প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আরও কার্যকর অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রথম দ্বিবার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন’-এ তিনি বলেন, “আমরা এমন এক অর্থনীতি গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মর্যাদা, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা থাকবে, এবং কেউ পিছিয়ে থাকবে না।”
ড. ইউনূস তার বক্তব্যে পাঁচটি অগ্রাধিকার তুলে ধরে জানান, সেগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে দারিদ্র্য, বৈষম্য ও বৈশ্বিক আর্থিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের কণ্ঠস্বর শোনার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দারিদ্র্য কোনো মানুষের স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
প্রধান উপদেষ্টা স্মরণ করিয়ে দেন, চতুর্থ আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সম্মেলনে নেয়া অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন জরুরি। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণে বছরে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ ঘাটতি রয়েছে, যা পূরণ করা কঠিন হলেও অপরিহার্য। তিনি বলেন, “আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সম্পদের ন্যায্য প্রবেশাধিকারই ন্যায়বিচারের মূল ভিত্তি। একজন নারী যখন ব্যবসা শুরু করতে পারে, তরুণ সমাজ যখন সৌরশক্তি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে, বস্তিবাসী শিশুরা যখন শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা পায়—তখনই বাস্তব ও টেকসই পরিবর্তন আসে।”
সম্মেলনের বাইরে ড. ইউনূস অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত এক সংবর্ধনায়। সেখানে তিনি ট্রাম্পকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। অনুষ্ঠানে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
একই দিনে নিউইয়র্কে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গেও তার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর, অর্থনৈতিক সংস্কার, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশ্বব্যাংকপ্রধান অজয় বাঙ্গা আলোচনায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ধারা, রাজস্ব ও ব্যাংক খাত সংস্কার, চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকায়ন এবং তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি চুরি হওয়া কয়েক বিলিয়ন ডলার জাতীয় সম্পদ দ্রুত পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। ড. ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে অজয় বাঙ্গা বলেন, গত ১৪ মাসে তার ভূমিকা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে সংস্কার কার্যক্রমে অব্যাহত সহায়তা দেবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। জাতিসংঘ অধিবেশনকে ঘিরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এসব কার্যক্রম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উপস্থিতি ও নেতৃত্বকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।


