Home Blog Page 161

আবারো স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল , গাজাবাসীর প্রতি ‘ শেষ সর্তকতা ‘

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আজ বৃহস্পতিবারও জোরালো হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। চালানো হচ্ছে স্থল অভিযান। এর আগে এক বিবৃতিতে গাজা থেকে জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা ও হামাসকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ফিলিস্তিনিদের প্রতি ‘সর্বশেষ সতর্কতা’ জারি করেছে ইসরায়েল। গতকাল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক ঘোষণায় বলা হয়, নিরাপত্তাব্যবস্থা বিস্তৃত করা এবং গাজার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে আংশিক বাফার জোন প্রতিষ্ঠার জন্য মধ্য ও দক্ষিণ গাজায় স্থল অভিযান আবারও শুরু করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে উত্তর গাজাকে দক্ষিণ থেকে বিভক্তকারী নেতজারিম করিডোরের ফের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে দখলদার ইসরায়েল।গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ে এই করিডোর থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নিয়েছিল ইসরায়েল।

‘যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলো ছেড়ে যেতে বেসামরিক গাজাবাসীকে নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের শিশুদের নিয়ে গাজার উত্তরাঞ্চলের সড়কগুলোয় ভিড় জমান। গাজার বাসিন্দাদের উদ্দেশে দেওয়া সতর্কতামূলক ভিডিওতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্তজ বলেন, ‘এটাই সর্বশেষ সতর্কবার্তা।’ ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পরামর্শ মেনে নিন। জিম্মিদের ফিরিয়ে দিন। আর হামাসকে (ক্ষমতা থেকে) সরিয়ে দিন। যাঁরা গাজা ছেড়ে স্বেচ্ছায় বিশ্বের অন্যত্র চলে যেতে চান, সেটাসহ আরও অনেক বিকল্প আপনাদের জন্য উন্মুক্ত হবে।’

যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখতে বিদেশি সরকারগুলোর আহ্বান অমান্য করে আকাশ ও স্থলপথে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। এর ফলে গাজাবাসী আবারও ধ্বংসস্তূপে প্রিয়জনের মরদেহ খোঁজার মতো করুণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। গতকাল দুপুর পর্যন্ত ইসরায়েলের নির্বিচার বিমান ও ড্রোন হামলায় ৯৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

সুখী দেশের তালিকায় পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ

0

এবছরের ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্টে সুখী দেশের তালিকায় ১৪৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৪তম। তালিকার শীর্ষ দেশ ফিনল্যান্ড এবং সবচেয়ে তলানির দেশ আফগানিস্তান। বাংলাদেশ ২০২৪ সালে তালিকায় ১২৯তম, ২০২৩ সালে ১১৮তম এবং ২০২২ সালে ৯৪তম অবস্থানে ছিল। অর্থাৎ টানা চার বছর সুখী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের শুধু অবনমনই হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কেবল আফগানিস্তানের অবস্থান বাংলাদেশের পেছনে। ২০১২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২০ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক সুখ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তার পর থেকে প্রতিবছর জাতিসংঘ ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট প্রকাশ করে আসছে।

১৪০টির বেশি দেশ থেকে গ্যালাপ বিশ্ব জরিপের মাধ্যমে সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের সর্বশেষ তিন বছর কেমন কেটেছে, তার তথ্য দেন এবং সেই ভিত্তিতে দেশের মানুষের সুখী হওয়ার একটি গড় মূল্যায়ন করা হয়। এবারের প্রতিবেদনের জন্য ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জরিপে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে তাঁদের সার্বিক জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির ওপর নম্বর দিতে বলা হয় এবং জীবন নিয়ে ওই পর্যালোচনার ভিত্তিতে তালিকায় দেশগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। জীবন নিয়ে পর্যালোচনায় সহায়তার জন্য প্রতিবেদনে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।সূচকগুলো হলো—মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), সামাজিক সহায়তা, সুস্থ জীবনযাপনের প্রত্যাশা, স্বাধীনতা, উদারতা ও দুর্নীতি নিয়ে মনোভাব।

ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের ওয়েলবিং রিসার্চ সেন্টার, ব্রিটিশ জরিপ সংস্থা গ্যালপ ও জাতিসংঘের সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্কের সহায়তায় এই তালিকা প্রস্তুত করেছে। গত কয়েক বছরের মতো এবারও সুখী দেশগুলোর তালিকায় নর্ডিক দেশগুলোর আধিপত্য স্পষ্ট। ফিনল্যান্ডের পরই আছে ডেনমার্ক। এরপর আইসল্যান্ড ও সুইডেন। আরেক নর্ডিক দেশ নরওয়ে আছে তালিকায় ৭ নম্বরে। গ্যালাপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলানা রন-লেভি বলেন, ‘ফিনল্যান্ডের মতো নর্ডিক দেশগুলোয় সবার জন্য উচ্চমানের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। ভালো থাকার ক্ষেত্রেও বৈষম্য অনেক কম।’

সুখী দেশের তালিকায় প্রথম দশে আরও স্থান পেয়েছে নেদারল্যান্ডস (৫), ইসরায়েল (৮) ও লুক্সেমবার্গ (৯)। এখন পর্যন্ত তালিকায় এ বছরই সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র। এ বছর দেশটি তালিকায় ২৪ নম্বরে। এ বছর সুখী দেশের তালিকায় ভারত আছে ১১৮ নম্বরে। ভারতের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে নেপাল (৯২) ও পাকিস্তান (১০৯)। দক্ষিণ এশিয়ার আরও দুই দেশ মিয়ানমার ১২৬তম এবং শ্রীলঙ্কা ১৩৩তম অবস্থানে।

সাম্প্রতিক স্প্লিট স্ক্রিন চিত্রকলার উদ্ভব ও জনপ্রিয়তা – কারণ কী ?

সমসাময়িক চিত্রকলায় সময়, আত্মপরিচয় এবং কাহিনির জটিল সম্পর্ক নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন শিল্পীরা। ম্যাসির তৈলচিত্র “Cryobank Greg” এই ধারণাগুলোর একটি স্পষ্ট উদাহরণ। চিত্রটির দুটি অংশের ওপরের প্যানেলে দেখা যায়, একটি হাত ক্যান খুলছে এবং ফেনাযুক্ত তরল ছিটকে পড়ছে—হয়তো বিয়ারের ফেনা। নিচের অংশে, সকালের আলোয় দেখা যায় অগোছালো বিছানা। শরীর ও আত্মপরিচয়ের প্রসঙ্গ এখানে স্পষ্ট, যেখানে এক দৃশ্য থেকে আরেক দৃশ্যে একধরনের যৌন উত্তেজনার প্রতিফলন ঘটছে। এই সংযোগের মাধ্যমে ম্যাসি আমাদের শরীর ও মনস্তত্ত্বের অদৃশ্য সম্পর্ক নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেন।

অন্যদিকে, “Daniel” চিত্রে একটি বিড়ালের খোলা মুখ, দাঁত বের করা অবস্থায়, একটি গোলাপি শঙ্খের খোলা অংশের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এটি দেহগত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও প্রাণীসুলভ প্রবৃত্তির দিকে ইঙ্গিত করে। ম্যাসি এখানে নিরবতা ও আগ্রাসন, শক্তি ও বিশ্রামের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করেছেন।

ব্লেকলির “Motorola/Rolodex” (২০২৪) এই পদ্ধতিতেই অন্য এক প্রসঙ্গ উপস্থাপন করেছে। এখানে ১৯৮০-এর দশকের চারটি মোবাইল ফোন বুকের সাথে চেপে ধরা দুটি হাতের ছবি একটি রোলোডেক্সের সারির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। এটি একদিকে গতিময়তা ও ভবিষ্যতের প্রতীক, অন্যদিকে স্থবিরতা ও অতীতের প্রতিচ্ছবি। প্রযুক্তির পরিবর্তন এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের ধরন কীভাবে সময়ের সাথে বদলায়, এই চিত্রটি সেটিরই প্রতিফলন।

একই ধারাবাহিকতায় “Forward Fold” (২০২৪) চিত্রে দেখা যায়, একটি মহিলা অফিসকর্মী সামনে ঝুঁকে আছেন, তার হাতের গিঁট মাটিতে ঠেকানো। পাশে দুটি নিস্তেজ পাত্রে রাখা গাছের চিত্র। এটি অফিস জীবনের এক পরিচিত প্রতীক, যেখানে মানুষ ও উদ্ভিদ উভয়ই অবরুদ্ধ ও বিবর্ণ। এই চিত্রগুলি শুধু কর্মজীবনের একঘেয়েমি নয় বরং আধুনিক সমাজে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এই শিল্পকর্মগুলোর মানব চরিত্রগুলোতে আমরা নিজেদের হারিয়ে ফেলি না, ফ্রেমের সংযোগস্থলে তৈরি হওয়া শূন্যতাগুলো আমাদের নতুন অর্থ গঠনের সুযোগ করে দেয়। ব্লেকলির নিঃসঙ্গ গাছগুলো অফিসকর্মীর নিঃশেষিত মানসিক অবস্থাকে আরো দৃঢ় করে তোলে। শিল্পীরা এখানে একাধিক দৃশ্যকে পাশাপাশি রেখে আমাদেরকে নিজস্ব কাহিনি নির্মাণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। শিল্পের এই উপস্থাপনা দর্শকের মনোজগতে নতুন ভাবনার সৃষ্টি করে এবং আমাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সাথে শিল্পকর্মগুলোর সংযোগ স্থাপন করে।

এসার্সের তৈলচিত্রে একদল অজ্ঞাত যুবকের নিরবচ্ছিন্ন আনন্দ, উদ্বেগ ও বন্ধুত্বের দৃশ্য ধরা পড়ে, যা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মুহূর্তের ছবি থেকে অনুপ্রাণিত। “The World at Our Command” এবং “No One to Tell Us No” (দুটিই ২০২৪) চিত্রে দেখা যায়, মুখবিহীন দেহগুলোর মধ্যেই তাদের কাহিনি ফুটে উঠছে। এই মুখহীনতার মধ্যেই আমরা আমাদের স্মৃতিচারণ করি, নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে এগুলোকে মেলাই। এসার্সের চিত্রকর্ম স্পর্শ ও ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে আমাদের ব্যক্তিগত অতীতের অনুভূতির সাথে সংযোগ স্থাপন করে। এই চিত্রগুলো শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন নয়, যৌথ স্মৃতিরও অংশ, যা আমাদের একত্রে একটি বৃহত্তর সামাজিক কাঠামোর মধ্যে স্থাপন করে।

দার্শনিক অ্যান্ড্রু বেঞ্জামিন বলেছেন, কাছাকাছি দৃশ্যের প্রযুক্তি, যেমন ডুয়াল স্লাইড প্রজেক্টর ও আলোকচিত্রের পুনরুৎপাদন—শিল্প ইতিহাসকে বদলে দিয়েছে। বর্তমানে আমরা এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছি, যা পোস্ট-ইন্টারনেট ও পোস্ট-সিনেমাটিক। আজকের শিল্পীরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ করছেন—মন্টাজ চলচ্চিত্র নির্মাণ থেকে শুরু করে মাইক্রো-গল্প বলার মতো মেম সংস্কৃতি পর্যন্ত। ফলে শিল্পের ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য এখন বহুমাত্রিক হয়ে উঠেছে। ব্লেকলি, ম্যাসি ও এসার্সের শিল্পকর্ম ফটোগ্রাফি থেকে অনুপ্রাণিত এবং ফ্রেমের মাধ্যমে সময়ের অভিজ্ঞতাকে চিত্রায়িত করে। এই শিল্পীরা সময়ের বিশৃঙ্খল প্রকৃতিকে প্রতিফলিত করেন, আবার সেই সময়ের ব্যাখ্যার উপায়ও খুঁজে দেন।

দার্শনিক পল রিক্যুর তার “Time and Narrative” (১৯৮৩) গ্রন্থে লিখেছিলেন, ‘সময় তখনই মানবীয় হয়ে ওঠে, যখন তা কাহিনির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।’ ব্লেকলি, এসার্স ও ম্যাসির চিত্রে সাধারণ ও পরিচিত দৃশ্যগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন অনুভূতি ও মুহূর্ত একত্রিত হয়, যা আমাদের জীবনের বাস্তবতার সাথে মিল খুঁজে পায়। তাদের চিত্রগুলো আমাদের ভাবতে বাধ্য করে যে, আমাদের ব্যক্তিগত ইতিহাস কেবল সময়ের প্রবাহে হারিয়ে যায় না, বিভিন্ন অনুভূতির সংযোগের মাধ্যমে গঠিত হয়।

এই শিল্পকর্মের উপস্থাপনা কখনো কোমল, কখনো হঠাৎ ধাক্কার মতো। বাস্তব জীবনও ঠিক তেমনই। বিরোধপূর্ণ সংবাদ শিরোনাম, আমাদের বন্ধুবান্ধবের ছবি—সবকিছু একত্রিত করে আমরা একটি সম্পূর্ণ গল্প তৈরি করি। বর্তমান বিশ্বে যেখানে তথ্যের প্রবাহ আগের চেয়ে অনেক দ্রুত এবং জটিল, সেখানে শিল্পীরা আমাদের এই বিশৃঙ্খলার অর্থ খুঁজে বের করার সুযোগ দেন। তারা আমাদের স্মৃতিচারণার একটি নতুন ভাষা উপহার দেন, যেখানে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ একই সূত্রে গ্রথিত। এই বিভ্রান্তিকর ও খণ্ডিত চিত্রজগতকে বোঝার জন্য নতুন গল্পকারদের প্রয়োজন। আর সেই ভূমিকায় শিল্পীরা না থাকলে আর কে থাকবে? এই শিল্পীরা শুধু চিত্রকলা নয়, বরং সমাজের পরিবর্তন ও আত্মপরিচয়ের এক জটিল প্রবাহকে ধারণ করেন। তাদের শিল্পকর্ম কেবল দৃশ্যমান বাস্তবতার প্রতিফলন না, আমাদের অভ্যন্তরীণ জগতের এক গভীর অনুসন্ধান।

মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কণ্ঠরোধ করছে ট্রাম্প প্রশাসন !

ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসগুলোয় ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিতাড়নের উদ্দেশ্যে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে ট্রাম্প দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন, ক্যাম্পাসে কোনো ‘অবৈধ বিক্ষোভের’ অনুমতি দিলে তাদের জন্য বরাদ্দ ফেডারেল তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হবে। এপি নিউজ জানিয়েছে – নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরাইলের গাজা হামলার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার, বহুবছরের জন্য স্থগিতাদেশ ও ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শিক্ষার্থী সংগঠকদের দাবি, কমপক্ষে ২২ জন শিক্ষার্থী এই সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে স্টুডেন্ট ওয়ার্কার্স অব কলাম্বিয়া (এসডব্লিউসি) ইউনিয়নের সভাপতি গ্রান্ট মাইনারকেও বহিষ্কার ও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাকস্বাধীনতা দমনের বৃহত্তর নীতির অংশ, এসডব্লিউসি তাদের বিবৃতিতে জানায়। “এটি এমন এক সময়ে করা হলো, যখন ফেডারেল সরকার কলাম্বিয়ার অর্থায়ন স্থগিত করেছে এবং আরও ৬০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল বাতিলের হুমকি দিয়েছে।”

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— গত বছরের হ্যামিল্টন হলের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেওয়া, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য মুখোশ পরা নিষিদ্ধ করা, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশীয় ও আফ্রিকান স্টাডিজ বিভাগ পুনর্গঠন করা এবং ইহুদিবিদ্বেষ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক জোটের (আইএইচআরএ) সংজ্ঞা গ্রহণ করা।

সমালোচকদের মতে, আইএইচআরএ-এর সংজ্ঞা গ্রহণের ফলে ইসরাইলবিরোধী সমালোচনা দমন করা হবে এবং একাডেমিক স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সংস্থাটির সংজ্ঞার ১১টি উদাহরণের মধ্যে সাতটি ইসরাইলবিরোধিতাকে ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে এক করে দেখে, যা বাকস্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি সংজ্ঞাটির রচয়িতা কেনেথ স্টার্নও একে সমালোচনা করেছেন ।কলাম্বিয়ার শিক্ষার্থীরা দাবি করেছে, এই সংজ্ঞার উদাহরণগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করে দেবে এবং তারা ইসরাইলের নীতির সমালোচনা করতে গেলে শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।

মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্তৃপক্ষ এক প্যালেস্টাইনী ছাত্র-অ্যাকটিভিস্ট মাহমুদ খলিলকে আটক করেছে, যার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এটি ‘অনেকের মধ্যে প্রথম গ্রেপ্তার’। তিনি জানান, অবৈধ বিক্ষোভে জড়িত বিদেশী শিক্ষার্থীদের বহিষ্কৃত করা হবে। মাহমুদ খলিল গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিন আগে ট্রাম্প কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ কোটি মার্কিন ডলারের ফেডারেল তহবিল বাতিল করেছেন। প্যালেস্টাইনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেয়ার অভিযোগে, শুক্রবার লেকা কর্ডিয়া নামে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির আরেক প্যালিস্টিনিয়ান শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট।

এর আগে, মঙ্গলবার, কলাম্বিয়ার ইউনিভার্সিটির এক পিএইচডি শিক্ষার্থী, রঞ্জনি শ্রিনিবাসান সিবিপি নিজেই দেশ ত্যাগ করেছেন। হামাসকে সমর্থন করার অভিযোগে, গত সপ্তাহে ভারতীয় ওই শিক্ষার্থীর ভিসা স্থগিত করা হয়। গত বছরের এপ্রিলে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভের একপর্যায়ে ক্যাম্পাসে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নেন। তাদের টানা ইসরায়েলবিরোধী কর্মসূচিতে আকৃষ্ট হয় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়। দেশটির গণ্ডি ছাড়িয়ে সেই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার ক্যাম্পাসেও। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়া ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ইহুদিবিরোধী হিসেবে বিবেচনা করা হবে কি না, এ নিয়ে রাজনৈতিক ও অ্যাকাডেমিক মহলে বিতর্ক চলছে আজও। রিপাবলিকানরা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবেই দেখে। যদিও বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইহুদিরাও ছিলেন।

ধর্মনিরপেক্ষতা নয় , এনসিপির আদর্শ , ধর্মীয় সম্প্রীতি : আখতার হোসেন

0

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সদস্য সচিব আখতার হোসেন দৈনিক সমকাল-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন : ” … বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য, সামাজিক মূল্যবোধ, আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন, মানবাধিকারকে নিয়ে মধ্যপন্থি দল হতে চাই।

… ধর্মীয় ক্ষেত্রে এনসিপির অবস্থান হলো, মানুষ যেন পূর্ণমাত্রায় ধর্ম পালনের স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারে।…বাংলাদেশে যত ধর্ম এবং ধর্মগুলোর যত সম্প্রদায় রয়েছে, তাদের সবার মতামতের প্রতি এনসিপি শ্রদ্ধাশীল। সবাই যেন সমান নাগরিক অধিকার পায়, সে ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

… এনসিপি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কারও অনুভূতিতেই আঘাত করবে না। একই সঙ্গে ধর্মকে ব্যবহার করে যে উগ্রপন্থা, এনসিপি তার বিরোধী।

… বিদ্যমান সংবিধানের মূলনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে বাংলাদেশে ইসলামফোবিয়ার চর্চা হয়েছে। এই শব্দের মধ্য দিয়ে ধর্মের সম্প্রীতির বদলে বিভাজন তৈরি করা হয়েছে। রাজনীতির মাধ্যমে বিভাজন আরও বাড়ছে। ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দের যে রাজনীতি, এর বাইরে গিয়ে সম্প্রীতির রাজনীতি করতে চাই।

… এনসিপির বিরুদ্ধে যে প্রশ্ন উঠছে, সমালোচনা হচ্ছে, সেগুলো ইতিবাচক হিসেবে নিচ্ছে এনসিপি। এসব সমালোচনা আমাদের সংশোধিত ও পরিশীলিত করবে। … এনসিপি কোথায় কি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে? কেউ রাষ্ট্রক্ষমতার ব্যবহার করছে – এগুলো ভুল সমালোচনা।

… এনসিপি গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান চাচ্ছে। এর মানে এই নয়, এনসিপি নির্বাচন চায় না।

… আদর্শ, কর্মসূচি এবং নির্বাচনকালীন প্রেক্ষাপটে যে দলের সঙ্গে এনসিপির অবস্থান সবচেয়ে সংগতিপূর্ণ হবে, তাদের সঙ্গে জোট হলেও হতে পারে। জোট হবে না– এমন সিদ্ধান্ত নেই। হবে এমন সিদ্ধান্তও নেই। কার সঙ্গে জোট হবে স্পষ্ট নয়। কারণ, অনেক দলের সঙ্গে কথা বলছি। নানা মাত্রায় কথা হচ্ছে। নির্বাচনের সময় এলে স্পষ্ট হবে। “

আখতার হোসেন
সদস্য সচিব
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)

আফ্রিকার মুখোশ – আধ্যাত্মিক জগতের চাবি

আফ্রিকান আধিবাসীদের সংস্কৃতির কথা বলতে গেলে আমাদের মাথায় আপনা-আপনি বেশ কিছু আদিম উল্লাসের দৃশ্য চোখে ভেসে উঠে ।কিছু মানুষ চট করে দূরের এক পৃথিবীতে চলে গিয়ে আমাদের যেন স্তব্ধ করে দিতে চাইছে! যেমন রাতের আকাশে যখন পূর্ণিমার আলো, আফ্রিকার এক প্রত্যন্ত গ্রামে এক রহস্যময় উৎসব। আগুনের শিখা নাচছে, ঢোলের তালে তালে অগণিত মানুষের পদক্ষেপ ধ্বনিত হচ্ছে মাটিতে। আর এর মাঝেই উঠে আসে কিছু মুখোশধারী নৃত্যশিল্পী—তাঁদের মুখ ঢাকা কাঠের তৈরি মাস্কে, যা শুধু মুখ নয়, ধারণ করে হাজার বছরের রোমাঞ্চকর ইতিহাস, সংস্কৃতি আর এক অদৃশ্য জগতের গল্প। এটাই আফ্রিকান মাস্ক আর্ট! যা এক চিরন্তন ঐতিহ্য নিয়ে আজও জীবন্ত হয়ে আছে মানুষের মধ্যে।

আফ্রিকান মাস্ক আর্টের ইতিহাস কয়েক হাজার বছর পুরোনো। আফ্রিকার বিভিন্ন উপজাতি যুগ যুগ ধরে কাঠ, ব্রোঞ্জ, কাদামাটি, এবং কখনো কখনো পশুর চামড়া ব্যবহার করে এসব মাস্ক তৈরি করে আসছে। প্রতিটি উপজাতির মাস্কের নকশা ও রঙের আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেগুলো তাদের ভিন্ন ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিচয় বহন করে। যেমন পশ্চিম আফ্রিকার ডোগন উপজাতির মাস্ক দীর্ঘায়ত আকৃতির এবং এতে খোদাই করা হয় জ্যামিতিক নকশা। আবার বামবারা উপজাতির মাস্ক বেশ সরল এবং এগুলোতে অ্যানিম্যাল মোটিফ দেখা যায়। একেকটি মাস্ক একেকটি গল্প বলে — সেই গল্প কখনো পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে, কখনো প্রকৃতির শক্তিকে সম্মান জানায়, আবার কখনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অংশ হয়ে থাকে।

আফ্রিকান মাস্ক শুধুমাত্র শিল্প নয়, এটি ধর্ম, সংস্কৃতি, এবং আধ্যাত্মিকতার সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। উপজাতিরা বিশ্বাস করে, এসমস্ত আশীর্বাদ প্রাপ্ত মাস্ক পরিধান করার মাধ্যমে একজন সাধারণ মানুষ রূপান্তরিত হয় এক অতিপ্রাকৃত সত্তায়। অর্থাৎ, তাদেরই একজন প্রতিনিধি হয়ে যে ব্যক্তি মাস্ক পরিধান করে, সে হয়ে ওঠে পূর্বপুরুষের আত্মা, দেবতা বা প্রকৃতির শক্তির প্রতিনিধি। গ্রামগুলোতে যখন নতুন ঋতুর আগমনে উৎসব করে, তখন মাস্ক পরিহিত নৃত্যশিল্পীরা মঞ্চে উঠে আসে। তাঁদের শরীর ঢেকে থাকে রঙিন পোশাকে, হাতে ধরা থাকে কাঠের লাঠি বা পাখার মতো সরঞ্জাম। তাঁরা ধীরে ধীরে নাচতে শুরু করে, ঢোলের তালে তালে দোল খায় তাঁদের শরীর, আর সেই সঙ্গে জাগিয়ে তোলে আদিবাসী মানুষদের আদিম আবেগ।

মালির ডোগন উপজাতির মধ্যে একটি গল্প প্রচলিত আছে । তাঁরা বিশ্বাস করে, বিশ্বসৃষ্টির শুরুতে এক দেবতা মানবজাতিকে মাস্ক উপহার দিয়েছিলেন, যাতে তাঁরা প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। তাই তাঁদের প্রতিটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মাস্কের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে মাস্ক বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। কিছু মাস্ক যুদ্ধের আগে যোদ্ধাদের শক্তি বাড়ানোর জন্য পরা হয়, কিছু মাস্ক মৃত ব্যক্তিদের আত্মাকে বিদায় জানাতে ব্যবহৃত হয়, আবার কিছু মাস্ক বৃষ্টি প্রার্থনার সময় পরিধান করা হয়। কিছু উপজাতি মাস্ক ব্যবহার করে তাদের পূর্বপুরুষদের সম্মান জানাতে। নাইজেরিয়ার ইয়োরুবা উপজাতির “গেলেড়ে মাস্ক” মূলত মৃত আত্মাদের স্মরণ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। কঙ্গোর কাঙ্কা মাস্কের মত মাস্কগুলো যোদ্ধাদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়, যা যোদ্ধাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

অনেক মাস্কে আবার পশুর চেহারা খোদাই করা থাকে, যা প্রকৃতির শক্তির প্রতীক। আইভরি কোস্টের বউলে উপজাতির মাস্কে সিংহ বা চিতাবাঘের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। আফ্রিকান মাস্ক শুধু উপজাতীয় সংস্কৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি আধুনিক শিল্প ও ফ্যাশনেও দারুণ প্রভাব ফেলেছে। ১৯শ শতাব্দীতে ইউরোপীয় শিল্পীরা যখন আফ্রিকার মুখোশ আবিষ্কার করেন, তখন তাঁরা এটিকে নতুন শিল্পধারার অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করেন। পিকাসোর মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা আফ্রিকান মাস্কের বিমূর্ত রূপ ব্যবহার করে কিউবিজম শিল্প আন্দোলনের সূচনা করেন। এছাড়া আজকের বিশ্বে মাস্ক ডিজাইন ফ্যাশন, মিউজিক ভিডিও, এবং সিনেমার সেট ডিজাইনেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি অনেক নামী ডিজাইনার তাঁদের পোশাক তৈরিতে আফ্রিকান মাস্কের মোটিফ ব্যবহার করছেন ।আফ্রিকান মাস্ক শুধুমাত্র একটি কাঠের মুখোশ নয়, এটি একেকটি ইতিহাসের ধারক, একেকটি উপজাতির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এই মুখোশের পেছনে আছে গভীর আধ্যাত্মিকতা, শক্তি, এবং ঐতিহ্যের মিশ্রণ। প্রতিটি মুখোশ যেন একেকটি জীবন্ত কাহিনি, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে কিন্তু তার মহিমা কখনো হারায়নি। যখনই আমরা আফ্রিকান মাস্কের দিকে তাকাই, তখন শুধু এক টুকরো কাঠ নয়, বরং হাজার বছরের পুরনো সংস্কৃতি, বিশ্বাস আর জাদুকরী এক জগতের মুখোমুখি হই। এটা শুধু চোখে নয়, আত্মায়ও অনুভব করা যায়।

জামায়াতের কৌশল পরিবর্তন ? প্রকাশ্য কর্মসূচিতে , নারী নেতাকর্মী

0

জামায়াতে ইসলামীর নারী নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমের মধ্যে এতদিন সীমাবদ্ধ ছিলেন। সম্প্রতি রাজপথে ধর্ষণবিরোধী কর্মসূচিতে ও কূটনৈতিক বৈঠকে তাদের প্রকাশ্যে উপস্থিতি দেখা গেছে। একে জামায়াতের উদারীকরণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতের অবস্থান এতদিন নারীর পক্ষে ছিল না। ভোটারের অর্ধেক যেহেতু নারী, তাই এটা তাদের নির্বাচনী কৌশল হতে পারে। যদিও জামায়াত নেতারা বলছেন, নীতি-আদর্শে বদল আসেনি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের পতনে নিরাপদ পরিবেশে নারী নেতাকর্মীরা ইসলামের বিধিবিধান ও পর্দা মেনে রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও প্রকাশ্য হয়েছেন। সাংগঠনিক, ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে।

জামায়াতের একাধিক নেতা সমকালকে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর প্রধান জিজ্ঞাসা, নারীর প্রতি জামায়াতের দৃষ্টিভঙ্গি কী? নারীদের কার্যক্রম প্রকাশ্যে আসায়, তা স্পষ্ট হয়েছে। তবে এক নেতা বলেন, শুধু কূটনৈতিকদের প্রশ্নে নয়, সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনের প্রয়োজনেই দলীয় সিদ্ধান্তে নারী নেতাকর্মীর কার্যক্রম প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। যদিও নেতাদের একাংশ এর পক্ষে ছিলেন না। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নেওয়া সিদ্ধান্ত সবাই মেনে নিয়েছেন। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেন, ধর্ষণ-নিপীড়নবিরোধী কর্মসূচি যতটা না রাজনৈতিক, তার চেয়ে বেশি সামাজিক। সামাজিক কার্যক্রম মহিলা জামায়াতের নিয়মিত কাজের অংশ।

জামায়াতের মহিলা বিভাগ এলাকাভিত্তিক নিজস্ব কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম চালায়। মহিলা বিভাগ গ্রাম-শহরনির্বিশেষে ঘরে ঘরে দাওয়াতি কাজ করে। ‘প্রোগ্রাম’, ‘তালিম’ নামে পরিচিত ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে কোরআন-হাদিস শিক্ষার পাশাপাশি জামায়াতের সহযোগী সদস্য, কর্মী হিসেবে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। উপজেলা, জেলা, মহানগর ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে মহিলা বিভাগের রোকন (সদস্য) এবং নারী নেতারা ভোটদানের অধিকারী। জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ৩৮২ সদস্যের প্রায় ৪০ শতাংশ নারী। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সক্রিয় ৫২ সদস্যের প্রায় ৪০ শতাংশ নারী। যদিও সর্বোচ্চ ফোরাম ২১ সদস্যের নির্বাহী পরিষদে একজন নারীও নেই।

জামায়াতের এক নেতা সমকালকে ধারণা দিয়েছেন, কওমি ধারার ইসলামিক দলগুলোর সঙ্গে আগামী নির্বাচনে জোট কিংবা সমঝোতার কথা চলছে। এসব দল নারী নেতৃত্বের ব্যাপারে রক্ষণশীল। নারী নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে আনার বিষয়টি বেশি আলোচিত হলে কওমি ধারার দলগুলোর আপত্তিতে নির্বাচনে জোট বা সমঝোতার চেষ্টা বিঘ্নিত হতে পারে। সাধারণ শিক্ষাগ্রহণ, নারীকে বাইরের কাজের অধিকারকে সমর্থন, নারী নেতৃত্ব রয়েছে – এমন দলের সঙ্গে জোটের কারণে রক্ষণশীল এই দলগুলোর অনেকে এমনিতেই জামায়াতকে ইসলামিক দল হিসেবে মানতে চান না। জামায়াতের এক নেতা বলেন, শুধু ভোটে জিততে জামায়াত নারীর প্রতি উদার হচ্ছে, অন্যান্য ইসলামী দলের মতো নারীর প্রতি জামায়াতের দৃষ্টিভঙ্গি কঠোর নয় এমন ধারণা ছড়ালে ক্ষতি হবে। আবার জামায়াত নারীর প্রতি উদার নয়– এ ধারণাও ক্ষতিকর। তাই সব দিক বিবেচনায় এগোতে হচ্ছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক – খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য নতুন হুমকি

বিশ্বব্যাপী মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এখন একটি গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। আমরা জানি মাইক্রোপ্লাস্টিক সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে, কিন্তু এর প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নই। তবে নতুন গবেষণা এই ক্ষতির মাত্রাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। গবেষকরা অনুমান করছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণে উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের হার (photosynthesis rate) ১৮ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। একটি গবেষক দল ১৫৭টি পূর্ববর্তী গবেষণা বিশ্লেষণ করেছে, যেগুলো প্লাস্টিক দূষণ ও সালোকসংশ্লেষণের উপর প্রভাব নিয়ে কাজ করেছিল। গবেষকরা মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী এর সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করেছেন এবং খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহে সম্ভাব্য প্রভাব নির্ধারণ করেছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্ভিদ ও স্থানভেদে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। তবে গড়ে ৭.০৫ থেকে ১২.১২ শতাংশ পর্যন্ত সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যেতে পারে। জলজ শৈবাল এবং মিঠা পানির শৈবালে এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে, মিঠা পানির শৈবালের জন্য সালোকসংশ্লেষণের মূল উপাদান ক্লোরোফিল-এ (chlorophyll a) এর মাত্রা ১৮.২৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। গবেষকরা এই তথ্যের ভিত্তিতে ফসল ও সামুদ্রিক খাদ্য উৎপাদনে সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করেছেন। ইউরোপে গম উৎপাদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টা উৎপাদন থেকে শুরু করে সামগ্রিকভাবে খাদ্য উৎপাদনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, এই প্রভাবের ফলে প্রতি বছর ১০৯.৭৩ থেকে ৩৬০.৮৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন হ্রাস পেতে পারে। একইভাবে সামুদ্রিক খাদ্যের উৎপাদন বছরে ১.০৫ থেকে ২৪.৩৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন পর্যন্ত কমতে পারে। এটি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যদি মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ অব্যাহত থাকে, তবে ভবিষ্যতে খাদ্য সরবরাহের উপর আরও মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যাওয়া মানে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, যা কেবলমাত্র খাদ্য উৎপাদন নয় বরং পুরো পরিবেশ ব্যবস্থার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষকদের মতে, উদ্ভিদ বৃদ্ধি প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থানের (ecosystem) একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সালোকসংশ্লেষণ কমে গেলে তা শুধু খাদ্য সংকট নয়, পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। উদ্ভিদ কম সালোকসংশ্লেষণ করলে বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণের হার কমে যাবে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। যদিও গবেষণার এই ফলাফল উদ্বেগজনক, তবে এটি একটি ইতিবাচক দিকও দেখায়—সমস্যার ব্যাপ্তি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি হলে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। গবেষকরা মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ হ্রাসে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

তাঁদের মতে, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করতে হবে এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (single-use plastic) বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে প্লাস্টিক দূষণ রোধের কৌশল অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। গবেষণাটি বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দেয়। যদিও গবেষণাটি কিছু অনুমান ভিত্তিক উপসংহার নির্ধারণ করেছে, তবুও এটি একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে ভবিষ্যতে আরও গভীর গবেষণার জন্য। অতীতে করা গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক কেবল পরিবেশ নয়, মানবদেহেও প্রবেশ করছে। এটি রক্ত, ফুসফুস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রবেশ করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

গবেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক ব্যবহারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। সরকার ও বিভিন্ন সংস্থাকে একত্রে কাজ করতে হবে এবং প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করতে হবে। মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের ফলে খাদ্য উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশের উপর যে প্রভাব পড়ছে, তা অত্যন্ত গুরুতর। তাই, প্লাস্টিক ব্যবহারে সতর্ক হওয়া, পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্য ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়া এবং সরকার ও পরিবেশ সংস্থার উদ্যোগকে সমর্থন করা আমাদের সবার দায়িত্ব। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আমাদের খাদ্য ও পরিবেশের জন্য এর চরম মূল্য দিতে হতে পারে।

মধ্যযুগে ভারতবর্ষে , মসজিদ নির্মাণে , নারীদের অবদান

0

সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুতমিশের কন্যা রাজিয়া মধ্যযুগের ভারতীয় ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী নারী শাসক ছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং ‘সুলতান রাজিয়াতুদ দুনিয়া ওয়াদ দীন’ উপাধি নিয়ে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। তবে তার সিংহাসনে আরোহণ সহজ ছিল না। তার বৈমাত্রেয় ভাই মুয়িযউদ্দিন বাহরাম এবং তৎকালীন আলেমগণ তার শাসন ক্ষমতার বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু দক্ষ প্রশাসক ও যোগ্য সমরকুশলী হিসেবে তিনি তার যোগ্যতার প্রমাণ দেন। রাজিয়া নারী হওয়ায় তাকে নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি ছিল প্রবল। কিন্তু তিনি হার মানেননি। আত্মবিশ্বাস এবং শক্ত মনোবল নিয়ে তিনি জনসমর্থন আদায়ের কৌশল গ্রহণ করেন। কুওয়াতুল ইসলাম মসজিদে গিয়ে তিনি জনগণের সমর্থন চাইতেন, যা তখন নারীদের জন্য এক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ ছিল। তিনি ভারতবর্ষে নারীদের মসজিদ নির্মাণে পথিকৃতের ভূমিকা রাখেন।

রাজিয়া ছিলেন স্বাধীনচেতা, দূরদর্শী ও দক্ষ শাসক। তিনি ঘোড়া ও হাতি চড়ায় পারদর্শী ছিলেন এবং নিয়মিতভাবে মাদ্রাসা ও মসজিদ পরিদর্শন করতেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় অনেক খানকা ও মাদ্রাসা গড়ে ওঠে। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ মিনহাজ সিরাজ জুযজানির মাদ্রাসা তার অন্যতম পৃষ্ঠপোষণায় পরিচালিত হয়েছিল। মধ্যযুগে মুসলিম নারীরা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর তার পরিবারের নারীদের পরামর্শ নিতেন। নুরজাহান ছিলেন মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শক্তিশালী পরামর্শদাতা। আকবরের দুধমা মাহাম আঙ্গা সাম্রাজ্যের শুরুর দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

মাহাম আঙ্গার নির্মিত খায়রুল মানাজিল মসজিদ দিল্লির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন। মসজিদের প্রধান খিলানে তার নাম খোদাই করা আছে। পাশেই তিনি একটি মাদ্রাসাও নির্মাণ করেছিলেন, যা ইসলামী শিক্ষার প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাহাম আঙ্গার দেখানো পথে অনেক মোগল নারীরা হেঁটেছেন। তারা হয়তো নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাননি, তবে ধর্মীয় পুণ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে বহু মসজিদ নির্মাণ করেছেন। বাংলাদেশেও অনেক নারী মসজিদ নির্মাণ করেছেন। ঢাকার সবচেয়ে পুরাতন মসজিদ বিনত বিবি মসজিদ, যা পঞ্চদশ শতকে নির্মিত হয়। বাগেরহাটে বিবি বেগনির মসজিদ ষোড়শ শতকে নির্মিত হয়। বিবি মেহের মসজিদ (১৮১৪) এবং নারায়ণগঞ্জের বিবি মরিয়ম মসজিদ নারীদের অবদানের সাক্ষ্য বহন করে।

বাগেরহাটের বিবি বেগনি মসজিদ ইটের তৈরি সুদৃশ্য একটি এক গম্বুজবিশিষ্ট স্থাপত্য। এর চার কোণে চারটি মিনার রয়েছে। মসজিদের বাইরের দৈর্ঘ্য ১৬.১৫ মিটার, ভেতরে ১০.০৫৮ মিটার। দেয়ালের পুরুত্ব ৩.০৪৮ মিটার। পূর্ব দেয়ালে তিনটি খিলানাকার প্রবেশপথ, পশ্চিম দেয়ালে তিনটি মিহরাব রয়েছে। মিহরাবের বিশেষ স্থাপত্যশৈলী এটিকে অন্যান্য মসজিদ থেকে পৃথক করেছে। মসজিদে টেরাকোটার শিকল নকশা, গোলাপ ও খাঁজকাটা খিলানের নিদর্শন দেখা যায়। মধ্যযুগের অনেক মসজিদে নারীদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান ছিল। দিল্লির ওয়াজিরাবাদ মসজিদে সুদৃশ্য জালি দিয়ে ঘেরা একটি কক্ষ রয়েছে, যা নারীদের নামাজের জন্য তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। বাংলার পাণ্ডুয়ায় অবস্থিত আদিনা মসজিদেও একই রকম সংরক্ষিত স্থান ছিল।

সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক মামলুক সাম্রাজ্যের ভিত স্থাপন করার পর থেকে নারীরা সুফিদের খানকা ও দরগায় যাতায়াত করতেন।উনিশ শতক পর্যন্ত এই রীতি অব্যাহত ছিল। সুফি প্রথায় নারীদের প্রবেশাধিকার ছিল এবং অনেক খানকায় নারীদের জন্য নামাজের স্থান সংরক্ষিত থাকত। সুলতান রাজিয়া থেকে শুরু করে মাহাম আঙ্গা ও অন্যান্য মুসলিম নারীদের অবদান ভারতীয় উপমহাদেশে নারীদের ক্ষমতায়নের দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। তারা শুধু শাসনব্যবস্থা নয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থাপত্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাদের ঐতিহাসিক ভূমিকা আজও নারীদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে দেশের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের পথে এগিয়ে গেলেও দক্ষ মানবসম্পদের অভাব ও সুসংগঠিত শিক্ষানীতির অনুপস্থিতি এ গতিকে ব্যাহত করছে। টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে এটি এখনো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী প্রস্তুত করা হচ্ছে না, ফলে তরুণরা উচ্চশিক্ষার দিকে ঝুঁকলেও তা অনেক ক্ষেত্রেই শ্রমবাজারের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী উচ্চশিক্ষিত বেকারের হার কম শিক্ষিতদের তুলনায় বেশি, যা শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তবমুখিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অন্যদিকে, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও কারিগরি শিক্ষার অভাবে শিল্প, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও সেবা খাত কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারছে না।

প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলেও তাদের অধিকাংশই অদক্ষ বা স্বল্প দক্ষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীদের উচ্চ মজুরি ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা থাকলেও আমাদের শ্রমশক্তির বড় অংশ সেই প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। দক্ষ কর্মীদের আয় স্বল্প দক্ষদের তুলনায় প্রায় দুই-তিন গুণ বেশি, যা প্রমাণ করে যে পরিকল্পিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোতে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ফিলিপাইন নার্সিং, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে অধিকাংশ শ্রমিক কম মজুরির শ্রমে নিযুক্ত থাকেন, যা তাদের আর্থিক উন্নতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এই সংকট উত্তরণে পরিকল্পিত শিক্ষা ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা জরুরি। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা ও ডিজিটাল দক্ষতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন। দক্ষ কর্মীরা কেবল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে না, বরং তাদের জীবনমানও উন্নত হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে ।শিক্ষানবিশ(ইন্টার্নশিপ) শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। উন্নত দেশগুলোয় শিক্ষানবিশি বাধ্যতামূলক হওয়ায় শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকে। বাংলাদেশেও শিক্ষানবিশি ব্যবস্থা চালু করা গেলে তরুণরা বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে এবং দ্রুত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি প্রধান দুর্বলতা হলো এটি তাত্ত্বিক শিক্ষার ওপর বেশি নির্ভরশীল, যেখানে অর্জিত জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগের সুযোগ সীমিত। এর ফলে শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। কারিগরি ও পেশাভিত্তিক শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশি বাধ্যতামূলক করা গেলে শিল্প ও সেবা খাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। শিল্প ও বাণিজ্যের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিবিড় সংযোগ গড়ে তুলতে পারলে জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা সহজ হবে। শিল্প খাতে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি অংশীদারত্ব গড়ে তোলা জরুরি। উন্নত বিশ্বে ডুয়াল এডুকেশন সিস্টেম চালু রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা একযোগে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পায়। বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং শিল্প খাত দক্ষ কর্মী পাবে।

এক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য উপযোগী কর্মী তৈরি করবে। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হলে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন সম্ভব হবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে উদ্যোক্তা উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য স্টার্টআপ ইনকিউবেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে, যা তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।