Home Blog Page 163

ফিলিপ এক্সপেরিমেন্ট – ভূতের জন্ম কি মানুষের মন থেকেই হয় ?

১৯৭২ সালের টরন্টোর অন্টারিওতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পারাসাইকোলজির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় এবং বিতর্কিত পরীক্ষাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই পরীক্ষার নাম ছিল ‘ফিলিপ পরীক্ষা’। এটি মানুষ নিজের ইচ্ছার দ্বারা একটি কাল্পনিক ভূত তৈরি করতে পারে এবং সেই ভূতের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হতে পারে ধরণের ধারণার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত হয়েছিল। এটি ছিল মানব মনের অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা এবং বিশ্বাসের প্রতি একটি চ্যালেঞ্জ, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা একটি কাল্পনিক ভূত তৈরি করে তাকে সনাক্ত এবং সেই ভূতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন।

টরন্টোতে যখন পরীক্ষাটি শুরু হয়, তখন একটি দল পারাপসাইকোলজি গবেষক এবং যুক্ত বিজ্ঞানে আগ্রহী মানুষরা মিলে একটি নতুন পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করে। তাদের লক্ষ্য ছিল অতিপ্রাকৃত জীবনের ধারণাকে পরীক্ষায় ফেলে দেখা। সেখানে মূল বিষয় ছিল, মানুষ কি একটি কাল্পনিক ভূত সৃষ্টি করতে পারে যা সত্যিকারভাবে ‘আত্মা’ হিসাবে আচরণ করবে এবং তারা কি এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হবে? এই দলের সদস্যরা ফিলিপ নামে একটি ভূতের চরিত্র তৈরি করেছিলেন। এই ভূতটি সম্পূর্ণভাবে কাল্পনিক ছিল অর্থাৎ একেবারে মনের মধ্যে সৃষ্টি করা হয়েছিল। ভূতটির একটি বিস্তারিত পটভূমি ছিল, যার মধ্যে তার জীবনের ইতিহাস, জাতিগত পরিচয়, এবং মৃত্যু কিভাবে হয়েছিল তারও বর্ণনা ছিল। দলটি সিদ্ধান্ত নেয় যে এই ভূতটির সঙ্গে তারা যোগাযোগ করবে।

পরীক্ষা শুরু হয়েছিল একটি সাদা বোর্ডে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা তাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখত। তারা একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে, নির্দিষ্ট এক জায়গায় বসে এবং ভূতের উপস্থিতি অনুভব করার চেষ্টা করত। শুরুতে কিছুটা জল্পনা চললেও কিছু সময় পরেই তারা অবাক হয়ে দেখতে পায় যে কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে। প্রথমদিকে দলটি তাদের মনের মাধ্যমে ভূতের উপস্থিতি অনুভব করার চেষ্টা করে। শুরুতে ভূতটির নাম ধরে ডাকতে থাকে এবং তার ইতিহাসের নানা দিক আলোচনা করে। আস্তে আস্তে তারা অনুভব করতে থাকে যে ‘ফিলিপ’ নামে এই ভূত তাদের কাছে উপস্থিত। এর পরবর্তী ধাপে তারা ভূতটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন আধ্যাত্মিক মাধ্যম যেমন সেশনের কাজ করতে শুরু করে।

এই পরীক্ষা শুরু হওয়ার কিছু দিন পরেই, অংশগ্রহণকারীরা এমন কিছু অবাক করা ঘটনা দেখতে শুরু করে যা তাদের ধারণা করেছিল যে এটি কোন প্রাকৃতিক বা মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যার বাইরে কিছু। প্রথমে তারা একে নিছক অভ্যন্তরীণ অশান্তি এবং গোষ্ঠীজ্ঞান হিসেবে গ্রহণ করেছিল। তবে কিছু সময় পরেই তারা দেখল যে ভূতটির উপস্থিতি ছিল অনস্বীকার্য এবং সে তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিল। ভূতটি একসময় তাদের প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট এবং যুক্তিযুক্ত উত্তর দিতে শুরু করে। তাদের মতে, ফিলিপ ভূতটি তার সৃষ্টিকর্তাদের সামনে বেশ কিছু চমকপ্রদ এবং রহস্যজনক তথ্য প্রকাশ করেছিল, যা তারা কখনও কল্পনাও করেননি। এই পরীক্ষার মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়েছিল যে, একটি কাল্পনিক ধারণা বাস্তবে পরিণত হতে পারে, যদি তার প্রতি বিশ্বাস এবং মনোযোগ যথেষ্ট পরিমাণে দেওয়া হয়।

ফিলিপ পরীক্ষাটি পারাপসাইকোলজি এবং আধ্যাত্মিকতার প্রতি আগ্রহী মানুষের মধ্যে একেবারে বিতর্কের সৃষ্টি করে। যদিও এটি বেশ কিছু প্রমাণ প্রদর্শন করেছে যে মানুষ তাদের মনের শক্তি দিয়ে অদৃশ্য জগতের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, তবে সমালোচকরা একে শুধুমাত্র মানসিক বিকৃতির ফলাফল বলে মনে করেছেন। তাদের মতে, দলটি একটি মনোস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া বা গ্রুপ সাইকোসিসের শিকার হয়েছিল, যেখানে তাদের নিজের কল্পনা এবং বিশ্বাস বাস্তবতাকে বিকৃত করে দিয়েছিল। অনেক গবেষক বিশ্বাস করেন যে ফিলিপ পরীক্ষা ছিল শুধুমাত্র এক ধরণের ‘গ্রুপ থিঙ্কিং’ (group thinking) যার মাধ্যমে একটি মিথ্যা ধারণা একটি দল পুরোপুরি বিশ্বাস করতে থাকে। যদিও এটি পারাপসাইকোলজি এবং আধ্যাত্মিকতার সাথে সম্পর্কিত বিশাল প্রশ্ন তুলে ধরেছিল, তবে এটি পুরোপুরি প্রমাণ করতে পারেনি যে অতিপ্রাকৃত পৃথিবীর অস্তিত্ব রয়েছে।

ফিলিপ পরীক্ষা আজও একটি অন্যতম বিতর্কিত এবং গুরুত্বপূর্ণ পরপার্থক্য পরীক্ষার অংশ। এটি প্রমাণ করেছে যে মানুষের মন এতটাই শক্তিশালী যে সে নিজের ইচ্ছার দ্বারা এমন কিছু সৃষ্টি করতে সক্ষম, যা বাস্তব বলে মনে হতে পারে। এটি আমাদের মন এবং বিশ্বাসের প্রকৃতি সম্পর্কে আরো অনেক কিছু শিখিয়েছে, যদিও এখনও এই বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয়নি যে অতিপ্রাকৃত কিছু আমাদের চারপাশে সত্যিই বিদ্যমান। ফিলিপ পরীক্ষা মানব মনের ক্ষমতা, বিশ্বাস এবং অতিপ্রাকৃত জগতের সম্পর্কের ওপর এক গভীর আলোচনার সূচনা করেছে, এবং আজও এটি পারাপসাইকোলজি ও আধ্যাত্মিক গবেষণার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হয়।

চাকরি খোঁজার কিছু কাজের টিপস –

চাকরি খোঁজা একটি রোমাঞ্চকর কিন্তু চ্যালেঞ্জিং যাত্রা হতে পারে। তবে যদি আপনি সক্রিয়ভাবে প্রস্তুতি নেন এবং আগেই শুরু করেন, তবে আপনার স্বপ্নের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়ে। এখানে কিছু প্রয়োজনীয় টিপস যা চাকরি খোঁজার প্রক্রিয়াটি আরও কার্যকরী করে তুলতে পারে:

গবেষণা করুন
যেকোনো চাকরি খোঁজার প্রথম ধাপ হল বিস্তারিত গবেষণা করা। আপনি যে ইন্ডাস্ট্রি বা কোম্পানিতে আগ্রহী, তার সম্পর্কে জানুন।কোম্পানির ওয়েবসাইট পরিদর্শন করুন এবং বার্ষিক প্রতিবেদনগুলো পড়ুন। এটি আপনাকে ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুত করতে সহায়ক হবে এবং আপনি কোন দক্ষতাগুলো শিখবেন, তা বোঝার সুযোগ দিবে। কোর্সেরা, উডেমি এবং লিঙ্কডইন লার্নিংয়ের মতো প্ল্যাটফর্মগুলিতে অনলাইন কোর্স করে আপনি প্রয়োজনীয় জ্ঞান এবং দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।

গোছানো CV –
একটি সাধারণ CV বেশিরভাগ সময় যথেষ্ট নয়। অনেক কোম্পানি এখন অ্যাপ্লিক্যান্ট ট্র্যাকিং সিস্টেম (ATS) ব্যবহার করে, যা CV থেকে নির্দিষ্ট কীওয়ার্ড খুঁজে বের করে। সুতরাং আপনার CV তে চাকরির বর্ণনা অনুযায়ী কীওয়ার্ড যোগ করুন। এছাড়াও আপনার রেফারেন্সগুলো অন্তর্ভুক্ত করা ভালো, যাদের আপনি জানেন এবং যারা আপনার কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং দক্ষতা সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করতে পারেন।

সিনিয়রদের সাথে নেটওয়ার্কিং করুন –
আপনার কাঙ্ক্ষিত কোম্পানিতে ইতিমধ্যেই কাজ করা পেশাদারদের সাথে সংযোগ রাখুন। নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে আপনি কোম্পানির সংস্কৃতি, চ্যালেঞ্জ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে পারবেন। লিঙ্কডইন প্ল্যাটফর্মটি এ ধরনের নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য আদর্শ।

ইন্টারভিউতে প্রস্তুত থাকুন
প্রথম ছাপই সবকিছু। নিয়োগকর্তারা প্রায়শই প্রথম ৩০ সেকেন্ডে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। তাই ইন্টারভিউয়ের জন্য সাধারণ প্রশ্নগুলোর উত্তর প্র্যাকটিস করুন এবং আপনার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার উপর ফোকাস করুন। আত্মবিশ্বাসী, প্রস্তুত এবং দক্ষতা প্রদর্শন করা গুরুত্বপূর্ণ। এই পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে, আপনি চাকরি খোঁজার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবেন এবং আপনার কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পারবেন।

ডিসেম্বরে নির্বাচন , সংস্কার এর মধ্যে করে ফেলতে হবে : ড. ইউনূস , প্রধান উপদেষ্টা

0

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ সোমবার মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে খুব বেশি সময় নেই। আমরা ইতোমধ্যে সাত মাস পার করে এসেছি। আমরা বলছি, ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। কাজেই কি কি সংস্কার করতে চাই করে ফেলতে হবে।’ পুলিশের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারাও সংস্কারের কথা বলেছেন। কারো জন্য অপেক্ষা করে কোনো ফায়দা হবে না। কাজটা করতে হবে এবং সেটা আমাদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘পুলিশের কথা প্রসঙ্গে বারবার আমরা দুটো শব্দ বলছি—আইন ও শৃঙ্খলা। পুলিশের হাতেই এটাকে এক্সিকিউট করতে হবে। এই পরিবেশ সৃষ্টি করা না গেলে সরকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, মানুষের অধিকার, নাগরিকের অধিকার—কিছুই থাকে না।’

প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘আমরা পুলিশকে অবহেলা করে দেশ গড়তে পারব না। তারাই সম্মুখসারির মানুষ। তারা ক্ষেত্র প্রস্তুত করলেই বাকি জিনিসগুলো হয়। আইনশৃঙ্খলা না থাকলে যত বড় বড় চিন্তাই হোক, যত টাকাই থাকুক, কোনো কাজে আসবে না।’ ড. ইউনূস বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে আমরা মস্ত বড় সুযোগ পেয়েছি। এটাকে যেন হারিয়ে না ফেলি। আমরাও সেটা চেষ্টা করব, ভবিষ্যতে যারা আসবে তারাও আশা করি চেষ্টা করবে। পথটা যেন আমরা সৃষ্টি করে দেই।’

তিনি বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীর মুশকিল হলো, ওই অন্ধকার যুগে তারা একটিভ পার্টিসিপেন্ট ছিল—নিজের ইচ্ছায় না, সরকারি কাজ করতে গিয়ে হয়েছে। কাজেই নতুন বাংলাদেশে পুলিশকে দেখিয়ে দিতে হবে—আমরা মানুষ খারাপ না, খারাপ মানুষের পাল্লায় পড়েছিলাম, সেখান থেকে বের হয়ে এসেছি। কাজের মাধ্যমে আমরা দেখাবো যে, আমাদের হাত দিয়েই এই নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি হবে। কারণ আমাদের কাছেই রয়েছে আইন ও শৃঙ্খলা—এটা প্রতিষ্ঠা করব।’ নির্বাচন আসন্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেহেতু নির্বাচন আসছে, নানা রকমের সমস্যা হবে, নানা রকম চাপ আসবে। অনেকে ডেসপারেট হয়ে যাবে—আমার কেন্দ্রে জিতাতে হবে, ওর কেন্দ্রে জিতাতে হবে। সেখানে পুলিশ আইন মানতে চাইলে তারা ক্ষ্যাপাক্ষেপি করবে। আমাদের সেখানে শক্ত থাকতে হবে, আইনের ভেতরে থাকতে হবে। যাতে করে যে সরকার নির্বাচিত হয়ে আসবে, সে সরকার আইনের সরকার হয়।’

অবাধ্যতা – আপনার পেশাগত ও ব্যক্তি উন্নয়নে কেন ইতিবাচক ভুমিকা রাখে !

আমরা কর্মক্ষেত্রে, পাবলিক প্লেসে বা অনলাইনে আমাদের অনেকেই কোনো না কোনো সময়ে অপ্রত্যাশিত ভাবে অবাধ্যতা বা অপমান জনক আচরণের অভিজ্ঞতা পেয়ে থাকি। বেশিরভাগ গবেষণা যেখানে অবাধ্যতার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছে, সেখানেই প্রমাণিত হয়েছে যে এর অনেক খারাপ প্রভাব রয়েছে। অবাধ্যতা মানসিক স্বাস্থ্য, কাজের সন্তুষ্টি এবং কাজের দক্ষতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই এটিকে একটি ক্ষতিকর অভিজ্ঞতা হিসেবে মনে করাই স্বাভাবিক। তবে একটি সম্প্রতি মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত করা একটি গবেষণা দেখিয়েছে, অবাধ্যতার কিছু ইতিবাচক প্রভাবও পাওয়া গেছে। এই গবেষণায় ১৮ জন মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী (কাউন্সেলর, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট এবং পুনর্বাসন কর্মী) তাদের কাজের পরিবেশে অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন।

তারা অপমান বা অবাধ্যতা কিভাবে মোকাবিলা করেন এবং এর প্রভাব কী হয়, তা আলোচনা করেন। ফলস্বরূপ দেখা গেছে যে এটি পেশাগত উন্নয়ন এবং সম্পর্ক উন্নতির ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে। গবেষণায় পাঁচটি ইতিবাচক দিক চিহ্নিত করা হয়েছে:

পেশাগত উন্নয়ন:
অবাধ্যতা মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা পেশাদারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার সুযোগ হতে পারে। তারা বুঝতে পারেন কেন কিছু ক্লায়েন্ট অবাধ্য আচরণ করেন এবং এ ধরনের আচরণ মোকাবিলার কৌশল শিখতে পারেন, যা তাদের আত্মবিশ্বাস এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করে।

স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি:
অবাধ্যতা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখতে পারলে তা ব্যক্তিগত স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এটি মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীদের আত্মবিশ্বাস এবং পিপল ম্যানিপুলেশন কৌশলে উন্নত করতে সহায়ক।

সম্পর্ক নির্মাণ:
অবাধ্যতা কখনো কখনো সম্পর্কের গভীরতা এবং বিশ্বাস তৈরি করতে সহায়ক হতে পারে। এটি ক্লায়েন্ট এবং পেশাদারদের মধ্যে সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করে।

গ্রুপ গঠন:
কিছু সংস্থায়, অবাধ্যতা এবং গালিগালাজ গ্রুপের সদস্যপদের পরিচায়ক হতে পারে। এটি সংস্থার সদস্যদের মধ্যে ঐক্য এবং মনোবল বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

হাস্যরস:
কিছু ক্ষেত্রে অবাধ্যতা হাস্যরসের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি কোনো ক্ষতি না করে মানুষের মধ্যে হাসি তৈরি করতে সাহায্য করে, যা সম্পর্কের উন্নতির জন্য সহায়ক। অতএব যদিও অবাধ্যতা সাধারণত নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখা হয়, তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে এটি পেশাগত এবং ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য সহায়ক হতে পারে।

হিমাগারের ভাড়া বাড়ছে , কমছে কৃষি পণ্যের দাম , বাড়ছে কৃষকের সংকট

বর্তমানে কৃষকদের বড় ধরনের সংকটে ফেলে দিয়েছে কৃষিপণ্যের নিম্নমূল্য এবং হিমাগারের অতিরিক্ত ভাড়া। বিশেষ করে টমেটো, পেঁয়াজ এবং আলুর ক্ষেত্রে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। কৃষক পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি টমেটো উৎপাদনে ব্যয় হয় ১২-১৩ টাকা, কিন্তু বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১৮ টাকায়। পেঁয়াজ উৎপাদন ব্যয় ৩৮-৪০ টাকা হলেও কোনো কোনো স্থানে তা ৩৫ টাকায় নেমে এসেছে। অপরদিকে আলুর ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ দেখা দিয়েছে, যার ফলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না।

গত মৌসুমে আলুর ভালো দাম পাওয়ায় এবার আলুর আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি জমিতে হয়েছে। ফলে উৎপাদন ১ কোটি ২০ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে গেছে। হিমাগারের উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক কৃষক আলু সংরক্ষণ করতে না পেরে তাৎক্ষণিক বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে মৌসুম শেষে আলুর দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা মধ্যস্বত্বভোগীদের লাভের সুযোগ করে দিচ্ছে। পেঁয়াজ ও টমেটোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। পেঁয়াজ চাষিরা বলছেন, গত বছর পেঁয়াজের উচ্চমূল্যের কারণে এবার চাষ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু আমদানির চাপ এবং স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে দাম কমে গেছে। টমেটোর ক্ষেত্রেও চাষিরা উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না।

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ) গত ৮ ফেব্রুয়ারি হিমাগারের ভাড়া বৃদ্ধি ঘোষণা করে, যেখানে প্রতি কেজি আলুর ভাড়া ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কৃষকদের আন্দোলনের পর এটি কমিয়ে ৬.৭৫ টাকা করা হলেও কৃষকদের দাবি, এখনো এই হারও অনেক বেশি। বগুড়া, রংপুর ও জয়পুরহাটের হিমাগার মালিকরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ খরচ ও ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের কারণে ভাড়া বাড়াতে হয়েছে। তবে কৃষি বিপণন আইন ২০১৮ অনুযায়ী সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশ না করে হিমাগার ভাড়া বাড়ানো আইনসঙ্গত নয়। কৃষকরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে তারা আলুচাষে নিরুৎসাহিত হবেন, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বেশি হিমাগার ভাড়ার কারণে কৃষকরা উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাদের মতে হিমাগার মালিকদের নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারি নীতিমালা কার্যকর করা দরকার। কৃষকদের দাবি হচ্ছে, প্রতি কেজি আলুর হিমাগার ভাড়া দেড় টাকার মধ্যে নামিয়ে আনা হোক। ধানের মতো আলুও সরকার ক্রয় করে সংরক্ষণ করুক। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হোক।

কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়া জানিয়েছেন, সরকার ১০০টি মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে, যা কৃষকদের সংরক্ষণ সমস্যা লাঘব করবে। এছাড়া কৃষকদের বাড়িতে ছোট সংরক্ষণাগার তৈরি করতেও সহায়তা দেওয়া হবে। এদিকে সরকার আলু রফতানির বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলুর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে রফতানি সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। কিন্তু কৃষকদের দাবি, সরকারকেই হিমাগার ব্যবস্থাপনায় কঠোরভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে যাতে কৃষকরা ন্যায্য দাম পান এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

২০ বিলিয়নের ‘ফাঁদে’ আটকে রিজার্ভ

একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রধান নির্দেশক হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। এটি মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ, যা আমদানিব্যয় মেটানো, মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ করা এবং বৈদেশিক দেনা পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়নের ঘরে ওঠানামা করছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি ও অর্থপাচার বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে রেমিট্যান্সপ্রবাহ ভালো, রপ্তানিও শক্তিশালী অবস্থানে। তারপরও ২১ বিলিয়নের গন্ডি পার হয়নি রিজার্ভ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে আমদানিব্যয় সংকুচিত করা ছিল। সম্প্রতি সংকট ঠেকাতে আমদানি বাড়ানো হয়েছে। যে কারণে রিজার্ভ একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আটকে আছে। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম তিন মাসের আমদানিব্যয় মেটানোর সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের ব্যবহারযোগ্য প্রকৃত রিজার্ভ এখন ১৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। প্রতি মাসে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে তিন মাসের আমদানিব্যয় মেটাতে কষ্টসাধ্য হবে বাংলাদেশের জন্য। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, এখন আর রিজার্ভ কমবে না। ধীরে ধীরে বাড়বে।

সময় একটা অলীক ধারণা – যুক্তি দিয়েই কিভাবে প্রমাণ করা সম্ভব ?

0

মডার্ন ফিজিক্সে অনেকেই ধারণা করেন যে সময় একটি ভ্রম (illusion)। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাবিশ্ব একটি স্থির, চতুর্দিকে তিনটি মাত্রা এবং সময়ের ব্লক আকারে বিরাজিত, যেখানে সময় এবং স্থান একসাথে বিদ্যমান। অর্থাৎ, কোনো বিশেষ “now” নেই এখানে। একজন পর্যবেক্ষকের জন্য যা ভবিষ্যত, অন্য একজনের জন্য তা অতীত। এর মানে হলো সময় অতীত থেকে ভবিষ্যতে প্রবাহিত হয় না, যেমনটা আমরা মনে করি। তবে সময়ের ধারণাটি অন্যান্য ক্ষেত্রের ফিজিক্সে যেমন কোয়ান্টাম মেকানিক্সে ভিন্নভাবে বিবেচিত হয়। তাহলে সময় কি আসলেই একটি ভ্রম? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়ার একটি পদ্ধতি হতে পারে, শুধুমাত্র যুক্তি ব্যবহার করে সময়ের অস্থিত্ব প্রমাণ করা।

১৯০৮ সালে ইংরেজ দার্শনিক জে.এম.ই. ম্যাকট্যাগার্ট একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি যুক্তি দেন যে সময়ের অস্থিত্ব প্রমাণ করা সম্ভব শুধুমাত্র যুক্তি ব্যবহার করেই। তিনি সময়ের অস্তিত্ব নিয়ে একটি গূঢ় বিতর্ক শুরু করেন, যা আজও চলমান ।ম্যাকট্যাগার্ট সময়ের অস্থিত্বের জন্য দুটি ভিন্ন পদ্ধতি বা সিরিজ আলোচনা করেছেন: A-সিরিজ এবং B-সিরিজ। B-সিরিজ হচ্ছে সময়ের গতিশীলতার অভাব। ম্যাকট্যাগার্ট প্রথমে B-সিরিজ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই সিরিজে, তিনি একটি কাল্পনিক পরিস্থিতি তৈরি করেন, যেখানে আপনাকে বিভিন্ন ঘটনার কার্ড সাজাতে বলা হয়েছে – যেমন, ২০২৪ সাল, রানী ভিক্টোরিয়ার মৃত্যু, এবং ২০২৬ সালের সূর্যগ্রহণ। এই কার্ডগুলিকে সময়ের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী সাজানো হয়।

একে বলা হয় ‘পূর্ববর্তী-পরে’ সম্পর্ক, অর্থাৎ, যা সময়ের ক্ষেত্রে আগেই ঘটেছে, তা একটি দিকে এবং যা পরবর্তীতে ঘটবে তা অন্য দিকে রাখা হয়। যেমন রানী ভিক্টোরিয়ার মৃত্যু ২০২৬ সালের সূর্যগ্রহণের আগে ঘটেছে, আর ২০২৪ সাল ২০২৬ সালের সূর্যগ্রহণের পরে ঘটেছে। এই সাজানো কার্ডগুলো একে অপরের সাথে সম্পর্কিত হলেও ম্যাকট্যাগার্টের মতে, এই সাজানো পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন নেই। একবার যখন কার্ডগুলো স্থির হয়ে যায়, তখন কিছুই পরিবর্তিত হয় না। সময়কে যদি পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত হিসেবে দেখা হয়, তবে এই B-সিরিজ সময়ের প্রকৃত ধারণা দিতে পারে না।

A-সিরিজ হচ্ছে সময়ের পরিবর্তনশীলতা। এরপর ম্যাকট্যাগার্ট A-সিরিজ নিয়ে আলোচনা করেন, যেখানে সময়ের ধারণা আরো পরিবর্তনশীল। এখানে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত অনুযায়ী বিভিন্ন ঘটনার কার্ডগুলো তিনটি আলাদা গাদায় ভাগ করা হয়। অতীতে ঘটিত ঘটনা যেমন রানী ভিক্টোরিয়ার মৃত্যু, বর্তমানে ঘটমান ঘটনা যেমন ২০২৪ সাল এবং ভবিষ্যতে ঘটবে এমন ঘটনা যেমন ২০২৬ সালের সূর্যগ্রহণ। সময়ের অগ্রগতির সাথে, এই কার্ডগুলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যায়, যেমন ভবিষ্যত থেকে বর্তমান এবং বর্তমান থেকে অতীতে।

এটি পরিবর্তনের ধারণাকে তুলে ধরে, কারণ সময় অতিক্রম করলে কার্ডগুলোর অবস্থান পরিবর্তিত হয়। তবে ম্যাকট্যাগার্টের মতে, এই পদ্ধতিও একটি বৃত্তাকার সমস্যার মুখোমুখি হয়। আপনি সময়কে বোঝার জন্য যে কাজটি করছেন, সেই কাজটিই সময়ের মধ্যে ঘটছে। এর মানে হলো আপনি যে সময়ের অস্তিত্ব খুঁজছেন, সেই সময়ের মধ্যে আপনার কর্মকাণ্ডের অস্তিত্ব রয়েছে। এটি একটি যুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে ঘূর্ণন সৃষ্টি করে এবং যুক্তিকে ভঙ্গুর করে। ম্যাকট্যাগার্ট দুটি সিরিজের বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে সময় আসলেই একটি ভ্রম। B-সিরিজে পরিবর্তন নেই, আর A-সিরিজ বৃত্তাকার। অতএব কোনো সিরিজই সময়ের প্রকৃত ধারণা দিতে পারে না, এবং সময় আসলে একটি অবাস্তব ধারণা।

এরও এক শতাব্দী পর দার্শনিকরা এখনও সময়ের প্রকৃতি নিয়ে চিন্তা করছেন। কিছু দার্শনিক A-সিরিজকে এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে চাচ্ছেন, যাতে এটি বৃত্তাকার না হয়। তারা একে সময়ের বাস্তবতা হিসেবে গ্রহণ করতে চান। অন্যদিকে B-সিরিজের সমর্থকরা মেনে নিয়েছেন যে সময়ের প্রকৃতি এমনই এবং তারা ম্যাকট্যাগার্টের দাবি ভুল বলে মনে করেন। আবার কিছু C-সিরিজের দার্শনিকরা বলেন, সময়ের কোনো নির্দিষ্ট অগ্রগতি বা দিক নেই। সময় আসলে একটি নৈর্ব্যক্তিক ধারাবাহিকতা, যার দিকে কোনো নির্দিষ্ট প্রবাহ নেই।

শেষমেষ সময়ের প্রকৃতি কি তা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে ম্যাকট্যাগার্টের যুক্তিপূর্ণ বিশ্লেষণ এক শতাব্দী পরেও দার্শনিকদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের সূচনা করেছে। তার তত্ত্বের মাধ্যমে সময়ের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এটি আমাদেরকে সময়ের ধারণাটি আরো গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে। আমরা হয়তো এখনো জানি না সময় কি, কিন্তু এই আলোচনা আমাদেরকে সেই অজানা জানার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে।

মাটি ছাড়াই উৎপাদন হবে ঘাস , কাটবে গবাদিপশুর খাদ্যসংকট

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের একদল গবেষক মাটি ছাড়া চাষাবাদের মাধ্যমে গৃহপালিত পশুর খাদ্যের চাহিদা মেটানোর জন্য হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে বিশেষ ধরনের ঘাস উৎপাদন করেছেন। এই ঘাসকে বলা হয় ‘হাইড্রোপনিক ফডার’, যা সাধারণ ঘাসের তুলনায় অনেক বেশি পুষ্টিকর। গবেষণার ফলাফল এবং এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “সম্প্রতি বন্যার কারণে দেশে প্রচুর গবাদিপশু খাদ্যসংকটে পড়েছিল এবং অনেক পশু খাদ্যের অভাবে মারা গেছে। এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণা গবাদিপশুর খাদ্য সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, বিদেশে বেশিরভাগ খামারি নিজেরাই গোখাদ্য উৎপাদন করেন, ফলে তাদের পশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং দুধ উৎপাদনও বেশি হয়। হাইড্রোপনিক ফডার উৎপাদন বাংলাদেশের শহরাঞ্চল ও জমিহীন খামারিদের জন্য কার্যকর হতে পারে। তিনি এই গবেষণার আরও সম্প্রসারিত প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন। অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মো. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গবেষণা ও উদ্ভাবনী কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. কাজী দিদারুল ইসলাম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শরিফুল ইসলাম এবং প্রকল্পের প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. সরদার শফিকুল ইসলাম।

গবেষকরা জানান, সাধারণ ঘাসের তুলনায় হাইড্রোপনিক ফডারের অনেক সুবিধা রয়েছে। এতে অধিক পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও উচ্চমাত্রার আমিষ থাকে। এটি প্রাণীদের কাছে সুস্বাদু এবং সহজে হজম হয়। মাত্র ৭ থেকে ১১ দিনের মধ্যে উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় এতে আঁশ ও লিগনিনের মাত্রা কম থাকে এবং এনার্জির পরিমাণ বেশি হয়। অঙ্কুরোদ্গম প্রক্রিয়ার কারণে এনজাইমের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায় যা ভিটামিন বি, সি ও এ উৎপাদনে সহায়তা করে এবং প্রাণির দেহে ভিটামিন শোষণের মাত্রা বৃদ্ধি করে।

গবেষকরা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবহাওয়ায় পাঁচ প্রজাতির বীজ ব্যবহার করে ফলন, পুষ্টিগুণ ও উৎপাদন খরচ বিশ্লেষণ করেছেন। বীজগুলোর মধ্যে ছিল ভুট্টা, গম, যব, সরগাম ঘাস ও বরবটি। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিকূল পরিবেশেও এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ফডার উৎপাদন করা সম্ভব। খরচের দিক বিবেচনায় গমের ফডার বেশি লাভজনক, তবে ফলনের দিক থেকে যব ও বরবটি অধিক সফলতা দেখিয়েছে। প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘‘হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হচ্ছে। বিশেষ করে চীনে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমাদের উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলে এই পদ্ধতি কতটা কার্যকর তা নিয়ে আরও গবেষণা করা উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “এই প্রযুক্তি শহরাঞ্চল ও জমিহীন খামারিদের জন্য বড় সুযোগ এনে দিতে পারে। গবেষণার উন্নতির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।’’ এই গবেষণা বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি পশুখাদ্যের ঘাটতি মেটাতে সহায়ক হবে এবং বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কৃষকদের সহায়তা করবে। কর্মশালায় উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কৃষকরা গবেষণার প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

স্ট্যানলি কিউব্রিক ও চন্দ্রাভিযানের রহস্য – সত্য নাকি ষড়যন্ত্র ?

স্ট্যানলি কিউব্রিক বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিচালক, সিনেমার মাধ্যমে তিনি বিশ্ব চলচ্চিত্রে এক অদ্বিতীয় দাগ রেখে গেছেন। তার কাজের মধ্যে “২০০১: অ্যা স্পেস ওডিসি” (1968), “এ ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ” (1971) এবং “দ্য শাইনিং” (1980) এর মতো চলচ্চিত্রগুলি সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত এবং দর্শকদের মনে গভীর ছাপ রেখে গেছে। কিন্তু কিউব্রিকের জীবন এবং কাজ নিয়ে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় কন্সপিরেসি থিওরি বহু বছর ধরে চলছে, যা তার বিখ্যাত চলচ্চিত্র “দ্য শাইনিং”-এর সাথে সম্পর্কিত। এই কন্সপিরেসি থিওরি বিশেষভাবে দাবি করে যে, কিউব্রিক নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপোলো ১১ চন্দ্রাভিযান মিথ্যা প্রদর্শনের পেছনে কাজ করেছেন।

এই কন্সপিরেসি থিওরির মূল থিসিস হল, “দ্য শাইনিং” চলচ্চিত্রটি চন্দ্রাভিযান মিথ্যা প্রমাণের জন্য একটি গোপন সংকেত হিসাবে তৈরি হয়েছিল। থিওরি অনুসারে, কিউব্রিক নাকি তার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে “পৃথিবী থেকে চাঁদে মানুষের পা রাখা ঘটনা সত্য ছিল ন” এমন একটি বার্তা দিতে চেয়েছিলেন। তাছাড়া তিনি দাবীও করেছিলেন, চন্দ্রাভিযান বাস্তব ছিল না এবং আমেরিকা সরকার তা জনগণের কাছে গোপন রেখেছে। এই থিওরি কিভাবে জন্ম নিয়েছিল? এর শিকড় ১৯৮০ সালে মুক্তি পাওয়া “দ্য শাইনিং” ছবির একটি দৃশ্য থেকে বের হয়। সিনেমাটিতে একটি দৃশ্য রয়েছে যেখানে একটি ছোট ছেলে একটি ট্রাক চালিয়ে একটি গন্তব্যে যাচ্ছে। তার শার্টে একটি ‘Apollo 11’ লোগো দেখা যায়, যা অনেকের কাছে অবাক করার মতো মনে হয়েছিল।

সেই থেকে কন্সপিরেসি থিওরিস্টরা ধারণা করতে শুরু করলেন যে, কিউব্রিক নিজের চলচ্চিত্রে “চন্দ্রাভিযান মিথ্যাযুক্ত” হতে পারে এমন একটি বার্তা রাখতে চেয়েছিলেন। স্ট্যানলি কিউব্রিকের চন্দ্রাভিযান সংক্রান্ত কাজের পেছনে কী সত্য ছিল, তা কখনোই নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। তবে কিছু কন্সপিরেসি থিওরি দাবি করে যে, কিউব্রিক নাকি চাঁদে অবতরণ দৃশ্য শুট করার জন্য হোয়াইট হাউস থেকে নিযুক্ত হন। এমনকি বলা হয় যে, তিনি স্টুডিওতে চন্দ্রপৃষ্ঠের মতো পরিবেশ তৈরি করে, এটি একটি কৃত্রিম সেটে ধারণ করেছিলেন এবং এর মাধ্যমে চাঁদে অবতরণের দৃশ্য রেকর্ড করেছিলেন।

স্ট্যানলি কিউব্রিকের সিনেমাগুলিতে প্রচুর সিম্বোলিজম এবং রহস্যময় উপাদান রয়েছে। “দ্য শাইনিং”, “এ ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ” এবং “২০০১: অ্যা স্পেস ওডিসি” এমন চলচ্চিত্র যা দর্শকদের গভীরভাবে ভাবায় এবং অনেক সময় রহস্যের মধ্যে ডুবিয়ে রাখে। কিউব্রিকের প্রতি সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গির জন্য তার চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে এমন কিছু প্রকাশ পাওয়া যায়, যা সাধারণ দর্শক অথবা সমালোচকরা সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন না। এতে করে আরও রহস্য সৃষ্টি হয় এবং একে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কন্সপিরেসি থিওরি জন্ম নেয়। “দ্য শাইনিং” ছবিতে বিশেষভাবে “ছোট ছেলে” এবং “ট্রাক” সিম্বলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কন্সপিরেসি থিওরিস্টরা এ দৃশ্যটি দেখে মনে করেন যে, এটি চন্দ্রাভিযান মিথ্যা করার একটি সংকেত। এমনকি কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, ছবির কিছু নির্দিষ্ট ফ্রেমের মাধ্যমে কিউব্রিক পৃথিবী এবং চাঁদের সম্পর্কের গোপন তথ্য প্রকাশ করেছেন।

কিউব্রিকের মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন কন্সপিরেসি থিওরি রয়েছে। 1999 সালে তার মৃত্যুর পর বলা হয়েছিল যে, তার মৃত্যু রহস্যজনক এবং এটি চন্দ্রাভিযান সংক্রান্ত কন্সপিরেসি থিওরির সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। স্ট্যানলি কিউব্রিকের কাজ এবং জীবন সম্পর্কে প্রচুর কন্সপিরেসি থিওরি ছড়িয়ে রয়েছে, বিশেষত “দ্য শাইনিং” এবং অ্যাপোলো ১১ চন্দ্রাভিযান নিয়ে। এসব থিওরি আজও জনপ্রিয় হলেও সত্যতা নিয়ে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই। কিউব্রিক তার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দর্শকদের মনে এমন প্রশ্ন সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন যা সহজে উত্তর দেয়া যায় না। তার কাজের মধ্যে রহস্য, সিম্বোলিজম এবং গভীরতার যে মিশ্রণ ছিল, তা আজও দর্শকদের ভাবায় এবং কন্সপিরেসি থিওরির জন্ম দেয়। এগুলো কেবল সিনেমার অংশ হতে পারে, কিন্তু স্ট্যানলি কিউব্রিকের চলচ্চিত্রের রহস্য আজও মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে।

চীনে অ্যাপলকে ছাড়িয়ে , জনপ্রিয়তার শীর্ষে – হুয়াওয়ের হারমোনিওএস

0

চীনের প্রযুক্তি বাজারে বড় পরিবর্তন এসেছে, যেখানে হুয়াওয়ের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম হারমোনিওএস আইওএসকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। যদিও চীনে এখনো সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড, তবে হারমোনিওএসের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্টের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) চীনে অ্যান্ড্রয়েডের বাজার হিস্যা ছিল ৬৪ শতাংশ। অন্যদিকে হারমোনিওএসের হিস্যা ছিল ১৯ শতাংশ, যা আইওএসের তুলনায় দুই শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। এই অগ্রগতি হুয়াওয়ের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ফলে একসময় হুয়াওয়ের স্মার্টফোন ব্যবসা সংকটের মুখে পড়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখন শুধু সফটওয়্যারেই নয়, হার্ডওয়্যারেও শক্ত অবস্থানে ফিরে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরজুড়ে চীনে সফটওয়্যার ব্যবহারে হুয়াওয়ে অ্যাপলের থেকে এগিয়ে ছিল। এটি চীনা প্রযুক্তি জায়ান্টটির জন্য একটি বড় সফলতা। নিষেধাজ্ঞার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি ধাপে ধাপে তাদের হারানো বাজার ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছিল এবং সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তারা সফলভাবেই সে লক্ষ্য অর্জন করছে। কেবল সফটওয়্যার নয়, স্মার্টফোন বিক্রির ক্ষেত্রেও চীনে হুয়াওয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। কাউন্টারপয়েন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের শেষ তিন মাসে চীনের স্মার্টফোন বাজারে শীর্ষস্থান দখল করেছিল হুয়াওয়ে। প্রতিষ্ঠানটি এ সময় ১৮ শতাংশের বেশি বাজার হিস্যা অর্জন করেছে, যা তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

বিশ্লেষকদের মতে, হুয়াওয়ের এই পুনরুত্থানের পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে নোভা ১৩ এবং মেট ৭০ সিরিজের স্মার্টফোনগুলো। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে তাদের স্মার্টফোন বিক্রি ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসের উদ্ভাবনী নকশা, শক্তিশালী পারফরম্যান্স এবং উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কাউন্টারপয়েন্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চীনে হারমোনিওএসের ব্যবহারের হার ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে চীনা সরকারের সমর্থন। চীন সরকার অর্থনীতিকে উৎসাহিত করতে স্মার্টফোনের ওপর বিশেষ প্রণোদনা দিচ্ছে। এর আওতায় ৬ হাজার ইউয়ান (প্রায় ৮০০ ডলার) মূল্যের নিচের স্মার্টফোনের ক্রয়ে ৫০০ ইউয়ান (প্রায় ৭০ ডলার) পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। এই নীতির ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হারমোনিওএস চালিত স্মার্টফোনগুলোর চাহিদা আরও বাড়তে পারে।

তবে বিশ্ববাজারের চিত্র এখনো ভিন্ন। চীনের বাইরে অ্যান্ড্রয়েড এখনও সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম। বিশ্বব্যাপী হুয়াওয়ের বাজার হিস্যা ২০২৪ সালের শুরু থেকে স্থির রয়েছে মাত্র ৪ শতাংশে। যদিও চীনা বাজারে প্রতিষ্ঠানটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে, তবে বৈশ্বিক পর্যায়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং গুগল সেবার অনুপস্থিতির কারণে তাদের জন্য প্রতিযোগিতা এখনো কঠিন। পর্যালোচকরা মনে করছেন, যদি হুয়াওয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে হারমোনিওএসকে আরও জনপ্রিয় করতে পারে এবং গুগল পরিষেবার বিকল্প তৈরি করতে সক্ষম হয়, তবে ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারেও তারা বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে। আপাতত, চীনে অ্যাপলকে পেছনে ফেলে হুয়াওয়ে তার শক্ত অবস্থান পুনরুদ্ধার করেছে, যা প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন এক মাইলফলক হিসেবে ধরা হচ্ছে।