মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ কানাডা ও ইউরোপের দেশগুলোর অনেক ভোক্তা কোকাকোলা থেকে শুরু করে কোলগেট টুথপেস্ট পর্যন্ত মার্কিন সব পণ্য বর্জন করছেন। পণ্য বর্জনের এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর এটাই তাঁদের একমাত্র উপায়। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর গুগল ট্রেন্ডসে এখন ‘বয়কট ইউএসএ’ ও ‘বয়কট আমেরিকা’ শব্দগুলোর সার্চ বেড়ে গেছে। এই শব্দগুলোর শীর্ষ অনুসন্ধানকারী দেশগুলোর মধ্যে ডেনমার্ক, কানাডা ও ফ্রান্স রয়েছে।
ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পণ্য এড়ানোর উপায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন হাজার হাজার ইউরোপীয় ও কানাডিয়ান আলোচনা করছেন। বিশেষ করে নর্ডিক অঞ্চলে এই অনুভূতি তীব্র এবং ডেনমার্কে এটি সবচেয়ে প্রবল বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ইলন মাস্কের টেসলা গাড়ির প্রতি বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়াও বাড়ছে। ফলে ইউরোপ ও কানাডায় এই গাড়ির বিক্রি কমে গেছে। জার্মানিতে চারটি টেসলা গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ডেনমার্কের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইভান হ্যানসেন এখন সুপারমার্কেটে গেলে প্রতিটি পণ্য সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করে দেখেন, যাতে কোনো মার্কিন পণ্য না কেনা হয়। তিনি জানান, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখল করে নিতে ট্রাম্প যে হুমকি দিয়েছেন, তাতে তিনি ক্ষুব্ধ। তবে শুধু এটাই নয়, পানামা খাল ও গাজার ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি এবং কট্টর ডানপন্থীদের সঙ্গে সংযোগ থাকা ইলন মাস্কের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কও তাঁর বিরক্তির কারণ। ‘বয়কট ইউএসএ, বাই ফ্রেঞ্চ অ্যান্ড ইউরোপিয়ান’ নামে অনলাইনে একটি গ্রুপ খুলেছেন ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের কৃষক এডওয়ার্ড রুসেজ। মাত্র দুই সপ্তাহেই এই গ্রুপে ২০ হাজার মানুষ যোগ দিয়েছেন। রুসেজ জানিয়েছেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো ট্রাম্পের প্রচারণায় অর্থায়ন করেছে, তাই বয়কটের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানানোর এটি একটি কার্যকর উপায়।


