ঢাকার জলাশয় রক্ষা ও পুনরুদ্ধার নগর জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সম্প্রতি বলেছেন, “ঢাকার জলাশয় বাঁচলেই ঢাকা বাঁচবে। জলাধার পুনরুদ্ধারের বিকল্প নেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ঢাকার খালগুলো উদ্ধারে যে কাজ শুরু হয়েছে, তার সুফল পাচ্ছে ঢাকাবাসী। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারের বর্ষা মৌসুমে ঢাকার জলাবদ্ধতা কম ছিল। আমরা ঢাকার জেলা প্রশাসককে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড থেকে ৪০টি পুকুর পুনরুদ্ধারের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছি।”
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ‘ঢাকার জলাধার পুনরুদ্ধার: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি নগর সংলাপে এই মন্তব্যগুলো করেন। সংলাপটি জাতীয় প্রেস ক্লাবে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম-বাংলাদেশ আয়োজন করেছে। তিনি বলেন, “জনগণ সচেতন ও একতাবদ্ধ থাকলে জলাধার রক্ষা কঠিন কিছু নয়। ভোলাগঞ্জের পাথর চুরির বিরুদ্ধে জনগণ একতাবদ্ধ থাকায় তা রোধ করা সম্ভব হয়েছিল।” এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, বনভূমি সংরক্ষণে তার সময়ে কোনো বন কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি, তবে পূর্ববর্তী সরকারের সময় কিছু বনভূমি কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
ঢাকার ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ড্যাপে সাধারণ জলাশয় বলে কোনো ভিন্নতা রাখা হয়নি। জলাশয় মানে জলাশয়ই। কোনোভাবেই জলাশয় ভরাট করা যাবে না। হাওরের মধ্যে হাউজবোট চলাচল ও কৃষিকাজের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মু. মুসলেহ উদ্দীন হাসান বলেন, “রাজধানীর জলাধার উদ্ধারে রাজউক ও সিটি করপোরেশন যৌথ উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে। বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জমি উদ্ধার হয়েছে এবং খাল-নদী দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের অভিযান চলছে। তবে স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দখল, পরিকল্পনার ঘাটতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “জলাধার রক্ষায় সরকারি অঙ্গীকার, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি, নইলে ঢাকার পরিবেশ ও নগর জীবন আরো বিপর্যস্ত হবে।”
আলোচনায় অংশ নেওয়া বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, “রাজউকের কাছে ঢাকার পুকুরের সঠিক তালিকা নেই। জিআইএস ম্যাপ অনুযায়ী পুকুর ও জলাধারের সঠিক তালিকা তৈরি করে তা সবার জন্য উন্মুক্ত করা উচিত।”


