২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে দশটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সম্মিলিতভাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২.৫৭ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৭৫%। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, এই ১০ ব্যাংকের মধ্যে ৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো জনতা, অগ্রণী, সোনালী ও রূপালী ব্যাংক। এগুলোতে চব্বিশের ডিসেম্বরের শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ৬২ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ জনতা ব্যাংকে। বাকি ৬টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক যথাক্রমে ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি, আইএফআইসি ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা।
এদিকে, মাত্র এক বছরে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ লাখ কোটি টাকা বেড়ে ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ৩ দশমিক ৪৫ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ১৭.১১ লাখ কোটি টাকা মোট ব্যাংক ঋণের প্রায় ২০% খেলাপি হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ হার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন – এই ব্যাপক বৃদ্ধির কারণ হলো বিশাল অঙ্কের বিষাক্ত ঋণ প্রকাশ পাওয়া, যা আগে আওয়ামী লীগ শাসনামলে তথ্য গোপন ও জালিয়াতির মাধ্যমে লুকানো হয়েছিল। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান নিউ এইজকে বলেন, বছরের পর বছর ধরে চলে আসা দুর্নীতি ও নিয়ম-বহির্ভূত কার্যকলাপের ফলেই এতো বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হয়েছে।


