Home Blog Page 188

ফোকাস – কেন জরুরী কিভাবে জরুরী !

লক্ষ্য নির্ধারণে ফোকাস এবং সেগুলো অর্জনের জন্য নিজেকে সময় দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটা আপনার ক্যারিয়ার, শিক্ষা বা ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কিত যেকোনো পরিকল্পনাই হোক। যদি আপনার পরিস্থিতি সম্প্রতি পরিবর্তিত হয়ে থাকে বা যদি হয়ে থাকে আপনি নতুন প্রেরণা খুঁজছেন তবে নিচে দেওয়া গাইডটি পাঁচটি কারণ তুলে ধরবে কেন আপনাকে আপনার ব্যক্তিগত উন্নয়নে মনোযোগ দিতে হবে এবং এটি কিভাবে আপনার সার্বিক সুখ ও সুস্থতার ওপর কীভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আপনার দক্ষতা এবং শক্তি উন্নত করতে – প্রথমত ব্যক্তিগত উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার দক্ষতা উন্নত করতে পারবেন এবং পাশাপাশি আপনার শক্তি ও দুর্বলতার ওপরও কাজ করতে পারবেন। এটি বিভিন্ন উপায়ে করা সম্ভব। যেমন কাজের মধ্যে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ, আপনার নেটওয়ার্ক প্রসারিত করা বা অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করা। একটি ব্যক্তিগত উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে সাহায্য করার জন্য, আপনার শক্তি এবং দুর্বলতার একটি তালিকা তৈরি করুন এবং আপনি যেসব দক্ষতা আরও উন্নত করতে চান বা নতুন দক্ষতা শিখতে চান তা নোট করুন। এটি আপনাকে যে পদক্ষেপগুলি নিতে হবে এবং যে লক্ষ্যগুলি আপনি নির্ধারণ করবেন তা চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে। মনে রাখবেন, এটি শুধুমাত্র ক্যারিয়ারের জন্য কঠিন দক্ষতার ব্যাপার নয় বরং ব্যক্তিগত জীবনে আরও কার্যকরভাবে যোগাযোগ করার মতো নরম দক্ষতাও হতে পারে।

ক্যারিয়ারের সুযোগ বৃদ্ধি – আপনার ব্যক্তিগত উন্নয়ন পেশাগত অগ্রগতির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। যদি আপনি শেখাকে অগ্রাধিকার দেন, আপনার দক্ষতা শক্তিশালী করেন এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন, তবে আপনি প্রমাণ করতে পারবেন আপনি উদ্যমী ও অনুপ্রাণিত। বেশিরভাগ নিয়োগকর্তা এমন কর্মী খোঁজেন যারা শিখতে ইচ্ছুক। তাই আপনার ব্যক্তিগত এবং পেশাগত উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া একটি চমৎকার উপায় প্রমাণ করার, যে আপনি আপনার ক্যারিয়ারে সবসময় অগ্রসর হতে চান।

কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে আসা – বলা হয়ে থাকে জীবনের শুরু হয় কমফোর্ট জোনের বাইরে। আপনার ব্যক্তিগত উন্নয়নে কাজ করার মাধ্যমে আপনি নতুন কিছু চেষ্টা করার সাহস পাবেন। যদিও আমাদের কমফোর্ট জোনেরও অনেক প্রয়োজনীয়তা আছে। তবে অনেক সময় আমাদের অনেক সময় কমফোর্ট জোন পিছনে টেনে ধরে এবং নতুন সুযোগ গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে। এই কারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি আপনার কমফোর্ট জোনের বাইরে লক্ষ্য স্থির করুন। যদিও এটি অর্জন করতে সময় বেশি লাগতে পারে কিন্তু একবার সফল হলে আপনি নিজের প্রতি গর্বিত হবেন। আপনি এমন কিছু করতে পারবেন যা আগে কখনো ভাবেননি। এটি আপনার জীবন এবং ক্যারিয়ারে অগ্রগতি ও বৃদ্ধি অর্জনের একটি অসাধারণ উপায়।

নিজের সেরা সংস্করণ হয়ে ওঠা – সত্যিকার অর্থে আমরা সবাই আমাদের ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য দায়ী। কেউ আমাদের শেখাতে বা নতুন কিছু করতে বাধ্য করতে পারে না। তাই আমাদের উচিত সত্যিকারভাবে আত্মউন্নতির দিকে ফোকাস দেওয়া। নাহলে আমরা একঘেয়েমির মধ্যে আটকে যেতে পারি, একমাত্র আমরা নিজেই আমাদের এই পরিস্থিতি থেকে বের করতে পারি।

আত্মবিশ্বাস বাড়ানো – প্রতিটি লক্ষ্য অর্জন করার সময়, তা যত বড় হোক বা ছোট, আপনি সবসময় একরকম বিশাল অর্জনের অনুভূতি পাবেন। এর মাধ্যমে আপনি নিজেই প্রমাণ করবেন যে আপনি যা চান তা করতে পারেন এবং এটি আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। কখনও কখনও আমরা নিজেদের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠি আমাদের ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ করি। অবশেষে ফোকাস আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি আপনার জীবনের যেসব দিক নিয়ে কম আত্মবিশ্বাসী, সেগুলিতে কাজ করুন। কারণ এগুলি উন্নত করতে পারলে আপনার জীবনের সম্ভাবনা পূর্ণতা লাভ করবে।


নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই চীন

সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় চীনের অগ্রগতি বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। একইসঙ্গে দেশটি বায়োটেক শিল্পেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। এতদিন চীন মূলত জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন, ওষুধের কাঁচামাল সরবরাহ ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। তবে এখন দেশটির ওষুধ উৎপাদনকারীরা সাশ্রয়ী প্রতিযোগিতামূলক ওষুধ তৈরির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। বর্তমানে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই চীনের অবস্থান। এর ফলে পশ্চিমা ওষুধ প্রস্তুতকারকরা ক্রমেই চীনের দিকে ঝুঁকছে।

পেটেন্ট মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা ২০৩০ সাল নাগাদ ওষুধ বিক্রিতে বছরে প্রায় ১৪০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান এলইকে-র এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওই সময়কালে পশ্চিমা ওষুধ উৎপাদনকারীদের চীনের ওষুধ লাইসেন্স নেওয়ার পরিমাণ ১৫ গুণ বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। গত বছর পশ্চিমা ওষুধ প্রস্তুতকারকরা যতগুলো বড় (৫০ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি) লাইসেন্সিং চুক্তি করেছে, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই হয়েছে চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে, যা ২০২০ সালের চেয়ে তিনগুণ বেশি। চীনের সরকার প্রায় দুই দশক আগে বায়োটেক শিল্পকে কৌশলগত অগ্রাধিকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ২০১৫ সালে দেশটির জাতীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বড় ধরনের সংস্কার শুরু করলে এই খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়।

এছাড়া কর্তৃপক্ষ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সহজ করে; উদ্যোগ নেয় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করার। পিকিং ইউনিভার্সিটির গবেষক ইমিন চুই-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই সংস্কারের ফলে কোনো ওষুধ মানবদেহে পরীক্ষার প্রথম ধাপের অনুমোদনের সময় ৫০১ দিন থেকে কমে মাত্র ৮৭ দিনে নেমে আসে। এই সময়েই ‘সি টার্টলস’ নামে পরিচিত একদল চীনা বিজ্ঞানী, যারা বিদেশে গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন, দেশে ফিরে আসেন এবং নতুন উদ্ভাবনে মনোযোগ দেন। চীনের বিশাল বাজারও বায়োটেক শিল্পের বিকাশে বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০১৬ সালে বেসরকারি খাতে চীনের বায়োটেক খাতে বিনিয়োেগ যেখানে মাত্র ১ বিলিয়ন ডলার ছিল, ২০২১ সালে তা বেড়ে ১৩.৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

পর্যাপ্ত মেধা ও অর্থায়নের ফলে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো আর শুধু পশ্চিমা ওষুধের অনুলিপি তৈরি করছে না। তারা এখন ‘ফাস্ট-ফলোয়ার’ কৌশল নিয়েছে-অর্থাৎ বিদ্যমান ওষুধের উন্নত ও আরও নিরাপদ সংস্করণ তৈরি করছে। চীনের উদ্ভাবন যতই চমকপ্রদ হোক, দেশটি এখন বিশ্ব রাজনীতির জটিল বাস্তবতায় পড়েছে। আমেরিকার সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের দাম তুলনামূলকভাবে কম নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় দেশটি চীনা বায়োটেক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় আয়ের উৎস। যদিও হাইটেক খাতে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তবে চীনা বায়োটেক খাত এখন পর্যন্ত সেই ঝুঁকির বাইরে। তবে ইতিমধ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পরীক্ষামূলক ওষুধের জন্য মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বীদের চাইতে কম মূল্যে লাইসেন্সিং চুক্তি করতে বাধ্য হচ্ছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে সন্দিহান।


বাংলাদেশে স্টারলিঙ্ক প্রযুক্তির সম্ভাবনা , চ্যালেঞ্জ

স্টারলিঙ্ক স্পেস এক্সের একটি স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এই সেবা সাধারণত গ্রামীণ ও দূরবর্তী অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এক বিপ্লবী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।যদিও ভারতের বাজারে এখনও স্টারলিঙ্ক পৌঁছানোর বিষয়টি মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। তবে বাংলাদেশে এটি আসন্ন পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। স্টারলিঙ্ক পৃথিবী থেকে ৩৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কাজ করে। এই স্যাটেলাইটগুলো একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে ইন্টারনেট সংযোগ সরবরাহ করে। এর মাধ্যমে এমন অঞ্চলেও দ্রুত ইন্টারনেট পৌঁছানো সম্ভব যেখানে সাধারণ ক্যাবল বা মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছাতে অসুবিধা হয়।

এই প্রযুক্তি গ্রামীণ ও শহরের বাইরের এলাকাগুলোর জন্য বিশেষভাবে উপকারী। বাংলাদেশে যেখানে ইন্টারনেটের যোগসূত্র অনেকসময় খারাপ, স্টারলিঙ্ক সেখানকার মানুষের জন্য আস্থা এনে দিতে পারে। বাংলাদেশে স্টারলিঙ্ক আসছে এবং এর সুবিধা সম্পর্কে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই সেবা নিয়ে কিছু সমালোচনা রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন এটি দেশের বিদ্যমান ইন্টারনেট বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি করবে না বা সব মানুষের জন্য এটি সাশ্রয়ী হবে না। এছাড়া স্টারলিঙ্কের ইন্টারনেট স্পিড এবং কভারেজ নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠছে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এর দীর্ঘমেয়াদী সুফল নিয়ে আশাবাদী।

যেহেতু স্টারলিঙ্ক ইন্টারনেটের গতি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি নতুন দিশা দিতে পারে তাই এটি বাংলাদেশে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।স্টারলিঙ্কের লাভজনক দিকগুলো হলো – গ্রামীণ ইন্টারনেট সমস্যার সমাধান হবে। অনেক গ্রামীণ এলাকায় এখনও ইন্টারনেট সেবা নেই বা খুব ধীরগতি রয়েছে। স্টারলিঙ্কের মাধ্যমে এসব এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছানো সম্ভব। শিক্ষার্থী ও পেশাজীবিদের জন্য দ্রুত ইন্টারনেট যোগাযোগ এবং ক্লাউডভিত্তিক শিক্ষণ এবং কাজের সুযোগ তৈরি করবে।

ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল পণ্য বিক্রি এবং ক্লাউডভিত্তিক সেবা চালাতে পারবেন, যা অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যেখানে ৪জি বা ৫জি পরিষেবা পৌঁছানো সম্ভব নয় সেখানে স্টারলিঙ্ক একটি কার্যকরী বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে স্টারলিঙ্কের সেবা গ্রহণের জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একদিকে যেমন এটি সহজে উপলব্ধ হবে না, অন্যদিকে এর পরিষেবার মূল্যও কিছুটা বেশি হতে পারে। প্রথমদিকে কিছু ব্যবহারকারীর জন্য সেবা স্থিতিশীল নাও হতে পারে।

ভারতে ব্যবসা চালু করতে আগ্রহী স্টারলিঙ্ক। তবে তার আগেই ইলন মাস্কের সংস্থা সমস্যায় পড়তে পারে ভারতে। উল্লেখ্য কয়েকদিন আগেই মণিপুরে ‘স্টারলিঙ্ক’ লেখা একটি রাউটার উদ্ধার হয়েছিল জঙ্গিদের কাছ থেকে। তবে সেই তথ্য সামনে আসতেই মাস্ক দাবি করেছিলেন ভারতে স্টারলিঙ্কের ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হয়নি। এর আগে আন্দামান সাগরেও পাচারকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছিল স্টারলিঙ্কের ডিভাইস। এই আবহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং টেলি যোগাযোগ মন্ত্রণালয় নড়েচড়ে বসেছে। এরই মাঝে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে স্টারলিঙ্কের অবস্থানে। স্টারলিঙ্ক বাংলাদেশে আসলে এটি অনেক নতুন সুযোগ এনে দিতে পারে। যদিও কিছু চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনা রয়েছে। তবে এর মাধ্যমে গ্রামীণ অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছানো, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে বাংলাদেশের জন্য স্টারলিঙ্ক কতটা উপকারী হতে পারে তা নির্ভর করবে বাজারের চাহিদার ওপর।



মধ্যম আয় ও ঋণের ফাঁদে পড়েছে বাংলাদেশ

গতকাল ঢাকায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) অষ্টম বার্ষিক সম্মেলনে অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন – ‘এরই মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়ে গেছি। এখানকার বিনিয়োগ থমকে আছে। রফতানিও একই অবস্থা। মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। বৈদেশিক আয়ের চেয়ে ঋণ বাড়ছে। একইভাবে রাজস্ব আয়ের তুলনায় স্থানীয় ঋণ বড় হচ্ছে। বিগত সময়ে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হলেও তার সঙ্গে কর্মসংস্থান বাড়েনি। কিছু ক্ষেত্রে বরং কমেছে। আমাদের পরিসংখ্যানের মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল।’

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন – ‘আমরা ঋণের ফাঁদেও আটকে পড়েছি। বড় বড় প্রকল্পের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হচ্ছে। এখন আসল পরিশোধের সময় এসেছে। ২০২৬ সাল থেকেই রূপপুর প্রকল্পের আসল পরিশোধ করতে হবে। এটা প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প।আমরা রফতানি আয় বেশি দেখাতাম। ভর্তুকি থেকে এখন উৎপাদন সক্ষমতার দিকে যেতে হবে আমাদের।’

যুক্তি ও সত্যের ধাঁধা

যুক্তি এবং সত্যের সম্পর্ক যতটা সহজ মনে হয় ততটা সরল নয়। সত্য এবং যুক্তি একে অপরকে পূর্ণতা দেয় কিন্তু তাদের মধ্যে যে সম্পর্ক তা বোঝা অনেকটা খেলা বা ধাঁধার মতো। তাহলে, আসুন আমরা তাদের সম্পর্কের গভীরে একটু চুঁ মারি, এবং কিছু মজার ধাঁধা দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করি! যুক্তি কি ? যুক্তি হল একটি সিস্টেম বা পদ্ধতি যা বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে এবং সেই সম্পর্কের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় নিয়ে যায়। সহজ ভাষায় যুক্তি হল এমন এক প্রক্রিয়া যা আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত যুক্তি নিতে সহায়তা করে। যেন আমরা সঠিক পথে এগিয়ে যেতে পারি। যুক্তি নিজেই নীতিগতভাবে সঠিক থাকতে পারে। কিন্তু যদি ঢ়ৎবসরংব বা প্রাথমিক ধারনা ভুল থাকে, তাহলে উপসংহারও ভুল হতে পারে।

সত্য কি?
সত্য এমন কিছু যা বাস্তবতা বা বাস্তব জ্ঞানের সাথে মিলে যায়। এটি অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী বা উপলব্ধি অনুযায়ী সঠিক। কিন্তু সমস্যা হলো কখনও কখনও আমরা সত্যের প্রতি আমাদের মনোভাব বা ব্যাখ্যা তৈরি করি। যা অনেক সময় বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একটি চমৎকার উদাহরণ দেখা যাক: আপনি যদি বলেন “চাঁদ রাতের আকাশে সোনালি রং ধারণ করে”, এটি আপনার বিশ্বাস বা অনুভূতি হতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে চাঁদ কখনও সোনালি রং ধারণ করতে পারেনা। আপনিও জানেন এটি ভুল। তবুও আপনি সেটি বিশ্বাস করতে আনন্দ পান।

যুক্তি এবং সত্যের সম্পর্ক যুক্তি এবং সত্য অবশ্যই একে অপরকে পরিপূরক করে। যুক্তি আমাদের সত্যের পথে নিয়ে যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের ঢ়ৎবসরংব বা ভিত্তি সঠিক থাকা। আর যদি আমাদের ভিত্তি ভুল হয় তাহলে যুক্তি যতই শক্তিশালী হোক না কেন তা সত্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ধরা যাক আপনি একটি মজার প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। প্রশ্ন হলো: “সব গোলাপ ফুলই যদি লাল হয়। তাহলে পিঙ্ক গোলাপ কি আসলেই গোলাপ ফুল?” এখানে যুক্তির মধ্যে কোনো ভুল নেই “সব গোলাপ ফুলই লাল” এইটা premise true, কিন্তু বাস্তবে পিঙ্ক গোলাপও আছে! এখানে দেখুন যুক্তি সঠিক থাকার পরেও সত্য হলো গোলাপের রং বিভিন্ন হতে পারে। তাই যুক্তি এবং সত্যের মধ্যে এই সম্পর্কের জটিলতা বুঝে নিতে পারলে মস্তিষ্কের খেলা যেমন মজার, তেমন শিক্ষণীয়।

এখন আপনি যদি যুক্তি এবং সত্যের সম্পর্কের গভীরে আরও প্রবেশ করতে চান, তাহলে আসুন কিছু ধাঁধা নিয়ে খেলি! আপনি যদি তিনটি তীরধনুকে লক্ষ্য করেন এবং তিনটি তীরও ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে গিয়ে পৌঁছায় তবে কোনটি আগে সঠিক লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছালো? এখানে যুক্তি বলে তীর তিনটি আলাদা জায়গায় গিয়ে পৌঁছালে ফলাফল আলাদা হবে। কিন্তু যখন আপনি গভীরভাবে ভাববেন তখন বুঝতে পারবেন “সত্য” কখনও এক নয়। আপনার লক্ষ্য এবং প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সঠিক লক্ষ্য পরিবর্তিত হয়। একজন ব্যক্তি যদি বলে “আমি সর্বদা মিথ্যা বলি।”

এখন প্রশ্ন হলো যদি তিনি সত্যই বলছেন, তাহলে স্বীকারোক্তিটি মিথ্যা হওয়ার কথা! কারণ সে তো সবসময় মিথ্যা বলে! আবার ধরি যদি তিনি মিথ্যাই বলছেন, তাহলে তার বক্তব্যটি কিন্তু সত্য হতে পারে! তাহলে তার বক্তব্যটি কি সত্যি নাকি মিথ্যা? এটি কি একটি ধাঁধা? তার বক্তব্যকে কোন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মূল্যায়ন করবেন? যুক্তি এবং সত্যের সম্পর্ক অনেকটা যাদুর মতো। তারা একে অপরকে পূর্ণতা দেয় এবং একে অপরের সাথে মিশে একটি নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে। তবে তাদের ভেতর রয়েছে একটি মজার পার্থক্য। যা কখনও কখনও আমাদের চিন্তা এবং অনুভূতির জগতে ধাঁধা তৈরি করে। মনে রাখবেন যুক্তি দিয়ে অনেক কিছু বোঝা সম্ভব। কিন্তু যদি সত্যের প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি ভুল হয় তবে যুক্তি সঠিক হলেও আপনি সত্যে পৌঁছাতে পারবেন না।



ঢাকায় শব্দদূষণ নীরব ঘাতক

অন্তর্বর্তী সরকার ঢাকায় হর্ন ব্যবহারের জন্য কঠোর শান্তির ঘোষণা দিয়েছে। যেখানে প্রথমবার অপরাধীদের জন্য ৫০০ টাকা জরিমানা করা হবে এবং পুনরাবৃত্তি অপরাধে বড় জরিমানা আরোপ করা হবে। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল হর্নের কারণে সৃষ্ট ব্যাপক শব্দদূষণ কমানো। এ নিয়ম রাজধানীর প্রধান এলাকাগুলোর মাধ্যমে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পুরো শহরে এবং পরবর্তীতে অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও সম্প্রসারিত হবে। তবে ঢাকার শব্দদূষণ শুধুমাত্র হর্নের মাধ্যমে হয় না। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে লাউডস্পিকার, বিজ্ঞাপন এবং নির্মাণ কাজ। অন্তর্বর্তী সরকার শব্দদূষণ কমিয়ে একটি “নিম্ন-শব্দ” দেশ তৈরি করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গত বছর অক্টোবর ১ তারিখ থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিন কিলোমিটার পরিসরকে একটি “সাইলেন্ট জোন” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের জন্য জরিমানা অথবা কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে এবারই কি প্রথমবার হর্ন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে? এর উত্তর হলো, মোটেই না। আগেও এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং আইনও তৈরি করা হয়েছে তবে কার্যকর প্রয়োগে বার বার ঘাটতি দেখা গেছে। ঢাকার সামাজিক বাস্তবতাগুলি অনুধাবন করে শুধুমাত্র জরিমানা আরোপ করা কি হর্ন কমানোর ক্ষেত্রে যথেষ্ট হবে? যদি মৌলিক সমস্যা এবং বিস্তৃত ব্যবস্থা না নেয়া হয় তবে এই উদ্যোগও হয়তো আরেকটি অপ্রতিপালিত প্রতিশ্রুতি হয়ে উঠবে।

২০১৭ সালে হাইড্রোলিক হর্ন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে অন্যান্য উচ্চ ডেসিবেল হর্নের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী কিছু হর্ন ১১০ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ উৎপন্ন করে। এই ধরনের হর্নের আমদানি এখনও নিয়ন্ত্রিত হয়নি। হর্ন বাজানোর অভ্যাস যেন গৌণ হয়ে গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে হর্ন বাজানোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপগুলি প্রায় সময়িক এবং ঘটনাড় – কেন্দ্রিক মনে হয়। রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী উচ্চ শব্দের হর্ন ব্যবহারের জন্য ১০,০০০ টাকা জরিমানা ধার্য করা হলেও তা কখনো কার্যকর করা হয়নি। হতাশ নাগরিকরা প্রথাগত হর্ন বাজানোর জন্য সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। তবে সচেতনতামূলক প্রচারণাগুলি তেমন কোনো ফলপ্রসূ পরিবর্তন আনতে পারেনি। পুরো বছরব্যাপী কার্যক্রমের অভাব, এসব প্রচারণাকে কেবল বিজ্ঞপ্তি বানিয়ে রাখে সমাধান হয় না।

পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকায় হর্নের অনুমোদিত শব্দমাত্রার কথা ঘোষণা করলেও এই বিধিনিষেধগুলি কার্যকর করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেই। যা গাড়ি বা মোটরসাইকেল নির্মাণ বা সমাবেশের সময় এসব নিয়ম মানার নিশ্চয়তা প্রদান করবে। গাড়ি নির্মাতারা নিজেরাই উল্লেখ করেছেন, হাইড্রোলিক হর্ন নিষিদ্ধ হলেও অন্যান্য প্রকার হর্ন সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ২০০৭ সালে ঢাকার কয়েকটি সড়কে হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। এরপর প্রতিবেদন পাওয়া যায় যে কর্তৃপক্ষ দৈনিক জরিমানা আরোপ করছিল। তবে আজকাল এই প্রয়োগের কার্যকারিতা প্রায় নেই বললেই চলে। কারণ সারা শহর জুড়ে হর্ন বাজানো অব্যাহত রয়েছে। অনেক ড্রাইভার হর্ন বাজানোকে অপরাধ হিসেবে মনেই করেন না।

২০০৬ সালে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা প্রণীত হয়েছিল। যার মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য শব্দের গ্রহণযোগ্য স্তর নির্ধারণ করা হয়। নিরব অঞ্চলে রাতে ৪০ ডেসিবেল এবং দিনে ৫০ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দের অনুমতি রয়েছে, যা আবাসিক এলাকাগুলোর জন্য যথাক্রমে ৪৫ এবং ৫৫ ডেসিবেল পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। যেহেতু প্রতিটি গাড়ির একটি একক হর্ন থাকে তাতে তাত্ত্বিকভাবে ৪০ ডেসিবেল অতিক্রম করার কথা নয়। তবে পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, ঢাকায় প্রতিদিন হর্ন বাজানোর এই সীমা অতিক্রম করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে ৪২ শতাংশ রিকশা চালক উচ্চ শব্দের কারণে শ্রবণ সমস্যায় ভুগছেন এবং ১১.৮ শতাংশ ট্রাফিক পুলিশ প্রায় শ্রবণ ক্ষমতা হারিয়েছেন।

শব্দদূষণের সমাধান হল ধারাবাহিক ও পদ্ধতিগত পদক্ষেপ কেবলমাত্র এককালীন উদ্যোগ নয়। দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে, আইন তৈরি ও প্রয়োগ, এবং জনসচেতনতা। দুর্ভাগ্যবশত এই দুই ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপের অভাব। নির্দেশনা থাকতে হবে, ৪০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ উৎপন্নকারী হর্নের আমদানি কিংবা ব্যবহার নিষিদ্ধ হবে। ডেসিবেল স্তরের মাপার যন্ত্র না থাকলে, মানুষ বুঝতে পারবেন না যে তারা ৪০ ডেসিবেল বা ৬০ ডেসিবেল হর্ন ব্যবহার করছেন কিনা। অতএব, উৎপাদন ও বিতরণ পর্যায়ে সঠিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন, যাতে নির্মাতাদের ৪০ ডেসিবেলের বেশি হর্ন ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে বলা হয়। অনেক উন্নত দেশ এবং আমাদের প্রতিবেশী দেশ যেমন নেপাল এবং শ্রীলঙ্কা সফলভাবে হর্ন ব্যবহার কমাতে সক্ষম হয়েছে। অনেক দেশে হর্ন ১০ ফুট দূর থেকেও অনুমিত নয়, কিন্তু বাংলাদেশে আধা কিলোমিটার বা তার বেশি দূর থেকে শোনা যায়।

হর্ন এবং লাউডস্পিকার দ্বারা সৃষ্ট শব্দদূষণের নেতিবাচক স্বাস্থ্যগত প্রভাব শুধুমাত্র শ্রবণ ক্ষতি নয়। দীর্ঘকালীন এক্সপোজারের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, ঘুমের সমস্যা, চিড়চিড়ানো মনোভাব, এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাও দেখা দিতে পারে। শিশু এবং বয়স্ক জনগণ বিশেষ ঝুঁকিতে থাকে কারণ অতিরিক্ত শব্দ শিশুদের বিকাশে বাধা দেয় এবং বয়স্কদের জন্য হৃদরোগ বা স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়ায়।পেশাগত দিক থেকে এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন রিকশাচালক, বাস ও ট্রাক ড্রাইভার এবং ট্রাফিক পুলিশ। কারণ তারা রাস্তায় সবচেয়ে বেশি সময় কাটান। তবে এই বিপদ সম্পর্কে খুব কমই সচেতনতা রয়েছে। আমরা সমস্যা এবং জরিমানা আরোপের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারি। তবে কি এটাই যথেষ্ট? নিশ্চয়ই না। একটি ব্যাপক পদক্ষেপের প্রয়োজন।

প্রথমত হর্নের জন্য জরিমানা আরোপ করা কিছু চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। গুরুতর যানজট এবং ব্যাপক সংখ্যক যানবাহনের কারণে ড্রাইভার এবং পথচারীরা একটি শব্দময় পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক ড্রাইভার জরিমানা এড়িয়ে চলার জন্য বিপদের সময়ও হর্ন বাজাতে ভয় পাবে, যা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাছাড়া অনেক পথচারী ফুটওভার ব্রিজ অবহেলা করে এবং অপ্রত্যাশিতভাবে রাস্তায় চলে আসে। তাই জরিমানা আরোপের আগে জনসচেতনতা ক্যাম্পেইন চালানো উচিত। পাশাপাশি ফুটওভার ব্রিজ এবং পথচারী ক্রসিং ব্যবহারের জন্য কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রাথমিকভাবে উচ্চ ডেসিবেল হর্নের আমদানি এবং ব্যবহার নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। মূল কারণ সমাধান করতে হবে। যেমন অত্যন্ত শব্দযুক্ত হর্ন আমদানি বন্ধ করা, রাস্তাঘাটের উন্নতি করা, নতুন রাস্তা নির্মাণ এবং বিকল্প যানবাহন ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করা।

বিশেষ লেন বরাদ্দ করা উচিত অ্যাম্বুলেন্স এবং জরুরি সেবা জন্য যাতে তাদের প্রতিক্রিয়া সময় কমে যায় এবং অন্যান্য যানবাহন তাদের পথ ছেড়ে দেয়। জনপরিবহন যেমন বাস, মেট্রো লাইনের সংখ্যা বাড়ানো উচিত এবং কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য এটি অপ্টিমাইজ করতে হবে। স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম প্রবর্তন করা উচিত। যা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যানবাহন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করবে। কর্তৃপক্ষকে অবৈধ পার্কিংয়ের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে এবং পার্কিং এলাকার ব্যবস্থা করতে হবে। ভারী যানবাহনকে আবাসিক এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলে শব্দদূষণ এবং যানজট কমবে।






জার্মানিতে রক্ষণশীলদের জয় সঙ্গে কট্টর ডানদের উত্থান

ফ্রিডরিখ মেৎস-এর রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন জার্মানির নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। ২৮.৬% ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর চেয়ে এগিয়ে থাকলেও তারা তাদের প্রত্যাশিত ৩০ শতাংশের চেয়ে কম ভোট পেয়েছে।এই নির্বাচনে আরেকটি জয়ী পক্ষ হলো কট্টর ডানপন্থী অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি। তারা ২০.৮% ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। যদিও তারা আরও ভালো ফল আশা করেছিলো। চার বছর আগের চেয়ে এএফডির সমর্থন বেড়েছে ১০%। AFD-র অধিকাংশ ভোটই এসেছে সাবেক ‘কমিউনিস্ট’ পূর্ব জার্মানি থেকে।সব মূলধারার দল এফডির সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায়, তারা পার্লামেন্টে প্রধান বিরোধী দল হয়ে উঠতে চলেছে। জার্মানির মূলধারার দলগুলোর জন্য কট্টর ডানপন্থীদের সঙ্গে জোট গঠন করা এখনও ‘একটি নিষিদ্ধ বিষয়’ বা ‘ফায়ারওয়াল’ হিসাবে বিবেচিত।

মেৎসের সবচেয়ে সম্ভাব্য পার্টনার সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে। তাদের ভোটের পরিমাণ ১৬.৪%। গ্রিন পার্টি পেয়েছে ১৩.৫% ভোট।বামপন্থী ডি লিংকে (The Left) গতবারের প্রায় দ্বিগুণ ৮.৮% ভোট পেয়েছে। ডি লিংকের প্রভাবশালী নেত্রী Sahra Wagenknecht দল ছেড়ে নিজের নামে নতুন দল (BSW) তৈরি করে ৪.৭% ভোট পেয়েছেন ৫ শতাংশের কম ভোট পাওয়ায় সংসদে কোনও আসন পাবে না BSW।এবার ৮৩% মানুষ ভোট দিয়েছে, যা ১৯৯০ সালে জার্মান পুনঃএকত্রীকরণের পর আর দেখা যায়নি। ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় ছিল অভিবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকট।

ফ্রিডরিখ মেৎসের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটরা বয়স্ক ভোটারদের ওপর তাদের নির্ভরতা এবারেও অব্যাহত রেখেছেন। অন্যদিকে ১৮-২৪ বছর বয়সী ভোটাররা এএফডি ও অন্য বাম দলের প্রতি বেশি উৎসাহ দেখিয়েছে।এবারের নির্বাচনে এএফডিকে প্রকাশ্যেই সমর্থন যুগিয়েছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যা জার্মান ভোটারদের দারুণভাবে হতাশ করেছে।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মেৎসের জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন-এটা প্রমাণ হয়েছে যে, জ্বালানি ও অভিবাসনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আমেরিকানদের মতো জার্মানরাও ক্লান্ত।

মেৎস বলেছেন-তার অগ্রাধিকার হবে দ্রুত ইউরোপকে শক্তিশালী করা যাতে করে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত হয়ে ধাপে ধাপে তারা সত্যিকার স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেন।মের্স এমন এক সময়ে ক্ষমতায় আসছেন, যখন ইউরোপ একটি সংকটময় অবস্থায় রয়েছে। ইউরোপে কট্টর জাতীয়তাবাদীদের উত্থান ঘটছে। ট্রাম্প দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থাকে উলটপালট করে দিয়েছেন, ইউরোপের প্রতিরক্ষা সম্পর্কে মার্কিন প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং কট্টর ডানপন্থীদের সমর্থন করেছেন। ফলে, মেসের চ্যান্সেলর হিসেবে মেয়াদকাল স্নায়ুযুদ্ধের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

২০২১ সালে অ্যাঙ্গেলা মের্কেল সরে দাঁড়ানোর পর মের্স হবেন জার্মানির প্রথম মধ্য-ডানপন্থী নেতা। যদিও তারা একই দলের সদস্য, তবে তারা দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী এবং নির্বাচনী প্রচারণার সময় মের্কেল তাঁকে কট্টর ডানপন্থীদের নীতিতে ঝুঁকতে দেখে সমালোচনা করেছেন, পাশাপাশি পার্লামেন্টে এএফডির ভোটের ওপর নির্ভর না করার দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি ভাঙার জন্যও তাঁকে তিরস্কার করেছেন।২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জার্মানির চ্যান্সেলর ছিলেন সিডিইউর মের্কেল। অভিবাসন প্রশ্নে তার উদার নীতির কারণে ২০১৫ সাল এবং পরবর্তী বছরগুলো মিলিয়ে ১৩ লাখ শরণার্থী ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে আশ্রয় পেয়েছিল।

কিন্তু এরপর গত বছরগুলোতে ঘরে-বাইরের নানা ঘটনাপ্রবাহে ভোটারদের মন রক্ষায় সিডিইউ তার অবস্থান থেকে সরেছে। ২০২৪ সালে ছুরি আক্রমণের বেশ কয়েকটি ঘটনায় অভিবাসীদের জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশের অভিবাসন নীতি কঠোর করার পক্ষে এখন বেশিরভাগ জার্মান।মূলত চরম ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর ডয়েচল্যান্ডের (এএফডি) এর উত্থানের কারণেই ডিসিইউ মধ্য ডান অবস্থান থেকে আরও ডান দিকে সরছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইন – শৃঙ্খলার অবনতি , নিরাপত্তাহীনতায় দেশের প্রত্নসম্পদ

প্রত্নসম্পদ এবং শিল্পসম্পদের পাচার এবং সুরক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অরক্ষিত অবস্থায় পড়া প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটগুলোর মাধ্যমে প্রত্নসম্পদের পাচার এবং চুরি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে, হাসিনা সরকারের পতনের পর বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা, যেমন বেনাপোল, নওগাঁ, পঞ্চগড়, ও দিনাজপুরে পাচারের ঘটনা বেড়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যেমন বিজিবি, র‍্যাব, ও পুলিশ এসব কার্যক্রমে যুক্ত হলেও তাদের তৎপরতা সীমিত এবং যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন এখনো -হয়নি।

প্রত্নসম্পদ এবং শিল্পসম্পদের পাচারের অন্যতম প্রধান রুটগুলো সীমান্তবর্তী অঞ্চলের গ্রামাঞ্চল বিশেষ করে নওগাঁ এবং দিনাজপুর। এসব এলাকার সুরক্ষা পরিস্থিতি শিথিল হয়ে যাওয়ায় পাচারকারীরা দ্রুত এসব সম্পদ নিয়ে চলে যাচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিকে। যেখানে প্রাচীন নিদর্শনের বড় বাজার রয়েছে। এছাড়া রাজধানীসহ অন্যান্য পুরনো জনপদে প্রত্নসম্পদও বিপন্ন অবস্থায় পড়েছে। বিশেষ করে জমিদারবাড়ি, পুরানো মঠ এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেরিতে হলেও এসব সমস্যার সমাধানে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু আইন-প্রণয়ন এবং যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব দেশীয় প্রত্নসম্পদ রক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রত্নসম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইন সংশোধন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করা উচিত।

এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ পাচার হলে তা দেশের ইতিহাস এবং সংস্কৃতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়াবে। দেশীয় প্রত্নসম্পদের সুরক্ষা শুধু আইন – শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নয়, এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব, যেখানে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণেরও সচেতনতা এবং সহযোগিতা অপরিহার্য।

অপরাধীরা বেপরোয়া কেন ?

গত ছয় মাসে ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনায় মামলা হয়েছে ১,১৪৫টি, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। ডাকাতি ও দস্যুতার মামলা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র সব সময় বোঝা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পুলিশের কাছে যান না ঝামেলার ভয়ে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে তিন দিন পুলিশি কার্যক্রম ছিল না। পরে ধীরে ধীরে থানাগুলো চালু হয়, পুলিশি কার্যক্রম বাড়তে থাকে, কিন্তু স্বাভাবিক সময়ের মতো পুলিশ সক্রিয় নয় বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন। নগরীর সড়ক থেকে শুরু করে হাইওয়েগুলোতে পুলিশের তৎপরতা খুব একটা চোখে পড়ে না।

আবার নতুন পরিস্থিতিতে পুলিশ কয়েকটি সমস্যায় ভুগছে। ঢাকাসহ বড় শহরগুলোয় পুলিশে নতুন জনবল এসেছে। নতুন আসা পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা সংশ্লিষ্ট শহরের অপরাধী ও অপরাধপ্রবণতা সম্পর্কে অভিজ্ঞ নন। অপরাধের খবর জানা ও অপরাধীকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের সোর্স কম। এ ছাড়া পুলিশে মনোবলের সংকট কাটেনি। গাড়ি, আবাসন ইত্যাদি সমস্যাও আছে। বিশ্লেষক ও পুলিশ কর্মকর্তারা আরও বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শক্তভাবে বিশৃঙ্খলা ও অপরাধ দমন করতে পারছে না। এতে অপরাধীরা মনে করছে, তারা পার পেয়ে যাবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) থানা পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, অভিযানে গেলে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তখন বল প্রয়োগ করা হলে ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা থাকে। এ কারণে পুলিশকে অপরাধীরা এখন আর সেভাবে ভয় পাচ্ছে না। এ কারণেই তারা বেপরোয়া। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীতে ২৮৯টি মামলায় ৭৫৮ ‘ছিনতাইকারীকে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১১৫ জনই জামিনে বেরিয়ে গেছেন। অনেক ক্ষেত্রে জামিন পেয়েছে যাচ্ছেন অল্প দিনের মধ্যে।পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা ও অপরাধ বিশ্লেষকেরা বলছেন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কর্মসংস্থানের অভাবও এখন অপরাধ বেড়ে যাওয়ার একটি কারণ।

এলাকাভেদে অপরাধীদের আলাদা আলাদা ধরনও পেয়েছে পুলিশ। পুলিশ বলছে-মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ এলাকার অপরাধীদের বড় অংশের সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। তাদের অনেকে সাম্প্রতিককালে জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়েছেন। গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী ও এর আশপাশের এলাকায় পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা বেশি। আবার উত্তরার দিকে অল্পবয়সীদের অপরাধ-চক্রের তৎপরতা বেশি লক্ষণীয়। খিলগাঁও, মগবাজার, বাড্ডা ও মহাখালী এলাকায় আবার পেশাদার অপরাধীদের পাশাপাশি মৌসুমি অপরাধীদের তৎপরতা বেশি পেয়েছে পুলিশ।

এদিকে পুলিশ বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের কিছু আইডি ও পেজ থেকে ধর্ষণ, ছিনতাই ও ডাকাতির বিষয়ে গুজবও ছড়ানো হচ্ছে। ছড়ানো হচ্ছে পুরোনো ভিডিও। ফলে মানুষের মধ্যে বেশি আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। কোনো সূত্র ছাড়াই অপরাধের মনগড়া কিছু পরিসংখ্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। অনেকর মতে, ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেশি পরিচালিত হচ্ছে বলে দৃশ্যমান। সংঘবদ্ধ অপরাধে যারা জড়িত, তাদের মধ্যে ধারণা জন্মেছে তারা অভিযানের ফোকাসে নেই। এ কারণে অভিযানের পূর্ণ ফল আসেনি।ব্যবসায়ীরা বলছেন – সরকারকে এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। না হলে ঈদের আগে মানুষ ভয়ে কেনাকাটা করতে বের হবেন না। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অর্থনীতির ক্ষতি হবে।

সাব – সাহারান সাহিত্যের ইতিহাস সংগ্রাম ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি

সাহিত্য একটি জাতির আত্মপরিচয়ের প্রতিচ্ছবি। সাব-সাহারান আফ্রিকার সাহিত্য তার ইতিহাস, সংগ্রাম, সংস্কৃতি ও বাস্তবতাকে ধারণ করে। এই অঞ্চলের সাহিত্য কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের দলিল। সাহিত্যের মাধ্যমে এই অঞ্চলের জনগণ তাদের সংগ্রামের ইতিহাস, সামাজিক পরিবর্তন ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ করেছে। সাব-সাহারান আফ্রিকার সাহিত্য মূলত মৌখিক ঐতিহ্যের মাধ্যমে গড়ে উঠেছিল। তাদের স্থানীয় গল্পকথকদের বলা হতো গ্রিও। তারা মানুষের মধ্যে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষার গল্প ছড়িয়ে দিতেন। মৌখিক সাহিত্য যেমন গান, কবিতা, রূপকথা, বীরগাথা ও ধর্মীয় আখ্যান সাব-সাহারান সাহিত্যে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত মৌখিক সাহিত্য তাদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করেছে।

গ্রিওরা ছিলেন সাব-সাহারান আফ্রিকার মৌখিক ঐতিহ্যের প্রধান ধারক ও বাহক। পশ্চিম আফ্রিকার মালি সাম্রাজ্যের সময়ে গ্রিওরা সাম্রাজ্যের ইতিহাস সংরক্ষণ করতেন এবং সামাজিক মূল্যবোধ প্রচার করতেন। তাদের কবিতার মাধ্যমে বীরদের গৌরবগাথা ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলিও সংরক্ষিত হয়েছে। আফ্রিকা যখন ইউরোপীয় উপনিবেশবাদীদের দখলে চলে যায় তখন তাদের সাহিত্যেও পরিবর্তন আসে। স্থানীয় ভাষাগুলোর পরিবর্তে ফরাসি, ইংরেজি ও পর্তুগিজ ভাষায় সাহিত্য রচিত হতে থাকে। এই সময়ের সাহিত্য ছিল অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিরোধ ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। ঔপনিবেশিক শাসনের শোষণ ও অত্যাচার সাহিত্যে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়। এই সময়ে সাহিত্য শুধু প্রতিরোধের মাধ্যম নয় এটি পরিচয় ও আত্মপরিচয়ের সন্ধানেও ভূমিকা রেখেছে।

১৯৩০-এর দশকে সাব-সাহারান আফ্রিকার সাহিত্য নতুন দিক লাভ করে নেগ্রিটিউড আন্দোলনের মাধ্যমে। লেওপল্ড সেডার সেঙ্গর, এইমে সেজায়ার ও লিওন-গোস্ত্রান দামাস-এর মতো লেখকেরা আফ্রিকান পরিচিতি ও ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এই সাহিত্য আন্দোলনের মাধ্যমে আফ্রিকানদের শেকড়ের প্রতি ভালোবাসা, উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং কালো মানুষের গর্ব ও স্বাতন্ত্র্যের বিষয়গুলো উঠে আসে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত আফ্রিকার বেশিরভাগ ভাষায় কোনো লিখিত ঐতিহ্য ছিল না। ইউরোপীয় খ্রিস্টান মিশনারিদের আগমনের পর আফ্রিকান ভাষাগুলো লিখিত আকারে রূপান্তরিত হতে শুরু করে এবং তারা ইউরোপীয় ভাষা এবং সাহিত্যের পাঠদান করতে শুরু করে। মিশনারিরা বাইবেল, গান এবং ধর্মীয় বইগুলো, যেমন জন বানিয়ানের পিলগ্রিমস প্রগ্রেস, বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করতে শুরু করেন। অনেক ভাষায় এই বইগুলো ছিল প্রথম লিখিত উপাদান।

খ্রিস্টান শিক্ষার দ্বারা অনুপ্রাণিত প্রথম রচনা ছিল থমাস মোকোপো মোফোলোর মোয়েতি ওয়া বাচাবেলা (ট্রাভেলার অব দ্য ইস্ট, ১৯৩৪), যা লেসোথোর। এটি মূলত ১৯০৬ সালে মিশন মুদ্রণযন্ত্রে প্রকাশিত হয়েছিল। মোফোলোর উপন্যাসটি একজন পুরুষের খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের আনন্দদায়ক ঘটনা নিয়ে সোথো ভাষায় লেখা ছিল। তার তৃতীয় সোথো উপন্যাস চাকা (১৯২৫) জুলু রাজা রক্তপিপাসু পদ্ধতিগুলোর সমালোচনা করে। যেহেতু বইটিতে যুদ্ধ এবং যাদুবিদ্যা বিষয়ক বর্ণনা রয়েছে, যেগুলো মিশনারিরা অনুমোদন করতেন না। তাই এর প্রকাশ প্রায় ১৭ বছর বিলম্বিত হয়েছিল।

তখনো ধীরে ধীরে আফ্রিকান ভাষার লেখকরা আফ্রিকান এবং খ্রিস্টান ঐতিহ্যকে একত্রিত করার চেষ্টা করেছিলেন। রুয়ান্ডার পাদরি অ্যাবি কাগামে তার ধর্মীয় কবিতা দ্য সঙ অফ দ্য মাদার অব ক্রিয়েশন (১৯৪৯-৫১) মৌখিক প্রশংসামূলক কবিতার উপর ভিত্তি করে রচনা করেছিলেন। ধর্মীয় লেখালেখি থেকে জনপ্রিয় কল্পকাহিনীতে সাহিত্যিক বিষয়বস্তু বিকশিত হয়েছিল যদিও গল্পগুলোর মধ্যে প্রায়ই একটি নৈতিক শিক্ষা ছিল। বিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে আফ্রিকার অনেক দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পর সাহিত্যে নতুন মাত্রাও যোগ হয়। লেখকেরা তাদের সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরতে শুরু করেন। চিনুয়া আচেবে-র “Things Fall Apart” (১৯৫৮) এবং নগুগি ওয়া থিয়োং’ও-র “Weep Not, Child” (১৯৬৪) আফ্রিকার সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনকে তুলে ধরে। এই সময়ের সাহিত্য বিশেষভাবে সামাজিক বৈষম্য, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ঔপনিবেশিক শাসনের প্রভাব বিশ্লেষণে মনোযোগী হয়।

সাব-সাহারান আফ্রিকার সাহিত্যে নারীদের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাচিক ঐতিহ্য থেকে শুরু করে আধুনিক সাহিত্যে নারীদের কণ্ঠস্বর দিন দিন প্রবল হচ্ছে। চিমামান্ডা এনগোজি আদিচি, বুচি এমেচেতা, মেরি এম্বো, এবং আমিনাতা সো-এর মতো লেখিকারা আফ্রিকান নারীদের সংগ্রাম, সাম্যবাদ ও স্বাধীনতার কাহিনী লিখেছেন। চিমামান্ডা এনগোজি আদিচি’র “Half of a Yellow Sun” এবং বুচি এমেচেতা’র “The Joys of Motherhood” আফ্রিকার নারীদের সামাজিক অবস্থান, যুদ্ধ ও অভিবাসনের সমস্যা তুলে ধরেছে। বর্তমানে আফ্রিকান সাহিত্য বহুমুখী। এখন এটি কেবল ঔপনিবেশিক শোষণ বা স্বাধীনতার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। আধুনিক আফ্রিকান লেখকেরা নারীবাদ, অভিবাসন, দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সাংস্কৃতিক দ্বৈততার মতো বিষয়গুলো সাহিত্যে স্থান দিচ্ছেন।

বিখ্যাত আধুনিক আফ্রিকান সাহিত্যিকদের মধ্যে রয়েছেন, চিমামান্ডা এনগোজি আদিচি (নাইজেরিয়া) – “Half of a Yellow Sun”, বেন ওকরি (নাইজেরিয়া) – “The Famished Road”, জেএম কোয়েটজি (দক্ষিণ আফ্রিকা) “Disgrace”, তায়ে সেলাসি (ঘানা-নাইজেরিয়া) – “Ghana Must Go” সহ আরও অনেকেই। আফ্রিকার সাহিত্য বরাবরই রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত ছিল। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ স্বাধীনতা আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সাহিত্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নগুগি ওয়া থিয়োং’ও তার “Decolonising the Mind” গ্রন্থে ইউরোপীয় ভাষার আধিপত্যের বিরুদ্ধে আফ্রিকান ভাষায় সাহিত্যচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

আফ্রিকার ঐতিহাসিক সাহিত্য তাদের অতীতকে সংরক্ষণ এবং পরিচয় রক্ষার একটি প্রধান মাধ্যম। উলা ওলুওয়ের “They Were Us” এবং চিনুয়া আচেবের “Anthills of the Savannah” সামাজিক পরিবর্তন ও রাজনৈতিক উত্থান-পতনের গল্প বলে। সাহিত্যে স্লেভট্রেড, অভিবাসন ও দাসপ্রথার ইতিহাসও বারবার উঠে এসেছে। সাব-সাহারান আফ্রিকার সাহিত্য কেবল শিল্প নয়, ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই অঞ্চলের সাহিত্য মানুষের সংগ্রাম, স্বপ্ন এবং পরিচিতির সাক্ষ্য বহন করে। সময়ের পরিক্রমায় এই সাহিত্য আরো বৈচিত্র্য ও গভীরতা লাভ করছে এবং বিশ্বসাহিত্যে এর প্রভাব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এখন নতুন প্রজন্মের আফ্রিকান লেখকেরা আরও বেশি আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজ করছেন এবং তাদের সাহিত্য বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ভবিষ্যতে সাব-সাহারান আফ্রিকার সাহিত্য আরও বহুমাত্রিক ও সুদৃঢ় হবে। তবে হারাবে না অতীতের শাসক, শোষণ ও ঐতিহ্যের ইতিহাসও।