Home Blog Page 162

অনিদ্রার কারণ ও সমাধান –

রাতে বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করছেন, কিন্তু ঘুম আসছে না? মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলো, তারপর আর চোখের পাতা এক হচ্ছে না? অনিদ্রা এমন এক সমস্যা, যা অনেকেই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে অনুভব করেন।

কেন অনিদ্রা হয় ?

-অনিদ্রার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

-দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ

-বার্ধক্যজনিত পরিবর্তন

-মেনোপজ বা হরমোনের পরিবর্তন

-নাইট শিফটের কাজ

-অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা এলকোহল সেবন

-ঘুমের অনিয়মিত রুটিন

অনিদ্রার লক্ষণ –

-ঘুম আসতে দেরি হওয়া

-মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া ও পুনরায় না আসা

-ভোরে জেগে যাওয়া ও ক্লান্তি অনুভব করা

-সারাদিন অলসতা ও মনোযোগের ঘাটতি

ঘুম না আসলে কী করবেন ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমানোর জন্য জোর করে চেষ্টা না করাই ভালো।

ঘুম না এলে:

-বই পড়তে পারেন

-বিছানা ছেড়ে কিছুক্ষণ হাঁটতে পারেন

-প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও উঠার অভ্যাস করুন

-ঘুমানোর জায়গাটি শুধু ঘুমের জন্য ব্যবহার করুন

-ঘুমের আগে মোবাইল বা টিভি স্ক্রিন এড়িয়ে চলুন

চিকিৎসকের কাছে কখন যাবেন ?

যদি টানা তিন মাস ধরে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ঘুমের সমস্যা হয় এবং এর ফলে দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ওষুধের বিকল্প

বিশেষজ্ঞরা ওষুধের পরিবর্তে কগনেটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (CBT)-র পরামর্শ দেন, যা অধিকাংশ মানুষের জন্য কার্যকর। সুস্থ ও নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করতে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে অনিদ্রার সমাধান করা উচিত।

সংক্ষেপে হ্যাপিটালিজম –

0

বিগত দুইশো বছরে পুঁজিবাদ বিশ্বব্যাপী একটি শক্তিশালী আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা হিসেবে শিকড় গেড়েছে। এর মূলমন্ত্র হচ্ছে ব্যক্তি উদ্যোগের অবাধ স্বাধীনতা, যার মাধ্যমে মানুষ তার ব্যবসা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিকশিত করতে পারে। ইতিহাস বলে, যখন মানুষ তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ বিকশিত করার স্বাধীনতা পায়, তখন তা সমাজ এবং রাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করে। পুঁজিবাদ নিঃসন্দেহে বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করেছে, তবে এর দুর্বলতা গুলোও অস্বীকার করি কিভাবে!

পুঁজিবাদে মুনাফা এবং ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনকে প্রধান্য দেওয়া হয়, যার ফলে কিছু মানুষ অত্যধিক ধনী হয়ে ওঠে, অথচ অধিকাংশ মানুষ বঞ্চিত থাকে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পৃথিবীতে মাত্র ৪২ জন ধনী ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ ৩৭০ কোটি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সম্পদের সমান। প্রায় ২০ কোটি মানুষ বেকার বা কর্মহীন এবং প্রতি দশজনে একজন অপুষ্টির শিকার। বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভুগছে নয়জনের মধ্যে একজন। আনুমানিক ১৬০ কোটি মানুষ গৃহহীন। এই পরিস্থিতি একদিকে সামাজিক বিভাজন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে মানবজাতির সুখের প্রশ্ন তুলছে।

বিশ্বব্যাপী অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও মানুষ আসলেই সুখী কিনা, তা এখনো বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ ২০১২ সালে সর্বজনীন লক্ষ্য হিসেবে সুখ এবং কল্যাণকে স্বীকৃতি দিয়েছে, এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সংগত ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দিকে আহ্বান জানিয়েছে, যা মানুষের সুখ এবং কল্যাণ নিশ্চিত করবে। এই ধারণার বাস্তবায়নে ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর সব মানুষের জীবনে সুখ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন অর্থনৈতিক প্যারাডাইম (এনইপি) চালু করা হয়। ২০১৯ সালে এ প্রকল্প থেকে পুঁজিবাদ বা ‘ক্যাপিটালিজম’-এর পরিবর্তে ‘হ্যাপিটালিজম’ নামক নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রবর্তনের জন্য আহ্বান জানানো হয়।

ক্যাপিটালিজম একটি নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক দর্শন, এটা সব মানুষের স্বাধীনতা, মঙ্গল এবং সুখের নিশ্চয়তা প্রদান করবে। শুধু ব্যক্তিগত সুখের ওপর নয় বরং সমাজ, পরিবেশ এবং অর্থনীতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করে। এটি এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে মানুষের সুখ এবং কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। হ্যাপিটালিজমের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি সমাজ গঠন করা যেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি তার পরিপূর্ণ সম্ভাবনা বিকশিত করার সুযোগ পাবে এবং একইসাথে সমাজ ও পরিবেশের স্বার্থ সংরক্ষিত থাকবে।

এই ধারণা প্রথাগত পুঁজিবাদ এবং সমাজতন্ত্র থেকে আলাদা। পুঁজিবাদ ব্যক্তিগত সম্পদ এবং মুনাফা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেয়, আর সমাজতন্ত্র সম্পদের সমবণ্টন এবং সমষ্টিগত কল্যাণের দিকে মনোযোগ দেয়। ক্যাপিটালিজম এই দুটি ধারণার মধ্যে সমন্বয় ঘটানো হয়, যেখানে ব্যক্তির সুখ এবং সমাজের কল্যাণ একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়। ক্যাপিটালিজম ধারণাটি প্রাচীন দর্শন, ধর্ম এবং আধুনিক চিন্তাভাবনার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল সুখকে ‘ইউডাইমোনিয়া’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যা শুধু আনন্দ নয়, জীবনের পূর্ণতা এবং উদ্দেশ্য অর্জনের মাধ্যমে অর্জিত হয়। বৌদ্ধ ধর্মে সুখের ধারণাটি মানসিক শান্তি এবং নির্বাণের সঙ্গে জড়িত। এটি ব্যক্তির আত্মিক উন্নতি এবং সামাজিক সম্প্রীতির ওপর জোর দেয়।

সকল ধর্মেই ব্যক্তির আত্মিক উন্নতি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যার মধ্য দিয়ে অর্জিত হবে সুখ এবং কল্যাণ। জেরেমি বেনথাম এবং জন স্টুয়ার্ট মিলের উপযোগবাদ তত্ত্ব সুখের ধারণাকে একটি দার্শনিক ভিত্তি প্রদান করে। তাঁদের মতে, সমাজের লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সর্বাধিক সুখ’ অর্জন করা। ১৯৭২ সালে ভুটানের রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুক প্রথমবারের মতো ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’ ধারণাটি উপস্থাপন করেন। এটি শুধু অর্থনৈতিক সাফল্য নয়, মানুষের সুখ এবং কল্যাণ পরিমাপের একটি সূচক। ভুটানের এই উদ্যোগ হ্যাপিটালিজমের ধারণাকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তোলে। নিউজিল্যান্ড সরকারও ২০১৯ সালে একটি বাজেট প্রণয়ন করে, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য, শিশু কল্যাণ এবং পরিবেশগত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

ক্যাপিটালিজম ধারণাকে বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে।কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এই ধারণাকে বাস্তবায়নে সাহায্য করতে পারে:ক্যাপিটালিজম মূলনীতিগুলো শিক্ষার মাধ্যমে মানুষে মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পরিবেশ সুরক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে।সরকারকে এমন নীতি প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে মানুষের সুখ এবং কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। ভুটানের ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’ সূচক ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্যবসায়ীদের উচিত তাদের কর্মীদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মানসিক কল্যাণের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া।

ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাহকদের প্রয়োজনের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে এবং তাদের প্রতিক্রিয়া ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়াও ক্যাপিটালিজম সাফল্যের জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং পুঁজিবাদ এবং সমাজতন্ত্রের অন্তর্নিহিত দুর্বলতা স্বীকার করে, হ্যাপিটালিজম এখন সময়ের দাবি। মানবজাতির সুখ এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন ব্যবস্থা হিসেবে ক্যাপিটালিজম বিশ্বব্যাপী কার্যকর হওয়ার পথে রয়েছে।





শিল্পকলার নতুন রহস্য – মাস্টারপিসের তলায় লুকানো পোর্ট্রেট

শিল্পের জগতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রহস্য আবিষ্কার হচ্ছে, বিশেষত শতাব্দী প্রাচীন চিত্রকর্মগুলির মধ্যে। গোপন চিত্রাবলী, মুখাবয়ব এবং দৃশ্যাবলী যেগুলো কল্পনায় কখনো আসেনি, তা অদ্ভুতভাবে আমাদের সামনে উঠে আসে। প্রাচীন শিল্পকর্মের নিচে লুকিয়ে থাকা এসব ছবি প্রমাণ করে যে শিল্পীরা হয়তো নিজেদের প্রাথমিক কাজগুলো বাদ দিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে চেয়েছেন, অথবা কিছু বিশেষ কারণে তা গোপন রেখেছেন। এই আবিষ্কারগুলো শুধু আমাদের চিত্রকলা ও ইতিহাসের গভীরতর দিকের পরিচয় দেয় না, পাশাপাশি তা এই শিল্পগুলির অতীতের রহস্যময়তা ও সময়ের পরিবর্তনকেও চিহ্নিত করে।

টিশিয়ানের গোপন প্রতিকৃতি

ফেব্রুয়ারিতে সাইপ্রাস ইনস্টিটিউটের আন্দ্রেয়াস পিটাস আর্ট ক্যারেক্টারাইজেশন ল্যাবরেটরির গবেষকরা টিশিয়ানের বিখ্যাত কাজ ‘একস হোমো’ (১৫৭০-৭৫) এর নিচে একটি উল্টো আঁকা প্রতিকৃতির অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন। এটি ছিল একটি মাস্ক পরিহিত পুরুষ, যার হাতে কলম ছিল। টিশিয়ানের ছবির উপরিভাগে যীশু ও পন্টিয়াস পাইলাটোসের দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে যীশুকে মৃত্যুদণ্ডে দান করার মুহূর্তটি চিত্রিত। তবে গোপন ছবিটি ছবির নিচে অবস্থিত, যেটি সতেরো শতকের চিত্রশিল্পের একটি অদ্ভুত রহস্য তুলে ধরে। গবেষকরা বলেন, এই গোপন ছবিটি যীশুর হাত বাঁধার দড়ির বাঁকানো রেখাগুলির সাথে সম্পর্কিত, যা চিত্রটির সুরকে আরও শক্তিশালী করেছে।

পিকাসোর গোপন মহিলার প্রতিকৃতি

আরেকটি গোপন আবিষ্কার পিকাসোর ‘ব্লু পিরিয়ড’-এর একটি চিত্রকর্মে পাওয়া যায়। ছবির নিচে এক মহিলার প্রতিকৃতি ছিল, যা পিকাসোর বন্ধু মাতেু ফার্নান্দেজ ডি সোতোর একটি ছবির নিচে লুকিয়ে ছিল। এই মহিলার প্রতিকৃতিটি একটি পুরোনো এবং ইম্প্রেশনিস্টিক শৈলীতে আঁকা, যা মনে হয়, সোতোর কানে কিছু ফিসফিস করছে। এটি অতীত ও বর্তমানের এক অদ্ভুত মিলন, যেখানে একটি গোপন মুখাবয়ব বর্তমান ছবির সাথে মিশে গিয়ে এক রহস্যময় মুহূর্ত সৃষ্টি করেছে।

রেমব্রান্টের ‘অল্ড ম্যান ইন মিলিটারি কস্টিউম’

রেমব্রান্টের ‘অল্ড ম্যান ইন মিলিটারি কস্টিউম’ ছবিটি সাধারণত গাঢ় রঙের আলোছায়ায় পূর্ণ একটি গভীর ভাবনার ছবি হিসেবে পরিচিত। তবে যখন গবেষকরা এই ছবির উপর এক্স-রে ফ্লুরোসেন্স এবং ইনফ্রারেড রিফ্লেক্টোগ্রাফি বিশ্লেষণ করেন, তারা আবিষ্কার করেন, ছবির নিচে একটি যুবকের ছবি লুকানো ছিল। এই যুবকটি উজ্জ্বল রেড এবং গ্রীন রঙে আঁকা, যা ছবিটির মূল ধারণার সাথে বৈপরীত্য তৈরি করেছে।

আর্তেমিসিয়া জেনটাইলেস্কির ‘সেন্ট কেটারিন অফ আলেকজান্দ্রিয়া’ –

আর্টেমিসিয়া জেনটাইলেস্কি তার ‘সেন্ট কেটারিন অফ আলেকজান্দ্রিয়া’ ছবির জন্য এক্স-রে বিশ্লেষণ করেছেন, যা প্রমাণ করে, তিনি ছবিটি আসলে একটি আত্ম-প্রতিকৃতি হিসেবে আঁকতে শুরু করেছিলেন। প্রথমে এই ছবি ছিল ‘সেলফ-পোর্ট্রেট’। পরে সেই প্রতিকৃতির কিছু অংশ পরিবর্তন করে তাকে সেন্ট কেটারিনের চরিত্রে রূপান্তরিত করা হয়েছিল।

ক্যারাভাগিও এবং তার ‘ব্যাকাস’

ক্যারাভাগিও তার ছবিতে একাধিকবার নিজেকে স্থান দিয়েছেন, যদিও তার জীবনে তিনি একমাত্র একটি চিত্র সাইন করেছিলেন। ক্যারাভাগিওর ‘ব্যাকাস’ ছবিতে একটি গোপন আত্ম-প্রতিকৃতি ছিল, যা প্রথমে ১৯২২ সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল এবং পরে আধুনিক গবেষণায় তা পুনরায় প্রকাশিত হয়। এই ছোট প্রতিকৃতি ক্যারাভাগিওর নিজের প্রতিচ্ছবি ছিল, যা ছবির মূল থিমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। এটি ক্যারাভাগিওর চিত্রকর্মের জটিলতা এবং তার সৃষ্টির অন্তর্নিহিত ভাবনার এক নিদর্শন।

সেওরা এবং তার ‘ইয়াং উম্যান পাউডারিং হারসেলফ’

জর্জ সেওরার ‘ইয়াং উম্যান পাউডারিং হারসেলফ’ ছবিতে এক রহস্যময় প্রতিকৃতি লুকানো ছিল। সেওরা তার নিজের একমাত্র আত্ম-প্রতিকৃতি চিত্রটি ছবির জানালার মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিলেন, যা পরে গোপনভাবে ফ্লাওয়ার ভাসের মতো একটি পেইন্টিংয়ের আড়ালে চাপা পড়ে যায়। এই আড়াল করা প্রতিকৃতিটি সেওরার কাজের গোপন অংশ এবং তার শিল্পের কৌশলকে আরও প্রকট করে তুলে।

মডিলিয়ানি এবং তার ‘পোর্ট্রেট অফ আ গার্ল’ –

মডিলিয়ানি তার ‘পোর্ট্রেট অফ আ গার্ল’ ছবিতে তার এক প্রাক্তন প্রেমিকাকে গোপনে আঁকেন, যা পরে এক আধুনিক প্রযুক্তি দ্বারা পুনর্গঠন করা হয়। এই ছবির নিচে লুকানো থাকা সেই গোপন মুখাবয়ব মডিলিয়ানির ব্যক্তিগত জীবনের এক রহস্যময় দিককে প্রকাশ করে।

রেনে ম্যাগরিটের ‘লা সিঙ্কুইয়েম সিজন’ –

রেনে ম্যাগরিটের ‘লা সিঙ্কুইয়েম সিজন’ ছবির নিচে এক গোপন মহিলার ছবি আবিষ্কৃত হয়, যা তার স্ত্রী জর্জেটের মুখাবয়বের সাথে মিল ছিল। ম্যাগরিটের কাজের রহস্যময় দ্বৈততা এবং তার ‘রিডলিং’ শৈলী এটি আরও তীব্র করে তোলে। ছবিটি দুই পুরুষের মধ্যে একটি অদ্ভুত সংকট সৃষ্টি করে, যেখানে তারা একে অপরকে এক ধরণের সন্ধানী চোখে দেখতে থাকে।

এই গোপন ছবিগুলো দ্বারা হয়তো বোঝা যায় যে শিল্পীরা অনেক সময় নিজেদের কাজের মাধ্যমে অতীত এবং বর্তমানের মধ্যে সংযোগ তৈরি করতে চান। অথবা হতে পারে তারা শতাব্দীর জন্য রেখে যেতে চেয়েছিলেন রহস্যময় কোনো বার্তা। এসব গোপন প্রতিকৃতির মাধ্যমেও আমরা বুঝতে পারি শিল্প কখনও শেষ হয় না। বরং এক অবিরাম প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন স্তরের মধ্যে আবিষ্কৃত হয়।

ঢাকার বিষাক্ত বাতাস – কতটুকু জানি , কী করতে পারি ?

কল্পনা করুন, আমাদের অনায়াসে গ্রহণ করা শ্বাস নীরবে আমাদের জীবন থেকে আয়ু কেড়ে নিচ্ছে। এটি আর নিছক কল্পনা নয় ২০২১ সালে বায়ুদূষণ ৮.১ মিলিয়ন মানুষের প্রাণ কেড়েছে, যা বিশ্বব্যাপী প্রতি আটটি মৃত্যুর মধ্যে একটির সমান এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতি তিনটি মৃত্যুর মধ্যে একটির জন্য দায়ী। গ্লোবাল ডিজিজ বার্ডেন রিপোর্ট অনুসারে, এটি উচ্চ রক্তচাপের পর বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকি, যা কাউকে ছাড় দেয় না। এই হুমকি দুইভাবে আসে। রাস্তায় দূষিত বাতাস ও ঘরের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা ধোঁয়া—যেমন রান্নার আগুন থেকে নির্গত ধোঁয়া বা ধুলোময় ঘরবাড়ির বায়ু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে, আমাদের ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ এমন বিষাক্ত বাতাস গ্রহণ করে যা ধীরে ধীরে আমাদের শরীরে বিষের মতো কাজ করে। অতিক্ষুদ্র কণিকা—PM2.5—আমাদের শ্বাসযন্ত্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসজনিত রোগগুলোর (যেমন COPD) ৪৮ শতাংশ বাতাসে এই ক্ষুদ্র কণিকার কারণে হয়, আর ২০২১ সালে ৩৪ শতাংশ অপরিণত শিশু জন্মের পেছনেও রয়েছে বায়ুদূষণের ভূমিকা।

ঢাকার বাতাস বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহর। নিয়মিতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় থাকা এই নগরীর বাতাসে থাকে ইটভাটার কালো ধোঁয়া, যানবাহনের নির্গমন, নির্মাণকাজের ধুলাবালি ও কলকারখানার দূষণ—এসবই অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণের ফসল। সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) প্রায়শই ২০০-এর ওপরে থাকে—যা “অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর” হিসেবে চিহ্নিত, প্রতিদিনের জন্যই ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের জন্য এক দুঃসহ পরীক্ষা। ক্লিন এয়ার অ্যান্ড সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট (CASE) প্রকল্পের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ঢাকার ৭৫% দিন ছিল শ্বাস নেওয়ার জন্য অনুপযুক্ত। এমনকি ২০২০ সালেও অর্ধেকের বেশি দিন ছিল বিপজ্জনক। ফলে লাখো মানুষের জন্য এটি অবিরাম কাশির কারণ, নীরবে বিকশিত ক্যান্সারের উপাদান, এবং অকালমৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৪ সালে AQI-US মানদণ্ড অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে ১৩তম স্থানে ছিল। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা একটানা ১১ দিন বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে ছিল, যখন AQI ২৪৩ ছাড়িয়ে যায় এবং ১০ ফেব্রুয়ারিতে সর্বোচ্চ ৩৯২-এ পৌঁছে। এমনকি এশিয়ার অন্যতম দূষিত শহর দিল্লি ও লাহোরকেও ছাড়িয়ে যায়। ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত IQAIR-এর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বাতাস ১৮ দিন ছিল “অস্বাস্থ্যকর”, ১৫ দিন “অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর” এবং ১ দিন “বিপজ্জনক”।

২০১৫ সালে নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট ফর এয়ার রিসার্চ পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, শিল্প কারখানা, যানবাহন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির দহন ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান কারণ। প্রতিবেদন অনুসারে, এই তিনটি খাত মিলে প্রতি বছর ঢাকার বাতাসে ১৯,০০০ টন PM2.5 নির্গত করে, যার মধ্যে শিল্প খাত একাই ১৭,৫৫৬ টন অবদান রাখে। শিল্প খাতই সালফার অক্সাইড (SOx)-এর প্রধান উৎস, বছরে প্রায় ৬০,০০০ টন নির্গত হয়। অন্যদিকে, নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) নির্গমনের ক্ষেত্রে যানবাহনই প্রধান (৭,৫০০ টন/বছর), এর পরে শিল্প কারখানাগুলো (২,০০০ টন/বছর)। কার্বন অক্সাইড (COx) নির্গমনের দিক থেকে যানবাহন (১৮,৪৫০ টন/বছর) এবং জীবাশ্ম জ্বালানির দহন (১২,৩৫০ টন/বছর) প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয় বায়ু মান নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা ২০২৪-২০৩০ (Bangladesh National Air Quality Management Plan 2024-2030) প্রতিবেদনে ঢাকার PM2.5 দূষণের ছয়টি প্রধান উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে: গৃহস্থালি জ্বালানি দহন, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইটভাটা, কঠিন বর্জ্য, সড়কের ধুলো এবং পরিবহন। এর মধ্যে, গৃহস্থালি জ্বালানি দহন সর্বাধিক দূষণ সৃষ্টি করে (২৮%), আর পরিবহন সবচেয়ে কম (৪%)। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ইটভাটা ঢাকার মোট PM2.5 দূষণের মাত্র ১৩% অবদান রাখে। তবে এটি শিল্প দূষণের কথা উল্লেখই করেনি, যা বিস্ময়কর। নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট ফর এয়ার রিসার্চ-এর গবেষণায় শিল্পখাতকে ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস বলা হলেও, জাতীয় প্রতিবেদনে গৃহস্থালি জ্বালানিকে সবচেয়ে বড় দূষণকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। এছাড়া জাতীয় প্রতিবেদনে গ্যাস দূষণের কোনো তথ্য নেই এবং কোনো গবেষণাই ওজোন দূষণকে বিবেচনায় নেয়নি। এই অসংগতি ও তথ্যের অভাব দেখিয়ে দেয় যে, একটি ব্যাপক ও বিস্তারিত গবেষণা অত্যন্ত জরুরি।

ঢাকার বায়ুদূষণে ঋতু পরিবর্তনের বড় প্রভাব দেখা যায়। শীতকালে (ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি) বায়ুদূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে, আর বর্ষাকালে (জুন–সেপ্টেম্বর) তা কমে যায়। তবে গ্রীষ্ম এবং বর্ষার পরের সময়ে বায়ুদূষণের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও, এটি এখনো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বাংলাদেশের জাতীয় বায়ু মান নিয়ন্ত্রণের সীমা অতিক্রম করে। একই প্রবণতা দেশের অন্যান্য বড় শহরেও দেখা যায়। আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং মানুষের কর্মকাণ্ড এই ঋতুগত তারতম্যের পেছনে বড় ভূমিকা রাখে। শীতকালে বৃষ্টিপাত কম থাকে, নির্মাণকাজ বেড়ে যায় এবং এলোমেলোভাবে বালু ভরাট চলতে থাকে, যা দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শীতকালীন বাতাস ঢাকার উপর দিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং শহরতলির ইটভাটার ধোঁয়া বইয়ে নিয়ে আসে, যা বাতাসকে অত্যন্ত দূষিত করে তোলে।

ঢাকার বায়ুদূষণের জন্য সর্বাধিক অভিযুক্ত শিল্প হলো ইটভাটা। ১৯৯০ সালে ঢাকার আশেপাশে প্রায় ২৫০টি ইটভাটা ছিল। ২০০০ সালের মধ্যে এর সংখ্যা তিনগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৮৫০-তে পৌঁছায়, মূলত নির্মাণ শিল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে। গত দুই দশকে, এই সংখ্যা প্রায় এক হাজারে পৌঁছেছে। বর্তমানে এই ইটভাটাগুলো বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা ও বংশী নদীর তীরে ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এই সময়ে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ৪০০ ছাড়িয়ে যায়, যা স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার মতো জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন তৈরি করে।

বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রতিবেদন (প্রকাশিত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩) অনুযায়ী, বাংলাদেশের বড় শহরগুলোর বায়ুদূষণের প্রায় ৩০% ভারত থেকে আসে। শীতের শুরুতে, উত্তর-পশ্চিম দিকের বাতাস ভারতের ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি থেকে ধূলিকণাযুক্ত ধোঁয়া বাংলাদেশে বয়ে আনে। এটি গঙ্গা নদীর প্রবাহ অনুসরণ করে ধোঁয়ার নদীর মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং বাংলাদেশের পুরো আকাশ ঢেকে ফেলে, শেষ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে মিলিয়ে যায়। বায়ু দূষণের ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো যথাযথ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বাংলাদেশ সরকার ক্লিন এয়ার অ্যান্ড সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট (CASE) প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বায়ু দূষণ পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। এই প্রকল্পের অধীনে বায়ুর গুণমানের তথ্য সরাসরি প্রদানের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE) ১১টি শহরে ১৬টি “নিরবিচ্ছিন্ন বায়ু গুণমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (CAMS)” স্থাপন করেছে।

বাংলাদেশ ২০২৪-২০৩০ সালের জন্য “জাতীয় বায়ু গুণমান ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (NAQMP)” চালু করেছে, যা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশিত মান অনুসারে বার্ষিক PM2.5 মাত্রা কমিয়ে আনতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা “বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা (২০২২)” বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন সংস্থার সাথে সমন্বয় করবে। তবে এই ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন— এতে দূষণকারী সংস্থাগুলোর জন্য কঠোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি, কেবল সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। শিল্প কারখানার বিষাক্ত নির্গমন নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো কার্যকর নির্দেশনা নেই।

মাইসন – কালের গর্ভে চাপা পড়ে যাওয়া গ্রিক দার্শনিক

0

মাইসন গ্রিক দার্শনিক ও নৈতিক ঐতিহ্যে অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত ব্যক্তি হলেও ইতিহাসে তার একটি অনন্য স্থান রয়েছে। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক প্লেটো তাকে একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করেছিলেন। যদিও তার জীবন ও শিক্ষার বিষয়ে খুব কম তথ্য পাওয়া যায়, কিছু সূত্রে তাকে গ্রিসের সপ্তসাধুর (Seven Sages of Greece) একজন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তার প্রজ্ঞা ও প্রভাবের স্বীকৃতি বহন করে। মাইসন ইতিহাসে রহস্যময় ব্যক্তিত্ব। তার জীবন সম্পর্কে তেমন বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না, অন্য সাতজন সাধুর তুলনায়—যেমন সোলন বা থেলিসের ক্ষেত্রে পাওয়া যায়। প্রাচীন উৎসগুলোতেও মাইসনের চেনাই নামক শহরের উল্লেখ খুবই বিরল, ফলে এর সঠিক অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা রয়েছে।

কিছু পণ্ডিত মনে করেন, এটি প্রাচীন আয়োনিয়ার বা গ্রিসের অন্য কোনো অঞ্চলের একটি ছোট নগর-রাষ্ট্র ছিল। ধারণা করা হয় করিন্থের শাসক পেরিয়ান্ডারের মতো মাইসন সম্ভবত একটি সাধারণ গ্রাম্য পরিবেশ থেকে উঠে এসেছিলেন। তিনি নিজেই বলেছিলেন যে, তার অখ্যাতির কারণ তার অতি সাধারণ পটভূমি। অ্যারিস্টক্সেনাস তাকে এক নির্জনপ্রিয় ও মানুষের প্রতি সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মাইসন সামাজিক মেলামেশা এড়িয়ে চলতেন এবং একাকীত্ব পছন্দ করতেন। তার একটি প্রসিদ্ধ কাহিনি আছে, যেখানে তিনি একা বসে হাসছিলেন। কেউ জিজ্ঞাসা করলে তিনি জবাব দেন—

“আমি হাসছি, কারণ চারপাশে কেউ নেই।” এই ঘটনাটি তার স্বতন্ত্র চিন্তাধারা ও মানুষের কর্মকাণ্ডের নির্বুদ্ধিতার প্রতি তার অবজ্ঞার পরিচায়ক। অন্য সাধুরা যেখানে রাজনীতি বা নাগরিক জীবন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, মাইসন সেখানে একাকী ধ্যান ও আত্মপর্যালোচনায় মনোনিবেশ করেছিলেন। তিনি বলতেন, আমাদের যুক্তির ওপর ভিত্তি করে সত্য উপলব্ধি করা উচিত নয় বরং সত্যের ওপর ভিত্তি করে যুক্তিকে বিচার করতে হবে। দিওজেনেস লার্তিয়াসের মতে, তিনি ৯৭ বছর বয়স পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।

প্লেটোর মাইসনকে সপ্তসাধুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি প্রচলিত তালিকার বিপরীতে দাঁড়ায়। তার “প্রোটাগোরাস” সংলাপে, প্লেটো সাধারণত স্বীকৃত পেরিয়ান্ডারের পরিবর্তে মাইসনকে স্থান দিয়েছিলেন। এটি বোঝায় যে, প্লেটো প্রজ্ঞাকে রাজনৈতিক কৌশল ও স্বৈরতন্ত্র থেকে আলাদা করে দেখেছিলেন। পেরিয়ান্ডার ছিলেন কঠোরতা ও নিষ্ঠুরতার জন্য পরিচিত এক সফল শাসক। তার শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে করিন্থ শক্তিশালী হয়েছিল, কিন্তু এর সঙ্গে ছিল কঠোর দমননীতি। অপরদিকে মাইসনের অন্তর্ভুক্তি ইঙ্গিত দেয় যে তার প্রজ্ঞা নীতিশাস্ত্র ও নৈতিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। প্লেটোর পাঠ্যে বলা হয়েছে— “আসুন আবার জ্ঞানীদের নাম বলি: মাইলেটাসের থেলিস, মাইটিলিনের পিটাকাস, প্রিয়েনের বায়াস, এথেন্সের সোলন, লিন্ডোসের ক্লেওবুলাস, চেনাইয়ের মাইসন, এবং স্পার্টার চিলন। এই ব্যক্তিরাই হেলেনদের মধ্যে সর্বাধিক প্রজ্ঞাবান হিসেবে পরিচিত।”

এই তালিকা স্পষ্টভাবে দেখায় যে প্লেটো শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে নৈতিক দার্শনিকতাকে প্রজ্ঞার মূল উৎস হিসেবে গণ্য করতেন।
মাইসনের শিক্ষা ও উত্তরাধিকার – যদিও মাইসনের সরাসরি উপদেশ বা শিক্ষা সংরক্ষিত নেই, তবু তার প্রজ্ঞার মূল দিকগুলো সহজ জীবনযাত্রা, আত্মনির্ভরশীলতা ও নৈতিক আচরণের ওপর ভিত্তি করে গঠিত ছিল। দিওজেনেস লার্তিয়াসের ভাষ্যমতে, তিনি উপদেশ দিতেন— “গণসমাগমে সম্মান খোঁজো না, একাকীত্বে জ্ঞান অনুসন্ধান করো।” এটি পেরিয়ান্ডারের মতো রাজনীতিকদের কৌশলী পরিকল্পনার বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে।

ডেলফির ওরাকল প্রাচীন গ্রীসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছিল, তারা মাইসনের প্রজ্ঞাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল বলে শোনা যায়। একবার যখন প্রশ্ন করা হয়েছিল, “কে সর্বাধিক প্রজ্ঞাবান?” তখন ওরাকল মাইসনের নাম উল্লেখ করেছিল। এটি তার জ্ঞানী হিসেবে উচ্চ স্বীকৃতির ইঙ্গিত বহন করে। গ্রীক দার্শনিক ও গণিতবিদ ইউডোক্সাস অব ক্নিডুসও মাইসনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে তিনি পেরিয়ান্ডারের পরিবর্তে ক্লেওবুলাসকে সপ্তসাধুদের একজন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। প্লেটোর ছাত্র ও প্রাথমিক গ্রিক বিজ্ঞান ও দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ইউডোক্সাস মাইসনকে বাস্তব জীবনের জ্ঞানের আদর্শ মনে করতেন।এছাড়া স্কিথিয়ার প্রখ্যাত দার্শনিক আনাকার্সিসও মাইসনকে সম্মানসূচক দৃষ্টিতে দেখেছিলেন। আনাকার্সিস মূলত গ্রিসের বাইরের ব্যক্তি হলেও তার প্রশংসা প্রমাণ করে যে মাইসনের প্রজ্ঞা আঞ্চলিক গণ্ডির বাইরে গিয়েও সমাদৃত হয়েছিল।

পেরিয়ান্ডার ও মাইসন: দুই ভিন্ন ধারার প্রজ্ঞা – সাধারণত সপ্তসাধুদের তালিকায় করিন্থের পেরিয়ান্ডারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যিনি ছিলেন কৌশলী কিন্তু নিষ্ঠুর শাসক। যদিও তার শাসনামলে অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছিল, কিন্তু তার দমনমূলক নীতি ও নিষ্ঠুরতার কারণে তিনি বিতর্কিত হয়ে ওঠেন। এমনকি তার নিজের স্ত্রীকে হত্যা করা এবং বিরোধীদের প্রতি নির্মম আচরণের গল্প প্রচলিত আছে। প্লেটোর দৃষ্টিতে, প্রকৃত প্রজ্ঞা শাসনের মধ্যে নয়, বরং আত্ম-উপলব্ধি ও নৈতিকতায় নিহিত। এই পার্থক্য গ্রিক দর্শনে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সক্রেটিসের দার্শনিক ধারাও নৈতিক চিন্তাধারাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছিল।

উপসংহার – মাইসন অন্যান্য সাধুদের তুলনায় কম পরিচিত হলেও প্লেটোর স্বীকৃতির কারণে দর্শনের ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন। তার জীবন ও শিক্ষা রাজনীতি ও শক্তির পরিবর্তে নৈতিক পরিশুদ্ধতা ও সরলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে। যদিও মাইসনের সম্পর্কে ঐতিহাসিক তথ্য সীমিত, প্লেটোর মতো মহান দার্শনিকের তাকে স্বীকৃতি দেওয়া বোঝায় যে প্রকৃত প্রজ্ঞা রাজনৈতিক কৌশলের মধ্যে নয়, বরং আত্ম-জিজ্ঞাসা ও নৈতিকতায় নিহিত। তার উত্তরাধিকার আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রকৃত জ্ঞান কেবল বাহ্যিক সাফল্যের বিষয় নয় বরং ব্যক্তিগত ও সামাজিক কল্যাণের গভীর উপলব্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।

অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ – কর ফাঁকি দেওয়া ধনীদের শাস্তির আইন দরকার

কর দেওয়ার উপযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও যাঁরা ফাঁকি দিচ্ছেন, তাঁদের শাস্তির আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদেরা। এ জন্য আইন প্রণয়নেরও সুপারিশ করেন তাঁরা। অর্থনীতিবিদদের কাছ থেকে এমন পরামর্শও আসে যে – যাদের দুটি বাড়ি, দুটি গাড়ি ও এক কোটি টাকার বেশি ব্যাংকে আমানত আছে, তাঁদের কাছ থেকে যেন প্রত্যক্ষ, অর্থাৎ বাড়তি কর আদায় করা হয়। রোববার অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রাক্‌-বাজেট আলোচনায় অর্থনীতিবিদেরা করদাতার সংখ্যা ও রাজস্ব বাড়াতে এসব পরামর্শ দেন।

অর্থনীতিবিদরা সাধারণ নাগরিকদের আর্থিক চাপ কমাতে প্রত্যক্ষ করের দিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার এবং কর্পোরেট করের কাঠামো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। আলোচনা শেষে অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, “আমি এটি (কর ফাঁকিদাতাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য আইন প্রণয়ন) বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিইনি, কারণ এর সঙ্গে আইনি জটিলতা জড়িত। অন্যান্য দেশেও এ ধরনের আইন রয়েছে, যেখানে কর ফাঁকিদাতাদের বিরুদ্ধে মামলা করার ব্যবস্থা আছে।”

তিনি জানান — প্রায় সবাই পরামর্শ দিয়েছেন বাজেট যেন উচ্চাভিলাষী না করা হয়। তা করা হবেও না। আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা থাকবে। আর মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। সভায় মূল্যস্ফীতির সংকট নিয়েও আলোচনা হয়, যেখানে জোর দেওয়া হয় যে শুধুমাত্র মুদ্রানীতির মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি, বাফার স্টক স্কিম ও ওপেন মার্কেট অপারেশনের মতো ব্যবস্থা শক্তিশালী করা দরকার।

অর্থনীতিবিদরা আরো যেসব পরামর্শ দিয়েছেন — টিসিবি মজুত ব্যবস্থা ভালো রাখা, সামাজিক নিরাপত্তা খাতের ভাতা কার্যকরভাবে বিতরণ, প্রয়োজনে টিসিবির কার্ডধারীর সংখ্যা ১ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ২০ লক্ষে উন্নীত করা, ভালো গবেষণা করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও গবেষণা করতে প্রণোদনা দিয়ে উৎসাহিত করা, প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে হঠাৎ ব্যয় বৃদ্ধির বদলে সারা বছর গুরুত্বের সঙ্গে ব্যয়ের ব্যবস্থা করা, বাজেটে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা, কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ইত্যাদি।

বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের বর্তমান পরিস্থিতি

0

বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যাপক বিস্তার এবং এর প্রভাবের বিষয়ে আলোচনা আজকাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী দেশগুলি শুধুমাত্র তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাদের শক্তি প্রদর্শন করতে এসব অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে। বর্তমানে পৃথিবীতে মোট নয়টি দেশ পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী, সেগুলি হল: রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, ভারত, ইসরায়েল এবং উত্তর কোরিয়া। এই দেশগুলি তাদের অস্ত্রাগার এবং পারমাণবিক শক্তির আধুনিকায়ন নিয়ে কাজ করছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনীতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করছে।

১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করে। জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমার আঘাতে ২০০,০০০ মানুষের মৃত্যু হয় এবং এর ফলে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রকৃত ক্ষমতা পৃথিবীজুড়ে সুপরিচিত হয়।এরপর যুক্তরাষ্ট্র তার পারমাণবিক অস্ত্রের বিশাল সংগ্রহ তৈরি করতে শুরু করে। রাশিয়া, সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তরসূরি হিসেবে, আরও বড় পরিসরে পারমাণবিক অস্ত্রাগার তৈরি করে, যা তার বিশাল পরমাণু অস্ত্রাশক্তির প্রমাণ। চীন, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যও তাদের পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকে, যা পরবর্তীতে দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে পাকিস্তান এবং ভারতের পারমাণবিক শক্তির দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করে।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রাগার নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে, সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা তাদের পারমাণবিক শক্তি ক্রমাগতভাবে বাড়িয়ে যাবে। ২০০৬ সালে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পর, উত্তর কোরিয়া তাদের অস্ত্রের সংখ্যা বাড়াতে এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে আরও কার্যক্রম শুরু করেছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এরই মধ্যে এই ঘোষণা দিয়েছেন যে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষমতা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনীতির জন্য একটি বড় হুমকি।

২০২৫ সালের মার্চ মাসে, উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে যে তারা তাদের পারমাণবিক শক্তি উন্নত করতে এবং ভবিষ্যতে এটি আরও বৃদ্ধি করতে মনস্থির করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, “পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে, আমরা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবো এবং আমাদের দেশকে একটি শক্তিশালী পরমাণু শক্তিতে পরিণত করব।” এদিকে পূর্ব ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডও পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে। পোল্যান্ড সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্র স্থাপন করে। পোল্যান্ডের মতে, এটি রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে এবং ইউরোপের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। পোল্যান্ডের এই পদক্ষেপ রাশিয়া এবং অন্যান্য পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

এটি স্পষ্ট যে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার শুধু নির্দিষ্ট দেশগুলির জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্রের আধুনিকীকরণ এবং নতুন নতুন দেশগুলির পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরো জটিল হয়ে উঠছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এই ধরনের অস্ত্রের বিস্তার বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যা মানবসভ্যতার জন্য একটি ব্যাপক বিপদ হতে পারে। পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী কিছু চুক্তি রয়েছে, যেমন পারমাণবিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা চুক্তি (NPT)। এই চুক্তির লক্ষ্য হল পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা, অস্ত্রের সংখ্যা কমানো এবং নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু করা। তবে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলি এই চুক্তি অনুসরণে পুরোপুরি সফল হয়নি এবং বহু দেশ নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র আধুনিকীকরণ করছে।

বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্রের সমস্যা বিশ্বরাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে দেশগুলি পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক, তাদের প্রতিযোগিতা এবং আধুনিকীকরণের প্রক্রিয়া পৃথিবীর নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি সৃষ্টি করছে। তবে নিরস্ত্রীকরণ এবং বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ রয়েছে, যা আমাদের আশা দিতে পারে যে একদিন পৃথিবী পারমাণবিক অস্ত্র মুক্ত হবে।





প্রসাশনের শিথিল নজরদারি , শিল্পবর্জ্য দূষিত করছে জলাশয়

টাঙ্গাইলের মিল ও কারখানাগুলোর রঙ ও মুদ্রণ ইউনিট থেকে অপরিশোধিত এবং সম্ভাব্য ক্ষতিকর শিল্পবর্জ্য নিষ্কাশনের ফলে জেলার নদী ও অন্যান্য জলাশয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে আসছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শিথিল নজরদারির কারণে এ দূষণ অব্যাহত রয়েছে, যা পরিবেশের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় জনগণের জীবন ও জীবিকা এবং জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। টাঙ্গাইলের পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মির্জাপুর উপজেলার গড়াই শিল্প এলাকায় ১৫টিরও বেশি মিল ও কারখানা রয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার বিসিক শিল্প এলাকা এবং সংলগ্ন ক্ষুদিরামপুরে আরও দুটি মিল রয়েছে। সূত্র অনুযায়ী এসব মিল ও কারখানায় ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ETP) রয়েছে, যা শিল্পবর্জ্য পরিশোধনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই এই প্ল্যান্টগুলো যথাযথভাবে চালু রাখছে না।

সাম্প্রতিক এক পরিদর্শনে দেখা গেছে, মির্জাপুর উপজেলার সোহাগপাড়া ও পাকুল্লা খালের পানি দূষণের কারণে পিচকালো হয়ে গেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বেশিরভাগ শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখনো নিয়ম অনুযায়ী এবং যথাযথ ক্ষমতা অনুসারে ইটিপি স্থাপন করেনি। যারা ইটিপি স্থাপন করেছে, তারাও ব্যয় কমানোর জন্য এগুলো সচল রাখছে না। ফলে কারখানাগুলো তাদের অপরিশোধিত বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে নদী ও খালে ফেলে দিচ্ছে। পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মী শামসুল আলম জানান, “ইটিপিগুলো কেবলমাত্র লোক দেখানো। আশেপাশের নদী ও খালের পানির অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়, এই শিল্পগুলো কীভাবে জলাশয়গুলোকে বিষাক্ত করে তুলছে।”

লৌহজং নদী, যা টাঙ্গাইল সদর উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, গত কয়েক দশকে মারাত্মক শিল্পদূষণের শিকার হয়েছে। বিশেষ করে তারটিয়া, গোসাইবাড়ী কুমুল্লি, ক্ষুদিরামপুর, করটিয়া এবং বীরপুষিয়া এলাকার মিল ও কারখানাগুলোর বর্জ্য নদীটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। অবৈধ দখলদারিত্বও নদীটির সংকট আরও বাড়িয়ে তুলেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শুষ্ক মৌসুমে এই বর্জ্য জমে থাকে, পরে বর্ষায় তা ধুয়ে গিয়ে অন্যান্য জলাশয় ও নদীগুলোকে দূষিত করে। ফলে, শুধু টাঙ্গাইল নয়, আশেপাশের অঞ্চলের পানির গুণগত মানও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গোসাইবাড়ী কুমুল্লি এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, “আমরা বারবার নদী ও জলাশয়ের দূষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি, কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনেনি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দূষণের জন্য দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে নিজেদের রক্ষা করছে। এই কারণে প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। ক্ষুদিরামপুর এলাকার বাসিন্দা শিপন আহমেদ বলেন, “এই বিষয়টি বারবার গণমাধ্যমে উঠে এলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।” এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিয়া মাহমুদুর রহমান বলেন, টাঙ্গাইলে কোনো পানি পরীক্ষাগার না থাকায় তারা প্রতি কয়েক মাস পরপর মিল ও কারখানার পানির নমুনা ঢাকায় পাঠান পরীক্ষার জন্য। তিনি বলেন, “আমরা সম্প্রতি কিছু জলাশয় থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি। যদি দূষণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট মিল ও কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরিবেশবাদীরা মনে করেন, টাঙ্গাইলে শিল্পদূষণ রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। নদী ও জলাশয় রক্ষা আন্দোলন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন আহমেদ সিদ্দিকী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “পরীক্ষার ফলাফল বিকৃত করে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হতে পারে। তাই এই পরীক্ষাগুলোর স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি।” দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য মিল ও কারখানাগুলোকে তাদের ইটিপি যথাযথভাবে চালানোর জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা প্রয়োজন।প্রশাসনকে নিয়মিত পানি পরীক্ষার পাশাপাশি দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। দূষণ প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং তাদের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করতে হবে। নদী ও খালের অবৈধ দখলদারিত্ব বন্ধ করতে হবে এবং দূষিত জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।

টাঙ্গাইলে শিল্পদূষণ এখন একটি মহামারির রূপ নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের শিথিল ভূমিকা এবং প্রভাবশালীদের দুর্নীতির কারণে পরিবেশ ও জনজীবন চরম সংকটের মুখে পড়েছে। এই সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। নতুবা, টাঙ্গাইলের নদ-নদী ও জলাশয়গুলো একে একে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, যেটা শুধু পরিবেশ নয়, সামগ্রিকভাবে জনগণের জীবনের ওপর দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ডিজিটাল থেকে কেন হঠাৎ কাগুজে মুদ্রায় ফিরছে সুইডেন , নরওয়ে ?

ডিজিটাল পেমেন্ট বা কাগুজে মুদ্রার ব্যবহার ছাড়াই লেনদেন ব্যবস্থার জন্য অগ্রগামী ছিল নর্ডিক দেশগুলো। কিন্তু এখন এই দেশগুলোতে ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই বিষয়ে সোমবার গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—২০১৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সাবেক ডেপুটি গভর্নর ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটি থেকে কাগুজে মুদ্রা সম্ভবত সম্পূর্ণভাবে নাই হয়ে যাবে। সাত বছর পর, সেই ভবিষ্যদ্বাণী অনেকটাই সত্যি হয়েছে। দেশটিতে মাত্র ১০ শতাংশ লেনদেন এখন নগদে হয়। বর্তমানে কার্ড হলো দেশটির সবচেয়ে প্রচলিত পেমেন্ট পদ্ধতি। এরপরই রয়েছে মোবাইল পেমেন্ট ব্যবস্থা।

সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক বার্ষিক পেমেন্ট প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে, জিডিপির শতাংশ হিসেবে সুইডেন ও নরওয়েতে পৃথিবীর সবচেয়ে কম নগদ প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু এই পরিস্থিতি হঠাৎ করেই এবার উল্টো মোড় নিতে শুরু করেছে। এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণও রয়েছে। ইউরোপে যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চয়তা এবং রাশিয়ার হাইব্রিড হামলার আশঙ্কা এখন দেশটিতে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় আবারও নগদ অর্থের ব্যবহার বাড়তে শুরু করেছে দেশটিতে। গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সুইডিশ কর্তৃপক্ষই নাগরিকদের নগদ অর্থ রাখার এবং ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করছে। এটিকে নাগরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত নভেম্বরে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিটি বাড়িতে একটি নির্দেশিকা পাঠায়, যার শিরোনাম ছিল—যদি সংকট বা যুদ্ধ আসে।

ওই নির্দেশিকায় জনগণকে নিয়মিত নগদ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় এবং কমপক্ষে এক সপ্তাহের প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ বিভিন্ন মূল্যের নোট আকারে সংরক্ষণ করার আহ্বান জানানো হয়। এদিকে সুইডেন একমাত্র নর্ডিক দেশ নয়, যারা নগদহীন সমাজ গঠনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে। নরওয়ের সরকার নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে—সাইবার আক্রমণের ঝুঁকির কারণে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার দুর্বলতা বিবেচনা করে কিছু নগদ সংরক্ষণ করা জরুরি। গত বছর নরওয়ে এমন একটি আইন প্রণয়ন করেছে, যার মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাদের নগদ গ্রহণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। অন্যথায় তাঁরা জরিমানা বা শাস্তির সম্মুখীন হতে পারেন। নরওয়ের সাবেক বিচার ও জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী এমিলি মেহল স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘যদি কেউ নগদ ব্যবহার না করে এবং কেউ নগদ গ্রহণ না করে, তাহলে সংকটের সময় নগদ আর কার্যকর বিকল্প হিসেবে থাকবে না।’

ইয়েমেনে হুতিদের ওপর কেন হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা চালানো বন্ধের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই ঘোষণা দেন। কিন্তু মার্কিন হামলা জারি থাকলে নিজেরাও পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে হুতিরা। হামলায় এরই মধ্যে অন্তত ৫৩ জন প্রাণ হারিয়েছে বলে জানিয়েছে হুতি পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু ও দুজন নারী রয়েছে। হামলায় আহত হয়েছে ৯৮ জন। এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ফোন করে সামরিক অভিযান বন্ধ করে কূটনৈতিক সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই হামলা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন হুতিদের পৃষ্ঠপোষক ইরানের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে চায় এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তাদের আলোচনার টেবিলে আনতে চায়। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, ‘ইরানের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করার কোনো অধিকার বা এখতিয়ার মার্কিন সরকারের নেই।’ গাজায় খাদ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য উপকরণ সরবরাহের ওপর ইসরায়েলি অবরোধের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোতে আবার হামলার হুমকি দেয় হুতিরা। কিন্তু হুমকি দেওয়া সত্ত্বেও তারা এখনো কোনো জাহাজে হামলা চালায়নি। তবে ট্রাম্প হুতিদের ওপর বড় পরিসরে সামরিক অভিযান শুরুর অজুহাত হিসেবে লোহিত সাগরে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির হামলার কারণ উল্লেখ করেছেন।

হুতিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে মার্কিন হামলা গোষ্ঠীটিকে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা থেকে বিরত রাখতে পারবে না। গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে এবং ফিলিস্তিনি ও হামাসের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ২০২৩ সালের নভেম্বরে লোহিত সাগরে চলাচলকারী ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজ নিশানা করে হামলা শুরু করে হুতিরা। গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যুদ্ধবিরতির পর হুতিরা জাহাজ নিশানা করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করে দেয়। হুতি বিদ্রোহীরা মধ্যপ্রাচ্যের দরিদ্রতম দেশ ইয়েমেনের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। তারা ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বেশির ভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

গোষ্ঠীটির আবির্ভাব ঘটে গত শতকের নব্বইয়ের দশকে। তবে তারা প্রথমবারের মতো দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনায় আসে ২০১৪ সালে। সে সময় তারা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে। দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদরাব্বু মনসুর হাদিকে তারা ইয়েমেন ছেড়ে পালাতে বাধ্য করে। ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে। এই অভিযানে সৌদিকে সমর্থন দেয় পশ্চিমারা। সামরিক জোট ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান ও স্থল হামলা শুরু করে। তবে তারা শেষ পর্যন্ত ইরান-সমর্থিত হুতিদের পরাজিত করতে ব্যর্থ হয়। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালের এপ্রিলে ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ইয়েমেন ও সৌদি আরব এখন শান্তি আলোচনায় রয়েছে।