জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ অধিবেশনের প্রথম দিনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইড ইভেন্ট হিসেবে আয়োজিত এ বৈঠকে সহআয়োজক ছিল ইন্দোনেশিয়া, গাম্বিয়া, তুরস্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র। বৈঠকে মূল বক্তা ড. ইউনূস তার কী-নোট পেপারে তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরেন।
■ জাতিসংঘের মহাসচিবকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে একটি কনফারেন্স আয়োজনের আহ্বান জানান। এই কনফারেন্সের মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সৃজনশীল ও কার্যকরী সমাধানের পথ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
■ জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান কে আরও দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্য সঠিক সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
■ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অপরাধের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় সমর্থন আহ্বান করেন ইউনূস।
বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে, প্রতিবছর প্রায় ৩২ হাজার নবজাতক যুক্ত হচ্ছে এই জনগোষ্ঠীতে। গত ২ মাসেই নতুন করে ২০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। শরণার্থীদের প্রতি মানবিক সহানুভূতি থাকা সত্ত্বেও, এই সংকট বাংলাদেশের জন্য সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। শরণার্থী শিবিরগুলোতে বেকার যুবকদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে।
– বৈঠকে ড. ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন- রোহিঙ্গা সংকট দেশের নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। বাংলাদেশ তার সামর্থ্যের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ড. ইউনূস রোহিঙ্গাদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ সব অংশীজনের সমন্বয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে সংকট উত্তরণের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন করে ১৯৯ মিলিয়ন ডলার অনুদান ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৩৭৮ কোটি ৮০ লাখ ৬২ হাজার টাকা। ি২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয়দের জন্য ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক অনুদান পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ২.১ বিলিয়নই এসেছে বাংলাদেশে।


