ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ‘কিল সুইচ’ ব্যবহার করে জার্মানির উদ্দেশ্যে সরবরাহের পথে থাকা আমেরিকান ঋ-৩৫ যুদ্ধবিমানগুলো অকার্যকর করে দিতে পারেন বলে কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৮.৩ বিলিয়ন ইউরো (৬.৯ বিলিয়ন পাউন্ড) ব্যয়ে করা একটি চুক্তির মাধ্যমে জার্মানি বিশ্বের আধুনিকতম ৩৫টি যুদ্ধবিমান আগামী বছর পেতে চলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই যুদ্ধবিমানগুলোকে অকার্যকর করার ক্ষমতা আছে বলে দীর্ঘদিন ধরে গুজব শোনা যাচ্ছে, তবে এটি এখনো প্রমাণিত হয়নি। কিন্তু আশঙ্কা বাড়ছে যে, ট্রাম্প একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে ইউক্রেনের ওপর তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চাপিয়ে দিতে পারেন।
এই সপ্তাহে, তিনি ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানও স্থগিত করেছেন।উদ্দেশ্য ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর চাপ সৃষ্টি, যাতে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে খনিজ চুক্তি স্বাক্ষর করেন। শনিবার খবর আসে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত F-35 যুদ্ধবিমানগুলো ইউক্রেনে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও এটি ‘সুইচ অফ করে দেওয়ার’ কারণে নয়, বরং রাডার সিস্টেমের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে হয়েছে। জার্মান অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হেনসল্ডট-এর যোগাযোগ প্রধান জোয়াকিম শ্রাঞ্জহোফার জার্মানির ইরষফ সংবাদপত্রকে বলেছেন যে, “F-35 এর কিল সুইচ শুধুমাত্র একটি গুজব নয়, বরং এটি বাস্তবতাও হতে পারে।”
শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বিভাগ দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র F-35 যুদ্ধবিমানগুলোর কার্যকারিতা ব্যাহত করতে পারবেড়এমন খবর ভিত্তিহীন। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, এয়ারক্রাফ্টের অপারেটররা যেকোনো সময় এটি স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম। মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান উলফগ্যাং ইশিঙ্গার ইরষফ-কে বলেছেন যে, ইউক্রেনের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন প্রত্যাহার জার্মানির সঙ্গে ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের জন্য অশুভ ইঙ্গিত বহন করে। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জার্মানির বিরুদ্ধে এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে এটি ইউরোপের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে মার্কিন অস্ত্রের উপর নির্ভরশীলতার বিষয়ে সমালোচকদের উদ্বেগ আরও বাড়াবে।


