নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য- মানুষের তাপ-আর্দ্রতা সহ্যক্ষমতা আগের ধারণার চেয়ে কম। ৩৫ ডিগ্রি নয়, ওয়েট-বাল্ব তাপমাত্রায় মানুষের শরীর সর্বোচ্চ ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত সহ্য করতে পারে। আশু পদক্ষেপ জরুরি।
পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির নতুন এক গবেষণা বলছে- মানবদেহের তাপ-আর্দ্রতা সহ্য করার ক্ষমতা আগের ধারণার চেয়ে কম। প্রচন্ড গরম উচ্চ আর্দ্রতা সহ প্রাণঘাতী হতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে এধরণের তাপপ্রবাহ বাড়ছে। ঘামের মাধ্যমে শরীর তাপ হারায়, ঠান্ডা হয়। কিন্তু তীব্র গরম এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ নির্দিষ্ট মানের বেশি থাকলে ঘামের প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং শরীরের তাপমাত্রা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে যায়।
তাপ এবং আর্দ্রতা উভয়ের পরিমাণ পরিমাপ করতে ওয়েট-বাল্ব থার্মোমিটার পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সাধারণ তাপমাত্রা এবং ওয়েট-বাল্ব তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য আছে। এটা মাপা হয় ভেজা কাপড়ে মোড়ানো থার্মোমিটার দিয়ে। কয়েক দশক ধরে ধারণা ছিল, ওয়েট-বাল্ব তাপমাত্রায় মানুষের শরীর সর্বোচ্চ ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত সহ্য করতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে যে- এই উর্ধ্বসীমাটি আসলে আরও কম, প্রায় ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস ওয়েট-বাল্ব তাপমাত্রা এখনও বেশ বিরল। কিন্তু সৌদি আরব, ভারত এবং পাকিস্তানে সম্প্রতি ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি ওয়েট-বাল্ব তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
এ ধরনের উষ্ণ-আর্দ্র আবহাওয়ায় রান্না করা বা গোসল করার মত হালকা কাজ করতে গেলেও শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। এমনকি অর্গান ফেইলিউরের কারণে মৃত্যুও হতে পারে। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে অস্বাভাবিক তাপ প্রবাহের ঘটনা বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের গতি রোধ করা না গেলে হিটস্ট্রোকে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঝুঁকি বাড়বে।


