সত্যিকারের গণতন্ত্র জীবনের সব ক্ষেত্রে পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এবং সারা বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি গণতন্ত্রকে একটি সর্বজনীন মূল্যবোধ ও জনগণের ইচ্ছার অবাধ প্রকাশের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, “সত্যিকারের গণতন্ত্র জীবনের সব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র শুধুমাত্র ক্ষমতার বিন্যাস নয় বরং একটি সমাজের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়পরায়ণ ব্যবস্থার প্রতিফলন।

বার্তায় তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একদলীয় বাকশালের করালগ্রাস থেকে জাতিকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চিরন্তন দর্শন ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মূল প্রেরণা ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র। বেগম খালেদা জিয়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়েছেন এবং বারবার স্বৈরাচারী আক্রমণ সত্ত্বেও সেই সংগ্রামকে অব্যাহত রেখেছেন।”

তারেক রহমানের মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে গণতন্ত্র বারবার হুমকির মুখে পড়েছে। রাজনৈতিক দল ও সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করা হয়েছে, ভোটে কারচুপি হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষমতালিপ্সু গোষ্ঠী দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতায় থাকার জন্য ভয়, উদ্বেগ ও কর্তৃত্ববাদী পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তিনি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের গত দেড় দশকের কার্যক্রমকেও গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত করার প্রেক্ষাপটে সমালোচনা করেছেন।

এই বছরের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের প্রতিপাদ্য ‘কর্মে লিঙ্গসমতা অর্জন’। এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “গণতন্ত্র সব লিঙ্গের জন্য সমান সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করে, যা একটি মৌলিক মানবাধিকার। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে শক্তিশালী প্রতিবাদের পরিবেশ থাকে, যা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যকে গভীরতর হতে দেয় না এবং সমান অধিকারের পথে অগ্রগতি নিশ্চিত করে।”

তারেক রহমান স্মরণ করান জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের কথা। তিনি সবাইকে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেখানে সমৃদ্ধি, আত্মনির্ভরশীলতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদার রাজনৈতিক পরিবেশ থাকবে। এছাড়া সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন