃতি । দক্ষিণ কোরিয়ার এই সাত সদস্যের দল k-pop কে অন্যরকম এক বৈশ্বিক উচ্চতায় নিয়ে গেছে – ভক্তদের কাছে তাদের জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে এক অনন্য উদাহরণ । গত দশকে সংগীত এবং সংস্কৃতির উপর তাদের বিশাল প্রভাবের জন্য বিলবোর্ড বিটিএসকে শীর্ষ পপ অ্যাক্টগুলির মধ্যে একটা হিসেবে স্বীকৃতি দিলো।

বিটিএস-এর সাত সদস্য-আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি এবং জং কুক– এদের সবারই বহুমুখী প্রতিভা। তারা গাইতে পারেন, নাচতে পারেন, স্টেজে দারুন পারফর্ম করেন। বিটিএস পপ গ্রুপের প্রথা ভেঙ্গে তাদের গানে ভালবাসা এবং সংযোগের কথা বলে। এই ইতিবাচকতাই গড়ে তুলেছে তাদের ঈর্ষণীয় খ্যাতি। ২০১৩ সালে বিগ হিট এন্টারটেইনমেন্টের অধীনে তাদের 2 Cool 4 Skool ইপি দিয়ে বিটিএস আত্মপ্রকাশ করে এবং তারপর থেকে তারা বিশ্বব্যাপী দারুন সাফল্য অর্জন করেছে। দলটির সদস্যরা একক ক্যারিয়ারেও পেয়েছেন সাফল্য। বৈশ্বিক সঙ্গীতঅঙ্গনে তাদের প্রভাবকে বিটলসের সঙ্গে তুলনা করা হয়, বিশেষ করে ভক্তদের উন্মাদনী এবং চার্টের শীর্ষে থাকার ক্ষেত্রে।

অথচ বিটিএস-এর যাত্রা সহজ ছিল না। প্রথমদিকে, K-pop মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির লোকজনের কাছ থেকেই পেয়েছিলেন অনেক বাধা। তবে, তারা ব্লগিং এবং অন্যান্য অপ্রচলিত পদ্ধতি ব্যবহার করে ভক্তদের সঙ্গে একটি বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। এই ব্যক্তিগত সম্পর্ক, যা সাধারণ কেপপ মানদণ্ড থেকে অনেকটাই ভিন্ন, বিটিএসকে তাদের ভক্তদের সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করেছে। যদিও আন্তর্জাতিকভাবে সফল প্রথম কেপপ দল নয়, বিটিএসের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং প্রতিভা তাদের অন্যদের থেকে আলাদা করেছে এবং মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের উত্তরাধিকারকে স্থায়ীত্ব দিয়েছে।