রাষ্ট্র সংস্কারের যেসব প্রস্তাবনা এসেছে, বেশির ভাগই কাঠামোগত পরিবর্তন কিংবা কাঠামোর পরিবর্তন। ভাবতে হবে, আমাদের এখানে স্বৈরতন্ত্রের যে উত্থান হয়েছে, সেটি কি কাঠামোর অভাবের কারণে? স্বৈরতন্ত্রের জন্য আমাদের সংবিধান কি দায়ী? না কি আমাদের লং টার্ম কোনো প্র্যাকটিস, কিছু নর্মস?…অনেক স্বৈরতান্ত্রিক শাসক মিলিটারি শাসক তারা তো সংবিধানকে বাদ দিয়ে দিয়েছিলেন। আবার অনেক স্বৈরতান্ত্রিক শাসক আছেন যারা, সংবিধানের কিছু কাঠামোকে রেখে কাঠামোর যে স্পিরিট সেটাকে তারা নষ্ট করেছিল। … কাঠামো, নতুন আইনের দিকে যতটা মনোযোগ দিচ্ছি, তার চেয়ে আমাদের বেশি মনোযোগ দেওয়া দরকার গত ৫০ বছরে যেসব অগণতান্ত্রিক প্র্যাকটিস হয়েছে, নর্ম হয়েছে এগুলোকে আমরা কী করে পরিবর্তন করতে পারব।
রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে এত কথা বলছি, সেখানে কিন্তু আমরা আমাদের রাজনীতির সংস্কার, রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার নিয়ে তেমন কথা হচ্ছে না। কিন্তু আসলে যদি আমরা দেশটাকে গণতান্ত্রিক করতে চাই তাহলে কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র আনতে হবে।… সে জন্য আমার মনে হয় প্রধান যে দায়িত্ব সেটা রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের নিতে হবে।… যত রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলছি, সংবিধান সংস্কারের কথা হচ্ছে, এগুলো আসলে পলিটিক্যাল প্রজেক্ট। এই পলিটিক্যাল প্রজেক্ট যদি বাস্তবায়ন করতে চাই, টেকসই করতে চাই, তাহলে কিন্তু এটার জন্য রাজনীতিবিদদের রাজনৈতিক দলগুলোর একটা লং টার্ম কমিটমেন্ট দরকার। … যদি স্বৈরশাসনকে চেক দিতে চাই তাহলে সব থেকে বেশি কার্যকরী পন্থা হবে আনুপাতিক নির্বাচন।
দেশের মানুষ এই পদ্ধতি নিয়ে অতটা ভালো জানে না। এই পদ্ধতিতে সংসদ সদস্যরা এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন। অতএব এই পদ্ধতিতে কী সুবিধা, এই পদ্ধতির জন্য সাধারণ জনমত গড়ে তোলবার জন্য এখানেও আমার মনে হয় এখানে রাজনৈতিক দলগুলোকে কাজ করতে হবে। এই পদ্ধতি প্রবর্তনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে হবে। যেহেতু স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নে সংসদ সদস্যের ভূমিকা থাকবে না। বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশ আনুপাতিক নির্বাচনব্যবস্থা অনুসরণ করে। এই নির্বাচনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে ক্রম অধিকারসম্পন্ন প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। এরপর সারা দেশব্যাপী যে রাজনৈতিক দল যত শতাংশ ভোট পায়, সংসদে তত শতাংশ আসন পায়।


