প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমলে মেয়াদ নির্ধারণে রাজি নয় বিএনপি। দলটি জানিয়েছে, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকলে তবেই ‘১০ বছরের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না’– এ প্রস্তাব মানবে তারা।
নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন এবং প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনে বিএনপির ঘোর আপত্তি থাকায় নতুন প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। তবে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ‘সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কমিটি’ গঠনেও সায় দেয়নি বিএনপি।
দলটির ভাষ্য, এনসিসি এবং নিয়োগ কমিটি একই ধরনের। এ ধরনের পর্ষদ হলে নির্বাহী বিভাগ তথা সরকারের ক্ষমতা কমবে; তাহলে বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ নির্ধারণে রাজি হবে না।
গতকালের সংলাপে ‘সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেন ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান নিয়োগ কমিটির হাতে থাকবে না। সংসদ ভেঙে গেলে কমিটিও বিলুপ্ত হবে।
প্রস্তাব করা হয়– প্রধানমন্ত্রী, সংসদের উভয় কক্ষের স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, প্রধান বিরোধী দল বাদে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা অন্য দল থেকে একজন এমপি, রাষ্ট্রপতির একজন প্রতিনিধি এবং প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি হবেন কমিটির সদস্য। ৭ সদস্যের এ কমিটির মাধ্যমে ইসি, দুদক, সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি), মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয় (সিএজি), মানবাধিকার কমিশন এবং প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকার কমিশনে নিয়োগ দেওয়া হবে।
বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে অন্য যেকোনো কাজ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী করতে হয়। প্রস্তাবিত ‘সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কমিটি’ গঠন করা হলে সাংবিধানিক পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা কমবে ও ক্ষমতার ভারসাম্য আসবে বলা হচ্ছে।
সরকারি দল, বিরোধী দলসহ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নিয়োগ করা হবে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এক ব্যক্তি বা এক দলের একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশে বিদ্যমান শাসনব্যবস্থার একটা বড় দুর্বলতা হলো এখানে কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি।দুর্নীতি দমন কমিশন, নির্বাচন কমিশন, মানবাধিকার কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কমিশনগুলোকে অতীতে দলীয়করণ করা হয়েছে। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় আজকের রাজনৈতিক দলগুলো এই কমিশনগুলোর বিদ্যমান আইন নিয়ে বিরোধিতা করেছিল। এসব প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কাজ করবে বলে বলেছিল।


