মানুষের চেতনাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে কয়েকটি ঘটনা রহস্যময় ও ব্যাখ্যাতীত বলে বিবেচিত হয়। এর মধ্যে Out-of-Bodz Experience বা OBE এবং ইলেকট্রনিক ভয়েস ফেনোমেনা (Electronic Voice Phenomena বা EVP) বিশেষভাবে আলোচিত। এই দুটি বিষয় রহস্য, বিজ্ঞান, এবং অতিপ্রাকৃত জগতে গবেষকদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। Out-of-Bodz Experience হলো এমন একটি মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা যেখানে ব্যক্তি অনুভব করেন যে তারা তাদের শারীরিক দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন এবং চারপাশে অন্যরকমভাবে ঘোরাফেরা করতে পারছেন। এটি প্রায়শই ঘুম, গভীর ধ্যান, মৃত্যু-সন্নিকট অভিজ্ঞতা (Near Death Experience – NDE), অথবা ট্রমাজনিত পরিস্থিতিতে ঘটে।
OBE-এর সাধারণ লক্ষণ গুলো হলো, শারীরিক দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অনুভূতি, বাতাসে ভাসার অনুভূতি, নিজের দেহকে বাইরে থেকে দেখার অভিজ্ঞতা, আলোর ঝলকানি বা অদ্ভুত শব্দ শোনা ও সময় ও স্থানের অনুভূতিতে পরিবর্তন। অনেকেই বলেন তারা OBE-এর সময় তাদের শারীরিক অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন এবং এমন স্থান দেখতে পান যেখানে তারা বাস্তবে উপস্থিত ছিলেন না। কিছু ক্ষেত্রে, ব্যক্তি দাবি করেন যে তারা ঙইউ-এর সময় দূরবর্তী স্থানে গিয়ে সেখানকার ঘটনার বিবরণও দিতে পেরেছেন। OBE-এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় বিজ্ঞানীরা মনে করেন, OBE হলো মস্তিষ্কের একধরনের বিভ্রম যা ঘুম ও সজাগ অবস্থার মধ্যবর্তী পর্যায়ে ঘটে। মস্তিষ্কের টেম্পোরাল লোব এবং প্যারাইটাল লোব সংক্রান্ত ক্রিয়াকলাপে বিঘ্ন ঘটলে এই অভিজ্ঞতা হতে পারে।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে OBE-এর সময় মস্তিষ্কের ভেস্টিবুলার সিস্টেমে পরিবর্তন ঘটে, যা ভারসাম্য ও স্থানিক সচেতনতার জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়। এছাড়া OBE সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা সেরিব্রাল কোর্টেক্সের অস্বাভাবিক কার্যকলাপের ফলাফলও হতে পারে।এবার ইলেকট্রনিক ভয়েস ফেনোমেনা (EVP) কি? এটি হলো এমন একধরনের শব্দ বা কণ্ঠ যা অডিও রেকর্ডিং ডিভাইসে ধরা পড়ে।কিন্তু রেকর্ডিংয়ের সময় মানুষের কানে শোনা যায় না। এটি সাধারণত অতিপ্রাকৃত গবেষণা ও ভূত-সংক্রান্ত অনুসন্ধানে ব্যবহৃত হয় ।এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সাধারণত অডিও ফ্রিকোয়েন্সির নিম্ন স্তরে ধরা পড়ে। শব্দগুলো প্রায়ই অস্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত হয়।
অনেকে দাবি করেন EVP-তে প্রশ্নের উত্তর বা উদ্দেশ্যপূর্ণ বার্তা পাওয়া যায়। বিভিন্ন গোপন সংস্থাগুলো এটি ব্যাবহার করে তথ্য আদায় করে বলেও গুজব আছে।
বিজ্ঞানীরা EVP-এর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। পারেডোলিয়া যেখানে মানুষ এলোমেলো শব্দের মধ্যে অর্থ খুঁজতে অভ্যস্ত। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে অনেক সময় রেকর্ডিং ডিভাইস কাছাকাছি রেডিও তরঙ্গ ধরে ফেলে। যারা EVP পরীক্ষা করেন, তারা অবচেতনভাবে শব্দগুলোর মধ্যে অর্থ খোঁজেন। বৈদ্যুতিক তরঙ্গ ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ত্রুটির কারণে কিছু শব্দ তৈরি হতে পারে। অনেকেই মনে করেন, Out-of-Bodz Experience হলো আত্মার মুক্তির প্রমাণ এবং Electronic Voice Phenomena আত্মাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষকরা এখনও এই দাবিগুলোর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাননি।
কিছু ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস অনুযায়ী, OBE আত্মার শরীর ত্যাগ করে ভিন্ন মাত্রায় প্রবেশ করার ক্ষমতা। অন্যদিকে EVP অনেক ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিদের আত্মার বার্তা হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়। রবার্ট মনরোর অন্যতম বিখ্যাত ঙইউ অভিজ্ঞতার একটি উদাহরণ পাওয়া যায় তার বই “Journeys Out of the Bodz”-তে। সেখানে আছে একবার তিনি গভীর শিথিল অবস্থায় ছিলেন, তিনি অনুভব করেন তার দেহ থেকে একধরনের শক্তি বিচ্ছুরিত হচ্ছে। হঠাৎই তিনি নিজের শারীরিক দেহের বাইরে চলে যান এবং নিজেকে বিছানার ওপরে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। প্রথমদিকে তিনি আতঙ্কিত হয়ে চেষ্টা করেন দেহে ফিরে যেতে কিন্তু ধীরে ধীরে এই অবস্থার প্রতি অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন।
কিছু ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস অনুযায়ী, OBE আত্মার শরীর ত্যাগ করে ভিন্ন মাত্রায় প্রবেশ করার ক্ষমতা। অন্যদিকে EVP অনেক ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিদের আত্মার বার্তা হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়। রবার্ট মনরোর অন্যতম বিখ্যাত ঙইউ অভিজ্ঞতার একটি উদাহরণ পাওয়া যায় তার বই “Journeys Out of the Bodz”-তে। সেখানে আছে একবার তিনি গভীর শিথিল অবস্থায় ছিলেন, তিনি অনুভব করেন তার দেহ থেকে একধরনের শক্তি বিচ্ছুরিত হচ্ছে। হঠাৎই তিনি নিজের শারীরিক দেহের বাইরে চলে যান এবং নিজেকে বিছানার ওপরে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। প্রথমদিকে তিনি আতঙ্কিত হয়ে চেষ্টা করেন দেহে ফিরে যেতে কিন্তু ধীরে ধীরে এই অবস্থার প্রতি অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন।
কনস্ট্যান্টিন রাউডিভ EVP গবেষণার জন্য প্রখ্যাত গবেষক, যিনি বহু উঠচ রেকর্ড করেছেন। রাউডিভের অন্যতম বিখ্যাত উঠচ রেকর্ডগুলোর মধ্যে একটি হলো যখন তিনি এক অডিও রেকর্ডিংয়ে রহস্যময় কণ্ঠস্বর শুনতে পান, যা বলে: “Here is Konstantin” (এখানে কনস্ট্যান্টিন)। রাউডিভ বিশ্বাস করতেন এটি মৃত ব্যক্তিদের আত্মার কণ্ঠস্বর, যারা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে যোগাযোগ করছে। তার গবেষণার সময় তিনি হাজার হাজার উঠচ রেকর্ড করেছিলেন, যেখানে বিভিন্ন ভাষায় অস্পষ্ট কিন্তু অর্থবোধক অনেক বার্তা পাওয়া গেছে। তিনি দাবি করেন এই কণ্ঠস্বরগুলো প্রায়ই প্রশ্নের উত্তর দিত এবং অনেক ক্ষেত্রে পরিচিত মৃত ব্যক্তিদের স্বর শনাক্ত করাও সম্ভব হতো।
তিনি তার কাজগুলোর সংকলন “Breakthrough: An Amazing Experiment in in Electronic Communication with the Dead” বইতে প্রকাশ করেন, যা উঠচ গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত হয়। Out-of-Bodz Experience ও ইলেকট্রনিক ভয়েস ফেনোমেনা রহস্যে ঘেরা দুটি বিষয়। বিজ্ঞানীরা এগুলোর ব্যাখ্যা খুঁজতে চেষ্টা করছেন, কিন্তু এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। যদিও কিছু গবেষণা এই ঘটনাগুলোর সম্ভাব্য বৈজ্ঞানিক কারণ ব্যাখ্যা করেছে, তবুও অতিপ্রাকৃত বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতা বহু মানুষের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে থেকে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে উন্নত প্রযুক্তি ও গবেষণার মাধ্যমে হয়তো OBE ও EVP-এর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে। কিন্তু ততদিন পর্যন্ত এগুলো গবেষণা ও বিতর্কের বিষয় হিসেবেই রয়ে যাবে।


