মোটরসাইকেলের ব্যবহার বাড়ছে অপরাধে

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক কালে যেসব অপরাধ হয়েছে, এর বেশির ভাগ সংঘটনের সময়ে অপরাধীদের মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে দেখা গেছে। কিশোর গ্যাং এবং ছোট-বড় অনেক অপরাধীর অপরাধ কার্যক্রমের অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে দুই চাকার বাহনটি।শুধু বিভিন্ন অপরাধ সংঘটন নয়, সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ক্ষেত্রেও শীর্ষে রয়েছে বাহনটি। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ৭৬১টি। এতে নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৬০৯ জন এবং আহত ১ হাজার ৮৩২ জন। নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ৯৬৩ জন ১৪ থেকে ৪৫ বছর বয়সী।

মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ঢাকা মহানগর কিংবা সারা দেশে কী পরিমাণ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, পুলিশের কাছ থেকে সে রকম কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সংস্থাটির সদস্যরা বলছেন, অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল ব্যবহারের ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। এর কারণ হলো অপরাধ করার পর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতেই অপরাধীরা এ ধরনের বাহন ব্যবহার করে।যানজটপূর্ণ সড়ক বা সংকীর্ণ গলি দিয়ে এঁকেবেঁকে দ্রুত পালানোর সুযোগ থাকে বলেই অপরাধ সংঘটনের সময়ে মোটরসাইকেল ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন সড়ক পরিবহন বিশেষজ্ঞরাও। এছাড়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও এখানে ভূমিকা রয়েছে বলে অভিমত তাদের।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সামছুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের রাজনীতিতেই তো মোটরসাইকেলে মাস্তানির বিশাল একটা ভূমিকা আছে। নেতা যখন শোডাউন করতে চায়, তখন মোটরসাইকেল দিয়েই করে। সে হিসেবে কোনো কোনো তরুণ মনে করতে পারে, আমি যদি পেশিশক্তিবান হতে চাই, আমার মোটরসাইকেল দরকার। মোটরসাইকেল ব্যবহার করে এভাবে পেশিশক্তি প্রদর্শন থেকেই একটা সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে কিশোর-তরুণদের মধ্যে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে অপরাধ করার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। যদিও অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, পেশাদার অপরাধীরা সাধারণত অপরাধ সংঘটনের সময় নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন, যেন তাদের সহজে শনাক্ত করা না যায়। ঢাকা মহানগর এলাকায় এখন প্রায় ১২ লাখ নিবন্ধিত মোটরসাইকেল রয়েছে। সারা দেশে সংখ্যাটি প্রায় ৪৬ লাখ।

তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অপরাধীদের মধ্যে অপরাধ সংঘটনের পর মোটরসাইকেল ব্যবহার করে পালিয়ে যাওয়ার একটা প্রবণতা রয়েছে। তবে অপরাধ মানেই যে সেটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করে হচ্ছে, বিষয়টি এমন না। অপরাধ সংঘটন বা পালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অপরাধীরা আরো বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে। ঢাকায় তো কয়েক লাখ বাইকার রয়েছেন, সবাই তো আর অপরাধী নন। সামগ্রিকভাবে আমি বলব, অপরাধের সঙ্গে আসলে মোটরসাইকেলের তেমন একটা সম্পর্ক নেই।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন