Home Blog Page 139

গাজা এক নরকের নাম – রেড ক্রস প্রধান

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় রেড ক্রসের সদর দপ্তরে সংস্থাটির প্রধান মিরজানা স্পোলজারিক বলেছেন ‘আমরা এখন এমন এক পরিস্থিতিতে নিজেদের খুঁজে পাচ্ছি, যাকে আমি নরকতুল্য বলতে বাধ্য হচ্ছি। গাজার অনেক এলাকায় পানি, বিদ্যুৎ ও খাবারের অভাব রয়েছে। ছয় সপ্তাহ ধরে উপত্যকায় কোনো ত্রাণ প্রবেশ করেনি। ফলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের হাসপাতাল চালু রাখার প্রয়োজনীয় রসদ ফুরিয়ে যাবে।’ ২ মার্চ থেকে গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে প্রায় দেড় মাস উপত্যকাটিতে নতুন কোনো মানবিক সহায়তা প্রবেশ করেনি। প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ১৮ মার্চ সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করছে, ৪২ দিনের যুদ্ধবিরতিতে গাজায় ২৫ হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছে। হামাস সে সহায়তা তাদের যুদ্ধযন্ত্র (ওয়ার মেশিন) পুনর্গঠনে ব্যবহার করেছে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, গাজা ভূখণ্ডে অ্যান্টিবায়োটিক, আইভি ফ্লুইড ও রক্তের ব্যাগের সরবরাহও দ্রুত কমে আসছে। এতে অস্ত্রোপচার কঠিন হয়ে পড়েছে। জেরুজালেম থেকে এক ভিডিও বার্তায় জেনেভায় সাংবাদিকদের ডব্লিউএইচও কর্মকর্তা ড. রিক পিপারকর্ন বলেন, ‘এ ভূখণ্ডের ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে শুধু ২২টি ন্যূনতমভাবে কার্যকর রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ হাজার মানুষকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে গাজার বাইরে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।’

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস গেব্রিয়েসুস জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে গাজায় পাঠানো জাতিসংঘের ৭৫ শতাংশ ত্রাণ ঢুকতে দেয়নি ইসরায়েল। এতে সেখানে খাবার, ওষুধসহ জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিসের চরম সংকট তৈরি হয়েছে। টানা অবরোধের কারণে মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। অনেকে না খেয়ে আছে, চিকিৎসা পাচ্ছে না। একই সঙ্গে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, গাজার হাসপাতালগুলো কার্যত অচল হয়ে গেছে। ওষুধের মজুদ প্রায় শেষ। পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। এখন সেখানে দিনে মাথাপিছু মাত্র তিন-পাঁচ লিটার পানি মিলছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। গেব্রিয়েসুস বলেন, ‘গাজার মানুষ এখন খাদ্য, পানি, ওষুধ ও আশ্রয়ের জন্য হাহাকার করছে। আমরা চাই ত্রাণ পাঠানো দ্রুত শুরু হোক, আহতদের সরিয়ে নেয়ার সুযোগ মিলুক এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হোক।’




গেম নয় এমন অ্যাপ ChatGPT’র সর্বাধিক ডাউনলোডের রেকর্ড

২০২৫ সালের মার্চ মাসে বিশ্বব্যাপী গেম বাদে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া অ্যাপের তালিকায় প্রথমবারের মতো শীর্ষে উঠে এসেছে ওপেনএআই-এর তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অ্যাপ চ্যাটজিপিটি।দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষস্থান দখল করে রাখা ইনস্টাগ্রাম ও টিকটককে পেছনে ফেলে চ্যাটজিপিটির এই উত্থান প্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়া জগতে এক নতুন দিকচিহ্ন হয়ে উঠেছে।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদন অনুসারে, অ্যাপ বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপফিগারের প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, মার্চে চ্যাটজিপিটির ডাউনলোডের হার ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬ লাখে। এটি চ্যাটজিপিটির জন্য একটি বড় মাইলফলক, কারণ মাত্র এক মাসে এত বিশাল পরিমাণে নতুন ব্যবহারকারী যুক্ত হওয়া প্রযুক্তির ইতিহাসে বিরল।

মার্চ মাসে চ্যাটজিপিটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ আপডেট এই জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইমেজ জেনারেটর ফিচার। ব্যবহারকারীরা এই ফিচার ব্যবহার করে জনপ্রিয় জাপানি অ্যানিমেশন স্টুডিও ‘ঘিবলি’র স্টাইলে ছবি ও মিম তৈরি করতে পারেন, এটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া চ্যাটজিপিটি ভয়েজ ফিচারে উন্নয়ন আনে এবং ছবি সংক্রান্ত কনটেন্ট মডারেশনে কিছু সীমাবদ্ধতা শিথিল করে, যা ব্যবহারকারীদের আরও স্বাধীনভাবে কনটেন্ট তৈরি করতে সহায়তা করেছে। তবে শুধু নতুন ফিচারই নয়, চ্যাটজিপিটির ব্র্যান্ড হিসেবে বিশ্বজুড়ে অর্জিত বিশ্বাস এবং গ্রহণযোগ্যতাও এর ডাউনলোড বৃদ্ধির একটি বড় কারণ। অ্যাপফিগারের প্রধান নির্বাহী অ্যারিয়েল মাইকায়েলি বলেন, ‘যেমন ২০০০ দশকে গুগল হয়ে উঠেছিল নির্ভরতার প্রতীক, এখন অনেকেই এআই বলতে চ্যাটজিপিটিকেই বোঝে।’

এই বিশাল জনপ্রিয়তার কারণে অন্যান্য এআই চ্যাটবট অ্যাপ যেমন মেনাস, ডিপসিক-এর বাজার ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। অ্যান্থোপিকের ‘ক্লাউড’ অ্যাপও প্রত্যাশিত জনপ্রিয়তা পায়নি। যদিও ইলোন মাস্কের এক্স প্ল্যাটফর্মে যুক্ত এআই ‘গ্রোক’ ভবিষ্যতে জনপ্রিয়তা পেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে শীর্ষস্থানে ছিল টিকটক এবং ইনস্টাগ্রাম। তবে মার্চে এই দুই সোশ্যাল অ্যাপকে সরিয়ে শীর্ষে উঠে আসে চ্যাটজিপিটি। মার্কিন বাজারে টিকটকের ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এবং ইমেজ জেনারেটর ভাইরাল ট্রেন্ডকে এর পেছনের মূল চালক হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে পাইপার স্যান্ডলারের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের কিশোরদের মধ্যে এখনো ইনস্টাগ্রাম সবচেয়ে ব্যবহৃত অ্যাপ (৮৭%), টিকটক (৭৯%) এবং স্ন্যাপচ্যাট (৭২%) এর পরে। মার্চে শীর্ষ ১০ অ্যাপের তালিকায় আরও রয়েছে-ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ক্যাপকাট, টেলিগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, থ্রেডস ও টেমু। এসব অ্যাপ মিলিয়ে ডাউনলোড হয়েছে মোট ৩৩৯ মিলিয়ন বার, যা ফেব্রুয়ারির ২৯৯ মিলিয়নের তুলনায় অনেক বেশি। সবমিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ আর অ্যাপ ইকোসিস্টেমে চ্যাটজিপিটির অবস্থান এখন আর কেবল প্রযুক্তিগত নয়, বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার প্রতীক।




অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণে বাড়ছে শিশুমৃত্যু – গবেষণা

বিশ্বজুড়ে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের কারণে ২০২২ সালে ৩০ লাখেরও বেশি শিশু মারা গেছে বলে জানিয়েছেন শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একদল গবেষক। খবর বিবিসির। গবেষণায় দেখা গেছে, আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিশুদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বা জীবাণু প্রতিরোধ গড়ে তোলা এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে ইতোমধ্যেই চিহ্নিত হয়েছে। যখন সংক্রমণ সৃষ্টিকারী জীবাণুগুলো এমনভাবে পরিবর্তিত হয় যে, প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করে না-তখনই এএমআর সৃষ্টি হয়।

গবেষণার অন্যতম লেখক, অস্ট্রেলিয়ার মারডক চিলড্রেন’স রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডা. ইয়ানহং জেসিকা হু এবং ক্লিনটন হেলথ অ্যাক্সেস ইনিশিয়েটিভের অধ্যাপক হার্ব হারওয়েল জানিয়েছেন মাত্র ৩ বছরের ব্যবধানে শিশুদের মধ্যে এ ধরনের সংক্রমণ ১০ গুণেরও বেশি বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড মহামারির সময় অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিক মূলত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়-যেমন ত্বকের ইনফেকশন, নিউমোনিয়া কিংবা অস্ত্রোপচারের সময় সংক্রমণ ঠেকাতে। কিন্তু এগুলো ভাইরাসজনিত রোেগ যেমন সর্দি-কাশি, ফ্লু বা কোভিডের বিরুদ্ধে কার্যকর নয়।দুঃখজনকভাবে, বহু ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনে বা ভুলভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়, যার ফলে কিছু ব্যাকটেরিয়া এসব ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। অন্যদিকে, নতুন অ্যান্টিবায়োটিক উদ্ভাবনের হার খুব ধীর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ‘ওয়াচ অ্যান্টিবায়োটিক’ (যেগুলোর ওপর প্রতিরোধ গড়ার ঝুঁকি বেশি) ব্যবহারে ১৬০% এবং আফ্রিকায় ১২৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে, ‘রিজার্ভ অ্যান্টিবায়োটিক’-যেগুলো শুধু গুরুতর ও বহুমুখী প্রতিরোধী সংক্রমণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়-তার ব্যবহার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ৪৫%ও আফ্রিকায় ১২৫% বেড়েছে। গবেষকরা সতর্ক করেছেন, যদি এই রিজার্ভঅ্যান্টিবায়োটিকগুলোতেও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তবে ভবিষ্যতে এসব সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য কার্যকর বিকল্প থাকবে না বললেই চলে। অধ্যাপক হার্ব হারওয়েল বলেন, ‘এএমআর একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এটি সবার ওপর প্রভাব ফেলে। তবে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়-এটাই আমরা এই গবেষণায় তুলে ধরেছি।’

লন্ডনের কিংস কলেজের মাইক্রোবায়োলজির জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ডা. লিন্ডসে এডওয়ার্ডস বলেন, ‘এই নতুন তথ্য আগের তুলনায় অনেক বড় ধরনের সতর্কবার্তা। বিশ্বের স্বাস্থ্যের জন্য এটি একটি জোরালো সংকেত। এখনই পদক্ষেপ না নিলে শিশুস্বাস্থ্যে বহু দশকের অগ্রগতি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।’



তেজস্ক্রিয়তা মোকাবিলায় ফুল

পরমাণু শক্তির আবিষ্কার মানবজাতিকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে এক নতুন যুগে প্রবেশ করিয়েছে। এর মাধ্যমে যেমন বিশাল শক্তি ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়েছে, তেমনি তৈরি হয়েছে এক চরম বিপদের আশঙ্কা, পরিবেশ ও জীবজগৎ ধ্বংসের সম্ভাবনা। পরমাণু শক্তির ব্যবহারে উৎপন্ন বর্জ্য কেবল মানুষ নয় বরং সমগ্র জৈব পরিবেশের ওপর দীর্ঘস্থায়ী ও চিরস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।পারমাণবিক বর্জ্য হলো এক ধ্বংসাত্মক দূষক। ইউরেনিয়াম, সিজিয়াম-১৩৭ (137Cs), স্ট্রনটিয়াম-৯০ (Sr)-এর মতো বিকিরণযুক্ত পদার্থ মাটি ও পানিতে ছড়িয়ে পড়লে সেগুলো গাছপালা শোষণ করে এবং খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের ও প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করে। এই রেডিওনিউক্লাইডগুলো শরীরের কোষ ও টিস্যুকে চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। হাড়ের ক্যান্সার, লিউকেমিয়া, এমনকি জেনেটিক পরিবর্তন ঘটিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এর শিকার হতে পারে।

তাই প্রশ্ন ওঠে, এই বিপজ্জনক পদার্থগুলো কীভাবে মাটি ও পানি থেকে সরানো যায়? চেরনোবিল দুর্ঘটনার (১৯৮৬) পর থেকেই নানা আধুনিক প্রযুক্তি যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করে এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু প্রযুক্তির পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা ফিরে তাকিয়েছেন প্রকৃতির দিকে, সেই পুরনো সহচর উদ্ভিদের দিকে যাদের সঙ্গে মানুষের সহাবস্থান হাজার বছরের। উদ্ভিদ শুধু খাদ্য ও অক্সিজেন সরবরাহ করে না, অনেক গাছপালা প্রকৃতির পরিশোধক হিসেবেও কাজ করে। বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন গাছের কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ, ভারী ধাতু পরিশোধন বা দূষক শোষণ এসব সক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করছেন। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ফাইটোরিমেডিয়েশন, অর্থাৎ গাছের মাধ্যমে দূষণ দূর করার পদ্ধতি।

এই প্রক্রিয়ায় এমন গাছ নির্বাচন করা হয় যেগুলো খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় না কিন্তু দূষণ শোষণে দক্ষ। এতে করে খাদ্যশৃঙ্খলে দূষক ঢোকার ঝুঁকি কমে। হাজারো উদ্ভিদের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর হিসেবে উঠে এসেছে সূর্যমুখী (Helianthus annuus L.)। ১৯৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ইলিয়া রাসকিন ও তাঁর গবেষক দল দেখান, সূর্যমুখী হাইড্রোপনিক চাষে ইউরেনিয়ামসহ ভারী ধাতু শোষণে অত্যন্ত দক্ষ। ওহাইওতে দূষিত পানিতে সূর্যমুখী বসিয়ে দেখা যায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় পানির ইউরেনিয়াম মাত্রা ৯৪% কমে গেছে। সূর্যমুখী দ্রুত বাড়ে, অনেক ধরনের পরিবেশে টিকে থাকে এবং প্রচুর পরিমাণে রেডিওঅ্যাকটিভ পদার্থ নিজের মধ্যে জমা করতে পারে।

১৯৯৪ সালে চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর এক আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় সূর্যমুখী ব্যবহার করে সিজিয়াম-১৩৭ ও স্ট্রনটিয়াম-৯০ পরিষ্কারের সফলতা অর্জিত হয়। চুল্লির এক কিলোমিটারের মধ্যেও সূর্যমুখী রোপণ করা হয়েছিল। ফাইটোটেক নামের সংস্থার মতে, এই পদ্ধতিতে খরচ কমেছে ১০%। সূর্যমুখী আরও তামা (Cu²⁺), ক্যাডমিয়াম (Cd2+), সিসা (Pb2+), দস্তা (Zn2+) ইত্যাদিও শোষণ করতে পারে। তবে সূর্যমুখী পানিতে যেমন কার্যকর, মাটিতে ততটা নয়। এই সীমাবদ্ধতা মোকাবেলায় বিজ্ঞানীরা নজর দিয়েছেন অন্য গাছে। পারডিউ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেরি অ্যালিস ওয়েব তামাক গাছ নিয়ে গবেষণা করেন এবং আবিষ্কার করেন, এটি স্ট্রনটিয়াম-৯০ শোষণে সক্ষম। এই আইসোটোপ ক্যালসিয়ামের মতো আচরণ করে এবং গাছ সেটিকে শোষণ করে ফেলে।

ফুকুশিমার (২০১১) পরেও জাপানে সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন গাছ রোপণ করা হয়, কিন্তু ততটা ফল মেলেনি। গবেষকদের মতে, এর পেছনে ছিল সময়গত পার্থক্য ও মাটি-জলের রসায়ন। চেরনোবিলে গাছ রোপণ হয়েছিল অনেক বছর পর, যেখানে ফুকুশিমায় তা হয়েছিল সঙ্গে সঙ্গেই।তাছাড়া সূর্যমুখীর জেনেটিক ভিন্নতাও এক কারণ। তবে গবেষণাগারে সূর্যমুখী ও ইন্ডিয়ান মাস্টার্ডের মতো উদ্ভিদ সিজিয়াম-১৩৭, কোবাল্ট-৬০ শোষণে দক্ষ প্রমাণিত হয়েছে। যদিও রোবট, ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি দূষণ ঠেকানোর কাজ করছে, তারপরও কম খরচে, সহজলভ্য এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে উদ্ভিদের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। গাছ শুধু সৌন্দর্য নয়, পরিবেশ রক্ষার এক নীরব যোদ্ধা।

যখনই আপনি ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ সূর্যমুখী ক্ষেত দেখবেন মনে রাখবেন-এই গাছগুলো একদিন মৃত্যুবাহী বিকিরণকে শোষণ করে আবার প্রাণকে ফিরিয়ে এনেছিল।





ইসরায়েল কীভাবে এত শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হলো

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর মাঝখানে ছোট্ট একটি দেশ ইসরায়েল। ১৯৪৮ সালের ১৪ই মে ফিলিস্তিন ছেড়ে যায় ব্রিটেন, আর ইহুদিরা ঘোষণা করে নিজস্ব রাষ্ট্র ইসরায়েলের। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের একমাত্র পরমাণু শক্তিধর দেশ ইসরায়েল। তারাই একমাত্র দেশ যারা শুধুমাত্র ধর্মের ভিত্তিতে সরাসরি নাগরিকত্ব দেয়, সেটা পৃথিবীর যে প্রান্তেরই ইহুদি হোক না কেন। ৭৫ বছরে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি বা সামরিক দিক দিয়ে বিশ্বে একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে ইসরায়েল। এটা সম্ভব হওয়ার পেছনে কাজ করেছে বেশ কয়েকটি বিষয়। ‘মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র ইসরায়েল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয় এবং সে গনতন্ত্রকে সমর্থন দেয় ফ্রান্স এবং ব্রিটেন,’ বলেন মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাহমুদ আলী।

ইহুদিদের সাথে শিক্ষাগত, সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক এমন নানা দিক পশ্চিমা চিন্তাধারার সাথে মিলে, যেটা আরবদের থেকে ভিন্ন। এজন্য ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যে একটুকরো পশ্চিমা দেশ হিসেবে গণ্য করা হয়। ইসরায়েলের এতটা শক্তির পেছনে পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষত আমেরিকার একটা বড় অবদান আছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আমেরিকার বৈদেশিক সহায়তার সবচেয়ে বড় অংশ পেয়ে আসছে ইসরায়েল। ইসরায়েল জন্মলগ্ন থেকেই ব্রিটেন, ফ্রান্স ও আমেরিকার সমর্থন পেয়েছে। আর সত্তরের দশক থেকে আমেরিকার উদ্যোগে আরব রাষ্ট্রগুলোর সাথে ইসরায়েলের একরকম সমঝোতার পথও তৈরি হতে থাকে।

ড. মাহমুদ আলীর মতে টিকে থাকার লড়াই আরো শক্ত করেছে ইসরায়েলকে। যদিও লন্ডনের স্কুল অব আফ্রিকান এন্ড ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের আওতাধীন মিডলইস্ট ইন্সটিটিউটের শিক্ষক ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক ড. সেইয়েদ আলী আলাভি মনে করেন, ইসরায়েলের সামরিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্য পশ্চিমাদের কারণেই সম্ভব হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইরানের প্রযুক্তিগত বিকাশ ঘটেছে প্রায় আমেরিকার বিপরীতে, আর ইসরায়েলের বিকাশ হয়েছে আমেরিকার বন্ধু থেকে। তবে ইসরায়েলের ক্ষেত্রে দক্ষতার মাত্রাটা ভিন্ন।আধুনিক অস্ত্র, সাইবার সিকিউরিটি, আকাশ প্রতিরক্ষা, মিসাইল ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা তৎপরতা — এসব দিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিয়েছে ইসরায়েল।

ষাটের দশক থেকেই পরমাণু শক্তিধর হয় দেশটি। ড. মাহমুদ আলী বিবিসি বাংলাকে বলেন, ইসরায়েলের পারমানবিক অস্ত্রের প্রকল্পে ফ্রান্স সাহায্য করেছিল। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো যাতে পারমানবিক শক্তি অর্জন করতে না পারে সেজন্য আমেরিকা ছিল বদ্ধপরিকর। শুধু সামরিক দিক থেকে নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও সমানভাবে দক্ষতার দিকে এগিয়েছে। ইসরায়েলের চমক জাগানো সাফল্যগুলোর মধ্য অন্যতম হচ্ছে তাদের কৃষি খাত। ফিলিস্তিনিদের বিতাড়িত করার মাধ্যমে ইসরায়েল রাষ্ট্রের যখন প্রতিষ্ঠা হয়, তখন সেখানে পানি এবং উর্বর ভূমির সংকট ছিল। অত্যাধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মরুভূমিতে নানা ধরণের শস্য ফলানোর সাফল্য দেখিয়েছে দেশটি। কৃষি-ভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে একটি হাই-টেক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে ইসরায়েল।

আমেরিকার ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর মতে ইসরায়েলের ফুড প্রসেসিং শিল্প ক্রমাগত নতুন নতুন জিনিস উদ্ভাবন করছে। ইসরায়েলের ফুড প্রসেসিং শিল্প ২০২০ সালে ১৯ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে এবং এই আয় ক্রমাগত বাড়ছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির দিক থেকে ইসরায়েলের প্রভাব রয়েছে। দেশটিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে এমন স্টার্ট আপের সংখ্যা লাখের উপরে। নেতৃত্বের দিক দিয়ে শুরু থেকেই বিচক্ষণতা দেখিয়েছে ইসরায়েল, যেটা তাদের এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। দেশটির নেতৃত্ব সামরিক, কৃষি, শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করেছে। ।

ইসরায়েলের ইহুদিরা মূলত এ অঞ্চলে এসেছিল বাইরের ভূখণ্ড, বিশেষত ইউরোপ থেকে। ড. মাহমুদ আলীর মতে, অষ্টাদশ থেকে উনবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপে জ্ঞানের যে ব্যাপক বিকাশ ঘটে সেটার অংশ ছিল ইহুদি জ্ঞানী বা পান্ডিত্য সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ যারা অতি জ্ঞানী, আধুনিক, শিক্ষিত একটি জাতিগোষ্ঠী হিসেবে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা করেন। ‘তারা ৩০ ও ৪০ এর দশকে ইসরায়েল অঞ্চলে এসেছিলেন এবং তাদের সহযোগিতায় ইসরায়েল উচ্চ শিক্ষিত একটি বৈজ্ঞানিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যেখানে দারিদ্র্য, বৈষম্য ও শিক্ষার অভাব ছিল সেখানে ইসরায়েল একটি ভিন্ন সমাজ এবং রাষ্ট্রব্যবস্থায় উপনীত হয়,’ বলেন ড. আলী। তবে ইসরাইল যতই আধুনিক বা শক্তিধর হোক না কেন, এর পেছনে তাদের আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের দখল এবং মানুষের উপর সহিংসতার বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না।






বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ৬ মাসের মধ্যে বড় অংশ জব্দ করা হবে : গভর্নর

শুক্রবার বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন ‘দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আইনি পথে অর্থ ফেরত আনা সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। অনেক দেশই আইনি কাঠামোর বাইরে বিকল্প উপায়ে ব্যবস্থা নেয়।আপসের মাধ্যমে টাকা ফেরত আনা গেলে তা অনেক দ্রুত হয়।’ তিনি বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া হোক বা আপসের মাধ্যমে-যেভাবেই হোক, তার আগে কোন দেশে কত সম্পদ পাচার হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। যত বিস্তারিত তথ্য থাকবে, তত ভালোভাবে দর কষাকষি করা যাবে।’ এ উদ্দেশে কিছু বেসরকারি ফার্মও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান গভর্নর।

তিনি বলেন, ‘এসব ফার্ম পাচার হওয়া সম্পদ শনাক্ত করতে আমাদের সহায়তা করছে। তথ্য সংগ্রহের পর সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করব। সে দেশের আইনি কাঠামো মেনেই আমাদের কাজ করতে হবে। ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে এবং তাদের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া মিলছে।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘চট্টগ্রামের একটি বৃহৎ ব্যবসায়িক গ্রুপ-এস আলম প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি থেকে দেড় লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। বেক্সিমকোসহ আরও কয়েকটি বড় গ্রুপকে যুক্ত করলে এই অঙ্ক দাঁড়াতে পারে আড়াই থেকে তিন লাখ কোটি টাকায়।’

দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে জানিয়ে গভর্নর বলেন, ‘বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো। রিজার্ভ, মুদ্রাস্ফীতি, রপ্তানি আয়-সবকিছু ইতিবাচক প্রবণতায় রয়েছে। ইসলামী ব্যাংকসহ যেসব বেসরকারি ব্যাংক অনিয়মে দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তারাও ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে।’


মিয়ানমারে যে কারণে মার্কিন নীতির পরিবর্তন দরকার – ব্রহ্ম চেলানি নয়াদিল্লি ভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি , রিসার্চের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক

.. ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র শাস্তিমূলক নীতি গ্রহণ করেছে। ট্রাম্পের পূর্বসূরি জো বাইডেন ক্রমেই কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন, পাশাপাশি বিদ্রোহীদের ‘অপ্রাণঘাতী’ সামরিক সহায়তা প্রদান করেন, যারা সামরিক শাসন উৎখাত করতে চায়। ট্রাম্প প্রশাসন এখনো সেই নীতিই অনুসরণ করছে। … গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা তো দূরের কথা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ানমার নীতি স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাগুলো সামরিক সরকারকে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটিয়েছে। এতে যুদ্ধবাজ গোষ্ঠী, মানব পাচারকারী, মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্র চোরাচালানকারী এবং বন্য প্রাণী পাচারকারীরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

… মিয়ানমারের বিভক্ত প্রতিরোেধ বাহিনীগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন দেশটির মানবাধিকার সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে।বাস্তবতা হলো, সর্বশেষ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল এবার সেনাবাহিনীর নিপীড়ন থেকে নয়, বরং জান্তাবিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাত থেকে পালিয়ে আসছে। অতীতের দমন-পীড়নের জন্য পরিচিত মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে না গিয়ে রোহিঙ্গারা এখন বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। বিদ্রোহীদের হামলা এতটাই নিষ্ঠুর যে রোহিঙ্গা মিলিশিয়ারা এখন তাদের পুরোনো দমনকারীদের, অর্থাৎ সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাজ করছে।

এদিকে মিয়ানমারে চীনের কৌশলগত প্রভাব আরও শক্তিশালী হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আরোপিত ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার ফলে মিয়ানমারের শাসকদের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই। ফলে তারা চীনের হাতে দেশের বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ-প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ, মূল্যবান পাথর, রুবি ও জেডের মতো রত্নসম্পদ-শোষণের সুযোগ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও একই ভুল করেছে।মিয়ানমারের আগের সামরিক শাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্র দুই দশকের বেশি সময় ধরে নিষেধাজ্ঞাভিত্তিক বিচ্ছিন্নকরণ নীতি অনুসরণ করেছিল। কিন্তু এর ফলে কোনো পরিবর্তন আসেনি; বরং এর ফলে চীনের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল।

পরে যখন তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলার নীতি গ্রহণ করেন এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য উৎসাহ দেন, তখন পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। ২০১২ সালে ওবামা প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিয়ানমার সফর করেন। এর তিন বছর পর, অর্থাৎ ২০১৫ সালে দেশটি ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি বেসামরিক সরকার নির্বাচন করে। … ২০১৪ সালে থাইল্যান্ড সেনাবাহিনীর প্রধান যখন ক্ষমতা দখল করেন, তখন যুক্তরাষ্ট্র তার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে যোগাযোগ চালিয়ে যায়। এই নীতিই শেষ পর্যন্ত দেশটিতে ২০২৩ সালে বেসামরিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে। ট্রাম্প প্রশাসনের উচিত মিয়ানমারের ক্ষেত্রে একই কৌশল গ্রহণ করা।…যার মাধ্যমে সামরিক শাসকদের সঙ্গে সীমিত পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু করা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের উচিত সামগ্রিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে তার বদলে শুধু সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া। পাশাপাশি বিদ্রোহীদের প্রতি সামরিক সহায়তা কমানো প্রয়োজন; কারণ, এটি সহিংসতা দীর্ঘায়িত করছে। এর বদলে মানবিক সহায়তা বাড়ানো উচিত, যাতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আসিয়ান এবং ভারত ও জাপানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে মিলে মিয়ানমারের সংকট সমাধানের জন্য কূটনৈতিকভাবে কাজ করা। এর মানে হলো, শুধু নিষেধাজ্ঞা বা চাপ প্রয়োগ না করে সব পক্ষকে আলোচনায় বসতে রাজি করানো। কারণ, মিয়ানমারে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি তখনই আসবে, যখন সেনাবাহিনীসহ সব দল আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাবে।

বাস্তববাদী নীতি গ্রহণ করলে ট্রাম্প প্রশাসন মিয়ানমারের মানবিক সংকট কমাতে পারবে, জান্তা ও বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংলাপের সুযোগ তৈরি করতে পারবে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দেশে চীনের প্রভাব মোকাবিলা করতে পারবে। “





জেন Z vs মিলেনিয়ালস জীবনধারার দ্বন্দ্ব ও মিল

বর্তমান সমাজে দুইটি প্রজন্মের মধ্যে জীবনধারার পার্থক্য লক্ষণীয়, মিলেনিয়ালস (১৯৮১-১৯৯৬) এবং জেন Z (১৯৯৭-২০১২)। এই দুটি প্রজন্মের মধ্যে সামাজিক, প্রযুক্তিগত, ও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং আচরণগত পার্থক্য দেখা যায়।

প্রযুক্তি ব্যবহারে পার্থক্য দুটি প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট। মিলেনিয়ালস সেই প্রজন্ম যারা ডিজিটাল বিপ্লবের সূচনালগ্নে জন্মগ্রহণ করেছিল, যেখানে ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়া ধীরে ধীরে প্রসারিত হচ্ছিল। তাদের জীবনে ফেসবুক এবং ইমেইল অন্যতম যোগাযোগের মাধ্যম ছিল। অন্যদিকে জেন Z প্রজন্ম পুরোপুরি স্মার্টফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর এবং তারা এই প্রযুক্তির ব্যবহারকে নিজেদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। Pew Research Center-এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, জেন Z প্রজন্মের ৯৫% সদস্য সক্রিয়ভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে এবং এটাই তাদের পরিচিতির মূল ভিত্তি। এই প্রযুক্তিগত পার্থক্য দুটি প্রজন্মের চিন্তা-ভাবনা ও জীবনধারায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

ক্যারিয়ারের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতেও মিলেনিয়ালস এবং জেন Z-এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। মিলেনিয়ালস একটি স্থিতিশীল এবং প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ারকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখে, যেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কর্পোরেট চাকরি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তারা মনে করে একটি চাকরি তাদের জীবনে নিরাপত্তা এবং উন্নতির পথে সাহায্য করবে। অপরদিকে জেন Z প্রজন্মের মধ্যে ক্যারিয়ার সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বেশি নমনীয় এবং ফ্লেক্সিবল। তারা সাইড-হাসল, ফ্রিল্যান্স কাজ, এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতি আগ্রহী। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে জেন Z-র ৬০% সদস্য ফ্রিল্যান্স কাজের প্রতি আগ্রহী।

মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সচেতনতা বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলেও মিলেনিয়ালসরা মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে অনেকটাই লজ্জিত বা সংকোচ বোধ করত। অন্যদিকে জেন Z এই বিষয়ে অনেক বেশি খোলামেলা এবং তারা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অধিক সচেতন। তারা থেরাপি এবং মানসিক স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণে আগ্রহী এবং একে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে। WHO-র রিপোর্ট অনুযায়ী জেন Z প্রজন্মের সদস্যরা উদ্বেগ এবং ডিপ্রেশন সমস্যায় বেশি আক্রান্ত, তবে তারা এই সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনা করতে এবং সমাধান করতেও প্রস্তুত।

ভোগবাদী চিন্তাভাবনা এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। মিলেনিয়ালস সাধারণত ব্র্যান্ড কনশাস এবং ভোগবাদী ছিল, যেখানে তাদের মূল লক্ষ্য ছিল উচ্চমানের পণ্য এবং অভিজ্ঞানী জীবনযাপন। তবে জেন Z প্রজন্ম পরিবেশবান্ধব এবং ইনক্লুসিভ সংস্কৃতির প্রতি বেশি মনোযোগী। তারা রিসাইক্লিং, সাসটেইনেবল ফ্যাশন এবং সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল ব্র্যান্ডের প্রতি আগ্রহী।মিলেনিয়ালস এবং জেন Z-এর মধ্যে জীবনধারার পার্থক্য, প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরন, ক্যারিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। যদিও উভয় প্রজন্মই সময়ের পরিবর্তনের সাথে নিজেদের স্থান তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক সংলাপ রয়েছে, যা আধুনিক সমাজের দিকে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসছে।





ত্বকে স্ট্রেচ মার্ক নিয়ে চিন্তিত ?

আমাদের ত্বক তিনটি স্তর নিয়ে গঠিত, এপিডার্মিস (বহিঃস্তর), ডার্মিস (মধ্যন্তর), এবং সাবকিউটেনিয়াস (অভ্যন্তরীণ স্তর)।যখন শরীর দ্রুত বাড়ে বা কমে, তখন ডার্মিস স্তরটি প্রসারিত হয়ে পড়ে যায়, ফলে তৈরি হয় ফাটা দাগ বা স্ট্রেচ মার্ক। এই দাগগুলো সাধারণত লালচে, বেগুনি বা বাদামি রঙের সরু লাইন হিসেবে শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে রূপ নেয় হালকা সাদা বা রূপালি দাগে। এটি ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিন নামক প্রোটিনের ক্ষতির কারণে হয়। এই উপাদানগুলো ত্বককে নমনীয় ও টান সহ্য করার মতো করে তোলে।

স্ট্রেচ মার্ক হওয়ার সাধারণ কারণগুলো হচ্ছে

  • গর্ভাবস্থায় নারীদের পেট, কোমর বা উরুতে স্ট্রেচ মার্ক হওয়া খুবই সাধারণ।
  • হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে বিশেষ করে টিনএজ বয়সে হরমোনের তারতম্যের কারণে দ্রুত ওজন বা উচ্চতা বৃদ্ধিতে দাগ হতে পারে।
  • হঠাৎ ওজন কমানো বা বাড়ানো।
  • দ্রুত মাংসপেশি বৃদ্ধি পেলে ত্বক টান পড়ে স্ট্রেচ মার্ক তৈরি হয়।
  • স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহারেও দাগ পড়ে যেতে পারে।
  • সমাধান ও প্রতিকার
  • স্ট্রেচ মার্ক পুরোপুরি মুছে ফেলা সম্ভব না হলেও, কিছু উপায়ে তা হালকা বা প্রায় অদৃশ্য করা যায়।
  • কোকো বাটার, শিয়া বাটার, অ্যালোভেরা জেলড়এই উপাদানসমৃদ্ধ ক্রিম ত্বকের নমনীয়তা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
  • ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শে ব্যবহারে নতুন দাগ হালকা হতে পারে।
  • উন্নত চিকিৎসাপদ্ধতি কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে এসব দাগ হালকা করে।
  • সূক্ষ্ম সূচের মাধ্যমে ত্বকে ক্ষুদ্র ক্ষত তৈরি করে পুনরায় টিস্যু গঠনকে উদ্দীপিত করে।
  • পর্যাপ্ত পানি পান ও ভিটামিন সি, ই ও জিঙ্কযুক্ত খাবার ত্বক সুস্থ রাখে।
    স্ট্রেচ মার্ক একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার ফল হয়ে শরীরের পরিবর্তনের সাক্ষ্য দেয়। এটি লজ্জার নয়। বিশেষত নারীদের জন্য মাতৃত্বের স্মারক। দাগ হালকা করতে নিয়মিত যত্নের বিকল্প নেই।


পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বেজে ওঠা এ রহস্যময় শব্দের উৎস কি ?

ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলের বাসিন্দা জেনি বার্নস ২০০৮ সালের এক গ্রীষ্মের রাতে গভীর ঘুম থেকে জেগে উঠলেন একটি গভীর গুঞ্জনের শব্দে। মনে হচ্ছিল যেন দূরে কোনো বিশাল ইঞ্জিন চলছে একটানা, ধীর কিন্তু প্রবলভাবে কানে ঢুকে যাচ্ছে। আশেপাশের কেউ কিছু শুনতে পাচ্ছিল না, তবু জেনি নিশ্চিত, এই শব্দটা বাস্তব। শব্দটি প্রতিদিন গভীর রাতে ফিরে আসতে থাকে। তার ঘুম নষ্ট হতে থাকে, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ডাক্তাররা বলেন, ‘টিনিটাস’, কিন্তু জেনি জানেন, এটি তার মাথার ভেতর নয় বাইরেরই কিছু। এই শব্দই আজ বিশ্বজুড়ে ‘হাম সাউন্ড’ নামে পরিচিত একটি রহস্য যা এখনো সমাধান হয়নি।

‘হাম সাউন্ড’ কী?
‘হাম সাউন্ড’ হল একটি নিচু ফ্রিকোয়েন্সির (৩০৮০ হার্জ) গুঞ্জন, যা নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি শুনতে পান। এটি সাধারণত রাতে শোনা যায় এবং অনেকের মতে এটি শরীরের ভেতরে কম্পনের মতো অনুভূত হয়। এই শব্দটি সাধারণত শিল্পাঞ্চলে নয় বরং প্রকৃতির কোল ঘেঁষে থাকা অঞ্চলে বেশি অনুভূত হয়, যেখানে পরিবেশ নিঃশব্দ।

১৯৯০-এর দশকে নিউ মেক্সিকোর মরুভূমি শহর টাওস-এ শত শত মানুষ অভিযোগ করতে থাকেন, তারা এক অদ্ভুত গুঞ্জন শুনছেন।সরকারিভাবে তদন্ত হয়, কিন্তু কোনও শব্দের উৎস শনাক্ত করা যায় না। অন্টারিও’র কানাডাতে ২০১১ সাল থেকে শুরু হয়ে এই হাম শব্দ এতই প্রবল হয় যে মানুষ ঘর ছেড়ে পালাতে থাকে। ২০১৩ সালের এক গবেষণায় সম্ভাব্য উৎস হিসেবে কাছাকাছি একটি স্টিল ফ্যাক্টরির কথা বলা হয়, কিন্তু প্রমাণ মেলেনি।

যুক্তরাজ্যে জেনির মতো অনেকেই এই শহরে ব্রিস্টল হাম নিয়ে একই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। ১৯৭০-এর দশক থেকে ব্রিস্টলে হাম শব্দের রেকর্ড পাওয়া যাচ্ছে এবং আজও অব্যাহত। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে একদল মানুষ দাবি করেন, তারা প্রতি রাতে একটি ধ্বনি শুনতে পান যা কখনও ধীরে, কখনও তীব্র হয়ে ওঠে। বিজ্ঞানী ও অডিও বিশেষজ্ঞরাও এই ধ্বনির উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি। বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত এর কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন : ২০১৫ সালে ফরাসি গবেষক ফ্যাব্রিস আরডুইন জানান, সমুদ্রের শক্তিশালী তরঙ্গ যখন মহাসাগরের তলদেশে আঘাত করে, তখন পৃথিবীর অভ্যন্তরে একধরনের কম্পন তৈরি হয়, এটি সুনির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ‘হাম’ আকারে অনুভূত হয়।

কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় শিল্পস্থাপনা (স্টিল ফ্যাক্টরি, পাওয়ার প্ল্যান্ট) থেকে ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কম্পন নির্গত হয়, যা হাম সৃষ্টি করতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই নিকটবর্তী কোন উৎস পাওয়া যায় না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, অনেকের ক্ষেত্রে ‘হাম’ আসলে শ্রবণ বিভ্রম বা টিনিটাসের অংশ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে-সবাই কেন শুনছে না? আর কেনই বা নির্দিষ্ট এলাকায়ই বেশি শোনা যায়?
যেখানে বিজ্ঞান থেমে যায়, সেখানে আবার কন্সপিরেসি জন্ম নেয়! অনেকে মনে করেন, এই অদ্ভুত শব্দ হল ‘HAARP’-এর মতো গোপন সামরিক প্রকল্পের ফল। এটি মানুষের মন নিয়ন্ত্রণ বা আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম এমন প্রযুক্তি হতে পারে।

কিছু UFO গবেষক মনে করেন, ‘হাম’ শব্দ সম্ভবত পৃথিবীতে ভিনগ্রহবাসীর উপস্থিতির প্রমাণ ও একধরনের যোগাযোগ সংকেত যা আমরা বোঝার মতো নই। আবার বিশ্বাস করা হয়, পৃথিবীর গভীরে হয়ত কিছু চালু আছে, মিলিটারি সাবমেরিন কমিউনিকেশন, বা গোপন মেশিন। যা মানুষকে অজান্তেই প্রভাবিত করছে। হাম শব্দ নিয়ে যারা ভোগেন, তাদের অনেকে দুশ্চিন্তা, ঘুমহীনতা এবং অবসাদে ভোগেন।এটি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, একটি অজানা এবং অদৃশ্য উত্স থেকে আসা অনুভূতি মানুষের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। ‘হাম সাউন্ড’ রহস্যময়, বিভ্রান্তিকর এবং বিভাজনমূলক। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৃতি-সব ব্যাখ্যা মিলেও এখনও এটি পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায়নি। এটি হয়তো কেবল প্রাকৃতিক ঘটনা, অথবা কোনো অজানা বাহ্যিক প্রভাব, বা হতে পারে এমন কিছু, যার জন্য আমাদের জ্ঞান এখনো প্রস্তুত নয়।