নির্বাচন নিয়ে বিএনপি ডিসেম্বরের বাইরে যেতে চায় না। কিন্তু জামায়াত ও এনসিপি আবার নির্বাচনের দিনক্ষণ বেঁধে দিতে রাজি নয়। তবে দিনক্ষণ বেঁধে না দিলেও জামায়াত চায় সরকার একটা রোডম্যাপ দিয়ে দিক। তবে সেটা শুধু নির্বাচন নয়, একইসঙ্গে সংস্কার বিষয়েও সরকার কবে, কী করতে চায় রোডম্যাপে সেটাও থাকতে হবে। বিএনপি যেমন নির্দিষ্ট করে ডিসেম্বরের কথা বলছে, জামায়াত সেখানে কেন সুনির্দিষ্ট দিনের কথা বলছে না?
বিবিসি বাংলাকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “আমরা তো বলেছি রমজানের আগে নির্বাচনের কথা। যদি সেটা না হয় তাহলে এপ্রিলের মধ্যে যেন হয় সেটাও বলেছি। কিন্তু আমরা নির্দিষ্ট দিন বেঁধে দিতে চাই না। কারণ আমরা একেকটি দল যদি একেকটি মাস এবং দিনের জন্য জোরাজুরি করি তাহলে তো সেখানে সরকারের যারা সিদ্ধান্ত নেবে তাদের জন্য এক ধরনের কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হবে।”
তবে বিএনপির মতো জামায়াতও এখন বলছে, সরকার যখনই নির্বাচন দিক, সেটার রোডম্যাপ এখনই দিয়ে দেয়া উচিত। জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহম্মদ তাহের বলছিলেন, “রোডম্যাপ না দিলে মানুষের মধ্যে যে একটা অনিশ্চয়তা আছে, (নির্বাচন) হবে কি হবে না, নানারকম ষড়যন্ত্রের কথাও বলা হয় সেগুলো থেকে যাবে।”
তিনি আরো বলেন, “এখানে মূল ক্রাইসিস যেটা সেটা হচ্ছে আস্থার সংকট। বিএনপি বা কোনো কোনো রাজনৈতিক দল মনে করছেন, এই সরকার আদৌ কোনো নির্বাচন দেবে কিনা। রোডম্যাপ হয়ে গেলে এই আস্থার সংকট থাকবে না। দলগুলো নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে।”
জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রদের নেতৃত্বে গঠিত দল এনসিপিও সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন, সংস্কার ও বিচার – এই তিনটি বিষয়ে রোডম্যাপ একসঙ্গে প্রকাশ করা উচিত বলে জানিয়েছে।
তবে বিএনপি যেখানে এখনই রোডম্যাপ চায়, এনসিপি সেখানে এই মুহূর্তেই রোডম্যাপ দরকার তেমনটা মনে করছে না। বরং এনসিপি জোর দিচ্ছে, দলগুলোর মধ্যে আগে ঐক্য প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে একমত হওয়ার ওপর।
জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বিবিসি বাংলাকে বলেন, “দেখেন, বিএনপি নির্দিষ্টভাবে ডিসেম্বরে নির্বাচন চাচ্ছে। এখানে ইসলামী আন্দোলন, জামায়াত, গণঅধিকার পরিষদ কিংবা এনসিপি–আমরা চাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হোক।তারপরে কোনো দল চায় সরাসরি ভোটে নির্বাচন, কোনো দল চায় সংখ্যানুপাতিক হারে নির্বাচন”।
“ফলে এই যে দাবিগুলো এগুলো নিয়ে তো এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো একজায়গায় আসেনি।…ফলে হুট করে যে সরকার এখন নির্বাচনের একটা দিন ঘোষণা করবে, এটা তো সরকারের জন্য কঠিন। তাছাড়া যখনই সংস্কার এবং বিচার থেকে শুধু নির্বাচনের দিকেই ফোকাস করাটা শুরু হবে, তখন দেখা যাবে যে এই সংস্কারের চিন্তা-ভাবনা এক্সিকিউট করাটা সরকারের জন্য দুরূহ হবে,” যুক্ত করেন তিনি। ফলে নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি আছে এটা স্পষ্ট।


