বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের মধ্যের টানাপোড়েন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সন্দেহ-অবিশ্বাস থেকে শুরু হওয়া দূরত্ব এখন প্রকাশ্য বিবাদে রূপ নিয়েছে।শেখ হাসিনার শাসনের পতনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন আসে। কিন্তু সেই পরিবর্তন বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ঐক্যের পরিবর্তে বিভক্তির সূচনা করে। সংস্কার আগে নাকি নির্বাচন আগে, এই প্রশ্নে দুই দলের অবস্থান পরস্পরবিরোধী হয়ে ওঠে। বিএনপি মনে করে জাতীয় নির্বাচনের আগেই প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার। যেখানে জামায়াত চায় দ্রুত নির্বাচন ও স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করা।
জামায়াত ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের বিভিন্ন আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা বিএনপির মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর করেছে। এতে করে দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক কৌশলগত মতানৈক্য আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দুই দলের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন দেখা গেছে। বিএনপি জাতীয় নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে চায় না। অন্যদিকে জামায়াত আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায়। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে দল দুটির ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। এই টানাপোড়েন দ্রুত মেটার লক্ষণ নেই। বরং পাল্টাপাল্টি বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে দুই দলের দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে ভবিষ্যতে বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক পথচলা একসাথে থাকবে নাকি তারা আলাদা পথ বেছে নেবে?


