চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে দেশের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩,৬২৭.৫৮ মিলিয়ন ডলার, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এটি ছিল ৩,৮০২.৮৭ মিলিয়ন ডলার। গত বছরের তুলনায় রপ্তানি কমেছে ৪.৬১ শতাংশ।
ইপিবি জানিয়েছে, দেশের মোট রপ্তানি আয় কমার প্রধান কারণ হলো তৈরি পোশাক খাতে পতন। দেশের মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তবে সেপ্টেম্বরে নিট পোশাক রপ্তানি ৫.৭৫ শতাংশ এবং বোনা পোশাক রপ্তানি ৫.৫৪ শতাংশ কমেছে। রপ্তানিকারকেরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্কের প্রভাবই পতনের কারণ।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বাবলু দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম, যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের পোশাক অর্ডার বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে অর্ডার কমেছে। উচ্চ শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা ব্যয় কমে গেছে, ফলে পোশাকের চাহিদা কমছে।” তিনি আরও বলেন, সাধারণত আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর তৈরি পোশাক খাতের জন্য মন্দা মৌসুম হলেও, এই পর্যায়ে এতটা পতন প্রত্যাশিত ছিল না।
সেপ্টেম্বরে রপ্তানি কমলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মোট রপ্তানি ৫.৫৬ শতাংশ বেড়ে ১১.৬৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটি নির্দেশ করে, সামগ্রিকভাবে দেশের রপ্তানি পরিস্থিতি এখনও কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও মার্কিন শুল্ক এবং তৈরি পোশাক খাতের পতন আগামী মাসগুলোতে উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
রপ্তানিতে এই ধরণের পতন নীতিগত সমন্বয়, আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রধান ক্রেতা দেশের অর্থনৈতিক নীতির প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রমাণ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুল্ক ও ভোক্তাচাহিদে পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বাংলাদেশি রপ্তানিকারীদের নতুন কৌশল গ্রহণ করা জরুরি।


