” … অনেকে মনে করতে পারেন, ট্রাম্পের আনুগত্য স্বীকার করে ধনকুবের ও বড় করপোরেশন গুলো যেন এক স্বৈরশাসকের কাছে মাথা নিচু করছে; কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টো। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ, মার্ক জাকারবার্গ সম্প্রতি শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে এক বৈঠকে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকে তাঁর কোম্পানির বাজার অংশীদারি বেড়েছে এবং প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মুনাফা হয়েছে।তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের কাছে এমন একটি মার্কিন প্রশাসন রয়েছে, যারা আমাদের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো নিয়ে গর্বিত, যারা আমেরিকান প্রযুক্তির জয় চায় এবং বৈশ্বিকভাবে আমাদের মূল্যবোধ ও স্বার্থ রক্ষা করবেআমি আশাবাদী। এতে নতুন অগ্রগতি ও উদ্ভাবনের দুয়ার খুলবে।’
অর্থাৎ, ধনী ব্যবসায়ী ও বড় করপোরেশনগুলোর আসল লক্ষ্য তাঁদের মুনাফা রক্ষা করা। ট্রাম্প যদি সেই স্বার্থ পূরণ করতে পারেন, তাহলে তাঁর সামনে মাথা নিচু করতেও তাঁরা রাজি আছেন। … ধনকুবেররা মূলত ট্রাম্প প্রশাসনে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চান। তাঁরা হয়তো সরকারি চুক্তি, নীতিগত সুবিধা কিংবা প্রেসিডেন্টের ওপর সরাসরি প্রভাব রাখার জন্যই তাঁকে সমর্থন দিচ্ছেন। ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্প একের পর এক নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর করেছেন। এসব আদেশ মূলত বড় ব্যবসাগুলোর স্বার্থ রক্ষা করছে। যেমন জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা।
প্রথম আদেশে জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপাদন বাড়িয়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতিকে দুর্বল করা হয়েছে। এতে তেল ও কয়লা কোম্পানিগুলো লাভবান হবে। দ্বিতীয় আদেশে সরকারি ব্যয় কমানোর নামে বিভিন্ন খাতের তহবিল সংকুচিত করে করপোরেট খাতে ব্যবসার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। … আসলে বিলিয়নিয়ার ও বড় করপোরেশনগুলো ট্রাম্পের আনুগত্য স্বীকার করছে না। বরং তারা ট্রাম্পের প্রশাসনকে তাদের স্বার্থরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকলে তাঁরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে একদম মুক্ত পথে ব্যবসা চালাতে পারবেন। তাই বলা চলে, এই ধনী অভিজাত শ্রেণিই ট্রাম্পকে চালাচ্ছেন; ট্রাম্প তাঁদের চালাচ্ছেন না।”


