“…সমাধান হচ্ছে বিচার। দৃষ্টান্তমূলক বিচার। সরকার চাইলে, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ১৫ দিনে সোহাগ হত্যার বিচার করা সম্ভব। সাক্ষী, আলামত সবই হাতের কাছে আছে। যত দ্রুত সাজা দেওয়া যাবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কাজ এগোবে।
… দ্বিতীয় জরুরি আলাপ হলো, পুরান ঢাকার হত্যায় যুবদল, ছাত্রদল কর্মীদের নাম আসছে। নিহত সোহাগও যুবদল কর্মী ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে।সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন দলের করা হিসাবে গত ১১ মাসে বিএনপি নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্বে ১২০ জনের নিহত খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে আশির বেশি বিএনপির নেতাকর্মী।
১৫ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই একটি দলের নেতাকর্মীরা এতটা বেপরোয়া হওয়া দলটির জন্যই দুর্ভাগ্যজনক। অপকর্মের পর বহিষ্কার করা সমাধান নয়। সমাধান হলে, গত ১০ মাসে তিন হাজারের বেশি বহিষ্কারেই অপকর্ম থেমে যেত। যেহেতু থামছে না, তাহলে সমস্যা অনেক গভীরে।
তাহলো, আওয়ামী লীগ আমলের ‘ক্ষমতার হেডম’ সংস্কৃতি রয়ে গেছে। এ থেকে বের হতে দলে চিরুনী অভিযান দরকার। যে নেতার কর্মী অপকর্ম করবে, তাকে দল থেকে বের দিতে হবে। সম্ভব হলে, আরও কঠোর হতে হবে। নইলে চড়া মূল্য দিতে হতে বিএনপিকে। এখন বিএনপি কী করবে, তা বিএনপির ব্যাপার।
যে রকম জঘন্য জিঘাংসায় সোহাগকে হত্যা করা হয়েছে বলে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হয় শুধু চাঁদাবাজি বা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নয়, ব্যক্তিগত পর্যায়ে চরম আক্রোশ ক্রোধ রয়েছে। চাঁদার জন্য এতটা নৃশংস ঘটনার নজির নেই। সুতরাং খতিয়ে দেখা উচিত প্রকৃত কারণ কী।
জুলাইয়ে কোটি মানুষ পথে নেমেছিল। গুলির মুখে একে অন্যের ঢাল হয়েছিল। বিনা পরোয়ায় জীবন দিয়েছে। কিন্তু সোহাগকে ভরা বাজারে হত্যার পরও মানুষ কেনো এগিয়ে এলো না বুঝতে পারছি না। মানুষ কি তবে দেশ বদলের আশা হারিয়ে ফেলেছে?
সরকারকে তা দেখতে হবে। অপকর্মের পর ব্যবস্থা নেওয়ার হম্বিতম্বি না করে, আইন শৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নতি করতে হবে। মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে, আশাবাদী করতে হবে। নইলে সামনের দিন আরও খারাপ হবে। ফ্যাসিবাদ ফিরবে।”


