প্রায় দুই দশক পরে বলিভিয়ায় বামপন্থী শাসনের অবসান

বলিভিয়ায় প্রায় দুই দশকের বামপন্থী শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়াতে যাচ্ছে। বামপন্থী দল মুভিমিয়েন্তো আল সোসিয়ালিসমো (মাস)-এর টানা আধিপত্যের পর, এবার দুই ডানপন্থী প্রার্থী রদ্রিগো পাজ পেরেইরা এবং জর্জ “টুটো” কুইরোগা – চূড়ান্ত লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছেন।

নির্বাচনের ফলাফল অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল। ৩২.১% ভোট পেয়ে প্রথম স্থানে থাকা মধ্য-ডানপন্থী সিনেটর রদ্রিগো পাজ পেরেইরা নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে জনমত জরিপে মাত্র ৩% সমর্থন পেয়েছিলেন। তার এই উত্থানের পেছনে অন্যতম কারণ ছিল তার রানিং মেট, প্রাক্তন পুলিশ ক্যাপ্টেন এডমান লারা মন্তানো, যিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার অবস্থানের জন্য ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। পেরেইরা তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করব!”

দ্বিতীয় স্থানে থাকা জর্জ “টুটো” কুইরোগা পেয়েছেন ২৬.৯% ভোট। তিনি ২০০০-এর দশকের শুরুতে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অন্যদিকে মাস দলের প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইস আর্সে-র মনোনীত প্রার্থী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদুয়ার্দো দেল কাস্তিয়ো মাত্র ৩.১৫% ভোট পেয়েছেন, যা দলের অতীতের জয়ের তুলনায় নগণ্য।

তবে এই সামান্য ভোটের কারণে দলটি তাদের আইনি মর্যাদা রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। নির্বাচনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো বাতিল (null and void) ভোটের সংখ্যা, যা ছিল ১৯.১%। এটি বলিভিয়ার নির্বাচনের গড় বাতিল ভোটের তুলনায় অনেক বেশি। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস, যাকে চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে লড়তে আদালত বাধা দিয়েছিল, তার সমর্থকদেরকে প্রতিবাদস্বরূপ বাতিল ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর ফলস্বরূপ তার অনেক সমর্থকই এই ভোট দেন, যা ফলাফলের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ী স্যামুয়েল দোরিয়া মেদিনা, যিনি প্রচারণার সময় জরিপে এগিয়ে ছিলেন তিনি ১৯.৮৯% ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। তিনি তার পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন এবং দ্বিতীয় দফায় পেরেইরাকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দোরিয়া মেদিনা এবং কুইরোগার মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ায় পেরেইরা আক্রমণ থেকে মুক্ত ছিলেন, যা তাকে সুবিধা দিয়েছে।

আগামী ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় দফার নির্বাচনটিও দেশের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সংকট গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে বিবেচিত। বলিভিয়ায় ডলার ও জ্বালানির সংকট এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের কারণ।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোটদান শান্তিপূর্ণ ছিল। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দ্বিতীয় দফার এই নির্বাচন বলিভিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ নির্ধারণ করবে, যা বামপন্থী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ডানপন্থী ধারার সূচনা করতে যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন