দীর্ঘদিন ধরে হার্ট অ্যাটাক উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল এবং জীবনযাত্রার সমস্যার সাথে যুক্ত বলে বিবেচিত হয়েছে। তবে ফিনল্যান্ডের টাম্পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সাম্প্রতিক আবিষ্কার এই প্রচলিত ধারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তারা দেখিয়েছেন হার্ট অ্যাটাক কেবলমাত্র “চর্বি জমে যাওয়া” বা জীবনধারাজনিত নয়, বরং এটি সংক্রমণজনিত ঘটনাও হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, করোনারি ধমনীর কোলেস্টেরল-সমৃদ্ধ প্ল্যাক বা আবরণে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো এককভাবে থাকে না, তারা “বায়োফিল্ম” নামক ঘন, জেলির মতো গঠনে অবস্থান করে। বায়োফিল্ম ব্যাকটেরিয়াদের জন্য এক ধরনের সুরক্ষা বলয় তৈরি করে, যা তাদেরকে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা কিংবা অ্যান্টিবায়োটিকের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
এই বায়োফিল্ম অনেক সময় দশকের পর দশক নিঃশব্দে ধমনীতে টিকে থাকতে পারে। একজন রোগী হয়তো কোনো উপসর্গই অনুভব করেন না। কিন্তু যখন কোনো ভাইরাসজনিত অসুস্থতা বা অন্য কোনো উদ্দীপনা সক্রিয় হয়, তখন এই সুপ্ত ব্যাকটেরিয়া হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠে।
ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হলে তারা দ্রুত বংশবৃদ্ধি শুরু করে এবং ধমনীর ভেতরে প্রদাহ তৈরি করে। এই প্রদাহ ধমনীতে জমে থাকা প্ল্যাককে দুর্বল করে দেয়। দুর্বল প্ল্যাক হঠাৎ ফেটে যেতে পারে, যার ফলে রক্তপ্রবাহ আটকে যায় এবং শেষ পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাক ঘটে। অর্থাৎ প্রদাহ এবং প্ল্যাক ফাটল ঘটার পেছনে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারে।
গবেষকরা করোনারি ধমনীর টিস্যুতে অ্যান্টিবডির মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। তারা দেখতে পান প্ল্যাকের ভেতরে থাকা বায়োফিল্ম কাঠামো সরাসরি সনাক্তযোগ্য। এমনকি হার্ট অ্যাটাকের সময় ব্যাকটেরিয়া রক্তে ছড়িয়ে পড়ারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে বহু বছর ধরে বিদ্যমান একটি সন্দেহ প্রথমবারের মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পেল, মুখগহ্বরের জীবাণু ও হৃদরোগের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। যদি প্রমাণ আরও সুসংহত হয়, তবে বিশেষ ধরনের টিকা বা থেরাপির মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে, যা বায়োফিল্ম-সংশ্লিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হবে। এ ধরনের পদ্ধতি কেবল চিকিৎসাই নয়, প্রাথমিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাতেও বিপ্লব ঘটাতে পারে।


