বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জলবায়ু নিয়ে নতুন শঙ্কার জানান দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) আর্থ, অ্যাটমোস্ফিয়ারিক এবং প্ল্যানেটারি সায়েন্সেস বিভাগের একদল গবেষক। গবেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশে বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। আগে যে ধরনের বড় ঝড় ১০০ বছরে একবার হতো, এখন তা ১০ বছরেই হতে পারে। এই ঝুঁকি অঞ্চলভেদে ও মৌসুমভেদেও ভিন্ন হতে পারে। দেশে বাড়ছে এসব ঘূর্ণিঝড়ে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কাও। বাংলাদেশের উপকূলে ঘূর্ণিঝড়ের সময় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি ১০ গুণ বাড়তে পারে।
বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু নিয়ে আরও শঙ্কা আছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে প্রাক্-মৌসুমি বা মৌসুমি বায়ু পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে ঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের প্রবণতা বাড়তে পারে। এতে অসময়ে প্লাবিত হবে নতুন নতুন এলাকা ও কৃষিজমি। দেশের উপকূলীয় এলাকায় কৃষি এবং সার্বিকভাবে জনজীবনে এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ুঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি বাংলাদেশের এই ভয়ানক ভবিষ্যতের চিত্র উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়ান আর্থ নামের বিজ্ঞান সাময়িকীতে। ১১ এপ্রিল এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। নতুন এ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত গবেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম তথ্য-সংকটাপন্ন কিন্তু দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল। বৈজ্ঞানিকভাবে, বাংলাদেশ হলো জটিল ও ক্রমিক দুর্যোগ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
এমআইটির এই গবেষকদের একজন এবং প্রতিষ্ঠানটির আর্থ, অ্যাটমোস্ফিয়ার অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সেস বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সাই জ্যান্ডার সাভেলা প্রথম আলোকে ই-মেইলে বলেন, ‘বাংলাদেশ যে পরিমাণ ঝুঁকির মুখোমুখি, তা সর্বোচ্চ মানের মডেলিং, সর্বোত্তম বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং জরুরি সহযোগিতা দাবি করে।’বাংলাদেশের অবস্থান এমন একটি ভৌগোলিক স্থানে যেখানে প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে। এটি নিচু বদ্বীপ অঞ্চল। এখানে আছে ফানেল আকৃতির উপকূল। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তীব্র ঘূর্ণিঝড় এবং মৌসুমি বৃষ্টিপাত—বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির দিক প্রকট করছে।


