১. Xerox Alto Mouse (১৯৭৩)
আমরা যেটাকে আজ ‘মাউস’ বলি, তার পূর্বপুরুষ হলো Xerox Alto-এর এই কাঠের বডিওয়ালা, বাক্স আকৃতির প্রথম কম্পিউটার মাউস। দেখতে ছিল একেবারে গোঁড়া, টানা তার দিয়ে কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত, আর ছিল দুটি বোতাম। তবে এই ছোট্ট যন্ত্রই আমাদের স্ক্রিনে হাত চালানো শিখিয়েছে। এতে ছিল বল সেন্সর এবং মেকানিক্যাল রোলার দিয়ে কার্সর চালানো যেত। এটিই প্রথমবারের মতো গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেসের জন্য তৈরি মাউস। Xerox PARC-এর ল্যাবে এর জন্ম হয়।

২. Apple Lisa Mouse (১৯৮৩)
Xerox-এর ভাবনাকে বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় করে তোলে অ্যাপল। Lisa কম্পিউটারের জন্য তারা তৈরি করেছিল এক বোতামের প্লাস্টিক বডি যুক্ত সাদা রঙের মাউস। এটি দেখতে ছিল একেবারে সহজ, কিন্তু ডিজাইন ছিল যথেষ্ট সাহসী। বডির ভিতরে ছিল একটি বল সেন্সর, আর ডিভাইসটি ছিল হাতের মুঠোয় ধরার উপযোগী। এটি ছিল অ্যাপলের ডিজাইন দার্শনিকতা “জটিলতাকে সরলভাবে উপস্থাপন”—এর বাস্তব রূপ।

৩. Logitech C7 (১৯৮৫)
এই মডেল দিয়ে Logitech মাউস বাজারে প্রবেশ করে। প্রথম সুইস ডিজাইন, প্লাস্টিকের গায়ে ছিল হালকা ধূসর টোন এবং একটু বাঁকা আকার, যাতে হাতের তালু স্বাচ্ছন্দ্য পায়। এটি বলচালিত, দুটি বোতামের সাধারণ কাঠামো বজায় রেখেও সময়োপযোগী ছিল। C7 আসলে ‘কম্পিউটার ব্যবহারকে আরও মানবিক’ করার চেষ্টার অংশ।

৪. Microsoft IntelliMouse (১৯৯৬)
এই মাউস ইন্ডাস্ট্রির খেলাটা বদলে দেয়। প্রথম বড় ইনোভেশন স্ক্রল হুইল। অফিস ইউজারদের জন্য স্বপ্নের মতো ছিল এটি। IntelliMouse অপটিক্যাল নয়, তখনও বলচালিত ছিল, কিন্তু এর কাস্টম গ্রিপ আর ওয়ার্কফ্লো সহায়ক বাটন ম্যাপিং সিস্টেম নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। ডিজাইনের দিক থেকে ছিল গাঢ় ধূসর প্লাস্টিক বডি, ergonomic ডিজাইন।

৫. Apple Pro Mouse (২০০০)
এটি Apple-এর “বাটনহীন মাউস”। স্বচ্ছ উপরের কভার, ভিতরে কালো কার্ভড বডি এ যেন ডিজাইন ও প্রযুক্তির বিবাহ। বডির একেক অংশ ছিল একেক রকমের ফাংশনের জন্য চাপ-সংবেদী। প্লাস্টিক ও ফাইবারগ্লাসের মিশেলে তৈরি এই মাউস ছিল প্রযুক্তি পণ্যের শিল্পকর্ম হয়ে ওঠার প্রথম নিদর্শনগুলোর একটি।

৬. Razer Diamondback (২০০৪)
গেমারদের মনের মতো মাউস। LED লাইটে ঘেরা, খুব হালকা এবং ambidextrous ডিজাইন (দু’হাতেই ব্যবহারযোগ্য)। এর বডি ছিল ফাইবার প্লাস্টিকের, স্লিম এবং হালকা কার্ভচালিত। DPI ছিল তখনকার সময়ের তুলনায় অত্যন্ত বেশি, প্রায় ১৬০০ DPI। গেমিং জগতে এই মাউস এক নতুন “স্পেস” তৈরি করে, যেখানে নান্দনিকতা, গতি ও প্রযুক্তি মিলেমিশে যায়।

৭. Logitech MX Revolution (২০০৬)
এটি ছিল productivity freak-দের জন্য এক বিপ্লব। সবচেয়ে আলোচিত ফিচার ছিল এর “SmartShift” স্ক্রল হুইল, যা নিজে নিজেই মোড পরিবর্তন করত। বডি ডিজাইনে ব্যবহৃত হয়েছিল ম্যাট প্লাস্টিক এবং রাবার গ্রিপিং। এতে অতিরিক্ত থাম্ব বাটন, হাই-প্রিসিশন সেন্সর এবং লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ছিল। আর হ্যাঁ, এটি ছিল ওয়্যারলেস।

৮. Apple Magic Mouse (২০০৯)
যেখানে বাকিরা বাটনের সংখ্যা বাড়াচ্ছে, অ্যাপল মুছে দিল সব বাটন। আনল গ্লাস টপ, মাল্টি-টাচ সারফেস! Magic Mouse-এর ভিতরে ছিল Apple-এর নিজস্ব লেজার ট্র্যাকিং প্রযুক্তি। ডিজাইন একেবারে ফিউচারিস্টিক, সাদা ও অ্যালুমিনিয়ামের সংমিশ্রণ, লম্বাটে আকৃতি। হাতের তালু নয়, আঙুলের ছোঁয়া এই মাউস চালাত।

৯. Logitech MX Master Series (২০১৫–বর্তমান)
এটি বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত প্রোডাকটিভিটি মাউস। এর ডিজাইন একেবারে হাতের আরাম অনুযায়ী—নিচের দিকে ঢালু, রাবার গ্রিপ এবং অনেকগুলো কাস্টমাইজেবল বাটন। স্ক্রল হুইলে আছে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্মার্টশিফট, যা গতি বুঝে স্ক্রল করে। এতে আছে ৪০০০ DPI সেন্সর, যা যেকোনো পৃষ্ঠেই কাজ করে। অফিস, এডিটিং, কোডিং সব কাজে অনন্য।



